নৈঃশব্দ্যের প্রেমালাপ

পর্ব - ২৪

🟢

সফিক তালুকদার গম্ভীর হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন,তার সামনে দুদিকে মুখ করে দাড়িয়ে আছে আদিব, স্নিগ্ধা।

আবির নিজের বোনের দিকে তাকিয়ে আছে,এবার তো বাবা তাকে উপরে ট'পকে দিবে নিশ্চিত!

আবির ছুটলো বাকিদের ঘটনা জানানোর জন্য।

আদিব জোরেসোরে ধম'ক দিয়ে বললো--,,স্নিগ্ধা বাড়ির ভিতরে যা!

স্নিগ্ধা শুকনো ঢোক গিলে মেজো আব্বুর দিকে তাকালো।আরেকবার আদিবের দিকে!

আদিব আবার বললো--,,কি হলো যাচ্ছিস না কেনো?

স্নিগ্ধার হাত পা কাঁপছে কি হবে এবার।কিন্তু ঘটলো অন্য কাহিনি সফিক তালুকদার এক গাল হেসে স্নিগ্ধার মাথায় হাত রেখে বললো--,,আমার মেয়ে তোরা তিনজন তোদের খুশির জন্য আমি আর বড় ভাই ছোট ভাই সব করতে পারি,কিন্তু তুই এমন একজনকে পছন্দ করেছিস যার নিজের জীবনের প্রতি কোনো মায়া নেই, ছন্নছাড়া মানুষ!ওর হাতে মেয়ে তুলে দিতে পারবো না আমি,যা ঘরে যা মন খা"রাপ করিস না এর থেকেও হাজার গুন ভালো ছেলে এনে দিবো তোর জন্য!

স্নিগ্ধা অস্পষ্ট সুরে বলে উঠলো--,,মেজো আব্বু!

সফিক তালুকদার স্নিগ্ধা কে আস্বস্ত করে বললো--,,তোমার প্রতি রাগ করিনি বোকা মেয়ে,যাও সবার সাথে গিয়ে আনন্দ করো!

স্নিগ্ধা একবার আদিবের দিকে তাকিয়ে দৌড়ে ভেতরে চলে গেলো।

আদিব একই ভঙ্গিতে এখনো দাড়িয়ে আছে,সফিক তালুকদার থমথমে কন্ঠে বললো--,, আমার ভাইয়ের ভোলা ভালা মেয়েটাকে কি করে নিজের জা'লে ফাঁসি"য়েছিস?

আদিব নিজের বাপের দিকে তাকিয়ে বিরক্ত হলো কোন বাপ এমন করতে পারে তার জানা নেই!শুধু তার সাথেই শ"ত্রতা করতে পারে এই লোক।

আদিবের বিরক্তি মাখা কন্ঠস্বর--,,আপনার প্রিয় ভাইয়ের মেয়েকে মোটেও আমি কোনো ইশারা ইঙ্গি"ত দেইনি।মাথামোটা মেয়েকে রোজ নিয়ম করে ধম'ক দিয়েছে যতটুকু কঠোর ভাবে কথা বলেছি তাতে তো আমার দিকে ফিরে তাকানোও উচিত নয় ওর।কিন্তু ওর কপাল খারা'প,ওকে ইগ'নোর করতে করতে এখন আমি ক্লান্ত, তাই পছন্দ করে ফেলেছি।আমার মতো অসহ্য ছেলেকে যেহেতু এতোদিন নিয়ম করে সহ্য করতে পেরেছে আশা করি ভবিষ্যতেও পারবে।এখন আপনার চাওয়া না চাওয়াতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না নিজের বাড়ির মেয়েকে সামলাতে পারেননি আপনি, আপনার ব্যর্থতা।আমি বামুন হয়ে চাঁদে হাতও বাড়ায়নি চাঁদ নিজে হেঁটে আমার কাছে চলে এসেছে পরম সৌভাগ্যবান ব্যক্তি আমি।আপনি তো ভালো করেই জানেন আদিব তালুকদার যা চেয়েছে তা তার হয়েছে যে কোনো মূল্যে আপনার বাঁধা তো আগেও মানেনি,এবারও তো আরো আগে মানবে না,এটা তো ভালোবাসার মাম'লা!

জেনেই যখন গেছেন বাড়ি গিয়ে ভাইয়ের কাছে নিজের ছেলের বিয়ের প্রস্তাব টা রাখুন!বিয়ে করতে চাই আমি।

সফিক তালুকদার রেগে বললো--,, তোমার কাছে মেয়ে বিয়ে দিবো না আমি।

--,, আপনাকে বিয়েতে দাওয়াত ও করবো না আমি,শুধু প্রস্তাব টুকু রেখে বাপের দায়িত্বটা ঠিকঠাক পালন করলেই আপনার ছুটি!

--,,বাপের মুখের উপর বিয়ে করার কথা বলো বেয়া'দব ছেলে,বেশর'ম কোথাকার!

--,,আপনি বলতে পারবেন না তাই তো?তাহলে আমিই বলবো বিয়ে টা তো আমাকেই করতে হবে!

সফিক তালুকদার রেগে বললো--,,চুপ বেয়া'দব! স্নিগ্ধার মতো নরম মনের মেয়েটা তোমার মতো গো'য়ার তেঁদড় ছেলেকে পছন্দ কি করে করলো বুঝে আসে না আমার!তুমি তাবি'জ টাবি'জ করো নাই তো আবার?

আদিবের চোখে মুখে বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট থমথমে কন্ঠে বললো--,, আমার এতো ফাল'তু সময় নেই এসব করতে যাবো!ওকে তো আমি জোর করিনি আমাকে ভালোবাসতে,ও নিজ ইচ্ছেতে এই বিষা"ক্ত সমুদ্রে ঝাপ দিয়েছে এখন আমার কিছু করার নেই।আমার ভালোবাসার মানুষ কে আমি যে কোনো উপায়ে নিজের করবো। যদি মাঝখানে বাপ বাঁধা হয়ে আসে তাকেও দেখে নিবো!

আদিব হনহনিয়ে সেখান থেকে চলে গেলো,সফিক তালুকদার চরম পর্যায়ে বিরক্ত হলেন।মানে মেয়েটার জীবন তিনি হাতে ধরে কিছুতেই নষ্ট হতে দিতে পারেন না,তার ছেলে হলে কি হবে জীবনের প্রতি সে বড্ড হেঁয়ালি করছে,অন্য একজন মানুষের দায়িত্ব নেওয়া মুখের কথা নয়।বিয়ে তো আর ছেলেখেলা নয় করলাম কিছুদিন পর আর ভালো না লাগলে ছেড়ে দিলাম!

আদিব যদি নিজেকে ঠিক করতে পারে, নিজের প্রতি কাজকর্মের প্রতি সিরিয়াস হয় তো তখন তিনি ভাইয়ের সাথে কথা বলবেন তার আগে না!

--------------

নাদিম,স্নিগ্ধা,তৃধা,আভা,নোভা দাঁড়িয়ে আছে মূলত তারা টেনশনে আছে,আবিরের থেকে সব শুনেই নাদিম সবাইকে জানিয়েছে।নিজের বাবা কে ভালো করে চেনা আছে নাদিমের ছোট আব্বু মানলেও তার নিজের বাবাই ছেলের জীবনে ভিলে'নের ভূমিকা পালন করবে তা সে আগেই জানতো!

আদিবের দেখা নেই সে কোথায় গেছে কে জানে,এদিকে স্নিগ্ধা কেঁদেই যাচ্ছে,আর বলছে আব্বু জানলে আমাকে খুব করে ব'কা দিবে,আম্মু মার'বে।আমি তো শুধু একটু আদিবের সাথে কথা বলতে গিয়েছিলাম কে জানতো তখনই মেজো আব্বু আসবে!

তৃধা ধম'ক দিয়ে বললো--,,তুই চুপ করবি এবার?প্রেম করলে ওই একটু আধটু ব'কা আর মা'র খেতে হয়।কিচ্ছু হবে না চিন্তা করিস না, ভাইয়া সব সামলে নিবে!

আদাভান এসে থামলো ভাই বোনদের জট'লার মাঝে,সবাই কে এরকম সিরিয়াস দেখে বললো--,, কি হয়েছ?

তৃধা কোনো উত্তর দিলো না বাকিরাও চুপ।স্নিগ্ধা কান্না করছে,নাদিম এবার ধীরে সুস্থে সব খুলে বললো আদাভান কে।

আদাভান তৃধার দিকে তাকিয়ে বললো--,, সবাই চলো আলিজা কে হলুদ দেওয়া হচ্ছে,আর স্নিগ্ধা কান্না করবে না আর,আদিব ভালো ছেলে আংকেল অমত করবে না,আমি কথা বলবো উনাদের সাথে!

তৃধা মুখ ভেংচি কা'টলো এসেছে পন্ডি'তি করতে নিজের শ্বশুর তো হিট'লার তার ভাই গুলো কম যায় না এবার বুঝবে যাও না কথা বলতে কি'ক মে'রে বাউ"ন্ডারির বাহিরে ফেলে দিতে দুবার ভাববে না!

তৃধা দ্রুত পায়ে স্টেজের সামনে গেলো,সবাই মিলে হলুদের অনুষ্ঠান শেষ করলো।রাত বেড়েছে ঘুমাতে গেলো যে যার মতো,তৃধা আগে গেলো আলিজার ঘরে মেয়েটার মন খারা'প এতো আনন্দের মাঝেও মুখ ভার ছিলো তার!

তৃধা গিয়ে নক করতেই আলিজা মুখ মুছতে মুছতে এগিয়ে আসলো।

তৃধা তাকে দেখেই মিষ্টি করে হাসলো,আদাভানের সব ভাই বোন গুলোই সুন্দর ফর্সা।কি স্নিগ্ধ মায়াময় চেহারা আলিজার, তৃধা বার বারই মুগ্ধ হয় মেয়েটার ব্যবহারও সুন্দর, মাঝেমধ্যে বসে ভাবে জোবান আর আদাভান দুজনেরই গায়ের রং উজ্জ্বল! আর তারা দুই বোন উজ্জ্বল হলেও শ্যমলা বর্ণের!

তৃধা আলিজা কে জড়িয়ে ধরে বললো--,, মন খারা'প আপু?

আলিজা তৃধা কে জড়িয়ে ধরে বললো--,, তোমাদের কে ছেড়ে চলে যাবো তো তাই একটু মন কেমন করছে ভাবিমনি।

তৃধা আলিজার দিকে ছলছল চোখে তাকালো তৃধাকে সচারাচর কাঁদতে দেখেনি আলিজা,মেয়েটা বয়সে তার ছোট হলেও ম্যাচিউরিটি তে তার থেকে অনেক বড়।

তৃধা মন খারা'প করে বললো--,, তোমাকে তো আমি অনেক বেশি মি'স করবো,তোমার ভাই তো তিন বেলা ঝ'গড়া করে আমার সাথে তুমি চলে গেলে কার কাছে এসে বিচার দিবো বলোতো,আর কার সাথেই বা থাকবো।

আলিজা তৃধার কথা শুনে মৃদু হেসে বললো--,,আমি কি একেবারে চলে যাচ্ছি নাকি বো'কা আবার আসবো তো,তোমাদের জ্বা'লাতে আর আমার ভাইয়ের নাদুসনুদুস এক ড"র্জন বাচ্চাদের সাথে খেলতে!

তৃধা সত্যি সত্যি কেঁদে ফেললো,চোখ মুছে আলতো হেসে বললো--,,এতো বাচ্চা কোথায় পাবে?বাড়ি জুড়ে বাচ্চা তো শুধু একটা জিদান।

আলিজা হেসে বললো--,,আরে হবে হবে তোমার আর ভাইয়ার বেবি রা আসবে তো তখন দেখবে কতোগুলো বাচ্চা হয়!

তৃধা চকিত নয়নে তাকালো ওর আবার বাচ্চা?হায় খোদা নিজেকে সামলাতে ছয় বেলা উ'ষ্ঠা খায় আর আদাভান তো ওর রাগ ভাঙ্গাতে ভাঙ্গাতেই হাঁপিয়ে উঠে আরেকটা আসলে ওটা কে, কে সামলাবে?

তৃধার আকাশ কুসুম চিন্তায় ছে'দ ঘটলো মোবাইলের শব্দে, আলিজা মোবাইল হাতে নিয়ে দেখলো তার হবু বর কল করেছে।

তৃধা নিজের চিন্তা সাইডে রেখে ভ্রু নাচিয়ে আলিজা কে বললো--,,ভালো ভালো, হবু দুলাভাই কি বউ কে না দেখতে পেয়ে বেশ কষ্টে আছে?

ওপাশ থেকে আকাশের কন্ঠস্বর শোনা গেলো--,,আলিজার ভাবিমনি?

তৃধা হেসে বললো--,,হুম হবু বর মশাই তা আমার আপুকে রাতবিরেতে জ্বা'লাতন করছেন কেনো শুনি?এখন যদি না ঘুমিয়ে চোখের নিচে ডা'র্ক সার্কেল পড়ে তখন?লোকে তো বলবে ওই দেখো নতুন বউয়ের চোখের নিচে কালি পড়েছে সুন্দর লাগছে না!

আকাশ অমায়িক হেসে বললো--,,সামান্য চোখের নিচে কালি পড়লে কি আমার বউ অসুন্দর হয়ে যাবে নাকি?কার ঘাড়ে কটা মাথা আমার বউকে এসব বলে কষ্ট দিবে!দরকার পড়লে মুখ শুধু আমি দেখবো, সবার সামনে দু হাত লম্বা ঘোমটা দিয়ে থাকবে!

তৃধা আলিজা কে খোঁচা মে'রে বললো--,, বাব্বাহ্! কি ভালোবাসা।

আলিজা লজ্জা পেয়ে বললো--,,ভাবিমনি তুমিও না।

তৃধা আকাশের সাথে হেসে হেসে কথা বলছে আর আদাভান দরজায় দাড়িয়ে দেখছে আর লুচির মতো ফুলছে,হোক বোনের জামাই তার বউ কেনো অন্য পুরুষের সাথে এভাবে কথা বলবে?জ্ব'লে পু'ড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা আদাভানের।

সে এবার আর না পেরে ডেকেই বসলো--,,তৃধা শুনো একটু!

আলিজা দরজার বাহিরে ভাইকে দেখে বলে উঠলো--,,ভাইয়া তুমি!

আদাভান হেসে বললো--,,ঘুমাসনি এখনো?রাত বেড়েছে ঘুমিয়ে পড় শরীর খারা'প করবে নয়তো।

তৃধা আলিজার হাতে মোবাইল গুঁজে দিয়ে বললো--,,কি দরকার শুনি?

আদাভান আলিজার দিকে একবার তাকালো তার পর তৃধার দিকে তাকিয়ে বললো--,, আদিবের ব্যাপারে কথা বলবো তুমি আসো,আলিজা তুই কথা শেষ করে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়!

তৃধা সাথে সাথে বলে উঠলো--,,না আমি তো আজকে আপুর সাথে থাকবো,আপনার সাথে সকালে কথা বলছি যান গিয়ে শুয়ে পড়ুন!

আদাভান চোখ রাঙিয়ে তাকালো, তৃধা মুখ বাঁকিয়ে বললো--,,কি এমন গুরুত্বপূর্ণ কথা বলতে হবে রাত করে ভাললাগে না,টাটা আপু।

আলিজা তৃধা তে বিদায় দিয়ে দরজা আটকে দিলো,তৃধা আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো না কেউ নেই সব ঘুম।

তৃধা আদাভানের দিকে দু হাত বাড়িয়ে দিয়ে দাঁড়ালো, আদাভান ভ্রু কুঁচকালো,তৃধা ইশারা করে বুঝালো কোলে নাও!

আদাভান না বুঝার ভান ধরে বললো--,,কি?

তৃধা ঠোঁট উল্টে বললো--,, কোলে নিতে বলেছি!

আদাভান বুকে দু হাত গুঁজে বললো--,, তুমি কি বাচ্চা?

তৃধা উপর নিচ মাথা নাড়ালো,আদাভান চোখ ছোট ছোট করে বললো--,,আকাশের সাথে এতো হেসে হেসে কথা বলার কি আছে?আমার সাথে তো জীবনে একবার সুন্দর করে কথা বলো না সারাক্ষণ শুধু ঝগ"ড়া করো!

তৃধা নাক ফুলিয়ে বললো--,, কখন?কোলে নিবেন না বলে মি'থ্যা দোষা"রোপ করছেন? উঠবো না আর আপনার কোলে কোনো দিন!

তৃধা আদাভান কে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে নিলো,আদাভান তৃধার কোমর পেচিয়ে এক টানে কোলে তুলে নিলো।তৃধা মুখ ভেং'চি কে'টে অন্য দিকে মুখ ঘুরালো।

আদাভান তৃধার গলায় তার দাঁড়ি যুক্ত গাল ছোঁয়াতেই তৃধা তড়িঘড়ি তার দিকে ঘুরলো শিরশিরে অনুভূতিতে খিল খিলিয়ে হেসে উঠলো, বললো--,,আদাভান আমি পড়ে যাবো কিন্তু সুরসুরি লাগছে আমার!

আদাভান তৃধা কে ফেলে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বললো--,,দেখি তুমি কেমন আমার মন পড়তে পারো?যদি ভুল উত্তর দাও তো ফেলে দিবো,যদি সঠিক উত্তর দিতে পারো তো তোমার পছন্দ মতো একটা গিফট দিবো!

তৃধা বলে উঠলো--,,গিফট লাগবে না আমার, আর না কোনো উত্তর দিতে পারবো,আপনার যা মন এটা বুঝতে গেলে আমি অর্ধেক ম'রে ভুত হয়ে যাবো!

আদাভান তৃধার দিকে গম্ভীর হয়ে তাকালো,তৃধা চোখ ছোট ছোট করে বললো--,,এভাবে তাকাচ্ছেন কেনো?

আদাভান অভিমান করে বললো--,, কিছু না!

তৃধা আদাভানের গাল টেনে বললো--,,কিছু-মিছু!

আদাভান তৃধা কে নিয়ে রুমে এসে পায়ে ঠেলে দরজা আঁটকে দিলো,তৃধা আদাভানের গালে এক হাত রেখে বললো--,, রাগ করছেন আমার উপর?আচ্ছা আর কথা বলবো না আকাশ ভাইয়ার সাথে।

আদাভান নিশ্চুপ, তৃধা এবার ঘাড় এলিয়ে দিয়ে নিজের ঠোঁট কাম'ড়ে ধরে বললো--,, আপনি মনে মনে যা ভাবছেন তা সরাসরি বললে কি আমার মান ইজ্জ'ত কিছু থাকবে?আপনার মতো নির্ল'জ্জ তো আর আমি নই!

আদাভান তৃধার দিকে তাকিয়ে মিটি মিটি হাসলো,মুখে মিছে গাম্ভীর্যতার ছাপ তৃধা বো'কাটা তা ধরতেই পারলো না!

তৃধা গাল ফুলালো,এক পর্যায়ে বললো--,,কোলে নিয়ে দাড়িয়ে আছেন কেনো?নামিয়ে দিন আমায়।

আদাভান তৃধা কে নরম তুলতুলে বিছানাটায় এক প্রকার ছুঁড়ে মার'লো তবে ব্যাথা পাবে এমন করে ফেলেনি।তৃধা বিছানায় পড়েই বলে উঠলো--,, জোর করে কোলে তুলে আবার আছা'ড় মা'রার কি দরকার ছিলো?আমি তো একবারও জোর করিনি তোলার জন্য। সব সময় শুধু আমার সাথেই এমন করেন!

আদাভান লাইট অফ করে গিয়ে সিঙ্গেল সোফাটায় শুয়ে পড়লো,তৃধা এবার সত্যি সত্যি বিরক্ত হলো। আশ্চর্য রাগ করার মতো কি করলো তৃধা?

তৃধা উঠেই আগে লাইট জ্বা'লিয়ে দিলো তারপর রাগে গজগজ করতে করতে এসে আদাভানের টি-শার্টের গলায় চেপে ধরে বললো--,, কি সমস্যা?আমার সাথে থাকতে অসুবিধে আপনার?

আদাভান তৃধার রাগী রাগী চোখ মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ।

তৃধা বিরক্তি নিয়ে বললো--,,চলে যাবো কিন্তু রুম থেকে!

আদাভান গম্ভীর কন্ঠে বললো--,, আগে বলো আমার মন এখন কি চাইছে?

তৃধা চোখ ছোট ছোট করে বললো--,, নির্ল"জ্জ পুরুষদের মন যা চায় তাই চাচ্ছে আপনার মন!

আদাভানের জড়ানো কন্ঠ --,,নিজ মুখ বলো!

তৃধার গলা কেঁপে উঠলো এবার, এগুলা কি মুখে বলার জিনিস?লোকটাও এতো ব'দ সেই সারাদিন রাত সন্ধ্যা জ্বা'লিয়েছে এসব বলে বলে।

তৃধা বলে উঠলো--,,রাগ করে বসে থাকুন আমি কিছু বলছি না!

আদাভান আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো কিছু আছে কিনা যা দিয়ে আপাতত বউকে ব্লা'ক মেইল করা যাবে।

আদাভান ছোট একটা হাতল যুক্ত ব্লে'ড খুঁজে পেলো তবে তাতে যে ধার নেই তা তো শুধু ও নিজে জানে তৃধা তো জানে না।

আদাভান ওইটা আচমকা নিজের হাতের সামনে চেপে ধরে বললো--,,বলো নয়তো দিলাম হাত কে'টে!

তৃধা আঁতকে উঠে বললো--,,আদাভান, ছেলেমানুষী করছেন কেনো?হাত কে"টে যাবে তো।

আদাভান বাঁকা হেসে বললো--,, তাহলে বলো,এখন তুমি আমার মনের টা বলবে সাথে ওইটার উল্টোটাও বলবে!

তৃধা তড়িঘড়ি করে বললো--,, বলছি বলছি আপনি ওইটা সরান প্লিজ!এরকম কেউ করে পা"গল লোক,আমি তো নিজ থেকেই বলতাম।

আদাভান মৃদু হেসে বললো--,,তো বলো।

তৃধা শুকনো ঢোক গিলে বললো--,,আপনি এখন আপনার বউকে আদর করতে চাচ্ছেন!

দ্বিতীয়টা হচ্ছে...

আপনার বউ এখন আপনার আদর পেতে চায়!

আদাভান এবার হাতের থেকে জিনিস টা ছুঁড়ে মে'রে বললো--,, তাই?লজ্জাবতী বউ আমার মুখ ফুটে বলতে পারছিলে না বুঝি!

তৃধা বেশ বুঝতে পারলো আদাভানের শয়"তানি।তৃধা এক পা দু পা করে পিছিয়ে গিয়ে বালিশ তুলে আদাভান কে মা'রা শুরু করলো।

আদাভান হো হো করে হেসে বললো--,,কেমন লাগছে মিসেস?

তৃধা বলে উঠলো--,,জঘ"ন্য!

আদাভান তৃধার হাত চেপে ধরে নিজের কাছে নিয়ে এলো খুব কাছে যেখানে মাঝে কোনো দূরত্ব অবশিষ্ট নেই।তৃধা আদাভানের চোখে চোখ রেখে চুপ করে আছে!

আদাভান তৃধার কোমর জড়িয়ে ধরে কানের একপাশে চুমু খেয়ে ফিসফিস করে বললো--,,আদর নিবে না বউ?

তৃধা লজ্জায় মুখ লুকিয়ে বললো--,,নিবো!

আদাভান তৃধাকে জড়িয়ে ধরে কপালে চুমু খেলো, ধীরে ধীরে নিজের ঠোঁটের অধিপত্যে ছড়ালো সম্পূর্ণ তৃধাতে।আপন করে নিলো নিজের প্রিয়তমাকে,তাদের ছোট ছোট খুনসুটি ঝ'গড়া রাগ অভিমান কে দূরে ঠেলে দিয়ে ভালোবাসার চাদরে মুড়িয়ে নিলো নিজেদের কে।

দিনশেষে ভালোবাসা মানুষটির বুকে নিজের জায়গাটা ঠিকঠাক বুঝে নিয়ে তাতে মাথা রেখে চুপটি করে ঘুমানোটাই হয়তো মানুষের একান্ত চাওয়া, মানসিক শান্তির কারন!

---------------

ভোর বেলাতে প্রোপোজাল দিবি?রাদিফের কথায় নাদিম ধু'ম করে ওর পিঠে এক কি'ল বসিয়ে দিলো।

নিশি বলে উঠলো--,,ওফ! তোরা কি মারা'মারি থামিয়ে আসল পয়েন্টে আসবি? নাকি চলে যাবো।

নাদিম বিরক্ত হয়ে বললো--,, তৃধার বাচ্চাটা এতো ঘুমায় ক্যান?ওর ব্রেন থেকে কিছু না কিছু একটা উপায় নিশ্চিত বের হতো।

আভা বলে উঠলো--,,নোভারে প্রোপোজ করতে মন চাইল কেন তোর হঠাৎ!

নাদিম কপাল চাপড়ে বললো--,,আমার কপা'ল খারা'প তাই!তোর বোন যে একসেপ্ট করবে না তাও জানি,তবে শেষ চেষ্টা তো করা যেতেই পারে।বিয়ে বাড়িতে কখন কে কোন দিক দিয়ে প্রস্তাব দিয়ে বসে বলা তো যায় না!

আভা খোঁচা মে'রে বললো--,, ওই দেখ নোভা চলে আসতেছে।ভাব কি কি বলবি।

নাদিম না'র্ভাস, এই সকাল বেলা ঠান্ডা পরিবেশেও ঘেমে যাচ্ছে বার বার।নোভা প্রথমে চ'ড় দিবে তার পর রিজেক্ট করবে সবই জানে নাদিম তার পরও ভয় হচ্ছে ওর!

নাদিম নোভার কাছে যেতেই বাকিরা সব লুকিয়ে পড়লো,নাদিমের কপাল বেয়ে ঘাম পড়ছে চুল লেপ্টে গেছে কপালের সাথে।নোভা আশেপাশে তাকিয়ে বললো--,,কিরে তুই একা বাকিরা কই?

নাদিমের কন্ঠনালী কাঁপছে, সে কাঁপা কন্ঠে বললো--,, একটা কথা বলার ছিলো তোকে!

নোভা ভ্রু কুঁচকে বললো--,, কি?

নাদিম আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো, হুট করেই হাঁটু মুড়ে বসে পড়লো নোভার সামনে, নোভা প্রতিক্রিয়া দেখায়নি তেমন।নাদিম বলে উঠলো--,,নোভা আই আই লা..!না মানে আমি তোকে ভালোবাসি!

নোভা চুপ রইলো কিছুক্ষণ পর নাদিম কে টেনে উঠিয়ে দাঁড় করালো সামনে,তার পর পরখ করলো নাদিম কে ভালো করে।

নোভা হাত বাড়াতেই নাদিম ধরেই নিয়েছে তার এখন চ'ড় খাওয়ার পালা,তবে তেমন কিছুই ঘটলো না নোভা নাদিমের গাল আলতো ছুঁয়ে দিয়ে বললো--,,ভিতু ছেলেদের পছন্দ না আমার! যার নিজেরই হাঁটু কাঁপে সে আমাকে আমার বাবার কাছে চাইবে কি করে?

নাদিম কপালের ঘাম মুছে বললো--,, সময় হোক তোর বাপ না মানলে তুলে এনে বিয়ে করে নিবো।তোকে হারিয়ে ফেলার তীব্র ভয় আছে আমার,তবে তোর বাবাকে ভয় পাওয়ার মতো কিছু নেই,তোকে ভালোবাসি তোকে একটু আধটু ভয় পেলে আমার কোনো দিক দিয়ে জা'ত চলে যাবে না!ভালোবাসার মানুষের কাছে আমি আজীবন পদে পদে হারতে রাজি তবুও তাকে ছাড়তে রাজি নই।এবার বল তুই কি আমার ভালোবাসা গ্রহন করবি?

নোভা থমথমে কন্ঠে বললো--,, আংটি যেটা এনেছিস পড়া!

নাদিম নোভার বাড়িয়ে দেওয়া হাতের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো, তার পর এক টানে হাত কাছে এনে আংটি পড়িয়ে টুপ করে চুমু দিয়ে হাত ছেড়ে দিলো!

নোভা চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে বললো--,,তবে রে শয়'তান!

নাদিম আগে আগে দৌড়াচ্ছে তার পেছনে নোভা।প্রোপোজাল শেষে কে বাচ্চাদের মতো মারা'মারি করে?

তবে প্রশ্ন মনে রেখেই তিন বন্ধু মিলে হাত মিলালো যাক ফাইনালি নোভা নাদিম কে ফিরিয়ে তো দেয় নি।তৃধা জানলে নিশ্চিত ওকে ছাড়া আসায় খুব করে চিল্লাচিল্লি করবে তবে খুব বেশি খুশিও হবে,ওর বেস্টফ্রেন্ড ওর ভাবি হয়ে যাবে যে!

নৈঃশব্দ্যের প্রেমালাপ পর্ব ২৪ গল্পের ছবি