আদাভান এদিকে ওদিক মুহুর্তেই উদভ্রান্তের ন্যায় তৃধাকে খুঁজলো,ওর মস্তিষ্ক ফাঁকা ফাঁকা লাগছে এখন, আশেপাশে অন্য কেউ আছে কিনা মনে নেই,চোখজোড়া তৃধা কে খুঁজতে ব্যস্ত।
তৃধা আগের জায়গা থেকে ছিটকে কিছু কদম দূরে গিয়ে দাড়িয়ে আছে,আদাভান তৃধার মাথা থেকে শুরু করে হাত, পা সব ভালো করে পরখ করে বললো--,,তো..মার লাগেনি তো?ব্যাথা পেয়েছো?
তৃধা হতবাক হয়ে আদাভানের দিকে তাকিয়ে আছে,আদাভান এক পর্যায়ে তৃধাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।ছাড়ার নাম গন্ধ নেই,যেনো ছেড়ে দিলেই তৃধা হারিয়ে যাবে।
তৃধা আদাভানের পিঠে এক হাত রেখে শান্ত কন্ঠে বললো--,,আমি ঠিক আছি আদাভান,সবাই দেখছে ছাড়ুন!
আদাভানের একরোখা জবাব--,,দেখুক,সামান্য জড়িয়ে ধরেছি, খেয়ে ফেলছি না তোমাকে,কথা বলবা না!
তৃধা ব্যস্ত চোখে আশেপাশে তাকালো যতটুকু দেখা যায়,গু"লি টা লাগলো কার?
তৃধা এক প্রকার জোর করেই নিজেকে আদাভানের থেকে ছাড়ালো,বাড়ির সবাই এখনো শক'ড দেখেই বুঝা যাচ্ছে।
মৃধা জিদান আর পিহুর সাথে ঘরে ছিলো।শব্দ পেয়ে দ্রুত বেরিয়ে আসলো বাচ্চাদের রেখে।
মেজেতে পড়ে আছে সোনালী!আদাভান, মাহিরের ধস্তা"ধস্তির ফলে মাহিরের হাত অন্যদিকে ঘুরে যায়, ফলস্ব"রূপ গু"লি গিয়ে লাগে সোনালীর উপর।
এরই মধ্যে পু'লিশ এসে হাজির হয় বাড়িতে,তৃধা সোনালীর পাশে গিয়ে বসে,আদাভান কে ডেকে বললো--,, আদাভান সোনালী কে হসপিটালে নিতে হবে!
মাহির নিজেও অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে,ও তো সত্যি সত্যি কাউকে গু"লি করতে চায়নি,শুধুই ভয় দেখাতে এনেছিলো!
সোনালীর র'ক্তে ভিজে উঠেছে সাদা মেজে, তৃধা দাঁতে দাঁত চেপে আদাভানের দিকে তাকিয়ে, কি অদ্ভুত লোক এটা,একটা মানুষ মা"রা যাচ্ছে যতই শত্রু'তা থাকুক নূন্যতম সাহায্য টুকু করবে না?
তবে তার আর প্রয়োজন পড়েনি,সোনালীর সেখানেই মৃ"ত্যু ঘটে!তৃধা হা হয়ে তাকিয়ে আছে এমন মৃ"ত্যু তো কেউই কামনা করেনি,তারা তো চেয়েছিলো যাতে সোনালী আর মাহির নিজেদের অপরা'ধের শা'স্তি পাক শুধু।কিন্তু এভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় কিছু সময়ের জন্য সবাই বাকরুদ্ধ হয়ে যায়!
কনস্টেবল এসে সোনালীর লা"শ নিয়ে যায়,মাহির কে সাথে করে নিয়ে যায় তারা,এতোদিন হলে বড়জোর প্রতা'রনা করার জন্য কেই'স হতো,এখন নিজের কর্ম দো'ষে মা'ডার কেই'সের আসা"মি হয়ে গেছে মাহির!
কেইস ফাইল সহ যাবতীয় ফর্মালিটি পালন করার জন্য গেলো আশরাফ মজুমদার, সাথে আদিব,জোবান।
মুহুর্তেই গুমোট হয়ে এলো পরিবেশ,নিস্তব্ধতা ছেয়ে গেলো মনের মাঝে,সবাই চেয়েছিলো সোনালী এখান থেকে চলে যাক, শা'স্তি পাক, এখন তারই মৃ"ত্যুর শোক পালন করছে মনে মনে,এ কেমন যেনো অদ্ভুত মানুষের হৃদয়, কখন কি চায় বুঝা বড় কঠিন!
-----------------------
আমরা মানুষ, সব কিছুর স্মৃতি ভুলে সামনে এগিয়ে যাওয়াই হয়তো আমাদের ভবিতব্য!
সহজেই খারা'প দৃশ্যপট কে মন থেকে দূরে সরিয়ে আনন্দে মেতে উঠি,জানা অজানা সব স্মৃতির ভিড়ে এসব ঠুন'কো বিষয় আঁকড়ে ধরে মন খারা'প করে বসে থাকাটা বোকামি।
পরের দিন আলিজার গায়ে হলুদ,সবাই মিলে বাড়ির কাজে হাত লাগিয়েছে,মেহমানের পরিমান বাড়ছে,বাড়ির বড় মেয়ের বিয়ে,অন্যের জন্য দুঃখ বিলাস করে মেয়েটার জীবনের সুন্দর মুহুর্ত গুলো কেউই ন"ষ্ট করতে চায় না।
পুরো দমে কাজে লেগে পড়েছে ভাই বোনেরা,সবাই ম্যাচিং করে, শাড়ি,পাঞ্জাবি কিনেছে।কে কিভাবে সাজবে তা নিয়ে প্ল্যানিং তো কখন থেকেই শুরু হয়ে গেছে।
শুধ মুখ ভার করে রেখেছে তৃধা,তার পেছনে অবশ্য কারন আছে,আদাভান তৃধাকে আচ্ছামতো কথা শুনিয়েছে আগের ঘটনা নিয়ে,কেনো তৃধা পাকামো করে মাহিরের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলো?কিছু হয়নি যদি কিছু হয়ে যেতো?এতো দয়ার সাগর হতে ওকে কে বলেছে?আদাভান কি তৃধা কে একবার ও বলেছে ওর জন্য ম'রতে?সব সময় তো বাচ্চামো করে ওইদিন এতো বড় হতে কে বলেছিলো? কাজকর্ম তো কিছু নাই সারাদিন লাফা"লাফি করে আর উল্টোপাল্টা কাজ করে আদাভানের মাথা খারা'প করে।
সব কিছু শুনে তৃধা আদাভান কে কিছু বলেনি তবে আদাভানের সাথে রাগ করে বসে আছে,যা সে সব সময় করে,তবে আজকে আদাভান তৃধার রাগ ভাঙ্গা"য়নি উল্টো সে নিজেও রাগ করে বসে আছে।
দুদিকে দুজনের মন খারা'প তবে কেউই আগ বাড়িয়ে কথা বলতে রাজি নয়,তৃধা তো আদাভানের কথা গুলোকে খোঁচা মা'রা বলে ধরে নিয়েছে।
কতোবড় কথা তৃধা কোনো কাজ করে না!তৃধা ও কম কিসে রাগ করে রান্না ঘরে ঢুকেছে, সে কি রান্না করতে পারে না নাকি?সবাই তো তাকে কিছু করতে দেয় না,আর তাদের আদরের ছেলের এসব সহ্য হয় না, সরাসরি বললেই তো পারে বিয়ে করে এনেছি কি সাজিয়ে রাখার জন্য? যাও গিয়ে কা'মলা খাটো!
তৃধা সবাইকে রান্না ঘর থেকে বের করে দিয়েছে,সে একাই আজকে রাতের জন্য সব রান্না করবে।আদাভান কে দেখিয়ে দিবে সে ও পারে।
আমিনা বেগম কপাল চাপড়ালেন ছেলেটা এমন হলো কি করে?আর মেয়েটার ও কি রাগ কম,দুটোতে সংসার কি করে করবে?কেউ কাউকে এক চুল ছা'ড় দিতে রাজি নয়।
এতো মানুষের রান্না করা কি মুখের কথা?করতে পারলেও ও তো ছোট মানুষ কেনই বা করতে যাবে,সবাই মিলে করুক।
আমিনা বেগম রান্না ঘরের দরজায় ধাক্কা দিয়ে বললো--,,তৃধা মা না ভালো দরজা খোল,ওই গা"ধাটার উপর রাগ দেখিয়ে এতো কাজ করা লাগবে না তোর,বের হ মা সবাই মিলে করবো!
আদাভান সিঁড়ি দিয়ে নামছিলো তখন গম্ভীর কন্ঠে বললো--,,করছে যখন করতে দাও মা,হাত টা'ত কা"টুক ঠিক বেরিয়ে আসবে!
তৃধা ভেতর থেকে চেচিয়ে বলে উঠলো--,, আমার হাত কা'টুক না হয় আগু"নে জ্ব'লে যাক তাতে আপনার কি?যদি আরেকবার আমার বিষয় কথা বলতে আসেন তো বেশি ভালো হবে না!
আদাভান ও রাগে হনহন করতে করতে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যায়।
সোফায় গিয়ে বসলো আমিনা বেগম,মৃধা গিয়ে ডাকলো--,,তৃধা ছেলেমানুষী করবি না বের হ,আচ্ছা তুই করিস সব আমাকে জায়গা দে সাহায্য করবো শুধু!
তৃধা প্রায় দু ঘন্টা পর দরজা খুললো,হাফ ছেড়ে বাঁচলেন যেনো আমিনা বেগম, তৃধার ঘেমে নেয়ে একাকার অবস্থা,
হা হয়ে তাকিয়ে আছে রোজিনা বেগম।
ফাহিমা বেগম বললো--,,কি করেছিস পা'গল মেয়ে,দেখি দেখি সর সর বাকি টুকু আমরা করে নিবো অনেক করেছিস আর করা লাগবে না!
তৃধা সবজি কা'টা থেকে শুরু করে ধোয়া সব কিছু শেষ করে চুলায় রান্না চাপিয়ে দিয়েছে ইতিমধ্যে, মৃধা তৃধার দিকে তাকিয়ে বললো--,,মা দেখলে অ"জ্ঞান হয়ে যেতো রে তৃধু,তার যে মেয়ে এক গ্লাস পানি উঠিয়ে খায়নি সে আজ এতো গুলো মানুষের রান্না একা হাতে করছে!
তৃধা নাক ফুলিয়ে বললো--,,মজা নিবা না আপাই!
মৃধা বুঝলো তৃধা বেশ চ'টে আছে।বাকি কাজ শেষ না হওয়া অব্দি রান্না ঘর থেকে বের ও হলো না।
তৃধা রান্না ঘর থেকে বের হয়ে রুমে গেলো রাত নয়টায়,তৃধা বাথরুম থেকে গোসল করে এসেই বিছানায় ধপ করে শুয়ে পড়লো। সত্যি কাজটা বেশিই করা হয়ে গেছে,জীবনে এতো কাজ এক সাথে করেনি কখনো।
গা হাত পা সব ব্যাথায় টন'টন করছে।
আদাভান রুমে আসলো আরো কিছু সময় পড়,সব ভাই বোনরা মিলে ঘুরেছে সারাদিন,শপিং টুকটাক বাকি ছিলো ও গুলোও গুছিয়ে নিয়েছে এর মধ্যে, সারা বিকেল সন্ধ্যা ওরা সবাই আড্ডা দিয়েছে কিন্তু সেখানে তৃধা ছিলো না,তৃধা না থাকলে নাকি জমে না বলে বলে আফসোসের আর কোনো বাকি রাখেনি একজনও,সবাই আদাভানের দিকে এমন ভাবে তাকাচ্ছিলো আর তৃধার কথা বলছিলো যেনো আদাভানই সবচেয়ে বড় ভিলে"ন!
আদাভান কম মিস করেনি তৃধা কে,একাই একশো লাফা'লাফি করার জন্য, কি ভাবখানা নিয়ে রান্না ঘরে গেলো পরে আর মহাশয়ার কোনো দেখাই মিললো না।বেশ উন্নতি হয়েছে যা বলছে ঠিকঠাক মনোযোগ সহকারে করছে, ভালো!
আদাভান রুমে এসেই দেখেছে লাইট বন্ধ, বিছানায় তৃধা শুয়ে আছে,আদাভান লাইট জ্বা'লালো তখনই,এতো আরামে ঘুম বের করে দিবে এই মেয়ের।
তৃধা কোনো প্রতিক্রিয়া করলো না,চোখ বন্ধ তার।আদাভান ভ্রু কুঁচকালো এতো তাড়াতাড়ি ঘুম?
আদাভান নিশ্চিত হওয়ার জন্য চোখের সামনে দুই তিনবার হাত নাড়ালো।
তখনই তৃধা চোখ খুলে তাকালো,আদাভান ভরকে গেলো তৃধার চোখ দেখে লাল হয়ে আছে পুরো।মেয়েটা কান্না করেছে? নাকি ঘুম পেয়েছে?
তৃধা এক পাশ ফিরে আবার চোখ বন্ধ করলো।আদাভান ভাব নিতে গিয়েও পারলো না,সে ছোট করে জিজ্ঞেস করলো--,,রাতে না খেয়ে ঘুমাচ্ছো কেনো?
তৃধা কোনো ঝা'মেলা করলো না জড়ানো কন্ঠে বললো--,,খিদে নেই,অনেক ঘুম পাচ্ছে!
আদাভান অবাক হয়ে তাকালো,ঝ'গড়া করেনি তৃধা?এ ও হওয়ার ছিলো!
তৃধা ঘুমিয়ে পড়লো মুহুর্তেই,আদাভানের কেমন কেমন যেনো লাগছে,তৃধা কেনো চুপ করে থাকবে?ওর কথা না শুনলে আদাভানের ভালো লাগে না,এ মেয়ে কে চুপ করে থাকা মানায় না,এতোদিন ঠিক রাগ করতো আর যাই করতো জোর করে হলেও কথা বলতো,তাহলে আজ কেনো চুপ থাকবে?
আদাভানের ইচ্ছে হলো তৃধা কে টে'নে তুলে ইচ্ছে করে ঝ'গড়া করবে,যা খুশি হোক তৃধা ওর মাথা ফাটি'য়ে দিলেও আপত্তি নেই।
তৃধার বাহুতে আলতো ঠেলে আদাভান বলে উঠলো--,,এই উঠো বলছি,বিছানায় আমার আগে ঘুমাতে পারবে না তুমি।যতক্ষণ না আমি ঘুমাচ্ছি ততক্ষণ তাকিয়ে থাকতে হবে তোমায়!না হয় তুলে নিয়ে বাথরুমে ছুঁড়ে মার'বো!
তৃধা কপাল কুঁচকে নিলো,ধীর কন্ঠে বললো--,, আদাভান কেনো এমন করছেন?আমাকে এখানে দেখে বিরক্ত লাগছে আপনার?চলে যেতে বলছেন?
আদাভান তৃধার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললো--,,তা কখন বললাম।
তৃধা দ্রুত বিছানা ছেড়ে উঠে গেলো,ওড়না গায়ে জড়িয়ে রুম থেকে বের হতে হতে বললো--,,এবার শান্তিতে থাকুন!
আদাভানের সামনে থেকে তৃধা চলে গেলো,আর আদাভান হা হয়ে তাকিয়ে কি আশ্চর্য ব'কা দিয়েছে দেখে এমন করবে?একটুও মায়া নেই এই মেয়ের মনে?অসহায় জামাই টাকে ফেলে চলে যেতে পারলো?সবাই কে গিয়ে তো বলবে আমি তাড়িয়ে দিয়েছি,তখন?
তৃধা গিয়ে ঢুকলো গোলবাহারের ঘরে।
গোলবাহার তৃধা কে দেখেই বললো--,,তা বইন কি মনে কইরা আমার কাছে?
তৃধা বিছানায় বসে বললো--,,তোমার নাতি ঘর থেকে বের করে দিছে!তার নাকি এই মুহুর্তে আমার মুখ দেখতে ইচ্ছে করছে না, বিছানায় ঘুমাতে দিবে না। তাই চলে এসেছি!
গোলবাহার বেগম তৃধা কে টেনে নিজের পাশে বসিয়ে বললো--,,বোন সো"য়ামীর লগে রাগ কইরা থাকন ভালা না।
তৃধা গোলবাহার বেগম কে জড়িয়ে ধরে বললো--,,আমি এক ফোঁটাও রাগ দেখাইনি রাতে,ভদ্রলোকের মতো কথা বলেছি তাও তোমার নাতির তে'জ কমেনি,রুমে গিয়ে ভালো ম'ন্দ কিছু না, রুম থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে,তুমিও কি থাকতে দিবে না নাকি?
তৃধা ইমোশনাল ব্লা'কমেইল করলো অনেকটা,গোলবাহার বলে উঠলো--,,দেখো কি বলে মেয়েটা,তুই এখানেই থাকবি আমার লগে।ওই বুড়ো টাকে নাতির কাছে পাঠিয়ে দিবো,দুটো হয়েছে এক জাতের, একই রক্ত কিনা গায়ে।
তৃধা খুশি হয়ে বললো--,,তাহলে আমি শুয়ে পড়ি এখন,আমার ভীষণ ঘুম পাচ্ছে!
গোলবাহার হাসলেন,মেয়েটা বাচ্চাই রয়ে গেলো।
---------------------
আমিনা বেগম তৃধার খুঁজে ঘরে গিয়ে দেখলো আদাভান বিছানায় বসে আছে।
আমিনা বেগম জিজ্ঞেস করলো--,, কিরে তৃধা না ঘরে এসেছিলো?
আদাভান বললো--,,উঠে কোথায় যেনো গেছে।
আমিনা বেগম আদাভানের পাশে বসে বললো--,,কিছু কথা বলি রাগ করবি না তো?
আদাভান নিজের মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো--,, কি যে বলো না রাগ করবো কেনো?
আমিনা বেগম হেসে বললো--,,তৃধার সাথে আমরা তোকে এক প্রকার জোরজ"বরদস্তি করেই বিয়ে দিয়েছি,মানছি এটা আমাদের ভুল,তৃধার অতো বয়স নয়, বয়সেও তোর থেকে অনেকটা ছোট ভুল করবে বেশি এটাই স্বাভাবিক, তুই যেমন মেয়ে পছন্দ করিস তৃধা তেমন নয় সম্পূর্ণ বিপরীত ও বলা চলে! তেমন কোনো চাওয়া পাওয়া নেই মেয়েটার,যেমনই হোক তোকে বুঝার চেষ্টা করে,তোর বিপ'দে তোকে ছেড়ে চলে যায় নি।ছেলেমানুষী করে হোক বা যেভাবেই হোক তোকে সাহায্য করেছে,ওর কাজ করার ধরন ভিন্ন, হাসিখুশি যেমন তেমন রাগ, জে'দ অভিমান টাও বেশি।তৃধা খুব চা'পা স্বভাবের মেয়ে, যদি এমন কোনো কিছু করিস জীবনে যা ওর পছন্দ হয়নি বা তোর প্রতি তীব্র অভিমান হয়েছে ওর তোকে কোনো দিন বলবে না।চুপচাপ ধীরে ধীরে তোর থেকে দূরে চলে যাবে সেদিন শত চেষ্টা করেও ফেরাতে পারবি না।
মানলাম তোর রাগ হয় ওর প্রতি, বুঝিয়ে বলবি একবার দুইবার না হোক তিন বারের মাথায় বুঝবে তোর কথা শুনবে।সব সময় রাগ দেখিয়ে যদি ব'কা ঝকা করিস তো ও আর তোর কাছে ওর নিজের কথা বলবে না,তোকে মূল্য দিবে না।মেয়ে মানুষ আহ্লাদী তাদের সাথে যত বেশি নরম হওয়া যায় তত ভালো,কঠোর হলে ওরা নিজেদের ও কঠোর বানিয়ে নেয়,তখন আর কিছু করার থাকবে না।থাকতে মূল্য দে, হারিয়ে গেলে ফিরে পাবি না।তৃধা জীবন সঙ্গী হিসেবে ম'ন্দ নয়!
আদাভান তার মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো--,, কি এমন করলাম যার জন্য এগুলো শুনাচ্ছো?
ওকে শুরুর দিকে আমি একদমই সহ্য করতে পারতাম না এটা সত্যি, আর আমরা একসাথে থাকি ও নি প্রথম কয়েক মাস।দাদু দাদি যাওয়ার পর এক সপ্তাহের জন্য এসেছিলো,তার পর আবার ও ওর মতো আর আমি আমার মতো থাকতাম।তোমাদের আমরা মি'থ্যা বলেছিলাম!
তারপর আমার মন পরিবর্তন হলো ওকে একপ্রকার জোড় করে নিয়ে এসে নিজের সাথে থাকতে বলি,ও যেমনই হোক ওর সঙ্গ আমাকে এতোটাই মুগ্ধ করেছে এখন ওকে ছাড়া থাকার কথা কল্পনাতে ও ভাবতে পারি না আমি, হারিয়ে গেলে কি করে থাকবো মা?
আমিনা বেগম মৃদু রাগ দেখিয়ে বললো--,,থাকতে যখন পারবে না,রাগ কমাও, দুজন মানুষ এক সাথে থাকতে হলে একজনকে একটু বেশি ত্যাগ স্বীকার করতে হবে, মানিয়ে নিতে হবে এটাই স্বাভাবিক। যদি দুজনের একজনও মানিয়ে না নিতে পারো তো যতই ভালোবাসা থাকুক এক সাথে থাকতে পারবে না!
আদাভান চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে বললো--,,একটু ব'কাও দেওয়ার অধিকার নেই আমার?
আমিনা বেগম উঠে দাড়িয়ে বললো--,,তৃধা তোমার প্রতি রাগ করে সারাদিন কাজ করলো,ওর শরীল কেমন আছে একবারও জানতে চেয়েছিস?ওর কিছু হয়েছে কিনা বুঝতে পেরেছিস?পারিসনি তো পারবি কি করে,ই'গো কমা জীবনে শান্তি আসবে!
আমিনা বেগম বেরিয়ে যেতে যেতে বললো--,,তৃধার দু হাতে দুটো করে চারটা ফো'স্কা পড়েছে,এক হাত বা'জে ভাবে কে'টে গেছে।তুই জানতে পেরেছিস?এবার নিজেকে প্রশ্ন কর তোর ভালোবাসা কতোটুকু খাটি!
আমিনা বেগম যে আদাভানের মনের ভি'তর নিয়ে বো'মা টা ফাটি'য়েছেন তা আর বুঝতে বাকি রইলো না তার।
তৃধা অভিমান করে কথা বলেনি এটা আদাভান বুঝতে পেরেছে ও তো সব সময় মেয়েটার রাগ ভাঙ্গায়, যা বলে তাই করে,আর আজ দেখো একদিন মাত্ররো ও রাগ দেখিয়েছে,এতেই এতো কিছু, এতো অভিমান?আর হবেই না কেনো,নিজ মনে ভেবে ভেবে যে ব্যক্তি সাত দিন দূরে গিয়ে বসে থাকতে পারে তার দ্বারা সব সম্ভব। এখন আগে তৃধা কে খুঁজতে হবে আদাভানের!
আদাভান ঘর থেকে বের হতে যাবে তখনই গোলজার মজুমদার ভিতরে আসলেন।আদাভান দাদুকে ঘরে আসতে দেখে বললো--,,তুমি এখানে?
গোলজার মজুমদার বিছানায় গিয়ে বসে বললো--,,তোর দাদী বের করে দিছে বললো তোর সাথে এসে থাকার জন্য।
আদাভান চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে বললো--,,দাদু আমি বিবাহিত, আমার বউ আছে একমাত্র বউ ছাড়া অন্য কাউকে নিয়ে বিছানায় থাকতে পারবো না আমি!
গোলজার আশেপাশে তাকিয়ে বললো--,,তোর বউ তো এখানে নেই,এখন থাকতে সমস্যা ও নেই তুই বেশি কথা বাড়াস না।
আদাভান কোমরে দু হাত রেখে বললো--,,দাদু দেখো ভালোয় ভালোয় যাও বলছি,তুমি তোমার বউ নিয়ে সুখে থাকো আমি আমার বউ নিয়ে,অযথা সতী"নের মতো ব্যবহার করবা না।
গোলজার এবার বিরক্ত হয়ে বললো--,, বউ বাইর কইরা দেওয়ার সময় মনে ছিলো না হত"চ্ছাড়া? তোর বউ এখন আমার বউয়ের লগে থাকবো,তুই আগে ঝা'মেলা করেছিস তোর জন্য আজ আমি বউ ছাড়া!
আদাভান ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে বললো--,,আমার বউ আমি নিতে যাচ্ছি,তুমি বের হও বুড়ো!
তৃধা রাতে ছাদে আড্ডায় ও আসেনি কারো সাথে দেখাও করেনি এটা নিয়ে ছোটদের মধ্যে বেশ কথা বার্তা হচ্ছে।
আলিজা বললো--,,ভাইয়াটাও না বেশি বেশি।ভাবিমনি ভাইয়াকে কতো ভালোবাসে তাই তো তাকে বাঁচাতে চেয়েছিলো,আর ভাইয়া কিনা এই বিষয় নিয়ে তাকে কথা শুনিয়ে দিলো?নিশ্চিত ভাবি মনির অনেক মন খারা'প তাই আসেনি একবারও।
নোভা বলে উঠলো--,, এতো সময় রাগ করে থাকার মতো মানুষ তো তৃধা না,অন্য কোনো কাহিনি নেই তো!
নাদিম বলে উঠলো --,,যত সব ফাল"তু চিন্তা।দেখবি সকাল সকাল পে"ত্নীটা হাজির।
স্নিগ্ধা বলে উঠলো--,,তোমরা কি মনে করো আপুকে বলোতো? সে কি একটু মন খারা'প ও করতে পারবে না?সব সময় নিজে থেকে আগ বাড়িয়ে কথা বলে দেখে মূল্য দাও না যেদিন আর বলবে না সেদিন বুঝবে!
স্নিগ্ধা উঠে চলে আসলো,আদিব বিরবির করে বললো--,, পুরাই তৃধার মতো হয়েছে!
----------------
আদাভান কে ঘরে ঢুকতে দিবে না গোলবাহার বেগম,আদাভান গোলবাহারের পা জড়িয়ে ধরে বসে পড়লো নিচে,ছোটরা নিচে নেমে দেখলো আদাভানের এসব কান্ড,গোলবাহারের মন গললো না তিনি নিজের কথায় অনড়।
আদাভান আকুতি মিনতি করে বললো--,,দাদী বিশ্বাস করো শুধু একবার দেখেই চলে আসবো,তুমি দরজায় দাঁড়াও আমি যাবো আর আসবো!
গোলবাহার অবশেষে এক পলক দেখার সুযোগ দিলো আদাভান কে,আদাভান সুযোগ বুঝে ঘরে ঢুকেই দরজা আটকে দিলো,সবাই আদাভানের অবস্থা দেখে হো হো করে হাসলো,গোলবাহার বেগম মিথ্যা রাগ দেখিয়ে বললো--,,দাদু ভাই কাম"ডা ভালা হইলো না কিন্তু, বাইর হ ঘর থাইকা।
আদাভান বলে উঠলো--,,তুমি যাও তোমার সোয়া"মী তোমার অপেক্ষায় বুড়ি।
আদাভান তৃধা ফ্যাকা'শে মুখের দিকে তাকালো,বেঘো"রে ঘুমাচ্ছে মেয়েটা,আদাভান ধীর পায়ে গিয়ে পাশে বসলো।তৃধার কপালে ঠোঁট ছুঁয়ালো,পর পর চোখের পাতা, গাল, থুতনি স্পর্শ করলো।
তৃধা চোখ মুখ কুঁচকালো খানিক টা,আদাভান তৃধার হাত ধরলো বেন্ডে"জ টা চকচক করছে হাতে,আদাভানের হৃদয় ক্ষতবি"ক্ষত হলো মুহুর্তেই, তৃধার হাতের দিকে তাকিয়ে থেকেই এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়লো গাল বেয়ে, গিয়ে পড়লো তৃধার হাতে!
আদাভান তৃধার দু হাতের তালুতে চুমুতে ভরিয়ে দিলো।
তৃধার দু হাত বুকের সাথে চেপে ধরে বললো--,,এটা তুমি কি করলে প্রজাপ্রতি!আমার রাগ সব সময় নিজের উপর কেনো ফলাও?
তৃধা নড়েচড়ে উঠলো,আদাভান তৃধার গালে হাত রেখে তাকিয়ে রইলো বেশ কিছুক্ষণ।
তৃধার পা দুটো নিজের কোলের উপর রেখে আলতো হাত টি'পে দিতে লাগলো,তৃধা তো সেই কখনই সজাগ হয়েছে শুধু চোখ মেলেনি,সে ও দেখতে চায় পাগ,লটা কি কি করতে পারে।
হুট করেই আদাভান তৃধার পা নামিয়ে রাখলো,তৃধার দিকে ঝুঁকে পিঠের নিচে হাত রেখে টেনে এনে বুকের সাথে চেপে ধরলো শক্ত করে।উষ্ণ আলিঙ্গনে জড়িয়ে নিয়ে বললো--,, আমার সাথে চালাকি?বেয়া'দব হয়ে যাচ্ছো দিন দিন।
তৃধা হেসে উঠলো এবার,আদাভান তৃধার দিকে তাকিয়ে বললো--,,জ্ব'রের ঔষধ খেতে হবে এক্ষুনি!
তৃধা আদাভান কে সরিয়ে দিয়ে বিছানা থেকে নামতে চাইলো,আদাভান তৃধাকে চে'পে ধরে বললো--,,মা"র খেতে চাচ্ছো এখন আমার হাতে?
তৃধা অবাক চোখে তাকিয়ে বললো--,,আপনি জীবনেও বদলাবেন না!
আদাভান তৃধা কে বসিয়ে বললো--,,জ্ব'রের মৌসুমে প্রেম বাড়ে জানো তুমি?
তৃধা নাক মুখ কুঁচকে বললো--,,আমি অসুস্থ চোখে পড়ছে না আপনার?পড়বেই বা কেনো আপনি তো নিজের মন যা বলে তাই করেন,অন্য মানুষের ইচ্ছের মূল্য কবেই বা দিয়েছেন!
আদাভান তৃধার দিকে তাকিয়ে ফিক করে হেসে বললো--,,তাই তো!ঘুমাও,নয়তো এখন...
তৃধা ফটাফট শুয়ে পড়লো,আদাভান সেদিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো।
-------------
সকালে ঘুম থেকে উঠেই আদাভানের চেঁচামেচি শোনা গেলো--,, মা ও মা তুমি কোথায়?আমার বউকে খুঁজে পাচ্ছি না কেনো?ও আমাকে ছেড়ে চলে গেলে কিন্তু আমি বসে বসে কাঁদবো! মা ওই মা তৃধা চলে গেছে আমাকে ছেড়ে আমি খারা'প তাই বলে এভাবে চলে যাবে?আমাকে দুটো চ'ড় দিতো রাগ হলে।এবার আমি কি নিয়ে থাকবো!
আশরাফ মজুমদার বিরক্তি নিয়ে বললো--,,ষাঁ'ড়ের মতো চিল্লা"চিল্লি করছিস কেনো?
আদাভান জোরে ডেকে বললো--,, বাবা আমার বউ কে খুঁজে পাচ্ছি না, চলে গেছে তাকে এনে দাও প্লিজ!