কই!কেউ তো নেই!তাহলে কী সবুজ ভূল শুনলো।সবুজ মনের ভূল ধরে নেয়।এরপর সে ঘরে যায়।নিজের হাতে সবুজ, ঘরটা ভালোই সাজিঁয়েছে।দেখে মনে হবে যেন কোনো রাজপ্রাসাদে চলে এসেছি।ঘরের লাইট বন্ধ করে শুয়ে পড়ে বিছানায়।তাড়াতাড়ি ঘুমানো তার একটা স্বভাব।শহর হোক আর গ্রাম তাড়াতাড়ি তাকে ঘুমাতেই হবে।যদি কেউ তাকে বাধা দেয়।তাহলে সে ঝগড়া শুরু করে দেয়।একদিন তো পরিবারের জ্বালায় সে রাত ১২ টায় ঘুমায়।
তখন কী যেন তার হয়!সে পাগলের মতো করতে থাকে।এরপর থেকে তাকে কেউ আর বাধা দেয় না।ঘড়ির কাটাঁয় রাত ৮ টা বেজে ৪০ মিনিট।বাড়ির বাকি ছেলেমেয়েরা টিভি দেখছে।বড়রা ঘরে বসে গল্প করছে।টিভিতে ভূতের সিনেমা চলছে। সবাই ভয় পাচ্ছে তাও দেখছে।সজলও ভয় পায়।
কিন্তুু তার মনে ভয় ওতো বেশি না।নীলা তো ভয়ে শান্তাকে ধরে রেখেছে।শান্তা মুখের সামনে বালিশ দিয়ে রেখেছে।বালিশের ফাঁক দিয়ে সে মাঝে মাঝে উকিঁ মেরে দেখছে,আবার মুখ ঢাকছে।দিশা ভয়ে তার ভাইয়ের পিছনে মুখ লুকিয়েছে।হঠাৎ রান্নাঘরে থালাবাসন পড়ার আওয়াজ।
টিভি অন থাকায় শব্দটা এক ঘর থেকে অন্য ঘরে গেল না।তবে শব্দ শুনে এ ঘরের সবাই ভয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো।টিভি বন্ধ করলো সজল।
-শব্দ কীসের হলো?( নীলা)
-মনে হয় থালাবাসন পড়ে গেছে।আমি গিয়ে দেখছি।( সজল)
-একা একা যাবি!(শান্ত)
-বেশি চিন্তা হলে আমার সাথে চল।( সজল)
শান্ত প্রথমে যেতে চায় না।কিন্তুু পরে ঠিকই সজলের পিছনে যায়।এসে দেখে কাচেঁর প্লেট ভেঙ্গে গেছে।টুকরো টুকরো হয়ে নিচে পড়ে আছে।কিন্তুু থালাটা পড়লো কী করে!কে ফেললো??তখনিই সজল খেয়াল করে জানালা খোলা।খোলা জানালা দেখে দুজনের ভয় চলে যায়।তারা ভাবে,হয়তো কোনো বিড়াল এসেছিল।তারা দুজন পিছু ঘুরে।তাদের চোখ বড় বড় হয়ে যায়।মনে হয় এখনিই চোখ উপড়ে বের হয়ে আসবে।সামনে একটা কালো ছায়া দাঁড়িয়ে।ছায়া দেখে তাদের ভয়াবহ অবস্থা।
অন্যদিকে,
গ্রামের এক মেয়ের শরীর খারাপ হয়েছে।পরিবার তাকে হাসপাতালে নেয় না।তারা মেয়েকে গ্রামের ক্ষেত্রের মাঝে নিয়ে যায়।যেখানে থাকেন বীর কবিরাজ।যিনি এই গ্রামেই থাকেন আর এখানকার লোকদের সেবা করেন।
তিনি গ্রামের অনেক অসুস্থ মানুষকে সুস্থ করেছেন।জ্বিন থেকে লোক বাচিঁয়েছেন আরও কত কী যে করেছেন,তার কোনো হিসেব নেই।কবিরাজ সে-ই মেয়েকে মাটিতে শুইয়ে দিতে বলেন।তার কথামতো মেয়েটিকে মাটিতে শোয়ানো হয়।এরপর কবিরাজ তার মাথায় হাত দিয়ে নানা তন্ত্রমন্ত বলেন।কিছুক্ষণের মধ্যে মেয়েটি সুস্থ হয়ে যায়।
সবাই কবিরাজের জয়জয়কার করতে থাকে।তখনি-ই সোনালীদের পাশের বাড়ির লোক আসে।সন্তান ও স্ত্রী এসে তাদের বাবা ও স্বামীর মৃত্যুর কারণ জানতে চায়।
- যে মরেছে তার ব্যবহার করা কোনো জিনিস এনেছিস?
-এনেছি হুজুর,এই নিন আমার বাবার ব্যবহৃত শার্ট।( মৃত ব্যাক্তির ছেলে)
কবিরাজ শার্ট নিয়ে চোখ বন্ধ করেন।এরপর কীসব মন্ত্র বলতে থাকে।তিনি দেখেন এক কালো ছায়া, তার স্বামীর চোখ উপড়ে নিয়েছে।সেই চোখগুলো সে নিজের চোখে লাগাচ্ছে।এরপর কবিরাজ সোনালীকে দেখতে পায়।সোনালী হাসঁছে আর সেই কালো ছায়া তার উপর ঝাপিয়ে পড়ে।ভয়ে কবিরাজ চোখ খুলে ফেলেন।তার শরীর দিয়ে ঘাম ঝরছে।জীবনে প্রথমবার তিনি এত ভয় পেয়েছেন।এত শক্তিশালী কোনো আত্মা তিনি দেখেছেন। গ্রামের লোকও তাকে প্রথমবার ভয় পেতে দেখে অবাক হয়েছে।
-কী হয়েছে হুজুর!কে খুন করেছে আমার স্বামীকে?কিছু কী দেখতে পেলেন?
-হ্যাঁ,দেখেছি।যে খুন করেছে, সে একে একে এই গ্রামের সবাইকে খুন করবে।
-কী!কিন্তুু কেন হুজুর?( মৃত ব্যাক্তির)
-কেন তা আমি জানি না।তবে যে সবাইকে মারবে সে মানুষ নয়।সে হলো কালো ছায়া।
ভয়ানক কালো শক্তির অধিকারী।মৃত্যুর পরও তার শক্তি কমেনি বরঞ্চ আরও বেড়েছে।
-এর থেকে বাঁচার কোনো উপায় নেই?( গ্রামের লোকজন)
-উপায় আমার জানা নেই।শুধু জানি আমি কিছু করতে পারবো না।তাই আমি এই গ্রামে আর থাকবো না।এখনই এখান থেকে চলে যাবো।
-না,বাবা।আপনি আমাদের এই বিপদের মুখে ফেলে রেখে চলে যাবেন না।( গ্রামবাসীরা হাত জোর করে বলে)
-আমি ওই শক্তিশালী ছায়ার বিরুদ্ধে কিছু করতে পারবো না।তবে কেউ একজন আছে যে পারবে।
-কে সে বাবা?
-সময় হলে সে ঠিক চলে আসবে।আশা করি তখন আমিও উপস্থিত থাকবো।ততদিন আমি নিজেকে তৈরি করবো।
কবিরাজ নিজের জিনিসপত্র গুছিয়ে নেয়।এরপর তিনি চলে যান।উপস্থিত সেখানকার গ্রামবাসী ভয় পেয়ে যান।যাওয়ার পথে কবিরাজ প্রত্যেককে সন্ধ্যার পর ও দুপুরে একা বাইরে বের হতে নিষেধ করে যান।গ্রামবাসীরা তাড়াতাড়ি করে নিজেদের বাড়ি চলে যান।
অন্যদিকে,
ঘরে বসে আয়না বেগম, তার শাশুড়ী,ভাই ও ভাইয়ের বউ মিলে গল্প করছে।হঠাৎ করেই তাদের ঘরের লাইট অফ হয়ে যায়।আয়না বেগমের ভাই আফজাল উঠে পড়ে।তিনি ফোনের ফ্লাশলাইট নিয়ে সুইচের কাছে যায়। অন্য ঘরের আলো আছে।শুধু এ ঘরেই নেই।তিনি সুইচ অফ অন করেন।তবে এতে কোনো লাভ হয় না।তাই তিনি একটা লোককে কল করেন।লোকটা ৫ মিনিটে চলে আসবে বলে জানায়।লোকটার বাড়ি তাদের পাশেই।
-কীরে কী হলো?( সোহানা)
-আর বলবেন না।মনে হয় কোনো সমস্যা হয়েছে।তাই একটা লোককে কল করলাম।
-নম্বর পেলি কোথায় রে ভাই?( আয়না)
-আসার সময় সবার নম্বর নিয়ে এনেছি। ডাক্তার থেকে শুরু করে একদম মুচি পর্যন্ত সকলের।
তার কথা শুনে সবাই হাসঁতে থাকে।এতক্ষণে লোকটা চলে এসেছে।দরজায় কলিং বেলের আওয়াজে নীলা ভয় পেয়ে যায়।শান্তা দরজা খুলতে যায়।গিয়ে দেখে কেউ নেই।সে বাইরে এসে এদিক ওদিক দেখে।কিন্তুু কই!কেউ তো নেই!সে দারওয়ানকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করে।দারওয়ান জানায় একটা লোক এসেছে।শান্তা তো অবাক হয়ে যায়।কেউ ভেতরে ঢুকলো কিন্তুু কই আশেপাশে কেউ তো নেই।শান্তা পিছনে ঘুরলে সে ভয় পেয়ে যায়।তার সমানে লোকটা দাঁড়িয়ে।
-আপনি! কোথায় গেছিলেন?
-অনেকদিন পর জমিদার বাড়ি এলাম তো।তাই এদিক ওদিক ঘুরে দেখছিলাম।
-ওও কিন্তুু কীসের জন্য এসেছেন??
-লাইন ঠিক করতে।
-লাইন!
-হ্যাঁ,আফজাল সাহেব ফোন করেছিলেন।ওই রুমে নাকি লাইট জ্বলছে না।
-ওও আচ্ছা। ঠিক আছে ভেতরে আসুন।
লোকটা সোজাঁ ভেতরে চলে যায়।সবাই লোকটার বিষয়ে জিজ্ঞেস করে।শান্তা সব খুলে বলে।কথা বলার মধ্যে খেয়াল করে।দিশা নেই।তারা দিশাকে খুজঁতে থাকে।কিন্তুু কোথাও খুজেঁ পায় না।
এদিকে,
লোকটা ভেতরে যায়।হঠাৎ লোকটাকে দেখে সবাই ভয় পেয়ে যায়।বিশেষ করে আয়নার শাশুড়ী সোহানা বেগম।লোকটা এসে কোনো কথা বলে না।সোজাঁ কাজ শুরু করে দেয়।১ মিনিটের মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে যায়।
-কাজ শেষ।
-লাইট অন করে দিন তো।( আফজাল)
-না,না।এখন না।আমি আগে যাই তারপর লাইট অন কইরেন।
কথাটা সবার খুব অদ্ভুত লাগে।লোকটা তাড়াতাড়ি করে বাইরে চলে যায়।সে চলে গেলে আফজাল সাহেব লাইট অন করে।লাইট অন হয়েই সেটা ফেটেঁ যায়।
অন্যদিকে,
সোনালী ঘুমিয়ে রয়েছে।ঘুমের মধ্যে সে কাতরাচ্ছে।সপ্নের মধ্যে সে এক কালো ছায়াকে দেখতে পাচ্ছে।যে কীনা তার গলা ধরে রেখেছে।অনেক চেষ্টা করেও সে তার গলা ছাড়াতে পারছে না। ঘুম থেকে সে উঠে যায়।ভয়ে তার গলা শুকিয়ে গেছে।শরীর থেকে ঘাম ঝরছে।জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে।তৃষ্ণা মেটানোর জন্য সে বাইরে আসে।
রান্না ঘরে এসে গ্লাসে পানি নেয়।পানি পান করতে শুরু করে।হঠাৎ তার নজর সামনের কলাগাছে যায়।কলাগাছের পিছনে কে যেন দাঁড়িয়ে আছে।ভয়ে তার পানি পান করা বন্ধ হয়ে যায়।সে কে,কে বলতে থাকে।বিপরীতে কোনো উওর আসে না।মনে সাহস নিয়ে সে সমানে এগিয়ে যায়।যত কাছে যেতে থাকে।ততই লাল দুটো চোখ জ্বলজ্বল করে উঠে।
অন্যদিকে,
কবিরাজ সাহেব জঙ্গল দিয়ে যাচ্ছেন।চোখে মুখে তার ভয়।শরীর থেকে অনবরত ঘাম ঝরছে।হঠাৎ তার অনুভব হয় কেউ পিছনে আছে।ভয়ে ভয়ে তিনি পিছনে তাকাঁয়।দেখেন সেই কালো ছায়া।ভয়ে তিনি মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন।কালো ছায়ার কাছে নিজের প্রাণ ভিক্ষা চায়।ছায়াটি তার কাছে পা এগিয়ে দেয়।কবিরাজ ছায়ার মুখের দিকে তাকাঁয়। পরিবেশ স্তব্ধ।কালো ছায়াটি তার দাতঁ বের করে।অন্ধকার কালো রংয়ের মাঝে সাদা দাতঁ ভয়ংকর রকম ফুটে উঠেছে।কবিরাজ তার পা ধরে কান্না করতে থাকে।
ছায়াটি বলে,
" তোকে আমি মারবো না রে।তোকে আমি মেরে পুতেঁ ফেলবো।"ছায়াটি অট্টহাসি দিয়ে ঝাপিঁয়ে পড়ে কবিরাজের উপর।