রত্নাকে আমেনা তার ঘরে নিয়ে যায়।নীলা তাদের সঙ্গে যায়।পরিনে রত্নার ময়লা কাপড়।সে গোসল তো করতে যাবে।কিন্তুু পরিধানের জন্য পোশাক, তো নেই।
-রত্মা তুই গোসল করে আয়।আমি তোর জন্য কাপড় নিয়ে আসছি।( নীলা বলে চলে যায়)
রত্মা গোসল করতে যায়।সে ঝর্ণা চালু করে।কিন্তুু পানি বের হয় না।দুই তিনবার ঝর্ণা,চালু অন করে,তবুও পানি পড়ে না।যখন সে, বাইরে বের হওয়ার জন্য দরজা খুলে।তখন ঝর্ণা থেকে, পানি পড়া শুরু হয়।রত্না দরজা পূর্ণরায় লাগিয়ে দেয়।তখন আবার পানি পড়া বন্ধ হয়।সে দরজা খুললে,পানি বের হয়। বন্ধ করলে,পানি পড়া বন্ধ হয়।এভাবে কয়েক বার করার পর,হঠাৎ ঝর্ণা থেকে লাল পানি বের হয়।সে দরজা লাগিয়ে দেয়।লাল বর্ণ থেকে পানি স্বাভাবিক হয়ে যায়।এবার আর পানি চলে যায় না।রত্মা গোসল শুরু করে।
অদ্ভুত বিষয় হলো,এত বার দরজা খোলার পরও, নীলা টের পেলো না।অথচ সে রত্নার বিছানার উপরই বসে আছে।নীলা বসে বসে,আজকে হয়ে যাওয়া, ঘটনা নিয়ে চিন্তা করছে।যা হলো,তা কী লৌকিক নাকি অলৌকিক!সবই ঠিক আছে,এতগুলো না হয়, কেউ একজন করেছে।কিন্তুু রত্মার অদ্ভুতভাবে, নদীতে পড়ে যাওয়া আর সোনালীর হঠাৎ করে, নদীর জায়গায় যাওয়া। বিষয়টা বেশ ভাবাচ্ছে, নীলাকে।শুধু নীলাই একমাত্র ব্যাক্তি নয়,যে এসব চিন্তা করছে।এ বাড়ির প্রায়,সকলই এই নিয়ে ভাবছে।
নীলা এসব নিয়ে ভাবতে ভাবতে,কাপড়ের কথাই ভূলে গেছে।যখন তার মনে পড়ে,সে দ্রুত দৌড় দেয়।তখনই, তার সামনে শান্ত চলে আসে।তার হাতে শপিং ব্যাগ।কিছুটা হলেও আন্দাজ করতে পেরেছে,যে শপিং ব্যাগে কী!আর কার জন্য এনেছে?।
-শপিং ব্যাগে কাপড়,তাই না!আর কাপড়টা নীলার জন্য? ( নীলা)
-হুম( শান্ত মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিল)
-বা... বা,রত্মার যে কাপড় নেই।ও গোসল করে কী পড়বে?সেটা তুই খেয়াল করেছিস?( নীলা)
-এত কথা কেন বলিস তুই?চুপচাপ ব্যাগটা ধর আর নিয়ে যা।( শান্ত একটু রেগে)
-রেগে বললে,নেব না।( নীলা মুঁচকি হেঁসে)
-আচ্ছা, আর রেগে বলবো না।ধর,এখন নিয়ে যা।( শান্ত নরমভাবে বললো)
---------
পুলিশ অফিসার (শ্যামল) সোনালীর বাড়ি না গিয়ে,হাবিবের বাড়ির সামনে এসে থামলো।যেহেতু বাড়িটা, সোনালীর বাড়ির আগে পড়ে,তাই তিনি এখানেই গাড়ি থামালেন।গাড়ি দেখেই, নুসরাত হাত নামিয়ে নিল।হাবিব চোখ তুলে তাঁকালো।নুসরাত ইশারা দিয়ে, পিছনে তাঁকাতে বললো।
-পুলিশ!পুলিশ এখানে কেন?( হাবিব)
-কেন আবার কী?আজকের ঘটনার জন্যই এসেছে।তোকে জিজ্ঞেস করতে,এখন চুপচাপ যা জিজ্ঞেস করবে,তার ঠিকঠাক উত্তর দিবে।বোকার মতো কিন্তু বললে,এর পরিণতি কী হবে?,সেটা তো জানিস-ই।( নুসরাত একটু রাগান্বিত চোখে বললেন)
-আচ্ছা,মা।আমি সব ঠিকঠাকই বলবো। ( হাবিব)
শ্যামল দা ( পুলিশ) তাদের বাড়ির ভেতরে আসে।তিনি নিজের আইডি কার্ড দেখান।এরপর আজকের ঘটনার জন্য, হাবিবকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা বলেন।হাবিব আর তার মা( নুসরাত) উভয়ই সম্মতি জানায়।
-আপনাদের বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই?(শ্যামল)
-আজ্ঞে, বিদ্যুৎ নেই।একার সংসার তো,তাই অভাব অনটনের পাশাপাশি, এই বিদ্যুহীন বাড়ি।( নুসরাত)
-কেন!আপনার স্বামী নেই?( পুলিশ)
-না,নেই।অনেক বছর আগে,মারা গেছে।( নুসরাত গম্ভীরমুখে)
-আচ্ছা তাহলে বাইরে, এখানেই বসি।( শ্যামল পাটিতে বসে পড়ে)
নুসরাত আর হাবিবও বসে পড়লো।পুলিশ হাবিবকে,সমস্তটা ঘটনা জিজ্ঞেস করলো।যে সে,কী কী দেখেছে!কী কী শুনেছে?হাবিব পুরো কাহিনী খুলে বলে।তার মুখে কথাগুলো শুনে,পুলিশের সোনালীর উপর সন্দেহ যায়।কারণ,সে অজ্ঞান হয়ে যায়।এরপর নদীর কিনারায় যায়।যেখানে রত্মার সঙ্গে, অদ্ভুত সেই ঘটনা ঘটে।তারপর সে কিনারা গিয়ে, লাশ দেখে,পূর্ণরায় জ্ঞান হারায়।
শ্যামলের সমস্ত ঘটনাকে সাঁজানো মনে হয়।হয়তো সোনালী গ্রামের মধ্যে, তার প্রভাব বিস্তার করতে চায়ছে।একেই তো এ গ্রাম ভূতে বেশি বিশ্বাস করে।তার উপর এসব করে,সে গ্রামবাসীকে আরও ভয় দেখাচ্ছে।সে সঙ্গে তার, গোপন কোনো উদ্দেশ্যও থাকতে পারে।
শ্যামল কথা শেষ করে দেয়।সে উঠে চলে যেতে বসে।তখনই তার মনে হয়,কেউ একজন বাম দিক দিয়ে দৌড়ে গেল।সে বাম দিকে ঘুরে তাঁকায়।একটা কালো ছায়া সামনে দাঁড়িয়ে,হঠাৎ শ্যামলকে দেখে,ছায়াটি দৌড় দেয়।শ্যামল ছায়ার পিছনে যেতে বসলে,নুসরাত তাকে আটঁকায়।
-ওই দিকে কোথায় যাচ্ছেন?( নুসরাত)
-মনে হলো,কেউ একজন দৌড়ে গেল।( শ্যামল)
-একজন নয়,একটা কুকুর দৌড়ে গেল।( নুসরাত হাত দিয়ে কুকুরে দেখিয়ে,কুকুরটা দৌড়ে যাচ্ছে )
-কিন্তুু,তখন তো মনে হলো,কোনো মানুষ ছিল।( হালকা আলোয় শ্যামল কুকুরকে দেখতে পায়)
-অন্ধকার বাড়িতে,কোনটা কুকুর!কোনটা মানুষ আর কোনটা ভূত,বোঝা বড় মুশকিল, সাহেব।( মুঁচকি হেঁসে নুসরাত)
পুলিশ কথার উত্তরে কিছু বলে না। শুধু মুঁচকি হাঁসি দিয়ে,গাড়িতে উঠে পড়ে।সে এখনও ছায়াটার কথা ভাবছে।সে নিশ্চিত, ওখানে কুকুর নয়!অন্যকিছু ছিল।এসব ভেবে,গাড়ির ইঞ্জিন চালু করে।যখনই এক পলক রিয়ার ভিউ মিরর(Rear view mirror) এ নজর যায়।সে নুসরাতকে, একজনের সঙ্গে কথা বলতে দেখতে পায়।অন্ধকারে,কারোই চেহারা স্পষ্ট দেখা না গেলও,নুসরাতের লম্বা খোলা চুলের জন্য, সে বুঝতে পারে, একজন নুসরাত কিন্তুু আরেকজন কে?শ্যামল জানালা দিয়ে পিছনে ঘুরে তাঁকালে,সে শুধু নুসরাতকে দেখতে পায়।
নুসরাত তার গাড়ির দিকেই তাঁকিয়ে আছে।শ্যামল সামনে ঘুরে,গাড়ি চালিয়ে যেতে থাকে।রিয়ার ভিউ মিরর দিয়ে, সে নুসরাতকে দেখতে থাকে।নুসরাত বাড়ি ভেতর চলে যাচ্ছে।তার খোলা লম্বা লম্বা চুলগুলো,মাটিতে ঘেঁষে যাচ্ছে।চুলের আগায়, অনেক লতাপাতা, ময়লা আটকে গেছে।
---------
-কী হলো,বলুন!কিছু হবে মানে কী?( সোনালী)
-কোনো ঔষধেই তোমার কিছু হবে না।যদি না, আমি তোমার কাছে থাকি।( রাসেল হেঁসে কথা ঘুরিয়ে বলে)
-শুরু হলো রোমান্স।যতসব,ঢং।( মুনি মুখ ঘুরিয়ে বলে)
-যখন তোমার প্রেমিক হবে,তখন তুমি এসব ঢং করবে।( রাসেল সোনালীকে জড়িয়ে বলে)
-এসব আর আমি!জীবনেও না।( মুখ ভেঙচি দিয়ে মুনি)
সোনালী আর রাসেল হাঁসাহাঁসি শুরু করে।তখনই তাদের ঘরে,রাসেলের মা-বাবা আর সোনালী মা-বাবা প্রবেশ করে।হঠাৎ করেই,খুশির আবহাওয়া পরিবর্তন হয়ে যায়।পুরো ঘরে গম্ভীর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
-কিছু হয়েছে মা?কিছু কী বলবে?( সোনালী)
-হুম,একটা গুরত্বপূর্ণ কথা বলবো।( কুলসুম)
-আমার মেয়ের গাঁয়ের উপর থেকে হাত সরাও।( জাফর আলী রেগে)
-বাবা,আপনি এমন ভাবে বলছেন কেন?( রাসেল অবাক হয়ে)
-নাটক করার কী আছে!তুমি যা চায়ছো,তা-ই হবে।( কুলসুম)
-মানে!আমি আবার কী চাইছি?(রাসেল বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে)
-এসব তোমরা কী বলাবলি করছো,আমি তো কিছুই বুঝছি না!রাসেল মা-বাবা এসব কী বলছে?( সোনালী উঠে বসে)
-আমি তো নিজেও কিছু বুঝতে পারছি না।( রাসেল)
----------
হঠাৎ করে ঝর্ণা থেকে, লাল পানি বের হয়।রত্মার সারা শরীরে লাল পানি। রত্মা এসব দেখে ভয় পায়।সে ভয়ে চিৎকার করে।তার চিৎকারের আওয়াজ শুনে,শান্ত আর নীলা ভেতরে আসে।রত্মা দরজা খোলার চেষ্টা করে।কিন্তুু দরজা কিছুতেই খোলে না।বাহির থেকে শান্তও চেষ্টা করে,তাও খোলে না।
-রত্মা,কী হয়েছে তোমার?( শান্ত উদ্বিগ্ন হয়ে)
-তাড়াতাড়ি খোলা খোলো,তাড়াতাড়ি ( রত্মা চেঁচিয়ে)
শান্ত দরজা ভাঙার চেষ্টা করে।রত্মা খেয়াল করে,বাথরুমের আয়নায়, এক ছায়া।সে বুঝতে পারে,এসব কিছু তার বাবা করছে।কালো ছায়াটি দাঁত বের করলে,বাথরুমের লাইট অফ হয়ে যায়।পুরো বাথরুম অন্ধকার।এই অন্ধকার,রত্মার ভয় আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।আয়নায় ভেতর থাকা,কালো ছায়াকে এখনও দেখা যাচ্ছে।বাথরুমের লাইট অফ হলে,শান্ত আর নীলা ভয় পেয়ে যায়।শান্ত এবার, অনেক জোরে দরজায় ধাক্কা দেয়।
-তুই ঠিক আছিস তো রত্মা!লাইট অফ হলো কেন?( নীলা ভয়ে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললো)
দরজা খুলে যায়।আয়নার কালো ছায়াও অদৃশ্য হয়ে যায়।রত্মা শান্তকে দেখে জড়িয়ে ধরে।পুরো বাথরুম অন্ধকার।শুধু ঘরের আলোটা,তাদের দুজনের উপর পড়ছে।রত্মা শক্ত করে শান্তকে ধরে রেখেছে।
-ভয় পেও না,আমি চলে এসেছি।( শান্ত রত্মাকে জড়িয়ে ধরে)
-ভয়ের মধ্যেও একটা কথা বলতেই হচ্ছে,এদের মধ্যেও মনে হয়, কিছু একটা হবে!কী বলেন,তাই না?( নীলা দর্শকের দিকে তাঁকিয়ে)
বাথরুমের আয়নায় ফাটল শুরু হয়।আস্তে আস্তে, সমস্ত আয়নায় ফাটল ধরে।এরপর, আয়না ভেঙ্গে নিচে পড়ে যায়।
---------------
রাজবাড়ির চারপাশ জুড়ে,যে জঙ্গল আছে।সেই জঙ্গলের সবচেয়ে বড়, বটগাছের নিচে এক ছায়া উপস্থিত হয়েছে।তার উপস্থিতিতে আরেকটা ছায়া, সেখানে দৃশ্যমান হয়।ছায়ার পায়ে ও হাতে শিকল বাঁধা।মুক্ত ছায়াটি ঝোঁপ থেকে,মানুষের কাঁটা হাত-পা ইত্যাদি অংশ বের করে দিল।বন্দি ছায়াটি সেখানে বসে,সেগুলো ছিবিয়ে খেতে লাগলো।