রাত গভীর হলে তাসমিয়ার ঘরটা অন্যরকম হয়ে ওঠে। দিনের আলোয় যে ঘরটা তাকে চেনা মনে হয়, রাত নামলেই সেটার ভেতরে অচেনা একটা নীরবতা জমে। জানালার কাঁচে চাঁদের আলো পড়ে, পর্দার ছায়া দেয়ালে দুলতে থাকে। এই সময়টায় তাসমিয়ার মনে হয়—চারপাশের সব শব্দ থেমে গেছে, শুধু তার নিজের ভেতরের শব্দগুলোই জেগে আছে।
খাতাটা সে বালিশের পাশে রেখে শুয়েছে। ভেতরে ভাঁজ করা কাগজ। নিজের লেখা। কাউকে দেখানোর জন্য লেখা হয়নি, তবু যেন কাউকে উদ্দেশ্য করেই লেখা। সে চোখ বন্ধ করলে নাইমের মুখ ভেসে ওঠে—লাইব্রেরির পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সেই মুখ, চোখে সরল কৌতূহল। আবার চোখ খুললেই রিয়াজের কণ্ঠ কানে বাজে—শান্ত, ধীর, যেন তাড়াহুড়া নেই জীবনে।
এই দুই অনুভূতির মাঝে দাঁড়িয়ে তাসমিয়া ঠিক বুঝতে পারে না, সে কোথায় আছে।
ঘুম আসে দেরিতে।
পরদিন সকালটা আসে ভারী মাথা নিয়ে। স্কুলের জন্য তৈরি হতে গিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সে নিজের চোখে তাকায়। চোখের নিচে হালকা ক্লান্তি। তবু কোথাও একটা অদ্ভুত প্রত্যাশা লুকিয়ে আছে। আজ কী হবে—সে জানে না, কিন্তু মনে হয় কিছু একটা হবেই।
স্কুলে পৌঁছাতেই সে বুঝতে পারে, দিনটা স্বাভাবিক যাবে না।
ক্লাসে ঢুকেই কয়েকজন মেয়ের ফিসফাস কানে আসে। কেউ সরাসরি কিছু বলে না, তবু তাকানোর ভঙ্গিতে প্রশ্ন লুকানো। তাসমিয়া নিজের বেঞ্চে গিয়ে বসে। জানালার পাশে। এই জায়গাটাই তার নিরাপত্তা।
কিছুক্ষণ পর নাইম ক্লাসে ঢোকে। চোখাচোখি হয়। নাইম তাকিয়ে হালকা মাথা ঝোঁকায়—একটা স্বীকৃতির মতো। তাসমিয়া তাড়াতাড়ি চোখ নামিয়ে নেয়। বুকের ভেতর অকারণে একটা চাপ অনুভব করে।
ক্লাস চলাকালীন সে বোর্ডের দিকে তাকিয়ে থাকে, কিন্তু অংকগুলো মাথায় ঢোকে না। টিফিন পিরিয়ডে সে একা বসে থাকে। ঠিক তখনই তার পাশের বেঞ্চে কেউ বসে পড়ে।
“আজ কথা বলবে না?”—নাইমের কণ্ঠ।
তাসমিয়া চমকে তাকায়। চারপাশে কয়েকজন আছে, কিন্তু কেউ মনোযোগ দিচ্ছে না।
“সবসময় কি কথা বলতেই হয়?”—সে পাল্টা প্রশ্ন করে।
নাইম হালকা হাসে। “না। কিন্তু চুপ থাকাটাও সবসময় সহজ না।”
এই কথার জবাব তাসমিয়ার কাছে নেই। সে ব্যাগ গুছিয়ে উঠে দাঁড়ায়।
“আজ টিউশন আছে,”—বলেই সে সরে যায়।
নাইম কিছু বলে না। শুধু তার দিকে তাকিয়ে থাকে। সেই তাকিয়ে থাকাটাই তাসমিয়াকে অস্বস্তিতে ফেলে।
স্কুল ছুটির পর সে আর লাইব্রেরির দিকে যায় না। সরাসরি বাসায় ফেরে। মনে হয়, নিজেকে একটু গুছিয়ে নেওয়া দরকার।
বিকেলে টিউশনের আগে সে পড়ার টেবিলে বসে। অংকের খাতা খুলে রাখে, কিন্তু কলম চালায় না। মনে হয়, আজ রিয়াজ এলে কিছু একটা আলাদা হবে। কেন এমন মনে হচ্ছে—সে জানে না।
দরজার বেল বাজে।
রিয়াজ আসে। আজ তার মুখে হাসি নেই। চোখে ক্লান্তি আরও স্পষ্ট।
“আজ শরীরটা ভালো না?”—তাসমিয়া নিজেও অবাক হয়ে প্রশ্ন করে।
রিয়াজ তাকায়। কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থাকে। তারপর বলে, “একটু চিন্তা আছে।”
এই স্বীকারোক্তিটা তাসমিয়ার বুকের ভেতর অদ্ভুতভাবে ঢুকে পড়ে। রিয়াজ সাধারণত নিজের কথা বলে না।
পড়ানো শুরু হয়। আজ দুজনই কম কথা বলে। হঠাৎ রিয়াজ খাতা বন্ধ করে দেয়।
“আজ আর পড়বো না,”—সে বলে।
“কেন?”—তাসমিয়ার কণ্ঠে উদ্বেগ।
রিয়াজ চেয়ার থেকে উঠে জানালার দিকে তাকায়। বাইরে বিকেলের আলো ফুরিয়ে আসছে।
“কখনো কখনো মনে হয়,”—সে ধীরে বলে—“আমি যাদের পড়াই, তারা আমার চেয়ে অনেক এগিয়ে যাবে। আর আমি… আমি এখানেই আটকে থাকবো।”
এই কথাটা তাসমিয়াকে চুপ করে দেয়। সে বুঝতে পারে, রিয়াজ আজ তাকে স্যার হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে কথা বলছে।
“আপনি আটকে নেই,”—সে অল্প স্বরে বলে—“আপনি আমাদের শেখাচ্ছেন।”
রিয়াজ ঘুরে তাকায়। এই প্রথম তার চোখে স্পষ্ট কিছু অনুভূতি দেখা যায়—কৃতজ্ঞতা, আর হয়তো তার চেয়েও বেশি কিছু।
“তুমি জানো,”—সে বলে—“এই কথাটা আমার খুব দরকার ছিল।”
ঘরটা হঠাৎ খুব নীরব হয়ে যায়। এই নীরবতা আর অস্বস্তিকর নয়—বরং ভারী।
রিয়াজ ব্যাগ তুলে নেয়। দরজার কাছে গিয়ে থামে।
“তাসমিয়া,”—সে বলে।
এই নামটা তার মুখে অন্যরকম শোনায়। তাসমিয়া তাকায়।
“সবকিছু সবসময় যেমন দেখায়, তেমন হয় না,”—বলেই সে বেরিয়ে যায়।
দরজা বন্ধ হয়। তাসমিয়া অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। এই কথাটার মানে কী—সে বুঝতে পারে না। কিন্তু জানে, কথাটা হালকা নয়।
রাত আসে আবার। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে সে আজ আর চাঁদের দিকে তাকায় না। টেবিলে বসে খাতাটা খুলে। নিজের লেখা কাগজটা বের করে। পড়তে গিয়ে সে বুঝতে পারে—লেখার ভেতরে কারো নাম নেই, কিন্তু অনুভূতিগুলো একাধিক মানুষের সাথে জড়িয়ে গেছে।
হঠাৎ তার ফোনে একটা নোটিফিকেশন আসে। অচেনা নাম্বার।
একটা মাত্র লাইন—
“আজ যদি কথা বলতে চাও, আমি আছি।”
নাইম।
তাসমিয়া ফোনটা হাতে নিয়ে বসে থাকে। রিপ্লাই করবে কি করবে না—এই সিদ্ধান্তটাই হঠাৎ খুব বড় হয়ে দাঁড়ায়।
একদিকে রিয়াজের বলা কথা, তার চোখের সেই দৃষ্টি।
অন্যদিকে নাইমের সরাসরি উপস্থিতি, অপেক্ষা।
তার আঙুল কাঁপে। স্ক্রিনে তাকিয়ে সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
এই মুহূর্তে সে বুঝে যায়—নীরব থাকাটাই হয়তো সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত।
সে কি উত্তর দেবে? নাকি আজও চুপ থাকবে?
ঘরের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।
আর এই ভারী নীরবতার ভেতরেই—একটা সিদ্ধান্ত ধীরে ধীরে তার ভেতরে জায়গা করে নিতে থাকে।
সকালটা তাসমিয়ার জন্য অস্বস্তিকরভাবে ধীর হয়ে শুরু হয়। ঘুম থেকে উঠে সে কিছুক্ষণ বিছানায় বসে থাকে, যেন শরীর উঠতে চায় না। গত রাতের সেই মেসেজটা এখনো মাথার ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছে। “আজ যদি কথা বলতে চাও, আমি আছি।” শব্দগুলো ছোট, কিন্তু ওজন অনেক। সে উত্তর দেয়নি। ফোনটা টেবিলে উল্টো করে রেখে দিয়েছিল, যেন আলোটা চোখে না পড়ে। তবু আলোটা তার ভেতরে পড়েছিল—নিভে যায়নি।
মা নাশতার জন্য ডাক দিলে সে উঠে পড়ে। রান্নাঘরের গন্ধ, টেবিলে সাজানো রুটি-ডিম—সবই চেনা। তবু আজ সে চেনা জিনিসগুলোর ভেতরেও একধরনের অচেনা ভাব টের পায়। বাবা খবরের কাগজ পড়ছে, ছোট ভাই স্কুলের গল্প বলছে। তাসমিয়া চুপ করে খায়। তার চুপ থাকা আজ একটু বেশি দৃশ্যমান, যেন শব্দগুলো নিজেরাই জায়গা ছেড়ে দিয়েছে।
স্কুলে যাওয়ার পথে সে বারবার ফোনটা চেক করে। নতুন কোনো নোটিফিকেশন নেই। এই ‘নেই’ শব্দটাই আজ তার মাথার ভেতর শব্দ করে বাজে। ক্লাসে ঢুকে জানালার পাশের বেঞ্চে বসে সে বাইরে তাকায়। আকাশটা মেঘলা, রোদ্দুর লুকোচুরি খেলছে। তার মনও ঠিক তেমন।
প্রথম পিরিয়ডে স্যার বোর্ডে লিখছেন। তাসমিয়া খাতায় নোট নেয়, কিন্তু হাতের লেখাটা আজ একটু কাঁপা। পাশের বেঞ্চে কেউ বসে নেই—এই শূন্যতাটা আজ অস্বাভাবিক লাগে। টিফিনের আগেই সে টের পায়, নাইম আজ ক্লাসে ঢোকেনি। এই অনুপস্থিতিটা তাকে অস্বস্তিতে ফেলে। কারণ সে জানে না, এই অস্বস্তি স্বস্তি নাকি উদ্বেগ।
টিফিনে সে একা বসে থাকে। হঠাৎ ফোনটা ভাইব্রেট করে। অচেনা নাম্বার নয়—নাইম। ছোট্ট একটা মেসেজ।
“কাল রাতেরটা দেখেছো জানি। উত্তর না দিলেও সমস্যা নেই।”
এই লাইনের ভেতরে কোনো অভিযোগ নেই—এই না-থাকাটাই তাকে বেশি নাড়া দেয়। সে অনেকক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকে। আঙুল কাঁপে। শেষমেশ কিছু লেখে না। ফোনটা আবার ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখে। নিজের ওপর রাগ হয়—কেন সে সহজ কিছু করতে পারছে না?
স্কুল ছুটি হলে সে সরাসরি বাসায় ফেরে। আজ লাইব্রেরির পথটা এড়িয়ে যায়। মনে হয়, নিজেকে একটু সামলে নেওয়া দরকার।
বাসায় এসে সে টেবিলে বসে। খাতা খুলে পড়ে। আজ রিয়াজ আসবে। এই ভাবনাটা তার ভেতরে অন্যরকম স্থিরতা আনে—যেন কেউ আছে, যে প্রশ্ন করবে না, চাপ দেবে না।
রিয়াজ আসে সময়মতো। আজ তার মুখে ক্লান্তির ছাপ কম। চোখে একটা স্থির ভাব।
“আজ কেমন?”—সে জিজ্ঞেস করে।
“ভালো,”—তাসমিয়া বলে। আজ এই ‘ভালো’টা সে নিজেও বিশ্বাস করতে চায়।
পড়ানো শুরু হয়। অংকের ধাপগুলো আজ পরিষ্কার লাগে। রিয়াজ মাঝেমধ্যে থেমে দেখে নেয়, তাসমিয়া ঠিকমতো বুঝছে কি না। আজ তাদের মাঝখানে নীরবতা বেশি—কিন্তু এই নীরবতা চাপের নয়, স্বাভাবিক।
একসময় রিয়াজ কলম নামিয়ে রাখে। “আজ একটা কথা বলি?”—সে জিজ্ঞেস করে, স্যারসুলভ ভঙ্গি ছাড়াই।
তাসমিয়া মাথা নাড়ায়।
“কখনো কখনো,”—রিয়াজ ধীরে বলে—“আমি ভাবি, শেখানোটা কেবল খাতা আর বোর্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ না। মানুষ মানুষকে যেটুকু জায়গা দেয়—সেটাও শেখানো।”
তাসমিয়া শুনে। সে প্রশ্ন করে না।
“তুমি খুব অল্প কথা বলো,”—রিয়াজ বলে—“কিন্তু তুমি শোনো। এইটা বড় গুণ।”
এই প্রশংসা তাকে ভারী করে তোলে। সে জানে না কী বলবে। তাই চুপ থাকে।
রিয়াজ উঠে দাঁড়ায়। দরজার দিকে যায়। তারপর হঠাৎ থেমে বলে, “আমি হয়তো কিছুদিন পর আর পড়াতে আসতে পারবো না।”
এই কথাটা ঘরে পড়ে থাকা বাতাসকে নড়াচড়া করায়। তাসমিয়া চমকে তাকায়।
“কেন?”—তার কণ্ঠে অজান্তেই উদ্বেগ।
“চাকরির একটা সুযোগ আসছে,”—রিয়াজ বলে—“শহরের বাইরে।”
এই খবরটা তাসমিয়ার বুকের ভেতরে অদ্ভুতভাবে আঘাত করে। সে জানে, এটা স্বাভাবিক। তবু কেন যেন কথাটা সহজ লাগে না।
“ভালো হবে,”—সে বলে, নিজের কণ্ঠকে শক্ত রেখে।
রিয়াজ মাথা নাড়ায়। “হ্যাঁ। তবু কিছু জিনিস ছেড়ে যেতে কষ্ট হয়।”
এই ‘কিছু জিনিস’-এর ভেতরে সে কি আছে? প্রশ্নটা তাসমিয়া মুখে আনে না।
রিয়াজ চলে যায়। দরজা বন্ধ হলে সে চেয়ারটায় বসে পড়ে। মনে হয়, ঘরটা একটু ছোট হয়ে এসেছে।
রাত নামলে সে জানালার পাশে দাঁড়ায়। ফোনটা আবার হাতে নেয়। নাইমের মেসেজটা আবার পড়ে। এবার সে টাইপ করতে শুরু করে—মুছে ফেলে, আবার টাইপ করে।
শেষমেশ সে লেখে: “আমি সবকিছু একসাথে বুঝতে পারছি না।”
উত্তর আসতে সময় লাগে না।
“সমস্যা নেই। বোঝার সময় লাগে। আমি তাড়াহুড়া করছি না।”
এই লাইনের শান্ত স্বীকারোক্তিটা তাকে একটু হালকা করে। তারা কিছুক্ষণ মেসেজ চালাচালি করে। ছোট ছোট বাক্য। স্কুল, পড়া, বৃষ্টি। কোথাও কোনো বড় কথা নেই। তবু এই ছোট কথাগুলোই তার রাতটাকে অন্যরকম করে দেয়।
হঠাৎ নাইম লেখে: “কাল দেখা হবে?”
এই প্রশ্নটা স্ক্রিনে ঝুলে থাকে। তাসমিয়া অনেকক্ষণ চুপ থাকে। তারপর লেখে: “স্কুলে।”
“হ্যাঁ,”—নাইম লেখে—“স্কুলেই।”
ঘুমোতে যাওয়ার আগে সে খাতাটা বের করে। নিজের লেখাগুলো পড়ে। আজ নতুন কিছু লেখে না। শুধু আগের লাইনের পাশে একটা ছোট চিহ্ন আঁকে—নিজের জন্য।
পরদিন স্কুলে ঢুকেই সে নাইমকে দেখে। করিডোরে দাঁড়িয়ে আছে। চোখাচোখি হয়। কেউ হাসে না, কেউ কথা বলে না। এই নীরবতার ভেতরেও একধরনের বোঝাপড়া জন্ম নেয়।
টিফিনের সময় তারা লাইব্রেরির পাশে বসে। আজ কথা কম। নাইম বলে, “আমি চাই না তুমি অস্বস্তিতে থাকো।”
তাসমিয়া বলে, “আমি চাই না কেউ আমার হয়ে সিদ্ধান্ত নিক।”
নাইম মাথা নাড়ায়। “ঠিক আছে।”
এই ‘ঠিক আছে’ কথাটা আজ অনেক বড়। কারণ এর ভেতরে জায়গা আছে—চাপ নেই।
দিন শেষে সে বাসায় ফেরে। সন্ধ্যায় আবার রিয়াজের কথা মনে পড়ে। চাকরির সুযোগ, দূরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা। তার ভেতরে একটা প্রশ্ন জমে—কিছু সম্পর্ক কি আসলে সময়ের জন্যই আসে?
রাত গভীর হলে সে আবার জানালার কাছে যায়। বাইরে বাতাস। পাতার শব্দ। ফোনে নতুন মেসেজ আসে না। এই না-আসাটাও আজ তাকে শান্ত করে।
সে বুঝতে পারে—সবকিছু একসাথে পরিষ্কার হয় না। কিছু বিষয় ধীরে ধীরে নিজের জায়গা খুঁজে নেয়। কেউ কাছে আসে, কেউ দূরে যায়। আর সে—সে মাঝখানে দাঁড়িয়ে নিজের জায়গাটা বুঝতে শেখে।
কিন্তু এই শেখার পথটা সহজ হবে না—এই সত্যিটা সে আজ স্পষ্ট টের পায়।