আজ থেকে দশ বছর আগেও সূর্যনগর গ্রাম অতটা উন্নত ছিলো না। তখনকার দিনে মেয়েদের সর্বোচ্চ সপ্তম বা অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়িয়ে বিয়ে দেয়া হতো। ব্যতিক্রম ছিলো নূপুর। গ্রামের বিদ্যালয় থেকেই দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ে পাশ করে বেরিয়েছিলো। বয়সটা তখন আঠারোও পেরোয় নি।
ষোলো বছরেই বিয়ে ঠিক হলো তার। গ্রামের এক গণ্যমান্য পরিবারের ছেলে অয়ন শেখের সাথে। অয়নেরই তখন কত বয়স? বাইশ-তেইশ সম্ভবত। পড়াশোনা চলছিলো শহরে। আচমকা খবর পেলো, তার বিয়ের কথা-বার্তা চলছে। তাও ষোড়শী এক কন্যার সাথে। ব্যাপারটা কোনোভাবেই হজম করতে পারলো না সে। মা-বাবাকে জানালো, মেয়ের আঠারো বছর হওয়ার আগে সে বিয়ে করবে না। আরও দু-তিন বছর যাক। অয়ন মাস্টার্স পরীক্ষাটা দিয়েই গ্রামে ফিরবে।
রাশিদা ও আফতাব ছেলেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু লাভ হয়নি। অয়ন তখন গ্রামে আসে নি।
অন্যদিকে নূপুরের তখন কেবল কিশোরীকাল। মুখে বলেছে ঠিকই, সে বিয়েতে রাজি না, আরও পড়াশোনা করতে চায়। রেহানা বুঝিয়েছেন, নূপুর বিয়ের পরও পড়াশোনা করতে পারবে। হালকা-পাতলা অসম্মতি থাকলেও তা বেশিক্ষণ টিকলো না। কিশোরী মনে খুব দ্রুতই অনুভূতিরা দানা বাঁধতে লাগলো। কিভাবে কিভাবে যেন না দেখে, না চিনেই মন দিয়ে বসলো অজানা এক পুরুষকে। নূপুরের মৌনতায় ছিলো সম্মতির সুর।
কিন্তু তার সদ্য ডানা মেলা অনুভূতি বেশিদিন উড়তে পারলো না। তার আগেই খবর এলো অয়ন এই মুহুর্তে বিয়ে করতে রাজি না। নূপুরের অবুঝ মন অয়নের পুরো কথা শুনতেও চাইলো না, বুঝতেও চাইলো না। অভিমান করে বসলো অয়নের উপর। ভেবে নিলো, অয়ন তাকেই অপছন্দ করেছে। উপেক্ষা করেছে।
নূপুরের মা-বাবা দু'বছর পরে বিয়ের কথাটা মেনে নিলেন। কিন্তু নূপুর? সে জেদ ধরলো, বিয়ে করবেই না। শহরে যাবে, আরও পড়াশোনা করবে। এসব ব্যাপারে রেহানাকে বললে ডাল গলবে না, জানা কথা। তাই বাবাকেই ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করলো নূপুর। নেওয়াজ গলে গেলেন দ্রুত। মেয়ের স্বপ্ন পূরণের ওয়াদা করলেন। শহরে অবস্থানরত নিজের শালিকার সাথে কথা বলে নূপুরের কলেজে ভর্তি হওয়ার ব্যাপারে আলাপ সেরে নিলেন।
নূপুর শহরে চলে গেলো। ভর্তি হলে কলেজে। এইচএসসি পাস করে ভার্সিটির এডমিশন টেস্ট দিলো। ততদিনে অয়নের পড়াশোনা শেষ হয়েছে। মা-বাবাকে দেয়া কথামতো গ্রামেও ফিরেছিলো সে। তবে তার হতে হতেও না হওয়া বউটা গ্রামে ফিরলো না। মা-বাবার ডাক উপেক্ষা করে গো ধরে বসে রইলো শহরে। অয়নের মুখদর্শন করতেও সে ইচ্ছুক নয়। এমনকি বিয়েও করবে না অয়নকে।
নূপুরের এহেন সিদ্ধান্ত শুনে বিস্মিত হয়েছিলো অয়ন। ভেবে পায়নি তার এত অভিমানের কারণ। কেবল তিনবছর অপেক্ষা করতে বলা? এটাই কি তার দোষ? একটা দোষেই কি চিরতরে হারাতে হবে নূপুরকে?
তবে সৃষ্টিকর্তার ভাবনা শুধুমাত্র তিনিই জানেন। সেই কালে ওদের দেখাও হলো না, বিয়েও হলো না। নূপুরের পড়াশোনা চলল খালার বাড়িতে থেকেই। অয়ন পুনরায় ফিরে গেলো শহরে। ছোটখাটো একটা বিজন্যাস দিলো প্রথমেই। এরপর সেটা ধীরে-ধীরে ডাল-পালা মেলতে লাগলো। বিস্তৃত হতে থাকলো দ্রুতগতিতে।
বিয়ে-শাদির চিন্তাও করেনি দু'জনের একজনও। প্রেম-ট্রেম তো আরও নয়। নূপুর যতই কঠোর থাকুক, তার কিশোরীবেলার প্রথম আবেগ সে ভুলেনি। আর না তো ভুলেছে অভিমান।
অয়নও জানে, কোনো এক কিশোরী তার উপর অভিমানে গাল ফুলিয়ে রেখেছে। শত অভিযোগ তুলে রেখেছে তার বিরুদ্ধে। এই অভিমান, অভিযোগ না মেটানো অব্দি শান্তি নেই। কিন্তু সে সুযোগ ধরা দিচ্ছে কই?
এরপর যখন দু'জনের দেখা হলো, সেটা নির্বাচনের মাঠ। বিরোধীপক্ষ হয়ে। একে-অপরের বিরোধীপক্ষ হওয়ায় তুমুল রেষারেষি চলল। এবারেও সুযোগ হলো না সুন্দরভাবে বোঝা-পড়া করে নেয়ার।
************
আগামীকালকেই বিয়ের কথা পাকাপাকি করে বাড়ি ফিরে এসেছেন নেওয়াজ ও রেহানা। সিদ্ধান্ত হয়েছে, স্বল্প আয়োজনে কালই নূপুর ও অয়নের বিয়ে দিবেন তারা। নূপুরকে ঘরের বউ করবেন ভেবে একটা টুকটুকে লাল জামদানী কিনেছিলেন। গোপনে সেটাই রেহানার হাতে তুলে দিয়েছেন। বলেছেন, কাল বিয়ের সময় যেন এই জামদানীই পড়ানো হয় নূপুরকে।
তাদের দশবছর আগের পরিকল্পনা হঠাৎ সফল হচ্ছে ভেবে সকলেই উচ্ছ্বসিত। তবে ছেলে-মেয়ের সামনে প্রকাশ করছেন না। ভাবখানা এমন ধরেছেন যেন সম্মানের জন্যই না চাইতেও এই বিয়েটা দিতে হচ্ছে।
অয়নদের বাড়িতে বসে অয়নের জন্যই নিজের পক্ষে সাফাই দিতে পারেনি নূপুর। অয়ন সব কথাই ঘুরিয়ে দিচ্ছিলো। বাড়ি ফিরতেই যেন নূপুরের হাতে সুযোগ ধরা দিলো। বাপকে গিয়ে বলল,
-"বাবা, আমি আসলেই চেয়ারম্যান নির্বাচনটা নিয়েই কথা বলতে গিয়েছিলাম। বিশ্বাস করো আমায়!"
নেওয়াজ মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,
-"জানি রে, মা। আমি তোকে চিনি। বিশ্বাস করি তোকে। কিন্তু সবাই তো আর করবে না। গ্রামবাসী তোদের নামে রটনা করবে।"
-"কিন্তু বাবা আমি তো নেকাব দিয়ে মুখ ঢেকে গিয়েছিলাম। কেউ তো আমার চেহারা দেখতেই পায় নি। তাহলে আমার ব্যাপারে কিভাবে বলবে?"
রেহানা তৎক্ষনাৎ ধমকে উঠলেন,
-"তোর আর কোনো বাহানা শুনছি না, নূপুর। গ্রামে একটা কথা জানা গেলে সেটা কিভাবে রঙ-চঙ মাখিয়ে রটনা হয় তুই জানিস না? মা-বাবার সম্মানের চিন্তা নেই? এখন এই বিয়েটা করতেই হবে।"
নূপুর প্রতিবাদ করতে চাইলো,
-"যে ছেলে দশবছর আগেই তাকে ফিরিয়ে দিলো, সে দশবছর পরে এসে কেন বিয়ে করবে?"
কিন্তু হলো না। মুখ ফুড়ে শব্দগুলো বের হলো না। বুঝে গেছে, এখন পালানোর সকল রাস্তা বন্ধ। অয়নকে বিয়ে করতে বাধ্য সে। এরপর? এরপর ঠিকই জবাবদিহিতা করতে হবে অয়নকে!
**********
কথা-বার্তা শেষে নূপুরের পরিবারকে বিদায় দেয়ার পর মিন্টুও বাড়ি চলে গেছে। রাশিদা বলে দিয়েছেন, মিন্টু যেন কাল সকাল সকাল এসে পড়ে। বিয়ে উপলক্ষে অনেক কাজ বাকি আছে। আপাতত কেবল দু'জনের আকদ পড়িয়ে বউ তুলে আনবেন। পরবর্তীতে বড় আয়োজন করে গ্রামবাসীকে দাওয়াত করবেন।
সবকিছু শেষ হওয়ার পরও অয়ন ঘুমাতে যাচ্ছে না। পিঠে দু'হাত গুজে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে। আফতাব এসে দাঁড়ালেন ছেলের পাশে। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,
-"সেই তো নূপুরকেই বিয়ে করছো। এই বিয়েটা দশবছর আগে করলে মেয়েটা তোমার উপর অত অভিমান করতো না।"
অয়ন ভ্রু কুঁচকে তাকালো বাবার দিকে। বলল,
-"আমি তো ওর ভালোর জন্যই বলেছিলাম। ও যে আমার উপর ফুলে থাকবে, তা কি আর জানি?"
-"মেয়ে মানুষ বলে কথা! দেখো এবার, কিভাবে বুঝাতে পারো ওকে।"
সঙ্গে সঙ্গে চিকন স্বরের চিৎকার ভেসে এলো পেছন থেকে। রাশিদা বলছেন,
-"এই! আপনি মেয়েমানুষ বলে কি বুঝাতে চাইলেন? মেয়ে মানুষ বলে আমরা বেশি বুঝি? কাল ছেলে বিয়ে দেবেন। বুড়ো বয়সে এসে বউয়ের দোষ চোখে পড়ছে আপনার?"
অয়ন ঠোঁট চেপে হাসলো। মুখ ঘুরিয়ে নিতেই আফতাব হতাশ দৃষ্টিতে তাকালেন ছেলের দিকে। বললেন,
-"দেখে নাও নমুনা। কাল থেকে তুমিও বুঝবে। আমি গেলাম।"
অয়ন দাঁড়িয়েই রইলো বারান্দায়। আফতাব স্ত্রীকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে ভেতরে নিয়ে গেলেন। অয়ন আরও দশমিনিট অব্দি বাইরেই ছিলো। এরপর নিজের রুমে গিয়েছে। আজকের রাতটা ঘুমিয়ে নেয়া উচিত। কে বলতে পারে, আগামীকাল বউ দশবছর অপেক্ষা করানোর অপরাধে যদি সারারাত কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখে?
**********
রাতটা যেন খুব তাড়াতাড়ি কেটে গেলো। হালকা শীতল আবহাওয়ায় নূপুরের বাড়ির আশ-পাশে রটে গেলো তার বিয়ের খবর। সকাল থেকেই প্রতিবেশীদের আনাগোনা হতে লাগলো। মেয়েকে স্কুলে দিয়েই ছুটে এসেছে লিপি। নূপুরের রুমে ঢুকেই হাঁপাতে হাঁপাতে বলল,
-"কি রে নূপুর? শুনলাম তোর নাকি আজ বিয়ে? কথা কি স...."
লিপি কথাটুক শেষ করতে পারলো না। বিছানায় তাকিয়ে লাল টুকটুকে জামদানি, গহনা ও অন্যান্য প্রসাধনী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা। হতভম্বতায় মুখে হাত পড়লো তার। অস্ফুটে উচ্চারণ করলো,
-"তার মানে আজকে সত্যিই তোর বিয়ে?"
নূপুরের মুখে এক ফোঁটা হাসি নেই। গুরুগম্ভীর ভাব ধরে বলল,
-"হু, যা শুনেছিস সত্যি শুনেছিস। এখন আমাকে একটু তৈরী হতে সাহায্য কর তো।"
লিপি এগিয়ে এসে জামদানীটা উল্টেপাল্টে দেখলো। কৌতুহলী হয়ে জানতে চাইলো,
-"তোর বর কে? কার সাথে বিয়ে হচ্ছে?"
নূপুর ঘোষণার মতো করে বলল,
-"অয়ন শেখ। আমাদের ইউনিয়নের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান।"
বিস্ময়ের আতিশয্যে লিপির চোয়াল ঝুলে পড়লো। চোখ দুটো বড়বড় করে বলল,
-"এহ? মজা করছিস নূপুর?"
-"না। যা বলছি সত্যিই বলছি। অয়ন শেখের সাথেই বিয়ে হচ্ছে আমার।"
লিপি যেন তবুও বিশ্বাস করতে পারছে না। ড্যাবড্যাব করে চেয়ে বলল,
-"কেমনে কি? মানে এক রাতে বিয়ে-শাদি পাকা হয়ে গেলো?"
নূপুর ধপ করে খাটের উপর বসে পড়লো। অবলীলায় বলল,
-"কোঁ*পাতে গিয়েছিলাম। কেস খেয়ে গেছি।"
লিপি দ্বিগুন বিস্মিত হয়ে বলল,
-"কো*পাতে গিয়েছিলি তুই?"
-"হ্যাঁ। কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য। মানুষের চোখে পড়ে গেছি। ওরা সব রাতারাতিই বিয়ে ঠিক করে ফেলল। আমার কোনো কথাই শুনলো না। আর ওই অয়ন শেখ? সবাইকে মিথ্যা বলেছে।"
লিপি কৌতুহলী হয়ে জানতে চাইলো,
-"কি বলেছে?"
-"বলেছে আমাদের নাকি প্রেম চলছে। নির্বাচনের পর সবাইকে জানিয়ে বিয়ে করবে। ঘরের লোকও নাচতে নাচতে উনার কথা বিশ্বাস করে নিয়েছে। আর মাঝ দিয়ে কেস খেলাম আমি। একে যে কি করতে মন চাচ্ছে!"
বিস্ময়াভাব ভুলে হেসে ফেলল লিপি। দাঁত কেলিয়ে বলল,
-"ভালোই তো হচ্ছে। তোর কিশোরীবেলার প্রেমকে বাস্তবেই পেয়ে যাচ্ছিস।"
নূপুর হুঙ্কার ছুড়লো একপ্রকার,
-"কিসের প্রেম-ট্রেম? অয়ন শেখের প্রেমে পড়বো আমি? আমি শুধু জিজ্ঞেস করবো, যেই মেয়েকে দশবছর আগে বিয়ে করতে চাইলো না তাকে এখন কেন বিয়ে করছে? অনেক জবাবদিহিতা বাকি আছে চেয়ারম্যান সাহেবের। চেয়ারম্যান বলে সবাই সম্মান দেখালে, ভয় পেলেই আমিও পাবো নাকি?"
লিপি মুচকি হেসে বলল,
-"উহু। চেয়ারম্যান হোক বা প্রধানমন্ত্রী, ঘরের বউয়ের সামনে সবাই ভেজা বেড়াল।"
তক্ষুনি ঘরে ঢুকলেন রেহানা। হা-হুতাশ করে বললেন,
-"তুই এখনো তৈরী হসনি? বরপক্ষ আসার পর হবি? এখনো শাড়িটা অব্দি পড়িস নি।
এই লিপি, ওকে একটু সাজিয়ে দাও তো। দ্রুত করো। বরপক্ষ আসার আগেই।"
বলেই ভীষণ ব্যস্ত ভঙ্গিতে চলে গেলেন তিনি। নূপুর প্রলম্বিত শ্বাস নিয়ে বলল,
-"বরপক্ষ আসার আগেই বউ সাজো। এরপর বসে থাকো পুতুলের মতো।"
লিপি দুষ্টামী করে বলল,
-"আর তোর বর এসে তোকে দেখে বলবে, পুরো একটা পুতুল বউ।"
নূপুর কর্কশ গলায় বলল,
-"বেশি সুন্দরভাবে সাজানোর দরকার নেই। যতটুক সাধারণ বউ সাজা যায়, ঠিক ততটুকুই সাধারণভাবে সাজাবি।"
অয়নের পরিবার বলতে গেলে তার মা-বাবা আর চাচা-চাচি এসেছে। সাথে সবসময় সাথে নিয়ে ঘোরা দুই একজন চ্যালা-প্যালা। মিন্টুর থাকা তো আবশ্যক। অয়নের বিয়ে নিয়ে বোধহয় ছেলেটা একটু বেশিই উৎফুল্ল।
বরপক্ষের আপ্যায়ণ হলো ভালোভাবেই। স্বল্প আয়োজনেও কোনোরূপ অভিযোগের সুযোগ রাখেন নি নেওয়াজ। একমাত্র মেয়ের বিয়ে বলে কথা!
বরপক্ষকে বসানো হলো এক ঘরে। আর নূপুর রয়েছে আরেকঘরে। টুকটুকে জামদানির উপর স্বর্ণের ভারী গহনা পড়েছে। মুখ ঢেকে রেখেছে লাল ওড়নার আড়ালে। তার রুমের দরজাও আটকানো। অয়ন দরজার আশে-পাশে ঘুরঘুর করে বউ দেখার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়েছে সেটা।
দুপুরদিকে খাওয়া-দাওয়ার আগেই হাজির হয়েছে কাজি। বিয়ে পড়ানোর বন্দোবস্ত শুরু হলো তখনই। প্রথমেই কনেকে কবুল বলতে বলা হলো। নূপুর অয়নের ধৈর্যের পরীক্ষা ভালোভাবেই নিলো। অন্য ঘরে অয়ন অধৈর্য হয়ে যাচ্ছে, আর এদিকে নূপুর সময় লাগিয়েই যাচ্ছে। অয়নের ধৈর্যের দফা-রফা করে তিন কবুল সম্পূর্ণ করলো সে। খবরটা কানে যেতেই স্বস্থির নিশ্বাস ফেলল অয়ন।
এবার কবুল বলার পালা এলো অয়নের। কাজী এসে বসলো তার পাশে। বয়স ভালোই হয়েছে তার। একটা শব্দ বলেন আর নিশ্বাস ছাড়েন। ফলাফল কবুল বলার আগের শিরোনামগুলো শেষ করতেই বিরাট সময় লেগে গেলো তার। আবার প্রত্যেক কবুল বলার আগে সময় নিবেন। অয়নের অত ধৈর্য হলো না। রীতিমতো বিরক্ত হয়ে পড়েছে সে। একবার কবুল বলতে বলা হলেই সে একনাগাড়ে বলে দিলো,
-"আলহামদুলিল্লাহ, কবুল, কবুল, কবুল।
বিবাহ সম্পূর্ণ হয়েছে।"
আফতাবের কাশি উঠে গেছে ছেলের কান্ডে। থতমত খেয়েছে ঘরে উপস্থিত সকলে। আমতা-আমতা করে পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্যত হলেন নেওয়াজ। গলা খ্যাঁকাড়ি দিয়ে বললেন,
-"বিয়ে সম্পূর্ণ হয়েছে। সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলো, মিষ্টিমুখ করো। আমি সবাইকে জানিয়ে আসি।"