প্রেমভুবনের অতসী

পর্ব - ৮

🟢

ফারজাদ তাকিয়ে দেখল তার ছোট চাচা; অর্থাৎ অতসীর বাবা তাকে থাপ্পর দিয়েছে।

সবাই চমকিত আর আতঙ্কিত বদনে তাকায়। অতসীর মা শক্ত হয়ে বসে আছে মেয়েকে বুকে নিয়ে, আর ফারজাদের মা আঁচলে মুখ গুঁজে ফুঁফিয়ে উঠলেন। ফারজাদের ভাই বোনেরা সহ ফুফিরাও বিস্ময়-আতঙ্কে কথা বলতে ভুলে গেলো।

এসব কি হচ্ছে এই বাড়িতে? ফারজাদ ভাই নাকি তাদের অতসীকে জোর জবরদস্তি করেছে। ফারজাদ ভাইয়ের বাচ্চা ছোট্ট অতসীর পেটে। আতঙ্কে-বিস্ময়ে কথা বলতে ভুলে গেলো ভাই বোনেরা।

“সারাজীবন তো আমার মেয়েকে দুচোখে সহ্য করতে না পারার মতো অহংকার দেখিয়ে গেলি। আমার মেয়েটা অন্ধ বলে কম লাঞ্ছিত করিস নি যার তার সামনে। আর আড়ালে সেই মেয়েকে জবরদস্তি করিস? এই তোর অহংকার? সেই অন্ধ মেয়েটার কাছেই নিজের পুরুষত্ব বিলিয়েছিস শেষে গিয়ে। লজ্জ্বা করলো না তোর? তোর অহমিকা ভেঙে গুড়িয়ে গেলো না ফারজাদ?” অতসীর বাবার কাছে এমন কথা শুনে প্রত্যেকে চমকিত হলো।

মানুষটা কোনোদিন তার মেয়েকে কটুকথা বলা নিয়ে এ বাড়ির কাউকে একটা কথা শুনায়নি। শান্তিপ্রিয় বলে নীরবে যেতে দিয়েছে সব। যা পরিবারের বাকিরা দিতে পারছেনা তার মেয়েকে, তা পুষিয়ে দেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা নিজেই নীরবে করে গেছে সারাজীবন। তার আপন বোনেরাও যে তার ছোট্ট মেয়েটাকে পছন্দ করেনা এ কথাও জানে। তাও কোনোদিন এই নিয়ে কোনোরকম মন খারাপি প্রকাশ করেনি। সবাই তো অতসীর বাবা মায়েরও যে কষ্ট লাগতে পারে নিজেদের মেয়ের প্রতি বাড়ির মানুষদের অবহেলায়– এ কথা ভুলেই বসেছিল।

অতসীর ফুফিরাও একটু নিজেদের বিষয় আন্দাজ করতে পারল। ফারজাদকে যা বলছে, তা কোথাও তাদের উদ্দেশ্যেও– এমনটাই মনে হচ্ছে যেন।

“চাচ্চু…”

নরম কণ্ঠে কিছু বলতে যাচ্ছিল ফারজাদ।

“চুপ, কোনো কথা বলবি না। কোনোদিন একটা টু শব্দ করিনি আমার মেয়েটার প্রতি তোদের যা তা ব্যবহারের বিরুদ্ধে। নীরবে কাটিয়ে গেছি। আরে আমরা তো থাকিওনা এ বাড়িতে, বছরে ছ–মাসে একবার দুবার আসি। তাও তোদের অতসীকে নিয়ে হাজারটা সমস্যা। ওকে খুব অপছন্দ করিস, মানলাম। ওর শুভাকাঙ্ক্ষী নোস, তাও মানলাম। তাই বলে এভাবে শেষ করে দিলি আমার মেয়েটার জীবন? আজ আমার একটা ছেলে থাকলে, সে যদি তোর বোন প্রাচীর সাথে এমন কিছু করতো। মানতে পারতি? নাকি আমার মেয়েটা চোখে দেখেনা বলে মানুষ মনে হয়না তোর?”

সকলে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে। যা হয়েছে মোটেও ভালো হয়নি। মদ, আর ড্রাগের নেশা ভালো কিছু বয়ে আনেনা– মুখে মুখে শোনা এ কথার চাক্ষুষ প্রমাণ যেন আজকের এই অনাকাঙ্ক্ষিত আসর। অতসীর সাথে যা হয়েছে তা অন্য যে কারো সাথে হতে পারত আজ।

এই পরিবারে বাকিদের চেয়ে অতসীর বাবা–মা আর অতসী সবসময় কম গুরুত্ব পেয়েছে; তার বাবা–মায়ের ছেলে নেই বলে। যে একটা মেয়ে আছে তাকেও ত্রুটিতে ভরপুর বলে নানান ভাবে তিরস্কৃত হতে হয়। সবার ভালোবাসা আছে তার প্রতি, তার বাবা মায়ের প্রতি। কিন্তু নীরব যে অবজ্ঞা পায়– তাও অস্বীকার করতে পারবেনা কেউ।

সবার থেকে দূরে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে তারা। অতসীর বাবা তাদের জীবন আর নিজেদের জীবন দূরে রেখেছে স্ত্রী সন্তানসহ নিয়ে অন্য জায়গায় উঠে। মাঝেমাঝেই আসে; তা নিয়েও এত সমস্যা এদের। আর এখন মেয়েটাকে বরবাদ করে দিয়েছে। তার সামনে তার মেয়েকে কতো কটু কথা শুনাল বোনেরা। কই এখন তো পরিস্কার জানে যে ফারজাদ জবরদস্তি করেছে অতসীর সাথে। এখন কেন কিছু বলছেনা? অতসীর জায়গায় আজ এ বাড়ির অন্য কোনো মেয়ে হলে এতটা অপমানজনক কথা কেউ বলতে পারতো না। বাবা হয়ে মেয়ের ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি তখনও, এর মধ্যেই কত ঘৃণা-কটাক্ষের স্বীকার হয়ে গেল তার মেয়েটা, তার নিজেরই পরিবারের কাছে। আর কতো মেনে নেবে একটা মানুষ?

ফারজাদের বাবা-মা, আর ফুফিদের মাথা নত হয়ে আছে। ফারজাদের ভাই বোনেরাও পরিস্থিতি বুঝে আতঙ্কিত। অতসীর বাবা এবার সবার দিকে তাকিয়ে অতসীর খালা-খালুর উদ্দেশ্যে বলে,

“আমার মেয়ের জীবনে এমন একটা কালো অধ্যায় রচিত হয়ে আছে জানলে কখনো আপনাদের ছেলের সাথে বিয়ে দেওয়ার কথা তুলতাম না। যদিও আমি তুলেছি এমন না, কিন্তু তাও আমাদের দোষ। আপনাদের এমন অসম্মানের জন্য আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। অনাকাঙ্ক্ষিত যা হয়েছে সেসবের জন্য হাত জোর করে ক্ষমা চাইছি। ক্ষমা করে দেবেন পারলে। আর এনগেজমেন্টের বিষয়টাও এখানে শেষ করা উচিত আমার মনে হয়।” নিবিড় হাতের মুঠো চেপে ফ্লোরে চেয়ে আছে। তার সামনে অতসী ভরা আসরে এত অপমানের শিকার হলো। কিন্তু কিছু করতে পারল না। এতটা অসহায় তার কখনো মনে হয়নি নিজেকে। অতসীর বাবার শেষ কথাটা শুনে চোখ খিচে ঢোক গিলতে দেখা যায়। ফারজাদের ভাই বোনেরা তার ঠিক পেছনে দাড়িয়ে ছিল। তমসাচ্ছন্ন চেহারা নিয়ে প্রাচী এক নজর পাথর বনে নির্লিপ্তে দাড়িয়ে থাকা ভাইকে দেখে, পরপর নিবিড়কে। নিবিড় তাদের কলেজের নতুন প্রভাষক। সে হিসেবে, আর বোন অতসীর খালাতো ভাই হিসেবে চেনে কিছুটা। অতসীর প্রতি কতটা যত্নশীল নিবিড়, তা সে জানে। তার ভাইয়ের গায়ে নিবিড় হাত তুলে ফেলবে এমনটা ভয় পাচ্ছিল তারা প্রত্যেকে। কারণ তখন ঝামেলা অন্যদিকে গড়িয়ে যাবে। কিন্তু নিবিড়কে নিজেকে সংবরণ করতে দেখে স্বস্তি পেলো।

এর মধ্যে অতসীর বাবা বৃদ্ধা মায়ের দিকে তাকিয়ে বলতে শুরু করল,

“মা, আমি আজ অতসী, আর ওর মাকে নিয়ে যাচ্ছি। এটাই হয়তো এই বাড়িতে আমাদের শেষ দিন। আর কখনো এ বাড়িতে পা রাখা হবে কি না বলতে পারছিনা। তোমার নাতি, নাতনি আর সন্তানদের কোনোভাবে আমি, আমার মেয়ে আর মেয়ের মা আঘাত করেছি মনে হলে আমাদের মাফ করে দিও; আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আর এ বাড়িতে আমার সব হক, পাওনা আমি ছেড়ে দিয়ে গেলাম আজ। আমার তো কোনো ছেলে নেই। দরকারও পড়বে না এসবের। মেয়ের জন্য নিজে যা অর্জন করেছি তাতেই হয়ে যাবে। কখনো ছোট ছেলেকে মনে পড়লে আরমানকে বলো যেন ওবাড়ি নিয়ে যায়। চাইলে দেখে আসতে পারো আমাদের। আর, তোমার নাতি আমার মেয়ের সাথে যা করেছে তার শাস্তি আমি দেব না। তোমার কাছে, আর তোমাকে নাতির মুখ দেখানো দুই ছেলের কাছে আমার মেয়ের সাথে হওয়া অন্যায়ের বিচারনামা তুলে দিয়ে গেলাম। কোনো সিদ্ধান্তে আমার মত তো নাওনা, তোমরাই বাড়ির সব সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকো সাধারণত। সে হিসেবে তোমাদের অভিজ্ঞতা বেশি। আমি হয়তো অনভিজ্ঞতায় এখনো মেয়ের ধর্ষ কেরও বিচার করার যোগ্য হয়ে উঠতে পারিনি। তাই তোমরাই করো। ওর বিচার করে আমার কাছে কাউকে দিয়ে খবর পাঠিও। আমি দেখতে চাই তোমাদের উত্তম বিচারের যোগ্যতা”

সকলে চমকিত নয়নে তাকায়। কি বলছে এই ছেলে! বড় দুভাই নিজেদের দিকে তাকাল। এই অব্দি অনেক সিদ্ধান্তেই ছোট ভাইয়ের মতামত সেভাবে নেওয়া হয়নি তাদের। তবে মনে পড়লো সর্বশেষ প্রিসিলার বিয়ের কথাটাই। ওর বিয়েতে সেভাবে ছোট ভাইকে কিছু জানানো হয়নি আগে থেকে। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গেলে ফোন দিয়ে হাসিমুখে জানাত শুধু, আর বিশেষ বিশেষ দিনে বাড়িতে উপস্থিত থাকার তাগিদ দিত।

অতসীর দাদী আহাজারি করে উঠে। অতসীর মা অতসীকে নিয়ে উঠবে, তার আগে মা–মেয়ে নিজেদের সামনে কাউকে হাঁটু গেড়ে বসতে অনুভব করলো। অতসীর মা তাকিয়ে দেখতে পেলো ফারজাদকে। সে হাঁটু গেড়ে বসে অতসীর মায়ের হাত ধরে, গাঁঢ় শ্বাস টেনে বলতে শুরু করে,

“চাচীমণি, অনেক অন্যায় করে ফেলেছি তোমার মেয়ের প্রতি। কেন জানি অস্থির লাগত ওকে দেখলে, বিরক্ত লাগতো এই অস্থিরতায়। বিরক্তিতে কী করবো ভেবে না পেয়ে ওকেই কথার বানে আঘাত করেছি প্রতিবার, কিংবা কখনো সরাসরি। মনে হতো ও কষ্ট পেলে আমি ভালো থাকবো, আমার অস্থিরতা কমবে। কিন্তু আরও বাড়ত বিশ্বাস করো। এসবের কারণ কী কিছুই বুঝতে পারতাম না। তোমার মেয়েকে কষ্ট দিতাম বলে তোমারও কষ্ট হতো তাইনা?” হাতের ভাঁজে হাত নিয়ে বলে, “ওই দিনগুলোর জন্য ভেরি ভেরি সরি, চাচীমণি। ক্ষমা করে দাও প্লিজ। বিরক্তিকর মেয়েকে কখন যে ভালোবেসে ফেলেছি বুঝতে পারিনি। আসলে বিরক্তিকর ছিলইনা, ওকে আমি ভালোবাসতাম বলেই অস্থির লাগত। আমি বুঝতে পারিনি আগে। সেবার যখন ইমন বাস্টার্ডটা ওকে ছুঁয়ে দিতে চেয়েছিল? তখন থেকে রাগ লাগত ওর প্রতি। কেন আশেপাশে খারাপভাবে কেউ ছুঁতে চাইলে বুঝতে পারেনা? আর আমি একটু বকাঝকা করতাম বলে আমার থেকে একশ হাত দূরে থাকত ঘ্রাণ শুকে শুকে। আমার রাগ লাগবেনা?” ঢোক গিলে তার উপস্থিতি টের পেয়ে গুটিশুটি মেরে আতঙ্কে বসে থাকা অতসীপানে তাকায় ফারজাদ, পরপর চাচীর দিকে চেয়ে বলে, “সেদিন তোমার মেয়েকে বাড়িতে সেজেগুঁজে প্রিসিলাদের সাথে ঘুরতে দেখে কারেন্ট শক খেয়েছি মনে হচ্ছিল। ওকে তো শাঁড়ি পড়ে আগে কখনো দেখিনি বলো? মজা করে প্রাচীরা সবাই পড়েছিল। কিন্তু ওকে দেখে মনে হচ্ছিল মেয়েমানুষ জীবনে প্রথমবার দেখছি। চেয়েই ছিলাম বিশ্বাস করো। আমি আশেপাশে আছি বুঝতে পারলে সরে যেত বলে অজান্তে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছিলাম। ভাবতে পারছ আমি নাকি অতসীকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছি? কী করছি কেন করছি নিজেই বুঝতে পারছিলাম না।” গাঁঢ় শ্বাস টানে সে আবার,

“যায় হোক, পাত্রপক্ষ আসলে শাড়ি খুলে ফেললেও দেখলাম সেই সব সাঁজ থেকে গেছে। কী সুন্দর লাগছিল তোমার মেয়েকে! কিন্তু কিন্তু, আবার ঐ পাত্রপক্ষের সাথে আসা, প্রিসিলার বরের এক বন্ধু ওকে বাজেভাবে দেখছিল, ওসব সে জানেওনা। আছে খালি নিজের মতো, আমি আশেপাশে আছি বুঝতে পারলে যম আছে মতো দূরে চলে যায়। কিন্তু অচেনা লোকেদের ওসব দৃষ্টি বুঝতে পারেনা সে। রাগে মনে হচ্ছিল দুটো চড় মেরে দিই। দিয়েও দিতাম হয়তো অন্য কোনোদিন হলে। কিন্তু সেদিন যে এত সুন্দর লাগছিল ওকে! আমি পারিনি। না তো কেন এত অদ্ভুদ লাগছে ওকে দেখলে– তার কিছু বুঝতে পেরেছি। বিকেলে গেলাম রেইসে। ওকে ভাবতে ভাবতে হেরে আসলাম। সেদিন প্রথমবার বাইক রেইসে হেরেছি চাচীমণি, তুমি তো জানো আমি প্রতিবার জিতি। সেদিন হেরে গিয়েছিলাম। অতসীকে ভাবতে ভাবতে হেরেছি তা আমিও জানি। কিন্তু ওর ওপর রাগ হচ্ছিল না তাও। আমার সাথে কী হচ্ছে না হচ্ছে মাথায় ঢুকছিল না কিছু। অস্থিরতায় এ… একটু ড্রিঙ্ক করে ফেলেছিলাম। আর তারপর যা হওয়ার হয়ে গেল।”

থামে সে, সময় নিয়ে একনজর চোখ খিচে বন্ধ করে বসে থাকা অতসীপানে চেয়ে বলে, “রুমে অতসী চলে আসে। ও ভেবেছিল প্রিসিলার রুমে এসেছে। আমার রুম বুঝে চলেই যাচ্ছিল। কিন্তু নেশার ঘোরে ভুল করে ফেলেছি আমি। খুব বড় ভুল। এরপর থেকে কী জানি কী হলো! তোমার মেয়েকে ছাড়া কিছু ভাবতে পারছিনা। মদ, পানি খেয়েও আর নেশা হয়না। ছেড়ে দিয়েছি এখন ওসব। যে নেশার জন্য তোমার মেয়েকে কলঙ্কিত করে দিয়েছি অজান্তে। আই সুইয়ার ওই নেশা আর করিনি কোনোদিন এরপর।” অতসীর মায়ের হাত আরও দৃঢ়ভাবে ধরে বলে, “এখন ওকে আমি খুব ভালোবাসি বিশ্বাস করো। ওকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না। সারাদিন ফোনে, কিংবা ওর একাডেমীর ওখানে গিয়ে টিনেজ প্রেমিকদের মতো খুব জ্বালিয়েছি এ কদিন। অতসীকে ছাড়া আমি এখন কিছুই না ট্রাস্ট মি! ওকে তোমাদের কাছে চেয়ে নেবো ভেবেছিলাম। কিন্তু তার জন্য তো কিছু করতে হবে। বেকার ছেলেকে নিশ্চয় তোমার ঐ সুন্দরী মেয়েকে তুলে দেবেনা। তাই বিজনেস স্টার্ট করবো ভেবেছি। সব ম্যানেজও করে ফেলেছি। ঢাকা গিয়েছিলাম ইনভেস্টরদের সাথে মিটিং করতে। সব ঠিক থাকলে এই মাসের মধ্যেই শুরু করবো। তোমার মেয়েকে দিয়ে দাও প্লিজ। আগের ফারজাদ নেই আমি। ওকে খুব ভালোবাসি। খুব ভালো রাখব। প্লিজ দিয়ে দাও।” বড্ড ব্যাকুল কণ্ঠ তার।

সকলে বিস্ময়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে। প্রাচী-আরমান-আরোহীরা এঁকে অপরের দিকে চেয়ে যা শুনছে তার বাস্তবতা যাচাই করল। ফারজাদের বাবা-মা, চাচা-চাচী, আর ফুফিরাও হতবাক। একে তো অপছন্দের অতসীকে ভালোবেসে এভাবে হাত পেতে চাইছে তার বাবা-মায়ের কাছে। আবার নিজের বিজনেসও শুরু করছে শুধুমাত্র অতসীকে বিয়ে করতে। তার বাবা-মাও এই নিয়ে কিছুই জানত না। তাদের নিজস্ব ব্যবসায় বলে কয়েও ঢুকানো যাইনি এতদিন, আর না চাকরির কথা কখনো ভেবেছে। বাবার টাকায় বেপরোয়া জীবন, আর রেইস জিতে জিতে লটারি হাতিয়ে বিলাসিতা— এসবই তো করতো। আর এখন নাকি অতসীকে বিয়ে করবে বলে নিজে ব্যবসা শুরু করছে।

তবে বিস্মিত হলেও অতসীকে এভাবে চেয়ে নেওয়ায় সন্তুষ্ট হলো তার বাবা-মা। ছেলেকে জাতে আসতে দেখে একটু যেন ভরসা পেলো। নিজেরাও চেয়ে থাকে জবাবের আশায়।

প্রেমভুবনের অতসী পর্ব ৮ গল্পের ছবি