বৈরীতা ও অনুরক্তি

পর্ব - ৮

🟢

মাঝরাত্রিতে অয়ন ঘুমিয়ে পড়েছে নিশ্চিত হতেই নূপুর উঠেছিলো। অন্ধকার রুমেই শাড়ি বদলে থ্রি-পিস পড়ে নিজে শুয়েছিলো অয়নের পাশে। মাঝারি আকারের খাটটাতে দু'পাশে দু'জন ঘুমানোর পরও যথেষ্ট জায়গা বাকি ছিলো মাঝখানে। যার ফলে খুব একটা সমস্যা হলো না নূপুরের।

বিপত্তি বাঁধলো ভোরবেলায়। পাখিদের কিচির-মিচির, মোরগের ডাক, পথচলতি লোকজনের কথার শব্দ ও সূর্যের আলো। সব মিলিয়ে বেলা করার সুযোগ হলো না। ঘুম ভেঙে গেলো নূপুরেই। একটু একটু হুশে আসতেই নূপুর বিস্মিত হয়ে আবিষ্কার করলো, অয়ন ওকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে রেখেছে।

শক্ত হাতের বাঁধনে পড়ে দমবন্ধ লাগতে শুরু করলো তার। নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টায় ঘেমে-নেয়ে উঠলো। শেষমেশ মহাবিরক্ত হয়ে বলেই ফেলল,

-"আরে ভাই, এ মানুষ নাকি আরকিছু! নড়ে-চড়ে না কেন?"

কথাটা কানে ঢুকলো অয়নের। কোঁচকানো ভ্রু দেখেই সেটা নিশ্চিত হলো নূপুর। পরপর ডাক ছুড়লো কর্কশ কন্ঠে,

-"চেয়ারম্যান সাহেব, ছাড়ুন আমাকে। আমি মানুষ, কোনো কোলবালিশ নই।"

অয়ন শুনলো। তবে ছাড়লো না। উত্তর দিলো,

-"ঘুমাতে দিচ্ছো না কেন? রাতেও জ্বালিয়েছো, এখনও ভোরবেলাতেই শুরু হয়ে গেলে? তোমাকে বিয়ে করেছি কি আমার শান্তি কেড়ে নেওয়ার জন্য?"

নূপুরের মেজাজ চড়ে গেলো। দেহের সর্বশক্তি প্রয়োগ করে ধাক্কা দিলো অয়নকে। নিচে না পড়লেও অনেকটা দূরে সরানো গেলো তাকে। হকচকিয়ে উঠে বসলো অয়ন। 'চ' সূচক শব্দ করে বলল,

-"কি শুরু করলে তুমি?"

নূপুর রাগে কটমট করে বলল,

-"আপনার আগেই বুঝা উচিত ছিলো, আমাকে বিয়ে করলে আপনার সুখ, শান্তি, নিদ্রা সব হা*রাম হয়ে যাবে। এখন এসব ভেবে আর কি হবে? চোর পালানোর পর আর চোর ধরার বুদ্ধি করে লাভ কি?"

অয়ন উত্তর দিলো না। ভ্রু কুঁচকে চেয়ে রইলো নূপুরের দিকে। নূপুর তার দিকে তাকালোও না৷ বিছানা থেকে নেমে চুলগুলো খোপা করে পা বাড়ালো বাইরে যাওয়ার জন্য। অমনিই অয়ন খোঁচা মারলো,

-"আগে গোসলটা করে নিও, নেত্রী ম্যাডাম। কাল বাসররাত গিয়েছে আমাদের। লোকে খারাপ বলবে।"

নূপুর থমকালো। এমনভাবে ঘুরে তাকালো, অয়ন নিজেই ভড়কে গেলো। বুঝার চেষ্টা করলো, নূপুর লজ্জা পেয়েছে কি-না? অয়নকে ভুল প্রমাণ করে নূপুর বলে ফেলল,

-"ইশ! আপনার জন্য আফসোস লাগছে চেয়ারম্যান সাহেব। বিয়ের পরও অবিবাহিতের জীবন কাটাতে হবে।"

অয়ন বিস্মিত হলো। সে ভালো করেই জানে, নূপুরকে এত সহজে মানাতে পারবে না। আবার নূপুরের অনুমতিবিহীন তাকে ছোঁয়ার মতো কাপুরুষও সে নয়। কিন্তু এ কথা নূপুর নিজ মুখে বলবে, তা ভাবে নি।

এখন সুযোগ পেতেই জিজ্ঞেস করলো,

-"কতদিন?"

নূপুরের অধরকোণে সূক্ষ্ম হাসি দেখা দিলো। উত্তর দিলো,

-"দশবছর। যতগুলো বছর আমাকে অপেক্ষা করিয়েছেন, অতগুলো বছর না হয় আমিও আপনাকে অপেক্ষা করাই।"

হেসে উঠলো অয়ন। বলল,

-"সেটা তুমি পারবে না, নেত্রী ম্যাডাম।"

-"কেন পারবো না?"

-"না চাইতেও তুমি একটু আগেই পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছো, তুমি আমাকে ভালোবাসো। ভালোবাসো বলেই অপেক্ষা করেছো। নিজের ভালোবাসা আড়াল করে কতদিন আমার থেকে দূরে থাকবে? খুব বেশিদিন না নিশ্চয়ই?"

নূপুর উত্তর দিলো না। মুচকি হাসলো স্রেফ। অতঃপর দ্রুতগতিতে বের হয়ে গেলো ঘর থেকে।

গল্পের বাহার এর গল্প (বৈরিতা ও অনুরক্তি) লেখিকা তিয়াশা চৌধুরী

-"কি ধুরন্ধর লোক রে, বাবা! আমার কথাতে কত সুন্দর আমাকেই ফাঁসিয়ে দিলো!"

বিড়বিড়িয়ে নিজের মনে কথাগুলো বলতে বলতে বেরিয়ে এলো নূপুর। খোলা উঠোনে শাশুড়ীকে দেখামাত্র ঘোমটা দিলো মাথায়৷ রাশিদা নূপুরের উপস্থিতি টের পাওয়ামাত্র তার দিকে এগিয়ে এলেন। হাসিমুখে বললেন,

-"উঠে গেছো তুমি? আচ্ছা আগে গিয়ে গোসলটা করে আসো।"

নূপুরের হাসিটা আসতে না আসতেই মিলিয়ে গেলো। অজান্তেই মুখ থেকে বেরিয়ে এলো,

-"গোসল? কিন্তু..."

সৎবিৎ ফিরতেই নূপুরের পুরো কথাটা বলা হলো না আর রাশিদাও শোনার প্রয়োজনবোধ করলেন না। নিজের মতো বলে গেলেন,

-"সকালের নাস্তাটা আমি বানিয়ে নিবো। তুমি গোসল সেরে এরপর এসো, কেমন?"

নূপুর ভীষণ অপ্রস্তুত হয়ে পড়লো। রাশিদা বেগম ততক্ষণে চলে গেছেন রান্নাঘরে। দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো নূপুরের। অয়নের কথা মনে করে বলল,

-"উনি ঠিকই বলছিলেন!"

খানিকবাদেই নূপুর আবারও ঘরে ঢুকলো। অয়ন তখন বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে আছে। সে পা টিপে টিপে ভেতরে ঢুকে ব্যাগ থেকে একটা সুতির শাড়ি বের করলো। এরপর পা টিপে টিপে চোরের মতোই চলে গেলো বাইরে।

শাশুড়ীর আদেশমতো গোসল সেরেই রান্নাঘরে ঢুকলো নূপুর। কলাপাতা রঙের শাড়ি পড়েছে সে। অয়নের সাথে সারাক্ষণ খুঁটিনাটি লেগে থাকলেও শাশুড়ীর সামনে পুরোদস্তুর ভদ্র। সুন্দরমতো এসে একটা পিড়ি টেনে বসে পড়লো। নরম সুরে বলল,

-"আন্টি, কোনো সাহায্য লাগলে বলুন। আমি করে দেই।"

হা-হুতাশ করে উঠলেন রাশিদা। বললেন,

-"এ কি বলছো তুমি? আমার একটামাত্র ছেলের বউ। মা বলে ডাকবে আমায়। আন্টি বলছো কেন?"

নূপুর প্রথমে নিজের ভুলটা বুঝতে পারে নি। পুরো কথাটা শুনেই লজ্জিত ভঙ্গিতে মাথা নুইয়ে হাসলো। বলল,

-"দুঃখিত, মা। আগের অভ্যাসবশত ভুল করে বেরিয়ে গেছে।"

-"আগের অভ্যাসটা ছাড়ো এইবার। মা বলেই ডাকতে হবে কিন্তু!"

নূপুর সম্মতির সুরে মাথা নাড়লো। ব্যস্ত হলো শাশুড়ীকে সাহায্য করতে। এরমধ্যে অয়ন উঠলো, গোসল করে পাজামা-পাঞ্জাবি পড়ে সম্পূর্ণ পরিপাটি হয়ে নাস্তা খেতে বসলো।

পুরো পরিবার একসাথেই বসেছে নাস্তা খেতে। খাওয়ার মাঝে আফতাব বললেন,

-"সকাল সকাল নূপুরকে রান্নাঘরে দেখলাম যে? তুমি কি বিয়ের পরদিনই ওকে রান্না-বান্নার দায়িত্ব দিয়ে দিলে নাকি?"

রাশিদা মেকী রাগ দেখিয়ে বললেন,

-"আমাকে ওমন মনে হয় তোমার? একদিনেই সব বউয়ের ঘাড়ে চাপিয়ে দিবো?"

আফতাব থতমত খেয়ে বললেন,

-"আরে, ব্যাপারটা তেমন না। আমি তো শুধু জিজ্ঞেস করছিলাম।"

তখুনি নূপুর বলল,

-"না, বাবা। মা আমাকে কিছুই করতে দেয়নি। আমি ওখানে বসে বসে মায়ের সাথে কথা বলছিলাম।"

অয়ন এই বেলাও খোঁচা মারতে ছাড়লো না। বলল,

-"আব্বু, তুমি কি যে বলো না! খাবার মা রান্না করেছে। নূপুর কি তেমন রান্না-বান্না পারে নাকি? ও তো বহুদিন শহরে ছিলো। রান্না-বান্নার অভিজ্ঞতা ওর নেই।"

খাওয়া বন্ধ হলো নূপুরের। কটমট করে চাইল অয়নের দিকে। অয়ন পাত্তা দিলো না। নিজমনে ব্যস্ত রইলো খাওয়ায়। আফতাব ও রাশিদা পরিস্থিতিতে দেখে বহু কষ্টে হাসি চাপলেন।

অয়নের প্রতিক্রিয়া নূপুরের রাগ তড়তড়িতে বাড়িয়ে ফেলল। জেদের বশে ঘোষণা দেওয়ার মতো করে বলল,

-"মা, আজকে দুপুরের খাবার আমি রান্না করবো।"

অয়ন খাওয়া থামিয়ে হতাশার সাথে বলল,

-"সেরেছে! আজ বোধহয় আমাকে না খেয়েই কাটাতে হবে।"

নূপুরের উত্তর যেন তৈরীই ছিলো। বলে দিলো,

-"আর যাদের খেতে মন না চাইবে, তারা যেন বাইরে কোথাও থেকে খেয়ে নেয়।"

রাশিদা ছেলের উপর মহাবিরক্ত হয়ে তার গায়ে দু'টো থা*প্পড় বসালেন আলতো করে। বললেন,

-"ফাজিল ছেলে কোথাকার! খাওয়ার সময়টাতেও শান্তি নেই তোর, তাই না?

এই নূপুর, মা তুমি খাও তো। খাবারে মনোযোগ দাও। ওর কথা একদম শুনো না।"

নূপুর মুখটাকে অন্ধকার করে খাওয়ায় মনোযোগ দিলো। আস্তে করে বলল,

-"উনার কথা শুনতে আমার বয়েই গেছে!"

********

বেলা গড়াতেই আফতাব ক্ষেতের কাজের তদারকিতে গেলেন। আর অয়ন গেলো নিজের কাজে। বাড়িতে এখন রাশিদা ও নূপুর ছাড়া কেউ নেই।

মুরগি একটা আগেই কেটে রেখেছিলেন রাশিদা। রান্না বসাবেন বলে রান্নাঘরে ঢুকতেই নূপুরও এলো পিছুপিছু। বলল,

-"মা, বললাম না আজ আমি রান্না করবো?"

রাশিদা স্মিত হেসে উত্তর দিলেন,

-"তুমি বুঝি অয়নের কথা ধরে বসে আছো? সে তো ও এমনিই বলেছে। তোমার রান্না করতে হবে না।"

-"না, মা। উনি বলেছে আমি নাকি রান্না-বান্না পারিই না। তাই আমিও করে দেখিয়ে দিবো, পারি কি না?"

-"আচ্ছা, দেখিও। আমি রান্না করে দেই। তুমি বলে দিও, রান্নাটা তুমিই করেছো। ব্যস, ঝামেলা শেষ। ও তো আর এসে দেখছে না।"

-"না না। আমিই করবো।"

-"আহহা! প্রথমদিনেই এত ঝামেলা মাথায় নিতে হবে না, নূপুর। বড়দের কথা শুনতে হয়।"

নূপুর শুনলে তো? জোরাজুরি করে রাশিদাকে সরিয়ে নিজেই রান্না করতে বসলো। অল্প সময়ের মধ্যে রাশিদা লক্ষ্য করলেন, নূপুর খুবই দক্ষতার সাথে সবটা সামলাচ্ছে। কোনো আনাড়ীপনার ছাঁপ নেই।

রান্নার মাঝে রাশিদা নূপুরকে বললেন,

-"তুমি কি অয়নের কথায় কিছু মনে করেছো? ওর কথায় রাগ করো না কিন্তু! ছেলেটা আমার এমনই। ইচ্ছে করে তোমাকে রা*গাতে খুব পছন্দ করে ও। এজন্যই এমন করে।"

নূপুর অবাক দৃষ্টিতে তাকালো। বিয়ের একদিনেই এমন কোনো কথা শুনাটা অনাকাঙ্ক্ষিত ছিলো তার জন্য। প্রশ্ন করলো,

-"রা*গাতে পছন্দ করে? মানে?"

রাশিদা হেসে ফেললেন। নূপুরের জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়েই বুঝে ফেললেন তার প্রশ্নগুলো। বললেন,

-"বিয়ের একদিনেই অয়নের এমন স্বভাবের কথা নিশ্চিত হচ্ছি কিভাবে, তাই ভাবছো তো? বিয়ে একদিনের হলেও চেনা-জানাটা কিন্তু একদিনের নয়। আর রইলো বাকি অয়নের কথা! আমার ছেলেকে আমি চিনি। ও তোমাকে যা কিছু বলে, রাগানোর জন্যই বলে। জানি না এতে কি মজা পায়!"

নূপুর রান্নার ফাঁকে শুনলো পুরোটা। মুহুর্তে মুহুর্তে বিস্মিত হচ্ছে রাশিদার কথা ভেবে। হুট করেই মাথায় ভাবনা এলো, অয়ন কি আগে থেকেই তার মাকে নূপুরের কথা বলে রেখেছে?

রাশিদা তখন পুরোনো দিনে ফিরে গেলেন। বলতে শুরু করলেন,

-"জানো, যখন প্রথম তোমাদের বিয়ের কথা বলি অয়ন কি বলেছিলো?"

নূপুর কৌতুহলী নজরে চাইলো। উতলা হলো সবকিছু জানতে। মনোযোগ দিতেই রাশিদা বললেন,

-"সে নাকি ওতটুক মেয়েকে সংসারের চিন্তা দিতে চায় না। তুমি তখন অনেক ছোট ছিলে কি না! এজন্য খুব ভাবতো তোমার কথা। বলতো, বাচ্চা মেয়েকে বিয়ে করলে বাল্যবিবাহের কে*স হয়ে যাবে। কতরকম কথা বলল। তারপর জানালো, দু'বছর পর বিয়ে করবে। কিন্তু তোমাকেই করবে!"

নূপুর হতভম্ব হয়ে চেয়ে রইলো। রাশিদা আবারও বললেন,

-"কিন্তু অয়ন যখন ফিরলো, তুমি তখন শহরে। এমন করেই বছরের পর বছর পার করে ফেললে দু'জনে।

আরে নূপুর, তরকারিটা হয়ে গেছে। নামিয়ে ফেলো।"

ঘোর কাটলো নূপুরের। ছেলের হয়ে মায়ের সহজ স্বীকারোক্তিটা রীতিমতো হৃদয় ছুঁয়ে গেলো তার। কথা-বার্তা রেখে রান্নায় ব্যস্ত হলেও মন পড়ে রইলো রাশিদার কথাগুলোতেই..!

*********

দুপুরবেলাতে বাড়ি ফিরলো বাপ-ছেলে। খাওয়ার সময় নূপুর খুব চালাকী করে অয়নের তরকারিটা আলাদা বাটিতে নিলো। রাশিদাকে এমনভাবে বুঝালো, যাতে ভদ্রমহিলার কোনো সন্দেহই রইলো না। নিশ্চিন্তমনে স্বামীকে খাবার বেড়ে দিচ্ছেন উনি।

নূপুর এসে অয়নের প্লেটের পাশে তরকারির বাটিটা রাখলো। অতঃপর বলল,

-"নিন। খেয়ে বলবেন কেমন লাগলো। আমি রেঁধেছি কিন্তু!"

নূপুরের মিষ্টি কথা এবারেও হজম হলো না অয়নের। চিন্তিত মুখে তাকালো মা-বাবার দিকে৷ ওদের মধ্যে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। তারা ব্যস্ত নিজেদের মতো। অয়নও ভয়ে ভয়ে তরকারিটা ঢাললো নিজের প্লেটে। ভাত মাখিয়ে মুখে দেয়ার আগেই আফতাব বললেন,

-"বাহ! রান্না খুব মজা হয়েছে, নূপুর।"

নূপুর উচ্ছ্বসিত হয়ে বলল,

-"সত্যি?"

আফতাব জবাবে বললেন,

-"তিন সত্যি। অনেক মজা হয়েছে। যে খাবে, ওরই মুখে লেগে থাকবে।"

বাবার কথায় একটু স্বস্তি পেলো অয়ন। সাহস করে খাবার মুখে দিতেই বুঝলো, কেন তার তরকারিটাই আলাদা বাটিতে দেয়া হয়েছে? খাবার না চিবিয়ে স্রেফ স্ট্যাচু হয়ে বসে আছে সে।

নূপুর অয়নের অবস্থা দেখে মিটিমিটি হাসছে। সে চালাকী করে অয়নের তরকারিতেই আলাদা করে শুকনো মরিচের গুড়ো মিশিয়ে দিয়েছিলো। যার দরুণ ঝালে অয়নের অবস্থা নাজেহাল হয়ে গেছে।

এদিকে মা-বাবা নূপুরের রান্নার ভূয়সী প্রশংসা করেই যাচ্ছে, অন্যদিকে অয়ন খাবার খেতেই পারছে না। আবার তাদের এত এত প্রশংসা শুনে কিছু বলতেও পারছে না। খাবার গিলতেও পারছে না, ফেলতেও পারছে না।

নূপুর আড়চোখে চেয়ে চেয়ে মজা উপভোগ করছে। সে ঠোঁট চেপে হেসে বলল,

-"কি হলো চেয়ারম্যান সাহেব? খাওয়া বন্ধ করে বসে আছেন কেন? খান। কম হলে বলুন, আমি আরও এনে দেই।"

আফতাবও পুত্রবধূর সাথে তাল মিলিয়ে বললেন,

-"হ্যাঁ অয়ন। খেয়ে বল, কেমন হলো। নূপুর কিন্তু আসলেই খুব ভালো রেঁধেছে।"

অয়ন আর থেমে থাকতে পারলো না। পাশেই উচ্ছিষ্ট রাখার একটা খালি প্লেট ছিলো। ওটাকে তুলে মুখের ভাতটুকু ফেলে দিলো। ঢকঢক করে দুই মগ পানি খেলো তারপর। ঝালে অতিষ্ঠ ছেলেটা হাঁপাতে হাঁপাতে বলল,

-"বাপ্রে! কি ঝাল দিয়েছো তুমি! আমার সাথে প্রতিশোধ নেয়া?"

আফতাব ও রাশিদা অবাক হয়ে চাইলেন। নূপুর নিষ্পাপ স্বরে বলল,

-"ঝাল কোথায় হয়েছে? সবাই তো খাচ্ছে। কারো ঝাল লাগল না, আপনারই লাগলো?"

অয়ন ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো। বলল,

-"না না, আমারও ঝাল লাগে নি। আচ্ছা, আসো তোমাকে খাইয়ে দেই। তুমিও বলো, কেমন লাগে?"

আঁতকে উঠে পিছিয়ে গেলো নূপুর। বলল,

-"না, না! আমি খাবো না। আপনারটা আপনিই খান।"

কে শুনে কার কথা। অয়ন হাতে খাবার তুলল। নূপুরকে খাইয়েই ছাড়বে। বিপদ টের পেয়েই নূপুর উঠে ছুট। পেছন পেছন অয়নও। আফতাব ও রাশিদা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন দু'জনের যাওয়ার পথে। কিয়ৎক্ষণ পরেই হেসে উঠলেন। রাশিদা বললেন,

-"এই দুটো পারেও!"

Story Cover