কল কেটে গেছে অনেকক্ষণ হলো। বিপা এখনোও স্তম্ভিত হয়ে বসে আছে। যেন কিছুই বুঝতে পারছেনা। জুবায়েরও অবাক। ও একটু ভয়ে ভয়েই ডাকলো,
--- বিপা?
বিপা ফিরে তাকালো। ওর চোখের দৃষ্টিতে অদ্ভুৎ শূন্যতা। জুবায়েরের বুকে ভার লাগলো। এসব কি হচ্ছে তার সাথে! জীবনটা এত আনপ্রেডিক্টেবল লাগছে!
--- কি হয়েছে আমাকে বলবে, প্লিজ?
বিপার চোখ বুজলো; সঙ্গে সঙ্গেই একফোঁটা জল গড়ালো বাঁ চোখ থেকে। ধীর কণ্ঠে বললো,
--- নিপা। সাজিদের প্রেমিকার নাম নিপা রহমান। বিপা রহমানের অতি আদরের ছোটবোন। যে তাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবেসেছে!
--- কি বলছো এগুলো!
জুবায়েরের মুখ থেকেও কথা সরলো না। কিছু সময় নিস্তব্ধতায় কাটলো।
তারপর হঠাৎ বিপা হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করতেই হুশ ফিরলো ওর। ব্যাকুল হয়ে ডাকতে লাগলো,
--- এই বিপা! এই! কাঁদছ কেন? প্লিজ, কান্না থামাও। এই মেয়ে!
বিপার কান্নার বেগ বাড়লো,
--- কীভাবে থামাবো আমি কান্না, জুবায়ের! আমার যে সব কিছু শেষ হয়ে গেছে। আমার বিশ্বাস - আশা - ভরসা. . সবকিছু ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে! আমি কি করবো এখন! কি করবো বলতে পারো?
--- কিছুই করতে হবেনা তোমার। আমি আছি তো তোমার পাশে! এই দেখো আমাকে?
জুবায়েরের আকুল কণ্ঠ বিপাকে ভরসা দিলো। একপ্রকার ঝাঁপিয়েই পড়লো ওর বুকে। জুবায়ের দু'হাতে আগলে নিলো ওকে।
--- আমাদের জীবন খুব বিচিত্র, বিপা। আমরা ভাবতেও পারিনা, জীবনের প্রতি পরতে পরতে কি রয়েছে। এখন তুমি ভাবছ, জীবন থেমে গেছে, কিন্তু আসলে তা নয়। তুমি আবার ঘুরে দাঁড়াবে। আবার নতুন করে. .
--- কিচ্ছু নতুন করে শুরু হবেনা, জুবায়ের! কিচ্ছু না! আমার সব শেষ! যে বোনকে সবচেয়ে ভালোবেসেছি, সে আমাকে ধোঁকা দিয়েছে। আমারই স্বামীর সঙ্গে. .
বিপা কেঁদেই গেল। কাঁদতে কাঁদতে কতো কথা হলো। নিপার সাথে ওর ছোটবেলা কেমন মধুময় ছিল; কত ভালোবাসা ছিল দু'জনের! সেই নিপা কি করে ওকে পিছন থেকে ছুরি মারতে পারে? একবারও কি দ্বিধায় পড়েনি ও? ভুলেও একবার ভাবেনি বিপার কথা?
এরমধ্যেই জ্ঞান ফিরে এলো সাজিদের। হাত-পা বাঁধা দেখেই চেঁচামেচি শুরু করে দিলো অশ্রাব্য ভাষায়,
--- খা** ** আবার নিয়া আসছস ওরে? এখন আবার জড়ায়াও রাখছস! খোল আমার বাঁধন, খোল মা*!
আচমকা গালাগালে দুজনেই ফিরে তাকালো। জুবায়ের মোটামুটি হতভম্ব হয়ে গেল কথাগুলো শুনে! বিপার হঠাৎ কি হলো কে জানে, ছুটে গিয়ে হামলে পড়ল সাজিদের উপর। কলার ধরে ঝাঁকাতে লাগলো,
--- হারামির বাচ্চা! তুই আমার সাথে এমন কেন করলি? বল? কি কম ছিল আমার যে তুই আমার বোনের সাথে. .
সাজিদ কিছুক্ষণ চুপ করে তাকিয়ে রইলো। সম্ভবত বিপার কথার ভাবার্থ বুঝতে সময় লাগছে। পরক্ষণেই হাসলো। জঘন্য সে হাসি। ফিচেল কণ্ঠে বললো,
--- কি কম শুনতে চাও, বেবি?
--- বল, কুত্তা!
বিপা তীব্র রাগে চেঁচালো। জুবায়ের যেন পৈশাচিক আনন্দ পেয়েছে; গা দুলিয়ে হেসে উঠলো। বললো,
--- ভাইব, ফিগার, হটনেস! কিছুই তো নাই তোর। যে আমারে বশ রাখবি। আর নিপারে দেখ! ইয়াং; চিয়ার্ফুল! জিরো ফিগারের হট একটা মেয়ে। আর বিছানাতেও তোর চেয়ে শতগুণ. .
বাকি কথা ইশারায় বললো যেন। চোখ টিপ দিলো একটা। বিপার মাথায় রক্ত উঠে গেল। এলোপাথাড়ি ঘুষি মারতে লাগলো সাজিদের মুখে - বুকে। সাজিদ ওকে ক্ষেপিয়ে দিতে হাসতেই থাকলো পাগলের মতন। জুবায়ের ছুটে এলো থামাতে!
--- বিপা, থামো! মেরো না এভাবে। প্লিজ!
ওর হাত ধরার চেষ্টা করেও পারলো না। সাজিদ শয়তানি হেসে বলতে লাগলো,
--- নিপাকে আমার প্রথম থেকেই ভাল্লাগতো, জানো বেবি? শি ওয়াজ হট এন্ড সে. .
জুবায়ের একটা ঘুষি দিলো ওর মুখ বরাবর। ধমকে উঠলো,
--- শাট আপ!
--- ওপস, তোর গায়ে এত শক্তি!
জুবায়ের সে কথার উত্তর দিলনা। সাজিদ চাচ্ছেই ওদের ক্ষেপিয়ে দিতে; রেগে উল্টাপাল্টা স্টেপ নিলে ওরই ফায়দা! শান্তভাবে বিপাকে সামলানোয় মন দিলো। ওকে জাপটে ধরে পিছে নিয়ে যেতে লাগলো। সাজিদ বলেই গেল,
--- শ্বশুরবাড়িতে গেলে আমর ঘুম হারাম হয়ে যেত। নিপা সারাক্ষণ দুলাভাই দুলাভাই করে ঘুরঘুর করত আশেপাশে। কি সুন্দর মেয়ে! দেখলেই নেশা লাগে। ওরে রাইখা তোরে কেন বিয়া বসছি, এই আফসোস আমার! কিন্তু এরচেয়ে বড় আফসোস শ্বশুরবাড়ি বেশিদিন থাকা যায় না; এতো ঘনঘন যাওয়াও যায়না। এরমধ্যে তুই প্রেগনেন্ট হইলি, বাপের বাড়ি পাঠাইলাম। তোরে দেখার বাহানায় যাই. .
--- শুয়োরের বাচ্চা!
বিপা হাতপা ছোড়াছুড়ি শুরু করতেই, জুবায়ের আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো ওকে। সাজিদ হাসলো,
--- ওলে ওলে বাবুটা! এতো রাগ! আগে শোনই তো বাকিটা. .
প্রেগন্যান্সি টাইমে তোর ট্যান্ট্রামস অসহ্য লাগতো। এই চাই, সেই চাই, এই করো, সেই করো! জঘণ্য লাগতো! তারমধ্যে নতুন বায়না, গ্রাম ভাল্লাগে না। আমার কাছে থাকতে হবে। আমার রাগ সপ্তমে উঠলো। তখনই তোরে ছেড়ে দিতাম, কিন্তু শাশুড়িটা ভালো। নিপাকে পাঠালো সাথে। তাছাড়া নিপাও ভার্সিটিতে চান্স পেয়েছে। আমার আনন্দ কে দেখে! কিন্তু তোর যন্ত্রণা, অসহ্য হয়ে গেছিল! একরাতে লাত্থি দিয়ে ফেলে দিলাম বিছানা থেকে। ভাবছিলাম, তুই আর বাচ্চা -- দুইটাই টেসে যাবি। কিন্তু বাচ্চাটা মরলেও বাঁচলি তুই। শুরু হইলো আরেক নতুন জ্বালা! . .
বাচ্চা হারানো নিয়া তোর নাটক দেখতে দেখতে অস্থির হয়ে একদিন সুযোগ করে নিপার কাছে গেলাম। বললাম সব। শুরুতে অনেক নীতিকথা, কাহিনী করলো। তারপর হঠাৎ . .
ঠোঁট কামড়ে হেসে বললো,
--- নিপা ইজ বেস্ট! সবদিক দিয়েই!
হঠাৎ বিপার শরীরে অসুরের শক্তি ভর করলো। ওর বাচ্চাকে মেরেছে সাজিদ? ওটা কোনো এক্সিডেন্ট ছিলনা? জুবায়েরও বিস্ময়ে হতবাক! হাতের বাঁধন আলগা হয়ে গেছে ওর; এই ফাঁকে বিপা নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে সক্ষম হলো। একদৌড়ে ছুটে গেল রান্নাঘরে; ছুরি হাতে ফিরে আসতে আসতে চিৎকার করে বললো,
--- আজ তোর শেষ দিন, শুয়োর! আমার বাবুর খুনি তুই! আজ আমার হাতেই তুই মরবি!
সাজিদ, জুবায়ের দুজনেই অবাক হয়ে চেয়ে রইলো। জুবায়ের এগিয়ে এসে আটকাতে চেষ্টা করলো, কিন্তু পারলো না। ওকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিল বিপা। মেঝেতে পড়েও জুবায়ের নিষেধ করেই গেল,
--- বিপা! ডোন্ট ডু ইট, প্লিজ! স্টপ! প্লিজ!
কিন্তু বিপা শুনলো না কোনো কথা; ছুটে গিয়ে ছু-রিটা বসিয়ে দিলো সাজিদের বুকে। মাংস ভেদ করে ছু-রিটা ঢুকলো; সঙ্গে সঙ্গেই একগাদা র-ক্ত ছলকে বেরোলো। রক্তিম ছিটে-ফোঁটায় দারুণ সুন্দর নকশা তৈরি হলো বিপার সুশ্রী চেহারায়; যেন মুখ সাজানোর প্রতিযোগিতায় বিজয়ী রমণী!
--- আহ!
সাজিদ বুক চেপে ধরে ঢলে পড়লো চেয়ারে। জুবায়ের ভয়ানক হতাশায় মাথা হেঁট করে ফেললো!
[দেড় বছর পর…]
কেন্দ্রীয় কারাগার।
বিপার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন জেসমিন। কিছু প্রিয় খাবার রেঁধে এনেছিলেন। বিপা খুব আগ্রহ নিয়ে খেতে শুরু করলো। খেতে খেতে খুব প্রশংসাও করলো। জেসমিন ওকে একটা খাম এগিয়ে দিলেন,
--- তোর জন্য।
বিপা মুখে লোকমা তুলে ফিরে তাকালো,
--- কি?
--- জুবায়ের পাঠিয়েছে। তোর চিঠি।
--- রাখো। খাই আগে। তোমাদের খবর বলো দেখি। রিপা - দিপার পড়ালেখার কি খবর?
জেসমিন চিঠিটা রাখলেন। বিপা একের পর এক প্রশ্ন করছে। বহুদিন পর মেয়েটাকে সুখী লাগছে; স্বতঃস্ফূর্ত লাগছে। কে বলবে, এই মেয়েটা নিজের স্বামী হত্যার দায়ে সাজা ভোগ করছে? বরং মনে হচ্ছে, সদ্য বয়ঃসন্ধিতে পড়া এক ষোড়শী মায়ের সাথে খেতে বসে গল্প করছে। কি আহ্লাদ তার কথায়; কি উচ্ছ্বাস তার অঙ্গ-ভঙ্গিতে! জেসমিন একদৃষ্টে চেয়ে রইলেন।
জুবায়ের ফিরে গেছে তার স্থানে। বিয়েটা শেষমেশ হয়নি বেচারার। আংটি বদলের পর বিয়ে ভেঙে পালিয়ে গেছে জার্মানি। সাজিদের মৃ ত্যুর পর বিপা স্বামী হত্যার দায় স্বীকার করে নিয়েছে। আদালত তার উপযুক্ত শ্বাস্তি দিয়েছে। আর নিপা?
বিপাকে গ্রেপ্তারের কিছুদিন পর মেসের ঘর থেকে নিপার ঝুলন্ত লা;শ উদ্ধার করে পুলিশ। জানা যায়, অন্তঃসত্ত্বা ছিল নিপা। কুমারী একটা মেয়ের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর কতোটা ঘৃণ্য হতে পারে, সেটা সে জানতো। তাছাড়া বোনের সংসার ভাঙার দায়ে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল আগেই। জেসমিন সমস্ত যোগাযোগ ছিন্ন করেন ওর সঙ্গে। টাকা-পয়সা দিতেন না; ফলে আর্থিক দুরবস্থায় ছিল বেশ। এরমধ্যে একটি অপ্রত্যাশিত খবর! মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল মেয়েটা। শেষ অবধি তাই জীবনটা ইতি টানবারই সিদ্ধান্ত নেয়. .
বিপা চাইলেই পালিয়ে যেতে পারতো জুবায়েরের সঙ্গে। এদেশের বিচার ব্যবস্থায় এমন অসংখ্য ঘটনা আছে। খু¡নের পর খু¡নীর সন্ধান মেলেনা। সন্ধান মিললেও বিচার হয়না। জুবায়েরের টাকার অভাব ছিল না। আর টাকা হলে বাঘের চোখও মেলে। তাই খুব সহজেই ছাড়া পেতে পারতো। তারপর বিপাকে নিয়ে পাড়ি জমাত বিদেশে। কিন্তু বিপা রাজি হয়নি। এমনকি সাজিদকে খু¡নের দায়ও সম্পূর্ণ নিজের ঘাড়ে নিয়ে আইনের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে!
রাতে সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়লো তখন বিপা জুবায়েরের চিঠি নিয়ে বসলো। পুরো চিঠি জুড়ে কেবল অভিযোগের ছড়াছড়ি। আর প্রতি দু’ লাইন পরপর লেখা, ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি, বিপা। তুমি আমায় গ্রহণ করলে না কেন?’ ওর বাচ্চামো দেখে বিপা মনে মনে হাসলো কিছুক্ষণ। শেষমেষ জবাব লিখলো,
--- ভালোবাসা খুব অদ্ভুৎ বিষয়, জানো জুবায়ের? তুমি একবার যাকে মন থেকে ভালোবেসে ফেলবে তাকে আর কোনোদিনও মন থেকে সরাতে পারবেনা। যতোই কিছু হোক, যতোই তাকে ঘৃণা করো তবুও তাকে যে একসময় তুমি ভালবেসেছ এই সত্যকে উপেক্ষা করতে পারবেনা। ইদানীং জেলখানায় বসে সাজিদকে আমার খুব মনে পড়ে জানো? তুমি হয়তো ভাবছো, প্রলাপ বকছি। আসলে তা নয়। সাজিদ আমার সঙ্গে অন্যায় করেছে। অনেক কষ্ট দিয়েছে। কিন্তু সেসবের কিছুই আমার মনে নেই। এখনো কারাগারের নিভৃত কক্ষে একা বসে থাকলে আমার সাজিদের কথাই মনে পড়ে। আমি ওকে ঘৃণা করতে পারি জুবায়ের, কিন্তু ভালো না বেসে থাকতে পারিনা।
সাত বছর খুব দীর্ঘ একটা সময়। আমাদের এই দীর্ঘ সময়ের পথচলা। শেষটা যেমনই হোক, রঙিন শুরুটা তো অস্বীকার করতে পারিনা! সব দুঃখ-রাগ-শ্লেষ ফুরিয়ে গেলে শুরুর ওই ভালোবাসাটাই তো থেকে যায় কেবল। মানুষটা নেই; তাকে তার উপযুক্ত শাস্তি দেয়া হয়েছে। এখন রাগ পুষেও আর লাভ নেই।
আমি তোমাকে কেন গ্রহণ করিনি তুমি হয়তো বুঝতে পারছ। তুমি আমার ভালো বন্ধু ছিলে। দুঃসময়ে পাশে ছিলে। কিন্তু তা শুধুই বন্ধু হিসেবে। আমি চিরকাল ভালোবেসে এসেছি সাজিদকে। ও আমার সঙ্গে অন্যায় করলেও ওকেই ভালোবেসেছি। ওকে শাস্তি দেবার পরও ওর জন্যই কেঁদেছি। সত্যিই, ভালোবাসা অদ্ভুৎ!
আমার কথা মনে রেখোনা আর। আমি তোমার অতীত। অতীতকে ভুলে ভবিষ্যৎ আগলে নাও। তুমি ভালো থেকো, জুবায়ের। তুমি ভালো থেকো!
ইতি
বিপা
_____সমাপ্ত!_____
লেখিকার কথা পাঠকের উদ্দেশ্যেঃ
[শুনুন, ‘উদাস পূরবী হাওয়া’ গল্পটা একটা সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা। গল্পের শুরুটা এবং চরিত্রগুলো প্রায় এক হলেও গল্পের স্বার্থেই আমি নতুন চরিত্র অ্যাড করেছি; এবং এন্ডিং পাল্টেছি। রিয়েল লাইফের ইনসিডেন্টটার এন্ডিংটা খুবই প্যাথেটিক। যেহেতু গল্প শেষ; সেহেতু শেয়ার করা যেতেই পারে।
বাস্তবে বিপা অনেক আগেই জানতে পারে নিপা তাকে ধোঁকা দিচ্ছে। কিন্তু বোনের প্রতি অত্যধিক স্নেহে ও কিছুই বলতে পারেনি। আরও দুইবোন থাকা সত্ত্বেও নিপাকে ছোটবেলা থেকেই অসম্ভব ভালোবেসেছে কি-না!
নিপাও পড়ালেখার খাতিরে থাকতো বোনের বাড়িতে। সেই সূত্রেই সাজিদের সঙ্গে ওর সম্পর্ক হয়। এদিকে বিপার দু’টো বাচ্চা ছিলো; এরা নিপাকে এবং এদেরকে নিপা খুব ভালোবাসতো। এজন্য পরে নিপা বাসা ছাড়লেও ওর যাতায়াত কমাতে পারেনি বিপা। জুবায়ের অবশ্য ওর বাচ্চাসহই বিয়ে করতে চেয়েছিল; কিন্তু বিপা! শেষ অবধি অত্যধিক মানসিক চাপে বিপা সিঁড়ি থেকে গড়াতে গড়াতে পরে মারা যায়। সম্ভবত স্ট্রোক হয়েছিল।
এদেশে খুবই কমন ঘটনা হলো; বড়বোন মারা গেলে তার বাচ্চার দেখাশুনার জন্য ছোটবোনের ওইঘরে বিয়ে দেয়া হয়। বিপার মৃ;ত্যুর পরও তাই নিপার সঙ্গে বিয়ে হয় সাজিদের। বিয়ের পরও বোনের বাচ্চা দুটোকে খুব ভালোবাসতো নিপা। ওর আর বাচ্চা হয়নি।
গল্পটা শুনে অদ্ভুত লাগে তাইনা? আসলে বাস্তব এমনই। এখানে সবাই সুবিচার পায়না; কেউ কেউ কষ্ট পেতে পেতেই মারা যায়। কেউ অন্যায় করেও সাজা পায়না; সুখেই থাকে। আমি ভেবেছিলাম, আমার গল্পটার এন্ডিংও এমনই রাখবো। পরে ভাবলাম, গল্পে যেহেতু আমি অনেককিছুই পাল্টেছি; শেষটাও পাল্টানো যায়। গল্পের বিপারা একটু বিপ্লবী হলে ক্ষতি কি!]