নৈঃশব্দ্যের প্রেমালাপ

পর্ব - ২৭

🟢

আদাভান আচমকা তৃধার কোমর জড়িয়ে ধরে কাছে টেনে নিলো,তৃধা প্রচন্ড পরিমান বিরক্ত হলো,মানে ওর বোন ওইদিকে হসপিটালে এইদিকে এই লোক নাটক শুরু করে দিয়েছে!

তৃধা দাঁতে দাঁত চেপে বললো--,,আপনার কাছে কি সব কিছুই মজা মনে হচ্ছে?স্নিগ্ধা কে হসপিটালে নেওয়া হচ্ছে, ছাড়ুন আমাকে যেতে হবে!

আদাভানের চোখ হাসছে,তাতে যেনো তৃধা আর ক্ষি"প্ত হলো,ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিতে চাইলো,তবে পারলো না সবসময়ের মতোই বলে উঠলো--,,মটু কোনখানের!

আদাভান গা দুলিয়ে হেসে বললো--,, নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকা!

তৃধা রেগে আদাভানের হাতে কাম'ড় বসিয়ে দিলো।

আদাভান কোনো প্রতিক্রিয়া দেখালো না,তবে তৃধা কে টেনে আর একটু কাছে নিয়ে বললো--,, জান তোমার কাছ থেকে কি লুকাবো বলো?সবই তো তোমায় উ'জাড় করে দিয়ে দিলাম,কিই বা বাকি আছে এই অধ'মের!

তৃধা রেগে বললো--,,আদাভান এবার কিন্তু...

--,,ইশ্!এভাবে রাগছো কেনো পাখি?জানো না রাগলে তোমায় বেশি কিউট লাগে আর আমার বেশি বেশি প্রেম প্রেম পায়!

তৃধার সহ্যের বাঁধ ভাঙ্গলো যেনো,সে চিবিয়ে চিবিয়ে বললো--,, যদি আর একটা ফাল"তু কথা বলেন তো,সাত দিন আপনাকে আমি আমার মুখ ও দেখাবো না, ছোঁয়া তো বহু দূর ভেবে দেখুন আমাকে ছাড়া থাকতে পারবেন কি না!

আদাভান এক ঝট'কায় সরে পড়লো,বউ তার একটা দজ্জা'ল মহিলা সত্যি সত্যি যে দূরে গিয়ে থাকবে তাতে কোনো সন্দেহ নাই।

আদাভান মুখ ছোট করে বললো--,, সব সময় তুমি এমন করো!

তৃধা আদাভানের চুল টেনে ধরলো এবার,নিজের ঠোঁট কাম'ড়ে ধরে রাগ নিয়ন্ত্রণ করে বললো--,, শা'লা ভাঙ্গির সরবত, ঝিঙার তরকারি, পটলের চচ্চড়ি।

এমন মা'র মার'বো না সারাজীবন মনে থাকবে বলে রাখছি,সত্যি সত্যি বল কি আকা'ম ঘটিয়েছিস!

আদাভান তৃধার থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিচে নামতে নামতে বললো--,, একমাত্র জামাইয়ের গায়ে হাত?এই অপমান মেনে নিবো না আমি,তোমাকে দেখে নিবো একদম পা থেকে মাথা অব্দি!

তৃধা রাগে কিড়মি'ড়িয়ে উঠলো, আদাভানের থেকে কথা তো বের করেই ছাড়বে যে কোনো মূল্যে।

তৃধা গিয়ে দেখলো আদাভান গাড়িতে উঠে বসেছে সে ও গিয়ে পাশে উঠে বসলো,তৃধা কিছু বলতে যাবে তার আগেই আদাভান তৃধার মুখ চেপে ধরলো এক হাতে আরেক হাত স্টিয়ারিং এ রেখে বললো--,, কথা বলবে আর চুমু দিবো,ভেবে দেখো কি করবে!রাস্তা ঘাট বলে একটুও ছাড় দিবো না,সম্মান খোয়াবে নাকি চুপ থাকবে জান?ভেবে চিন্তে উত্তর দাও!

তৃধা ভ্রু কুঁচকে তাকালো, বেশ বিরক্ত হলো সে তবে আপাতত চুপ থাকতে হবে বেশ বুঝলো,আদাভান বলবে না মানে বলবেই না।

তৃধা আদাভানের পায়ের উপর মাথা দিয়ে শুয়ে পড়লো গুটিসুটি মেরে, তার পর আদাভানের পিঠ জড়িয়ে ধরে পেটে মুখ গুঁজে পড়ে রইলো।

আদাভান তৃধার মাথায় এক হাত রাখলো, হেসে উঠলো নিঃশব্দে, মাঝেমধ্যে ও চিন্তায় ডুবে যায় বউ পেলো নাকি বউয়ের জায়গায় একটা ছোট্ট আদুরে বিড়াল ছানা?হুটহাট গা জড়িয়ে শুয়ে পড়ে, নিরবতায় যেনো আবদার করে বসে আপনার গা ঘেঁষে ঘুমাবো আমি, মাথায় হাত বুলিয়ে দিন নিজ দায়িত্বে!

আদাভান ভেবেই আবার হাসলো,সে স্পষ্ট টের পাচ্ছে তার বউ তার পেটের মধ্যে নাক মুখ ঘঁষছে।

আদাভান গাড়ি চালানোর ফাঁকে ফাঁকে তৃধার চুলের ভাজে বিলি কে'টে দিচ্ছে।

তৃধার ধৈর্য যে কতো বেশি তা আদাভান ভালো করেই জানে,তাও যে চুপ আছে এটাই অনেক!

আদাভান আদুরে স্বরে ডাকলো--,,বউউ!

তৃধা রাগ দেখিয়ে বললো--,, আহ্লাদ করবেন না একদম,রাগ করেছি আমি!

--,,রাগ আবার ভাঙ্গাবো তো,আর একটু অপেক্ষা করা যায় না?

তৃধা নিশ্চুপ রইলো,আদাভান হেসে বললো--,,হসপিটালে চলে এসেছি উঠুন।

তৃধা উঠতে চাইলো তড়িঘড়ি, আদাভান যেনো সুযোগটাই খুঁজছিলো, তৃধার হাত দুটো থামিয়ে তাকে আঁটকে নিলো,তৃধা চোখ বড় বড় করে তাকালো,যার মানে না,নিরব হুম"কি ধম"কি, এই মুহুর্তে কিস করলে আপনার ঠোঁট কে'টে দিবো আমি!

আদাভান এসবের তোয়াক্কা কবে করেছে যে এখন করবে?সে মুখ বাড়িয়ে তৃধার কপাল, গাল,ঠোঁটে শব্দ করে পর পর চার টা চুমু খেলে,তৃধা এবার রেগে বো'মা কোনো রকমে উঠে গাড়ি থেকে নেমে গেলো।

আদাভান হেসেই চলেছে,সে বউয়ের পেছনে হসপিটালে ঢুকলো।

ডাক্তার বেরিয়ে এসেছে কেবিন থেকে,আদিব মাথায় হাত ঠেকিয়ে বসে আছে বেঞ্চিতে,বড়রা এক পাশে দাঁড়িয়ে।

আদিব দৌড়ে ছুটে গেলো ডাক্তারের কাছে,ডাক্তার কে পর পর জিজ্ঞেস করলো--,, ওর জ্ঞান ফিরেছে ডাক্তার?সেলাই দিয়েছেন আপনারা হাতে?ওর কষ্ট লেগেছে বুঝি খুব?ওর ইনজে"কশনে ভীষণ ভয় ডক্টর!আমার স্নিগ্ধা ঠিক আছে তো!

ডক্টর বলে উঠলেন--,,উত্তেজি'ত হবেন না পেসেন্ট ঠিক আছে,এখন ঘুমাচ্ছে।

ছেলেকে উতলা দেখে বেশ মুগ্ধ হলেন সফিক সাহেব,না ছেলেটার এলেম আছে বলতে হবে,যতই ফাত'রামি করে বেড়াক অন্তত ভালোবাসার মানুষের জন্য সে সিরিয়াস!

রফিক সাহেব নরম মনের মানুষ, মেয়ের কষ্টে এবার তিনি ভেঙ্গে পড়লেন,দু ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়লো চোখের কার্নি'শ বেয়ে,তিনি বলে উঠলেন--,,,ভাইজান আমার মেয়ের কষ্ট আমি কিছুতেই দেখতে পারবো না,সে যদি আদিবের সাথে সুখে থাকে তো তাই হবে,আমি ওদের বিয়ে দিবো কয়েকদিনের মধ্যে!

আজাদ তালুকদার ছোট ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বললো--,, অবশ্যই মেয়ে বিয়ে দিবো,আগে তো সুস্থ সবল ভাবে মেয়েটাকে বাড়ি নিতে হবে তার পর অন্য কিছু ভাবা যাবে!

আদিব কেবিনে ছুট লাগাতে যাবে তখনই বাঁধ সাধলেন সফিক সাহেব, বিয়ে হয়ে যায়নি এখনো।ওর সাথে এক রুমে থাকার পারমিশন দিতে পারবো না তোমায়!

মেজা'জ যা খারা'প হওয়ার এইটুকু কথায়ই খারাপ হয়ে গেলো আদিবের,ও তো শুধু দেখতে যাচ্ছিলো মেয়েটাকে, আর ওর বাপ আসলে কি মিন করতে চাইলো?আদিব গমগমে গলায় বলে উঠলো--,,হসপিটালের কেবিনে বাসর সারতে যাচ্ছি না নিশ্চয়ই!

চোখ বড় বড় করে তাকালো বাকিরা, আদাভান এসেই কথাটা শুনলো,তার ঠোঁটের কোনে হাসি শা'লা, সমন্ধী হোক বা ভায়রা ভাই একদম মন মতো পেয়েছে আদাভান।

আজাদ তালুকদার আশেপাশে তাকালেন ভাইটা তো আছেই মাথা গরম ভাই পো তার থেকে দুই কাঠি এগিয়ে!

তিনি কিছু বলতে যাবেন,এর আগেই আদিব মোবাইল বের করে কাকে যেনো কল করলো,কাঠকাঠ কন্ঠে বললো--,,কাজি না আসতে চাইলে তুলে নিয়ে আসবি, না শুনতে চাচ্ছি না আমি, বিয়ে এখানেই এখনই করবো!

সরু চোখে তাকালো তৃধা,হসপিটালে কেউ বিয়ে করে?মানে সব পাগ'ল কি ওর আশেপাশেই বসবাস করে নাকি!

তৃধা ছুটে স্নিগ্ধার কেবিনে ঢুকলো,স্নিগ্ধার হাতে বেন্ডে'জ চোখ বন্ধ মেয়েটার,তৃধার খারা'প লাগা যেনো বেড়েই চলেছে,তাদের বয়সের পার্থক্য বেশি না পিঠাপিঠি বোন দুজন।মৃধা শুনেই জোবান ভাইয়ার সাথে আসছে বলে জানিয়েছে,মেয়েটা বোকাই রয়ে গেলো এমন কেউ করে নাকি?কথা কাটাকা'টি তো হয়েই থাকে তাই বলে নিজের ক্ষ'তি করবে!

তৃধা কেবিনে বসে রইলো চুপচাপ, বাহির থেকে কিছুটা ত'র্ক শোনা গেলো,আবার লেগে গেছে নাকি এই বাপ ছেলে!

তৃধা বেরিয়ে আসলো দরজায়,আদিব কোনো কথা বলছে না,বাকি তিন ভাই আদিবের দিকে বিরক্ত হয়ে তাকিয়ে আছে,আদিব এবার বলে উঠলো--,,চাচ্চু মেয়ে বিয়ে দিবে না আমার কাছে?হ্যাঁ অথবা না তে জবাব দিবে!

রফিক সাহেব বলে উঠলো--,,দিবো তো বাবা বাড়ি চল..

আদিব তে'জ ভরা কন্ঠে বললো--,,হ্যাঁ অথবা না!

রফিক সাহেব দ'ম নিলেন,তার পর ভাইদের দিকে তাকিয়ে বললো--,, হ্যাঁ!

আদিব আলতো করে হাসলো,আদাভান চুপ করে আছে যাক প্ল্যান তাহলে সাকসেসফুল!কিন্তু হসপিটালে বিয়েটা একটু বারাবাড়ি হয়ে গেলো না?কিছুই বললো না আদাভান সে বুকে দু হাত গুঁজে কাহিনি দেখতে ব্যস্ত।

আদিব তৃধার দিকে তাকিয়ে বললো--,, আম্মুদের কে কল করে জানা উনাদের মেয়ের বিয়ে হচ্ছে কিছুক্ষণ পর!

তৃধা চোখ ছোট ছোট করে তাকালো আদাভানের দিকে,কেনো যেনো বার বার মনে হচ্ছে ওর এই ভোলাভালা ফেইসের পেছনে থাকা ইব'লিশ মার্কা জামাই টাই কোনো না কোনো কলকা'ঠি নেড়েছে।

তৃধা মৃদু স্বরে বললো--,, ভাইয়া বাড়িতে গিয়ে বিয়ে করলে হয় না?আমরা তো স্নিগ্ধাকে নিয়ে বাড়ি চলে যাবোই..

আদিব তৃধা কে থামিয়ে দিয়ে বললো--,,কোনো একজনের আবার মনে হতে পারে বিয়ে ছাড়াই তাদের মেয়ের সাথে আমি যা নয় তাই করছি,আগে অধিকারবোধের দরকার আছে আমি স্নিগ্ধার থেকে দূরে থাকতে পারবো না,তাই বিয়ে করবো এখনই, তুই গিয়ে তোর বোন কে টেনে তুল, বেয়া"দপটা একবার সুস্থ হোক একশো টা চ'ড় যদি না মেরে'ছি তখন দেখিস!বয়স কত ওর এখনই পাক'নামি করতে হবে কেনো এতো?একদমই চাচাদের মতো স্বভাব পাইছে!

ব্যাস খোঁচা মে'রে খালা'স আদিব, অন্য দিকে তেলেবেগুনে জ্ব'লে উঠলেন সফিক সাহেব!আজাদ তালুকদার তাকে সামলালেন এমনিতেই কম সিনক্রি'য়েট হয়নি হসপিটালে এসে মানুষ জন কিভাবে তাকিয়ে দেখছে, এখন আবার ছেলে করবে হসপিটালে বিয়ে মান সম্মান টা নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারলে হয়!

তৃধা কেবিনে ঢুকে দেখলো স্নিগ্ধা বালিশে হেলান দিয়ে বসে আছে,তৃধা গিয়ে স্নিগ্ধাকে আলতো হাতে জড়িয়ে ধরে বললো--,, পাগ'লী এমন কেউ করে?জানিস বাহিরে সবাই কতো টেন'শন করছে?

স্নিগ্ধা গাল ফুলিয়ে বললো--,, তোমার ভাই তো করছে না,তার তো ভালোই হয়েছে আমার মতো আপ'দ ঘাড়ে তুলতে হবে না,আমিই বোকা তাই এমন মানুষ কে ভালোবেসেছি!

তৃধা বোনের অভিমান বুঝলো,মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো--,,এভাবে বলছিস কেনো?তুই জানিস ভাইয়ার পাগ'ল প্রায় অবস্থা হয়েছ,মেজো আব্বুর সাথে এক প্রকার ত'র্ক বিতর্ক চলছে তার, ভাইয়া তোকে একটু পরই বিয়ে করবে জানাতে বললো আমায়!

স্নিগ্ধা চোখ বড় বড় করে তাকালো,কি বলে এসব এখানে আবার বিয়ে হয় নাকি?

স্নিগ্ধার চোখ পড়লো কেবিনের দরজায় আদাভান দাঁড়িয়ে,তৃধাও তাকালো তবে কেউই কিছু বললো না।

---------

বাড়িতে সব জানানো হলো,রাজিয়া বেগম ছেলেমেয়েদের এতো সব অদ্ভুত কান্ডকা"রখানার কথা শুনে বাকরুদ্ধ, আদিব ছেলেটা ছোট থেকেই একটু ঘাড়"ত্যাড়া, যা বলেছে করেই ছেড়েছে,যে ছেলে বাবার সাথে রাগ করে এক কাপড়ে ঘড় ছাড়তে পারে, হাত খরচের টাকা তো দূর দুই তিন দিন না খেয়ে থেকেছে তাও তার বাবার থেকে এক টাকাও নেয়নি।সেই যে বাবা ছেলের মধ্যে বিরোধিতা শুরু হলো তা এখনো থামেনি,এদের যে কি হবে উপরঅলাই ভালো জানেন।

নোভা,আভা,নিশি বসে আছে আর এসব নিয়ে কথা বলছে,রাদিফ কে সাথে করে নিয়ে নাদিম বেরিয়েছে কিছুক্ষণ আগে।

------------

কেবিনের ভেতর হুড়মুড়িয়ে ঢুকলো নাদিম এসেই একরাশ হতাশা নিয়ে বললো--,,একেই বলে কপাল বুঝলি তৃধু?তুই আমার সমবয়সী হয়েও বিয়ে করে নিয়েছিস এবার স্নিগ্ধার বাচ্চা গে'দা হয়েও বিয়ে করে নিচ্ছে মাঝখানে আমি একাই সিঙ্গেল!আহ্ মানুষের রাজ কপাল ভাই, শুধু আমারটাই পু'ড়া ছাই কপাল।

রাদিফ বলে উঠলো--,,তাও ভালো তোমার কপালে প্রেম রাশি আছে,আমাকে কি বলবি?নিশির বাচ্চা তো হ্যাঁ ও বলে না আবার না ও করে না মাঝে ঝুলিয়ে রেখে দিয়েছে আমায়!

তৃধা নাক মুখ কুঁচকে বললো--,, তোরা কি নিজেদের ফালতু কথা গুলো একটু সাইডে রাখবি?আগে বল বাহিরে কি হচ্ছে।

নাদিম ভাব নিয়ে বললো--,, কাজিকে ধরে এনেছি,বিয়ে নিয়ে কথা হচ্ছে!

স্নিগ্ধার এবার সত্যি সত্যি নিজের কপাল ভারি দিয়ে ভাঙ্গতে মন চাইলো, এ কেমন ত্যাড়া ছেলে হসপিটালে বিয়ে কেনো করতে হবে?বাড়িতে কি জায়গার অভাব পড়েছে আশ্চর্য!

তৃধা কপাল চাপড়ালো, তবে আর সময় দেওয়া হলো না বেশি, অদ্ভুত ভাবে বিয়ে দেখার সখ পূরণ হতে যাচ্ছে তার।

স্নিগ্ধা কে ওড়না টেনে ঘোমটা দিয়ে দেওয়া হলো,সে বেজায় বিরক্ত চোখে মুখে তার স্পষ্ট আভাস।ছিঃ!লোকে কি বলবে?লজ্জায় হাস"ফাস করার মতো পরিস্থিতি হলো যেনো স্নিগ্ধার।

কিছু সময়ের ব্যবধানে তার বাবা সহ চাচ্চুরা আসলো কেবিনে,পাশেই কাজি সাহেব।স্নিগ্ধা মাথা নিচু করে বসে আছে, তার বাবা এসে পাশে বসলো,মেয়ের মাথায় হাত রাখলেন তিনি,স্নিগ্ধা ছলছল চোখে তাকালো, রফিক সাহেব মেয়ে আস্বস্ত করলেন তিনি রাগ করেননি, তার ইচ্ছেতেই হচ্ছে সব।

স্নিগ্ধা নিজের বাবাকে জড়িয়ে ধরে ফুপিয়ে উঠলো,তৃধা স্নিগ্ধার হাত চেপে ধরলো, রফিক সাহেব বলে উঠলো--,,মা, বাবার সিদ্ধান্তে তোমার কোনো আপত্তি আছে?

স্নিগ্ধা কথা বলতে পারছে না দরজার বাহিরে দাঁড়িয়ে সব টাই শুনছে আদিব,স্নিগ্ধার দেরি করা দেখে এবার রাগ হচ্ছে তার, এ জন্যই বাচ্চা মেয়েদের সাথে কোনো সম্পর্কে যাওয়া উচিত না, অতিরিক্ত ইমোশনাল হয়ে ফ্যাচ ফ্যাচ করে কাঁদে, বাবা মায়ের সামনে ভালোবাসার মানুষ কে স্বীকার করে নিতে তাদের যত সমস্যা, লজ্জা ট'জ্জা পেয়ে এক বালতি সমান পানিতে ডুবে যায়!

স্নিগ্ধার কন্ঠটা এতোক্ষণে শোনা গেলো--,, না বাবা কোনো আপত্তি নেই!

রফিক সাহেব হাসলেন,কাজি সাহেব বেরস মুখে বসে আছেন,হসপিটালে বিয়ে পড়ানো টা তার কাছে নতুন।কতো রকমের বিয়ে পড়িয়েছেন জীবনে এবার নতুন অভিজ্ঞতা যুক্ত হলো আরেকটা।পালিয়ে বিয়ে সাদি করলেও মানা যেতো, এখানে তো সয়ং বাবা রা মিলে বিয়ে দিচ্ছে,এদের মায়েরা কি বিরোধীতা করছিলো নাকি?কাজি সাহেব বিড়বিড়িয়ে বললেন--,,মহিলা মানুষের বিশ্বাস নেই হইতেও পারে!

তিনি রেজিস্ট্রি পেপার এগিয়ে দিলেন স্নিগ্ধার দিকে, তৃধা স্নিগ্ধার এক হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে রেখেছে,স্নিগ্ধা ভেজা চোখে হেসে উঠলো, রফিক সাহেব স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন।স্নিগ্ধা সাইন করে দিলো,তার নামের পাশে বরের নামটা যেনো জ্বল জ্বল করছে আদিব তালুকদার! স্নিগ্ধা মিশ্র অনুভূতিতে কুঁকড়ে উঠলো, মাথা নিচু করে নিলো অনেকটা।

তৃধা ভাবছে নিজের বিয়ের কথা, লজ্জা তো এক ফোঁটা ও পায়নি, জামাই দেখেই মস্তি'ষ্কে বি'স্ফোরণ ঘটেছিলো তার,রাগ ছাড়া অন্য কোনো অনুভূতিই আসেনি, আর বাসর রাতে ঝ'গড়া!পরের দিন পালিয়ে যাওয়া,তৃধা এই মুহুর্তে হাসি পেলো, আদাভান আর তার পথ চলা যে এতোদূর অব্দি আসবে কোনো দিন তো কল্পানায় ও ভাবেনি তৃধা,আর এখন এই অপছন্দের পুরুষ টাকেই সে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে মন দেওয়া নেওয়া হয়ে গেলো কখন বুঝতেই পারেনি!

আদাভান পাশেই দাড়িয়ে ছিলো বউয়ের মুচকি হাসির কারন বুঝতে পেরে নিজেও হাসলো।

রেজিষ্ট্রি হওয়ার পরও আদিব তার কথায় অটল শরিয়া মোতাবেক কবুল ও সে এখনই বলবে!

আজাদ তালুকদার এবার বলে উঠলো--,, আদিব ছেলেমানুষী করবে না,বাড়িতে তোমার দাদী আছে, মায়েরা আছেন তাদের নিয়ে আত্মীয় স্বজনদের দাওয়াত করেই পরে ওইটুকু করা হবে,এখন তো তোমরা বিবাহিতই এতো সমস্যা হওয়ার কথা না!

আদিবের সোজাসাপটা জবাব--,,বড় আব্বু,আপনার ভাই কিছুক্ষণ আগে কি বললো শুনেননি আপনি?আর আমি তো বলিনি সামাজিক স্বীকৃতির আমার দরকার নেই!পরবর্তীতে যদি আপনারা অনুষ্ঠান করতে চান তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই,এখন আমি দেহমোহর পরিশোধ করেই আমার বউয়ের মুখ দেখবো, যাতে কেউ আঙুল তুলে,ইনি বিনিয়ে ও না বলতে পারে স্নিগ্ধার থেকে দূরে থাকো!আমার বউ অসুস্থ তাকে সেবা করা আমার দায়িত্ব, দায়িত্ব যথাযথ পালন করতে হলে সম্পূর্ণ বিয়ে এখনই সারতে হবে আমায়,অন্যথায় আমি আপনাদের মেয়ের সামনে ও যাবো না,বাড়ি ছেড়ে চলে যাবো আমি!

তৃধা ভাইয়ের পাগ'লামি তে হাসবে না কাঁদবে বুঝতে পারছে না,কিন্তু তার জামাইয়ের মুখ থেকে আজ হাসি সরছে না,সাধে কি ব্যাটাকে তার সহ্য হয় না?এতো এতো টেনশনের মাঝে শুরু থেকে শুধু দাঁত কেলিয়েই যাচ্ছে!

সফিক সাহেব রাশভারি কন্ঠে বললো--,, কবুল ও এখানেই বলানো হবে, বেয়া'দব ছেলে পয়'দা করেছি আমি খেসারত তো দিতেই হবে!

নাদিম ফিক করে হেসে দিলো, এতে যেনো সফিক সাহেবের রাগ আরো বাড়লো।ছেলে দুটো কার মতো হয়েছে?বিরবির করে নিজের শ্বশুরের নাম নিতে ভুললেন না তিনি!

আদিব এখনও কেবিনের ভেতর আসেনি,বাহিরে দাঁড়িয়ে কথা বলছে, এই লোকের কথা বার্তা শুনে মনে হচ্ছে জীবনে স্নিগ্ধার দিকে তাকায়নি তার সাথে কথা বলেনি।এখন তার দেনমোহর পরিশোধ করার কতো তাড়া!

আদিবের কথা মতো কবুল বলা হলো তাদের বিয়ে সম্পূর্ণ হতেই বাকিরা আলহামদুলিল্লাহ বলে উঠলো , হসপিটালে নাদিম, আদাভান,রাদিফ মিলে খেজুর বিলি করেছে।

কিন্তু সফিক তালুকদার সেখানে আর এক মুহুর্ত ও দাড়ালেন না,মান সম্মান কিচ্ছু রাখেনি বেয়া'দব ছেলেটা হসপিটালে এতো এতো রোগী তার মাঝে নাকি বিয়ে?তার সাথে রফিক,আজাদ তালুকদার ও বাড়ির দিকে রওনা দিলেন,দায়িত্ব দিয়ে গেলেন মেয়ে জামাইয়ের হাতে।

বাহিরে আদিবের সাথে বসে আছে নাদিম রাদিফ,ভেতরে তৃধা স্নিগ্ধা বসে।

আদাভান আদিবের সাথে কথা বলে এসে আবার ঢুকলো কেবিনে,স্নিগ্ধা মিষ্টি করে হেসে বললো--,,থ্যাংকস ভাইয়া!আপনার বুদ্ধি তে যে একেবারে বিয়ে হয়ে যাবে তা তো বুঝিনি।

আদাভান হাসলো,তৃধা কোমরে দু হাত গুঁজে ভ্রু কুঁচকে বললো--,, কি চলছে যদি আমাকে না বলো না এবার..

আদাভান স্নিগ্ধার দিকে তাকিয়ে বললো--,, শালিকা তোমার জন্য বউয়ের হাতে মা'র খেতে খেতে আমার জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে,দেখো দেখো কিভাবে তাকাচ্ছে মনে কয় কাঁচাই গি'লে খাবে!

তৃধা বলে উঠলো--,,বলা লাগবে না,কারো ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করি না আমি, জানতে চেয়েছি তার জন্য স্যরি!

আদাভান তৃধার হাত চেপে ধরে আটকালো,মেয়েটা রাগ করতে ও সময় নেয় না।

তৃধা হাত মোচড়ানো শুরু করলো--,, ছাড়ুন আমি বাড়ি যাবো!

স্নিগ্ধা বলে উঠলো--,, শোন না আপাই,,,

"কিচ্ছু শুনতে চাই না এখন!

আদাভান বলে উঠলো--,, শালিকা চোখ জোড়া একটু বন্ধ করো তো।

তৃধা বিরক্ত হলো,স্নিগ্ধা হেসে বললো--,, ওকে ভাইয়া,আমি কিছু দেখবো না!

তৃধা চেঁচিয়ে বলে উঠলো--,, নাটক করবি না আমার সাথে।

আদাভান তৃধার ঠোঁটের পাশে চুমু দিলো,তৃধা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো, লজ্জা শরমহীন পুরুষ বোধ হয় একমাত্র এই লোকটাই,সাথে যুক্ত হয়েছে বর্তমানে তার ভাই!

আদাভান তৃধাকে জড়িয়ে ধরে বললো--,,এভাবে রাগ করতে নেই লক্ষ্মীটি!বসো বলছি সবটা।

তৃধা ফোঁস ফোঁস করতে করতে গিয়ে বেডে বসলো।আদাভান আশেপাশে খুঁজে দেখলো একটা বলের মতো দেখতে জিনিস রাখা সাইডে, সেটাই তুলে স্নিগ্ধার দিকে ছুঁড়ে মার'লো, তৃধা আ"তঙ্কে হা হয়ে গেছে,তবে স্নিগ্ধা হেসে বলটা ক্যাচ করে নিলো তাও বে'ন্ডেজ করা হাতে!

তৃধা বলে উঠলো--,,কি করছিস পাগ'ল হাতে লেগে যাবে তো!

আদাভান হেসে বললো--,, হাত তো সুস্থই আছে, এমনকি আমার শালিকা সম্পূর্ণ সুস্থ আছে বুঝলে বউ!

তৃধা চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইলো দুজনের দিকে।

স্নিগ্ধা বলতে শুরু করলো--,,ভাইয়া জানতো, মেজো আব্বুর আর আদিব ভাইয়ার মধ্যে নিশ্চিত কোনো ঝামে'লা হবে,আর তা তো হলোই দেখলে না?আর আদিবের তো জন্মগত স্বভাব রেগে বাড়ি ছেড়ে দেওয়া। ওনারা দুজন ঝ'গড়া করতো মাঝখানে আমার কি হতো বলো তো?তার পরও তো তোমার ভাই কি বললো শুনলে না অন্য কাউকে বিয়ে করে নিবে!তাই আগে ভাগেই ভাইয়া আমাকে বুদ্ধি দিয়েছিলো যদি সবাই রাজি হয়ে যায় তো ভালো,নয়তো আমাকে সুইসা"ইড করার অভিনয় করতে হবে!

তৃধা মুখে হাত দিয়ে বলে উঠলো--,,কিহ্!

আদাভান বললো--,,হ্যাঁ!

তৃধা বিস্মিত হয়ে বললো--,, তাহলে রক্ত যে দেখলাম হাতে?কাটা'র দাগ সবই কি নক'ল?

স্নিগ্ধা বললো--,,হুম,ভাইয়া আগে থেকেই ওসব জিনিস আমাকে এনে দিয়েছিলো, দেখো কাজে লেগে গেছে, আর তোমার পাগ'ল ভাই এখন আমাকে বিয়ে ও করে নিয়েছে!

তৃধা কপাল চেপে ধরে বললো--,, এটা কি ঠিক করেছেন আপনি আদাভান?এখন যদি আমিও সেইম কাজটা করতাম আপনার কেমন লাগতো?ধরুন আমিও হাতে তিন চার টা টান দিলাম ছু'রি দিয়ে তারপর র'ক্তের বন্যা বইয়ে গেলো হাতের উপর দিয়ে কেমন লাগবে আপনার?

আদাভান দ্রুত ভঙ্গিতে বললো--,,তৃধা এরকম আজে"বাজে কথা আর কোনো দিন মুখ দিয়েও বের করবে না বলে দিচ্ছি!

তৃধা থমথমে কন্ঠে বললো--,, আপনাদের উচিত ছিলো আগে ভাইয়াকে জানিয়ে নেওয়া,আপনার কষ্ট হচ্ছে আপনার ভালোবাসার মানুষের জন্য আমার ভাইয়ের হয়নি?তার ফিলিংসের কোনো দাম নেই নাকি?কি করেছেন দুজন মিলে ভাবুন একবার,মানলাম ভালোর জন্য করেছেন কিন্তু ভাইয়ার কি অবস্থা হয়েছিলো দেখেছেন?স্নিগ্ধা তুই ও ওনার সাথে মিলে ভাইয়ার ভালোবাসার পরীক্ষা নিতে গেলি?তোর বিশ্বাস নেই নিজের ভালোবাসার উপর?ভাইয়া কি তোকে ছেড়ে দিতো কোনো দিন!

আদাভান তৃধার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে বললো--,,মানলাম আমি ভুল,কিন্তু তোমার চাচ্চুকি সহজে সব কিছু হতে দিতো নাকি?বিয়ে হয়ে গেছে এবার আমি নিজে কথা বলবো আদিবের সাথে!

স্নিগ্ধা হা হয়ে দরজার দিকে তাকিয়ে আছে দেখে আদাভান,তৃধা ও তাকালো ওইদিকে।

আদিব দরজায় ঠেস দিয়ে দাড়িয়ে আছে,সম্পূর্ণ মনোযোগ তাদের দিকেই,স্নিগ্ধা এবার ভয় পাচ্ছে সব কিছু শুনেও চুপ আছে!

স্নিগ্ধা তাকালো তৃধার দিকে,তৃধা গা ছাড়া ভাবে বললো--,,প্ল্যানিং করার সময় তো আমাকে জানাসনি, এবার যা হবে তা ও তুই আর তোর ভাই মিলে সামলা!

আদিব নিশ্চুপ কথা না বলে এগিয়ে এসে দাড়ালো বেডের সামনে,তার পর এক ঝট'কায় স্নিগ্ধাকে কোলে তুলে নিলো,স্নিগ্ধা নিজেকে সামলাতে আদিবের গলা জড়িয়ে ধরলো, আদিব একটা শান্ত দৃষ্টি উপহার দিলো আদাভান কে,আদাভান মুচকি হাসলো।

স্নিগ্ধা কে নিয়ে বেরিয়ে গেলো সে,তৃধা আদাভানের দিকে চোখ গরম করে তাকালো,এই জন্যই স্নিগ্ধা কে হসপিটালে নিয়ে আসা হয়েছে জেনেও কোনো ভাবান্তর হয়নি এর মাঝে!

তৃধা বেরিয়ে গেলো মেজা'জ দেখিয়ে,আদাভান তপ্ত শ্বাস ছাড়লো,এরা ভাই বোন সহ পুরো গোষ্ঠীই হয়েছে ত্যাড়ামি করা পাবলিক,কি আর করার মানুষের ভালো করতে নেই জীবনে!

--------------

বাড়িতে বসার ঘরে বসে আছে সব বড়রা, ছেলে তো বিয়ে করে নিয়েছে,এখন বাবা মায়ের ও তো একটা দায়িত্ব আছে,আত্নীয় স্বজনরা অন্যের মুখে শুনলে বিষয় টা খুবই বা'জে দেখাবে, তাই ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিলেন স্নিগ্ধার পরীক্ষার পরই বড় করে অনুষ্ঠান সারবেন তাড়া,তিন মাস পর!

এরই মাঝে বাড়িতে ঢুকলো আদিব চোখে মুখে উবছে পড়া রাগ,স্নিগ্ধা সারা রাস্তা চুপ ছিলো এবার মুখ খুললো সে--,, নামিয়ে দিন,সবাই আছে এখানে!

আদিব কারো দিকেই তাকালো না,স্নিগ্ধা চোখ মুখ খিঁচে বন্ধ করে নিলো, এভাবে লজ্জা পেতে পেতে কবে জানি অ"জ্ঞান হয়ে যায় বেচারি!আদিব যে এতোটা নির্লজ্জ আগে কেনো বুঝেনি।

আদিব সোজা সিঁড়ি বেয়ে নিজের ঘরে ঢুকলো,এক প্রকার ছুঁড়ে মার'লো স্নিগ্ধাকে বিছানার উপর!

ঠা'স করে দরজা বন্ধ করলো, রাগে তার হাতের শিরা ফুলে উঠেছে,কপাল কুঁচকে আছে চোখ জোড়া লাল হয়ে আসছে রীতিমতো, স্নিগ্ধা ভয়ে সেটিয়ে গেছে বিছানার সাথে।

আদিব টানা দশ মিনিট ধরে চুপচাপ দাড়িয়ে আছে,না কিছু বলছে আর না জায়গা থেকে নড়ছে।

স্নিগ্ধার ভয়ার্ত চেহারা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে সে,চোখের পলক ফেলছে গুনে গুনে।স্নিগ্ধা হাসফা'স করছে ওড়নার দুপাশ চেপে ধরে মাথা নিচু করে বসে আছে।

আদিব বলে উঠলো--,, তাকা আমার দিকে!

স্নিগ্ধা কাঁপা কন্ঠে বললো--,, আমার ভয় করছে!

আদিবের ঠোঁটের কোনে ফুটে উঠলো হাসি,এতো কান্ড ঘটিয়ে এখন নাকি তার ভয় করছে,আগে কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলো ভয়?

আদিব তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো--,,আমাকে বিয়ে করার জন্য এতো ছলচা'তুরীর কি দরকার ছিলো সুইটহার্ট!

স্নিগ্ধা ভয়ে বার কয়েক শুকনো ঢোক গিললো, থর থর করে কাঁপছে তার ছোট্ট দেহ।সে ভাঙ্গা গলায় বলতে চাইলো---,,আদিব ভাই...!

আদিব রাশভারী কন্ঠে বলে উঠলো--,,তিন কবুল বলে বিয়ে করার পরও ভাই?স্বামীকে ভাই ডাকতে নেই সোনা,পাপ লাগে পাপ!

আমি চাই না আমার পবিত্র অর্ধাঙ্গিনীর গায়ে পাপের ছিটেফোঁটা ও লাগুক!

স্নিগ্ধা ভেজা চোখে তাকিয়ে আছে আদিবের দিকে,চোখে মুখে অপরাধ বোধ তীব্র হচ্ছে ধীরে ধীরে,বর্ষণের পূর্বাভাস দিচ্ছে যেনো মায়াবী চোখ জোড়া!

আদিব এগিয়ে আসলো খাটের উপর স্নিগ্ধার মুখোমুখি বসলো,স্নিগ্ধা থাপ্প"ড় খাওয়ার ভয়ে বিছানায় হাত ভর দিয়ে রেখেই পিছিয়ে গেলো,চোখ জোড়া বন্ধ হয়ে গেছে আপনাআপনি!

আদিবের শান্ত চাহনি,মনের কোনে থাকা সুখের প্রজাপতি যেনো উড়ে বেড়াচ্ছে, এতোটা সুখ সুখ লাগছে কেনো তার?সামনে বসে থাকা মেয়েটা তার বউ?বউ করে পেয়ে যাবে কখনো ভেবেছিলো কি আদিব?মেয়েটাও যে তাকে কখনো ভালোবাসবে, এতোটা বেশি ভালোবাসবে কল্পনা করেছিলো আদিব?হৃদয় পুলকিত হলো অনুভূতির ফোয়ারা এসে জমতে শুরু হলো যেনো।

স্নিগ্ধা কোনো প্রকার মা'রের আভাস না পেয়ে চোখ খুললো,ঠোঁট ভিজিয়ে ঢোক গিলে বললো--,,আপনি আমাকে এখন মার'বেন আদিব ভা..!

ভাই বলতে গিয়েও আর বলতে পারলো না,লজ্জারা এসে ভর করলো চোখে মুখে,আদিব স্নিগ্ধার গাল দু হাতে আলতো চেপে ধরে কাছে টানলো কপালে ঠোঁট চেপে ধরে গভীর চুম্বন করলো!

স্নিগ্ধার পুরো শরীলে শিরশিরে অনুভূতি খেলা করলো,অসার হয়ে আসতে চাইলো পাতলা গড়নের দেহটি,এতো ভালোবাসার ভর সইতে পারলো না হয়তো,একটা চুমুতেও কি ভালোবাসার গভীরতা টের পাওয়া যায়?

আদিব স্নিগ্ধাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কাঁপা কন্ঠে বললো--,,আমার ও ভয় করেছে জান,হৃদয় উথাল-পাতাল করে ফেলার মতো ভয় আমাকে ঘিরে ধরেছিলো জানিস,আমিও ভয় পেয়েছিলাম তিব্র ভয়, তোকে হারিয়ে ফেলার ভয়!

নৈঃশব্দ্যের প্রেমালাপ পর্ব ২৭ গল্পের ছবি