তাসমিয়াতুন-নিসা—এই নামটা উচ্চারণ করলেই তার মায়ের চোখে একটা আলাদা আলো জ্বলে ওঠে। আর তাসমিয়ার নিজের কাছে নামটা কখনো ভারী, কখনো অদ্ভুত সুন্দর। সবাই অবশ্য তাকে তাসমিয়া বলেই ডাকে। নামের বাকি অংশটা যেন কেবল পরিচয়ের কাগজে সীমাবদ্ধ।
বয়স পনেরো। বয়সটা এমন—যেখানে মানুষ আর পুরোপুরি শিশু থাকে না, আবার বড়ও হয়ে ওঠে না। এই বয়সে অনুভূতিগুলো ঠিকঠাক নাম পায় না, শুধু বুকের ভেতর জমে থাকে, কখনো উথলে ওঠে, কখনো নিঃশব্দে গিলে ফেলে মানুষ নিজেই।
তাসমিয়ার দিনগুলো কাটে নিয়মে। স্কুল, বাড়ি, পড়া, প্রাইভেট টিউশন। নিয়মের বাইরে কিছু সে নিজেও ঠিক চায় না—বা হয়তো চাওয়ার সাহস পায় না। কিন্তু বিকেল নামলেই তার নিয়মের ভেতরে ছোট্ট একটা ফাঁক তৈরি হয়। বিকেলের আলো।
জানালার পাশে দাঁড়িয়ে সে প্রায়ই বাইরে তাকিয়ে থাকে। কদম গাছটার পাতাগুলো যখন বাতাসে নড়ে, তার মনে হয় কেউ যেন দূর থেকে ডাকছে। আলো এসে পড়ার টেবিলের ওপর পড়ে—খাতার সাদা পাতা, কলমের নীল কালি, সবকিছু একসাথে মিলেমিশে যায়। এই আলোতেই সে সবচেয়ে বেশি নিজের কথা ভাবতে পারে। অথচ সে জানে না, সে কী ভাবছে।
আজও চারটার কিছু আগে সে অংকের খাতা খুলে বসেছে। অংকটা সহজ। তবু মন বসছে না। কারণ আজ টিউশন আছে। আজ আসবে রিয়াজ।
রিয়াজের নামটা মনে এলেই তাসমিয়ার বুকের ভেতরে এক ধরনের নীরব চাপ অনুভূত হয়। ভয় নয়, উত্তেজনাও নয়—কেবল সচেতনতা। সে টের পায়, রিয়াজ আসার দিনগুলো অন্যরকম। ঘরের বাতাস একটু বদলে যায়, শব্দগুলো নরম হয়ে আসে।
রিয়াজ একাদশ শ্রেণিতে পড়ে। বয়সে বড়, আচরণে সংযত। সে কথা কম বলে, অপ্রয়োজনীয় কিছু বলে না। প্রথম প্রথম তাসমিয়া ভেবেছিল, সে খুব গম্ভীর। কিন্তু সময়ের সাথে বুঝেছে—রিয়াজ আসলে সাবধানী। যেন প্রতিটা শব্দ বলার আগে ভেবে নেয়, কোথায় থামতে হবে।
দরজার কলিং বেল বাজতেই তাসমিয়ার বুকটা হালকা কেঁপে ওঠে। ছোট ভাই দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে।
“আপু, স্যার আসছে।”
রিয়াজ ঘরে ঢোকে। পরিপাটি জামা, কাঁধে ব্যাগ। ভদ্রভাবে সালাম দেয়। তাসমিয়া চোখ তুলে তাকায়, আবার নামিয়ে নেয়। এই চোখ নামিয়ে নেওয়ার মধ্যেই যেন সে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখে।
“আজ কেমন আছো?”—রিয়াজের কণ্ঠ শান্ত।
“ভালো,”—তাসমিয়া বলে।
পড়ানো শুরু হয়। অংকের সূত্র, ধাপ ধরে বোঝানো। রিয়াজ বোঝায় খুব যত্ন করে। কখনো তাসমিয়া ভুল করলে ধমক দেয় না, শুধু বলে—“এইখানে আবার ভাবো।”
একটা অংকে এসে তাসমিয়া থেমে যায়। কলমটা থামিয়ে রিয়াজের দিকে তাকায়।
“এই অংশটা বুঝছি না।”
রিয়াজ চেয়ারটা একটু কাছে টেনে নেয়। খুব বেশি কাছে না—তবু তাসমিয়ার কাছে দূরত্বটা হঠাৎ কমে আসে। সে টের পায়, নিজের নিঃশ্বাসের শব্দ।
“দেখো,”—রিয়াজ ধীরে বোঝায়—“তুমি আগের ধাপটা ঠিক ধরতে পারোনি। এখানেই সমস্যা।”
তার কণ্ঠে বিরক্তি নেই, বরং বিশ্বাস আছে। এই বিশ্বাসটাই তাসমিয়াকে অস্বস্তিতে ফেলে। কেউ তাকে বিশ্বাস করছে—এই অনুভূতিটা তার নতুন।
“ভয় পাচ্ছো?”—হঠাৎ রিয়াজ জিজ্ঞেস করে।
তাসমিয়া একটু চমকে ওঠে। “না।”
মিথ্যে বললেও রিয়াজ কিছু বলে না। শুধু হালকা হেসে বলে—“ভয় পেলে সমস্যা নেই। ভয় না পেলে শেখা যায় না।”
এই কথাটা তাসমিয়ার ভেতরে কোথাও গেঁথে যায়।
টিউশন শেষ হয়। ঘরটা আবার আগের মতো হয়ে যায়। রিয়াজ খাতা গুছিয়ে উঠে দাঁড়ায়। দরজার কাছে গিয়ে হঠাৎ থেমে বলে—
“তোমার হাতের লেখা সুন্দর। খুব যত্ন করে লেখো।”
এই কথাটা শুনে তাসমিয়া কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। কেউ তার হাতের লেখা নিয়ে এমন করে আগে বলেনি। সে শুধু মাথা নিচু করে।
রিয়াজ চলে গেলে ঘরটা যেন বড় হয়ে যায়। তাসমিয়া চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। বাইরে আলো কমে এসেছে। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা।
এই আলো-আঁধারির ভেতরেই তার মনে পড়ে—চিঠিটার কথা।
দুপুরে স্কুল থেকে ফেরার সময় ব্যাগ খুলতেই সে চিঠিটা পেয়েছিল। খাতার ভেতর গুঁজে রাখা, খুব সাবধানে। কোনো খাম নেই, কোনো নাম নেই। তবু সে জানে, লেখাটা কার।
নাইম।
নাইম তার স্কুলের সিনিয়র। প্রথম আলাপ লাইব্রেরিতে। বই ফেরত দিতে গিয়ে সে হেসে বলেছিল, “তুমি কি সবসময় এত চুপচাপ?”
সেই প্রশ্নটা তাসমিয়াকে অপ্রস্তুত করেছিল। কেউ তার চুপ থাকা লক্ষ্য করেছে—এই ভাবনাটাই তাকে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করেছিল।
নাইম কথা বলে সহজে। তার হাসিতে কোনো হিসাব নেই। কিন্তু সেই সহজতার ভেতরেও একটা সীমা আছে। সে কখনো অযথা কাছে আসে না, কখনো চোখ নামাতে বলে না। বরং তার দৃষ্টি সোজাসুজি—যেন লুকানোর কিছু নেই।
চিঠিটা খুলে তাসমিয়া আবার পড়ে। শব্দগুলো সহজ, কিন্তু অনুভূতিগুলো ভারী।
“কিছু কথা মুখে বলা যায় না। ক্লাসরুমে শব্দ থাকে, সাহস থাকে না। তুমি যখন জানালার পাশে বসে থাকো, আমি বুঝতে পারি—সব মানুষ কথা বলে না। ভালো থেকো। এইটুকুই চাই।”
চিঠিটা পড়তে পড়তে তাসমিয়ার বুকটা ভারী হয়ে আসে। সে জানে না, এই ভালো থাকা বলতে নাইম কী বোঝাতে চেয়েছে। সে কি কিছু চাইছে? নাকি কিছু না চেয়েই সব বলে দিয়েছে?
চিঠিটা ভাঁজ করে সে আবার খাতার ভেতর রাখে। যেন শব্দগুলো বাইরে ছড়িয়ে না পড়ে।
রিয়াজ আর নাইম—দুজনই তার জীবনের আলাদা আলাদা জায়গায় দাঁড়িয়ে। রিয়াজের সাথে নীরবতা, নিরাপত্তা, বিশ্বাস। নাইমের সাথে শব্দ, কাগজ, প্রশ্ন। তাসমিয়া বুঝতে পারে না, এই দুটো অনুভূতির নাম কী। সে শুধু জানে, তার ভেতরে কিছু একটা বদলাচ্ছে।
সন্ধ্যা নেমে আসে। আজানের শব্দ ভেসে আসে দূর থেকে। ঘরের বাতি জ্বলে ওঠে। তাসমিয়া আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের দিকে তাকায়। একই মুখ, একই চোখ। তবু তার মনে হয়, সে আর আগের মতো নেই।
সে জানে না সামনে কী আছে। সে সিদ্ধান্ত নিতে চায় না। এখনো নয়।
....
সকালের আলো তাসমিয়ার ঘরে ঢোকে খুব সাবধানে। যেন সে জানে, এই ঘরের ভেতরে এখন আর আগের মতো নিঃশব্দ কিছু নেই।
তাসমিয়া চোখ মেলে তাকায় সিলিংয়ের দিকে। ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই তার মাথার ভেতরে গতকালের দৃশ্যগুলো একের পর এক ভেসে ওঠে—রিয়াজের শান্ত কণ্ঠ, তার বলা সেই ছোট্ট বাক্য, আর খাতার ভাঁজে লুকানো নাইমের চিঠি।
সে উঠে বসে। বালিশের নিচে হাত ঢুকিয়ে দেখে—খাতাটা ঠিক সেখানেই আছে। চিঠিটা খুলে পড়ে না, শুধু ছুঁয়ে দেখে। কাগজের স্পর্শেই যেন শব্দগুলো আবার জীবিত হয়ে ওঠে।
মা রান্নাঘরে ডাক দেয়, “তাসমিয়া, দেরি করিস না। স্কুল আছে।”
“আসছি মা,”—কণ্ঠে স্বাভাবিকতা রাখার চেষ্টা করে সে।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে তাসমিয়া নিজের চোখের দিকে তাকায়। চোখ দুটো আজ একটু অন্যরকম লাগছে। যেন ভেতরে জমে থাকা কথা বলতে চাইছে, অথচ সে নিজেই শুনতে প্রস্তুত নয়।
স্কুলের পথে হাঁটতে হাঁটতে সে চারপাশের সবকিছু লক্ষ্য করে। রাস্তার ধারের দোকান, রিকশার ঘণ্টা, মানুষের ভিড়—সবই আগের মতো, শুধু তার মনটাই বদলে গেছে।
ক্লাসে ঢুকে সে জানালার পাশের বেঞ্চে বসে। জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকে। ক্লাস শুরু হলেও সে শব্দগুলো ঠিকমতো ধরতে পারে না।
হঠাৎ কারো কণ্ঠে তার মনোযোগ ফিরে আসে।
“আজ এত চুপ কেন?”—নাইম।
সে দাঁড়িয়ে আছে পাশের সারিতে। স্কুল ইউনিফর্মে তাকে আজ একটু বেশি উজ্জ্বল লাগছে। তাসমিয়া চমকে তাকায়।
“আমি তো এমনই,”—সে বলে।
নাইম হালকা হাসে। “না, আজ একটু বেশি।”
এই কথার উত্তর তাসমিয়া দিতে পারে না। সে শুধু বইয়ের দিকে তাকিয়ে থাকে। নাইম কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে চলে যায়। কিন্তু তার চলে যাওয়ার পরও তার উপস্থিতিটা যেন বেঞ্চের পাশে থেকে যায়।
ক্লাস শেষ হয়। টিফিন পিরিয়ড। তাসমিয়া ব্যাগ খুলে খাবার বের করে। ঠিক তখনই কেউ পাশে এসে দাঁড়ায়।
“একটু কথা ছিল,”—নাইমের কণ্ঠ।
তাসমিয়ার বুকটা হঠাৎ জোরে ধাক্কা খায়। সে চারপাশে তাকায়। কয়েকজন ছাত্রী হাসাহাসি করছে, কেউ কেউ তাকিয়ে আছে।
সে মাথা নেড়ে বলে, “এখন না।”
নাইম কিছু বলে না। শুধু বলে, “স্কুল শেষে লাইব্রেরির পাশে থাকবো।”
এই কথা বলে সে চলে যায়। তাসমিয়া তার দিকে তাকিয়ে থাকে। তার মাথার ভেতরে হাজারটা প্রশ্ন একসাথে ভিড় করে। সে কি যাবে? না কি যাবে না?
স্কুল ছুটির ঘণ্টা বাজে। সবাই দৌড়ে বেরিয়ে যায়। তাসমিয়া ধীরে হাঁটে। লাইব্রেরির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তার পা থেমে যায়। নাইম সেখানে দাঁড়িয়ে আছে—হাতে একটা বই।
“আমি জানতাম তুমি আসবে,”—সে বলে।
“আমি শুধু লাইব্রেরিতে বই জমা দিতে এসেছি,”—তাসমিয়া বলে, নিজের কণ্ঠকে শক্ত রাখার চেষ্টা করে।
নাইম হাসে। “ঠিক আছে। তবু দু’মিনিট কথা বলি।”
তাসমিয়া কিছু বলে না। তারা লাইব্রেরির পাশের পুরনো বেঞ্চে বসে। জায়গাটা একটু আড়ালে। বাতাসে পাতার শব্দ।
নাইম কথা শুরু করে না। কয়েক সেকেন্ড চুপচাপ থাকে। তারপর বলে, “চিঠিটা পড়েছো?”
এই প্রশ্নে তাসমিয়ার বুকের ভেতর কেমন যেন মোচড় দেয়।
“হ্যাঁ,”—সংক্ষিপ্ত উত্তর।
“খারাপ লেগেছে?”—নাইম জিজ্ঞেস করে না, প্রায় ফিসফিস করে।
“না,”—তাসমিয়া বলে। তারপর একটু থেমে যোগ করে—“কিন্তু ভয় পেয়েছি।”
নাইম তার দিকে তাকায়। এই প্রথম সে তাসমিয়াকে এতটা খোলামেলা কথা বলতে শুনছে।
“ভয় কেন?”
তাসমিয়া জানে না, কী উত্তর দেবে। সে বলে, “সবকিছু বদলে যাবে ভেবে।” নাইম মাথা নাড়ায়। “বদল মানেই খারাপ না।”
এই কথাটা তাসমিয়ার মনে কোথাও আটকে যায়। নাইম আর কিছু বলে না। শুধু বলে, “আমি তোমার কাছ থেকে কিছু চাই না। শুধু চাই—তুমি জানো, কেউ তোমাকে বোঝে।”
তারা উঠে দাঁড়ায়। আলাদা আলাদা পথে হাঁটে। কিন্তু তাসমিয়া জানে, আজকের এই কয়েক মিনিট তার মনে অনেকদিন থেকে যাবে।
বাড়ি ফিরে সে খাতা খুলে বসে। কিন্তু পড়ায় মন বসে না। সন্ধ্যার একটু আগে রিয়াজের টিউশন। আজ রিয়াজ আসবে। এই ভাবনাটা তার ভেতরে আবার অন্যরকম অনুভূতি জাগায়।
রিয়াজ আসে সময়মতো। আজ সে একটু ক্লান্ত দেখাচ্ছে। চোখের নিচে হালকা ছায়া।
“আজ পড়া কেমন চলছে?”—সে জিজ্ঞেস করে।
“ঠিকঠাক,”—তাসমিয়া বলে।
পড়ানো শুরু হয়। আজ তাসমিয়া অংকগুলো দ্রুত বুঝছে। রিয়াজ অবাক হয়ে বলে, “আজ বেশ মনোযোগী লাগছে।”
তাসমিয়া হালকা হাসে। সে জানে না, এই মনোযোগ কোথা থেকে আসছে।
একসময় রিয়াজ খাতা বন্ধ করে বলে, “আজ একটু আগে শেষ করি।”
“কিছু হয়েছে?”—তাসমিয়া জিজ্ঞেস করে।
রিয়াজ একটু চুপ করে থাকে। তারপর বলে, “একটু চিন্তা চলছে।”
এই প্রথম সে নিজের কথা বলে। তাসমিয়া তাকিয়ে থাকে।
“তুমি তো জানো,”—রিয়াজ ধীরে বলে—“আমি পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করি। অনেক সময় মনে হয়, সবকিছু একসাথে সামলানো কঠিন।”
তাসমিয়া কিছু বলে না। সে শুধু শুনে। এই শোনাটাই যেন রিয়াজের জন্য বড় কিছু।
“তোমার সাথে কথা বলতে ভালো লাগে,”—হঠাৎ রিয়াজ বলে ফেলে।
এই কথাটা ঘরের বাতাসকে স্থির করে দেয়। তাসমিয়া নিঃশ্বাস নিতে ভুলে যায়।
“কারণ তুমি চুপ করে শুনো,”—রিয়াজ তাড়াতাড়ি যোগ করে—“সবাই তা পারে না।”
তাসমিয়া মাথা নিচু করে। তার বুকের ভেতরে অদ্ভুত একটা উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ে। এই উষ্ণতা নাইমের কথার মতো নয়—এটা শান্ত, ধীর, গভীর।
রিয়াজ উঠে দাঁড়ায়। দরজার কাছে গিয়ে থামে। কিছু বলতে চেয়েও বলে না। তারপর চলে যায়।
রাত নেমে আসে। তাসমিয়া জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। আকাশে চাঁদ উঠেছে। সে খাতার ভেতর থেকে নাইমের চিঠিটা বের করে। আবার পড়ে। তারপর হঠাৎ খাতার শেষ পৃষ্ঠায় কলম চালায়।
সে লিখতে শুরু করে। নিজের জন্য। অথবা কারো জন্য—সে নিজেও জানে না।
লেখাটা শেষ করে সে থেমে যায়। চিঠিটা ভাঁজ করে খাতার ভেতর রাখে। নাম লেখে না।
তার বুকের ভেতরে প্রশ্ন জমতে থাকে।
নাইম কি আবার চিঠি লিখবে? রিয়াজ কি আবার সেইভাবে তাকাবে? আর সে নিজে—সে কি এই অনুভূতিগুলো সামলাতে পারবে?
জানালার বাইরে বাতাস বয়ে যায়। পাতার শব্দ হয়। তাসমিয়া জানে না, সামনে কী অপেক্ষা করছে।
শুধু এটুকু বোঝে—এই বিষয়গুলো আর একলাই তার নয়।
এবং খুব শিগগিরই—কেউ না কেউ এই নীরবতার সীমা ভাঙবে।