-স্বপ্নের মতো মানে কী!( মুনি)
সোনালী মুনি সমস্ত কথা খুলে বলে।যা শুনে মুনি তো অবাক হয়ে যায়।এমনও আবার হয় নাকি!স্বপ্ন বাস্তব হয়!কিন্তুু সোনালী কালো চোখের কথা মনে পড়লে,তার কথাগুলো একটু হলেও মুনির বিশ্বাস হয়।
-----
ঝাঁরবাতি পড়েছে।তার শব্দ সবুজ ঘর থেকেই শোনে।তার কানে ব্যাথা শুরু হয়।সে ব্যাথায় কাতরাতে থাকে।কিছুক্ষণ পর সে আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়।সবুজ দ্রুত ঘর থেকে বের হয়।দেখার জন্য যে,কী হয়েছে?বাইরে এসে দেখে ঝাঁরবাতি পড়ে ভেঙে গেছে।তবে কারো কোনো ক্ষতি হয়নি।উপর থেকে এসব দেখে, সে আবার নিজের ঘরে চলে যায়।
-সবাই ঠিক আছিস তো!( সোহানা বেগম বিস্ময়ে)
-হুম,সবাই ঠিক আছে।( ভয় পেয়ে নীলা)
-এসব হলো কী করে?( আয়না বেগম এসে বললেন)
-জানি না,হঠাৎ করেই ঝাঁরবাতি খুলে নিচে পড়লো।( শান্ত)
-যা হয়েছে,হয়েছে।কারো কিছু হয়নি,এটাই হলো বড় কথা।( সোহানা বেগম)
-রফিক ভাই( দারওয়ান), এদিকে একটু আসেন তো।( আয়না বেগম)
দারওয়ান রফিক আর বাড়ির পরিচর্চাকারী সবকিছু পরিষ্কার করে।এরপর রফিক ভাই বাজারে যান,কালকের রাজ ভোজনের জন্য।
-এই সজল তুইও যা,তাহলে রফিক ভাইয়ের কষ্ট একটু কম হবে।( শান্তা)
-হুম, যা।বাজারের পাশেই মুনিরও বাড়ি, তাই না?( নীলা হেঁসে শান্তকে বললো)
-হ্যাঁ,ওইদিকে মুনিরও বাড়ি।( শান্ত মুঁচকি হেঁসে)
-চলুন রফিক ভাই।আমিও আপনার সঙ্গে যাই।এতে আপনার কষ্ট একটু কমবে। ( হেঁসে সজল বললো এরপর চলে গেল)
বাড়ির ছোট সদস্যরা হাঁসছে।বড় সদস্যরা তাঁকিয়ে আছে।কারণ,তারা তো কিছুই জানে না।তাদের জিজ্ঞেস করলেও,তারা প্রশ্ন এড়িয়ে সেখান থেকে চলে যায়
------
রফিক ভাই বাজার করছে।সজল আশপাশ তাঁকিয়ে দেখছে।মুনি সে খোঁজার চেষ্টা করছে।কিন্তুু না,নেই।বাজারে আসবেই বা সে কেন!হঠাৎ মুনি আর সোনালী হেঁটে এদিকেই আসতে থাকে।তারা দুজন গল্প করে হাঁটছে।তাই সজলকে খেয়াল করেনি।সজল শুধু মুনির দিকে তাঁকিয়ে আছে।
যখন তারা সজলকে পাশ কাঁটিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।তখনই সজল মুনির হাত ধরে।আচমকা হাত ধরায়, মুনি তার গালে চোর মারে।কিন্তুু যখন দেখে সজল,তখন সে মাথায় হাত দেয়।
-সরি,আমি আসলে....আমি আসলে বুঝতে পারিনি যে,তুই আমার হাত ধরেছিস।( মুনি ক্ষমার দৃষ্টিতে বলে)
-আমারই ভূল,এভাবে না ডেকে হাত ধরা ঠিক হয়নি।( সজল লজ্জা পেয়ে)
-আচ্ছা এসব কথা আর বল তুই এখানে কী করছিস?( সোনালী কথা ঘুরিয়ে)
-আমি রফিক ভাইয়ের সাথে বাজার করতে এসেছি।( সজল মুনির দিকে তাঁকিয়ে)
-ওওও( সোনালী)
-তোরা কোথায় যাচ্ছিস?( সজল)
-আমরা নৌকা চড়তে যাচ্ছি।যাবি,তুই?( মুনি হেঁসে)
সজল যেতে রাজি হয়।সে রফিক ভাইকে সব বলে, তাদের সঙ্গে চলে যায়।তারা বড় বিলে চলে আসে।কিন্তুু বিলের কিনারায় কোনো নৌকা নেই।সজল ভ্রু কুঁচকে ইশারা দিলে,সোনালী সামনে হাত দেয়।তার হাতের দিকে তাঁকালে,সজল কিছু কলাগাছ দেখতে পায়।মূলত এই কলাগাছ দিয়েই তারা নৌকা বানাবে,এরপর তার উপর চড়বে।
-এই কলাগাছ দিয়ে নৌকা বানাবো।তারপর তার উপর চড়বো।( সোনালী)
-তার মানে তো পানিতে নামতে হবে।( সজল)
-হুম,কেন সাঁতার পারিস না?( সোনালী)
-পারি...কিন্তুু...( সজল কথা শেষ করতে পারে না)
মুনি তাকে পিছন থেকে ধাক্কা দেয়।সজল পানিতে গিয়ে পড়ে।সোনালী আর মুনি হাঁসতে থাকে।সজলও হেঁসে বিল থেকে উঠে।সোনালী আর মুনি দৌড় দেয়।সজল সোনালীকে ধরতে পারে না।সে মুনিকে সহজেই ধরে ফেলে।এরপর তাকে কোলে নিয়ে পানিতে ফেলাতে যায়।কিন্তুু কাঁদার জন্য সেও পানিতে পড়ে যায়।সোনালী দূর থেকে সব দেখে শুধু হাঁসছিল।
মুনি ডুব দিয়ে উঠে।ভেজা তার শরীর ও ঠোঁট,কালো দুটি তার চোখ।সজল যেন চোখ ফেরাতে পারছে না।সে শুধু দেখেই চলেছে,মুনিও তার চোখে তাঁকিয়ে আছে।সোনালীর হাঁসি শুনে,তারা চোখ ঘুরিয়ে নেয়।
মুনি বলে,"দাঁড়া,এবার তোর পালা।"
তারা উপরে উঠার আগেই,সোনালী তাদের উপর লাফ দেয়।একে অপরের উপর পানি দেওয়া,হাঁসি ঠাট্টা, ধরাধরি সব মিলিয়ে এক অন্যরকম পরিবেশ।তিনজন মিলে কলাগাছের নৌকা বানিয়ে ফেললো।এরপর তার উপর বসলো।সজল লাঠি দিয়ে বৈঠা বানিয়েছে।তা-ই দিয়ে সে নৌকা চালাচ্ছে।নৌকার মধ্যে বসে চারপাশ দেখছে, সোনালী আর মুনি।মাথায় যাতে রৌদ না লাগে,এর জন্য কলাপাতার ছাতা বানানো হয়েছে।
বেশ সুন্দর ভাবেই, নৌকার ডিজাইন করেছে সজল।হঠাৎ আকাশে কালো মেঘ ছেয়ে যায়।মেঘলা দুপুর নিমিষেই অন্ধকারে ডুবে যায়।চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়।দেখে মনে হচ্ছে,সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হবে।আকাশে এত মেঘ দেখে,সোনালী নৌকা কিনারায় নিতে বলে।সজল নৌকা ঘোরায়।ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি শুরু পড়লো।একটু পর জোরে বৃষ্টি শুরু হলো।
সেই বৃষ্টিতে,নৌকার মধ্যেই আস্তে আস্তে সোনালী আর মুনি, নাচতে শুরু করলো।তাদের সঙ্গে সজলও যোগ দিল।নাচের মধ্যে সজল মুনির খুব কাছাকাছি চলে গেল।দুজনের চোখে মুখে বৃষ্টির পানি পড়ছে।তবুও একে অপরের দিক থেকে, দৃষ্টি সরায়নি।সজলের মাথার পানি গড়িয়ে,কান দিয়ে,মুনির মুখে পড়ছে।
সোনালীও বুঝে ফেলেছে যে,সজল মুনিকে পছন্দ করে।তাদের এই প্রাণবন্ত মুহূর্তে ঘটে এক দূর্ঘটনা।বৈঠা পানিতে পড়ে যায়।তখন তারা তিনজন, হাত দিয়ে নৌকা চালাতে থাকে।মুনির হঠাৎ মনে হয়, কিছু একটা তার হাতে লেগেছে।ভয়ে সে হাত উঠিয়ে নেয়।
-কী হলো?( সজল)
-মনে হলো আমার সাথে কিছুর ছোঁয়া লাগলো।( মুনি)
-মাছ হবে,হয়তো।( সোনালী)
-মাছ হোক আর অন্যকিছু হোক।যতক্ষণ সেটা আমি দেখতে পাবো।ততক্ষণ আমি পানিতে হাত দেব না।আমার ভয় লাগে,পানির মধ্যে কিছু থাকলে।( মুনি ভয় পেয়ে)
-আচ্ছা ঠিক আছে।( সোনালী)
মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে,সোনালী আর সজল ভেঁজে, নৌকা কিনারায় নিয়ে যাচ্ছে।যাওয়ার সময় দূরত্ব বুঝতে না পারলেও,আসার সময় ঠিকই বুঝেছে।সোনালীর হাতেও কিছু একটা লাগে।সে মাছ ভেবে,সেটাকে ধরতে চায়।কিন্তুু তখন-ই তাদের নৌকা দুলতে শুরু করে।নৌকার নিচে কিছু একটা আছে।যে নৌকাকে ডুবাতে চায়ছে।
সকলে শক্ত করে নৌকা ধরে আছে।দূরে গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে আছে, একজন লোক।লোকটি হলো কবিরাজ।কবিরাজের চোখ লাল হয়ে রয়েছে।কালো মেঘের মধ্যে তার চোখ জ্বলজ্বল করছে।সোনালী সেটা লক্ষ্য করেছে।কিন্তুু কে দাঁড়িয়ে আছে, সেটা ওতো দূর থেকে বোঝা অসম্ভব।
নৌকাকে কেউ জোরে ধাক্কা দিচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে,বেশিক্ষণ নৌকা ভেঁসে থাকতে পারবে না।মুনি খেয়াল করে, মাঝে মাঝে নৌকার পিছনে, কালো কিছু একটা উঠছে আর নামছে।মাছের লেজের মতো।তবে বৃষ্টির কারণে, স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না।তার উপর রাতের মতো, হয়ে গেছে চারপাশ।
মুনি ভালো করে দেখার জন্য, কাছে যায়।তখন-ই সেই জিনিসটা, জোরে তার মাথায় আঘাত করে।মুনি সঙ্গে সঙ্গে পানিতে পড়ে যায়।পড়ার শব্দে সজল ও সোনালী পিছনে তাঁকায়।মুনিকে ডুবে যেতে দেখে,কিন্তুু মুনি তো সাঁতার পাড়ে।কেউ হয়তো ও'কে টানছে।সজল আর সোনালী, দ্রুত পানিতে লাফ দেয়।তখন-ই নৌকাও ডুবে যায়।দুজনে মুনিকে টানতে থাকে।
কিন্তুু মুনিতে তারা নিয়ে আসতে পারছে না।মুষলধারে বৃষ্টির কারণে, সাঁতার কাঁটতেও সকলের কষ্ট হচ্ছে।সোনালী পানিতে ডুব দেয়।একে তো ঘোলা পানি।সেই সঙ্গে কালো মেঘ।কিছুই সে দেখতে পেল না।তবে অনুভব করতে পারলো,আকারে বড় কিছু একটা নিচে আছে।যে নড়াচড়া করছে।
দূরে দাঁড়িয়ে কবিরাজ হাঁসছে।তাদের করুণ দশা দেখে কবিরাজ বলে,
"আমি আমার পথের প্রতিটা কাঁটাকে, এভাবেই সরিয়ে ফেলবো।"
অট্টহাসি দেয় কবিরাজ।সোনালী আর সজল খুব চেষ্টা করে,কিন্তুু মুনি টেনে তাদের কাছে নিতে পারে না।অদৃশ্য সেই প্রাণী মুনিকে শক্ত করে ধরে রেখেছে।মুনি সাঁতার কাটতে কাটতে কাহিল হয়ে পড়েছে।সে এখন " বাঁচাও,বাঁচাও চিৎকার করছে।"
-------
সবুজ সবে মাত্র খেয়ে নিজের ঘরে এসেছে।এসে সে কম্পিউটারে এনিমে বানানোর কাজ করছে।সে বেশ ভালো এনিমে বানায়।দেখতে একদম জাপানিজ এনিমের মতো।এনিমে বানানোর সময়,তার কানে কীসব কথা আসতে থাকে।কথাগুলো প্রচুর তীব্র আওয়াজে, তার কানে বাজতে থাকে।সে " বাঁচাও,বাঁচাও" চিৎকারের আওয়াজ শুনতে পায়। তীব্র আওয়াজে তার কানে ব্যাথা শুরু হয়।সে কানে হাত দিয়ে ফ্লোরে বসে পড়ে।
-----
মুনি আর সাঁতার কাটতে পারে না।সে হাত পা নাড়ানো বন্ধ করে দেয়।তখন-ই সেই প্রাণীটি তাকে, টেনে পানির নিচে নিয়ে যায়।