নৈঃশব্দ্যের প্রেমালাপ

পর্ব - ১৭

🟢

তৃধা রেগেমেগে বের হয় বাসা থেকে,আদাভান তার পিছু নিয়েছে,এক প্রকার দৌড়ে এসে আদাভান তৃধার হাত চেপে ধরে বললো--,,কি হয়েছে,এমন করছো কেনো?কথা টা তো শুনবে নাকি?

তৃধা বুকে দু হাত গুঁজে অন্য দিক মুখ করে তাকালো, আদাভান তৃধার দু বাহু ধরে তাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে বললো--,,আমার সাথে কথা বলবে না তুমি?

তৃধা দু হাতে আদাভান কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে বললো--,,অসহ্য লোক একটা,মন তো চায় কাঁচা খে'য়ে ফেলি।ওই মেয়েটা বাসায় থাকতে চাইবে আর আপনি তাকে থাকতে দিবেন?আশ্চর্য কেমন গায়ে পড়া স্বভাবের আমি কিন্তু নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো না বলে দিলাম!

আদাভান অনুনয় করে বললো--,,ওর তো প্রমান চাই দিয়ে দিলেই তো চলে যাবে,একটা দিনেরই তো ব্যপার।

তৃধা রেগে বললো--,,প্রমান কেনো দেওয়া লাগবে?আপনার মুখ নেই, কিছু বলতে পারলেন না?আর আমাকে ছুঁয়েছেন কেনো আপনি,আগে গিয়ে দশ বার পবিত্র পানি দিয়ে গোসল করে আসুন তার পর আমার কাছে আসবেন।গা ঘেঁষাঘেঁষি করে ঘুমানো না খু'ন করে ফেলবো আমি আপনাকে!

আদাভান তৃধার গালে হাত রেখে বললো--,,আমি কি করে জানবো ও আমার সাথে এসে ঘুমাবে?আমি তো তোমার অপেক্ষায় বসে ছিলাম,ঘুমিয়ে পড়বো বুঝতেই পারিনি।

তৃধার রাগে নাকের ডগা কেঁপে উঠলো তে'জি কন্ঠে বললো--,,ঘুমের ঠিক নাই দেইখাই তো ওই মেয়ে এসে একটা বাচ্চার বাপ বানাইয়া দিতে পারে আপনাকে।আপনাকে আমার এখন শুধু অস'হ্য লাগছে সরুন সামনে থেকে!

তৃধা হনহনিয়ে ভার্সিটির গেইটের ভেতর ঢুকে পড়লো,নাদিম দৌড়ে আসলো আদাভানের কাছে, রসিকতা করে জিজ্ঞেস করলো--,,কি ব্যাপার ভাইয়া দিন কাল কেমন কা'টছে?

আদাভান মাথায় হাত দিয়ে গাড়ির উপর ঠেস দিয়ে বসে পড়লো, দুঃখ করে বললো--,,আর বলিস না ভাই,জীবন টা ছাড় খাঁড় করে দিচ্ছে এই মহিলারা!

নাদিম ভ্রু কুঁচকে বললো--,,তৃধা আপনাকে প্রোপোজ করেনি?

আদাভান যেনো আকাশ থেকে পড়লো,তৃধা তাকে প্রোপোজ করতে চেয়েছিলো?চিন্তায় কপালে ভাজ পড়লো তার,না জানি মেয়েটা কতো কষ্ট পেয়েছে রাতে!

আদাভান হতাশ কন্ঠে নাদিম কে সব খুলে বললো।

নাদিম চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে বললো--,,আপনাকে এখনো তৃধা কিছু করেনি?

আদাভান চোখ ছোট ছোট করে বললো--,,কি করার কথা বলছো?

নাদিম ফোন বের করে হাতে নিয়ে বললো--,,বিপ'দ থেকে এখন শুধু আদিব ভাইয়াই বাঁচাতে পারে,ভাইয়ার এক্সপেরিয়েন্স ভালো।

আদাভান বলে উঠলো--,,আদিব ও কি ছেঁ"কা টে'কা খেয়েছে নাকি?

নাদিম মাথা নেড়ে বললো--,, তার থেকেও বড় বিষয়, অনেকটা আপনার মতো,বয়সে ছোট মানুষের প্রেমে পড়লে যা হয় আর কি।

আদিব কে কল করতেই, আদিব রেগেমেগে বললো--,,কেনো কল করেছিস?স্নিগ্ধা টাকে একবার হাতের কাছে পাই চ'ড়িয়ে যদি সোজা না করেছি তো দেখিস।

নাদিম শুকনো ঢোক গিললো, দুইদিকে দুই'টা বো'মা, ব্লা"স্ট হলে আর দেখতে হবে না!

নাদিম শান্ত ভাবে জিজ্ঞেস করলো--,,তুমি কোথায়?

আদিব রেগে বললো--,,তা জেনে তুই কি করবি?তৃধা বাসায় ফিরেছে?

নাদিম কিছু একটা ভেবে বললো--,,না মানে ও ভাইয়ার সাথে রাগ করে কোথায় যেনো চলে গেছে,আমরা ওকেই খুঁজতে যাচ্ছি!

আদিব জোরে চেঁচিয়ে বলে উঠলো--,,এই পাগ"ল মেয়ে মানুষ নিয়ে আর পারা যায় না।সব দাদুর মতো হয়েছে,তাঁর দুই একটা ছিঁ'ড়া মাথার,এক গা'ধী বাসায় বসে আমার মাথা খা"চ্ছে আরেকটা এখানে!

আদাভান পকেটে দু হাত গুঁজে বসে আছে, কি করবে এখন,না কথা শুনছে বউ আর না ভালো বর্তমানের ওর কপাল।লসে চলছে জীবন পুরোটাই!

-------------

নিশি,নোভা,আভা সব কথা শুনে হা হয়ে বসে আছে,তৃধা চোখ বন্ধ করে বসে আছে।

নোভা শুকনো ঢোক গিলে বললো--,,এখন কি করবি?

তৃধা দাঁতে দাঁত চেপে বললো--,,ওই মহিলারে তেলাপোকার সাথে মিশিয়ে ব্লে'ন্ড করে জ্যুস বানিয়ে ফাইভ স্টার রেস্টুরেন্টে ড্রিং"স হিসেবে সার্ভ করবো!

নিশি আমতা আমতা করে বললো--,,চেত'ছিস কেনো ভাই!

আভা বলে উঠলো--,,চেত'বো না তো কি করবো?সতি'ন পালবে বাসায় বসে!

তৃধা চেঁচিয়ে বলে উঠলো--,, কিসের সতি'ন,আমার জামাই শুধু আমাকে বিয়ে করেছে,ওই ভ'ন্ডা মহিলার নাম ও নিবি না আমার সামনে,দেখলেই মন চায় স্যু'ট করে দেই!

নোভা বাতাস করে বললো--,,দোস্ত রেগে গেলি তো হেরে গেলি,ও চাইছেই এটা তুই রাগ করে উল্টো পাল্টা কিছু করবি, আর ও আরো বেশি পেয়ে বসবে!

তৃধা নোভা কে জড়িয়ে ধরে কেঁদে উঠলো, নিশির খারা"প লাগা শুরু হলো,কালকেও ওরা কতোটা হাসিখুশি ছিলো আর আজ?

আভা তৃধার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো--,,বোকার মতো কাঁদছিস কেনো?ভাইয়ার তো দোষ নেই,মানুষের অতীত থাকতেই পারে, ওই মেয়েটা ভাইয়া কে ফাঁসা"চ্ছে এই মুহুর্তে তুই ও যদি ভাইয়া কে ভুল বুঝে দূরে সরে যাস, তাহলে কিভাবে হবে বল?ভালোবাসার কথা বাদ দে, তুই আর ভাইয়া কতো ভালো বন্ধু, দুজন কে দুজন কতো ভালো করে বুঝিস, তুই চিনিস না ভাইয়াকে?বন্ধুর বিপ'দে তাকে একা করে রেখে আসা কি তোর উচিত হবে!

তৃধা চোখ মুছে বললো--,,আমি সহ্য করতে পারি না তো,ওই বাচ্চাটাকে দেখলে না চাইতেও আমার বুকের ভেতরটা কেমন যেনো করে উঠে,যদি সত্যি সত্যি ওটা আদাভানের বাচ্চা হয় তখন আমি কি করবো?

নিশি বলে উঠলো--,,ওই বাচ্চাটাকে ভাড়া করে আনেনি তো আবার?

তৃধা ধম'কের সুরে বললো--,,কি বলছিস এসব ওটুকু বাচ্চা কি অভিনয় করতে পারবে?এই মেয়ের কি মত'লব আছে তা আগে জানতে হবে,এতোদিন পর তো এমনি এমনি আসেনি!

নোভা বললো--,,কি করবি এখন?

তৃধা নাম মুখ কুঁচকে বললো--,,প্ল্যান মোতাবেক কাজ করবো,কিন্তু আদাভানের বাচ্চা কে ইগ"নোর করবো আমি,একটা শা"স্তি তো পেতেই হবে উনাকে,ব"দ লোক প্রেমিকা ছিলো কথাটা লুকিয়ে রাখলো আমার থেকে।এতো সহজে উনার কাছে ধরা দিবো না আমি,আমাকে কষ্ট দেওয়ার ফল টে'র পাইয়ে ছাড়বো একেবারে ।

আভা চোখ ছোট ছোট করে বললো--,,ভাইয়া কে কষ্ট দিয়ে এসে আবার ম"রা কান্না শুরু করে দিবি জানা আছে আমার!

তৃধা আভার পিঠে ধা"মধুম লাগালো কতোক্ষন, শ"ত্রু এক একটা!

----------------------

তৃধা বাসায় ফিরে আসে কিছুক্ষণ পরই,ক্লাস করবে না ছাই,পড়া কি মাথায় ঢুকবে আদেও?

তৃধা বাসায় ঢুকতেই পিহু এসে দাঁড়ালো ওর সামনে,তৃধা একবার তাকালো সরু চোখে,বাচ্চাটা এদিক ওদিক তাকিয়ে পেটে হাত দিয়ে বললো--,,আমাল খু"তা লেগেছে,খা..বো!

তৃধা টেবিলের উপর থেকে পানির গ্লাস উঠিয়ে খেতে খেতে বললো--,,তোমার মা কোথায়?খেতে দেয়নি?

বাচ্চা মেয়েটি চোখে মুখে অসম্ভব মায়া,তৃধা শত চেষ্টা করেও শক্ত ভাষায় কথা বলতে পারছে না।

পিহু ছলছল চোখে তাকিয়ে আছে, তৃধা জিজ্ঞেস করলো--,, কি খাবে?

মেয়েটা জামা চেপে ধরে দাঁড়িয়ে আছে,তৃধা থমথমে কন্ঠে বললো--,,আসো আমার সাথে।

তৃধা ফ্রিজ থেকে পাস্তার বাটি বের করে গরম করতে দিলো,মেয়েটার দিকে একটু পর পর আঁড়চোখে তাকাচ্ছে।

তৃধা বাটিতে তুলে খাবার নিজের জন্য নিলো সাথে পিহু কেও দিলো।

পিহু কাঁপা হাতে বাটিটা ধরে বললো--,, তুমি ভালো!

তৃধা পিছু ফিরে তাকালো, জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো--,,আমি ভালো?

পিহু হাত দিয়ে মুখে খাবার দিতে দিতে বললো--,,হুম অলেক!

তৃধার হাসি পেয়ে গেলো,সাথে সাথে মন খারা"প ও হলো,ও নিশ্চিত এটা আদাভানের বাচ্চা নয়,তাহলে কে এই মেয়ে?কোন নির্দ"য় বাবা মা একা নিজের সন্তান কে এভাবে ছেড়ে দিলো!

তৃধা তপ্ত শ্বাস ছেড়ে বললো--,,দুপুরে কি খাবে?

পিহু বলে উঠলো- -,দু দুপুলে ও দিবে!

তৃধা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে,জিদানের কথা মনে পড়লো তার,প্রায় জিদানের সমবয়সী এই মেয়েটা।

তৃধা কৌতুহল ধমা'তে না পেরে জিজ্ঞেস করলো--,,কেনো দুপুরে খাও না তুমি?

পিহু দু দিকে মাথা নাড়লো,আর কিছু বলতে যাবে এরই মধ্যে সোনালী এসে হাজির হলো।

পিহু সোনালী কে দেখতেই তার হাত থেকে খাবারের বাটি টা ছিটকে পড়ে গেলো,ভয়ে থরথর করে কাঁপছে বাচ্চাটা,তৃধা বেশ লক্ষ্য করলো বিষয়টা।সোনালী পিহু কে টেনে নিয়ে বললো--,,ওই মহিলার দেওয়া খাবার খেয়েছিস কেনো তুই?যদি বি'ষ মিশিয়ে দেয়!

তৃধার রাগ আর কে দেখে,সে চিবিয়ে চিবিয়ে বললো--,,ছোট'লোকের মনোভাব ও ছোট"লোকি!একটা সামান্য বাচ্চা কে কখনো নিজের শ"ত্রু ভাবে না তৃধা।

তৃধা সেখান থেকে চলে গেলো,সোনালী পিহুর দিকে রাগী চোখে তাকালো হাত চেপে ধরে বললো--,,খেতে চাস আমাকে বলতে পারলি না?জীবনে খাবার খাস নাই তুই?

পিহু চুপসে গেলো,তৃধা রুমে যেতেই মৃধার কল আসলো।

রিসিভ করতেই জিদানের ছবি ভেসে উঠলো স্ক্রিনে,জিদান হাসি দিয়ে তাকিয়ে আছে,তৃধা আদুরে কন্ঠে ডাকলো--,,বাবাটা কি করছে?

জিদান গাল ফুলিয়ে বললো--,,তুমি প'তা খা'মনি!

মৃধা পেছন থেকে বললো--,,তোর কাছে যাবে বলে বলে মাথা খারা'প করে দেয় ছেলে আমার।খালামনি বলতে অজ্ঞান, কবে আসবি বল?না হয় আমরাই চলে আসবো তোর কাছে।

তৃধা শুকনো ঢোক গিলে বললো--,,আলিজা আপুর বিয়েতে আসবো।

জিদান বলে উঠলো--,,মি'ত ইউ খা'মনি!

তৃধা মোবাইলের দিকে তাকিয়ে ফ্লাইং কিস ছুঁড়ে দিয়ে বললো--,,খালামনি ও তোমাকে এত্তোগুলা মিস করে বাবাই।

জিদান, তৃধার আড্ডা চললো বেশ কিছুক্ষণ। জিদানের সাথে কথা বলা শুরু করলে আশেপাশের কিছু আর মনে থাকে না তার দিনদুনিয়া ভুলে বক বক করে দুটোতে,যেন সমবয়সী দুই বন্ধু গল্প করতে বসেছে!

তৃধা কে হেসে হেসে কথা বলতে শুনলো সোনালী,সোনালীর রাগ বাড়লো,মেয়েটা তাকে গনায় ও ধরে না,তার স্বামীর আগে প্রেমিকা ছিলো একটা বাচ্চা ও আছে,তাও কিনা কোনো মাথা ব্যাথা নেই?আদাভান যে বিবাহিত এ কথাটাও তো গোপন করেছে তার কাছে মাহির,কিন্তু কেনো?মাহির কেনোই বা এতো সহজে তাকে এরিশের কাছে আসতে দিলো?যেখানে একটা সময় সে নিজেই এরিশের থেকে তাকে ছিনি"য়ে নিয়েছিলো,পিঠ পিছে বড়"সড় কোনো স্বরয"ন্ত্র নেই তো!

সোনালী ততদিন বিয়ে করতে পারবে না যতদিন না তার আর মাহিরের ডি"ভোর্স হচ্ছে,সোনালী যে বিবাহিত এই কথাটা এরিশ কে বলতে মানা করেছে মাহির।সোনালীর মাথায় কিছুই ঢুকছে না, সে চায় এরিশ তার হোক কারন এতোদিনে সে হারে হারে বুঝেছে কিসের জন্য কি হারিয়েছে, এরিশ তাকে কতোটা ভালোবাসতো কতোটা পাগ'ল ছিলো তার জন্য, সোনালীর কতো শতো আবদার পূরণ করেছে,সব কিছু করেছে সোনালীর জন্য, সোনালী রাত বললে দিনকেও রাত ধরে বসতো ছেলেটা,আর সে কিনা এমন একজন মানুষ কে ছেড়ে মাহিরের মতো শয়"তানটার মোহে আঁটকে গিয়েছিলো!নিজেকে ধিক্কার জানাতে ভুললো না আর।সময় থাকতে মূল্য দেয়নি এখন হারিয়ে দেউলি"য়া হয়ে গেছে সব দিক থেকেই!

তৃধা রান্না ঘরের দিক পা বাড়ালো, সোনালী পেছন থেকে এসে বললো--,,রান্না আমি করবো,যেহেতু সংসার টা কিছুদিন পর আমার হবে সেহেতু!

তৃধা হাই তুলে বললো--,,রান্না করবেন বেশ ভালো,ফ্রি ফ্রি কাজের লোক থাকলে মন্দ হয় না!

তবে আপনি যে হেঁটে চলেও স্বপ্ন দেখেন বিষয়টা কিন্তু খুবই চিন্তার,পাগ'লেরাও তো এতো ভয়া'নক স্বপ্ন জেগে জেগে দেখে না‌!

সোনালীর অপমানে চোয়াল শক্ত হয়ে আসলো,সে রাগ দমি"য়ে জিজ্ঞেস করলো--,,তোমাদের বিয়ে কিভাবে হয়েছে?

তৃধা চেয়ারে আয়েশ করে বসে বললো--,,বাহিরের মানুষ কে নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কিছু বলা পছন্দ না আমার!

সোনালী আঙুল উঁচিয়ে বললো--,,এই মেয়ে,নিজের সীমার মধ্যে থাকো,আমাকে বাহিরের মানুষ বলার কে তুমি?আমি এরিশের বাচ্চার মা!

তৃধা হেসে বললো--,,ভালো, বাচ্চার মা হন বা খালা তাতে আমার বাপের কি?যান তো রান্না টা ফটাফট করে ফেলুন বড্ড খিদে পেয়েছে!

সোনালী আবার আঙুল উঁচিয়ে ধরতেই তৃধা তা মুচড়ে ধরে বললো--,,তৃধা তালুকদারের সামনে আঙুল উঁচিয়ে কথা বলার সাহস তার বাপ ও এখনো করেনি, আপনি কোথাকার কোন ম''ন্ত্রী মিনি"স্টার?

সোনালী হাতের ব্যাথায় কুঁকড়ে উঠলো, তৃধা ধাক্কা দিয়ে সোনালী কে সরিয়ে দিয়ে বললো--,,আমি চাইছি বলেই এখনো এ বাসায় আছেন আপনি,নিজের সীমায় থাকুন নয়তো,আপনাকে আপনার আসল জায়গায় পাঠাতে দু মিনিট সময় ও লাগবে না আমার!

তৃধা রান্না ঘরে ঢুকলো রান্না করার জন্য সব আগেই রেডি করে রেখেছে এবার চুলার উপর চড়ি"য়ে দিলো বড় কড়াই তাতে রান্না হবে খিচুড়ি, বিকেলে সবাইকে আসতে বলেছে তৃধা,পরিবেশ টাও বেশ ঠান্ডা মনে হয় বৃষ্টি হবে!

তৃধা আপন মনে কাজ করতে ব্যস্ত, তবে সোনালী নামক আপ'দ টা পিছু ছাড়ার নামই নিচ্ছে না।

সোনালী এসে বলে উঠলো --,,আমি এরিশের প্রথম প্রেম প্রথম ভালোবাসা,তুই তার দ্বিতীয় চয়ে,জ প্রথমজন সব সময় স্পেশ্যাল হয়,তার কাছে নির্দ্বিধায় মানুষ ফিরে আসে,এখন তো আবার এরিশ পিহুর বাবা!

তৃধা তপ্ত শ্বাস ছেড়ে বললো--,,পিহুর বাবা হলে তার দায়িত্ব আদাভান নিশ্চয়ই পালন করবে, আমার স্বামী দায়িত্বের দিক দিয়ে খুবই নীতিবান, প্রশ্ন হচ্ছে আপনি কে?রক্ষি"তা?

সোনালী চেঁচিয়ে বলে উঠলো--,, তোর সাহস কি করে হয়,,!

তৃধা কানে দুহাত চেপে ধরে বললো--,,সাহস তো আমার পুরো শরীর জুড়েই।বিয়ের আগে পরপুরুষের সাথে ঘুমাতে পারবেন, নিজের শরীল বিলি'য়ে দিয়ে নীতিবাক্য শুনাবেন,একটা বাচ্চা নিয়ে এসে সবার ধারে ধারে হাজির হবেন, পরে কেই'স করার ভয় দেখাবেন।কোথায় এমন আইন আছে বলুন তো যেখানে স্বেচ্ছায় ধ"ষিত হয়ে বাচ্চা জন্ম দেওয়ার পর বাচ্চার বাবা দায়িত্ব নেয় না বলে তাকে পুলিশে দিবেন?চরি"ত্রের ঠিক নেই আপনার পড়ে আছেন প্রেম ভালোবাসা নিয়ে বলি লজ্জন শর'ম কি কিছু নাই?সব বিক্রি করে দিয়েছেন!

সোনালী রাগে কাঁপছে এতটুকু মেয়ের কথা বার্তা কতোটা ধারা"লো,সোনালী রেগে আবার বললো--,,তুই দেখে নিস আদাভান শুধু আমাকে ভালোবাসে,ছেলেরা তার প্রথম ভালোবাসার মানুষ কে কখনো ভুলে না।তোকে ছেড়ে দিবে, তোর এসব ভাব ছুটে যাবে দুদিনেই!

তৃধা শব্দ করে হাসলো।হাসি থামিয়ে এক পর্যায়ে বললো--,,মানুষের প্রথম প্রেম হওয়ার থেকে শেষ প্রেম হতে পারাটা পরম সৌভাগ্যের!

মানুষ তখনই দ্বিতীয় কারো প্রেমে পড়ে যখন তার হৃদয় তাকে জানান দেয় এই মানুষ টা তাকে ঠকাবে না!

প্রথমবার মানুষ আবেগে প্রেমে পড়ে,,

দ্বিতীয় বার হিসাব কষেও যখন গভীর প্রেমে পড়ে,তখন ওই প্রেম কে মিথ্যা বা মোহ বলার কোনো সুযোগ থাকে না।

আমি আদাভানের সেই প্রেম, আদাভানের শেষ আশ্রয়স্থল, আদাভানের শান্তি, ওনার সবচেয়ে বড় কমফোর্ট জোন।

আমরা মানুষ যেমনই হই না কেনো,নিজেদের কমফোর্ট জোন ছেড়ে কখনো বাহিরে যেতে চাই না।আমি সৌভাগ্যেবান কারন আদাভান তার জীবনের সবচেয়ে সুন্দতম জিনিস গুলো আমাকে দিয়েছে।আমি যেমন তেমনই আমাকে সবচেয়ে বেশি সম্মান দিয়েছে!

একজন পুরুষের জীবনে সবার আগে প্রায়োরিটি পাওয়াটা চারটে খানে কথা নয়,আপনি যদি আদাভান কে জিজ্ঞেস করেন কে তার জীবনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নারী সে নিঃসন্দেহে আমার নাম নিবে!

সোনালী বলে উঠলো--,,আমাকে দেখে তোর রাগ হয় না?হিং'সে হয় না?আমি তো ভাগ বসাতে এসেছি!

তৃধা মুচকি হেসে বললো--,, আপনাকে দেখে আমার জে'লাস হওয়ার কোনো কারন নেই,আপনার সাথে নিজেকে কম্পেয়ার করার ও দরকার মনে করি না।

কারন আমি জানি আদাভান সম্পূর্ণটাই আমার,আমি চোখ বন্ধ করে ওনাকে বিশ্বাস করতে পারি,আমি ওনাকে ছেড়ে চলে গেলেও আপনার কোনো দিন হবে না।উনি শুধু আমার আর আমারই থাকবে!

যে পাখি কে মুক্ত করে দিলেও বার বার ফিরে আসে তাদের কে অবিশ্বাস করার মতো ভুল বোকারা করে।

আপনিও নিজেও জানেন আদাভান আপনাকে ভালোবাসে না,নিজের দুর্বলতার ভার আমার উপর চাপাতে আসবেন না,আমি মানুষ মোটেও সুবিধার না!

এরই মধ্যে বাসায় এসে হাজির হলো আদিব,নাদিম, আদাভান, আদিব তো প্রথেম সব শুনে আদাভানের উপরই রাগ দেখাচ্ছিলো,তার বোনকে কষ্ট দেওয়ার সাহস কি করে হয় আদাভানের,নাদিম কোনো মতে তাকে শান্ত করেছে,আদাভান লম্বা শ্বাস টেনে বলেছিলো--,, আল্লাহ ভাই বোন দুইটাই ডাকা"ত আমাকে বাঁচাও, কান ধরতেছি জীবনেও প্রেম করার নাম নিবো না।

নাদিম সবার পেছনে দাড়িয়ে বললো--,, আমি রি"ক্স নিতে চাই না তৃধা রেগে আমাকে মার"তেও পারে!

আদিব বলে উঠলো--,,ভ..য় কেনো পাবি আজব,ও কি কিছু...!

তখনই তৃধার গলার স্বর শোনা গেলো--,,আমার জামাই, আমি যা খুশি করবো, কা'টবো মার'বো,ঝা"ড়ু দিয়ে পেটাবো তাতে তোর কি?সম্মানের সহিত কথা বলছি তো ভালো লাগতেছে না?আমার স্বামী আমি চুমু খাবো নাকি পি'স পি"স করে ডিফ ফ্রিজে ভরে রাখবো তা সম্পূর্ণই আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার,যদি আর এক বার আমাদের মাঝে কথা বলতে আসিস তো তোকে যে কি করবো আমি,অস'ভ্য মহিলা,সর আমার সামনে থেকে!

আদাভান ভয়ার্ত চোখে তাকালো কে'টে কু'টে একেবারে ডিফ ফ্রি'জে? আদিবের কানে ফিসফিসিয়ে বললো--,,ভাই কবুল বলার আগ মুহুর্তে কেনো বলিস নাই তোদের বোন জল"জ্যান্ত একটা ডাকা"ত,এই অদমের জীবন তো ছু'রির আগায় যে কোনো মুহুর্তে নাই হয়ে যেতে পারে!

তৃধার হাতে সবজি কাটা"র ছুরি,সোনালীর দিকে তাক করে রেখেছে এক পা করে আগাচ্ছে আর বলছে--,, ধৈর্য অনেক ধরেছি আর না ফাত'রা মহিলা শা'লা তোকে বললাম চুপ চাপ থাক যতদিন থাকবি না তুই শা'লী প্যান প্যান করতেই আছিস,কি সমস্যা রে কি সমস্যা তোর?তোর বাচ্চার বাপরেই তো পাত্তা দেই না তুই ভাবলি কি করে তোরে মাথায় তুলে নাচবো,একেবারে খু'নাখারা'বি হয়ে যাবে বলছি,যা বলছি, আমার সামনে যদি পড়েছিস আর কোনো দিন!

আদিব ভয়ার্ত কন্ঠে বললো--,,তৃধু কি করছিস বোন আমার ভালো মাথা ঠান্ডা কর,কেনো ছুঁচো মে'রে হাত গন্ধ করবি?

আদাভান চেঁচিয়ে বলে উঠলো--,,কি করছো তৃধা গলায় লেগে যাবে তো,কথাটা শোনো আমার!

সোনালী ভয়ে থরথর করে কাঁপছে, এরকম পাগ"ল মেয়ে জীবনেও দেখেনি ও,করতে চাইলো কি আর হয়ে গেলো কি।এবার প্রা"ণ টা বাঁচলেই হয়!

আদাভান এক পা দু পা করে এসে তৃধার কোমড় জড়িয়ে ধরলো এক টানে তৃধা কে সরিয়ে এনে ফেললো নিজের উপর,তৃধার হাতের ছু'রি গিয়ে লাগলো আদাভানের হাতে।

তৃধা চোখ মুখ খিঁচে পড়ে আছে,নাদিম দ'ম ফেলে বললো--,,তৃধা ইয়ার হার্ট অ্যা'টাক করিয়ে ছাড়বি নাকি?এমন কেউ করে?

আদাভানের হাতে রক্ত দেখে আদিব বলে উঠলো--,,ভাইয়ার হাত কে"টে গেছে।

তৃধা চকিত নয়নে তাকালো, আদাভানের উপর থেকে উঠে তার হাতের দিকে নজর দিলো,বেশ খানিকটা কে'টেছে তৃধা কাঁপা হাতে ধরে বললো--,,স্যরি,আমি ইচ্ছে করে দেইনি বিশ্বাস করুন,অনেক ব্যাথা করছে আপনার?খুব জোরে লেগেছে তাই না?

তৃধা এক ছুটে রুমে গিয়ে ফাস্টএইড বক্স টা নিয়ে আসলো,অগোছালো হাতে বে'ন্ডেজ করে দিয়ে তবেই থামলো,চো'ট সামান্য তৃধার ব্যস্ততা আকুলতা হয়েছে দেখার মতো,আদাভান পুরোটা সময় তৃধার দিকে অপলক তাকিয়ে ছিলো।

তৃধার চোখে জল চিকচিক করছে,আদাভান জানে কিছু বললেই এখন কেঁদে দুনিয়া ভাসিয়ে দিবে।

তাই সে নিরব রইলো,আদাভান উঠে দাড়িয়ে সোনালী কে শান্ত কন্ঠে বললো--,,তোকে আগেও বলেছি আমার স্ত্রীকে অসম্মান করার কথা চিন্তাও করবি না৷ না কোনো প্রকার বারাবাড়ি আমি সহ্য করবো,তাও যেহেতু তুই এমনটা করেছিস তোকে আর আমি বাসায় রাখতে পারবো না,তুই হোটেলে গিয়ে থাকবি রুম বুক করে দিবো তোকে আমি, যতদিন না সব কিছু প্রমান হচ্ছে ততোদিন তুই ওখানে থাকবি!

তৃধা ওড়না দু হাতে চেপে ধরে সদর দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেলো,কিছু কিছু সময় আসলেই আমাদের নিয়ন্ত্রনের বাহিরে চলে যায়,আমরা চাইলেও তা ঠিক করতে পারি না,না পারি নিজেদের বুঝ দিতে।তৃধা জানে ওরই সব কিছু তবুও তার মন মানে না,মন চিৎকার চিৎকার করে বলে আদাভান হারিয়ে যাবে, পাওয়ার আগেই হারিয়ে ফেলার তীব্র ভয় তাকে ভেতরে ভেতরে নিঃস্ব করে দিচ্ছে।

গগন কাঁপিয়ে বজ্র পাত হলো,মেঘ ডাকলো,বৃষ্টির ধারা নামবে বলে,মেঘেরা নিজেদের শুভ্র রঙ পরিবর্তন করে ফেললো,অন্ধকার হয়ে আসতে শুরু করলো চারপাশ।

সিঁড়ি বেয়ে বাহিরে চলে এসেছে তৃধা তার পেছেন তার কাঙ্ক্ষিত পুরুষ, তৃধা জানতো আসবে,বিশ্বাস অবিশ্বাসের বাহিরেও বুঝি কিছু থাকে?

আদাভান আদুরে কন্ঠে ডাকলো--,,প্রজাপতি!

তৃধার পা থেমে গেলো,খোলা আকাশ, দখিনা বাতাস তৃধার এলোমেলো চুল উড়ে চলেছে দিক বেদিক।

আকাশের মনোমুগ্ধকর পরিবর্তন, বৃষ্টি নামার পূর্বে শীতল পরিবেশ তৃধার হৃদয় কে শীতল করে তুলছে প্রতিনিয়ত।

আদাভান কিছু কদম দূরে,তৃধা এখনো ঠায় দাঁড়িয়ে আদাভান চোখ বন্ধ করে গেয়ে উঠলো--,,

আকাশ এতো মেঘলা

যেও না কো একলা

এখনি নামবে অন্ধকার

ঝড়ের জল-তরঙ্গে

ভয় আছে পথ হারাবার!

গল্প করার এই তো দিন

মেঘ কালো হোক মন রঙিন

সময় দিয়ে হৃদয়টাকে বাঁধাবো নাকো আর,,

আকাশ এতো মেঘলা

যেও নাকো একলা

এখনি নামবে অন্ধকার

ঝড়ের জল-তরঙ্গে

ভয় আছে পথ হারাবার...!

আধাঁরো ছায়াতে চেয়েছি হারাতে

দুবাহু বাড়াতে তোমারি কাছে

যাক না এমন এইতো বেশ

হয় যদি হোক গল্প শেষ

পূর্ণ হৃদয় ভুলবে সেদিন সময় শূন্যতার!

আদাভান তৃধার দিকে দু বাহু প্রসারিত করে তাকিয়ে আছে,বৃষ্টি পড়ছে দুজন ভিজে চলেছে পুরো দমে,বৃষ্টির তীব্রতা অনুভূতির পরশা খুলে বসেছে।প্রেমের প্রজাপতি উড়ে উড়ে জানান দিচ্ছে এইতো সময় আঁকড়ে ধরার, ভালোবাসার, সময়রা থেমে যাক এখানেই।ভালোবাসারা বেঁচে থাকুক অটুট থাকুক তাদের বন্ধন আজীবনকাল!

তৃধা দৌড়ে এসে আদাভান কে জড়িয়ে ধরলো,বৃষ্টির শীতলতা কমাতে পারেনি ভালোবাসার উষ্ণতা।

আদাভান তৃধার গালে আলতো ছুঁয়ে বললো--,,এতো অভিমান আমার প্রতি?তোমার চোখের জল আমার হৃদয়ে কতোটা ঝ'ড় তুলে তুমি জানো না?জেনে-বুঝে কষ্ট দাও কেনো এতো?

তৃধা কেঁপে উঠলো, চোখ তুলে তাকালো আদাভানের চোখের দিকে,অভিমানে টইটম্বুর চোখজোরা,তৃধা ফুপিয়ে উঠে বললো--,,আপনি কতোটা খারা'প আপনি কি তা জানেন প্রফেসর?

আদাভান ঠোঁট এলিয়ে হাসলো,তৃধার এলোমেলো চুল গুলো গুছিয়ে দিয়ে বললো--,,কি অদ্ভুত ভালোবাসাবাসি হলো না কিচ্ছু হলো না,এর আগেই বউ আমার অভিমানে লাল হয়ে বসে আছে,এই অদম কি করে এতো অভিমানের ভার সামলাবে বলতে পারো?

তৃধা ঠোঁট উল্টে বলে উঠলো--,,সামলাতে না পারলে ছেড়ে দিন,জোর করিনি আমি!

আদাভান তৃধার দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে বললো--,,মে'রে ফেলবো একেবারে,ধরাধরি এখনো বাকি ছাড়াছাড়ির কথা বললে তুলে ধরে আছাড় দিবো পুঁচকে মেয়ে!

আদর,ভালোবাসা, যত্ন, এই পুরোটা আমাকেও দিয়ে দিবো যা বলবে তাই শুনবো,ম'রে যেতে বললে তাও করবো,ছেড়ে যাওয়ার নাম নিলে মিসেস তৃধা তালুকদার আপনাকে মুঠোয় নিয়ে পি'ষে ফেলতেও দুবার ভাববো না আমি!

তৃধা অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে বললো--,,শা'লা নির্দ"য়।

আদাভান তৃধার কোমর জড়িয়ে আরো কিছু টা দূরত্ব কমিয়ে নিয়ে বললো--,,এভাবে আরো কিছুক্ষণ থাকলে অঘ"টন ঘটাবো আমি,দায়ী থাকবে তুমি!

তৃধা আশেপাশে তাকিয়ে বললো--,,নির্ল'জ্জ লোক, রাস্তায় দাড়িয়ে কি শুরু করেছেন?

আদাভান হেসে বললো--,,দেখুক লোকে তাতে মন্দ কি?

তাছাড়াও বৃষ্টি মধ্যে রাস্তায় কেউ তাকাতে যাবে কেনো?

তৃধা নিজেকে ছাড়াতে চাইলে আদাভান তৃধার দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকালো, তৃধা মুখ দু হাতে ডেকে ফেললো নিজের।আদাভান হেসে উঠলো, তৃধার কপাল বরাবর হাতের উপর চুমু বসালো,তৃধার অবস্থা নাজে"হাল এতোটুকুতেই।

আদাভান তৃধার কান ঘেঁষে মুখ এনে বললো--,,ভালো....!

তৃধা আদাভানের বাহু চেপে ধরে বললো--,,এখন আমি কোনো কিছুই গ্রহন করবো না,আগে আমার অভিমান কমিয়ে শূন্য করে দিন,রাগ কমিয়ে শীতল বানিয়ে দিন, তার পর পুরো আপনিটাকেই সানন্দে গ্রহণ করে নিবো আমি!

আদাভান বন্ধন দৃঢ় করে বললো--,,অপেক্ষারা এতো লম্বা কেনো?আমি হৃদয় এতো অধৈর্য কেনো?তোমাকে পাওয়ার ইচ্ছেটা এতো গভীর কেনো?

এলোমেলো করে দিয়ে শর্ত বেঁধে দিলে তো?সুধে আসলে হিসাব যদি না নেই আমিও তোমার একমাত্র জামাই না!

তৃধা জোরে সোরে একটা কি'ল বসালো আদাভানের পিঠে রেগে বললো--,,অন্য বে"ডির জামাই হওয়ার স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে বদলে দেওয়ার জন্য আমিই যথেষ্ট!

আদাভান তৃধাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো--,,আমি তোমাতেই আবদ্ধ থাকতে চাই আজীবন, নতুন কাউকে আমার লা"শ ও গ্রহণ না করুক!

আদাভান তৃধাকে নিজের থেকে সরিয়ে দিলো আচমকা, চোখ মুখের রঙ পাল্টে বললো--,,তোমার অভিমান ভাঙ্গাতে ভাঙ্গাতে আমি চিঁড়েচ্যা'পটা হয়ে যাবো, আর আমার অভিমানের খবর কে রাখে?

তীব্র অভিমান আদাভানের কন্ঠে তৃধা আদাভান কে নিজ থেকে জড়িয়ে ধরে বললো--,,অভিমান টুকু বাঁচিয়ে রাখো প্রিয় এখনো একসাথে অনেকটা পথ চলা বাকি!

নৈঃশব্দ্যের প্রেমালাপ পর্ব ১৭ গল্পের ছবি