রাতের শেষ প্রহরটা তাসমিয়ার কাছে সবসময়ই একটু আলাদা। এই সময়টায় ঘুম আর জেগে থাকার মাঝামাঝি একটা জায়গা থাকে—যেখানে স্মৃতি, ভয়, কৌতূহল আর অজানা আকাঙ্ক্ষা একসাথে ভিড় করে। সেদিনও ঠিক তেমনটাই হচ্ছিল। জানালার কাঁচে টুপটাপ বৃষ্টির শব্দ পড়ছিল। শহরের আলো ম্লান হয়ে এসেছে, রাস্তায় গাড়ির শব্দও কমে গেছে। ঘরের ভেতর শুধু ঘড়ির কাঁটার টিকটিক আর তার নিজের নিঃশ্বাসের শব্দ।
ফোনটা বালিশের পাশে রাখা। স্ক্রিন বন্ধ, তবু মনে হচ্ছে—ওটা তাকে ডাকছে।
নাইমের সাথে শেষ কথোপকথনটা মাথার ভেতর ঘুরছে। “স্কুলে।” এই একটা শব্দেই কত কিছু লুকানো। দেখা হবে—এই জানা আর না-জানার মাঝখানের উত্তেজনাটা তাকে অস্থির করে তুলেছে। আবার রিয়াজের কথাও মনে পড়ছে। শহরের বাইরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা। কণ্ঠের সেই থমথমে স্বর—“কিছু জিনিস ছেড়ে যেতে কষ্ট হয়।”
এই দুই বাস্তবতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে তাসমিয়া হঠাৎ বুঝতে পারে, তার ভেতরে একটা অদ্ভুত রোমাঞ্চ জন্ম নিচ্ছে। ভয় মেশানো উত্তেজনা। ঠিক যেন অজানা কোনো দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে সে—খুলবে কি খুলবে না, সেই সিদ্ধান্তটাই সবচেয়ে কঠিন।
পরদিন সকালটা অস্বাভাবিকভাবে পরিষ্কার। বৃষ্টি থেমে গেছে, আকাশ ধোয়া ধোয়া। স্কুলের পথে হাঁটতে হাঁটতে সে চারপাশটা গভীর মনোযোগে দেখে। আজ প্রতিটা রঙ, প্রতিটা শব্দ যেন একটু বেশি তীব্র। বুকের ভেতর হালকা চাপ—কিন্তু সেটা আর কেবল দ্বিধার নয়, তার সাথে যুক্ত হয়েছে প্রত্যাশা।
স্কুলে ঢুকতেই সে টের পায় পরিবেশটা একটু অন্যরকম। করিডোরে কয়েকজন ছেলের কথা, চাপা হাসি। কেউ কাউকে কিছু বলছে, আবার থেমে যাচ্ছে। তাসমিয়া নিজের বেঞ্চে গিয়ে বসে। জানালার পাশে। এই জায়গাটা তার নিরাপদ আশ্রয়—আজও।
কিছুক্ষণ পর নাইম ক্লাসে ঢোকে। চোখাচোখি হয়। আজ সে হাসে না। মুখটা গম্ভীর, চোখে মনোযোগ। তাসমিয়ার বুকের ভেতর একটা অজানা আশঙ্কা মাথা তোলে। সে কি কিছু ভুল বুঝেছে? নাকি আজ কিছু আলাদা ঘটতে চলেছে?
ক্লাস চলাকালীন বারবার তার চোখ জানালার বাইরে চলে যায়। স্যার কী বলছেন, ঠিক ধরতে পারে না। টিফিন পিরিয়ডের ঘণ্টা বাজতেই সে একটু দম নেয়। এই সময়টাই আজ সিদ্ধান্তের সময়।
লাইব্রেরির পাশে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সে সরাসরি যায় না। আগে পানি খায়, তারপর ধীরে ধীরে হাঁটে। মনে হয়, প্রতিটা পা ফেলার সাথে সাথে বুকের ভেতরের উত্তেজনা বাড়ছে।
লাইব্রেরির পাশের বেঞ্চে নাইম বসে আছে। একা। হাতে একটা খাতা। তাকে দেখে তাসমিয়া থামে। নাইম তাকায়, উঠে দাঁড়ায়।
“ভেবেছিলাম তুমি আসবে না,”—সে বলে।
“আমি নিজেও নিশ্চিত ছিলাম না,”—তাসমিয়া সত্যিটাই বলে ফেলে।
কিছুক্ষণ তারা দুজনেই চুপ করে থাকে। বাতাসে পাতার শব্দ, দূরে মাঠে ছেলেদের চিৎকার। এই সাধারণ শব্দগুলোর মাঝেই মুহূর্তটা অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
“আমি একটা কথা বলতে চাই,”—নাইম বলে, কণ্ঠটা এবার আগের চেয়ে ভারী।
তাসমিয়া মাথা নাড়ায়। “বলো।”
“এই কথাটা বলা সহজ না,”—নাইম একটু থামে—“কিন্তু চুপ থাকাটাও আর ঠিক লাগছে না।”
এই স্বীকারোক্তিটা তাসমিয়াকে সতর্ক করে তোলে। সে জানে, এখন যে কথাগুলো আসবে, সেগুলো ফিরিয়ে নেওয়া যাবে না।
ঠিক তখনই হঠাৎ পেছন থেকে কারো কণ্ঠ—
“তোমরা এখানে?”
দুজনেই ঘুরে তাকায়। রিয়াজ।
তাসমিয়া চমকে ওঠে। রিয়াজ স্কুলে কেন? তার তো এখানে থাকার কথা না। রিয়াজও কিছুটা অপ্রস্তুত। চোখে বিস্ময়, কিন্তু মুখে সংযম।
“আমি প্রিন্সিপালের সাথে কথা বলতে এসেছিলাম,”—রিয়াজ বলে—“তোমাকে দেখে থামলাম।”
এই হঠাৎ উপস্থিতি মুহূর্তটাকে সম্পূর্ণ বদলে দেয়। নাইমের মুখ শক্ত হয়ে যায়। সে কিছু বলে না, কিন্তু দৃষ্টিতে একটা প্রশ্ন ঝুলে থাকে।
তাসমিয়ার বুকের ভেতর তখন একসাথে অনেক কিছু ধাক্কা খায়—লজ্জা, ভয়, অস্বস্তি, আর একধরনের অজানা রোমাঞ্চ। যেন তিনজনই হঠাৎ একটা জায়গায় এসে পড়েছে, যেখানে কেউ প্রস্তুত ছিল না।
“আমি যাচ্ছি,”—নাইম হঠাৎ বলে। কণ্ঠে কোনো রাগ নেই, কিন্তু দূরত্ব আছে।
সে চলে যায়। তাসমিয়া তাকিয়ে থাকে। রিয়াজ কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থাকে।
“আমি কি ভুল সময়ে এলাম?”—রিয়াজ জিজ্ঞেস করে।
তাসমিয়া উত্তর দিতে পারে না। সে নিজেও জানে না, কোন সময়টা ঠিক ছিল।
“আমি বেশি সময় নেবো না,”—রিয়াজ বলে—“শুধু জানাতে চেয়েছিলাম, আমার ট্রান্সফারটা প্রায় ফাইনাল।”
এই কথাটা তাসমিয়ার বুকের ভেতরে যেন শূন্যতা তৈরি করে। সে জানত, তবু শুনতে প্রস্তুত ছিল না।
“কবে?”—সে জিজ্ঞেস করে।
“এই মাসের শেষের দিকে,”—রিয়াজ বলে—“তার আগে আর কয়েকটা ক্লাস নিতে পারবো।”
তাসমিয়া মাথা নেড়ে। কিছু বলার ভাষা খুঁজে পায় না।
রিয়াজ একটু থেমে বলে, “আমি চাই, তুমি নিজের মতো থাকো। কারো চাপে না।”
এই কথাটা সে কাকে উদ্দেশ্য করে বলছে—নিজেকে, নাকি নাইমকে—তা পরিষ্কার নয়। তাসমিয়া শুধু এটুকু বোঝে, এই মানুষটা তার ভেতরের দ্বন্দ্বটা বুঝতে পারছে।
রিয়াজ চলে যায়। বেঞ্চটা হঠাৎ ফাঁকা লাগে। তাসমিয়া বসে পড়ে। মাথার ভেতর কোলাহল।
দিনটা somehow শেষ হয়। বাসায় ফেরার সময় সে লক্ষ্য করে, নাইম আর তাকে দেখে না। এই ইচ্ছাকৃত দূরত্বটা তাকে ব্যথা দেয়, কিন্তু সে বুঝতে পারে—এটার দরকার ছিল।
বিকেলে টিউশন হয়। আজ রিয়াজ খুব স্বাভাবিক। অংক বোঝায়, নোট দেয়। কিন্তু দুজনেই জানে, কথার নিচে অন্য কিছু জমে আছে। আজ তারা কেউ সেটা ছুঁতে চায় না।
টিউশন শেষে রিয়াজ বলে, “তুমি সাহসী।”
“কেন?”—তাসমিয়া প্রশ্ন করে।
“কারণ তুমি ভাবো,”—রিয়াজ বলে—“সবাই সেটা পারে না।”
এই কথাটা তার সাথে থেকে যায়।
রাত নামলে তাসমিয়া জানালার কাছে যায়। ফোন হাতে নেয়। নাইমের কোনো মেসেজ নেই। সে নিজেই লেখে—“আজকের জন্য দুঃখিত।”
অনেকক্ষণ পর রিপ্লাই আসে।
“তুমি কিছু ভুল করোনি। আমি শুধু কিছু বুঝে নিচ্ছি।”
এই ‘বুঝে নেওয়া’ শব্দটা তাকে কাঁপিয়ে দেয়। বুঝে নেওয়ার পর মানুষ বদলে যায়—এই সত্যিটা সে জানে।
হঠাৎ আরেকটা মেসেজ আসে।
“তুমি যদি চাও, আমি অপেক্ষা করতে পারি। কিন্তু সত্যিটা জানতে চাই।”
তাসমিয়া ফোনটা নামিয়ে রাখে। জানালার বাইরে তাকায়। বাতাসে আজ কোনো শব্দ নেই। সবকিছু থেমে গেছে, যেন সিদ্ধান্তের জন্য জায়গা করে দিচ্ছে।
তার ভেতরে রোমাঞ্চ বাড়ে—কারণ সে বুঝতে পারে, সামনে এমন কিছু আসছে, যেটা আর শুধু অনুভূতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বাস্তবের সাথে মুখোমুখি হতে হবে।
সে কি সত্যিটা বলতে প্রস্তুত?
নাকি আবার নীরবতাকেই বেছে নেবে?
ঘড়ির কাঁটা এগোয়। রাত গভীর হয়।
আর তাসমিয়া জানে—পরের দিনটা আর আগের মতো হবে না।
...
(পরের দিন)
সকালের আলোটা আজ তাসমিয়ার ঘরে ঢুকেছে একটু দেরিতে। জানালার পর্দা টানা ছিল, তবু আলো নিজের পথ খুঁজে নিয়েছে। সে বিছানায় বসে ছিল অনেকক্ষণ। ঘুম ভেঙেছে ঠিকই, কিন্তু রাতটা যেন এখনো তার ভেতরে আটকে আছে। নাইমের শেষ মেসেজটা সে আবার পড়েনি, তবু শব্দগুলো মনে পরিষ্কার ভাসছে—“সত্যিটা জানতে চাই।”
সত্যি—এই শব্দটাই আজ সবচেয়ে ভারী।
মা দরজায় টোকা দেয়। “স্কুলে দেরি হবে।”
“আসছি,”—তাসমিয়া বলে, কিন্তু গলার ভেতর কেমন যেন শূন্য লাগে।
স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে নিতে সে আয়নার সামনে দাঁড়ায়। নিজের মুখটার দিকে তাকিয়ে থাকে। এই মুখটাই তো সে প্রতিদিন দেখে—তবু আজ মনে হয়, ভেতরের মানুষটা বদলে গেছে। চোখে একধরনের প্রশ্ন, ঠোঁটে চুপ থাকা সিদ্ধান্ত।
রাস্তায় হাঁটার সময় সে আজ হেডফোন লাগায় না। আশপাশের শব্দগুলো শুনতে চায়। বাসের হর্ন, মানুষের কথা, দোকানের ঝাঁপ খোলার শব্দ—সবকিছু যেন তাকে বাস্তবে টেনে আনে। কারণ আজ তাকে বাস্তবের সাথেই কিছু ঠিক করতে হবে।
স্কুলে পৌঁছাতেই সে টের পায়—নাইম আজ তাকে এড়িয়ে যাচ্ছে না। করিডোরে চোখাচোখি হয়। কেউ হাসে না, কেউ মুখ ফিরিয়ে নেয় না। শুধু তাকিয়ে থাকে। এই তাকিয়ে থাকাটাই আজ বেশি কথা বলে।
ক্লাসে ঢুকে তাসমিয়া জানালার পাশে বসে। পাশে আজও শূন্য বেঞ্চ। এই শূন্যতাটা এখন তার পরিচিত। বোর্ডে স্যার লিখছেন, খাতায় সে লিখছে—সবকিছু স্বাভাবিক। কিন্তু বুকের ভেতরে একটা কাউন্টডাউন চলছে।
টিফিন পিরিয়ডের ঘণ্টা বাজে।
এই সময়টাই আজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তাসমিয়া উঠে দাঁড়ায়। লাইব্রেরির দিকে না গিয়ে সে ছাদের সিঁড়ির দিকে যায়। এই জায়গাটা কম লোক আসে, বাতাস বেশি। সে জানে না কেন, কিন্তু আজ কথা বলার জন্য এই জায়গাটাই ঠিক মনে হয়।
কিছুক্ষণ পর পায়ের শব্দ শোনা যায়। নাইম।
“তুমি এখানে?”—নাইম বলে, অবাক না হয়ে।
“হ্যাঁ,”—তাসমিয়া উত্তর দেয়। “কথা বলার জন্য।”
নাইম কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। তারপর বলে, “আমি শুনছি।”
এই ‘শুনছি’ শব্দটার ভেতরে কোনো তাড়া নেই। তাসমিয়া গভীর নিঃশ্বাস নেয়।
“আমি জানি,”—সে বলে—“আমি তোমাকে কনফিউজড মনে করাচ্ছি।”
নাইম মাথা নাড়ায়। “আমি সেটা বুঝি।”
“কিন্তু এটা খেলাচ্ছলে না,”—তাসমিয়া বলে—“আমি নিজেই সব বুঝে উঠতে পারছি না।”
এই স্বীকারোক্তিটা বলতে গিয়ে তার বুক হালকা হয়। যেন অনেকদিন ধরে আটকে থাকা কথা বেরিয়ে এসেছে।
নাইম ধীরে বলে, “আমি শুধু জানতে চাই—আমি কি তোমার জীবনে অপ্রয়োজনীয়?”
এই প্রশ্নটা তাসমিয়ার ভেতরে গভীরভাবে ঢুকে যায়। সে সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিতে পারে না।
“অপ্রয়োজনীয় না,”—শেষমেশ সে বলে—“কিন্তু আমি এখনো ঠিক জানি না, প্রয়োজন মানে আমার জন্য কী।”
নাইম হালকা হাসে। এই হাসিটা দুঃখের, রাগের নয়। “এই উত্তরটাই আমি চাইছিলাম।”
তারা দুজনেই চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে। বাতাস বইছে। নিচে স্কুলের মাঠ থেকে শব্দ আসছে।
“আমি অপেক্ষা করতে পারি,”—নাইম বলে—“কিন্তু আমি অন্ধকারে থাকতে চাই না।”
তাসমিয়া মাথা নেড়ে। “আমি চেষ্টা করবো পরিষ্কার থাকতে।”
এই কথার মধ্যে কোনো প্রতিশ্রুতি নেই—শুধু সততা। নাইম সেটাই মেনে নেয়।
তারা আলাদা পথে ফিরে যায়। কিন্তু আজ এই আলাদা হওয়াটা ভারী নয়—বরং প্রয়োজনীয়।
দিনের বাকি অংশটা তাসমিয়া অদ্ভুত শান্তিতে কাটায়। ক্লাস শেষে বাসায় ফেরে। আজ টিউশন আছে। রিয়াজ আসবে। এই ভাবনাটা আজ তাকে অস্থির করে না—বরং বাস্তব মনে হয়।
রিয়াজ আসে বিকেলে। আজ সে আগের চেয়ে গুছানো। চোখে ক্লান্তি নেই, বরং সিদ্ধান্তের ছাপ।
“আজ পড়া শুরু করার আগে একটা কথা বলি?”—রিয়াজ জিজ্ঞেস করে।
তাসমিয়া মাথা নাড়ায়।
“আমি চলে যাওয়ার আগে চাই,”—রিয়াজ বলে—“তুমি নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নাও। কেউ যেন তোমাকে দিকনির্দেশ না দেয়—আমি নিজেও না।”
এই কথাটা তাসমিয়া মন দিয়ে শোনে।
“আমি কখনো চাইনি,”—রিয়াজ ধীরে বলে—“তুমি আমাকে আলাদা কিছু ভাবো। কিন্তু আমি চাই, তুমি বুঝো—নিজের অনুভূতিকে ভয় পেও না।”
তাসমিয়া প্রশ্ন করে, “আপনি ভয় পান না?”
রিয়াজ হালকা হাসে। “পাই। কিন্তু ভয় থাকলেও সিদ্ধান্ত নিতে হয়।”
এই কথাটা আজ তার মনে গেঁথে যায়।
পড়ানো শুরু হয়। আজ তারা পড়ার ফাঁকে কোনো অপ্রয়োজনীয় কথা বলে না। অংক শেষ হয়, নোট শেষ হয়। সবকিছু খুব স্বাভাবিক। এই স্বাভাবিকতার ভেতরেই একটা শেষের অনুভূতি লুকিয়ে আছে।
টিউশন শেষে রিয়াজ উঠে দাঁড়ায়। দরজার কাছে গিয়ে থামে।
“যাই হোক,”—সে বলে—“তুমি ভালো মানুষ থাকবে। এইটুকুই আমার চাওয়া।”
এই কথার জবাব তাসমিয়া দিতে পারে না। শুধু মাথা নিচু করে।
রাত নামে। আজ সে জানালার পাশে দাঁড়ায় না। টেবিলে বসে। খাতাটা খুলে নিজের পুরনো লেখাগুলো পড়ে। আজ সে নতুন করে লেখে।
লেখে—ভয়, লেখা—সাহস, লেখা—অপেক্ষা, লেখা—ছাড়তে শেখা।
ফোনে একটা মেসেজ আসে। নাইম।
“আজকের জন্য ধন্যবাদ। সত্যি থাকার জন্য।”
তাসমিয়া উত্তর দেয়: “আমিও শিখছি।”
ফোনটা নামিয়ে রেখে সে চুপ করে বসে থাকে। আজ তার ভেতরে কোনো ঝড় নেই, আবার সম্পূর্ণ শান্তিও নেই। আছে মাঝামাঝি একটা জায়গা—যেখানে সিদ্ধান্ত জন্ম নেয়।
রিয়াজ চলে যাবে। নাইম অপেক্ষা করছে। আর সে নিজে—সে এখনো পথের শুরুতে।
এই মুহূর্তে তার সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা দাঁড়িয়ে যায়—
সে কি অপেক্ষাকে বেছে নেবে, নাকি বিদায়ের আগেই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হবে?