নৈঃশব্দ্যের প্রেমালাপ

পর্ব - ১৮

🟢

আদাভানের গলা জড়িয়ে তার দিকে অপলক তাকিয়ে আছে তৃধা।দুজন ভিজে একাকার অবস্থা, তৃধা কে কোলে নিয়ে সাবধানে পা ফেলছে আদাভান,তৃধা তো কোলে উঠতেই চায়নি,ওর কথা হলো ফেলে দিবেন তো,নিজে ও পড়বেন আমাকেও ফেলবেন!আদাভান এক প্রকার জোর করেই কোলে তুলেছে,পড়লে দুজন একসাথে পড়বে,কেমন বউ তুমি স্বামীর জন্য একটু কোমর ভাঙ্গতে পারবে না?

তৃধা মুখ বাঁকিয়ে রেখেছে কি আশ্চর্য লোক,সব সময় ভাব নিয়ে কেনো চলতে হবে?

দরজার কাছে চলে এসেছে দুজন,আদাভান ব্যস্ত হাতে কলিংবেল চাপলো,তৃধার এবার লজ্জা লাগছে আদিব নাদিম দুজনেই ভেতরে ছি ছি কি ভাববে!

তবে তৃধা কে অবাক করে দিয়ে সেখানে সবাই উপস্থিত, নোভা,আভা,নিশি,রাদিফ,নাদিম,আদিব দরজা খুলে সামনে দাঁড়ালো, নোভা তো ভ্রু উঁচিয়ে তাকায়,বাকিরাও মিটমিটিয়ে হাসছে।

তৃধা এবার আদাভানের বুকে মুখ লুকিয়ে জোরে বলে উঠলো--,,সর সবাই,এমনে তাকাবি না আমি কিন্তু অনেক লজ্জা পাচ্ছি!

আদাভান সহ বাকিরা ও হেসে ফেললো,তৃধা আদাভানের কানের কাছে ফিসফিস করে বললো--,,দ্রুত রুমে নিয়ে নামান না হয় আপনাকে আমি কা"মরে দিবো অ'সভ্য লোক,সবার সামনে এখনো দাড়িয়ে আছেন কেনো?

আদাভান সবাই কে ইশারায় চুপ করতে বললো,তৃধা কে রুমে নিয়ে নামাতেই,তৃধা তেড়ে আসলো আদাভান দিকে,

আদাভান ভ্রু কুঁচকে তৃধার পা থেকে মাথা পর্যন্ত একবার দেখে বললো--,,এভাবে, আর কতোক্ষণ থাকবে বলে ঠিক করেছো?

তৃধা নিজের দিকে তাকিয়ে শুকনো ঢোক গিললো,নিজের দিক কোনো খেয়াল নেই ওর,তৃধা আঁড়চোখে আদাভান কে একবার দেখলো,বুকে হাত গুঁজে তাকিয়ে আছে,তৃধা ওড়না টেনেটুনে বলে উঠলো --,,নির্ল"জ্জ লোক,ছি!ছি! কি বা'জে মত'লব আপনার।

তৃধা এক ছুটে বাথরুমে গিয়ে দরজা আটকালো।

আদাভান এবার হো হো করে হেসে উঠলো,বউ জুটেছে একেবারে লাখে একটা!

আদাভান জানে তৃধা তাকে আবার ডাকবে,অভদ্র মহিলা জামা কাপড় না নিয়ে গোসলে গেছে,আদাভান ও সুযোগে আছে এবার একটু মজা বুঝানো যাবে!

আদাভান নিজের পোশাক আগে পরিবর্তন করলো,রুম ভিজে গেছে এমনিতেই অনেকটা, আরো একটু ভিজলে তৃধা উঠতে বসতে কথা শোনাবে আবার।মেয়েটা পারেও বটে।

----------------

আড্ডা জমে উঠেছে সবার,সোনালী, পিহু কে নিয়ে রুমে বসে আছে, এসব কিছুতেই সহ্য হচ্ছে না ওর।আদাভানের সাথে তৃধাকে দেখে জ্ব'লে উঠছে ওর প্রেমিকা স্ব"ত্বা!

আদিবের মোবাইলে কল এসেছে,আদিব রিসিভ করার আগেই তা ছোঁ মে'রে নিয়ে নিয়েছে নোভা।

উপরে নিক নেইম দেখে তো ওর চোখ বড় বড় হয়ে গেলো

"মিষ্টি মাথা ব্যাথা"।

কিছু মুহুর্তের ব্যবধানে নোভা জোরে জোরে হাসা শুরু করলো, নাদিম ওর হাত থেকে মোবাইল ছি'নিয়ে নিয়ে বললো--,,রিসিভ না করে পা'গলের মতো হাসছিস কেনো?

নাদিম চোখ ছোট ছোট করে বড় ভাইয়ের দিকে তাকালো,আদিবের প্রতিক্রিয়া নিরপেক্ষ সে স্বাভাবিক আছে,যেনো আহামরি কিছু না।

নাদিম রিসিভ করে লাউডস্পিকারে দিলো,নাদিম নাম্বার দেখেই বুঝে ফেলেছে এটা স্নিগ্ধার নাম্বার।

আভা ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞেস করলো--,,কে রে?

নোভা বললো সে বুঝতে পারছে না।

নিশি বলে উঠলো--,,কে ফোন করেছে?

নিশির কন্ঠটা জোরালো ছিলো স্নিগ্ধা শুনতে পেয়েছে ভালো করেই!

স্নিগ্ধার কন্ঠস্বর শোনা গেলো এবার--,,আদিব ভাইয়া!

আদিব কঠিন কন্ঠে বললো--,,বৃষ্টিতে ভিজে এসে এতোক্ষণে কোন আক্কে"লে ফোন করেছিস?এই অসময়ের বৃষ্টিতে ভিজতে মানা করেছিলাম না তোকে?বেয়া'দব কথা শুনবি কেনো?কাজের কাজ তো কিছু করিস না,যা পারিস শুধু মুখে মুখে ত'র্ক!

স্নিগ্ধা চুপসে গেলো,আভা বলে উঠলো--,,ওয় হয়, বাহ্ কি শাসন,হলে হতেও পারে প্রণয়ের আগমন!

স্নিগ্ধা জিজ্ঞেস করলো--,,কে আছে আপনার সাথে আদিব ভাইয়া?

আদিব ধম'ক দিয়ে বললো--,,তুই জেনে কি করবি?ফোন রেখে রুমে যা,ছাঁদে চুল ছেড়ে পে"ত্নীর মতো বসে থাকতে কে বলেছে তোকে?

স্নিগ্ধা কাঁপা কন্ঠে বললো--,,আপনি বলবেন না কে আছে সাথে?

আদিব এবার চোখ পাকিয়ে সবার দিকে তাকালো,নাদিম পাশ থেকে বলে উঠলো--,,আমি আপনার প্রিয় দেবর ভাবি সাহেবা!

স্নিগ্ধা আঁত"কে উঠলো যেনো ফট করে বলে উঠলো--,,নাদিম ভাইয়া!

নোভা,আভা বলে উঠলো--,,আর আমরা আপনার হত"ভাগা ননদ ভাবিজান!

বসার ঘরে হাসির ঢল নামলো যেনো,সবাই হাসছে আর আদিব গম্ভীর হয়ে বসে আছে,আসলেই বাচ্চাদের সাথে প্রেমে পড়ার মতো ভুল কিভাবে যে করলো,কথায় কথায় অভিমান করে বসে থাকে,অভিমান ভাঙ্গাতে পারে না আদিব এটা আরো বড় সমস্যা, কি যে হবে এর ভবিষ্যৎ কে জানে!

স্নিগ্ধা দ্রুত ফোন কা'টলো, আদিব টাও কতো খারা"প সবার সামনে ফোন রিসিভ করার কি দরকার ছিলো?যত্তসব!সবার সামনে কিভাবে কথা বললো ওর সাথে,আর কোনো দিন ফোন দিবে না আগ বাড়িয়ে, ওর এতো কিসের ঠে'কা পড়ছে,এই লোক সব সময় গাঁ ছাড়া ভাবে থাকলে স্নিগ্ধাও আর আগাবে না।

অভিমানের পারদ আকাশচুম্বী, স্নিগ্ধা মোবাইল বন্ধ করে দিলো,দৌড়ে গেলো রুমের দিকে।যত যাই হয়ে যাক এবার আর ফোন দিবেও না, জানে আদিব নামক পদার্থ তাকে কল করবে না,তাও মনকে বুঝ দিলো কল আসলেও আর ধরবে না!

--------------

তৃধা বাথরুম থেকে উঁকি মে'রে আদাভানের দিকে তাকালো,আদাভান দরজা খোলার শব্দ পেয়েছে তাও প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।

তৃধা নরম সুরে ডাকলো--,,স্যা......র!স্যার শুনছেন?প্রফেসর সাহেব একটু সাহায্য করবেন প্লী.....জ!

আদাভান বাঁকা চোখে তাকালো, স্বা"র্থ হাসিল করতে মহিলা কতো দরদ দেখাচ্ছে,কি সম্মান!

আদাভান বলে উঠলো--,,এটা কি ভার্সিটি?স্যার ডেকে কি প্রমান করতে চাইছো আমি পর'পুরুষ?

তৃধা এবার বিরক্ত হয়ে বললো--,,শা'লা পরপুরুষ হলে আরাম করে আবার খাটে বসে থাকতেন নাকি এখনও?কোন সময় এক কি'কে বাউন্ডারির বাহিরে ফেলে দিতাম, দেখুন আমার শীত লাগতেছে কথা না বাড়িয়ে আমার কাপড় দিন।

আদাভান বলে উঠলো--,,নিজে এসে নিয়ে যাও!

তৃধা নাক মুখ কুঁচকে বললো--,,জামাই,ঈদের দিনের সেমাই!

সাথে চালের রুটি আপনার চেহারা সুরত দেখতে অনেক কিউটি!

এরপর,,,,এরপরে ধুরু ছাতা এ ভাই দেন তো দেন কবিতা এখন মনে আসতেছে না!

আদাভান অবাক চোখে তাকিয়ে আছে,কি সব আজ"গুবি কবিতা!

আদাভান তপ্ত শ্বাস ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো, জামা বের করে এগিয়ে গেলো বাথরুমের দিকে,তৃধা কে বললো--,,হাত বাড়াও!

তৃধা মিন মিন করে বললো--,,আপনি উল্টো ঘুরুন তার পরে দিন!

আদাভান বিরক্ত হয়ে বললো--,,আরেকটা কথা বললে, আমি দরজা ঠেলে ভিতরে আসবো তারপরে...!

তৃধা আদাভানের হাত থেকে জামা কাপড় নিয়ে দরজা আটকে দিলো,কিছু বললো না।

আদাভান কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে রুমের বাহিরে চলে গেলো, সবার সাথে গিয়ে বসে পড়লো।

কিছু সময় পর আসলো তৃধা সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত নেমেছে,তৃধা রান্না ঘরে গিয়ে প্লেট নিয়ে আসলো তার পর একে একে সব কিছু, নোভা,আভা তৃধাকে সাহায্য করছে।

নোভা বলে উঠলো--,,তৃধা ভাইয়া স্নিগ্ধার নাম্বার কি দিয়ে সেইভ করে রেখেছে জানিস?

তৃধা বলে উঠলো--,,না তো,স্নিগ্ধা ও তো আমাকে এমন কিছু বলেনি কাহিনি টা কি?

নোভা সব বললো তৃধা কে তৃধা চোখ বড় করে তাকিয়ে বললো--,,ভাইয়া সত্যি সত্যি প্রেম করছে?

আভা বলে উঠলো--,ওটা কে প্রেম বলে নাকি?তোর ভাইরে চিনিস না তুই মেয়েটাকে জাস্ট ধম'কের উপর রাখে।

তৃধা নোভা কে বললো--,,শোন আমরা কিন্তু দুদিন পর হসপিটালে যাবো তুই আগে থেকে সব ব্যবস্থা করে রাখবি,বলা তো যায় না সোনালী যদি নজর রাখে আমার উপর!

রাতের খাবার খাওয়া শেষে সবাই বিদায় নিলো,তৃধা সে তো সবাই যাওয়ার পরই হাত পা ছড়িয়ে ঘুম দিয়েছে!

ঘড়িতে রাত দু'টো বাজে,কিছু একটা পড়ার শব্দ হলো,তৃধার ঘুম ছুটে গেলো,পাশে তাকিয়ে দেখলো আদাভান ঘুমাচ্ছে, সে নিঃশব্দে উঠে গেলো।

দরজা কিছুটা খুলে বুঝার চেষ্টা করলো কি হচ্ছে,তৃধার চোখ গেলো দরজার দিকে সদর দরজা দিয়ে ঢুকছে সোনালী হাতে কিছু একটা আছে,পা টিপে রুমে চলে গেলো সে,তৃধা সব কিছু দেখে আলতো হাতে দরজা আঁটকে পিছু ঘুরলো।

কি খিচুড়ি পাকাচ্ছে এই মহিলা, জানতেই হবে এতো রাতে কার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলো?ওর সাথে কি কেউ যুক্ত আছে?বাচ্চাটা কার!মাথা ব্যাথা শুরু হলো তৃধার কি করে এতো প্রশ্নের উত্তর মিলবে?

---------------------

দুদিন কে'টে গেছে,সোনালী কে হোটেলে দিয়ে আসতে চাইছিলো আদাভান, তৃধাই শেষ মুহুর্তে বলে সোনালী এখানেই থাকবে, আদাভান অবাক হলেও কিছু বলেনি,তৃধা কারন ছাড়া রাখতে চাইবে না।তবে নজরে পড়ার মতো বিষয় হচ্ছে পিহুর সাথে তৃধার বেশ ভাব জমেছে দুদিনে।

দুপুর বারোটা, পিহু ছুটে আসলো তৃধার কাছে,আদাভান ক্লাস শেষ করে এসেছে সবে।

তৃধা পিহুকে জড়িয়ে ধরে বললো--,,তোমার মা কোথায়?

পিহু বললো--,,বাহিরে গেছে।

তৃধা আলমারি থেকে একটা সুন্দর জামা বের করে আনলো পিহু কে খাটে বসিয়ে আগের জামাটা খুলতে খুলতে বললো--,,মনে আছে তো মামনি আমরা আজকে ঘুরতে যাবো?

পিহু ভয় পেয়ে বললো--,,না, মা খুব বক'বে!

তৃধা পিহুর জামা খুলে আঁত,কে উঠলো, আদাভান কে ডেকে বললো--,,দেখে যান একটু।

আদাভান হাত মুখ ধুয়ে ছুটে আসলো বিচলিত হয়ে জিজ্ঞেস করলো--,,কি হয়েছে?

তৃধা পিহুর পিঠের দিকে তাকাতে বললো,আদাভান বলে উঠলো--,,এতোটুকু বাচ্চাকে কে এমন ভাবে মে'রেছে!

কাল"সিটে দাগগুলো কেমন চকচক করছে ফর্সা পিঠে।

তৃধার বেশ মায়া লাগলো,বাচ্চাটা কে এমন করে কেনো মার'লো মায়া হয়নি অমানু"ষ গুলোর!

তৃধা পিহুর গালে হাত বুলিয়ে বললো--,,পিঠে কিভাবে ব্যাথা পেয়েছো মা?

পিহু কেঁদে উঠে ফুপিয়ে ফুপিয়ে বললো--,,মা মা আর ওই আংকে'ল তি'লে মে'লেছে!

তৃধা পিহুকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে বললো--,,আর কাঁদে না, ঔষধ লাগিয়ে দিলে ঠিক হয়ে যাবে, ব্যাথাও ভেনিস হয়ে যাবে। তোমাকে বাবা অনেক গুলো চকলেট এনে দিবে,আর কেঁদো না কেমন!

আদাভান তৃধার দিকে তাকিয়ে আছে,মেয়েটা আসলে কি দিয়ে তৈরি?শ'ত্রুর মেয়ে বলে ছয়বেলা নাক সিট'কায়, এখন পারলে কলিজায় ঢুকিয়ে রাখে!

পিহুর চোখ মুখ মুছিয়ে তাকে জামাটা পড়িয়ে দিলো তৃধা।তারপর গল্প করার ছলে জিজ্ঞেস করলো--,,আগে কোথায় থাকতে?

পিহু আশেপাশে তাকিয়ে দু হাত প্রসারিত করে বললো--,,অনেক বড়...!

তৃধা হেসে বললো--,,অনেক বড় জায়গা,বাহ তুমি একাই থাকতে?

পিহু দুদিকে মাথা নাড়িয়ে বললো--,,অনে..কে থাকতো।সবাই আমা'ল মতো!

আদাভান মনোযোগ দিয়ে কান্ড দেখছিলো,হঠাৎ করে ওর পিহুর শেষ কথাটার দিক মনোযোগ গেলো বেশি ওর মতো দেখতে সবাই,মানে আরো বাচ্চা!

আদাভান তৃধার দিকে তাকিয়ে বললো--অনাথাশ্রম!

তৃধা পিহু কে আদর করে দিয়ে বললো--,,মামনি একটা কথা বলবে আন্টি কে?

পিহু মাথা ঝাঁকালো,তৃধা জিজ্ঞেস করলো--,,মায়ের কাছে আগে থেকেই থাকো?

পিহু বললো--,,না!

তৃধা হেসে বললো--,,আচ্ছা চলো আজকে দুপুরে আমরা মজার ফিস খাবো,টেস্টি টেস্টি!

পিহু ও খুশি হয়ে গেলো।তৃধা পিহু কে টেবিলে বসিয়ে দিয়ে এসে বললো--,, আপনার কি আর কোনো শ"ত্রু আছে?

আদাভান কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো--,,অনেকই আছে,ভার্সিটিতে কম মানুষের সাথে তো ঝামে"লা

পাকা"ইনি!

তৃধা বালিশ ছুঁড়ে মার'লো আদাভানের দিকে,অসহ্য লোক!

------------------

তৃধা আর নোভা বসে আছে হসপিটালে তৃধার চিন্তায় চিন্তায় এবার কান্না পাচ্ছে যদি পজি"টিভ আসে তখন!

নোভা তৃধাকে শান্ত করার চেষ্টা করছে,বলছে এমন কিছুই হবে না।ওরা যে গোপ"ন ভাবে টেস্ট করছে এ কথা আদাভান কে ও জানায়নি।

বেশ সময় অপেক্ষা করার পর তৃধা ডাক্তারের রুমে ঢুকলো,অনেক সময় ধরে কথা হলো ডাক্তারের সাথে।

বেরিয়ে আসতেই নোভা চিন্তিত কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো--,,কি হয়েছে?

তৃধা হেসে বললো--,,চল হোস্টেলে যেতে হবে,নাদিম কে কল করে বল আসতে ওর সাথে কথা আছে!

হোস্টেলে এসে রুমে বসে আছে চার জন,নাদিমের সাথে রাস্তায় কথা শেষ করে নিয়েছে তৃধা।

তৃধা সবার দিকে তাকিয়ে আছে প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য। আভা রেগে তৃধার উপর বালিশ মে'রে বললো--,,পাগ'ল হয়ে গেছিস?ভাইয়ার কি হবে ভাবতে পারছিস তুই?ম'রে যাবে!উল্টো পাল্টা প্ল্যানিং করা বন্ধ কর!

তৃধা চুল খোঁপা করতে করতে বললো--,,আচ্ছা শোন আমার কথা টা,আমি আদাভানের প্রতিক্রিয়া দেখবো রিপোর্ট দেখার পর, তার পরে সিদ্ধান্ত নিবো,যদি ও নিশ্চিত থাকে এটা ভুল রিপোর্ট ওনার সাথে সোনালীর কিছু ছিলোই না তাহলে আমি সত্যি টা ওখানেই বলে দিবো।আর যদি অন্য কিছু হয় তবে মনে রাখিস ওনার সাথে আর একটা কথাও বলবো না আমি!

নোভা বলে উঠলো--,,অযথা ঝা'মেলা পাকাস না তো।

তৃধা বলে উঠলো--,,সোনালীর কাছে একটা রিপোর্ট আছে বর্তমানে, ওইদিন রাতে ওটা সাথে নিয়ে বাড়ি ফিরেছে কারো সাথে তো মিলে আছে এই মেয়ে।শোন আমরা যতই আসল রিপোর্ট বের করার চেষ্টা করি না কেনো,নিশ্চিত থাক ওরা ডাক্তার কে ঘু"ষ দিয়ে ঠিক ওদের মন মতো রিপোর্ট বের করে নিবে,তাই তো ওদের সুবিধা মতো প্ল্যান করেছি, যদি আমরাই নক'ল রিপোর্ট দেই তো খে'লা ঘুরে যাবে।

নিশি বিরক্ত হয়ে বললো--,,ভাইয়াকে সব বলে দিবি তারপর যা খুশি কর,ভাইয়া অযথা কষ্ট কেনো পাবে?

তৃধা বিরক্ত হয়ে বললো--,,বললাম তো বলবো যদি উনি পাশ করেন!

আভা রেগে মেগে বললো--,,তুই যা তো সামনে থেকে, সব কিছুকে কম্পলিকেটেড করে দিচ্ছিস!

------------------

আদিব এসেছে আজ আদাভান তৃধাকে বললো--,,চলো আমাদের সাথে ডিএ"নএ টেস্ট করাতে যাচ্ছি।

তৃধা বলে উঠলো--,,আপনারা যান রিপোর্ট পাওয়ার পর আমাকে জানাবেন।

আদাভান তৃধার হাত ধরে বললো--,,চলো।

তৃধা না পারতে যেতে রাজি হলো,সোনালী অনেক জোড়াজুড়ি করেছিলো ওর পছন্দের হসপিটালে যাওয়ার জন্য, কিন্তু ওরা যেতে দেয়নি,সোনালী না পারছে মাহির কে কল করতে, না পারছে কিছু বলতে, নিশ্চিত এখন ধরা পড়ে যাবে!

সোনালী,আদাভান,পিহুর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ডাক্তার তাদের বাহিরে অপেক্ষা করতে বললো।

তৃধা চুপচাপ বসে আছে, আদাভান তৃধার হাত চেপে ধরে বললো--,,আমাকে বিশ্বাস করো না তুমি?

তৃধা আদাভানের হাতের উপর হাত রেখে বললো--,,আমি আপনাকে বিশ্বাস করি, আপনি নিজেকে বিশ্বাস করেন তো আদাভান?

আদাভান চমকে উঠলো, আসলেই তো নিজেকে বিশ্বাস করে তো ও,সব কিছু এলোমেলো হয়ে যাবে না তো আবার!

আদিব থমথমে মুখে বের হলো, রিপোর্ট টা এক প্রকার ছুঁড়ে মার'লো আদাভানের উপর,আদাভান তা হাতে তুলে নিলো,তৃধা চোখ বন্ধ করে বসে আছে।সোনালী ভয়ে আছে প্রচুর!

আদিব কর্কষ কন্ঠে বলে উঠলো--,,ভাইয়া,আপনি আমার বোন কে ঠকিয়ে'ছেন!

আদিব তৃধার দিকে তাকিয়ে বললো--,,আমার সাথে চল তৃধা, এখানে আর এক মুহুর্ত ও নয়!

তৃধা আদাভানের দিকে শান্ত চোখে তাকালো,তৃধা আদিব কে বললো--,,ভাইয়া তুমি পিহু আর তার মাকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে, হলে ফিরে যাও।

আমি আদাভানের সাথে কথা বলতে চাই!

আদিব বোনের দিকে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বের হলো,আদাভানের হাত কাঁপছে কি করে সম্ভব! তৃধার দিকে তাকানোর সাহস হচ্ছে না ওর, সোনালী অবাকের চূড়ান্ত পর্যায়ে রিপোর্ট টা কি করে এমন আসলো?তবে এখন তার অভিনয় করার সময়, সে ন্যাকা কান্না জুড়ে দিয়ে বললো--,,এরিশ দেখলে তুমি?সত্যি সত্যি পিহু আমাদের সন্তান!

তৃধা মৃদু কন্ঠে বললো--,,সোনালী আপনি বাড়ি যান,যেহেতু পিহু আপনাদের সন্তান সেহেতু আপনারা এখন থেকে ওই বাসায়ই থাকবেন!

আদাভান গম্ভীর কন্ঠে বললো--,,কি সব বলছো?এখানে থাকবে মানে!

তৃধা এবার চেঁচিয়ে বললো--,,সোনালী আপনি যাচ্ছেন না কেনো?ভাইয়া অপেক্ষা করছে যান।

সোনালী যেতেই তৃধা আদাভানের হাত চেপে ধরে বললো--,,চলুন আমার সাথে,ঘুরতে যাবো!

আদাভান হা হয়ে আছে এতো চিন্তার মাঝে ঘুরতে যাবে!

গাড়ি এসে থামলো নদীর ধারে,পড়ন্ত বিকেল,সূর্যের প্রতিচ্ছবি লালচে করে তুলেছে পানির রঙ।

তৃধা একমনে ওইদিকে তাকিয়ে থেকে জিজ্ঞেস করলো-,,রিপোর্ট দেখে কি ভাবছেন?

আদাভান বলে উঠলো--,,আমার বিশ্বাস হচ্ছে না, কিন্তু!

তৃধার মেজাজ খা'রাপ হলো কিন্তু? কিন্তু কেনো থাকবে এতোটুকু বিশ্বাস নেই নিজের উপর!

তৃধা একেবারেই শান্ত,সে আবার জিজ্ঞেস করলো--,,কিন্ত কি আদাভান?আপনি বলতে চাচ্ছেন ভুলবসত আপনাদের মাঝে এমন কিছু হয়ে থাকতে পারে?যা আপনি পরবর্তী তে ভুলে গেছেন!

আদাভান মাথা নিচু করে ফেললো,আর তৃধার হৃদ"য়ে রক্তক্ষ"রণ হলো,সে জানে সত্যি টা কি, কিন্তু তার পাশের মানুষ টা কিভাবে অন্য কারো সাথে!মেনে নিতে বড্ড কষ্ট হলো তৃধার।

তৃধা আবার প্রশ্ন করলো, কি করতে চান এখন ভেবে চিন্তে উত্তর দিন আমি অপেক্ষা করছি!

আদাভান চোখ তুলে তাকালো তৃধা রাগ করছে না?আদাভানের দিকে বিরক্তি নিয়ে তাকাচ্ছে না!এতেটা চুপচাপ কেনো?

আদাভান বলে উঠলো--,,পিহু আমাদের সন্তান হয়ে থাকবে আমাদের সাথে!

তৃধার শান্ত কন্ঠস্বর--,,আর সোনালী?

--,,ওর ইচ্ছে হলে এসে মেয়েকে দেখে যাবে,কিন্তু আমি ওকে কখনো গ্রহন করতে পারবো না কারন টা তুমিও ভালো করে জানো,পিহু আমার দায়িত্ব তাই তার দায়িত্বটুকু আমি পালন করতে চাই!

তৃধা চুপ করে রইলো,কিছু সময় পর বললো--,,সন্তানের জন্য বাবা মা উভয়ের ভালোবাসাই গুরুত্বপূর্ণ!

আদাভান চমকে তাকালো তৃধার দিকে,তৃধা প্রাণ শূন্য চোখে তাকিয়ে আছে,আদাভান তৃধার বাহু আঁকড়ে ধরে বললো--,,এমন দেখাচ্ছে কেনো তোমাকে?

তৃধা স্বাভাবিক ভাবেই বললো--,,কিছুক্ষণ পূর্বে আপনি আমাকে মে'রে ফেলেছেন আদাভান!

আদাভান অগোছালো হাতে তৃধার গাল ছুঁয়ে বললো--,,এভাবে বলো না প্লীজ!

তৃধা ওমন ভাবে থেকেই বললো--,,আপনি সোনালী কে ভালোবাসেন?

আদাভানের কন্ঠনালি কেঁপে উঠলো কাঁপা কন্ঠে বললো--,,ভালোবাসতাম!অনেক ভালোবেসেছি একটা সময় এই কথাটা অস্বীকার করতে পারবো না!

তৃধা চোখ বন্ধ করে ফেললো সাথে সাথে,লম্বা করে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো--,,তাহলে আবার নতুন করে ভালো বাসুন,আমাকে মুক্তি দিন!

আদাভান তৃধার গালে একটা চ'ড় বসিয়ে দিলো তৎক্ষনাৎ!

তৃধার বাহু ঝাঁকিয়ে বলে উঠলো--,,ছেড়ে যাওয়ার কথা কেনো কেনো বার বার বলিস!

তৃধা জিজ্ঞেস করে উঠলো--,,যদি আমি এখন আপনার জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতাম,তখন আপনি আমাকে চোখ বন্ধ করে গ্রহণ করে নিতেন আদাভান?

আমার সাথে সাথে অন্য একজনের অস্তিত্ব অন্য একজনের সন্তান গ্রহন করে নিতেন?আপনার কষ্ট হতো না আদাভান?

আপনার কলি"জা ফে'টে যাওয়ার মতো অনুভূতি হতো না?আপনার প্রিয় মানুষ টা অন্য কারোর সাথে এতোটা অন্ত'রঙ্গ অবস্থায় ছিলো,তার পুরো শরীর মন জুড়ে কেউ বিচরন করেছে, প্রান মন উজাড় করে ভালোবেসেছে, এসব জানার পরও আপনি তার এক কথায় তার সাথে স্বাভাবিক ভাবে থেকে যেতেন সারাটি জীবন?

অন্য সব কথা আমি মেনে নিতে পারবো আদাভান,কিন্তু! তৃধার কথার থেমে গেলো,তৃধা মুখ চেপে দাঁড়িয়ে রইলো কতক্ষণ তার পর আবার বললো--,, আদাভান আমি আপনাকে অন্য কারো সাথে এক বিন্দুও শেয়ার করতে পারবো না,আপনি কি করেছেন ভাবতে পারছেন একবার?আপনি বলছেন আপনি সোনালীর সাথে......!

নিজেকে প্রশ্ন করুন আদাভান আপনার ভালোবাসার মানুষ একটা সময় অন্য একজনকে এতোটা গভীর ভাবে ভালোবেসেছে যে তাদের মধ্যে এক সুতা পরিমান ও দূরত্ব ছিলো না,এটা জানার পরও আপনি স্বাভাবিক থাকতে পারবেন?এতোটা মহান আপনি হতে পারবেন?বলুন?জবাব দিন!

তৃধার চোখ মুখ লাল হয়ে এসেছে, আদাভান দাঁড়ানো থেকে বসে পড়লো, তৃধা ঠায় দাড়িয়ে আছে,সন্তান টা আদাভানের না এতটুকু তৃধা জানে, কিন্তু আদাভান কি বললো এটা তার প্রেমিকার সাথে সে একই বি...!

তৃধার পায়ের নিচের মাটি সরে গেলো,আগে জানলে কখনো এমন জঘ"ন্যতম সত্যি জানতে চাইতো না ও!

তৃধা আদাভানের পাশে বসে ওর হাত চেপে ধরে বললো--,,আচ্ছা একটা কথা বলি।

আদাভান তৃধার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে,দ"ম বন্ধ হয়ে আসছে তার,নিজেকে এখন পৃথিবীর সবচেয়ে খারা'প মানুষ মনে হচ্ছে, আল্লাহ তার জন্য এতো ভালো একজন মানুষ কে জীবন সঙ্গী হিসেবে রেখেছিলো,যার সব কিছুই পবিত্রতা দিয়ে মোড়ানো যার ভালোবাসায় একফোঁটা খাদ নেই,এই মেয়েটা তাকে কতোটা ভালোবাসে তা তার থেকে ভালো আর কে জানে?

এমন একজনের জন্য আজ সে সব কিছু হারাতে বসেছে যে মানুষ টা কোনো কালেই তার ছিলো না, স্বার্থের জন্য তাকে ছেড়ে চলে গেছে,আবারও স্বা'র্থের টানে ফিরে এসেছে,বার বার তার জীবন টাকে ধুমরে মুচড়ে দিয়েছে, একটা ভুল তার থেকে তৃধাকে কে'ড়ে নিবে ভেবেই তার বুকে ব্যাথা শুরু হলো,তীব্র ব্যাথায় কুঁকড়ে উঠলো আদাভান, বুকের দিকে হাত চেপে ধরলো।

তৃধা আদাভান কে ধরে বললো--,,কি হয়েছে আপনার?এমন করছেন কেনো?কোথায় কষ্ট হচ্ছে আমাকে বলুন!

আদাভানের চোখে পানি টলমল করছে, তৃধাকে জড়িয়ে ধরে বললো--,,আমাকে ছেড়ে চলে যেও না তৃধা,আমি সত্যি বলছি তোমাকে ছাড়া ম'রে যাবো!

তৃধা আদাভান কে শান্ত করে বললো--,,আজাইরা কথা বইলেন না তো, মানুষ ছাড়াও মানুষ বাঁচে, একজন চলে গেলে তার শূন্যতা পূরণ করতে অন্য একজন ঠিক চলে আসে।আমি তো আপনার ক্ষনিকের চাওয়া মাত্র, আপনার হৃদয়ে হাহাকার ছিলো, শূন্যতা ছিলো যা আমি আসায় পূর্ণতা পেয়েছিলো,অন্য কিছুই না।সোনালী যেমনই হোক আপনার ভালোবাসার মানুষ আপনার সন্তানের মা...!

তৃধা থামলো কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে তার,চোখ বন্ধ করে আবার বললো--,,আপনি সোনালী কে বিয়ে করুন প্রফেসর!

আদাভান ছিটকে দূরে গিয়ে বললো--,,তৃধা মাথা খারা"প হয়ে গেছে তোমার?

তৃধা চুপচাপ উঠে দাড়িয়ে তে'জ ভরা কন্ঠে বললো--,,যেহেতু ভালোবেসে সন্তানের বাবা হতে পেরেছেন,এখন বিয়েও করতে হবে!

আদাভান রেগে বললো--,,তোমার কথায় হবে সব?ম'রে গেলেও দ্বিতীয় বার বিয়ে করবো না আমি!

তৃধা বলে উঠলো --,,আপনার যেমন ইচ্ছে,আসি ভালো থাকবেন।

আদাভান তৃধার হাত চেপে ধরে বললো--,,আমি তোমাকে যেতে দিবো না।

তৃধা চুপ রইলো,কিছু সময় পর বললো--,,আমি আমার বাবা মায়ের আদর দুদিক থেকে কখনো সমান পাইনি,আমি জানি বিষয় টা কতো কষ্টের!একই কষ্টে ওই বাচ্চাটাকে রাখতে চাই না আমি,আপনি যদি আমাকে একটুও কখনো ভালোবেসে থাকেন তো সোনালী কে বিয়ে করুন!

আদাভান তৃধা কে সরিয়ে দিয়ে বললো--,,যাও চলে যাও,তোমাকে লাগবে না আমার,কাউকে লাগবে না, আমার ভালোবাসা তোমার কাছে ক্ষনি'কের চাওয়া মনে হয়?থাকতে হবে না তোমাকে যাও চলে যাও!

তৃধা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আদাভানের পাগ'লামি দেখছে।

তৃধা উল্টো ঘুরে যেই না হাঁটা ধরবে আদাভান ছুটে এসে তৃধাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে বাচ্চামো করে বললো--,,এই কোথায় যাচ্ছো তুমি?আমাকে রেখে যেতে কষ্ট লাগছে না তোমার?দয়া মায়া বিহীন কেনো তুমি এতো?আমি ভুল করেছি শা'স্তি দাও, তবুও ছেড়ে যেও না!

তৃধা কাঁপা কন্ঠে বললো--,, আমাকে দুর্বল করে দিবেন না আদাভান,যেতে দিন!

আদাভান আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো--,,না!

তৃধার ধৈর্যের বাঁধ ভাঙ্গলো আদাভান কে দূরে সরিয়ে কলার চেপে ধরে বললো--,,মন তো চায় একেবারে এখানেই মে'রে ফেলি।এটাকে ভুল বলছেন আপনি?বলেছিলাম কিছু লুকাবেন না আমার থেকে,আপনি তো মহান।আমি যাই এখন একটা ছেলের সাথে রাত কা'টিয়ে আসি তার পর থেকে আপনার সাথে....

তৃধার কথা আর লম্বা হতে দিলো না আদাভান,তৃধার রাগে তিড়বিড়িয়ে উঠা লালচে ঠোঁট জোড়া আঁকড়ে ধরলো পরম আবেশে।তৃধা চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে কান্না দলা পাকিয়ে যাচ্ছে গলায়।তৃধার চোখ থেকে গড়িয়ে পড়লো দুই ফোঁটা জল, আদাভান তৃধার কপালে কপাল ঠেকিয়ে বললো--,,আমি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পা'প করেছি চরিত্র'হীন হয়েছি, তোমার গায়ে কোনো কল"ঙ্ক লাগবে না,তুমি পবিত্র পবিত্রই থাকবে। আমার ছোঁয়াতে সমস্যা? আমি কোনো দিন ছুঁয়ে দিবো না তোমাকে,আমি কোনো ভাবেই বিরক্ত করবো না তোমায়,যেভাবে খুশি থেকো, শুধু আমার হয়ে থাকো, আমার সাথে থাকো!

তৃধা এতোটা কঠোর হচ্ছে কেনো?শুধু মাত্ররো অভিমান থেকে?তৃধা সরে আসলো আদাভান দিকে ফিরে তাকালো না আর দৌড়ে চলে গেলো সেখান থেকে,আদাভান হতবিহ্বল চোখে তাকিয়ে রইলো সেদিকে!

------------------

তৃধার দিকে অ"গ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নোভা,গালের দিকে তাকিয়ে আছে নিশি,আভা বলে উঠলো--,,মাত্ররো একটা চ"ড় কম হয়ে গেলো না?আমি হলে আরো কয়েকটা বেশি দিতাম!

তৃধা চুপ করে রইলো,নোভা বলে উঠলো--,,ছা'গল! মানুষটাকে এতো কষ্ট দিচ্ছিস তুই?মানলাম কষ্ট হচ্ছে তোর তাই বলে এতোটা বারাবাড়ি!

তৃধা কথা বললো না,আভা বলে উঠলো--,,ওর যা খুশি করুক, ওরে আর কিছু বলে লাভ নাই!

তৃধা এবার শব্দ করে কেঁদে উঠলো--,,তোরা শুধু আমার দোষ দেখছিস?তোদের একেকটার জামাই যদি আইসা বলতো ভুলে প্রেমিকার সাথে বেড'রুমে ঘুমিয়ে গেছিলাম, তখন বুঝতি কেমন লাগে!

নিশি কপাল চাপড়ালো, --,,এ ভাই,শুধু ভেবেই এতো বড় কান্ড ঘটিয়েছিস?হায় খোদা ভাইয়া বলেছে হতেও পারে,তাও রিপোর্ট দেখে একথা বলেছে।

তৃধা চোখ মুছে বললো--,, বলবে কেনো?সর আমি আর যাবো না উনার বাসায় থাকুক ওই শাঁক"চুন্নিরে নিয়া!

নোভা বলে উঠলো--,,খেয়ে দেয়ে ঘুমা,শান্তি লাগবে!

তৃধা চোখ মুখ কাঁথা দিয়ে ডেকে শুয়ে পড়লো,তৃধা মাথায় হাত দিয়ে নাদিম কে কল করলো--,,এ ভাই তোর বোন রে নিয়া যা তো।অস'হ্য একবারে কি থেকে কি করছে,এটারে আর সামলাতে পারবো না আমি।

তৃধা ঘুমিয়ে পড়েছে এক পর্যায়ে,রাতের বেলা নোভার মোবাইলে কল আসলো আননোন নাম্বার নোভা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে আদাভানের ভাঙ্গা কন্ঠস্বর ভেসে আসলো--,,তৃধা হোস্টেলে ফিরেছে নোভা?রাতে খেয়ে ঘুমিয়েছে তো?

নোভার খারা'প লাগলো অনেক--,,তৃধার ছেলেমানুষী এবার মাত্রা ছাড়াচ্ছে।

নোভা মৃদু কন্ঠে বললো--,, ভাইয়া আপনি বাসায় গিয়েছেন?

আদাভান জবাব দিলো না,ছোট করে বললো--,,তৃধার খেয়াল রেখো,রাখছি!

-------------------

এক সপ্তাহ কে'টেছে তৃধা বাসা থেকে বের হয়নি, ভার্সিটি যায় নি।রুমে মট'কা মে'রে বসে ছিলো।

আদাভান কথা বলতে চেয়েও পারেনি,মেয়েটা এতো কঠোর!

কিছুদিন পরই আলিজার বিয়ে,বাসায় একা ফিরলে আদাভান কে সবাই একেবারে পি'ষে ফেলবে, ঘটনা জানলে আজীবনের জন্য বাড়ির দরজা ওর জন্য বন্ধ!

বাসা থেকে ফোন করে সবাই তৃধার কথা জিজ্ঞেস করে,আদাভান নিজের চুল ছিড়ছে বসে বসে। বাড়ি যাওয়ার কথা কি করে বলবে জীবনে যেতে রাজি হবে এই মহিলা?সাতদিন ধরে ভার্সিটি আসে না শুধু ওর ক্লাস করতে হবে দেখে।কতোটা এরিয়ে চলছে ভাবা যায়।এতো রাগ, এতো অভিমান!

আদাভান একাই রওনা দিয়েছে বাড়ির উদ্দেশ্য, একজন তো গিয়ে বুঝ দিতে হবে নাকি।সোনালীর সাথে এনিতেও একটা কথাও বলেনা আদাভান,কোথায় যাচ্ছে এসব কিছুই বলেনি,পর্যাপ্ত পরিমাণ বাজার থেকে শুরু করে যা যা লাগবে সব কিছু কিনে দিয়ে বাসা থেকে বেরিয়েছে সে,বাড়িতে যাচ্ছে এ কথা বলেনি, কখন গিয়ে হাজির হয় কে জানে বোনের বিয়েতে কোনো ঝা'মেলা চায় না আদাভান।

বিয়ের এখনো এক সপ্তাহ বাকি,আদাভান বাড়ির গেইটে এসে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলো,যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না,কি জবাব দিবে সবাই কে?

আদাভান বাড়িতে ঢুকে আরো বেশি অবাক ভেতর থেকে অনেক মানুষের কথার শব্দ শোনা যাচ্ছে।কি হচ্ছে কি বাড়িতে?

আদাভান বসার ঘরে ঢুকে ভুত দেখার মতো চমকে উঠলো, তার বউ তাকে বিরহে রেখে এখানে বসে তারই মায়ের হাতে আয়েস করে খাচ্ছে?এ কেমন অবিচার!

তৃধা খাচ্ছে আর জিদানের সাথে কথা বলছে,সোফায় বসে গল্প করছে নোভা,আভা,নাদিম,স্নিগ্ধা,আলিজা,নাজিয়া, আদিব আলিয়া,আরাফাত!

রাগে কাঁপছে আদাভান সব গুলোতে তাহলে জোট বেঁধেছে,ওর সাথে স্বর"যন্ত্র এবার তো মজা বুঝিয়ে ছাড়বে!

তৃধা আদাভান কে দেখে দৌড়ে গিয়ে লুকালো আমিনা বেগমের পেছনে,আমিনা বেগম ছেলের দিকে তাকিয়ে বললো--,, তুই এসেছিস?

আদাভান তেড়ে এসে তৃধার হাত খপ করে ধরে বললো--,,তোমাকে আজ কে বাঁচায় আমিও দেখবো!

তৃধা কাঁদো কাঁদো মুখ করে বললো--,,আম্মু বাঁচাও তোমার রা"ক্ষস মার্কা ছেলে আমাকে খে"য়ে ফেলবে একেবারে।

আদাভান তৃধার হাত টেনে নিয়ে গিয়ে থামলো রুমের ভেতর।জোরে ধম'ক দিয়ে বললো--,,আদর চিনো আদর?একদম আদর করতে করতে মে'রে ফেলবো!

নৈঃশব্দ্যের প্রেমালাপ পর্ব ১৮ গল্পের ছবি