নৈঃশব্দ্যের প্রেমালাপ

পর্ব - ২১

🟢

রাতের খাবার টেবিলে তৃধা কে পাওয়া গেলো না,আজ একটু দেরিতেই খেতে বসেছে সবাই,কাজকর্ম সেরে রান্না চড়িয়েছে, সবাই ফ্রেশ হয়ে আসতে আসতে সময় লাগলো অনেকটা।

আদাভান হেলেদুলে এসে জোবানের পাশে বসলো,বাকি ছোটরাও বসে পড়েছে ইতিমধ্যে, মৃধা জিদান কে কোলে নিয়ে ঘুরছে ছেলেটা ঘুমিয়েছে ঠিকই যেই না বিছানাতে শুয়াতে যায় অমনি সে কি কান্না।তৃধাটাও সন্ধ্যার পর আর ঘর থেকে বের হয়নি, ওর কাছে দিয়ে যে একটু কাজে হাত লাগাবে সে জো নেই।

আমিনা,ফাহিমা,জোহরা বেগম হাতে হাতে সাহায্য করে সব খাবার টেবিলে রাখলো।

আমিনা বেগম আদাভান কে দেখে জিজ্ঞেস করলো--,,কিরে তৃধা কোথায়?

আদাভান মায়ের দিকে একবার তাকিয়ে আবার মুখ ঘুরিয়ে নিলো,এটা মোটেও তার মা না, তৃধার মা!সব প'ল্টি বাজ যখন দেখো তৃধা তৃধা করে মাথা খারা'প করে দেয়।

আমিনা বেগম বিরক্ত হয়ে বললো--,,এই অস'ভ্য কথা কানে যায় না?মেয়েটা কে আবার কিছু করিস নাই তো তুই?তোর রুমে যেতেই তো কতো ভয় পাচ্ছিলো,শেষ বার তো তোর রুমে যাওয়ার কথা বলেই বের হয়েছিলো!

আদাভান অবাক না হয়ে পারলো না,তার মা কি বুঝাতে চাচ্ছে আসলে,সে তার বউকে মে'রে গু'ম করে দিয়েছে?

আদাভান দাঁতে দাঁত চেপে বললো--,,তোমার আদরের মেয়ে ঘুমাচ্ছে,আদর যত্ন করে করে তো মাথায় তুলে ফেলেছো,এমন ভাব করছো তোমরা আমি তোমাদের বাড়িতে ঘর জামাই থাকি,আর নিয়ম করে তোমাদের মেয়েকে চ'ড় থাপ্প'ড় মা'রি!যত্তসব, থাকবোই না আর বাড়িতে।

আশরাফ মজুমদার বলে উঠলো --,,হ্যাঁ, তাই ভালো চলে যাও,দু বেলা খেয়ে অন্ন ধ্বং"স করছো, আর কি যেনো বলছিলে আমার মেয়েকে তুমি চ'ড় দিবে?স্বপ্নেও দেওয়ার কথা ভেবো না, তোমার ওই হাত আর জায়গা মতো থাকবে না বলে দিচ্ছি!

আদাভানের অবস্থা দেখে বাকিরা হাসছে,বেশ জ'ব্দ হচ্ছে বেচারা।

আদাভান চেয়ার টেনে আবার বসলো,রাগে দুঃখে নিজের চুল টানতে মন চাচ্ছে, বাবা কে না হয় মানা যায় কিন্তু তার মা?ছেলে ভক্ত মা ছিলো তার, আর এখন দেখো যেনো চিনছেই না, মেয়েটা কালা'যাদু করছে ওর উপর তো করছে করছেই, ওর বাপ মারে ও ছাড়ে নাই,শিগগিরী বড় কোনো হুজু"রের কাছে যেতে হবে!

জোবান হেসে বললো--,,তা ভাই আমার শালিকা কি সন্ধ্যা থেকেই ঘুমোচ্ছে?

আদাভান বেশ বুঝতে পারলো কোন দিকে ইঙ্গি"ত করছে ভাই তার।

আদাভান প্লেটে ভাত নিতে নিতে বললো--,,করা ডো'জের ঘুমের ঔষধ দিয়েছি, আমার বউ হয়ে অন্য লোকের সাথে ডে'টিং ফে'টিং করা ছুটিয়ে দিতাম, বেয়া'দব হচ্ছে দিনকে দিন!

নাজিয়া বলে উঠলো--,,ভাইয়া খুব জ্ব'লছে তাই না?

আলিজা এদিকে ওদিক তাকিয়ে বললো--,,কি জ্ব'লছে?এই বড় মা গ্যাসের চু'লা অফ করো নাই?

অদ্ভুত চোখে তাকালো জোবান,বোনটা এতো মাথা মোটা কি করে হলো?

আদাভান মুখে খাবার তুলতেই নাদিম জিজ্ঞেস করলো--,,ভাইয়া কোন কোম্পা"নির ঘুমের ঔষ"ধ দিলা? বোন আমার সন্ধ্যা থেকে ঘুমাচ্ছে!

আদাভান স্বাভাবিক ভাবেই বললো--,,আমার নিজের তৈরি ঔ"ষধ, কোনো দোকানেই কিনতে পাওয়া যায় না।এক ডো'জেই তোর বোন ঘুমে বে"হুঁশ!

জোবান হো হো করে হেসে উঠলো, মৃধা চোখ পাকিয়ে তাকালো,আশ্চর্য লোক বড়রা ও তো সাথে আছে নাকি,খেতে বসেই এদের শুরু হয়ে যায়!

আলিজা আবার জিজ্ঞেস করলো--,, আজব হাসছো কেনো?সামান্য ঘু'মের ঔষ"ধ নিয়ে কি শুরু করলে তোমরা!

এবার আদিব হেসে উঠলো, পর পর নাদিম, নোভা,আভা।

স্নিগ্ধা চোখ বড় বড় করে জিজ্ঞেস করলো--,, তোমাদের আবার কি হলো?

আদাভান বিরক্ত হয়ে বললো--,,বেয়া'দবের দল সব!

নোভা বলে উঠলো--,,নিশি, তোরে তৃধা ঘুম থেকে উঠে সেই মাই'র লাগাবে দেখিস,তোর দোয়া তো কাজে লেগে গেছে!

চোখ ছোট ছোট করে তাকালো স্নিগ্ধা, মনে মনে বললো--,,সব কটাতে পা'গল হয়ে গেছে নিশ্চিত!

------------------

আদাভান মৃধা কে বললো--,,মৃধা তৃধার জন্য খাবার দাও তো বোন।তোমার বোন খি'দেতে আমার মাথা ফাটা'তে দুবার ভাববে না!

মৃধা ছোট করে বললো--,,জেগে আছে নিচে নামলো না ক্যান?মেয়েটা দিন দিন ছোট হচ্ছে যেনো!

আদাভান খাবার সহ রুমে ঢুকলো,তৃধা ততক্ষণে বাথরুম থেকে বেরিয়ে এসেছে,বাহিরে আজ তেমন গরম পড়েনি,রাতের বেলা গোসল তাও ঠান্ডা পানিতে বেশ শীত লাগছে তৃধার।

সে কোনো রকম দৌড়ে এসে কাঁথার ভেতর ঢুকলো, আদাভান দেখলো মেয়েটার দৌড়াদৌড়ি।

টেবিলের এক পাশে খাবার রেখে বললো--,,খেয়ে তার পর ঘুমাও।

তৃধা নাক মুখ কুঁচকে বললো--,,দরদ দেখাতে হবে না আপনার,অসহ্য একটা লোক, বাড়ির সবাই কি ভাববে এখন,আমার মান সম্মান সব শেষ!

আদাভান তৃধার দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে বললো--,,সম্মান যাওয়ার মতো কি করেছি?একটু বউকে আদর ও করতে পারবো না?এ কেমন লজিক!বাড়িতে কি সবাই অবিবাহিত?তারা কিছু করে...

তৃধা দ্রুত এসে আদাভানের মুখ চেপে ধরে বললো--,,শা'লা বেহা'য়া পুরুষ, মুখের লাগাম তো সব বেঁচে দিয়েছেন।কিচ্ছু আটকায় না মুখে?এটা কে নিয়ে সারাজীবন থাকবো কি করে আমি!

আদাভান তৃধা কে সরিয়ে দিয়ে বললো--,,লাগাম তাও এখন আছে, স্টুডেন্ট লাইফে ইভটি"জিং করাটা বাকি রেখেছিলাম শুধু!

তৃধার চোখ বড় বড় হয়ে গেলো,এ ব্যাটার তো শুধু চেহারা সুরতই সুন্দর বাকি সব তো পাতিলের তলা থেকেও বেশি কালা!

তৃধা কে হা হয়ে থাকতে দেখে আদাভান গিয়ে বসলো বিছানায়,তৃধা আকষ্মিক ভাবে বলে উঠলো--,,তার মানে ইয়ে টিয়ে সবই করে ফেলেছেন তখন?

আদাভান সরু চোখে তাকিয়ে বললো--,,হ্যাঁ করেছি তো?সবাই একটু আধটু করে ওই বয়েস!

তৃধার মন খারা'প হলো,মুখ ফুলিয়ে বললো--,,ভালো তো,একটু আগে আমার সাথে এসব নাটক কেনো করেছেন আপনি?অন্য মেয়েদের সাথে থেকে মন ভরেনি?আসতাগফিরুল্লাহ!আল্লাহ আমি তো জীবনে একটা প্রেম তো দূর পুরুষ মানুষের দিক ঠিকঠাক মতো তাকাই ও নি, তাহলে এমন আলুর মতো চরিত্রের জামাই আমারে ক্যান দিলা?

আদাভান বে"কুব হয়ে গেছে পুরো,কোন কথাকে কোথায় নিয়ে যায় মেয়েটা,ব্রে"ন এতো দ্রুত দৌড়ায়!

তৃধা বারান্দায় গিয়ে নিজের কাপড় গুলা এক প্রকার আ"ছাড় মে'রে দড়িতে মেলে দিচ্ছে।

আদাভান তৃধার কাছে গিয়ে বললো--,,বোকা মেয়ে মজা করছিলাম আমি,ওরকম কিছুই ঘটেনি সত্যি বলছি।

তৃধা কথা বললো না,আদাভান কে পাশ কাটিয়ে এসে বিছানায় শুয়ে পড়লো।

আদাভান হাত ধুয়ে আসলো,তৃধাকে টেনে তুলে প্লেট হাতে নিলো,তৃধা তো মুহুর্তেই মুখ ফুলিয়ে ফেলেছে।

আদাভান তৃধাকে টেনে যত্ন সহকারে বুকের সাথে ঠেস দিয়ে বসালো,মুখে তুলে দিলো ভাত।তৃধা চোখ ছোট ছোট করে তাকালো তারপর মুখ ভেংচি কে'টে খেতে শুরু করলো।

খাওয়ার মাঝখানে আদাভান কে জ্বা'লাতে ভুললো না,একটু পর পর বলছে শীত লাগছে ফ্যান অফ করুন,আবার বলছে গরম করছে চালু করুন।ঝা'ল লাগছে, আপনি বেশি বেশি করে খাবার দেন কেনো?

আদাভান ধৈর্য সহকারে সব করে দিয়েছে একটা টু শব্দ ও করেনি।

তৃধার মুখ মুছিয়ে দিয়ে আদাভান মুখ খুললো--,,খাটা'নো শেষ?এবার সুন্দর মতো ঘুমাও!

তৃধা আদাভানের হাত চেপে ধরে বললো--,,না।

--,,মাই'র লাগাবো তৃধা,রাত ক'টা বাজে খেয়াল আছে?চুপচাপ ঘুমাও!

তৃধা শুয়ে পড়লো,আদাভান লাইট অফ করে এসে পাশে শুইয়ে তৃধার দিকে তাকিয়ে বললো--,,অবশেষে..

তৃধা আদাভানের দিকে তাকালো দুজন মুখোমুখি, তৃধা মৃদু স্বরে জিজ্ঞেস করলো--,,কি?

আদাভান তৃধাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো--,,তুমি আমার!

-------------------

সকাল সকাল চেঁচামেচি তে ঘুম থেকে ধরফ'"রিয়ে উঠেছে বেশির ভাগ সদস্য।

রান্না ঘরে চা বসিয়ে ছিলেন ফাহিমা বেগম,শব্দ শুনে বসার ঘরে আসলেন,দারোয়ান পিছনে একজন আগন্তুকের সাথে টানা ত'র্ক করছে,আগুন্তক জোর গলায় ডাকলো--,,তৃধা তালুকদার, আমার সাথে চালাকি?বেরিয়ে আসো বলছি,আজ তোমাকে আমি দেখে নেবো!

মাহিরের কন্ঠ শুনে দৌড়ে আসলো সোনালী,ভয়ে হাত পা কাঁপছে তার, মাহির তো জানে না তৃধার কাছে সব প্রমান আছে!

আদাভান সিঁড়ির শেষ মাথায় দাড়িয়ে,গোলজার মজুমদার বিরক্তি নিয়ে বললো--,,এই অভদ্র ছেলে,আমার বাড়িতে দাঁড়িয়ে আমার নাত বউয়ের নাম ধরে উঁচু গলায় ডাকার সাহস কে দিয়েছে তোমায়?

তৃধা ততক্ষণে আদাভানের পেছনে এসে দাঁড়ালো,মাহির তাচ্ছিল্য করে বললো--,, এমন ভাব করছেন আপনার নাত বউ ভাজা মাছটা উল্টে খেতে জানে না?

আমিনা বেগম রেগে বললো--,, আমার বউমা কেমন তা আমরা বুঝে নিবো,তুমি কে বাপু?

গোলবাহার এসে দাঁড়ালো গোলজার মজুমদারের পাশে, কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললো--,, এই বুড়ো তোমার গোষ্ঠীর কোন আপ'দ সাত সকালে আইসা চিল্লাই"তাছে?

গোলজার মজুমদার তেতে উঠে বললো--,,ওই বুড়ি সব কথায় বংশ টানো ক্যান?

গোলবাহার বলে উঠলো--,, তোমার বংশের মানুষ ছাড়া তাম'শা করার লোক দেশে কমই আছে!

মাহির বিরক্ত হয়ে বললো--,,আজব আপনারা ঝগ'ড়া করছেন কেনো?

গোলজার মজুমদার বলে উঠলো--,, এই ছোক'রা দুই'ডা মিনিট চুপ থাক তো,বুড়ির সাথে আজকে একটা বুঝাপড়া করে নেই,বিয়ে করে আসার পর থেকে মহিলা আমার বংশের পেছনে পড়ছে!সাধে কি বলি জী'নগত সমস্যা।

গোলবাহার বেগম রেগে বললো--,,বুড়ো ওইদিন ও আমার বংশ রে তুমি জি'নে ধরা কইছো, বার বার একই কথা মাইনা নিমু না আমি,করমু না তোমার সংসার,যামু গা যেদিক দু চোখ যায়!

তৃধা আদাভান কে খোঁচা মে'রে জিজ্ঞেস করলো--,,আপনার দাদা দাদি কি একই বংশের?একই দিনে উনাদের আকিকা দিয়ে নাম রাখছিলো?নাম দুইটা কেমন জম'জ,আবার ঝগ'ড়া করা দেখে মনে হয় ভাই বোন!

আদাভান অদ্ভুত চোখে তাকালো,নাম নাকি আবার জম'জ হয়!হায় আল্লাহ।

আদাভান চিবিয়ে চিবিয়ে বললো--,,ঝ'গড়া করতে একই বংশের হওয়া লাগে নাকি?তুমি যে সারাদিন এতো ঝ'গড়া করো তুমি তো তালুকদার বংশের মহিলা!

তৃধা চেঁচিয়ে উঠে বললো--,,কি বললেন আপনি আমি ঝগ'ড়া করি?সাহস তো কম না,সবাই জানে প্রথমে ঝ'গড়া কে শুরু করে!

সবাই এবার তৃধা আদাভানের দিকে তাকালো,আদাভান বুকে দু হাত গুঁজে বললো--,,ঝগড়ু'টে কোথাকার!

তৃধা রাগে ফোঁস ফোঁস করছে, রেগে বলে উঠলো--,,অস'ভ্য লোক, ঝগ'ড়া করে আপনার সতী'ন,আপনার নাতিন,আপনার চৌদ্দ গোষ্ঠী!

মাহির হা হয়ে তাকিয়ে, আরে কোথায় এসে পড়লো সে,একজনের পর আরেকজন শুরু হয়ে যায়!

গোলবাহার এসে বললো--,,ঠিক কইছছ নাত বউ এদের বংশেই যত দো'ষ,সব কটা হইছে ব'জ্জাত!

মাহির বলে উঠলো--,,আপনারা একটু থামবেন প্লিজ!

তৃধা কপাল কুঁচকে বললো--,, আরে মিয়া আপনি চুপ থাকেন,ফ্যামিলি ম্যা'টারে বা হাত ঢুকাচ্ছেন কেনো?

তৃধা আবার বলে উঠলো--,,মা তোমার ছেলেকে সাবধান করো বলে দিচ্ছি,আমার সাথে ঝ'গড়া করতে আসলে মুখে ক'স্টেপ লাগিয়ে দিবো বলে রাখলাম!

আমিনা বেগম বলে উঠলো--,,এই চুপ।আম্মা আব্বা আপনারা ও একটু শান্ত হন,এই ছেলে কেনো এসেছে আগে তা শুনি!

,,,,,,,,,

মাহির বলে উঠলো --,,আপনার বউ মা আমার সাথে প্রেম করেছে, কাল রাতে দেখা করবে বলে ডেকেছে,পরে আর আসেইনি!কেমন চিটিং"বাজ মেয়ে।

আদাভান দাঁতে দাঁত চেপে বললো--,,আমার বউ তোর সাথে প্রেম করবো?এ ও বিশ্বাস করার যোগ্য?ভার্সিটিতে পড়া কালিন তো একটু বয়স কম ছিলো তোর,দেখতে শুনতে মানুষ মানুষ লাগতো তখনই কেউ পাত্তা দেয় নাই,এখন দিবে ভাবিস কি করে?গা'"ঞ্জা খাইয়া আইসছছ নাকি সকাল সকাল!

মাহির রেগে বললো--,,আদাভান বেশি কথা বলার আগে নিজের বউ সামলা,তুই মনে হয় বউরে সুখে রাখতে পারস নাই,তোর গালফ্রেন্ড ও তো তোরে ছেড়ে আমার কাছে এসেছিলো,এবার আসতে চাচ্ছে বউ!আমার তো তোর পুরু"ষত্ব নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে।

তৃধা এবার বলে উঠলো--,,ওই ব্যাটা টাক'লা!বাসায় আয়না নাই?নাকি আয়না কেনার টাকা নাই।আপনার মতো বিবাহিত বে'ডার দিক আমগো বাড়ির কাজের আফা জরিনা ও তাকাইবো না!

মাহির বলে উঠলো--,,আমি বিবাহিত না!

তৃধা দাঁত কেলিয়ে হেসে বললো--,,এটা তো হওয়ারই ছিলো,নিশ্চিত কোনো মেয়ে আপনাকে পছন্দ করে নাই,বিয়ে না করতে পারার শোকে এখন মাথায় সমস্যা দেখা দিয়েছে আপনার,ভদ্রলোকের বাড়িতে এসে অযথা ফালতু কথা বলছেন!পাবনা যান মিয়া এখানে আপনার কোনো কাজ নাই।

মাহির চেঁচিয়ে বলে উঠলো--,, এই মেয়ে!

আদাভান মাহিরেরে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বললো--,,আমার বাড়িতে দাঁড়িয়ে আমার বউয়ের নামে উল্টো পাল্টা কথা বলবি তোকে ছেড়ে দিবো ভেবেছিস?জীবন নিয়ে ফিরতে চাইলে এখনই বেরিয়ে যা!

আদাভান এক প্রকার তেড়ে এসেছে, জোবান তার হাত টেনে ধরে বললো--,,কি করছো কি ভাইয়া।

আদাভান রাগ চেপে বললো--,,ওকে যেতে বল এক্ষুণি!

আদিব বলে উঠলো--,, আমার বোনের নামে এতো বড় অপবা'দ যখন দিয়েছে, প্রমান ও দেখিয়ে যেতে হবে,তা মিস্টার দেখি কি প্রমান আছে আপনার কাছে আমার বোনের বিরুদ্ধে!

মাহির নিজের ফোন বের করে ম্যাসেন্জারে ঢুকলো হাত উঁচিয়ে দেখালো কিছু একটা,আদিব ফোন তার থেকে টেনে নিয়ে সবার দিকে তাকালো।

নাদিম এসে বললো--,,দেখি কি আছে।

আদিব এক পর্যায়ে অট্টহা"সিতে ফে'টে পড়লো,হো হো করে হাসতে হাসতে বললো--,,একটা ছেলেকে আমার বোন মনে করেছে এই লোক,কি মা"রাত্মক মাথায় সমস্যা চিন্তা করা যায়!

নাদিম বলে উঠলো--,,আইডির নাম কুদ্দুস মিয়া,ওই আইডিতে মাহির নামক ব্যক্তি কুদ্দুস নামক ব্যক্তির সাথে টানা দশ দিন কথা বলেছে,মানে প্রেম করেছে!ছেলের সাথে ছেলের প্রেম?নাউজুবিল্লাহ!

মাহির হকচকিয়ে গেলো দ্রুত নিজের মোবাইল হাতে নিয়ে দেখলো সত্যি, নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না ও,তৃধা তালুকদার আইডিটা কি করে মুহুর্তেই পরিবর্তন হয়ে গেলো কিছুই মাথায় ঢুকছে না তার।

আদাভান ভ্রু কুঁচকে সবার দিকে তাকালো,এ নিশ্চিত এই সব গুলার মিলিত কাজ।

মাহির সোনালীর দিকে তাকালো, সোনালী ইশারা দিয়ে কিছু একটা বলছে।

তৃধা সোনালীর পাশে গিয়ে দাড়িয়ে পেছন থেকে তার হাত মুচড়ে ধরে বললো--,,স্বামির জন্য দরদ হচ্ছে নাকি আপা?

চিন্তা করবেন না,আপনার স্বামিকে একা ছাড়বো না,তার সাথে আপনাকে ও পাঠাবো!

মাহির হুট করে পকেট থেকে পিস্ত"ল বের করে আদাভানের দিকে ধরলো,তৃধা চেঁচিয়ে বলে উঠলো--,,পাগ'ল হয়ে গেছেন আপনি?কি করছেন টা কি?

মাহির তৃধার হাত চেপে ধরে বললো--,,তোকে আমার চাই মানে যে কোনো মূল্যে চাই!

তৃধা হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করে বললো--,,ম'রে গেলেও তো তোর মতো শয়'তানের হবো না আমি।

মাহির হেসে বললো--,,তাই?কার জন্য আমার হবি না?ওই এরিশের জন্য? যদি ওকেই মে'রে দেই তো?তখন তুই আমার!

তৃধা বলে উঠলো--,,মাহির সোনালী আপনার স্ত্রী, তাকে নিয়ে বিদায় হন,আদাভানের উপর যদি একটা টোকাও পড়ে আপনাকে নিজ হাতে খু'ন করবো আমি!

আদিব বলে উঠলো--,,তৃধা শান্ত হ এটা রাগ করার সময় না,ওই মাহির একটা পা'গল,গু'লি চালিয়ে দিতে পারে!

তৃধা নিজের হাত এক ঝট'কায় ছাড়িয়ে নিয়ে আদাভানের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো,মাহিরের হাতে থাকা বন্দু"কের নল নিজের মাথা বরাবর রেখে বললো--,,চালা গু'লি দেখি কতো সাহস!নাকি পিস্ত'লে গু'লি নাই।

আদাভানের ক'লিজা শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম এই পাগ'ল মেয়ে করছে টা কি!

আদাভান বলে উঠলো--,,তৃধা কি করছো এসব,সরো সামনে থেকে!

তৃধা রেগে বললো--,,সব দোষ আপনার, চুপ থাকুন এবার আমাকে ম'রতে দিন!

আর মিস্টার মাহির আমাকে মা'রুন তার পর নিজের বউ কে নিয়ে সুখে থাকুন,এসব টানা হেঁচড়া একদম পছন্দ নয় আমার।

মাহির সোনালীর দিকে তাকিয়ে তাচ্ছিল্য করে বললো--,,সোনালী আর বউ?ওর মতো মেয়েকে কয়েকদিন বে"ড পার্ট"নার বানানো পর্যন্তই মানায়।সারাজীবন সাথে থাকার জন্য তো তোমার মতো মেয়ে দরকার,ক'চি, হ'ট....

আদাভান তেড়ে এসে মাহিরের গলা চেপে ধরে বললো--,,তোর ওই নোং'রা মুখে তৃধা কে নিয়ে আর একটা কথা বললে তোকে আজকে এখানেই শেষ করে ফেলবো!

সঙ্গে সঙ্গে একটা গু'লির আওয়াজ হলো,আদাভানের হাত আপনাআপনি ছিটকে সরে এলো,তার মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে তৃধা!তৃধার উপর গু'লি লাগেনি তো!

নৈঃশব্দ্যের প্রেমালাপ পর্ব ২১ গল্পের ছবি