নুসরাত হাবিবকে নিয়ে, ঘরের ভেতর প্রবেশ করে।তার হাতের ইশারায়, দরজা বন্ধ হয়ে যায়।ঘরের ভেতর মোমবাতি জ্বলে উঠে।বৃত্তাকার আগুন জ্বলে উঠে।নুসরাত সেই বৃত্তাকারের মধ্যে বসে পড়ে।হাবিবকে হাতের ইশারা দেয়।তখন সে পাশের ঘর থেকে, একটা ছাগল নিয়ে আসে।এরপর ছাগলটা বেঁধে, তার মায়ের সামনে রাখে।ভয়ে ছাগলটার চোখ বড় হয়ে গেছিল।সে ডাকতে থাকে,কিন্তুু কোনো শব্দই ঘরের বাইরে যায় না।হাবিব ছাগলের সামনে বসে পড়ে।নুসরাত চোখ বন্ধ করে আছে।
সে কিছু মন্ত্র বিড়বিড় করে।মন্ত্র পড়া শেষ হলে,চোখ মিলে তাঁকায়।এরপর এক হাত, ছাগলের দিকে উঁচু করে।সঙ্গে সঙ্গে ছাগলটি শূন্যে উঠে পড়ে।ছাগলের হাড্ডি ভাঙ্গার শব্দ হয়।ছাগল আর্তনাদে চিৎকার করে উঠে।কোনো অদৃশ্য শক্তি,ছাগলের পেট ছিঁড়ে ফেলে।ছাগলের পেট থেকে নাড়িভুড়ি বের হয়।ছাগলটি নিচে পড়ে যায়।
তখন হাবিব ছাগলের কাছে যায়।সে একটা নাড়ি নিজের মুখে নেয়। এরপর নুডলসের মতো করে, খেতে থাকে।সমস্ত নাড়ি সে একটানেই খেয়ে ফেলে।এরপর সে দূরে সরে যায়।তখন সেখানে এক কালো ছায়ার উপস্থিত ঘটে।কালো ছায়াটি ছাগলের হাত-পা চিবিয়ে খেতে থাকে।সঙ্গে তার কাঁচা নরম মাংস।শুধু মাথা রেখে দেয়।দড়ির সঙ্গে ছাগলের মৃত মাথা, বেঁধে আছে।মাথা থেকে রক্ত বের হয়ে,সামনে জোড়ো হয়েছে।
নুসরাত জায়গা থেকে উঠে পড়ে।সে রক্তের কাছে আসে।এরপর নিচে বসে,রক্ত চুমুক দিয়ে খেতে থাকে।শেষে যে রক্তগুলো মাটিতে লেগে থাকে।সেগুলো সে চেটেমেটে খায়।
---------------
শ্যামল ( পুলিশ) নিজের ফোন বের করে।এরপর ক্রাইব ( নোট লিখে যে) এবং ক্রাইম সিন ফটোগ্রাফারকে কল দেয়।তাদের দুজনে সোনালীর বাসায় আসতে বলে।কিছুক্ষণের মধ্যেই সে চলে আসে।গাড়ি থামিয়ে দেয়।পুলিশের গাড়ি দেখে,সকলে চুপ হয়ে যায়।নিজেদের চলমান কথাবার্তা বন্ধ করে দেয়।শ্যামলের আসার পরপরই সেখানে ক্রাইব ( লিসা) ও ফটোগ্রাফার ( বিক্রম) চলে আসে।
-আমি পুলিশ ইন্সপেক্টর শ্যামল দা।( শ্যামল নিজের কার্ড দেখিয়ে)
-এখানে কী দরকার?(কুলসুম বেগম একটু চিন্তিত হয়ে)
-নদীর কিনারায় ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে, আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করতে এসেছি।(শ্যামল)
-কীসের ঘটনা?( আলতাফ মিয়া সোনালীর দিকে তাঁকিয়ে)
-আসলে চাচা,ও-ই নদীর কিনারায় অনেকগুলো মরদেহ দেখা গেছে।সেগুলো দেখেই সোনালী অজ্ঞান হয়ে গেছিল।( মুনি মাথা নিঁচু করে আমতাআমতা ভাবে বলে)
-কী!কিন্তুু তোরা তো অন্য কথা বললে আমাদের।( আলতাফ মিয়া রেগে)
-মিথ্যা বলেছে।( রাসেলের মা)
-ভয় পেয়েছিস।ঠিক আছে।কিন্তুু তাই বলে,মিথ্যা বলবি!( কুলসুম বেগম সোনালীর দিকে করুন দৃষ্টিতে)
শ্যামল সবাইকে পারিবারিক বিষয়ে, পরে কথা বলতে বলে।সে সোনালীর মা-বাবা,রাসেল ও তার মা-বাবাকে বাইরে যেতে বলে।তারা শুধু সোনালী আর মুনির সঙ্গে কথা বলবে।পরে তাদের দরকার হলে,সে ডেকে নেবে।তারা শ্যামলের কথামতো বাইরে চলে যায়।
শ্যামল ও বাকিদের জন্য চেয়ার আনা হয়।তারা তিনজন চেয়ারে বসে পড়ে।সোনালীকে ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে,সে সমস্ত কথা বলে।শুধু তার ভবিষ্যৎ দেখা বাদ দিয়ে।সে জানায়,তার হঠাৎ নদীর কিনারার কথা মনে পড়ে।যেখানে সে রত্নাকে ঘুরঘুর করতে দেখেছিল।যেহেতু সে পাগল,তার উপর বার বার নদীতে তাকাচ্ছিল।তাই তার মনে হয়েছিল,সে লাফ দিতে পারে।এজন্য সে, তখন দৌড় দিয়ে রত্মার কাছে গেছিল।
-আপনার কথাগুলো কিন্তুু অদ্ভুত লাগছে।কী ঠিক বলছি না?( শ্যামল দা)
-হুম,বেশ অদ্ভুত।শরীর দূর্বল হয়ে জ্ঞান হারালেন।তখন ওনার রত্মার কথা মাথায় এলো।আর উনিও ছুটে সেখানে গেল।এরপর রত্মা পানিতে পড়ে গেল।আর উনি লাশ দেখতে পেলেন।সবশেষে আবারও জ্ঞান হারালেন।( ক্রাইব:লিসা খাতায় লিখতে লিখতে বললো)
-কিছু লুকাচ্ছেন না তো!( শ্যামল তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাঁকিয়ে বললো)
-না,যা সত্যি। তাই বললাম।এখন বিশ্বাস করা আর না করা,সম্পূর্ণ আপনার বিষয়।( সোনালী)
-মিস,মুনির কী বক্তব্য!উনিও কী একমত।( ফটোগ্রাফার:- বিক্রম ঘরের সবকিছুর ছবি তুলছিলেন।সেই সঙ্গে সোনালী আর মুনির,ছবি তুলতে তুলতে কথাগুলো বলেন।)
-রত্মার বিষয়ে তো ও জানে।আমি শুধু জানি,রত্মা বাদে বাকি সব বিষয়ে যা বলেছে,সবই সত্যি।( মুনি)
-আচ্ছা....। তো ডাক্তার কী বললো?( শ্যামল)
-ডাক্তার বললো শরীর দূর্বল।ঠিকমতো না খাওয়ার জন্য, এমনটা হয়েছিল এবং পরবর্তীতেও হতে পারে।( সোনালী)
লিসা সবকিছু নোটবুকে লিখে রাখছে।সেই সঙ্গে বিক্রমও, তাদের কথাবলার অঙ্গ ভঙ্গির ছবি তুলছে।সব কথা শেষ করে,তারা তিনজন উঠে দাঁড়ায়।
-আজ তাহলে আসি।আবার দরকার পরলে,আবার বিরক্ত করতে চলে আসবো।( শ্যামল)
-অবশ্যই,যে কোনো দরকারে যখন তখন চলে আসবেন।এতে আমরা বিরক্ত হবো না।(সোনালী হেঁসে)
-বিরক্ত হবো না,কিন্তুু খুনিকে বের করতে পারবেন তো?( মুনি গম্ভীর মুখে)
-যদি সবকিছু সত্যি বলে থাকেন।কোনো কিছু না গোপন রাখেন।তাহলে অবশ্যই,খুনিকে আমরা বের করে ফেলবো।( শ্যামল দা মাথায় টুপি দিয়ে চলে যান)
শ্যামল( পুলিশ) এখনও কোনো সূত্র পায়নি।যা ধরে সে ক্রেসটা সল্লভ করবে।বিক্রম গাড়ি চালাচ্ছে।শ্যামল জানালার সামনে,মাথায় হাত দিয়ে ভাবছে।লিসাও ক্রেসটা নিয়ে ভাবছে।দুজনের বলা কথাগুলো,সে মিলিয়ে নিচ্ছে।সবই ঠিকঠাক লাগছে।শুধু একটাই খটকা,জ্ঞান ফিরে হঠাৎ করেই রত্মার জন্য দৌড়।এটা যে একটু অদ্ভুত লাগছে।
শ্যামলের মাথায় সব ঘুরপাক খাচ্ছে।তখনই তার নজর যায়,দূর এক বাড়িতে।হাবিবদের বাড়ি,আলোয় ভরা মনে হচ্ছে।অথচ,মিস.নুসরাত বলেছিলেন,তাদের বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই।তাহলে, এখন এত আলো এলো কোথা থেকে?
-Stop the car(চেঁচিয়ে বললেন শ্যামল)
-হ্যাঁ!( কোনোমতে দ্রুত গাড়ির ব্রেক চেপে, গাড়ি থামিয়ে বিক্রম বললো)
সকলে নিজেদের ব্যালেন্স হারিয়ে ফেলে।
-কী হয়েছে স্যার?(লিসা ব্যালেন্স ঠিক করে বলে)
-গাড়ি থেকে নামো।ওই বাড়িতে যেতে হবে।তবে কোনো প্রকার সাউন্ড কেউ করবে না।(শ্যামল গাড়ি থেকে নেমে)
-ওকে স্যার।( লিসা ও বিক্রম একযোগে বললো)
তারা তিনজন চুপচাপ এগোতে থাকে।ঘরের ভেতর থেকে নুসরাত, সব টের পেয়ে যায়।
-একবার সুযোগ দিয়েছি।বার বার দেব না।( নুসরাত হেঁসে হাবিবকে ইশারা দেয়)
হাবিব ঘরের পিছন দরজা দিয়ে বের হয়।বাড়ির কাছে এসে,শ্যামল ইশারা দিয়ে থামতে বলে।লিসা ও বিক্রম থেমে যায়।শ্যামল তাদের দুজনকে আলাদা হয়ে, দুদিক দিয়ে বাড়ির ভেতর যেতে বলে।লিসা ও বিক্রম দুদিকে চলে যায়।শ্যামল বাড়ির সামনে দিয়ে এগোতে থাকে।
বিক্রমের কাঁধে কেউ হাত রাখে।সে এক সেকেন্ডে পিছনে ঘুরে।এক কালো ছায়া দাঁড়িয়ে।ছায়াটি তাকে দেখে হাঁসছে এবং হাই দেয়।বিক্রম তাকে হাই দিয়ে, চুপ করতে বলে।এরপর আবার সামনে ঘুরে,এগোতে থাকে।কিছুক্ষণ পর তার ছায়ার কথা মনে পড়লে,সে ভয়ে কাঁপতে শুরু করে।কাঁপা শরীরে সে পিছনে তাঁকায়।কেউ নেই,কিন্তুু দূরে ঝোঁপের মধ্যে কেউ আছে।বিক্রম ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলে।একটা অদ্ভুত প্রাণী আছে।
আস্তে আস্তে ঝোঁপ থেকে সেটি বের হয়।একটা সুবিশাল দৈত্য।কোনো ভয়ংকর প্রাণী।হিংস্র চেহারা।বড় বড় দুটো লাল চোখ।রক্ত মাখা দাঁত।প্রাণী একটু এগিয়ে এসে থেমে যায়।বিক্রম কাঁপা বন্ধ করে দেয়।সে স্থীর হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।প্রাণীটি কিছুক্ষণ পুতুলের মতো হয়ে থাকে।এরপর ভয়ংকর একটা মুঁচকি হাঁসি দেয়।যা পুরো আবহাওয়াকে ভয়ংকর করে তোলে।বিক্রম ভয়ে দাতঁ কপাটি খাওয়া শুরু করে।তবু,তার ছবি তোলা বাদ যায় না।সে প্রতি মুহূর্তের ছবি তুলেই চলেছে।প্রাণীটি তার দিকে দৌড় দেয়।
বিক্রম ভয়ে চিৎকার করে উঠে।এরপর উল্টো পথে দৌড় দেয়।তাদের আওয়াজ শুনে,লিসা ও শ্যামল দৌড় দেয়।দুজনে সামনাসামনি চলে আসে।শ্যামল লিসাকে ইশারা দিয়ে হাঁটতে না করে।কারণ,লিসার পিছনে সেই প্রাণীটি আছে।লিসা ধীরে ধীরে মাথা ঘোরায়।ভয়ংকর সেই প্রাণী হুংকার দিয়ে উঠে।ভয়ে লিসা দৌড় দেয়।শ্যামল নিজের বন্দুক বের করে।সে বন্দুক চালায়।কিন্তুু একটাও প্রাণীর গাঁয়ে লাগে না।তখন শ্যামলও দৌড় দেয়।তিনজনে জিপে উঠে পড়ে।বিক্রম দ্রুত ইঞ্জিন চালু করে।প্রাণীটি জিপের উপর লাফ দেয়।তখন-ই বিক্রম ফুল স্পিডে গাড়ি চালায় আর সেখান থেকে চলে যায়।
-এটা কী ছিল?( লিসা হাঁপাচ্ছে আর বলছে)
-এমন জন্তুু তো আমি আগে কখনোও দেখিনি।( বিক্রম হাঁপাতে হাঁপাতে বলে)
-হুম,আমিও অবাক হচ্ছি।এই ভেবে যে,এমন বড় আর ভয়ংকর প্রাণী, এই গ্রামে এলো কোথা থেকে?( শ্যামল মাথায় হাত দিয়ে)
-আচ্ছা, আমি যা ভাবছি।তুইও কী তাই ভাবছিস লিসা?( বিক্রম রিয়ার মিররে রিয়ার দিকে তাঁকিয়ে বললো)
-এই প্রাণীটাই আবার সব খুনের কারণ নয় তো।( লিসা)
-মানে কী?( শ্যামল ভ্রু কুঁচকে)
- মানে, হয়তো এই প্রাণীই সবাকে মারছে।( লিসা শ্যামলের দিকে তাঁকিয়ে)