তৃধা আদাভান কে তোয়াক্কা করলো না,গিয়ে বসলো খাটের উপর,আদাভান রাগে কাঁপছে।
তৃধা বিছানায় পা তুলে বসে আঙুল নাড়িয়ে ইশারা করলো, আদাভান ভ্রু কুঁচকে তাকালো, তৃধা আঙুলের ইশারায় কাছে আসতে বললো,আদাভান আসলো দাঁড়ালো তৃধার সামনে।
তৃধা হাই তুলে বললো--,,আদাভান এরিশ দেখছি তৃধা তালুকদারের আঙুলের ইশারায় চলে!
আদাভান শান্ত চোখে তাকালো,দৃষ্টি স্থির হলো তৃধার দিকে,তৃধাকে আপাদমস্তক চোখ ঘুরিয়ে দেখছে সে।
তৃধা কিছু বলতে যাবে,আদাভান তৃধার দিকে ঝুঁকে তার ঠোঁটে আঙুল চেপে ধরে বললো--,,তোমার আঙুলের ইশারায় কেনো শুধু? তোমার বোবা কথার নৈঃশব্দ্যেও আমি চোখ বন্ধ করে যেদিকে বলবে সেদিকে যাবো।ডানে বললে ডানে যাবো, খা'দের দিকে যেতে বললেও চলে যাবো বিনা বাক্য।আমাকে নাজে'হাল করার জন্য কষ্ট করে আঙুল তোলার ও দরকার নেই মেয়ে,আমি তোমার শান্ত চাহনিতেও এলোমেলো হয়ে যাই।
তোমার দেওয়া নিস্তব্ধ প্রহর আমাকে তি"লে তি'লে শেষ করে দিতে সক্ষম!
তৃধা চোখের পলক ফেলছে বার বার,আদাভান আর কিছুটা ঝুঁকে, তৃধা দু হাত পেছনে রেখে পুরো দমে পিছিয়ে যায়,চোখ রাঙিয়ে শাসায় যার অর্থ দূরে যান বলছি!
আদাভান হেসে বললো--,,মাত্ররোই মনে মনে বললে দূরে যাওয়ার কথা তাই না?
তৃধা বিরক্তিতে চোখ মুখ কুঁচকালো।আদাভান তৃধার চোখের নিচে আঙুল ছুঁইয়ে বললো--,,বেশ উন্নতি হয়েছে, সাত দিনে এক বস্তা কালি জমিয়েছো চোখের নিচে,চেহারা শুষ্ক হয়ে গেছে,চুল গুলো আঁচড়াও নি,অলস মহিলা একটা জামাও আয়রন করে পড়োনি।মুখে ফেইস ওয়াশ লাগাওনি ক্রিম তো দূরের কথা।দূরত্ব বাড়িয়েছো ভালো কথা নিজের প্রতি অবহেলা করার সাহস তোমায় কে দিয়েছে?আদর করি তো মাথায় চ"ড়ে বসেছো,একদিন এমন মা'র মার"বো না আজীবন মনে থাকবে!
তৃধা আদাভানের আঙুলে কাম"ড় দিয়ে বললো--,,ঘন্টা করবেন আপনি আমার। যা পারবেন না তা বলতে যান কেনো?আমাকে মারা"র আগে তো আপনি নিজেই ম'রে যাবেন অযথা ফালতু থ্রে"ট দিয়েন না তো।
আদাভান গম্ভীর হয়ে পাশে বসলো,তৃধা বলে উঠলো--,,,তা কথা হচ্ছে, বাচ্চার মাকে সাথে করে নিয়ে আসলেন না?
--,,কার বাচ্চার মা?
তৃধা নড়েচড়ে বসে বললো--,,কেনো আপনার!
আদাভান সিরিয়াস হয়ে বললো--,,সাত মাস হয়ে গেলো বিয়ে করেছি,না বউকে ছুঁইলাম আর না কিছু করলাম,আমার বউ প্রেগ"ন্যান্ট হবে কি করে?আমিই বা বাবা হবো কি করে?
আমার বউয়ের কি মা হওয়ার ইচ্ছে জেগেছে?লজ্জায় বলতে পারছে না?কি আর বলি বলো বউটা আমার এতো লাজুক!
তৃধা চেঁচিয়ে উঠলো---,,আদাভান!আপনি নিজেই তো,বলেছেন আপনি আর সোনালী একই রুমে।আপনি দায়িত্ব নিতে চান পিহুর।
--,,হুম বলেছি তো?
তৃধা রাগ দেখিয়ে বললো--,,কিছু না।
আদাভান দাঁতে দাঁত চেপে বললো--,, আমার সাথে চালাকি না?বুদ্ধি তো থাকে হাঁটুতে।আমার ভালোবাসা নাটক মনে হয় তোমার?ফালতু একটা টপিক নিয়ে কতোবড় কান্ড টা ঘটিয়েছো ওইদিন।আমার ভালোবাসার পরীক্ষা নিতে চেয়েছিলে?তা পরীক্ষায় কতো পেয়েছি মেডাম?
তৃধা তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে বললো--,,কি বলতে চাইছেন?
আদাভান মোবাইল হাতে নিয়ে বললো--,,দেখাতে চাচ্ছি!
তৃধা কাঁপা কন্ঠে বললো--,, কি?
আদাভান তীব্র রাগ নিয়ে বললো--,,আমার আর সোনালীর রো"মান্স!
তৃধা রেগে গেলো, রাগে লাল উঠলো নাক তিড়বিড়িয়ে কাঁপলো ঠোঁট। ফোঁস ফোঁস করে শ্বাস ছাড়লো সে।
আদাভান তৃধার হাতে জোর করে মোবাইল গুঁজে দিয়ে বললো--,,তাকাও বলছি,তাকাও!
আদাভানের কন্ঠে স্পষ্ট রাগ।তৃধা তাকাইতেই শুকনো ঢোক গিললো,এটা তো ওর আর নোভার হসপিটালে যাওয়ার সিসি"টিভি ফুটেজ।
তৃধা চোরা চোখে একবার আদাভানের দিকে তাকালো,আদাভান তাকিয়ে আছে এখনো,তৃধা মেকি হেসে আস্তে ধীরে পিছিয়ে গিয়ে বললো--,,হসপিটালে গিয়েছি তো কি হয়েছে,দেখানোর কি আছে।
আদাভান এগিয়ে আসতে আসতে বললো--,,কিছু যদি নাই থাকে পালাচ্ছো কেনো?
তৃধা তে'জ দেখিয়ে বললো--,,যদি সব জানতেনই, কেনো একটা সামান্য রিপোর্ট দেখেই পিহুর দায়িত্ব নিতে চাইলেন?নিজের প্রতি একটু বিশ্বাস নেই আপনার।আমাকে এখন রাগ দেখানো বন্ধ করেন,পরীক্ষা নিতে চেয়েছি বেশ করেছি,একশো বার নিবো,আপনি তো ডাহা বড় আ"ন্ডা পেয়েছেন, ভালোবাসা না কচুর ডগা,প্রেমিকার সাথে এক রুমে....!
আদাভান তৃধার মুখ চেপে ধরে বললো--,,আর একবার ও উচ্চারন করবা না এই কথা।তুমি যেমন আমার সাথে ফা"লতু নাটক টা করেছো,তেমনই আমিও তোমার মতো করেই নাট'ক করেছি।
তৃধা হাত সরিয়ে দিয়ে বললো--,,আমার ইমোশন আপনার কাছে নাটক মনে হয়?শাক দিয়ে একদম মাছ ঢাকার চেষ্টা করবেন না,ওই মেয়ের সাথে গিয়ে থাকুন তাকে বিয়ে করুন, সরুন আমার সামনে থেকে।
আদাভান সরে আসলো গম্ভীর কন্ঠে বললো--,,তুমি চাও বিয়ে করি?তাহলে করবো যাও ব্যবস্থা করো,তোমাকে সামনে রেখে কবুল বলবো,বাস'র করবো আরো দুই চারটা বাচ্চা ডাউনলোড করবো।
তার আগে সব ক্লিয়ার করে নেই,আমি নিজেকে আর চরিত্র'হীন ভাবে মেনে নিতে পারছি না!
আদাভান ফোন করলো কাকে যেনো রিসিভ হতেই স্পিকারে দিলো--,,সোহান, ওইদিন রাতে মানে আমাদের ট্যুরে কি কি হয়েছিলো সব বল আবার,আমাকে যে ভাবে বলেছিস ঠিক সেভাবেই এক্সপ্লেইন কর, কিছু কিছু মানুষের মাথায় সমস্যা, নূন্যতম বিশ্বাস নেই!কিচ্ছু বাদ দিবি না!
তৃধা প্রতিক্রিয়া দেখালো না,সোহান বলতে শুরু করলো--,,ওইদিন আসলে আমরা সবাই অনেক পরিমানে ড্রিং"স করি, তবে এরিশ তুই করিস নি তার পরও তোকে বেশি মা'তাল মনে হচ্ছিলো!তুই সবার আগে ঘুমাতে যাস, সোনালী তোর সাথে গিয়েছিলো,পরে আর ফিরে আসেনি।
সকালে আমরা ভেবেছিলাম তুই আর সোনালী সারা রাত একসাথে ছিলি, এটা নিয়ে মজাও করেছিলাম তোর সাথে,তুই বলেছিলি তোর কিছুই মনে নেই,তবে সোনালীর কাছে ক্ষমা চাইবি যদি ভুলবসত কিছু করে থাকিস তো!
আমরা তো ট্যুর থেকে চলে আসি, তার পর তোর আর সোনালীর মধ্যে ঝা"মেলা হয়,সোনালী মাহিরের সাথে সম্পর্ক করে।তুই ভার্সিটি ছাড়ার পর আর কারো সাথেই যোগাযোগ রাখিসনি।
তাই তোকে বলার সুযোগ ও হয়নি,রুবি একদিন আমাদের কে বললো--,,ট্যুরে যাওয়াটা আসলে প্ল্যানিং ছিলো,কিসের কাহিনি ওসব জানি না,তবে ওইদিন রাতে সোনালী তোর সাথে ছিলোই না,ও তো মাহিরের সাথে ছিলো,রুবি নিজ চোখে দেখেছে ওদের কর্মকান্ড।তোর গালফ্রেন্ড ছিলো সোনালী, তাই রুবি ফিরেই বলতো সবাইকে কিন্তু তার আগেই তোদের ব্রেকআপ হয়ে যায়!
আদাভান গম্ভীর কন্ঠে বললো--,,থ্যাংস দোস্ত!
ফট করে কল কে'টে দেয় আদাভান, তৃধা চুপচাপ বসে আছে,আদাভান বিরক্তি নিয়ে বললো--,,এবার খুশি?
তৃধা রুম থেকে বের হয়ে যেতে উদ্যোগ নেয়,আদাভান তৃধার হাত চেপে ধরে বলে--,,সোনালী কে আসতে বলছি, বিয়ে দেওয়ার সখ না তোমার?করবো বিয়ে জন্মের মতো বিয়ে খাওয়াবো তোমাকে!
তৃধা চাপা রাগ মিশ্রিত কন্ঠে বললো--,,প্যাঁচ আমি লাগাইনি,লাগিয়েছেন আপনি এতোই যখন স"তী পুরুষ, আমার ছেলেমানুষী তে যোগ কেনো দিয়েছেন?ভাগ্য ভালো পুরুষ মানুষের সতী"ত্ব পরীক্ষা করার কোনো মাধ্যম নাই!
আদাভান তৃধার কোমর চেপে ধরে আচমকা, চোখে মুখে উবছে পড়ছে রাগ --,,যদি পরীক্ষা সত্যিই করা যেতো,আমি সবার আগে করাতাম, ওই প্রমান তোমার মুখের উপর ছুঁড়ে মার'তাম তার পর শান্তি লাগতো আমার!
তৃধা রুম থেকে বেরিয়ে গেলো ততক্ষণাৎ!চোখ মুখ লাল হয়ে এসেছে, কান্না দ'মিয়ে রাখার ফল।বিগত কয়েক মাসে আদাভান একবার ও ওর সাথে এতোটা রুড"লি কথা বলেনি,তৃধা আদাভান কে কখন অবিশ্বাস করেছে?আদাভান যদি ওসব কথা না বলতো তাহলে কি তৃধা কখনো অবিশ্বাস করতো?সব দোষ এখন কি সুন্দর করে ওর ঘাড়ে চাপিয়ে দিলো লোকটা।ঠিক আছে গিয়ে করে নাও বিয়ে, নাচো ম'রো যা খুশি করো তৃধা আর আগ বাড়িয়ে যাবে না আদাভানের কাছে।
সোজা গেস্ট রুমে গিয়ে থেমেছে তৃধা,চোখ মুখের অবস্থা বেহাল,সবাই আড্ডা দিচ্ছে এখনো, এই রুমে ছেলেরা থাকবে তবে এখন বাকিরা ও আছে।
তৃধা কে চুপ চাপ দেখে সবাই চিন্তিত হলো বেশ,আলিজা বলে উঠলো--,,ভাবি মনি কি হয়েছে?
তৃধা হালকা হেসে বললো--,,কই কিছু না তো।তোমরা আড্ডা দিচ্ছো আর আমি রুমে একা ছিলাম তাই একটু মন খারা"প হয়েছিলো,এখন এসে গেছি আবার খুশি হয়ে যাবো!
নোভা ভ্রু কুঁচকে তাকালো, অসম্ভব এই মেয়ের দ্বারা এই অব্দি মিথ্যা বলাটা ঠিক ঠাক হলো না।নিশ্চিত এক চো"ট ঝগ"ড়া করে এসেছে!
--------------
আলিজার বিয়ের শপিং শুরু হয়েছে তোড়জোড় নিয়ে। তৃধার সব বন্ধুরা এসেছে তাতে অখুশি হয়নি বাড়ির কেউ উল্টো এতো মানুষ দেখে গোলজার, গোলবাহার ভীষণ খুশি!
বুড়া বুড়ির কথা বলার যেনো মানুষ হয়েছে,হেসে খেলে কাটবে বেশ কয়েকটা দিন।
আদাভানের ফুফু ফুফা এসেছে বিকেলে ছেলে মেয়েরা সকালে আসলেও কাজের চাপে তাদের আসতে দেরি হলো।তার উপর সপ্তাহ খানেক থাকবেন সব গুছিয়ে আসার ও তো একটা ব্যাপার আছে।
আদাভানের ফুফু এসেই বাড়ির বউদের দেখতে চাইলেন!
তৃধা, মৃধা কে ডাকা হলো,হাসি বেগম বরাবরই খুঁতখুঁতে।
তৃধা মৃধা এসে দাঁড়ালো উনার সামনে, সালাম ও দিলো দুই বোন।প্রথমেই হাসি বেগম নাক সি'টকে বললো--,,গায়ের রঙ এতো চাপা?হায় খোদা আমার ভাইপোদের সাথে কি যায়!তোমাদের ও চোখ বলিহারি একজন না হয় পছন্দ করে বিয়ে করেছে, অন্য জনকে বিয়ে করানোর সময় কি চোখ উবে গিয়েছিলো?একই বাড়ির দুই মেয়ে দেখো পরে তোমাদেরই না বের করে দেয়!
আদাভানের জন্য এইটুকুন বাচ্চা মেয়েটাকে কিভাবে পছন্দ করলে ভাবি?বয়সে বড়সড় মেয়ে বিয়ে করাতে, সংসারের বড় বউ হওয়া মুখের কথা নয়!এসব মেয়েদের তো আবার প্রে'মিক টেমি'ক থাকে কখন জানি কচি ছেলে দেখে ভেগে যায়!
আদাভানের কন্ঠস্বর শোনা গেলো তখনই--,, অনেক বলেছো ফুপ্পি আর কিছু বলো না, অপমা'ন করতে বাধ্য হবো আমি!
হাসি বেগম চুপ করলেন তবে রাগ কমলো না নিজের মেয়ের জন্য কতো করে বলেছিলেন ভাইকে,তার মেয়েটা কি কম?দেখতে শুনতে মাশাআল্লাহ গুনেরও কমতি নেই পড়াশোনায় আগানো তবুও ভাই তার বন্ধুর মেয়েকে বউ বানালো!একদম সহ্য করতে পারছেন না তিনি।
তৃধা চুপচাপ মাথা নিচু করে সেখান থেকে রান্না ঘরের দিকে গেলো,কথা বলতে বা শুনতে ইচ্ছে করছে না একদম।
বাড়িতে মানুষ বেশি কাজও বেশি,হাতে হাতে সাহায্য করছে তৃধা,এ বাড়ি আসার পর সবাই তাকে অনেক আদর যত্ন করেছে ভালোবাসা দিয়েছে,একজনের কথায় মন খারা'প করাটা বোকামি।তাছাড়াও উনি মেহমান এসেছেন চলে যাবেন অযথা ঝা'মেলা বাড়ানোর কি আছে।
মৃধা তৃধা কে জিজ্ঞেস করলো--,,কিরে চুপচাপ আছিস যে?মন খারা'প?
তৃধা অন্যমনস্ক এতোটাই যে শুনতে পেলো না,হঠাৎ হকচকিয়ে যাওয়ায় ফল কা'টার ছু'রি অনেক জোরে গেঁথে গেলো তার আঙুলের ভাজে,তৃধা ব্যাথায় চোখ বন্ধ করে নিলো তবুও শব্দ করলো না।মৃধা আঁতকে উঠলো, কিছুটা জোরেই বললো--,,পা'গল দেখে কাজ করবি না।
মৃধা দ্রুত তুধার হাত পানির কলের নিচে রাখলো,তৃধা নিশ্চুপ হাত থেকে রক্ত পরা বন্ধ হওয়ার নামই নিচ্ছে না।
মৃধা তাড়া দেখিয়ে বললো--,,হাত চেপে ধরে রাখ,আমি বেন্ডে"জ নিয়ে আসি,কি যে করিস না আর একটু হলে তো আঙুু'লটাই পড়ে যেতো!
তৃধা চুপচাপ দাড়িয়ে আছে,মৃধা ফিরে আসলো কিছু সময়ের মধ্যে তৃধার হাতে ঔষধ লাগিয়ে বেন্ডে'জ করে দিয়ে বললো--,,যা রুমে যা আর কাজ করতে হবে না।আমরা বাকিটা করে নিবো,পাকা'মো করতে এসেছে সব কিছুতে অ"ঘটন,কে বলেছে এতো কাজ করতে আসতে মা,আর বড় মা তো সব করে দিচ্ছিলো।জিদান উঠেছে কিনা দেখ গিয়ে।
মৃধার ঝা"ড়ি খেয়ে তৃধা সোজা উপরে গেলো, জোবানের ট্রান্সফার হয়েছে নিজেদের জেলায় অসুবিধে হয় না বাড়ি থেকেই কাজ করতে পারে। চাপে আছে প্রচুর,জিদান রুমে ঘুমাচ্ছে।তৃধা গিয়ে দেখলো ঘুম থেকে উঠেনি এখনো,তাই একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বেরিয়ে আসলো।
রাতের খাবারের সময় হয়ে এসেছে,টেবিলে খাবার সাজালো সবাই মিলে, হাসি বেগম মেয়ের গুনের প্রচারনা করার জন্য তাকে দিয়ে কাজ করাচ্ছে।
তৃধার মধ্যে কোনো হেলদোল নেই,কারো সাথে কোনো কথা বলছে না।
খাবার টেবিলে আগে বসেছে মেহমান রা,সাথে আদাভান,তার বাবা, চাচা, দাদা,দাদী।
তৃধা কে যেনো সহ্য হচ্ছে না হাসি বেগমের,অদৃশ্য এক ক্ষো"ভ পোষণ করছেন প্রতিনিয়ত।
তৃধার প্রতি এখনো কঠোর আদাভান,সবাইকে মৃধা একা সার্ভ করছে দেখে আদাভান কিছুটা রাগ মিশ্রিত কন্ঠে বললো--,,একজনের কি হাতে ফো"স্কা পড়েছে? সবাই কে খাবার বেড়ে দিলে কি তার সম্মান কোনো অংশে কমে যাবে নাকি?
তৃধা তাকালো না আদাভানের দিকে,আমিনা বেগম ছেলেকে ধম'ক দিয়ে বললো--,,আদাভান এটা কেমন ধরনের কথা?আমরা আছি তো ও ছোটো মানুষ এসব করতে যাবে কেনো?
হাসি বেগম আবার কিছু বলতে যাবে গোলবাহার বলে উঠলো--,,চুপ কর হাসি,তৃধা সব সময় এখানে যেভাবে থাকে সেভাবেই থাকবে,তুই আসায় কি এখন ওর সব অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে নাকি?আর দাদু ভাই ভালো করে বললেই তো হয় আমরা সবাই জানি তৃধা ভাত বেড়ে দিলে তুমি খাও সেটা সুন্দর করে বললেও তো পারো,অযথা রাগ দেখাচ্ছো মেয়েটাকে।
তৃধা এখনো নিশ্চুপ, আদাভানের এই নিরবতা মোটেও ভালো লাগছে না,কথা বলে না কেন এই মেয়ে, প্রতি'বাদ করে ঝ"গড়া করে না কেনো?
তৃধার দিকে তাকিয়ে নোভা অবাক হচ্ছে তার বন্ধুরা বাকিরাও কি হলো কি এর তব্দা খেয়ে গেছে কেন?নিজের হয়ে একটা কথা ও বলছে না!
আভা খেয়াল করলো তৃধার দু আঙুলে বেন্ডে"জ জড়ানো,আভা নাদিম কে বললো--,,তৃধার বাচ্চার হাত কে'টেছে কখন?
নাদিম খেয়াল করে বললো--,,আমি কি করে জানবো,খাওয়া শেষে ওরে চেপে ধরতে হবে কিছু তো একটা হয়েছে!
হাসি বেগম হেসে বললো--,,তৃধা মা যাও তো ফুফু শাশুড়ীর জন্য নিজ হাতে লেবুর সরবত বানিয়ে নিয়ে আসো,হাত দিয়ে ভালো করে চট'কে দিও কেমন?সাথে মরিচ আর পেঁয়াজ দিয়ে একটু ঝাল ঝাল সালাদ বানিয়ে নিয়ে আসো।আবদার টুকু রাখবে না?
মৃধা হকচকিয়ে তাকালো,বোনের রাগ সম্পর্কে তার অনেক ধারনা আছে,মৃধা হেসে বললো--,,ফুপ্পি আমি করে দেই?একজন করলেই তো হয় তৃধা আর আমি তো একই!
তৃধা মৃধার হাত চেপে ধরে বললো--,,আমি করছি,সামান্য কাজই তো!
মৃধা চাপ সুরে বললো--,,ফালতু কথা বলবি না, ডান হাতের অবস্থা দেখেছিস?কার উপর রেগে আছিস বলতো?
তৃধা কথা বাড়ালো না ফ্রিজ থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস বের করে রাখলো।
মৃধা যাতে না যেতে পারে সে কৌশল ও বের করে ফেললো হাসি বেগম,তিনি ঠিক দেখে নিয়েছে তৃধার হাত কেটে'ছে,এই টুকু মেয়ে এবার নিশ্চয়ই কেঁদে কে'টে দুনিয়া ভাসাবে,তার পর তিনিও খোঁচা মার'তে পারবেন দুই একটা!
আদাভানের গলা দিয়ে খাবার নামছে না,সে তো জানে তৃধা প্রতিবা'দ করতে জানে তবে এখন কেটনো চুপ?
তৃধা নিজের সব রাগ নিয়ে বেন্ডে"জ খুলে কা'টা হাত দিয়েই লেবু চিপলো পেঁয়াজ মরিচ কে"টে ঢলে নিলো,হাতের জ্বল"ন দিয়ে যেনো মনের দুঃখ কমাচ্ছে সে।আদাভানের সব রাগ ঝাড়ছে হাতের উপর।কিছু সময় পর তৃধা হাজির হলো হাসি বেগমের সামনে সুন্দর করে রেখে হেসে জিজ্ঞেস করলো--,,আরো কিছু লাগবে ফুপ্পি?আপনার সেবায় আমি নিযুক্ত সব সময়, যা লাগবে বলবেন কোনো লজ্জা করবেন না কেমন?
হাসি বেগম হাসলেন,তৃধা ঝুঁকে কথা বলছিলো চাপা কন্ঠে ফিসফিস করে বললো--,,বি'ষ লাগলেও বলবেন কেমন?আপনাদের মতো মহিলাদের তো আবার সব কিছুতে চুল"কানি।
একটা ফ্রিতে টিপস দেই।হারপি'ক খেয়ে মন পরিষ্কার করবেন আর বিছুটি পাতা লাগিয়ে শরীরের কারে'ন্ট কমাইয়েন!
তৃধা আবার আগের জায়গায় গিয়ে দাঁড়ালো, সবার খাওয়া শেষ হতেই চুপচাপ উপরে চলে আসলো।
নোভা,আভা,নাদিম অনেক কিছু জিজ্ঞেস করেছে তৃধা কিছু বলেনি শুধু এই টুকু বলেছে--,,আদাভান সোনালী কে বিয়ে করতে রাজি হয়েছে।
সবাইকে চিন্তায় ফেলে তৃধা বিদায় নিয়েছে।
---------
আদাভান তৃধা কে রুমে ঢুকতে দেখেই বললো--,,তুমি এখানে এখন?
তৃধা বলে উঠলো--,,কেনো এখন থেকেই আসা নিষেধ নাকি?সোনালী ছাড়া অন্য কাউকে এখন স'হ্য হচ্ছে না?সিনক্রি"য়েট করতে চাইনি তাই এসেছি রুমে।তবে চিন্তা করবেন না থাকবো না আপনার সামনে,নিশ্চিন্তে ঘুমান।
তৃধা কোনো দিন এমন জায়গায় যায়নি, থাকেনি, জোর করেনি যেখানে তাকে অপর ব্যক্তি চক্ষু"শূল মনে করে!
তৃধা একটা বালিশ আর কাঁথা নিয় বারান্দায় ঢুকে পড়লো, মেঝে'তে সটান হয়ে শুয়ে পড়লো।আদাভান অসহায় হলো কেনো যে তখন রাগারাগি করতে গেলো,এই মেয়ের সব কিছুতেই এতো তে'জ!রাগ করে বসে আছে, কি করবে এখন।
আদাভান বারান্দায় ঢুকলো,তৃধার চোখ বন্ধ পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ঘুম?আদাভান তৃধার মাথার কাছে বসলো,লাইটের আলো তৃধার চোখে মুখে পড়লো তৃধা দু হাতে মুখ ঢাকে।
আদাভানের নজর যায় হাতের দিকে ফ্যাকাশে দেখাচ্ছে আঙুল জোড়া,আদাভান ফোনের ফ্লাস অন করে আঁতকে উঠে,কিছু সময় আগের কথা চিন্তা করে ক'লিজা কেঁপে উঠে, এতো রাগ এই মেয়ের?নিজের রাগ সামলাতে নিজেকে কষ্ট দিচ্ছে।
আদাভান তৃধার হাত আলতো করে উঠালো আঙুলে হাত রাখতেই তৃধা মৃদু আর্তনা'দ করে উঠলো।
আদাভান তৃধাকে কোলে তুলে নিলো তৃধা সজাগ, রেগে চোখ মুখ শক্ত করে তাকালো আদাভানের দিকে।
আদাভান তৃধা কে খাটের উপর এনে ফেললো বলে উঠলো--,,এক চ'ড়ে দাঁত ক'টা ফেলে দিবো,হাত কা'টলো কি করে?
তৃধা চুপ করে রইলো,আদাভান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধম'ক দিলো--,,এই তুমি বো'বা? কথা বলতে পারো না?জবাব দাও বলছি!
তৃধা কেঁপে উঠলো, আদাভান তৃধার হাতে ঔষধ লাগাতে যাবে, তৃধা গ'র্জে উঠে বললো --,,কা'টা গায়ে নুনের ছিটা দিতে এসেছেন?ম"লম যখন লাগিয়ে দিচ্ছেন একটু ম'লম আমার হৃদপি"ণ্ডে ও লাগিয়ে দিন,সেখানে এখানের থেকেও বেশি জ"খম হয়েছে, ব্যাথা ওখান টায় এখানের থেকেও হাজার গুন বেশি!
আদাভানের হাত থেমে গেলো,তৃধা নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে উঠে দাড়িয়ে বললো--,,দয়া দেখাতে আসবেন না আমাকে,অনেক দেখিয়েছেন আর দেখাতে হবে না।আপনি এখনো আমাকে ভালো করে চিনতে পারেননি।
যতোটা যত্ন সহকারে ভালোবেসেছি,গভীর ভাবে জড়িয়েছি,ততোটাই কঠোর ভাবে দূরে সরে যাবো।আপনি আমাকে তো দূর আমার ছায়ার খোঁজ ও কোনো দিন পাবেন না!চিন্তা করবেন না আপনার বিয়ের আগের দিন অব্দি এখানে থাকবো।
তৃধা খাটে ঘুমাবে না মানে ঘুমাবে নাই,ফ্লোরে বালিশ পেতে চোখ বন্ধ করলো তৃধা,শরীল অবশ হয়ে আসছে ব্যাথায় কুঁকড়ে উঠছে ভেতরে ভেতরে।
আদাভান নিজের গালেই নিজে চ"ড় বসালো,কি যে হয়েছে তার মেয়েটার সাথে এমন করা উচিত হয়নি।
কেনো যে বাকিদের কথা শুনতে গিয়েছিলো,এখন তো কেউ আবার বউয়ের মান ভাঙ্গাতে সাহায্য করবে না।
-------------
সকালে যথারীতি তৃধার ঘুম ভাঙ্গলো আদাভানের বুকে।আদাভান ও নিচে ঘুমিয়েছে,তৃধার রাগ হলো না,সে চুপচাপ তাকিয়ে আছে।
আদাভান তৃধার কোমর পেচিয়ে বললো--,,শুভ সকাল বউ!
তৃধা উঠে বসলো,তার পর চুপচাপ বাথরুমে চলে গেলো।
তৃধা ফুরফুরে মেজাজে বসার ঘরে আসলো , এবার তো মজা শুরু হবে
সকালের নাস্তা খেতে বসবে সবে,তখনই কলিং বেল চাপলো কেউ তৃধা হেসে গিয়ে দেরজা খুললো।সোনালী আর পিহু কে দেখে তো তার হাসি দীর্ঘতম হলো।