নৈঃশব্দ্যের প্রেমালাপ

পর্ব - ১৬

🟢

আদাভান হতবিহ্বল চোখে তাকিয়ে আছে, বাবা মানে?কে এই মেয়ে!

আদাভানের চোখ মুখ শক্ত হয়ে আসলো বিরক্তিতে রি রি করে উঠলো পুরুষালী দেহ,রাগে চোখ মুখের ধরন বদলালো, সোনালী শুকনো ঢোক গিললো,আদাভান রাগী তবে ওর ক্ষেত্রে কিছুতেই রাগ করে থাকতে পারে না এই ছেলে নিশ্চয়ই এখন ও তাই।

সোনালী আগ বাড়িয়ে বললো--,,এরিশ তোমার মনে নেই আমাকে?আমরা দুজন দুজনকে ভালোবাসি!এই দেখো আমাদের মেয়ে আমাদের ভালোবাসার চিহ্ন।

আদাভানের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙ্গলো, ঠা"স করে একটা চ"ড় বসিয়ে দিলো সোনালীর গালে।

সোনালী গালে হাত দিয়ে ছলছল চোখে তাকালো,বাচ্চাটা দুজনের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে ড্যাব'ড্যাব করে।

আদাভান রেগে বললো--,,কি সব যা তা বলছিস?মাথা ঠিক আছে তোর?রাতের বেলা কোথা থেকে এসে হাজির হয়েছিস,কার পা"প আমার ঘাড়ে চাপাতে এসেছিস?তোর মতো মেয়েকে খুব ভালো করে চেনা আছে আমার!

সোনালী যেনো আটঘাট বেঁধে এসেছে, সে কেঁদে বলে উঠলো--,,তুই আমাদের সম্পর্ক কিভাবে অস্বীকার করতে পারিস?জানি আমি একটা ভুল করেছি, তোকে ছেড়ে চলে গেছি মানছি আমার অন্যায় হয়েছে কিন্তু যেদিন যেনেছি তোর সন্তান আমার পেটে সেদিনই তোর কাছে ফিরতে চেয়েছিলাম!

আদাভান বুকে দু হাত গুঁজে বললো--,,ওহ্!তাহলে আসিস নাই কেনো?এতো বছর পর কি মনে করে আসলি?আর কথা হলো তোর সাথে আমার সম্পর্ক কি আদোও এমন ছিলো যার জন্য একটা বাচ্চা আসার সম্ভবনা থাকতে পারে?কেনো এসেছিস আসল মতলব বলে বিদায় হ,একটা সত্যি কথা বলি তোকে এই মুহুর্তে দেখতে আমার শুধু ঘৃ'ণা হচ্ছে,সহানুভূতি তো দূর তোকে দেখার নূন্যতম ইচ্ছেও হচ্ছে না এখন!

সোনালী আদাভানের হাত চেপে ধরে বললো--,,আমাকে ফিরিয়ে দিস না এরিশ,আমি সত্যি বলছি তোকে, পিহু আমাদের দুজনের সন্তান, বিশ্বাস না হলে ডিএনএ টেস্ট করে দেখতে পারিস!

আদাভানের ভ্রু কুঁচকে গেলো আপনা-আপনি যে মেয়েটার হাত ব্যতিত কখনো জড়িয়ে ও ধরেনি সে মেয়ে এসে বলছে সে তার সন্তানের মা! আদাভান গম্ভীর হলো অনেকটা,তার চিন্তা হচ্ছে তৃধা কে নিয়ে, পাগ"লি টা কে সোনালীর বিষয়ে কিছু বলাও হয়নি আগে,কতোবড় ভুল করে বসে আছে সে,নিজেই মনে মনে বেশ বিরক্ত হলো আদাভান,তৃধা তাকে কতোটা বিশ্বাস করে, এখন কি হবে!

আদাভানের হৃদয়ে তীব্র ঝ"ড় উঠলো,তৃধাকে হারানোর ভয় আঁকড়ে ধরলো এই প্রথম!মেয়েটা ভুল বুঝে দূরে সরে যাবে না তো?

সোনালী আদাভান কে অন্যমনস্ক দেখে আরেকদফা জড়িয়ে ধরে বললো--,,তুমি বিশ্বাস করো আমায়, আমরা লাস্ট ইয়ারে ট্যুরে গিয়েছিলাম মনে নেই তোমার?তখনই তো ভুল বসত!

আদাভান এক ঝটকায় দূরে সরে বললো--,,একদম আমাকে ছোঁয়ার দুঃসাহস দেখাবি না,একজন ছাড়া অন্য কারো ছোঁয়া সহ্য হয় না আমার,তোর মতো নারীদের বিশ্বাস করার থেকে ভালো কাল'সাপ কে বিশ্বাস করা।তুই নিজেও ভালো করে জানিস আমি আমার লিমিট কোনো দিন ক্র'স করিনি,ইমোশনাল কথা বার্তা বলে আমার জীবনে অশান্তি করতে আসবি না,যা যেখান থেকে এসেছিস সেখানে ফিরে যা!ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেই এটা নিশ্চয়ই চাস না।

সোনালী ওড়নায় মুখ চেপে কেঁদে উঠলো, বাচ্চাটাকে কোলে তুলে নিয়ে আদাভানের পা জড়িয়ে ধরে বলে উঠলো--,,আমাকে তুমি ফিরিয়ে দিলে ম'রা ছাড়া আমার আর কোনো পথ খোলা থাকবে না,মেয়েকে নিয়ে কোথায় যাবো বলো,এতোদিন যে কিভাবে কে"টেছে আমার, তোমার কাছে আসতে চেয়েছিলাম ওইদিন,এসেও ছিলাম এসে জানতে পারি তুমি সেদিনই সবার সাথে সম্পর্ক ছি'ন্ন করে চলে গেছো,কতো খুঁজেছি তোমাকে আমি, বিশ্বাস করো আমি সত্যি তোমাকে আজও ভালোবাসি,তুমি ও তো আমাকে ভালোবাসো বলো বাসো না?

আদাভানের শক্তপোক্ত জবাব--,,তোকে ভালোবাসার মতো যে ভুল আমি করেছিলাম তার জন্য আজও আমি অনুতপ্ত, যে আমাকে নিঃস্বার্থ ভাবে ভালোবেসেছে, তার হ'ক নষ্ট করায় তার কাছে আমি ল"জ্জিত! তবে বর্তমানে তোর জন্য আমার মনের কোথাও কোনো কিছু নেই, আমার মন প্রা'ণ সব কিছুই এখন অন্য কারো!তোকে ভালোবাসি না আমি!

সোনালী আহ'ত চোখে তাকালো কোলের দিক তাকিয়ে দেখলো পিহু ঘুমিয়ে পড়েছে!আদাভানের হাত ধরে বললো--,,এরিশ,তুই শুধু আমাকে ভালোবাসতে পারিস তোর জীবনে দ্বিতীয় কোনো নারী আসতেই পারে না এটা আমি...!

সোনালী মাথা ঘুরে পড়তে নিলো,বাচ্চাটা পড়তে যাবে তখনই আদাভান বাধ্য হয়ে দুজনকে ধরলো,আদাভান পড়লো অথৈজলে, কি একটা উ"টকো ঝা'মেলা, কি করবে এখন!

সোনালী আদাভানের বাহু আঁকড়ে ধরে বললো--,,প্লিজ আমাকে যেতে বলিস না, তুই আমার শেষ ভরসা!

আদাভান ঘৃ"ণা ভরা দৃষ্টিতে তাকালো,উপায়ন্তর না পেয়ে ভিতরে নিয়ে গেলো দুজনকে।

টেনশনে টেনশনে মা'থা ফে'টে যাচ্ছে ওর!আদাভানের এখন নিজের কাছে নিজেকে ছোট মনে হচ্ছে,কি রকম একটা মেয়েকে ভালোবাসার মতো ভুল ও করেছিলো?কি করে একটা বাচ্চা নিয়ে হাজির হলো,যেখানে কোনো দিন খারা'প নজরেও তাকায়নি ওর দিকে সেখানে বাচ্চা!

আদাভান রাগে দেয়ালে ঘু'ষি মার'লো।সে জানে এই মেয়ে মিথ্যা বলছে,কিন্তু কেনো?

আদাভান রুমের বাহিরে এসে সোফায় বসলো,সোনালীর দিকে তাকিয়ে বললো--,,দেখ সোনালী কিছু কথা বলি,তুই একটা মেয়ে কেনো নিজের সম্মান এভাবে ন"ষ্ট করছিস?এর পেছনে কোনো কারন থাকলে আমায় বল তোকে আমি সাহায্য করবো,কিন্তু মিথ্যা অপ'বাদ দিবি না,যা আমি করিনি তুই ভালো করেই জানিস ম'রে গেলেও তা আমি স্বীকার করবো না!

সোনালী মাথা নিচু করে বসে আছে,চোখের জল ফেলে বললো--,,আমি মিথ্যা বলছি না এরিশ!

আদাভান রেগে বললো--,,তোর জন্য যদি আমার লাইফে আবার অশান্তি শুরু হয় না, একদম খু'ন করে ফেলবো তোকে আমি,একবার আমার জীবন টা ছাড় খাঁড় করে দিয়ে আস মিটেনি তোর?কি হলো ভ্যা ভ্যা করছিস কেনো?জবাব দে জবাব দে বলছি!

ভয়ে কেঁপে উঠলো সোনালী,তবুও এখান থেকে যেতে পারবে না,এরিশ কে চাই ওর যে কোনো মূল্যে!

সোনালী বেশ সুন্দর একটা মেয়ে,চেয়ারায় লাবন্য ভরপুর,যেকোনো ছেলে তার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হতে বাধ্য!তবে চরিত্র টা তার ততোটাই কলু"ষিত।

সোনালী অবাক হলো যে মানুষ টা তার সাথে সামান্য উচ্চ বাক্য পর্যন্ত করতো না,আজ কতোটা বা'জে ব্যবহার করছে,কিন্তু কেনো?ভালোবাসা ফুরিয়ে গেছে এতো সহজে!

আদাভানের ফোন বেজে উঠলো, আদাভান মোবাইল উঠিয়ে কানে ধরলো আদিবের কল এসেছে।

--,,ভাইয়া তৃধা বাসায় এসেছে?

আদাভান তপ্ত শ্বাস ছেড়ে বললো--,,এখনো আসেনি, চলে আসবে মনে হয় আমাকে ফোন করেছিলো বেশি সময় লাগবে না বললো, মেয়েটাও না এতো জে'দি কতো করে বলেছি নিতে যাই মানা করে দিলো।তুমি চিন্তা করো না আসলে আমি তোমাকে জানিয়ে দিবো!

আদিব ফোন কা'টলো,আদাভান ঘড়িতে সময় দেখলো এতোসময় লাগে আসতে?কতোদিন পর মেয়েটাকে দেখবে, তার মধ্যে আবার গলা'র কা'টা এসে হাজির!

সোনালী জিজ্ঞেস করে বসলো--,,কোন মেয়ে এরিশ?কার কথা বলছিলে তুমি?কাকে আনতে যেতে চাইছিলে তুমি!

আদাভান সোনালীর কথায় এক ফোঁটা ও পাত্তা দিলো না, কল করলো তৃধার নাম্বারে রিং হচ্ছে রিসিভ করছে না!

আদাভান সোনালীর দিকে তাকিয়ে বললো--,,তোর বাসা কোথায়?মানে কোথায় থাকিস!

সোনালী বলে উঠলো--,,তোর বাসাই তো আমার বাসা এরিশ,চল না আমাদের মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বিয়ে করে নেই আমরা!

আদাভান রাগে থরথর করে কাঁপছে, একটা বেহা'য়া মেয়ে মানুষ, বেহা"য়াপনার একটা সীমা থাকে,আদাভান রেগে বললো--,,বের হ আমার বাসা থেকে, না হয় আমি কি করবো তোর ধারনার ও বাহিরে,যার সাথে গিয়ে নষ্টা"মি করেছিস তার কাছে যা,আমাকে এরকম অসামা'জিক কাজে জড়ালে বেশি ভালো হবে না!

সোনালী বলে উঠলো--,,অনেক হয়েছে আদাভান,তুই যদি প্রমান করতে পারিস পিহু তোর সন্তান না তাহলে আমি চলে যাবো,কিন্তু তার আগে আমি এখানেই থাকবো, আমার সম্মান নিয়ে তুই খেলে'ছিস এখন বাচ্চার দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করছিস?তোরা পুরুষ মানুষ গুলা আসলে এমনই, সময় মতো ইউ'জ করে ছুঁড়ে ফেলে দিস,তবে এবার এমন কিচ্ছু হবে না,আমি আমার অধিকার নিয়ে তবেই ফিরবো!

সোনালী হেঁটে যাচ্ছে রুমের দিকে, আদাভান রেগে বললো--,,খবরদার আর এক পা ও আগাবি না,ওই রুমে তোর মতো মেয়ের প্রবেশ নিষে'ধ প্রমান চাই না তোর?আদাভান এরি'শ কা"পুরুষ নয় ভয়ে পালায় না সে,প্রমান তোর মুখের উপর ছুঁড়ে শুধু বাসা থেকে বের করবো না, একদম হাজ'তে ভরে দ'ম নিবো বলে রাখলাম!

সোনালী প্রথম রুমটায় ঢুকে পড়লো,আদাভান জোরে একটা লা'থি মার'লো টি টেবিল টায় মুহুর্তেই ভেঙ্গে চূড়"মার হয়ে গেলো সেটা!

----------

ঘড়িতে রাত এগারোটা নাদিম,তৃধা,নোভা,আভা,নিশি, রাদিফ এসে দাঁড়িয়েছে হোস্টেলের সামনে,আগে থেকে বলে রাখায় হোস্টেলে যেতে দিবে তাদের,নোভা বলে উঠলো--,,জানু আজ থেকে যা আমাদের সাথে।

আভা বলে উঠলো--,,আজ থেকে গেলে দুলাভাইয়ের কি হবে?বেচারা তো বউয়ের চিন্তায় শুকিয়ে যাচ্ছে দিন দিন।

তৃধা নাক মুখ কুঁচকে বললো--,,যা একটা মটু একটু শুকনা হলে ভালোই হয়!

নিশি বলে উঠলো--,,চিকন ছেলেগুলারে দেখলে গাঞ্জা"খোঁড় মনে হয়!স্যার তো হ্যান্ডসাম আছে একদম সুস্বাস্থ্যের অধিকারী।

নাদিম বলে উঠলো তৃধা চল তো তোকে বাসায় দিয়ে আমরা হোস্টেলে ফিরবো।

তৃধা ও বাকিদের বিদায় দিয়ে নাদিম,রাদিফ এর সাথে গেলো,বাসায় আজ সে কলিং বেল চেপে ঢুকবে না চাবি দিয়ে ঢুকে একেবারে আদাভান ব্যাটাকে চমকে দিবে।

তৃধা খুশি মনে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠলো,দরজা খুলে রুমে ঢুকলো সন্তোর্পনে।

লাগেজ টা রেখে এক ছুটে ঢুকে পড়লো ঘরে।লাইট জ্ব'লছে ঘরময়,তৃধা যেই না আদাভান বলে ডাকতে যাবে, তার কন্ঠনালি তে কথা আঁটকে গেলো,দুকদম পিছিয়ে গেলো আপনাআপনি, আদাভানের দিকে তাকালো কপালে হাত রেখে আধশোয়া হয়ে ঘুমিয়ে আছে।তার পাশে ঘুমিয়ে আছে এক রমনী,মেয়েটার সাদা ত্বক লাইটের আলোতে চক চক করছে,পাশেই বাচ্চা একটি মেয়ে,যে কেউ দেখলে নিঃসন্দেহে বলে দিবে তারা একটা পরিপূর্ণ পরিবার!তৃধা আদাভান কে বিশ্বাস করে,অনেক বলতে অনেক বিশ্বাস করে,দেখার ভুল হতে পারে তার,মন কে বুঝ দিতে ব্যস্ত হলো সে,ঠিক তখনই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটলো মেয়েটা আদাভানের বাহু জড়িয়ে ধরলো ঘুমের ঘোরে,তৃধার মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে দিলো,ভুল ঠিক চিন্তা করার শক্তি লোপ পেলো,মাথা ঘুরে উঠলো তার,বুকের ভিতরটা অসহ্য ব্যাথায় কুঁকড়ে উঠলো, এ কেমন মর'ণ যন্ত্র'ণা!

তৃধা চোখ বন্ধ করে ফেললো মস্তিষ্ক চিৎকার করে করে জানান দিলো--,,তোকে আদাভান ঠকিয়েছে তৃধা,তুই ঠ'কে গেছিস খুব বা'জে ভাবে!

তৃধা কাঁপা হাতে দরজার হাতল ধরলো শরীল খারা'প করছে তার,দুনিয়া টা কেমন যেনো ঘুরছে,তার জীবন কি এখানেই শেষ?পরমুহূর্তেই তৃধার মস্তিষ্ক জুড়ে খেলে গেলো তার মনে থাকা পুরুষদের প্রতি ক্ষো'ভ,সেই পুরনো স্মৃতি এসে হা'না দিলো মনে,যা এতোদিনে সে ভুলতে বসেছিলো!

তৃধা বসার ঘরে এসে ব্যাগ হাতরে বের করলো আংটির বক্স টা আংটির টার দিকে তাকিয়ে ওটা হাতের মুঠোয় পিষতে চাইলো,আংটিটার কিচ্ছু হলো না,উল্টো পাথরের খোঁচায় কে'টে গেলো তৃধার নরম হাত।চামড়া ছিলে র'ক্ত বেরিয়ে আসলো,তৃধা রক্ত'মাখা আংটি টি ছুঁড়ে মার'লো ময়লার ঝুড়িতে,নিজের দিকে তাকিয়ে তাচ্ছিল্যে করে বললো--,,তোর জন্য এসব নয়,তুই তৃধা কেনো যে মিথ্যা স্বপ্ন বুনছিলি,দেখলি তো কি হলো তোর সাথে!

তৃধা লাগেজ টা হাতের ভাজে নিয়ে বেরিয়ে পড়লো বাসা থেকে গন্তব্য অজানা,মন মস্তিষ্ক বি"ক্ষিপ্ত! চুল গুলো ছেড়ে দিয়েছে, এলোমেলো হয়ে গেলো মুহুর্তেই মেয়েটা।তৃধা মাঝরাস্তায় দাঁড়িয়ে এবার হু হু শব্দ করে কেঁদে দিলো,নিজেকে শক্ত রাখতে পারছে না আর,কেমন দ'ম বন্ধ দ'ম বন্ধ লাগছে তার,সব খারা'প কেনো তার সাথেই হতে হয়?যদি এসবই হওয়ার ছিলো তাহলে কেনো এতো নাটকীয়তা? আদাভান নিজ থেকে এসেছিলো ওর জীবনে নিজ থেকে সব কিছু করেছে সে,তৃধা চিৎকার করে বলে উঠলো--,,কেনো আদাভান কেনো?আমাকে দুর্বল করে দিলেন কেনো আপনি?কি ক্ষ'তি করেছি আমি আপনার!

হাঁটু মুড়ে বসে পড়লো রাস্তায়,চারদিকে কেমন শুনশান নীরবতা, তৃধা হাতের উল্টো পাশে চোখ মুছে হাঁটা ধরলো কাঙ্ক্ষিত জায়গায়,সেই একটা জায়গাই আছে যেখানে কোনো মিথ্যা নেই,যারাই আসে সবাই এক! দুঃখ ভুলাতে আসে,তার মতো ভগ্ন হৃদয়ের মানুষের আনাগোনা সেখানে,স্বার্থপ'র দুনিয়া ওই জায়টাকে নিষিদ্ধ বলে ঘোষ'না করে দিলো?কিন্তু কেনো?দুনিয়া কি জানে না হৃদয়ের পী'ড়ন কতোটা ব্যাথা দেয়, সবারই তো দুঃখ ভুলানোর অধিকার আছে তবে কেনো নিষি'দ্ধ করা হলো?সবাই তো দুঃখ দিতে চায় দুঃখ ভুলাতে কেনো চায় না!এ কেমন অসামঞ্জস্যতা,অবিচা'র?

-----------

রাতের শহরের কোলাহল থামতে শুরু করেছে, বড়''লোকের বি''গড়ে যাওয়া সন্তানদের দেখা মিললো তখন সনামধন্য ম''দের আড্ডায়!

সেই আড্ডায় এসে হাজির হলো এলোকেশী তৃধা।ওয়েটার কে এক প্রকার হুং"কার ছেড়ে ডেকে বললো--,,হুই"স্কি প্লিজ!

শুভ্র রঙা কুর্তি,জিন্স, গলায় ঝুলানো একটা ওড়না,ওড়নাটার এক পাশ ঝুলে মেঝেতে লুটোপুটি খাচ্ছে।মেয়েটার উজ্জ্বল শ্যামলা মুখশ্রী লালচে হয়ে আছে।চোখ দুটি হালকা লালচে দেখাচ্ছে,বি''ধ্বংসী রূপ নাকি হৃদয় ভাঙ্গার তীব্র যন্ত্র"ণা? ঠাওর করা যে বড্ড কঠিন!

মেয়েটার পাশ ঘেঁষে এসে একজন তাচ্ছিল্য করে বললো--,,পুঁচকে মেয়ে ক'ড়া ডো'জ সামলাতে পারবে তো?

মেয়েটা গগন কাঁপিয়ে হেসে উঠলো যেনো,পাশে থাকা ব্যক্তির দিক তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো--,,সন্দেহ থাকা ভালো তবে কাউকে শুরুতেই দু্র্বল মনে করাটা বোকামি!

সাদা শার্টের উপর কালো স্যুট পরিহিত যুবকটি এসে বললো--,,ম্যাম আপনার...!

--,,পুরো বোতল নিয়ে আসুন!

ওয়েটার ইতস্তত করে বললো--,, অনেক কস্টলি আপনি এফোর্ড করতে পারবেন না।

একটা ছেলে এসে বললো--,,ইয়াং লেডির জন্য ট্রিট না হয় আমিই দিলাম,ইউ নো টাকা আমার কাছে কোনো বিষয়ই না!

তৃধা গ"র্জে উঠে বললো--,,তৃধা তালুকদার কে টাকার গরম দেখাতে আসবেন না মিস্টার!এই রকম একশোটা বা'র কেনার মতো টাকা মাত্ররো আমার একটা কার্ডেই আছে!

চেচাঁমেচি তে বা'রের ম্যানেজার এসে হাজির হলো,তৃধা কে দেখেই মাথা নিচু করে বললো--,,ম্যাম আপনি?প্লিজ স্যার কে কিছু বলবেন না।ওয়েটার কে ধম'কে বললো ম্যাম কে এক্ষুনি যা চায় তাই দিয়ে দাও!

তৃধা আয়েশ করে চেয়ারে বসলো,তার ঠোঁট জুড়ে তাচ্ছিল্যের হাসি,পুরুষ মানুষ নাকি ভালোবাসা? কোন জিনিস টা আসলে নিকৃ"ষ্ট বুঝতে কেনো এতো সময় লাগছে!

তৃধা নিজের গালে কয়েকবার চ"ড় মার"লো,কি করে পারলো সে?এতো এতো বাস্তবতা জেনেও,একজন পুরুষের প্রেমে পড়তে,তাকে সবটুকু দিয়ো আহা"ম্মকের মতো ভালোবাসতে?যেখানে সে আগেই দেখেছে যে সবটুকু দিয়ে ভালোবাসে তার কপালে থাকে শুধু তু'চ্ছ, তাচ্ছি'ল্য, অবহেলা নয়তো ধোঁকা!

পর পর এক এক গ্লাস শেষ করেও ক্ষা'ন্ত হচ্ছে না তৃধা, নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে হো হো করে হেসে উঠলো,এখন তাকে দেখলে যে কেউ ব'দ্ধ উ'ন্মাদ বলবে।

তৃধা হাসতে হাসতেই এক সময় কেঁদে উঠলো বির বির করে বলে উঠলো--,,আমাকে কেনো ভালোবাসলেন না প্রফেসর!

তৃধা সত্যি বলছে সে আপনাকে ভীষণ রকম করে ভালোবেসেছে!

বিশ্বাস করুন আপনাকে অন্যের বক্ষপি''ঞ্জরায় দেখে তার হৃদয় টা ক্ষ'ত-বিক্ষ"ত হয়ে গেছে!আপনি তৃধার সব দুঃখের ভার নিতে নিতে কেনো এতো বড় নি''দারুণ যন্ত্র''ণা উপহার দিলেন?

আপনি চিনেন না তৃধা কে?মেয়েটা যে বড্ড বেশি উন্মা'দ,তার উষ্ণতা দেখেছেন,অল্প স্বল্প যত্ন দেখেছেন।আপনি কি তার জে'লাসির মাত্রা কখনো পরিমাপ করেছেন?তৃধা ভালোবাসতে জানে ঠিক তেমনই যে মানুষ টা অন্য কারো এক ফোঁটা ও হবে, শুধু বিন্দু পরিমান অন্য কারো দিকে হাত বাড়াবে, তাকে আর তৃধার চাই না!

তৃধার চাই না আপনাকে প্রফেসর।তৃধার মন আজ থেকে আপনার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলো তৃধা আপনাকে গোপনে সন্তর্পণে প্রত্যাখ্যান করলো!

ফোনের তীব্র আওয়াজে ঘুম ছুটে গেলো আদাভানের।নিজের পাশে ঘেঁষে সোনালী কে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে বিরক্তিতে মুখ দিয়ে চ শব্দটি বেরিয়ে আসলো,সোনালীর সাথে পাশেই ঘুমিয়ে আছে পিহু।

আদাভান রেগে দ্রুত উঠে গেলো,মেয়েটার কতোবড় সাহস তার ঘরে তার পাশে এসে ঘুমানোর মতো দুঃসাহস কি করে দেখালো!

হুট করেই সে সময়ের দিক তাকালো,তৃধার কথা মনে পড়তেই রাজ্যের চিন্তা এসে ভর করলো মাথায়।সে যে কখন ঘুমিয়ে পড়েছে বুঝতেই পারেনি।

দ্বিতীয় বারের মতো মোবাইলটা বেজে উঠতেই আদাভান রিসিভ করলো আন'নোন নাম্বার থেকে রাত দুটোর সময় কে কল করলো?

আদাভানের ভাবনার মাঝেই অপর প্রান্তের ব্যক্তি বলে উঠলো--,,আদাভান এরিশ বলছেন? সম্মানিত শিক্ষক মানুষ আপনি,আপনার ঘরের ব্যক্তিগত সম্মান এখন ম"দের ঠে'কে নিজের ইজ্জ'ত নিলাম করতে বসেছে!আপনার তো দেখছি কোনো খবরই নেই।

আদাভান গ'র্জে উঠে বললো--,,মাইন্ড ইউর ওয়ার্ড'স!

ফোনের অপর পাশের ব্যক্তি হেসে বললো--,,বিশ্বাস না হলে নিজে এসে দেখুন লোকেশন পাঠিয়ে দিচ্ছি!

আদাভান এলোমেলো শার্টের বোতাম লাগিয়ে ছুটলো গন্তব্যের উদ্দেশ্য।

তৃধা এখন নেশা'য় চূড় হয়ে বসে আছে,ঝাপসা লাগছে চারপাশ,হেলেদুলে বেরিয়ে যেতে নিলেই কেউ একজন এসে তৃধার ওড়না কে'ড়ে নিলো,তৃধা আঙুল উঁচিয়ে শাসিয়ে বললো--,, ডোন্ট টাচ মি ইডি'য়েট!

ছেলেটা তৃধা কে নানান ভাবে ছুঁয়ে দিতে চাইলো,মেয়েটা নিজেকে বাঁচাতে এদিক ওদিক হাটঁলো।এর মধ্যে কেউ এসে ছেলেটার হাত মুচড়ে ধরে বললো-,,না এর মানে নাই হয়।ও না করছে তার পর ও কেনো বিরক্ত করছিস?আশেপাশে কি মেয়ের অভাব পড়েছে!

তৃধা মানুষটার কড়া পারফিউমের গ্রান টা চিনতে ভুল করলো না,হেলেদুলে তার পেছনে গিয়ে দাড়িয়ে পড়লো।হাতের দিকে শার্ট খামচে ধরে চুপ করে পিঠের সাথে সেঁটে রইলো!

ছেলেটা উল্টো বিরক্ত হয়ে বললো--,,তোর যা আছে আমারও তো তাই আছে,তোর কাছে যদি যেতে পারে আমার কাছে আসতে কি সমস্যা? ছেলে হলেই তো হয়!

আদাভানের রাগে গা হাত পা কাঁপছে মেয়েটা নিজেকে কোথায় নামিয়েছে!খারা"প সব কিছুই তো ছেড়ে দিয়েছিলো তবে কেনো আবার আসার প্রয়োজন হলো ওর দিনেও তো কতোটা হাসিখুশি ছিলো আর এখন!

আদাভানের পেছন থেকে তৃধা কে টেনে নিতে চাইলো ছেলেটা,আদাভান রাগ আর সামলাতে পারলো না,লাগিয়ে দিলো কয়েকটা!

ছেলেটা তেড়ে এসে বললো--,,তুই মেয়েটার হয়ে এসব কেনো করছিস,ওকে আমার হাতে তুলে দে না হয় প্রা'ণে বেঁচে ফিরতে পারবি না!

আদাভান রাগে হিসহিসিয়ে ছেলেটার কলার চেপে ধরে বললো--,,সী ইজ মাই ওয়াইফ বাস্টা"র্ড!আর একবার ও যদি ওর দিকে চোখ তুলে তাকানোর মতো ভুল করিস, ওই চোখ তু"লে নিবো আমি তোর।

এর মধ্যেই তৃধা নে"শা তুর কন্ঠে ডেকে উঠলো--,,প্রফেসর!আই জাস্ট হেইট ইউ।

আদাভানের হাত থমকে গেলো,ম্যানেজার এসে ওই ছেলেটিকে সরিয়ে নিয়ে গেলো সোর"গোল দেখে বাকি ছেলে মেয়েরাও সেখান থেকে সরে পড়লো।

বা"রের ম্যানেজার বা"রের মালিক আজাদ তালুকদার কে ফোন করলো তিনি কিছু একটা বলতেই ওই ছেলেটা কে সাথে করে নিয়ে চলে গেলো দুজন লোক।

আদাভান তাকিয়ে আছে এলোমেলো তৃধার দিকে, মেয়েটা বার বার পড়ে যাচ্ছে কিন্তু আদাভান ধরতে আসলেই দূরে সরে গিয়ে বলছে --,,ডোন্ট টা'চ মি। আপনার ওই হাতে আমাকে স্পর্শ করবেন না!

আদাভান তৃধার দু গাল আলতো চেপে ধরে আদুরে কন্ঠে ডেকে উঠলো--,,প্রজাপতি!

তৃধার পূর্ণ দৃষ্টি আদাভানের দিকে,তৃধা টালমা"টাল চোখে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বললো--,,ভেবেই কষ্টে ভেতরটা আমার ফে'টে যাচ্ছে আদাভান।ওই চোখ জোড়ায় তাকিয়ে থাকার অধিকার আজ আমি হারিয়ে ফেলেছি!

আদাভান তৃধা কে জড়িয়ে ধরে বললো--,,কি হয়েছে তৃধা?এমন পা'গলামো কেনো করছো?বাসায় না গিয়ে এখানে কেনো এসেছো?

তৃধা নিজের শরীলের ভার ছেড়ে দিলো তখনই, আদাভানের হৃদপি"ন্ডের উঠানামা বাড়লো, নিজের বুকের উপর থেকে তৃধার মাথা তুলে দেখলো তৃধা জ্ঞান হারিয়েছে,তৃধাতে দ্রুত কোলে তুলে নিলো সে,গাড়িতে নিজের পাশে সিটে বসিয়ে দিলো।

কি থেকে কি হয়ে গেলো?আদাভান স্টিয়ারিং এর উপর কপাল ঠেকিয়ে বললো--,,তোমার কষ্ট,ব্যাথিত নয়ন আমাকে যে পুড়ি"য়ে ছাড় খাঁড় করে দেয় মেয়ে,কেনো বিনা আগু'নে বার বার পুড়া'তে চাও আমাকে!

তোমার ভালোবাসার উত্তাপ সইতে সইতে বে'হাল দশা আমার, অবহেলা কি করে সইবো!

শেষ রাতে বাসায় ফিরলো আদাভান,তৃধাকে বিছানায় শুইয়ে দিলো মেয়েটার গায়ের পোশাক থেকে ম'দের উট"কো গন্ধ টা বড্ড পীড়া দিচ্ছে,আদাভান নিরুপায় আজ,এই অনুচিত কাজ টা তাকে করতেই হবে।

নিজেদের ঘর থেকে নিজের একটা শার্ট নিয়ে হাজির হলো, মেয়েলি পোশাকে বেশ ঝা'মেলা!

আদাভান তপ্ত শ্বাস ছেড়ে রুমের লাইট অফ করে দিলো বাথরুমে গিয়ে মগ ভর্তি পানি নিয়ে আসলো,অন্ধকার আবছা আলো,তৃধা তার বিবাহিত স্ত্রী তবুও অনুমতি বিহীন কিছু করতে চায় না ও,নিজের চোখ ওড়না দিয়ে বেঁধে ফেললো শক্ত করে,তৃধার কানে কানে বলে উঠলো--,,স্যরি!

জামা টা পরিবর্তন করে নিজের শার্ট টা সুন্দর করে পরিয়ে দিলো চোখের বাঁধন খুলে, মুখ হাত পা সুন্দর করে মুছিয়ে দিলো।তৃধার চোখে পানির ঝাপটা দিলো, জ্ঞান ফিরে এসেছে তবে ঘুমের তোপে চোখ খোলা বড্ড দায়।তৃধা জড়ানো কন্ঠে বললো--,,আদা...ভান ঘু..মোতে দিন বলছি,না হয় আপনার চুল সব ক'টা....!

আদাভান হাসলো,মুগ্ধ চোখে দেখলো তৃধা কে আদাভানের শার্ট মেয়েটার গায়ে একেবারে পাঞ্জাবি হয়ে গেছে,এতো রোগা-সোগা মানুষ হলে চলে?এই মেয়েকে এখন থেকে বেশি করে খাওয়াতে হবে,অনেক অনিয়ম করছে!

আদাভান তৃধার কপালে গভীর চুম্বন করলো। চোখ বন্ধ করে বললো--,,আমাকে ভুল বুঝো না প্লিজ,তোমার বির'হে আমি ম'রেও যেতে পারি!

-----------------

শক্তপোক্ত কিছু একটা নিজের উপর অনুভব করেই তৃধার ঘুম ভাঙ্গলো,এটা তো রোজকার নিয়ম যেদিনই এই খাটা"শ লোকের সাথে সে ঘুমায় সেদিন সকালের কাহিনি এরকমই হয়,আদাভান তৃধাতে পেঁচিয়ে ধরে ঘুমায় ঘুম থেকে উঠে বলে তার কোনো দোষ নেই,নে নিতান্তই ভদ্রলোক, সব দোষ ঘুমের,হাত পায়ের!

তবে প্রতিদিনকার মতো তৃধার খুশি খুশি লাগলো না, আদাভানের ছোঁয়ায় আজ মুগ্ধ হতে পারলো না,তৃধা নড়েচড়ে উঠতেই,আদাভান ঘুম জড়ানো কন্ঠে বললো--,,আর একটু ঘুমাই না,এমন নড়চড় করছো কেনো?

তৃধা চুপ করে রইলো অন্যদিনের মতো ঝ"গড়া শুরু করলো না,আদাভান তড়িৎ গতিতে চোখ খুললো,তৃধা শুয়ে আছে,কিছু বলছে না প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে না!

আদাভান তৃধা কে ডেকে বললো--,,ক্ষুধা লেগেছে?

তৃধার কি যেনো হলো সে আদাভান কে জড়িয়ে ধরে বললো--,,আপনাকে একটা বড়সড় শা'স্তি দিতেই হবে দেখছি!আগেই বলেছিলাম বিশ্বাসঘা'তক দের আমি অপছন্দ করি।

তৃধা দ্রুত উঠে গিয়ে দাঁড়ালো, আদাভান ও উঠলো দ্রুত বলে উঠলো--,,এই মেয়ে কি করেছি আমি,কিসের শা'স্তি?

এমনিতে কি কম জ্বা'লাও?রাতে ওখানে কেনো গিয়েছিলে?

তৃধা আয়নার পাশে দাড়িয়ে বললো--,,জ্বালা"নো ছেড়ে দিলে খুশি হবেন?আজকের পর আর জ্বা'লাবো না!

আদাভান এগিয়ে এসে যেই না কিছু বলতে যাবে,তৃধা আয়নার দিকে তাকিয়ে দিলো এক চিৎকার।

তৃধা ভয়া"র্ত চোখে নিজের দিকে তাকিয়ে আছে,মনে করার চেষ্টা করলো,কাল রাতের কথা তো কিছুই মনে নেই,উল্টো পাল্টা কিছু হয়ে যায়নি তো!

আদাভানের দিকে তাকাতেই আদাভান গম্ভীর কন্ঠে বললো--,,যা ভাবছো তাই,আসলে তুমি এতোটা বেপ"রোয়া হয়ে যাবে কে জানতো?আমি ও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি!

তৃধা চোখ বড় বড় করে তাকালো,এবার বাচ্চাদের মতো শব্দ করে কেঁদে উঠলো আদাভানের কলার চেপে ধরে বললো--,, কেনো এমনটা করেছেন আপনি?কেনো এমন করেছেন আমার সাথে,আমার এখন কি হবে?

তৃধা আদাভানের কলার ছেড়ে বিছানায় বসে হাত পা ছুঁড়ে কান্নাকাটি জুড়ে দিলো!

আদাভান হাসি চেপে রেখে গম্ভীর কন্ঠে বললো--,,তুমি আমার বিয়ে করার বউ,সম্পূর্ণ দেনমোহর পরিশোধ করেছি,তোমাকে ছোঁয়ার সম্পূর্ণ অধিকার আমার আছে!

তৃধা চোখ পাকিয়ে বললো--,,তাই বলে অনুমতি নিবেন না আপনি?

--,,তুমি নিজেই তো সব করেছো,অনুমতি কি বাদ রেখেছিলে?

তৃধা নিজের কান চেপে ধরে বললো--,,এটা হতে পারে না!এই মুহুর্তে তো আরো আগে অসম্ভব।

তৃধার চিল্লা"চিল্লি তে সজাগ হয়ে গেলো সোনালী মেয়ে মানুষের কন্ঠস্বর শুনে কৌতুহল নিয়ে এগিয়ে আসলো।দরজা ভেতর থেকে বন্ধ,কি হচ্ছে ভেতরে কি করে জানবে এখন?

তৃধা গাল ফুলিয়ে বসে আছে,আদাভান তার সামনে গালে হাত রেখে বসে পড়লো--,,হাও কিউট ইউ আর!

তৃধা থমথমে কন্ঠে বললো--,,আমি হোস্টেলে ফিরে যাচ্ছি আজই, কেনো যাবো,এখানে কি সমস্যা এই প্রশ্ন করবেন না আপনি আমাকে,উত্তর দিতে বাধ্য নই আমি!

আদাভান থমকালো,তারপর কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে নিজের দু হাত বাড়িয়ে দিলো তৃধার দিকে,তৃধা আদাভানের গলা জড়িয়ে ধরে বললো--,,আজকের দিন টা আমার নামে উৎসর্গ করে দিন প্রফেসর!তার পর সারাজীবনের জন্য মুক্তি দিয়ে চলে যাবো,কথা দিচ্ছি বাঁধা হয়ে দাঁড়াবো না।

আদাভানের হৃদ"পিণ্ড কেঁপে উঠলো--,,মুক্তি!কেনো কঠিন কঠিন কথাগুলো এতো সহজে বলে ফেলে এই নির্দ"য় মেয়েটা?

তৃধা আবার বললো---,,শুধুই আমার, মনে যেনো থাকে,আশেপাশে তাকানো নিষেধ সম্পূর্ণ মনোযোগ শুধু আমার দিকে থাকবে আপনার।বুঝেছেন?

আদাভানের বুঝতে বাকি রইলো না কিছুই,তবুও সে নিরব রইলো তৃধাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো--,,লুকানো উচিত হয়নি আমার,আসলে এতোটা গুরুত্বপূর্ণ ছিলোই না বিষয়টা,কিন্তু কে জানতো এতটুকু অতীত আমার জীবনে সুচ হয়ে ঢুকে ফাল হয়ে বের হবে!

তৃধা নড়াচড়া করলো না,এই জিনিস টাকে এই লোক সামান্য মনে করছে?তৃধার হৃদয়ে যে রক্ত'ক্ষরন হচ্ছে, কষ্টে যে তার কলি"জা ফে'টে যাচ্ছে,নিজেকে তার পা'গল পা'গল লাগছে,আর উনি কিনা বলছে সামান্য?

তৃধাকে কোলে তুলে নিলো আদাভান দরজা খুলে রান্না ঘরের দিক ঢুকলো,কেবিনেটের উপর তৃধাকে বসিয়ে দিয়ে বললো---,,পছন্দের টোস্ট খাবে নাকি মেডাম?

তৃধা অন্য দিকে তাকিয়ে বললো--,, শা'লা তোর কলি'জা ভু'না করে খােবো!

আদাভান হাসলো,তৃধা দাঁতে দাঁত চেপে বললো--,,এই হাসি যদি চিরতরে বন্ধ না করি তো আমার নাম ও তৃধা না।

সোনালী দরজায় দাড়িয়ে বলে উঠলো---,, এই মেয়ে তুমি ওর হাসি বন্ধ করার কে?

তৃধা তাকিয়েও দেখলো না, যেনো কেউ নেই আশেপাশে, আদাভান একবার তৃধার দিকে আড়চোখে তাকালো,তৃধার চোখ বলে দিচ্ছে যদি কথার হের ফের হয় তো...

আদাভান ও কিছু বললো না খাবার তৈরি করে নিজ হাতে তৃধার মুখে ধরলো,তৃধা চুপচাপ খেয়ে নিলো,এখনো তৃধার গায়ে আদাভানের শার্ট জড়ানো,তৃধা কে আবার কোলে তুলে বসার ঘরে এনে বসালো আদাভান,সোনালী ঘরের দিকে তাকিয়ে দেখলো না এখনো পিহু ঘুমাচ্ছে,এই বাচ্চাটা না তাকে আবার ফাঁসি"য়ে দেয়।

তৃধা নিজের পা আদাভানের কোলে তুলে দিয়ে বললো--,,টি'পে দিন তো,গা হাত পা কেমন যেনো মেজমেজ করছে!

আদাভান সংকোচ বিহীন ভাবে তাই করলো,সোনালী হা হয়ে তাকিয়ে, আদাভান কে এই বাচ্চা মেয়েটা অর্ডার করছে?আর সে কিনা বিনাবাক্য সব শুনছে কে এই মেয়ে?

রাতে তো ছিলো না কোথা থেকে আসলো।

তৃধা আদাভানের পেটে মুখ গুঁজে কোলে শুয়ে পড়লো, দুহাতে কোমর জড়িয়ে ধরে বললো--,,আমাকে একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরুন প্লিজ, আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে আদাভান।আমি আর সহ্য করতে পারছি না,মনে হচ্ছে এই বুঝি ম'রে যাবো!

আদাভান জোড়ে এক ধমক দিয়ে বললো---,,আদর দিয়ে দিয়ে মাথায় তুলে ফেলেছি তো,যা মুখে আসে বলছে কখন থেকে,বেয়া'দব মেয়ে কোন সাহসে এগুলো বলো তুমি?

তৃধা সঙ্গে সঙ্গে আরেকটা ধমক' দিয়ে বললো--,,চোরে'র মায়ের আবার বড় গলা।আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিবেন না প্রফেসর,আমার জিনিস আমার না হলে তাকে কেটে-কুটে নদীতে ভাসিয়ে দিতে ও দুবার ভাববো না আমি!

সোনালী এবার তৃধার কাছে এসে তাকে আদাভানের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বললো--,,এই মেয়ে কে তুমি?বয়স কম তাও কিনা এসব করে বেড়াও?একটা ছেলের সাথে এসে একই ঘরে রাত কাটা"চ্ছো লজ্জা করে না,আবার আমাকে দেখিয়ে দেখিয়ে বেহায়া"পনা করছো!ন"ষ্টা মেয়ে মানুষ কোথাকার?

তৃধার গায়ের লোম দাঁড়িয়ে গেলো ঘৃ"ণায়, শেষ মেষ কিনা এসব শোনা লাগলো ওর?

আদাভান হুং"কার ছেড়ে বললো--,,তোর ওই নোং"রা জবা"ন দিয়ে যদি আমার স্ত্রীর নামে একটাএ আজে"বাজে কথা বলিস তো জি'ব কে'টে নিয়ে কু"ত্তা কে খাইয়ে দিবো।আশা করি তুই আমাকে ভালো করেই চিনিস!আমার পবিত্র ফুলকে শব্দের মাধ্যমেও কল"ঙ্কিত করা বরদাস্ত করবো না আমি,নিজের সীমা পার করবি না!

নৈঃশব্দ্যের প্রেমালাপ পর্ব ১৬ গল্পের ছবি