সকালে মিষ্টি রোদের কিরণ সরাসরি এসে মুখে পড়লো আদিবের,চোখ মুখ কুঁচকে ফেললো সে,এতো আলো কোথা থেকে আসলো,দেখার জন্য চোখ মেলে আরো অবাক হলো, বারান্দার মধ্যে ঘুমিয়ে গেছে কখন?
আদিব দ্রুত উঠতে চাইলো, তখনই বুঝতে পারলো তার উপর কিছু একটা আছে মস্তিষ্ক যেনো বেমালুম ভুলে বসে আছে কাল তার বিয়ে হয়েছে, আজ তার ঘরে তার বউ ও থাকবে!
আদিব স্নিগ্ধা কে নিজের কোলের উপর দেখে ভুত দেখার মতো চমকে উঠলো, আদিব স্নিগ্ধার বাহু ধরে ধাক্কা দিয়ে ডাকলো--,,এই মাথা মোটা উঠ বলছি,এখানে কি করছিস তুই?
স্নিগ্ধা বিরক্তি নিয়ে চোখ খোললো "সকাল সকাল কে ম'রে গেছে ভাই? এমনে কেউ ডাকে নাকি আশ্চর্য!
" তুই আমার ঘরে কি করছিস?"
স্নিগ্ধা অবাক না হয়ে পারলো না, বিয়ে করা বউকে ভুলে গেছে এক রাতের মধ্যেই হায় আল্লাহ কতো কি দেখা লাগবে জীবনে?
স্নিগ্ধা দাঁতে দাঁত চেপে বললো--"নাচতে এসেছিলাম আমি আপনার ঘরে,নাচতে নাচতে কখন ঘুমিয়ে পড়েছি খেয়াল করিনি আদিব!
স্নিগ্ধা তড়িঘড়ি করে উঠে দাড়ালো, মেঝেতে বসে আছে আদিব, সরু চোখে স্নিগ্ধাকে দেখছে সে।
স্নিগ্ধা চলে যেতে নিলেই আদিব পিছু ডাকলো--,,সত্যি করে বল কেনো এসেছিলি?কি কি করেছিস আমার সাথে?
স্নিগ্ধা এবার রেগে গেলো চেঁচিয়ে বলে উঠলো--,,এই আপনি কি আমার সাথে সকাল সকাল ফাজ'লামো শুরু করে দিছেন?নিজে থেকে জোর করে রাখলেন কাল রাতে আর এখনই ভুলে গেছেন!মাতা'লদের ও তো নে'শা কাটার পর কিছু কিছু ঘটনা আবছা মনে থাকে,আপনার তো তাদের থেকেও বেশি খারা"প অবস্থা!
আদিব হাসলো,স্নিগ্ধা বিরক্তি নিয়ে চলে যেতে চাইলো আবার, আদিব স্নিগ্ধার হাত টেনে ধরলো আদুরে কন্ঠে ডাকলো--,,শোন না!
স্নিগ্ধা মুখ বাঁকিয়ে বললো--,,তার মানে এতোক্ষণ নাটক করছিলেন?
আদিব স্নিগ্ধাকে টেনে আবার কোলের উপর বসিয়ে দিলো, স্নিগ্ধার কোমর দু হাতে জড়িয়ে ধরে বললো--,,বিয়ের পর প্রথম সকাল কেমন লাগছে জান?
স্নিগ্ধা মুখ ঘুরিয়ে বললো--,, খু'বই বা'জে। আপনি সাথে থাকলে কোনো কিছু আবার সুন্দর রোমাঞ্চকর হবে নাকি?দিলেন তো মু'ডের বারোটা বাজিয়ে!
--,,আয় মুড ঠিক করে দেই।
--,,কই যাবো?
আদিব স্নিগ্ধাকে টেনে নিজের দিকে ঘুরিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো,স্নিগ্ধা গুটিসুটি মেরে পড়ে রইলো সেখানেই।
আদিব হাসলো,বুকটা যেনো পূর্ণতার সুখ অনুভব করতে ব্যস্ত,কি শান্তি লাগে মেয়েটা তার কাছে থাকলে।যদি তা শব্দ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যেতো?
স্নিগ্ধা বলে উঠলো--,,আপনি কি কাজ করেন বর্তমানে?
--,,তুই জেনে কি করবি?বউ বউ সাজার চেষ্টা করছিস?
স্নিগ্ধা আলতো চাপড় মার"লো আদিবের বাহুতে।ঘুম কাটেনি তার এখনো,ঘুম ঘুম কন্ঠেই বললো--,,এমনি জানতে চাইলাম,এভাবে বলার কি আছে?আপনার মন চাইলে বলুন না হয় বলার দরকার নেই!
--,, ওলে বাবা, এইটুকুতেই রাগ করে নিয়েছিস?রাগ করতেও সময় লাগে না তোর?
স্নিগ্ধা আদিবের বাঁধন থেকে মুক্ত হতে চাইলো,আদিব আরো শক্ত করে জড়িয়ে রাখলো তাকে।
স্নিগ্ধা বলে উঠলো--,,ছাড়ুন বলছি ছাড়ুন।
--,, একটা কো"চিং সেন্টারে তিন বছর ধরে,বায়োলজি পড়াচ্ছি!
স্নিগ্ধা চোখ বড় বড় করে তাকালো আদিবের মুখের দিকে,অবাক কন্ঠে বললো--,,বায়োলজি!
আদিব স্নিগ্ধার বলার ধরন দেখে হেসে দিলো,স্নিগ্ধা বিরবির করে বললো--,,তা তো আমিও জানি,খাটা'শ লোক একটা, কি হেসে হেসে তুমি ক্লাস করাও, আর যত ধম'কা ধম'কি আছে সব আমার সাথেই করো!মেয়েগুলা তো লাইভ ক্লাস অ্যাটেন্ড করে শুধু তোমাকে দেখতেই, কমেন্ট দেখলে তো আমার গা পি'ত্তি জ্ব'লে উঠে!
আদিব জিজ্ঞেস করলো--,, কিছু বলছিস?
স্নিগ্ধা বিরক্তি নিয়ে বললো--,,না!
আদিব স্নিগ্ধা কে হুট করেই মেঝেতে পাতা ছোট্ট বিছানাটার উপর ফেলে দিলো,স্নিগ্ধা মৃদু আর্ত'নাদ করে উঠলো,আদিব স্নিগ্ধার উপর আধ শোয়া হয়ে শুয়ে পড়লো। তার পর ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করলো--,,তুই জানলি কে করে আমি লাইভ ক্লাস করাই?আর কে কি কমেন্ট করে?
স্নিগ্ধা আমতা আমতা করে বললো--,,আমি জান...বো কি করে?তুমি ভুল শুনেছো!
আদিব ঠোঁট কাম'ড়ে ধরে হেসে ফেললো,স্নিগ্ধার শাড়ি ভেদ করে কোমরে হাত রেখে বললো--,,তুমি?
স্নিগ্ধা আদিবের অবাধ্য স্পর্শ পেয়ে নড়াচড়া করতে ভুলে গেছে,তার উপর আবার ভুল ও বুঝতে পেরেছে,তুমি করে বলে ফেলেছে আদিব কে,কি মসি'বত ঠিকঠাক মিথ্যা টাও বলতে পারে না ও!
স্নিগ্ধা পুরো দ'মে বলে উঠলো--,, স্যরি স্যরি আপনি!
আদিব স্নিগ্ধার চঞ্চলতা বেশ উপভোগ করছে,আরো একটু জ্বা'লাতে নিজের হাতের আঙুল গুলো নাড়াচাড়া করা শুরু করলো,স্নিগ্ধা ছট'ফট করে উঠলো মুহুর্তেই।
কাঁপা কন্ঠে দ্রুত ভঙ্গিতে বললো--,,বলছি বলছি।
--,,কি?
স্নিগ্ধা চোখ জোড়া বন্ধ করে বললো--,, ওই আসলে ক্লাস তো আমিও করি, তাই জানি!
--,,আমার সাথে চালা'কি করতে এসেছিলি তুই?জানার পরও আবার জিজ্ঞেস করলি কেনো কি কাজ করি?কিন্তু তোকে তো ক্লাসে দেখলাম না একবার ও স্নিগ্ধা নামে তো কেউ নেই!
স্নিগ্ধা চোখ পাকিয়ে তাকালো --,, তার মানে আপনি মেয়েদের নামও খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেন তাই তো? সাথে ওই মেয়ে গুলোকেও!
--,,একটু আধটু দেখলে কি সমস্যা?
স্নিগ্ধা আদিব কে ধাক্কা মে'রে নিজের উপর থেকে সরাতে চাইলো, আদিব তাল সামলাতে না পেরে শেষে স্নিগ্ধার উপরই পড়ে গেলো!
স্নিগ্ধা মুখ বাঁকিয়ে বললো--,,অসহ্য,অসভ্য লোক একটা!
আদিব স্নিগ্ধার নাকে নাক ঘঁষে বললো--,,বাপরে, তুই কতো হিং'সুটেরে স্নিগ্ধা!
--,,আপনি তাকাতে পারবেন আর আমি বলতে পারবো না?মুখ থেকে তো হাসিই সরে না আপনার,আর আমাকে শুধু ধম'ক দেন,মেয়েদের কমেন্টের রিপ্লাই ও তো করেন হেসে হেসে!সরুন আমি বাহিরে যাবো।
--,,পড়াশোনায় ফাঁকি দেস না তাহলে?আমার ব্যাচের সব স্টুডেন্টই তো ভালো মার্কস পায় পরীক্ষায়,যাক চিন্তা মুক্ত!
--,,এর পরবর্তী একটা ক্লাস ও করবো না আমি,আপনার ক্লাস তো ভুলেও না!
--,,ভেবে বলছিস তো?শা'স্তি কিন্তু এখন অন্য ভাবে দিবো বুঝে শুনে বল!
স্নিগ্ধা ঠোঁট উল্টে মুখ কালো করে রইলো,আদিব স্নিগ্ধা কপালে পড়ে থাকা চুল গুলো ঠিক করে কানের পাশে গুঁজে দিয়ে বললো--,,এই বোকা রানী, একদিন ও দেখেছিস উল্টো পাল্টা কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে আমাকে?ইনবক্স চেক করে দেখ হাজার টা ম্যাসেজ পড়ে আছে সিন ও করিনি।ক্লাস করাতে হলে তো হাসিখুশি হয়েই পড়াতে হয় এটা রুলস।
আর রইলো, তোর জামাই যে বিবাহিত ওটা এখন জানানো যাবে না কাউকে,এর পেছনে ও কারন আছে কাউকে তো দাওয়াত করা হয়নি, যেখানে পড়াই ওখানকার সবাই আমাকে নিয়ে মজা উড়া"ক তুই এটা চাস বল?তিন মাস পর তো আনুষ্ঠানিক ভাবে সব করা হবে তখন জানিয়ে দিবো,পরে করবো দেখে কি তুই রাগ করবি আমার উপর?
স্নিগ্ধা চোখ তুলে তাকালো আদিবের দিকে,দুদিকে মাথা নাড়িয়ে বুঝালো রাগ করবে না।
--,,মন খারা'প করে আছিস কেনো তাহলে এখনও?
স্নিগ্ধা আদিব কে জড়িয়ে ধরে ফুপিয়ে উঠলো--,,আপনি অন্য মেয়েদের দিকে তাকালে আমার খারা'প লাগবে,কষ্ট হবে তো।আপনি আমাকে ভালোবাসেন না?
আদিব স্নিগ্ধা উঠিয়ে বসালো,দু গালে দুটো চুমু খেয়ে বললো--,,ভালোবাসি তো পাগ"লী।আমি কারো দিকে তাকাবো না তো,শুধু তোকেই দেখবো সত্যি সত্যি সত্যি তিন সত্যি!আমার বউ কি কম সুন্দর নাকি?তাকে দেখতে দেখতেই তো আমার জনম শেষ হয়ে যাবে, তবুও মন ভরবে না আ'শ মিটবে না!
স্নিগ্ধা লজ্জায় মাথা নিচু করে বলে উঠলো--,,ধুর!তুমি ও না।
আদিব ঠোঁট চেপে হেসে বললো--,,আবারও তুমি?মন্দ না তুমি ডাকটা তোর মুখে বেশ মানিয়েছে, এখন থেকে তুমি করেই বলবি মনে থাকে যেনো!
স্নিগ্ধা লজ্জায় ভো দৌড় মার'লো,কি জ্বা"লা এই ছেলের মুখে কিচ্ছু আটকায় না নাকি!
--------------
খাবার টেবিলে সবাই বসে আছে আদিবের অপেক্ষায়, কখন সে আসবে আর তারা তাকে চেপে ধরবে।
খেয়ে দেয়ে আবার তারা বেরিয়ে পড়বে ঢাকার উদ্দেশ্যে।তা নিয়ে একটু মন খারা'প ও হচ্ছে আবার সেই ব্যস্ত জীবন পড়াশোনা, ক্লাস,পরীক্ষা!
রাজিয়া বেগম খাবার তুলে দিলো একে একে সবার প্লেটে,স্নিগ্ধা এসে বসলো নোভার পাশের চেয়ারটায়।
আদাভান বলে উঠলো--,, কি হাল চাল শালিকা?
স্নিগ্ধা মিষ্টি করে হেসে বললো--,,দারুণ!
নাদিম হাই তুলে বললো--,,কতো কিছু দেখতে হবে দুনিয়ায়,আচ্ছা হো কি মে আ"ন্ধা হো!
তৃধা বিরক্তি নিয়ে বললো--,, নাটক কম কর।
আদিব এসে বসতে যাবে তখনই সবাই তার দিকে এমন ভাবে তাকালো যেনো সে কোনো জোকা'র।
আদিব বলে উঠলো---,,এভাবে দেখছো কেনো সবাই?
আদাভান খাবার মুখে তুলতে তুলতে বললো--,,বিয়ের পর নাকি মানুষের সৌন্দর্য বাড়ে, রূপ নগরের রূপালী হয়ে যায় তাই দেখছিলাম,রূপ টু'প কতোখানি বাড়লো!
নাদিম বলে উঠলো--,,ভাইয়া রূপ নগরের রূপালী না তো রূপালা হবে ভাইয়া তো ছেলে!
তৃধা দাঁতে দাঁত চেপে বললো--,,তা আপনার ও কি বিয়ের পর রূপ টু'প বেড়েছিলো নাকি?আমার তো চোখে পড়েনি!
সেই একই দেখছি আগের মতোই ঝগড়ু"টে, আ"ড়া,ত্যাড়া ভে"ড়াই রয়ে গেছেন!
আবির চোখ ছোট ছোট করে বললো--,, ভে"ড়া!
আদাভান ডেকে উঠলো--,, মা! শাশুড়ী আম্মু আপনি কি শুনতে পাচ্ছেন,আপনার মেয়ে আপনার দুইমাত্র মেয়ের জামাই কে কি করে অপ'মান করছে!
রাজিয়া বেগম এসে তৃধার কান টেনে ধরলো--,,এই বেয়া"দব জামাইয়ের সাথে কেউ এভাবে কথা বলে?কবে ভদ্রতা শিখবি তুই!
আদাভানের দিকে রাগী চোখে তাকালো তৃধা।আদাভান ভালো মানুষীর ভোল ধরে বললো--,, মা, কান ছেড়ে দিন আমার বউ ব্যাথা পাবে!
রাজিয়া বেগম হেসে চলে গেলেন,এই ছোটদের মাঝে এসে লজ্জায় পড়তে হয় তাকে,ছেলেমেয়ে গুলাও না কি সব কথা বার্তা বলে বসে মুখের উপর!
------------
মৃধা এসেছে কিছুক্ষণ হলো,তৃধারা এখনই চলে যাবে,জিদান খালামনি কে ছাড়তে নারাজ,ছেলেটার চোখ ছলছল করে উঠছে, তৃধা ও যেনো সমানে বাচ্চা হয়ে গেছে সেই আগে কেঁদে দিয়েছে। আদাভান হতাশ চোখে তাকালো এমন বাচ্চা বউ নিয়ে যাবে কোথাও?
বহু কষ্টে জিদান কে মৃধার কাছে দেওয়া হলো,সবার থেকে বিদায় নিয়ে একে একে সকলে গাড়িতে উঠে বসলো।
গাড়ি চলছে আপন গতিতে যদিও সাময়িক দূ্রত্ব তবুও আপন মানুষদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্টটা একটু বেশিই হয়।
তৃধা ঘুমিয়ে আছে আদাভানের কাঁধে মাথা ঠেকিয়ে, পেছনের সিটে বসেছে বাকিরা,আদাভান দক্ষ হাতে গাড়ি চালাচ্ছে,টুকটাক কথা বলছে বাকিরা।
সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হতে হতেই তারা পৌঁছে গেলো গন্তব্যে।বাকিদের হোস্টেলে নামিয়ে দিয়ে বাসার সামনে এসে গাড়ি থামালো আদাভান।
লাগেজ নামালো,তৃধা নেমে লম্বা শ্বাস টানলো।
দারোয়ানের সাথে ভালো মন্দ কিছু কথা বলেই রুমে চলে আসলো দুজন,রাতের খাবার রাজিয়া দিয়ে দিয়েছে সাথে করে।সে গুলো গুছিয়ে রেখে তৃধা ঢুকলো বাথরুমে গোসল না করলেই নয়।
বাথরুম থেকে বেরিয়ে এসে দাঁড়ালো আয়নার সামনে, আদাভান গোসল সেরে বিছানায় বসে আছে।কোলের উপর ল্যাপটপ চাপিয়ে কি যেনো করছে মনোযোগ দিয়ে।
তৃধা আড়চোখে কয়েকবার দেখে নিজের কাজে মনোযোগ দিলো।
আদাভান কাজ সেরে উঠে দাঁড়ালো বিছানা ছেড়ে তৃধার পেছেনে এসে দাড়ালো আয়নায় চোখ স্থির করে দেখতে লাগলো স্নিগ্ধ তৃধা কে!
তৃধা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আদাভান কে দেখতে দেখতে বললো--,,ভাবছি আবার হোস্টেলে ফিরে যাবো প্রফেসর!
আদাভান সরু চোখে তাকালো, এই মেয়ে আসলে বিশ্ব বেয়া"দব,না হয় কি একটা জল"জ্যান্ত জামাই ফেলে যাওয়ার চিন্তা করতে পারে?নির্দয়!তালুকদার বংশের সব গুলাই এক একটা দজ্জা"ল।শ্বশুর, শালা,সম্বন্ধি খাঁড়ার উপর থ্রে"ট দেয়,বউ তো তাদের থেকেও এক কাঠি উপরে!
আদাভান ও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নয় বউ ছাড়া সে থাকতে পারবে না মানে পারবে না,যে কোনো উপায়ে বউ তার কাছেই রাখবে সে।
তৃধার কোমর জড়িয়ে ধরে কাছে টেনে নিলো মুহুর্তেই চোখে চোখ রেখে বললো--,, আমি আমার এক মাত্র বউয়ের উপর পুরোপুরি আসক্ত জানো না তুমি?
তাকে ছাড়া কিছু ভালো লাগে না আমার, সে আমার প্রশান্তি, বেঁচে থাকার অক্সিজেন!
তালুকদারের মেয়ে শোনো! আদাভান এরিশ একজন বড্ড উন্মা"দ স্বামী,বউ পা'গল সে।
শুনছেন আপনি মিসেস তৃধা তালুকদার?
আমি বউ পাগ'ল, আমি বউ পাগ'ল,আপনার জন্য পা'গল আমি!
তৃধা সরু চোখে তাকিয়ে রইলো তার দিকে, যেনো কোনো ভ্রুক্ষেপই নেই এসবে!
আদাভান ফের বললো--,,শুনতে পাচ্ছেন না বুঝি?মসজিদের মাইকে এলান করতে হবে নাকি?
আপনি এতো অবুঝ কেনো?কেনো বুঝছেন না, আপনি ছাড়া আমার চলে না!
তৃধা ভ্রু উঁচিয়ে বললো--,, তাই?
আদাভান তৃধার গালে চুমু বসিয়ে বললো--,,হুম!
তৃধা আনমনে বলে উঠলো--,,আরো একটা জিনিস ভেবেছি!
আদাভান তৃধার দিকে তাকিয়ে আছে মনোযোগ দিয়ে,তৃধা যা বলে সব সময়ই তার দিকে তাকিয়ে চোখে চোখ রেখে কথা বলে কোনো লুকোচুরি করে না,এখন অন্য দিকে তাকিয়ে কথা বলছে কেনো?যদিও বিষয় টা স্বাভাবিক তার পরও আদাভানের মন মানতে চাইছে না।
তৃধা বিছানায় গিয়ে বসলো, আঙুল দিয়ে জামার উপর আঁকিবুঁকি করতে করতে বললো--,, পড়াশোনা করবো না আর!
আদাভান গম্ভীর হয়ে বললো--,, কেনো?
--,,ইচ্ছে নেই!
--,,ভালো,তাহলে আর এখানে থেকে কি করবে?বাড়ি চলে যাও, তোমার তো কথাটা আমাকে আগে বলা উচিত ছিলো তাহলে তোমাকে রেখেই আসতাম আমি!
তৃধা চোখ তুলে তাকালো আদাভানের দিকে,আদাভান বুকে দু হাত গুঁজে তার দিকেই তাকিয়ে আছে,এবার আদাভান আরো গম্ভীর হলো,থমথমে কন্ঠে বলে উঠলো--,,অযোগ্য বউয়ের দরকার নেই আমার,তুমি বাড়ি যাবে তার পর আর আমার কাছে ফিরবে না!
তৃধা কাঁপা কন্ঠে বললো--,, পড়াশোনা না করলে আমি আপনার অযোগ্য হয়ে যাবো?বউ বলে পরিচয় দিতে পারবেন না বলে তাড়িয়ে দিচ্ছেন?
আদাভানের সোজাসাপটা জবাব--,,হ্যাঁ!
তৃধা মুখ ঘুরিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লো, আদাভান রাশভারি কন্ঠে ধম"ক দিয়ে বললো--,,যারা অন্যের কথা শুনে নিজের স্বপ্নের কথা ভুলে যায়,নিজের সিদ্ধান্ত কে সম্মান না দিয়ে মানুষের কথায় কান দিয়ে উল্টো পাল্টা চিন্তা ভাবনা করে,ওরকম মানুষের সাথে আমি একই বিছানায় থাকতে পারবো না,অন্য কোথাও গিয়ে ঘুমাও!
তৃধা বিছানা ছেড়ে নেমে গেলো,গাল ফুলিয়ে বললো--,, থাকলাম না আপনার বিছানায়,থাকুন একা একা!
আদাভান তৃধার হাত টেনে নিজের মুখোমুখি দাঁড় করালো,শক্ত ভাষায় জিজ্ঞেস করলো--,, কে কি বলেছে?এ টু জেট সব বলবে একটুও যাতে বাদ না পড়ে!
--,,বলবো না!
--,,তৃধা রাগাবে না আমায়,বলো কে কি বলেছে?মা কিছু বলেছে?দাদি বা শাশুড়ী মা?কে কি বলেছে বলো!
--,,উনারা কেউ কিছু বলেনি!আপনার আত্নীয়রা বলেছে।
তৃধা ঠোঁটে দাঁত চেপে মাথা নিচু করে আছে,আদাভান বিরক্ত হলো,এই মেয়ে কবে থেকে আবার লোকের কথা শোনা শুরু করে দিয়েছে?
--,,তৃধা তাকাও আমার দিকে,এরকম কম আত্নবিশ্বাসী তৃধাকে পছন্দ করি না আমি,আমি সেই তৃধাকেই সব সময় দেখতে চাই যে আত্নবিশ্বাসী, নিজের সিদ্ধান্তে চলে, অন্যায়ে'র বিরুদ্ধে কথা বলতে জানে,নিজের জন্য বাঁচতে পারে!
তৃধা চেঁচিয়ে বলে উঠলো--,,না পারবে না তৃধা নিজের জন্য বাঁচতে, কারন আগের তৃধার জীবনে আদাভান নামক কোনো ব্যক্তি ছিলো না এখনকার তৃধার জীবনে আছে।সেই ব্যক্তিকে হারিয়ে তৃধা বাঁচতে পারবে না! আগের তৃধার জীবনে পিছুটান ছিলো না,এখনকার তৃধার পিছুটান আছে,সে জড়িয়ে গেছে একজনের সাথে তার মায়ায় পড়ে গেছে সে, মায়া কাটিয়ে উঠাতে পারবে না। শুনেছেন আপনি!
আদাভান তৃধার বিচলিত কন্ঠস্বরে অবাক হলো,কি এমন কথা থাকতে পারে যার জন্য মেয়েটা এমন একটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবছে।
আদাভান তৃধার গালে হাত রেখে নরম কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো--,, কি হয়েছে বলো আমায়,কোনো কথাই তো লুকাও না এ কথাটা লুকাবে আমার থেকে?
তৃধা আদাভানের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বললো--,, আমার একটা বাবু লাগবে,তা আপনাকে দিতেই হবে!
আদাভান অবাক হয়ে বলে উঠলো--,, কিহ্!
তৃধা বিরক্তি নিয়ে বললো--,, বাচ্চা লাগবে আমার।
আদাভান তৃধাকে টেনে নিয়ে বিছানায় বসিয়ে পানির গ্লাস এগিয়ে দিয়ে বললো--,,পানি খাও,তোমার মাথার তা'ড় ছিঁ"ড়ে গেছে মনে হয় কয়েকটা,আল্লাহ কে আমার ভোলাভালা বউটাকে পা'গল করে দিলো?এবার আমার কি হবে খোদা,বউ ছাড়া তো আমি দুই মিনিটও থাকতে পারি না,পাব'না পাঠিয়ে থাকবো কি করে!
তৃধা আদাভানের গলার দিকের টি-শার্ট চেপে ধরে বললো--,, এই আমি পা'গল?পাবনা পাঠাবেন আমায়?এমন মা'র মারবো না সারাজীবন মনে থাকবে বলে দিচ্ছি!
আদাভান খুশি হয়ে বললো--,,ইয়াহু!বউ আমার ফিরে এসেছে!
তৃধা দ্বিগুণ রেগে বললো--,, আপনি তো এটাই চান,পরবর্তীতে যদি বাবু না হয় তাহলে আপনি আরেকটা বিয়ে করে নিবেন বাচ্চার জন্য, আর আমাকে তাড়িয়ে দিবেন।অন্য মেয়েকে রুমের মধ্যে নিয়ে থাকবেন তাকে ভালোবাসবেন,আমাকে ভুলে যাবেন!আপনাকে ছাড়া আমি থাকতে পারবো না পড়াশোনা করা লাগবে না আমার,আমার বাচ্চা চাই মানে চাই,তুই অন্য কারো কাছে যেতে চাস তাই তো?বুঝি না মনে করেছিস!খারা'প লোক কোথাকার।
তৃধা শব্দ করে কান্না করে দিলো এবার,আদাভান হতবিহ্বল চোখে তাকিয়ে, কি সব আজে"বাজে চিন্তা করে বসে আছে এই মেয়ে!
তৃধাকে জড়িয়ে ধরলো আদাভান, মাথায় হাত রেখে বললো--,, তৃধা কাঁদবে না একদম, রাগ করবো কিন্তু আমি!
তৃধা কান্না ভেজা গলায় বললো--,,যা খুশি করুন,আমি আপনাকে কারো সাথে শেয়ার টেয়া"র করতে পারবো না!
আদাভান অধৈর্য হয়ে বললো--,, আমিও যাচ্ছি না অন্য কারো কাছে,তোমাকে ছাড়া থাকতে পারি না কয়েক ঘন্টা, তাড়িয়ে দিলে তো হার্ট ফেই'ল করে ম'রে যাবো!
--,,ম'রে যান তাও ভালো তবুও অন্য নারীর কাছে যাওয়া মে'নে নিতে পারবো না আমি!
আদাভান এবার হো হো করে হেসে দিলো,এ কোন পাগ'লের পাল্লায় পড়লো, না কথা শুনছে আর না বুঝার চেষ্টা করছে!
আদাভান তৃধাকে থামানোর জন্য ঘাড়ে ছোটখাটো একটা কা'মর বসিয়ে দিলো।
তৃধা এবার নিজ থেকে সরে যেতে চাইলো,আদাভান চেপে ধরে রাখলো বুকের সাথে।তার পর তৃধার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো--,, তুমি যে আস্ত একটা বোকা আগে তো জানতাম না।কে না কে কি সব বললো আর তুমি সত্যি সত্যি এসব ভেবে বসে আছো?ওদের কাজই তো ছিলো তোমার ব্রেন ওয়া"শ করা,আর তুমিও ওদের কথায় যোগ দিয়েছো।পড়াশোনা করবে মনোযোগ দিয়ে কোনো হেয়া'লি করতে যেনো না দেখি,তোমার স্বপ্ন কিন্তু আমারও স্বপ্ন, আমার স্বপ্ন পূ্রণ করবে না তুমি?তোমার স্বামী তোমাকে অনেক বড় পর্যায়ে দেখতে চায়,তার গর্ব তুমি, তার সম্মান তুমি,তার সব কিছুই তো তুমি।ছেলেমানুষী করে না পাখি,সন্তান তো আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত,আমরা আল্লাহর কাছে সময় হলে চেয়ে নিবো, যদি আল্লাহ খুশি হয়ে দেন তো পরেও দিবে এসব ভেবে মন খারা'প করে নাকি কেউ?
এসব কথা যদি আবার কোনো দিন ভেবেছো তো তোমার খবর আছে।মৃ'ত্যুর আগে তোমাকে ছাড়ার কথা চিন্তাও করতে পারি না আমি।
আর রইলো দ্বিতীয় কোনো নারীর কথা,আল্লাহ না করুক তুমি যদি আমাকে ছেড়ে আমার মৃ"ত্যুর আগে আল্লাহর কাছে চলে যাও, তার পরও আমি অন্য কারো হবো না কথা দিলাম!তুমি আমার স্ত্রী আছো, থাকবে সব সময়,তোমার জায়গা আমি অবচে"তনেও অন্য কাউকে দিতে পারবো না!তুমিই তোমার প্রফেসারের একমাত্র অর্ধাঙ্গিনী,এই জায়গা কোনো দিন অন্য কারো হবে না, আমি হতে দিবো না কথা দিলাম!
তৃধা আদাভানের বুক থেকে মাথা তুলে তাকালো, আদাভানের কপালে গভীর চুম্বন একে দিয়ে বললো--,,আমিও কোনো দিন অন্য কারো হবো না কথা দিলাম!
আদাভান তৃধার নাকে টোকা মে'রে বললো--,,,কান্না করতে করতে কি করেছো নিজের?একবারে টমেটো হয়ে গেছো তো!
তৃধা নাক চেপে ধরে বললো--,,আবার আপনি আমার নাকে টোকা দিয়েছেন?উফ,নাক টা কি সরকারি?ভেঙ্গে শান্ত হবেন নাকি!আজকে তো আমি আপনাকে মজা বুঝিয়েই ছাড়বো!
তৃধা বালিশ তুলে আদাভান কে মার"তে ব্যস্ত হলো আদাভান হেসে গড়াগড়ি খাচ্ছে বিছানার এই প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে।তাদের খুনসুটিতে মুখরিত হচ্ছে ইট পাথরের তৈরি দেয়াল,বন্দি হচ্ছে ভালোবাসারা চার দেয়ালের সীমানায়!
--------------------
স্নিগ্ধা এই নিয়ে সারাদিনে বিশ বার খোঁচা মে'রেছে আদিব কে,আদিব বলেছে তিন দিন পর সে ঢাকা ফিরবে, পরে স্নিগ্ধার পরীক্ষা শেষ না হওয়া অব্দি ফিরবে না!
স্নিগ্ধার এই নিয়ে মন খারা'পের শেষ নেই,সে মুখে বলছে না ঠিকই কিন্তু খোঁচা মার'ছে আদিব কে,আসবে কেনো?সেখানে তো মেয়ে স্টুডেন্টের অভাব নেই, সিঙ্গেল সেজে ঘুরা পাবলিক,সুন্দর মুখখানা মেয়েদের দেখাতে হবে না!
আরো বিভিন্ন ভাবে কথা শুনিয়ে ধরা পড়ার ভয়ে আবার গিয়ে নিজের ঘরে দরজা আঁটকে বসে আছে,আদিব যে রেগেছে সামনে পেলে আস্ত চিবি'য়ে খাবে এতো রি'ক্স কে নিতে যাবে বাবা তার থেকে ভালো স্নিগ্ধা এই তিন দিন নিজের ঘরে বসে বসে মশা মার'বে।
এমনিতেও আদিব তাকে ঘরে যাওয়া নিয়ে কথা শুনিয়েছে ভুলে যায়নি সে কিছুই,ওই লোকের কাছে যাওয়ার এতো ঠেকা পড়েনি স্নিগ্ধার, দরকার পড়লে নিজেই আসবে!স্নিগ্ধাও এবার বুঝিয়ে ছাড়বে, তার কোনো তাড়া নেই, সে দিব্যি আছে আদিব কে ছাড়া!
ঘড়িতে রাত এগারোটা, আদিব স্নিগ্ধার দরজায় ধাক্কা দিতে দিতে বললো--,,দরজা খোল বেয়া'দব,দেখি তোর কলি"জা কতো বড় হয়েছে।উল্টো পা'ল্টা কাজ করতে মানা করেছিলাম না তোকে?
স্নিগ্ধা শুকনো ঢোক গিললো,তবুও শব্দ করলো না।আদিব এবার চাপা সুরে ধম'ক দিয়ে বললো--,,ভালোয় ভালোয় দরজা খোল বলছি,না হয় জোরে জোরে ডাকবো তখন সবাই শুনবে, আমার কিন্তু লজ্জা শর'ম কিচ্ছু নাই,যদি সবার সামনে লজ্জা পেতে না চাস তো দরজা খোল!
স্নিগ্ধা দ্রুত পায়ে এসে দরজা খুলে দিলো,আদিব ভিতরে ঢুকেই দরজা টা ঠা'স করে বন্ধ করে দিলো।স্নিগ্ধা কেঁপে উঠলো সঙ্গে সঙ্গে। আদিব কোমরে দুহাত রেখে স্নিগ্ধাকে পর্যবেক্ষন করলো কিছুক্ষণ। তার পর বললো--,,বউ আয় আমার অনেক প্রেম প্রেম পাচ্ছে!
স্নিগ্ধা চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে বললো--,, ছিঃ!আপনি কেমন অশ্লী"ল হয়ে যাচ্ছেন দিন দিন আদিব!
আদিব এগিয়ে আসতে আসতে বললো--,, বাহিরের মানুষের সামনে তো হইনি, একমাত্র বউয়ের সামনে সবাই অশ্লী"ল, শালীন"তা বজায় রাখতে দিলি কই?ক্ষণে ক্ষ'ণে এসে মাথা টা ন'ষ্ট করে দিবি আর আমি বললেই দোষ?
স্নিগ্ধা পেছাতে পেছাতে গিয়ে বিছানার উপর ধপ করে পড়লো।
আদিব এগিয়ে গিয়ে খাটের পাশে দাঁড়ালো,স্নিগ্ধা চোখ ছোট ছোট করে বসে থেকেই পিছিয়ে গেলো,আদিব নিজের চুল টেনে ঠিক করে বললো--,,আজকে নো ছাড়াছাড়ি, তুমি পুঁচকে মেয়ে বয়সের তুলনায় বেশিই করে ফেলেছো বাড়াবাড়ি!
স্নিগ্ধা মুখ ভেং'চি কে'টে বললো--,,আপনার রুমে তো যাইনি,কথা রেখেছি আমি আপনি রুলস ভাঙ্গতে চাইছেন কেনো এখন?যান তো গিয়ে ঘুমান!
আদিব স্নিগ্ধার দিকে তাকিয়ে দুষ্ট চোখে হাসলো,স্নিগ্ধা ভেবা"চেকা খেয়ে আশেপাশে তাকালো।হুট করেই আদিব তার ওড়না টেনে ধরলো স্নিগ্ধা ওড়না সহ এগিয়ে পড়লো আদিবের সামনে,আদিব স্নিগ্ধার দিকে নেশাভ'রা চোখে তাকিয়ে, কাঁপা কন্ঠে আদুরে সুরে ডাকলো
"স্নিগ্ধপ্রিয়া"
"হুম''
" আমার হবি?"
"আমি তো আপনারই"
"আরো একটু বেশি,অনেকটা বেশি..!"
স্নিগ্ধা চোখ তুলে তাকালো আদিবের দিকে,থমকে যেতে চাইলো তার হৃৎস্পন্দ,আদিবের দৃষ্টির গভীরতা বুঝতে সময় লাগলো সামান্য,অনূভুতির জোয়ারে কেমন হাস"ফাস করে উঠলো তার অন্তরা"ত্মা, চোখ নামিয়ে নিতে চাইলো দ্রুত।
আদিব স্বযত্নে স্নিগ্ধার কপালে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা চুল গুলো কানের পাশে গুঁজে দিলো,আবার ও সেই সম্মোহনী সুরে ডাকলো--,,স্নিগ্ধপ্রিয়া!
স্নিগ্ধা চোখ বন্ধ করে শ্বাস নিলো জোরে, নিজের ঠোঁট কাম'ড়ে ধরে নিজেকে ঠিক রাখার বৃথা চেষ্টাও করলো।
আদিব স্নিগ্ধার দিকে একই ভাবে তাকিয়ে থেকে বললো--,,সম্পূর্ণ রূপে আমার হয়ে যা না!আমরা তো কাছাকাছিই আছি আর একটু কাছাকাছি আসলে কি খুব বেশি ভুল হয়ে যাবে?
স্নিগ্ধা শান্ত চোখে তাকালো,লোকটা কে জ্বা'লানো যাবে এখন,বেশ সিরিয়াস মুডে আছে বলে মনে হয়!
স্নিগ্ধা বলে উঠলো--,,যদি আপনার না হতে চাই তো কি করবেন?এতো সহজে আমি আপনার কাছে আত্নসমর্পণ করবো না!লাগবে না আপনাকে আমার...
আদিব ভ্রু যুগল কুঁচকে দাঁতে দাঁত চাপলো,কপালে ভাঁজ পড়েছে তার "সত্যি?"
স্নিগ্ধা উপর নিচ মাথা নাড়লো,আদিব ঠোঁট এলিয়ে হেসে বললো--,,আমার হবি না তাই তো?
আমাকে না করার সাহস তো তোর মতো মাথা মোটারই হবে, কিন্তু আমি তো অপবাদ সইতে পারবো না জান।
একজন মানুষ আমাকে নিয়ে ইনসি'কিউর ফিল করবে সব সময় তা তো আমি চাই না!
চরিত্রের দিক দিয়ে এক্কেবারে খাঁটি সোনা আমি,বউ ছাড়া পর'নারী ছোঁয়া তো দূর তাকানোও নিষিদ্ধ আমার জন্য!
তারপরও কেউ একজন খোঁচা মে'রে মে'রে সন্দেহ করবে আমাকে তা তো মেনে নিবো না আমি!
তাই সে আমার না হলেও সমস্যা নেই,আমি আমার দিক থেকে লয়াল থাকতে চাই!আমি সম্পূর্ণ নিজেকে তার কাছে সঁপে দিতে চাই,আমি সম্পূর্ণ তার হতে চাই!
আদিব তালুকদার, সম্পূর্ণ তার বউয়ের না হয়ে বাড়ি ছাড়বে না,শুনেছিস তুই?এবার তুই যা পারিস করে নে,
তুই আমার হইলে হ না হইলে নাই, আমি তো তোর হবোই,পারলে আঁটকে দেখা!
স্নিগ্ধা চোখ ছোট ছোট করে তাকালো,লজ্জায় কোথাও লুকিয়ে পড়তে পারলে বাঁচতো হয়তো,আশ্চর্য লোক!আমার তার হওয়া আর তার আমার হওয়া তো একই কথা।কি পরিমান ঠোঁট কা'টা লোক মাই'রি!
এই লোক যে এতো নির্লজ্জ আগে তো জানা ছিলো না,পুরুষ মানুষ কি আগে থেকেই এমন থাকে নাকি বিয়ে করার পর এমন হয়ে যায়,হায় আল্লাহ মুখে লাগামের ল ও তো নেই!এটাকে নিয়ে বাকি জীবন পারি দিবো কি করে?
স্নিগ্ধার ভাবনার মাঝেই তার ওড়নায় আরো জোরেশোরে একটা টান পড়লো!