ভবিষ্যতী

পর্ব - ১

🟢

১০০ বছর আগে,

সময় ঠিক রাত বারোটা,নিস্তব্ধ পরিবেশ।আশেপাশে কিছু পোকামাকড় শব্দ করছে আর আকাশে উড়ছে বাদুড়।বাদুড়ের পাখার ঝাপটায় যে শব্দ হচ্ছে,সেটা চারিপাশে শোনা যাচ্ছে।খুবই ভয়ংকর এক পরিবেশ গড়ে উঠেছে।এমন সময় স্বপ্ন রাজবাড়ির সামনে কে যেন এসেছে!অন্ধকারে তার চেহারা দেখা যাচ্ছে না।শুধু রাগে লাল হওয়া চোখগুলো স্পষ্ট লক্ষ্য করা যায়।কিছুক্ষণ বাড়ির সামনে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। এরপর সে তার এক হাত দিয়ে কেমন যেন ইশারা করলো আর সঙ্গে সঙ্গে সপ্ন রাজবাড়ির গেট খুলে গেল।

গভীর রাতে চারিপাশ যখন শান্ত শুধু কিছু পোকামাকড় আর প্রাণী ছাড়া।তখন গেট খোলার শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায় সবার। রাজবাড়ির জমিদার বাবু বেরিয়ে এলেন । বাইরে এসে তিনি যে দৃশ্য দেখলেন, সেটা দেখার জন্য মোটেও তিনি প্রস্তুুত ছিলেন না।জমিদার বাবুর বাবা নিচে পড়ে রয়েছেন। তার উপরে বসে রয়েছে একটা লোক।লোকটা জমিদারকে নিজের হাত দেখিয়ে অদ্ভুত ভাবে বলে উঠলো," বাবু,আমি এসে গেছি।"অট্টহাসি দিয়ে হাত ঢুকিয়ে দিল জমিদারের বাবারে শরীরে।জমিদার বাবু ভয়ে চিৎকার করে উঠলেন।

বর্তমানে,

নববর্ষের উৎসবে গ্রাম -বাংলা,শহর সব জায়গায় মেলা বসেছে।নতুন পোশাক আর খাবারে মেতে উঠেছে মানুষ। তামাবিল গ্রামের গোয়াইনঘাটের বাজারে বসেছে বৈশাখী মেলা।সকাল থেকেই জনে জনে লোকজন আসছে এই মেলায়।সেই মেলার যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে সোনালী।সোনালী তামাবিল গ্রামের এক কৃষকের মেয়ে। তার বাবা মৌসুম অনুযায়ী ফসল চাষ করেন আর সংসার চালান।পরিবারে সে তার মা আর বাবা।সোনালীর বাবা জাফর আলী আর মা কুলসুম বেগম।বাবার স্বল্প আয়েই চলে যায় তাদের ছোট সংসার।তবে আয় সেসরকম না থাকায় মেয়েকে পড়াতে পারেননি জাফর আলী।পরিবারের অবস্থা দেখে সোনালীও কখনো পড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেনি।সোনালীর সই ( বান্ধবী) মুনি তাকে ডাকতে এসেছে।নতুন শাড়ী পড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এলো সোনালী।পড়নে হলদু শাড়ী।গলায় ঝিনুকের মালা, হাতে কাচেঁর চুড়ি আর কানে ফুলের দুল।গায়েঁর গড়ন আর রং তার ভালো।তাই সবকিছুতেই তাকে ভারী সুন্দর লাগে।তার সই তো তাকে দেখে প্রশংসায় পঞ্চমুখ।প্রশংসার

শেষ করে তারা দুজন মিলে ভ্যানে উঠে বসল।

ভ্যানওয়ালা কাকা ( লতিফ মিয়া) তাদের পরিচিত। লতিফ মিয়া সোনালীর সাজের প্রশংসা করেন।এতে সে একটু লজ্জাবোধ করে।পাচঁ মিনিট পরেই ভ্যান এসে থামলো বৈশাখী মেলায়।

বৈশাখী মেলায় তারা দুজন ঘোরাঘুরি করতে থাকে।লোকগমের ভিড়ে মুনি আর সোনালী আলাদা হয়ে যায়।সোনালী মুনিকে খুজঁতে থাকে।হঠাৎ এক লোকের ধাক্কায় পড়ে যায় সোনালী। সোনালীর কেমন যেন হতে থাকে!সে অদ্ভুতভাবে পড়ে পড়েই লাফাতে থাকে!!আশেপাশের লোক তাকে উঠায়।সোনালী থেমে থেমে বলে," হা..ত..শক্ত... করে...ধ..রু..ন।" একজন মহিলা তার হাত ধরে নিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই সোনালী ঠিক হয়ে যায়।ততক্ষণে তাকে খুজতে খুজতে মুনি চলে আসে।সে এসেই সোনালীর হাত শক্ত করে ধরে তার পাশে বসে।

-আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ ওর খেয়াল রাখার জন্য।এখন আপনারা যেতে পারেন।এখন ওকে আমি সামলে নেব আর আপনাদের সবাই অসংখ্য ধন্যবাদ।( মুনি)

-আবার হয়েছিল আমার সাথে সেই একই জিনিস( সোনালী)

-ঠিক আছে,এখন এ বিষয়ে কথা বলার দরকার নেই।বাসায় গিয়ে যা বলার বলিস।এখন চল একটু বাইরে যাই।বাইরে গিয়ে খোলা বাতাসে গেলে তোর শরীরটাও ভালো হয়ে যাবে।( মুনি)

মুনি সোনালীকে নিয়ে মেলার বাইরে যায়।সোনালীকে গোয়াইনঘাটে বসিয়ে মুনি দোকানে যায়।দোকান থেকে সে ঠান্ডা জুস কিনে নিয়ে আসে।সোনালীর পাশে গিয়ে বসে পড়ে মুনি।জুসের বোতলের ঢাকনা খুলে তাকে খেতে বলে।ঘাটের তীব্র বাতাসে সোনালী লম্বা লম্বা চুলগুলো হাওয়ায় ভাসঁছে।বেশ ভালোই লাগছে তাকে এমন ভাবে।

-আচ্ছা আমার সমস্যার কথা কী এখন আমি মা বাবাকে বলবো??( সোনালী)

-হুম,এখন বলা উচিত।এই নিয়ে তোর সঙ্গে তিনবার এমন ঘটনা ঘটে গেল।এটাকে গুরত্ব না দিলে হবে না।তুই বরং আজ বাড়িতে গিয়ে সবটা খুলে বলিস।( মুনি)

-হুম,তাই করবো।তবে এখন নয়।আগে মেলায় গিয়ে ঘুরবো, তারপর বাড়ি গিয়ে সব বলবো।

এখন চল এখন মেলায় গিয়ে ঘুরি।( সোনালী উঠে দাঁড়িয়ে মুনির হাত ধরে)

-হুম,চল।( মুনি দাঁড়িয়ে )

অনেকক্ষণ ধরে সোনালী তার আসার পথে তাকিঁয়ে রয়েছে।যেন কারো অপেক্ষা করছে।মুনি বিষয়টা খেয়াল করে।

-কীরে কার জন্য এভাবে পথ চেয়ে বসে আসিস??( মুনি হেসেঁ)

-কারো জন্য না,চল মেলায় যাই।( সোনালী তাড়াতাড়ি ভেতরে যায়)

অন্যদিকে,

প্রায় ৬০ বছর পর নিজেদের গ্রামে এসেছে সপ্ন জমিদার বাড়ির পরিবার।এত বছর তারা সকলেই ঢাকায় থাকতো।আজ বাংলা নববর্ষের দিনে বাড়ি ফিরে এসেছে।মূলত, জমিদার বাড়ির গিন্নি ও তার শাশুড়ী আয়না ও সোহানা বেগমের জন্যই সবাই এখানে এসেছে। এজন্য পরিবারের বাকিরা এসেছে।সবাই এখানে কয়েক মাস ছুটি কাটিঁয়ে পরে আবার ঢাকায় যাবে।বড় গাড়ি করে জমিদার বাড়ি যাচ্ছে সকলে। যাওয়ার সময় তাদের নজর পড়ে বৈশাখী মেলার উপর।আয়না বেগমের এক ছেলে ও মেয়ে শান্ত আর শান্তা গাড়ি থামাতে বলে। ড্রাইভার গাড়ি থামায়।

তারা গাড়ি থেকে নেমে সোজা মেলায় যায়। আয়না বেগমের ভাইয়ের ও দেবরের ছেলেমেয়েও নেমে পড়ে।শুধু আয়না বেগমের বড় ছেলে নামে না।তার এসব পছন্দ না।শহরে বড় হয়েছে তো।এসব ভালো লাগে না। তবে বাকি ছেলেমেয়েরা শহরে বড় হলেও তাদের গ্রাম অনেক পছন্দ। তাই তো বৈশাখী মেলা দেখে আর নিজেদের আটকে রাখতে পারলো না।

বাড়ির সবাই ছেলে মেয়েদেরকে এভাবে আনন্দ করতে দেখে খুশিই হলো।কিন্তুু সবুজ!সে তো নামলো না।সবুজ বরাবরই কম কথা বলে।রাগী স্বভাবের আর খিটখিটে।তার কোনোকিছুতেই সে কারো ছোয়াঁ সহ্য করে না।আয়না বেগম তাকে দেখে একটু মন খারাপ করলেন।

- তুইও যা না,ওদের সঙ্গে একটু মেলা ঘুরে আয়।দেখবি অনেক ভালো লাগবে।( আয়না বেগম)

- ড্রাইভার বাড়ির দিকে চলো।( সবুজ)

-আহ্ দাদুভাই!এভাবে কেউ কথা বলে?এভাবে বললে তো তোমার মা কষ্ট পাবে।( সোহানা বেগম)

-দাদী, তুমি চুপ থাকো।তোমার জন্যই আমাদের এই গ্রামে আসতে হয়েছে।যতসব ছোটলোক থাকে এইখানে।এই ছোটলোকের মধ্যে গিয়ে আমি মা'কে খুশি করতে পারবো না।( সবুজ রেগে মুখ ঘুরিয়ে নেয়)।

কেউ আর সবুজকে কিছু বললো না।ড্রাইভার গাড়ি চালিয়ে জমিদার বাড়ি গেল।পরিবারের বাকি ছেলেমেয়েরা মেলায় ঘুরতে লাগলো।শান্ত সবাইকে গাইড করে মেলার বিভিন্ন জিনিস সমর্পকে বলতে লাগলো।যেটা কারোই পছন্দ হলো না। সবাই তাকে পাত্তা না দিয়ে অন্যদিকে চলে গেল।শুধু নীলা সেখানে দাঁড়িয়ে রইলো।নীলাকে দেখে শান্ত মুচকিঁ হাসিঁ দিল।

- কী হলো!তুমি যাওনি কেন?( শান্ত)

-তাহলে তুমি চাও আমি চলে যাই!ঠিক আছে চলে যাচ্ছি। ( নীলা চলে যাওয়ার অভিনয় করে)

-আরে না,তোমায় আমি যেতে বলবো কেন!তুমি আমার জানের জান।( শান্ত নীলার হাত ধরে)

-হাত ছাড়োঁ,না হলে কেউ দেখে নেবে।( নীলা হাত ছাড়াঁনোর চেষ্টা করে)

-আশেপাশে এত লোক।এই লোকের ভীড়ে কেউ দেখবে না।( শান্ত তাকে কাছে টেনে)

সোনালী আর মুনি দূর থেকে ওদের দেখে মুচকিঁ হাসঁছিল। দুজনের এত ভালোবাসা দেখে মুনি তো হাসঁতে হাসঁতে পড়েই যাচ্ছিল।সোনালীরও একই অবস্থা।তারা দুজন কষ্ট করে হাসিঁ আটকালো।যখন নীলা ও শান্তর পাশ দিয়ে ওরা যাচ্ছিল।ঠিক তখনিই তারা আর হাসিঁ আটকাতে পারে না।দুজন জোরে জোরে হাসঁতে শুরু করে।তাদের হাসিঁর জন্য শান্ত আর নীলা খুবই লজ্জা পায়।তারা দুজন দৌড় দেয়।কিন্তুু ভীড় থাকার কারণে সামনের লোকের সাথে শান্ত ধাক্কা খায়।যেটা দেখে সোনালী আর মুনি তো আরও হাসঁতে থাকে।নীলার মুখ লজ্জায় লাল হয়ে যায়।সে এক হাত দিয়ে নিজের মুখ আড়াল করে আর আরেক হাত দিয়ে শান্তকে টেনে উঠায়।এরপর তাকে নিয়ে দূরে চলে যায়।

অন্যদিকে,

সবাই জমিদার বাড়ি চলে এসেছে।অনেক বছর এখানে কেউ থাকে না।তবে বাড়ির দেখাশোনার জন্য লোক রাখা ছিল।তাই বাড়িটা এখনও নতুনের মতো রয়েছে।সবুজ গাড়ি থেকে নামলো।নিজের ব্যাগ আর জিনিসপত্র নিয়ে ভেতরে চলে গেল।যদিও দারওয়ান জিনিসপত্র নেওয়ার কথা বলে।কিন্তুু আয়না বেগমের ইশারায় আর কিছু বলে না।সবুজ নিজের জিনিসপত্র সবকিছু নিজের মতো রাখতেই পছন্দ করে।সে অন্য কারো ছোয়াঁ জিনিস রাখে না।সবুজ বাড়ির দরজায় হাত দিতেই দরজা খুলে যায়।বাড়ির ভেতর থেকে সজোরে হাওয়া এসে তার মুখে লাগে।সে ব্যাগ নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে।

তখনই জমিদার বাড়ির গোয়ালে থাকা গরুগুলো জোরে ডেকে উঠে।যেন তারা কিছু বলতে চায়ছে। সবুজ নিজের পছন্দমতো দুতলার মধ্যের ঘরটা নিল।এইখান থেকে বাড়ির পিছনের বাগান দেখা যায়।সেই সাথে পিছনের পুকুরটাও দেখা যায়।যেটা সবুজের বেশ ভালো লাগে।

আয়না,সোহানা বেগম ও বাকিরা দারওয়ানকে জিনিসপত্র ভেতরে দিয়ে আসতে বলে।সেই সঙ্গে খাবারের ব্যবস্থাও করতে বলে।বাড়ির গোয়ালে গরু,ছাগল,মহিষ এখনও পালা হয়।হাসঁ,মুরগি সব রয়েছে এ বাড়িতে।এগুলো বড় হলে গ্রামে জবাই করে মানুষদের খাওয়ানো হয়।এছাড়া মানুষকে সাহায্য করার নিয়ম এখনও চালু রয়েছে।ঠিক আগেরকার জমিদারদের মতো।

অন্যদিকে,

মেলা ঘোরার পর সকলে এক জায়গায় একত্র হয়।এরপর সবাই জমিদার বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা দেয়।প্রত্যেকে এবং সোনালী আর মুনিও একই ভ্যানে উঠে।প্রত্যেকে গ্রাম আর জমিদার বাড়ির কথা বলছে।সেগুলো সোনালী আর মুনি মন দিয়ে শুনছে।তাদের দুজনকে দেখে নীলা আর শান্ত মুখ লুকাচ্ছে।যেটা দেখে সোনালী আর মুনি আবারও হেসেঁ ফেলে।

-কী হয়েছে!এভাবে হাসঁছেন কেন??( শান্তা)

-না,কিছু না। ( মুনি)

-আচ্ছা আপনারা জমিদার বাড়ি যাবেন?( সোনালী)

-হ্যাঁ,ওখানেই যাবো।(শান্তা)

-ঘুরতে এসেছেন মনে হয়।( মুনি)

-হ্যাঁ( শান্তা)

-এখানে কাদের বাড়িতে এসেছেন আপনারা?( সোনালী)

-কারোই না নিজেদের বাড়িতে এসেছি।( শান্ত )

-নিজেদের বাড়িতে!কই,আমি তো কোনোদিন আপনাদের দেখিনি!!আপনাদের বাড়ি কই?(সোনালী)

-জমিদার বাড়িই আমাদের বাড়ি।(শান্ত)

-কী!আপনারা জমিদার বংশের লোক।( মুনি)

-হ্যাঁ!( সবাই একসাথে বললো)

মুনি আর সোনালী তো অনেক খুশি হলো।ভ্যানওয়ালা তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানালো।ধন্যবাদের কারণ জিজ্ঞেস করলে,তিনি তাদের দানের কথা বলেন।প্রতি বছরে জমিদার বাড়ি থেকে খাওয়ার আয়োজন,অসহায় মানুষকে টাকা ও জিনিসপত্র দিয়ে সাহায্য করা আর কাজের ব্যবস্থা করাসহ আরও নানা কাজের কথা বললো।সোনালী আর মুনি তাদের সবাইকে ধন্যবাদ বললো।তাদের জন্যই গ্রামটা এত সুখী আছে।

-এভাবে ধন্যবাদ দেবেন না।আমার কেমন যেন লাগে।( শান্ত)

-কেন!কেন দেবে না!!আরে না না,আপনারা দিন তো।ওর কথা শুনবেন না।আমার এমন প্রশংসা শুনতে ভালোই লাগছে।এমনিতেও সারাদিন মায়ের কাছে পড়াশোনার জন্য কথা শোনার চেয়ে এটা হাজার গুণ ভালো।( সজল)

সবাই তার কথা শুনে হাসঁতে থাকে।হঠাৎ করে ভ্যানওয়ালা গাড়ি থামিয়ে দেয়।ভ্যানওয়ালা তাড়াতাড়ি করে গাড়ি থেকে নেমে পড়ে।তাকে দেখে বাকিরাও নেমে পড়ে।রাস্তার মধ্যে কে যেন অজ্ঞেত অবস্থায় উল্টো হয়ে পড়ে রয়েছে।সজল গিয়ে লোকটাকে ঘোরালে সবার চোখ কপালে উঠে।নীলা ভয়ে ঘামতে থাকে।ভয়ে সে শান্তর শার্ট শক্ত করে ধরে।মুনি সোনালীর গায়েঁ হাত দেয়।সোনালী মুনির হাতের উপর হাত রাখে।

বাকি সবাই তো ভয়ে কাপঁতে শুরু করেছে।সজল ভয়ে দূরে সরে আসে।লোকটার দুটো চোখ কে যেন উপড়ে নিয়েছে।দুই চোখ দিয়ে অনবরত রক্ত বের হচ্ছে। হঠাৎ করে লোকটা দাঁড়িয়ে পড়লো।প্রত্যেকে ভয়ে চিৎকার করে উঠলো।ভ্যানওয়ালা ভয়ে দৌড় দিলো উল্টো দিকে।বাকি সবাই ভয়ে পেয়ে সেখানেই দাঁড়িয়ে রইলো।সবাই একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁপছে।লোকটা আস্তে আস্তে এক পা এক পা করে আগাতে লাগলো।লোকটা সোনালীর দিকে এগোতে লাগলো।ভয়ে মুনি সোনালীর হাত আরও শক্ত করে ধরলো।

লোকটা সোনালীর সামনে এসে বললো," এ তো কেবল শুরু রে।খেলা তো এখনও বাকি আছে।পারলে বাচিঁয়ে দেখা দেখি। " এই বলে জোরে জোরে হাসঁতে শুরু করলো।তার হাসিঁতে চারপাশ কাপঁতে শুরু করলো।

Story Cover