অতসীর এঙ্গেজমেন্টের খবর ফারিশ মহলের প্রত্যেকে জানে ফারজাদ ছাড়া। ফারজাদ বাড়িই ছিল না গত চারদিন ধরে। রাজধানীতে গিয়েছিল কোনো এক কাজে। সে সাধারণত হুটহাট ওখানে যায় বাইক রেইসের জন্যে। তার 600cc সুপারস্পোর্ট Kawasaki ZX-6R বাইক আছে; যেটা নিয়ে নিজের সব রেইসে অংশ নেয়। কিন্তু এবারে ওটা নিয়ে যায়নি। ফ্লাইটে হঠাৎ গেলো, আবার ফিরেও এলো– আজই ফিরেছে। এখনো জানেনা যে অতসীর এঙ্গেজমেন্ট ঠিক হয়েছে কারো সাথে।
অতসীকে ফারজাদ ঢাকা যাওয়ার পর থেকে বারবার ফোন দিলেও মেয়েটা রিসিভ করেনা। তাই যোগাযোগও করতে পারছেনা।
সেদিন খেতে বসেছিল ফারজাদ। বাড়িতে আরমান, আরোহী, প্রাচীসহ তাদের ফুফাতো বোনেরা কেউ নেই। বাড়ির পুরুষরাও নেই, ফারজাদের মা চাচী আর ফুফিরা ছাড়া।
ফারজাদের দুই ফুফি সন্তানদের নিয়ে প্রিসিলার বিয়ের পর আর নিজেদের বাড়ি ফিরে যায়নি। বিয়ে শেষে ধীরে সুস্থে যাওয়ার সময় হয়ে আসতেই, আবার অতসীর এঙ্গেজমেন্ট ঠিক হওয়ায় থেকে গেছে তারা। তো দুই ফুফিসহ ফারজাদের মেজ-মা সোফায় বসে চা খেতে খেতে গল্প করছিল। ফারজাদের মা তার কী কী লাগবে দেখছিল।
হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠলে সার্ভেন্ট গিয়ে দরজাটা খুলে দেয়।
সাথে সাথে প্রবেশ করলো ফারজাদের বাবা, মেজ-বাবা সহ অতসীর বাবাও। পরপর অতসীকে নিয়ে তার মা-ও ঢুকল। আর তাদের পিছু পিছু আরমান–প্রাচী, আর আরোহীসহ তাদের ফুফাতো ভাই বোনেরা।
স্বাভাবিক নেই কেউ; কেমন থমথমে ভাব চেহারায়। দেখে কিছু একটা ঘটেছে মনে হচ্ছে। তাদের এত তাড়াতাড়ি ফিরে আসতে দেখে, আবার সাথে বাড়ির পুরুষদেরও দেখে– ফারজাদের মা-সহ বাকিদের কপালে ভাঁজ পড়ে। কারণ অতসীর মা-সহ ছেলে মেয়েরা গিয়েছিল এঙ্গেমেন্টের জন্য শপিং করতে। কালই আংটি বদল করা হবে এ বাড়িতে। আর হুট করে এই সিদ্ধান্তে কেনাকাঁটার সুযোগ পায়নি তেমন। তাই আজ সবাই মিলে গিয়েছিল। অতসীকে তার মা একা ছাড়তে চায় নি বলে নিজেও যান। আর বাড়ির পুরুষরা ছিল নিজেদের কাজে। তাহলে একসাথে ফিরল কেন?
“সবাই একসাথে চোখ মুখ এমন বানিয়ে এসেছেন কেন? কিছু হয়েছে?” ফারজাদের মা
“আর তোরা না শপিং এ গেলি? এত তাড়াতাড়ি হয়ে গেলো?” ফারজাদের মেজ মা
“সবাই একসাথে কোথা থেকে ফিরলেন ভাইজান?” ফারজাদের ফুফি।
তাদের কোনো কথার জবাব দিলো না কেউ। আরমান–প্রাচী আর আরোহীসহ তাদের ফুফাতো ভাই বোনদেরও থমথমে দেখাচ্ছে খুব; সাথে চিন্তিতও। তারা একপাশে চলে এলো।
ফারজাদ নিজেও টেবিলে বসে তির্যক চোখে চেয়ে ঘটনা বুঝার চেষ্টা করছে। অতসীকে হঠাৎ বাবা মায়ের সাথে এখানে দেখে অবাক হলেও সন্তুষ্টই বটে ওর দেখা পেয়ে। মন দিয়ে আগাগোঁড়া দেখে নিলো সে। চারদিন কোনো যোগাযোগ ছিল না অতসীর সাথে। আজ এখানে ফারিশ মহলে উপস্থিত থাকবে, বা কোনো বিশেষ কারণ ছাড়া হঠাৎ এ বাড়ি আসবে –তা ভাবনায় আসেনি তার। সন্তুষ্টই হলো মনে মনে। তবে সবাইকে এমন চিন্তিত আর অস্বাভাবিক চেহারা দেখে মনে হচ্ছে গুরুতর কিছু ঘটেছে। অতসীর মায়ের চোখে অশ্রু। অতসী নিজেও কেমন থম মেরে আছে, নেতিয়ে গেছে। অসুস্থ বোধ করছে নাকি? ফারজাদের কপালে ভাঁজ পড়ে, তবে অধৈর্য হলো না।
“কি হলো? কেউ কিছু বলছেন না কেন? চোখ মুখ এমন দেখাচ্ছে কেন সবার? কিছু কি হয়েছে? আপনারা বাচ্চাদের সাথে এলেন কোথা থেকে? ওরা না শপিং এ গিয়েছিল? এঙ্গেজমেন্টের শপিং হয়ে গেছে এত তাড়াতাড়ি?” ফারজাদ মায়ের মুখে এঙ্গেজমেন্টের কথা শুনে কপাল কুচকে তাকায়। যদিও তার মায়ের এত প্রশ্নেরও কোনো উত্তর এলো না। অদ্ভুদ এক থমথমে নীরবতা কক্ষজুড়ে। কিছু পল গড়ালো। যারা বাইরে থেকে এসেছে প্রত্যেকে চিন্তিত, গাম্ভীর্য ধরে আছে।
বাকিরা চিন্তায় অস্থির প্রায়। এঁকে এঁকে নানান প্রশ্ন করলো। অবশেষে দীর্ঘ চিন্তা ভাবনার পর ফারজাদের মেজ বাবা মাথা তুলে তাকান সবার দিকে। পরপর অতসীর দিকে ফিরে মুখ খুললেন,
“অতসী মা? এসব কীভাবে হলো?” কথাটা জিজ্ঞেস করতে না করতেই সে মায়ের বুকে মুখ গুঁজে ফুঁফিয়ে উঠে। কোনো প্রতিউত্তর করল না, অবিরত অশ্রু বিসর্জন দিল শুধু।
“এভাবে কাঁঁদলে তো হবেনা। কীভাবে কি হলো আমাদের জানাতে হবে তো না কী? এসবের পেছনে কে?”
অতসী তাও উত্তর দিলো না। ফুঁফাতে থাকে শুধু। সবাই কেন এখানে এসব জিজ্ঞেস করছে? মা একটু একা কোথাও নিয়ে যাচ্ছেনা কেন! তারপর সে সবটা বলে দিত, সব। কিন্তু এখানে এত মানুষের সামনে কীভাবে বলবে সে?
ততক্ষণে আরমান ওপর থেকে দাদীকে নামিয়ে এনেছে। সবটা জানায়নি, তবে নিচে তার উপস্থিত থাকা দরকার –একথা বলে নিয়ে এসেছে। দাদী চিন্তিত বদনে নিচে এসে বসে, জানতে চাইলেন,
“কি হয়েছে? সবাই জটলা বেধে বসেছিস কেন? আর চোখে মুখের এই হাল যে? খুলে বল দেখি কী হয়েছে।”
অতসীর বাবা মাথা ঝুকিয়ে সোফায় বসে আছে। ফারজাদের বাবা মুখ খুলবে তার আগে অতসীর খালা, অর্থাৎ নিবিড়ের বাবা–মা সহ নিবিড়কে ঢুকতে দেখা যায়। অস্থির তারা; শুনেছিল যে শপিং-এ গিয়ে অতসী অসুস্থ হয়ে হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়েছে। তাই ছুটে এসেছে।
তাদের প্রবেশ করতে দেখে ফারজাদের মা আর মেজ-মা এগিয়ে গেলো সৌজন্য কথা বলতে। তারপর বসার জায়গা করে দেন।
অতসীর খালা বলে,
“অতসী মা… ঠিক আছিস তুই? এখন ভালো লাগছে?” পরপর বোনের দিকে তাকান, “হস্পিটালে থেকে সোজা এখানে নিয়ে এসেছিস নাকি ওকে?”
অতসীর মা জবাব দিলনা।
“ও হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়লো কেন? ডাক্তার কি বলেছে?” নিবিড়ের বাবা জিজ্ঞেস করে। নিবিড় নিজেও বিচলিত বদনে তাকিয়ে আছে অতসীর দিকে। তার মা জবাব দেওয়ার আগে ফারজাদের বাবা তাদের দিকে একনজর তাকায়। আগে অতসীর সাথে একা কথা বলে সবটা জেনে নিলে ভালো হবে মনে হয়েছিল। কিন্তু এখানে ইতোমধ্যে কিছু একটা ঠিক নেই– তা সবাই আন্দাজ করে নিয়েছে। এমন অবস্থায় লুকাতে চাইলে ঝামেলা বাড়বে। তাই নিজেই সবটা বললেন,
“শপিং এ ছিল, হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়লে আরমানরা ওকে হসপিটালে নিয়ে যায়। ওর বাবাকে ফোন দিয়ে জানায়। আমরা তিনভাই তখন পারিবারিক ব্যাবসা নিয়ে একসাথে আলোচনায় বসেছিলাম। ওর অজ্ঞান হয়ে পড়েছে শুনে ওখানে যাই। ডক্টর জানিয়েছে…” একটু থামলেন। মাথা নিচু করে বসে থাকা অতসীসহ বাড়ির প্রত্যেকের দিকে তাকিয়ে বলেন,
“অতসী প্রেগন্যান্ট।”
“কী?” চিৎকার করে উঠল প্রত্যেকে। কিছুসময়ের নীরবতা শেষে অতসীর দুই ফুফি হায় হায় করে আর্তনাদ করে উঠে।
ফারজাদের মা বলে,
“কী বলছেন এসব ফারজাদের বাবা? মাথা ঠিক আছে আপনার?”
“এসবের মানে কি? দুদিন বাদে এঙ্গেজমেন্ট, এখন এসব কী কথা?” নিবিড়ের মায়ের আশ্চার্যান্বিত কণ্ঠ।
প্রত্যেকে বিস্মিত।
“ডক্টর তাই বলেছে। কিছু করার নেই। তিন তিন বার টেঁস্ট করিয়ে এনেছি। অতসী প্রেগন্যান্ট।”
সবাই জমে গেল। বসার ঘরের পরিস্থিতি একেবারেই অস্বাভাবিক। বড় ফুফি বলে,
“অতসী? এসব কী শুনছি? কার বাচ্চা পেটে নিয়ে ঘুরছিস তুই? কার সাথে শুয়ে এসছিস? লজ্জা করলো না দুদিনের মেয়ে এমন রাসলীলা করতে? ছিঃ ছিঃ!!”
অতসী ফুঁফিয়ে উঠলো।
“চুপ কর তোরা। উল্টাপাল্টা কথা বলিস না।” ফারজাদের বাবা বোনের দিকে বিরক্তি নিয়ে তাকায়। বুঝতে পারছে তাদের অজান্তে অতসীর সাথে খারাপ কিছু ঘটেছে। আর এরা অতসীকেই দোষারোপ করছে।
অতসীর কান্না তার চোখের বাঁধা মানছেনা। সে কী করবে কিছু জানেনা। ফারজাদ ভাই কি এখানে নেই? এখনো ফেরেনি ঢাকা থেকে? তার অপূর্ণতার জীবনে শরীরটাও কলঙ্কিত করার যে অভিশপ্ত উপহার দিয়েছিল, তার পরিপূর্ণ ফল এসেছে আজ। এই যে সবার সামনে তাকে এতটা অপমানিত, লাঞ্ছিত হতে হচ্ছে। এসব দেখে নিশ্চয় খুব মজা পেতো এখানে থাকলে! অতসীকে কষ্ট দিয়েই তো শান্তি পায় সে।
ফারজাদের ফুফিরা ভাইয়ের কথা গ্রাহ্য করল না, কণ্ঠে একরাশ ঘৃণা আর তাচ্ছিল্য এনে বলে,
“কার সাথে রাসলীলা করে পুয়াতি হয়েছিস অতসী? চুপ করে আছিস কেন? কোথাকার ছেলে সে? নিশ্চয় কোনো গুন্ডা মাস্তানের সাথে শুয়েছিস তাইনা গান শিখতে যাওয়ার নাম করে?” অতসীর গান শেখা তাদের পছন্দ না। তাই সুযোগমতো সেই খোটা দিয়ে দিল। অতসী পেট জড়িয়ে মুখ গুজে দিলো মায়ের বুকে। তার মা, বাবা কেমন পাথর বনে বসে আছে।
ফারজাদ জমে ছিল নিজের জায়গায়। হতবাক চিত্তে সবটা শুনল। তার বিশ্বাস হচ্ছেনা এখনো— যা ঘটছে সব সত্য। তার সন্তান অতসীর পেটে। ঢোক গিলে ক্রন্দনরত অতসীর দিকে এক নজর তাকায়। মেয়েটা নেতিয়ে গেছে একেবারেই।
পরপর উপস্থিত সকলের দিকে একপলক চোখ ঘুরিয়ে তাকালো। চোখ বন্ধ করে গভীর শ্বাস টানে। পরপর কিছু বলতে মুখ খুলবে, তার আগে নিবিড়ের কণ্ঠ বেজে উঠলো সবার কানে,
“এসব নিয়ে সব কথা এখানেই শেষ হোক। অতসী এই নিয়ে কোনো প্রশ্ন করবেন না কেউ। আমাদের কালকের এঙ্গেজমেন্টটা আজ রাতে হবে। আবার বলছি অতসী আর আমার এঙ্গেজমেন্ট আজ রাতে হবে। তারপর আর বিয়ের জন্য কোনো অপেক্ষা করাকরি হবেনা। সামনের সপ্তাহেই আমি অতসীকে ঘরে তুলতে চাই।” শান্ত, আর দৃঢ় কণ্ঠ তার।
“কি বলছিস তুই? মাথা খারাপ? কার না কার বাচ্চা পেটে এসেছে ওর। ওকে বিয়ে করে সংসার করবি তুই?” নিবিড়ের মায়ের অবাক কণ্ঠ। বোনজিকে ভালোবাসেন তিনি। কিন্তু তার মানে এই না যে কার না কার বাচ্চা পেটে ধরা কোনো মেয়েকে নিজের একমাত্র ছেলের জন্য চাইবে। তবে কথাগুলো বলে কোথাও একটু দ্বিধা সংকোচ এলো মনে। কোথাও বাচ্চাটা তার ছেলেরই নয়তো? উহু, শুধু নিবিড়ের মায়ের না। বাকিদের মনেও একই প্রশ্ন এলো। সবাই তার দিকে চেয়ে আছে। নিবিড়ের দিকে সন্ধেহের দৃষ্টিতে তাকিয়ে ফারজাদের বাবা অতসীকে জিজ্ঞেস করেন,
“অতসী? কেঁদে লাভ নেই এখন। কান্না বন্ধ করো? তোমার সাথে কেউ খারাপ কাজ করেছে? জোর জবরদস্তি করেছিল কেউ? কে সে? জানাও বড় বাবাকে। আমি সব ঠিক করে দেবো। ভয় পাবেনা। সবটা জানাও।”
কেন জানি নিবিড়ের উপরেই যাচ্ছে সন্ধেহ। কোথাও এ কারনেই অতসীকে বিয়ে করতে এত তাড়া ছিল– এমন না তো?
ফুফি বলে, “ও আর কি বলবে, যা ঘটানোর তো ঘটিয়েই ফেলেছে। ছিঃ ছিঃ!! মান সম্মান সব শেষ করে দিলো।”
“আগেই বলেছিলাম গান টান শিখে ওর লাভের লাভ কিছু হবেনা। ভাইজান আর ভাবি তখন শুনলেনা। মেয়ের ভালো থাকায় তোমাদের সব এমনটা বলেছিলে না? দেখো মেয়ে তোমাদের সম্মানের কথা চিন্তা করল কী না!”
“চুপ কর তোরা। অতসী দাদুভাইয়ের কাছে শুনতে চেয়েছি - সেই বলুক যা বলার। অগ্রীম কথা বলবিনা আমার সামনে।” অতসীর দাদী।
অতসী হেঁচকি তুলে মাথা নিচু করে কাঁঁদতে কাঁদতে বলে, “আমাকে প্লিজ এখান থেকে যেতে দাও। আমি বাড়ি যেতে চাই। আমাদের বাড়ি। বাবা, মা - প্লিজ এখান থেকে নিয়ে যাও আমাকে। এখানে আমার কষ্ট হচ্ছে। ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। নিয়ে যাও আমাকে।” অতসীর ব্যাকুল কণ্ঠ।
“অতসীর সন্তানের বাবা আমি।” অতসী সাথে সাথে কেঁপে উঠে। ফারজাদ ভাই এখানে আছে?
ফারজাদ সব কথা শুনছিল নিজেকে যথেষ্ট সংবরন করে। এই নিবিড়ের সাথে অতসীর এঙ্গেজমেন্ট ঠিক করেছে এরা - এ কথা সে জানতই না। এদের কথা শুনে বুঝতে পারছে এখন। সাথে অতসীর পেটের বাচ্চাটাও নিবিড়ের ভাবছে সবাই– ভাবতেই মস্তকে তীব্র এক অনলকুণ্ড কিলবিল করছে মনে হলো।
চোখ খিচে বন্ধ করে কথাটা বলে গভীর শ্বাস টানে সে। রাগ সংবরন করে যথাসম্ভব। এদিকে তার কথা শুনে প্রত্যেকেই হতবম্ব।
“মানে? মাথা ঠিক আছে তোর?” সকলে যেন বিস্ময়ের চরম পর্যায়ে পৌঁছাল। ফারজাদের বাচ্চা অতসীর পেটে। কী বলছে এই ছেলে!
“কি বলতে চাইছ ফারজাদ?” বাবা।
“মানে এটাই যে অতসীর পেটে আমার সন্তান এসেছে। অর্থাৎ, ওর সাথে আমিই শুয়েছি।” কথাটা বলে নিজের ফুফির দিকে তাকালো সে। প্রত্যেকে এমন কথায় লজ্জ্বায় চোখ নামিয়ে নিলো।
নিবিড় চোখ খিচে বন্ধ করে ফেলেছে দাঁতে দাঁত চেপে। মনে মনে এই ভয়টাই পাচ্ছিল। কোথাও সবাইকে নিজেই না জানিয়ে দেয় ফারজাদ। আর তাই হলো।
কিন্তু অতসী যেমনই হোক, তাকে নিবিড় ভালোবাসে। অতসীকে নিজের জন্য রক্ষা করতে পারেনি তা সে বুঝেছে আগেই। কিন্তু মন মানতে চাইনি ব্যস! একবার ওকে নিজের করে ফারজাদকে যেভাবে হোক শাস্তি দিতো সে। কিন্তু পরিস্থিতি তার অনুকূলে নেই। তাও সে চুপ থাকল না,
“ফারজাদ, চুপ করো তুমি। এসব কথা আর শুনতে চাইনা। বাচ্চা-কাচ্চা, কী, কার, কেন – এসব কিছুই জানতে চাইনা আমি।। ওর আর আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে। অতীতে যাই হয়ে থাকুক। অতসী আমার ফিয়ন্সে।”
“অতসী এমনিতেও আমার। আর ও আমার বাচ্চার মাও হতে চলেছে। পেটে আমার বাচ্চা নিয়ে অন্য কারো সাথে বিয়ে বসতে দেবো ভাবলে কী করে?” ফারজাদ দাঁতে দাঁত চেপে বলে, উঠে সবার মাঝে চলে এসেছে সে।
“চুপ করো সবাই।” ফারজাদের বাবার ধমকে সবাই নিশ্চুপ হয়ে গেলো। তিনি চোখ ফিরিয়ে নিজের ছেলের দিকে তাকান, “তুমি কী বলছ তা তুমি বুঝতে পারছ ফারজাদ?”
ফারজাদ গাঁঢ় শ্বাস টেনে পূর্ণদৃষ্টিতে তার বাবাকে দেখল, রাগে কিছুটা হাঁপাচ্ছে সে। চোখ দুটো লাল হয়ে এসেছে, “হ্যাঁ, বুঝতে পারছি বাবা। হুশে থেকেই বলছি সব। অতসীর সাথে যা হয়েছে, সেসবের পেছনে আমিই আছি। ওর কলঙ্ক, দাগ, বাচ্চা - সব আমার নামেই; অন্য কেউ না।” নিবিড়ের দিকে শক্ত চোয়ালে তাকায় শেষ কথাগুলো বলে।
“অতসীর সাথে জোর জবরদস্তি করেছ?”
একটু থমকাল সে। নির্জীব অতসীর দিকে তাকিয়ে ঢোক গিলে বলে, “হ্যাঁ,”
“মদ খেয়ে নেশা করেই নিশ্চয়?”
“হ্যাঁ”
সাথে সাথে কারো থাপ্পর পড়লো তার গালে। ঘাড় বাকিয়ে মুখ নামিয়ে নিয়েছে সে।
ফারজাদ মাথা তুলে বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে দেখল তার ছোট চাচা; অর্থাৎ অতসীর বাবা তাকে থাপ্পর দিয়েছে।