বৈরীতা ও অনুরক্তি

পর্ব - ১

🟢

-"কোন দুঃখে যে মেয়েকে শহরে পড়াশোনা করতে পাঠিয়েছিলাম! বয়স পেরিয়ে গেলো, বিয়েটা অব্দি করলো না। আর এখন শখ লেগেছে হাসিনা, খালেদার মতো নেত্রী হবে। চেয়ারম্যান নির্বাচনে দাঁড়াবে। ও আমার খোদা!"

বলতে বলতে ঘনঘন কপাল চাপড়াচ্ছেন চল্লিশোর্ধ ভদ্রমহিলা রেহানা সিকদার। পারেন তো মেয়ের উপর রাগে-ক্ষোভে এখনই কেঁদে ফেলেন।

মেয়ে নূপুর সিকদারের এসব কান্নাকাটিতে পাত্তা নেই। কারণ সে জানে, মায়ের কান্না শুধুমাত্র ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইলের জন্য। তাই সেসব ভাবা বাদ দিয়ে তৈরী হচ্ছে নির্বাচনী প্রচারণায় যাওয়ার জন্য।

পুরোপুরি তৈরী হয়ে নূপুর নিজের মাকে উদ্দেশ্য করে বলল,

-"মা, তাহলে আমি যাচ্ছি।"

রেহানা চোখ মুছতে মুছতে বললেন,

-"সে তো আমি বললেও যাবি, না বললেও যাবি। তা অনুমতি নেয়ার কি আছে? শহরে পড়াশোনা করতে পাঠিয়েছিলাম এই দিন দেখার জন্য? এখনো বিয়ে করছিস না। লোকে নানান কথা বলে।"

নূপুর নিরুদ্বেগ স্বরে বলল,

-"বলুক। লোকের কথা দিয়ে আমি কি করবো? আমি তো করবো সমাজসেবা। চেয়ারম্যান হয়ে সবার সমস্যা সমাধান করবো।"

রেহানা আবার কপাল চাপড়ালেন। বললেন,

-"ওরে মেয়ে! চেয়ারম্যান হলেই কি সমাজসেবা করা যায়? চেয়ারম্যান বল, মেম্বার বল, সরকার বল সব জনগনের টাকাই জনগনের কাজে লাগায়। আর তুই পারবি ওদের থেকে আদায় করতে?"

নূপুর ভ্রু-দ্বয় কুঁচকে জবাব দিলো,

-"আদায় না করতে পারলে নেই। আব্বার টাকা আছে না? সেটাই খরচ করবো।"

ভদ্রমহিলা বিলাপ করে বলল,

-"হায় হায় রে! তুই চেয়ারম্যান হবি, বাপের টাকা বিলানোর জন্য?"

নূপুর উত্তর দিলো না। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বেরিয়ে গেলো রুম থেকে। ভীষণ তাড়া তার। প্রথমে নিজেদের পার্টিঅফিসে যাবে। এরপর নির্বাচনী প্রচারণায়।

উঠোন পেরিয়ে দরজা দিয়ে বের হওয়ার সময়েই দেখা হলো এক পাশের বাড়ির মহিলা সাবিনার সাথে। নূপুর শুধুমাত্র সালাম দিয়ে কুশল বিনিময় ছাড়াই ছুট লাগালো। তিনি তাকিয়ে তাকিয়ে কিছুক্ষণ নূপুরকে দেখলেন। অতঃপর ভেতরে ঢুকে দেখলেন নিচে বসে থাকা রেহানাকে।

হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলেন। রেহানার পাশে বসে ব্যস্ত হয়ে শুধালেন,

-"হইছে কি আপা? তুমি এমনে বইসা আছো ক্যান?"

-"আর বলো না গো! মেয়ের মাথায় ভূত চড়েছে চেয়ারম্যান হবে। ওকে আটকাই কিভাবে?"

-"বিয়া দিয়া দাও। জুয়ান বয়সে পোলা-মাইয়াগো এমন শখ চাপেই। বিয়া দিলেই সব ঠিকঠাক। আর চেয়ারম্যান হইতে চাইলেই কি হইবার পারবো? বিরোধী পক্ষে কে খাড়াইছে, দেখছো? আশ-পাশের গ্রামে অয়নের যেই চেনা-জানা। অয়নরেই ভোট দেবে সবাই।"

-"বিয়ের কথা কি আমি কম বলি? মেয়ে শুনলে তো? ও তো চলে নিজের মর্জিমতো।"

-"শহরের হাওয়া লাগছে। ওনে পড়তে পাঠাইছিলা ক্যা? শহরে পড়তে না পাঠাইয়া ওরে বিয়া দিয়া দিলে এতদিনে নাতি-নাতনীর মুখ দেইখা ফালাইতা।"

-"বাপই তো তাকে আহ্লাদ দিয়ে দিয়ে মাথায় চড়ায়। বিয়ে-শাদি যে কবে করবে, কে জানে?"

*********

নেওয়াজ সিকদার ও রেহানা সিকদারের ছোট্ট একটা পরিবার। তাদের পরিবার পূর্ব থেকেই বেশ স্বচ্ছল। রেহানা শহরের মেয়ে হওয়ার পরও গ্রামে এসে ঠিকই স্বামীর সাথে মানিয়ে সংসার করতে শিখেছে। টিনের ঘর, মাটির আঙিনা সবটাই আগলে নিয়েছিলো গৃহিনী হয়ে। এরপর এই টিনের ঘরের পরিবর্তন ঘটেছে। এখন শুধুমাত্র মাথার উপরের ছাদটা টিনের। এছাড়া পুরোটা সিমেন্ট ও ইটের কারসাজি। গাছ-পালা লাগিয়ে গোছানো আঙিনা। বাড়ির ভেতরেই বাথরুম, চাপকল সব বসিয়েছে। বলতে গেলে গ্রামের এক গণ্যমান্য ধনী পরিবার তাদের।

নেওয়াজ ও রেহানারই একমাত্র মেয়ে নূপুর সিকদার। স্বেচ্ছাচারী জীবন তার। নিজের ইচ্ছা, জেদ, মর্জির বাইরে কিছুই করবে না। বাবাও সবসময় সঙ্গ দিয়েছে তার। ফলাফল শহরে পড়তে পাঠানো হয়েছিলো তাকে। নামী-দামী ভার্সিটিতে পড়েছে আর থেকেছে খালার বাসায়। সম্পূর্ণ পড়াশোনা শেষ করে এক বছর চাকরীও করেছে। এরপর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচনের খবর পেয়েই চাকরী-বাকরী ছেড়ে মাথায় ভূত চড়েছে নির্বাচনে দাঁড়ানোর।

ইতিমধ্যে সময় পেরোতে পেরোতে নূপুরের বয়স সাতাশের কোঠায়। গ্রামের হিসেবে সেই বয়স অনেক বেশী। লোকের কথারও শেষ নেই। কিন্তু বাপ-মেয়ে সেসব কানেই নেয় না।

হাজারো কথা ভাবতে ভাবতে পার্টি অফিসের সামনে হাজির হলো নূপুর। তেমন কোনো শীতাতপনিয়ন্ত্রিত রুম নয়। সাধারণ একটা বড়সড় ঘরে সবার আড্ডা। মাথার উপরে চলছে দু'টো ফ্যান। নূপুর সেখানে ঢুকতেই হৈ-চৈ পড়ে গেলো। বিশ বছর বয়সী এক ছেলে বলল,

-"নূপুর আপু, কই ছিলে এতক্ষণ? দেরি করলে কেন? আমাদের নির্বাচনী প্রচারণায় দেরি হয়ে যাচ্ছে। জানো? গোপনসূত্রে খবর পেয়েছি, অয়ন শেখ ইতিমধ্যেই প্রচারণায় নেমে গেছে।"

শেষোক্ত কথাটা ঘোষণার মতো করে বলল সোহান। নূপুর তিক্ত স্বরে জবাব দিলো,

-"গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার কি আছে? অয়ন শেখ প্রচারণায় বের হলে খবর এমনি এমনিই কানে আসবে। এসেছে ভাব ছাড়তে!"

থতমত খেলো সোহান। নির্বাচনী প্রচারণার জন্য গ্রামেরই কয়েকটা ছেলে-মেয়ে জুটিয়ে রেখেছে তারা। সোহান তাদের মধ্যে একজন। সোজাসুজি ধমক খেয়ে ছেলেটা একটু দমে গিয়ে বলল,

-"আচ্ছা আপু, তাহলে আমরাও বের হই প্রচারণায়? একটা অটো ডাকি?"

-"বের হবো। আগে বল, স্লোগান রেডি?"

দাঁতে জিভ কাটলো সোহান। এই যাহ! উত্তেজনায় তো স্লোগানই তৈরী করা হয়নি। এখন নূপুর শুনলে নির্ঘাত ধমক দেবে। ঘাবড়ে গিয়ে সোহান আমতা-আমতা করে বলল,

-"রেডি আছে স্লোগান,

যদি চান উন্নয়ন,

নূপুর আপুকে ভোট দিন।"

যুক্তিহীন স্লোগানটা শোনামাত্রই নূপুর ক্ষিপ্ত আঁখিতে চাইলো। সোহান আবারও সাজিয়ে বলল,

-"উন্নয়ন চান যদি,

নূপুর আপুকে ভোট দিন জলদি জলদি।

এটা মিলেছে না আপু?"

নূপুর 'চ' সূচক শব্দ করে রাম ধমক ছুড়লো,

-"এসব কি বলছিস, বেয়াদব? স্লোগানের কোনো আগা-মাথা আছে? যা নয় তাই বলে যাচ্ছিস। এমন স্লোগান দিলে জনগণ ভোট নয়, পঁচা টমেটো দেবে।"

সোহান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

-"আসলে আপু...এক্সাইটমেন্টে স্লোগান বানাতে ভুলে গিয়েছিলাম।"

নূপুর কটমট করে বলল,

-"স্লোগান বানাতে ভুলে গিয়েছিলাম। আবার প্রচারণায় যাওয়ার জন্য ঠিকই লাফাচ্ছি।"

-'আচ্ছা আরেকটা মনে পড়েছে।

নূপুর আপুকে ভোট দিবে,

আমাদের গ্রামের উন্নতি হবে।"

নূপুর রেগে-মেগে চেঁচিয়ে বলল,

-"শাট আপ, সোহান! এসব ফাউল স্লোগান তোর কাছেই রাখ। স্লোগান হবে,

সমাজসেবার ব্রত হোক,

গ্রামের উন্নতি হোক।

উন্নত গ্রামের স্বপ্ন কার?

আমাদের নূপুর আপার।

ঠিক আছে এইবার?"

সোহান সহ বাকি আরও কয়জন হাততালি দিয়ে বলল,

-"বাহ আপু! আপনি তো আমাদের থেকেও ভালো পারেন। আমরা শুধু শুধুই ভাবছিলাম। আপনার স্লোগানটাই পারফেক্ট হয়েছে।"

-"থ্যাংকস। আর স্লোগানের সাথে এটাও বলিস আমি কি কি উন্নয়ন করতে চাই। সবাইকে এমনভাবে বলবি, যেন ওরা আমায় বিশ্বাস করতে পারে। এমনিতেই বিরোধীপক্ষে যেই লোক আছে! অয়ন শেখ যদি জিতে যায় , তাহলে আমার এমন পিন্ডি চটকাবে!

থাক, ওসব ভাবতে নেই। আমিই জিতবো। এক অয়ন শেখ ছাড়া আর কাউকেই পাত্তা দেয়ার মতো দেখছি না। সবগুলোই দুর্বল পার্টি। জনগণের আস্থায় নেই। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতাটা আমার আর অয়ন শেখের মধ্যেই!"

গল্পের বাহার এর গল্প (বৈরিতা ও অনুরক্তি) লেখিকা তিয়াশা চৌধুরী

আফতাব শেখ ও রাশিদা শেখের একমাত্র ছেলে অয়ন শেখ। তাদের পরিবারও নূপুরদের মতো বেশ স্বচ্ছল ও এলাকায় মান্যগণ্য। জমি-জমায় লোক লাগিয়ে চাষ করে তাদের বিপুল আয়। আবার অয়নের ব্যবসা শহরে। প্রত্যেক সপ্তাহে সপ্তাহে সে শহরে যায় এই ব্যবসার জন্য।

পড়াশোনা শেষে অনেকগুলো বছর ঢাকায় থেকে ব্যবসা দাঁড় করিয়েছে অয়ন শেখ। এরপর গ্রামে এসে থিতু হয়েছে দুই বছর যাবত। গ্রামের লোকেদের যখন-তখন বিপদে এই মানুষটাকে পাওয়া যাবে। এককথায় এখানকার জনপ্রিয় মুখ অয়ন শেখ। বয়স গিয়ে তেত্রিশে ঠেকলেও বিয়েটা এখন অব্দি করা হয়নি।

যেই অয়ন শেখ গ্রামের জনপ্রিয় মুখ, সে নির্বাচনে দাঁড়ালে গ্রামবাসী যে খুশিই হবে তা জানা কথা। অয়ন প্রচারণায় না বের হলেও অধিকাংশ ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা ছিলো। কিন্তু নির্বাচনের একটা অংশ এই প্রচারণা, তাই বাধ্য হয়েই বের হওয়া। তাও চুপচাপ শুধু দলের সঙ্গ দিচ্ছে। বাকিরা একাই স্লোগান দিচ্ছে।

যথেষ্ট শক্ত-পোক্ত পুরুষ সে। গায়ের রঙ উজ্জ্বল শ্যামলা। নির্বাচনের মাঠে ঘুরে ঘুরে গায়ের শুভ্র পাঞ্জাবীটা ঘামে ভিজে চুপচুপে হয়ে আছে৷ চেহারাটা দেখলে এক দফায় সুদর্শন আখ্যায়িত করা যায়। তার শান্ত মুখখানায় এখন চিন্তার ছাঁপ। ক্ষণে ক্ষণে নজর বুলাচ্ছে আশে-পাশে। এখনো দেখা নেই তার বিরোধীদলীয় নেত্রীর!

গ্রামের এখানটায় একটা বড়সড় চায়ের দোকান আছে। দোকানদারের নাম সবুজ মিয়া। যেহেতু চায়ের দোকানটা প্রবীণ ব্যক্তিদের রাজনৈতিক আলাপের স্থান, তাই যথার্থই প্রচুর ভীড় জমে এখানে।

স্লোগান দিতে দিতে ঠিক সেই দোকানের সামনে এসেই থেকে গেলো অয়নের পার্টির দুটো অটো, ও একটা ভ্যান।

কারণ একটাই। সামনে থেকে স্লোগান দিতে দিতে এগিয়ে আসছে নূপুরের পার্টির লোক। একই আয়োজন দুই পার্টির। নিজের বিপক্ষের মানুষটাকে দেখামাত্র রাগে কিড়মিড় করে উঠলো অয়ন ও নূপুর। অটো থেকে নেমে এসে দাঁড়ালো মুখোমুখি।

দুই দলের স্লোগান থেমে গেছে ততক্ষণে। প্রস্তুত হচ্ছে একটা তুমুল ঝগড়া দেখার। চায়ের দোকানের বেঞ্চিতে বসে থাকা লোকগুলোও উঠে এসেছে তাদের বিবাদ শুনতে। পথচারী কয়েকজন মহিলাও ভীড় জমিয়েছে। গত কয়েকদিনের অয়ন-নূপুরের রেষারেষিটা আর গোপন নেই।

কালো-সাদার মিশেলে একটা দারুণ শাড়ি গায়ে জড়িয়েছে নূপুর। অয়ন তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে পরখ করলো তাকে। সুস্পষ্ট স্বরে খোঁচা মারলো,

-"অটোতে না এসে পালকিতে আসতেন নূপুর ম্যাডাম। মেয়েদের সেখানেই মানায়।"

নূপুর কাঠ-কাঠ গলায় বলল,

-"নির্বাচনী প্রচারণায় এসেছেন নাকি অন্যের অবস্থান নিয়ে গবেষণা করতে? আমার যেখানে ইচ্ছা, আমি সেখানেই থাকবো।"

অয়ন স্মিত হাসলো। বলল,

-"আপনি চাইলে নির্বাচনের প্রচারণার মাঠটা আমি ছেড়ে দিতে পারি। কোনোপ্রকার প্রচারণা ছাড়াই জিতবো আমি।"

নূপুর প্রতিত্তোরে বলল,

-"বাহ! নিজের প্রতি অনেক আত্মবিশ্বাস আছে দেখি!"

-"আপনার থেকে একটু কম। হারবেন জেনেও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, এই আত্মবিশ্বাসটাই তো বেশি।"

-"নিজের প্রচারণা নিজে করুন, আমারটা আমায় করতে দিন। মাঝরাস্তায় ঝামেলা করবেন না।"

উৎসাহী জনতা তখনও তাকিয়ে দু'জনের দিকে। অয়ন দৃষ্টি তাদের দিকে ঘুরিয়ে বলতে শুরু করলো,

-"গ্রামবাসী, আপনারা আমাকে চিনেন, জানেন। আমার কাজই হলো বিপদে-আপদে আপনাদের পাশে থাকা। সে আপনারা আমাকে ভোট দিলেও করবো, না দিলেও করবো। কিন্তু ভোট দিলে, একটা পদ পেলে সমাজসেবা সহজই হবে। গ্রামের প্রত্যেকের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবো। নির্বাচনের পর আমি প্রথমেই এই ইউনিয়ন পরিষদের প্রত্যেক দুই-তিন বাড়ির মধ্যে টিউবওয়েল বসাবো। যেন গ্রামে আর পানির সমস্যা না হয়।"

জনগণ বুঝতে পারলো। একটু বাহবা ধ্বনি ভেসে আসতেই নূপুর উচ্চকণ্ঠে বলতে শুরু করলো,

-"গ্রামবাসী, উনি দুই-তিন বাড়ির জন্য একটা টিউবওয়েল বসাবেন। আর আমি প্রত্যেক বাড়িতে একটা করে টিউবওয়েল বসাবো। যদি আপনাদের সহায়তা পাই।"

জটলায় উপস্থিত মহিলামন্ডলী একটু আবেগাপ্লুত হলেন নূপুরের প্রতি। অয়ন সেই ফাঁকে বলে ফেলল,

-"আমি কার্যক্রম শুরু করবো দুই-তিন বাড়ির মাঝে টিউবওয়েল বসিয়ে। ধীরে-ধীরে অবশ্যই সব বাড়িতে দেবো। এটা নিয়ে জলঘোলা করার কি দরকার?"

জনতা আবার ফিরে গেলো অয়নের পক্ষে। সম্মতি দিতেই অয়ন বলল,

-"আমি আমাদের গ্রামের স্কুলটারও উন্নয়ন করবো। বাচ্চাদের জন্য ভালো ভালো শিক্ষক নিয়োগ করবো। ভাবুন, গ্রামের কত উন্নতি হবে!"

নূপুরের উত্তর যেন তৈরীই ছিলো,

-"বাচ্চাদের স্কুলের উন্নয়নের কথা আমিও ভেবে রেখেছি। আমি আরো ভেবেছি, অবসরে ওদের নিজে গিয়ে ক্লাস করাবো।"

-"সেই চেষ্টা আমারও থাকবে। গ্রামবাসীর সকল প্রকার উন্নয়নের চেষ্টা থাকবে আমার। আপনারা বিশ্বাস করেন না আমাকে?"

গ্রামবাসীর সমর্থনের ধ্বনিতে মহাবিরক্ত হলো নূপুর। ভেবে পাচ্ছে না, এই লোকটাকে এত এত তুলুতুলু করার যথাযোগ্য কারণ কি? অয়ন সবাইকে কিভাবে নিজের বশে রেখেছে, কে জানে? আস্ত এক বেয়াদব লোক!

নূপুর গাল ফুলিয়ে মুখ ঘুরিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। প্রচারণা চলল শুধু দলের৷ লিফলেট বিতরণ, উন্নতির আশ্বাস দেয়া সব করলো দলের লোক৷

লিফলেট হাতে হাতে দেওয়ার পর অধিকাংশ মানুষ চলে গেলো সেখান থেকে। দুই দলেরই লিফলেট সংগ্রহে রইলো তাদের। এরপর ফিরে গেলো নিজেদের কাজে। চায়ের দোকানে আলাপে ব্যস্ত থাকা মানুষগুলোও ফিরে গেলো বেঞ্চিতে।

কার্যক্রম শেষ হতেই দু'দলের ফিরে যাওয়ার সময়। নূপুর তখনও গাল ফুলিয়ে দাঁড়ানো অটোর সামনে। অয়ন ধীরগতিতে হেঁটে এলো তার কাছে। দু'হাত পেছনে গুজে ঝুঁকতে হলো খানিক। অতঃপর নূপুরকে বলল,

-"মিস বিরোধীদলীয় নেত্রী, চেয়ারম্যান নির্বাচনে তো দাঁড়ালেন। প্রাপ্তবয়স্কও হয়েছেন। তাও কিশোরীদের মতো গাল ফোলানোর স্বভাব গেলো না আপনার?"

Story Cover