প্রেমভুবনের অতসী

পর্ব - ৬

🟢

অতসী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী একটি মেয়ে। বয়স সতেরো। ছোট বেলায় কোনো এক ভয়ংকর দূর্ঘটনা অতসীর পেখম রাঙা চোখ দুটো হতে দৃষ্টিশক্তি কেঁড়ে নিয়েছিল। সেই থেকে প্রতিবন্ধী হয়েই আছে সে। অতসীর পুরো নাম অতসী ফারিশ। বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে সে। একমাত্র মেয়ে হওয়ায় বাবা মায়ের কাছে খুব আদুরে। তবে বাবা মায়ের কাছে আদুরে হলেও তার প্রতিবন্ধকতার কারণে পাড়া প্রতিবেশী-আত্মীয়-স্বজনদের বাঁকা দৃষ্টির সম্মুখীন হতে হয় প্রায়সময়।

কেউ কেউ সহানুভুতির চোখে দেখে, তবে কেউ কেউ কটু কথা শোনায় সুযোগ পেলে। অতসীর বাবারা তিন ভাই। সবাই ফারিশ মহলেই থাকে। শুধু অতসীরা ছাড়া। তার বাবা একজন সরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা। চাকরির কারণে বাড়িতে থাকা হয়না ভদ্রলোকের। এদিকে অন্তর্মুখী স্বভাবের অতসীর কাছের মানুষ বলতে তার বাবা-মা– ই। বাবার যখন চাকরির কারণে অন্য শহরে বদলি হয়, তখন প্রথম মাস দূরে থাকতে পেরেছিলেন শুধু। অতসীর বয়স তখন কম। এগারো বছরের সদ্য বয়ঃসন্ধিতে পা দেওয়া কিশোরী সে। বাবার জন্য কাঁঁদতে কাঁদতে সবাইকে অতিষ্ঠ করে তুলত। একে তো অন্ধ। তার উপর বাবা সোহাগী। তার বাবাও মেয়েকে দূরে রাখতে পারলেন না। স্ত্রী সন্তানসহ শিফট করেন নিজের চাকুরীর শহরে। এরপর থেকেই তারা শহরের বাইরে থাকে– বাড়ির অন্যদের থেকে দূরে।

অতসীর তার বাড়ির লোকেদের থেকে, চাচাতো ভাই বোনেদের থেকে– দূূরত্ব সৃষ্টি হয়। একই ভাবে ফারজাদের সাথেও তেমন ভাব ছিলনা। তার ওপর ফারজাদের তার প্রতি অজানা কারণে বিরক্তি, ঘৃণা ছিলই। নামেই ভাই বোন যেন তারা।

ফারজাদ বরাবরই একটু বেপরোয়া আর খামখেয়ালি। নিজের প্রিয় দাদুভাইয়ের কার্বন কপি সে। বয়সটা সাতাশ। ছোটবেলা থেকেই পরিবার তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। রাগ, অস্থিরতা, জেদ আর বেপরোয়া স্বভাব – এসব তার নিত্যসঙ্গী।

বাড়ির সবাই জানে সে এমন উচ্ছৃঙ্খল জীবন কাটাচ্ছে, কিন্তু বুঝিয়েও ফেরানো যায় না তাকে। কিছু ঘাড়ত্যাড়া ছেলে থাকে– তাদের ত্যাড়ামি করতে কোনো কারণের দরকার পড়েনা। বংশগত স্বভাব যেটা। ফারজাদেরও তাই।

নিজের মনমর্জি মতো থাকতে পছন্দ করে সে। লেখাপড়া শেষ করেছে দুই বছর হলো। পারিবারিক ব্যবসায় যোগ দিতে বললেও দেয় না– সাফ মানা এতে, আর না তো অন্যের চাকরি করবে।

মাঝেমাঝে নেশাপানি খাওয়ারও অভ্যাস আছে তার। দেখতে খুব সুদর্শন। নিয়মিত ব্যায়ামের ছাপ স্পষ্ট শরীরের গড়নে, আর চেহারার গঠনশৈলীসহ গায়ের রঙটা বিদেশিনী মায়ের মতো বিদেশী ধরণের। বাঙালিত্ব লক্ষ্য করা যায় না একেবারেই। ফর্সা গলায় সিলভার কালার চেইন থাকে একটা, আর চুলগুলো সিল্কি।

সেদিন রাতে অতসী প্রিসিলার রুমে যেতে গিয়ে তার রুমে চলে এসেছিল। ভুলে ফারজাদের রুমে এসে পড়েছে বুঝতে পেরে সে ক্ষমা চেয়ে চলেই যাচ্ছিল তৎক্ষণাৎ। কিন্তু ফারজাদ তখন ড্রাংক ছিল। সেদিন প্রথমবার বাইক রেইসে হেরে বাড়ি এসে একের পর এক ড্রিঙ্ক নিচ্ছিল। সাথে অভ্যাসবশত অন্যান্যভাবেও নেশা করে।

অতসী যখন গিয়েছিল– তীব্র নেশার ঘোরে তখন ফারজাদ। ঐ সময়টাই কেউ তার রুমে যায় না, তার নিষেধাজ্ঞা আছে আগে থেকে। অন্ধ অতসীকে তার এমনিতেই অপছন্দ। ন্যাকা লাগে তার মেয়েটাকে। যাই করে ফারজাদের কাছে ন্যাকামি লাগে। অসহ্য ধরণের, তার মনে হয় মেয়েটা প্রতি মুহূর্তে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে প্রত্যেকের কাছে সহানুভুতি পেতে চায়, যা তার অপছন্দ। সেদিনও একবার অন্ধ হওয়ায় চলতে গিয়ে ভুলে তার সামনে চলে এসেছিল– আরেকটু হলেই ধাক্কা লাগত। এই বিষয়টাও তার পছন্দ হয়নি তখন। সকলের সামনে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দেয়। যেন সে রাস্তা থেকে তুলে আনা কোনো উচ্ছিষ্ট।

ফারজাদ যখন সেরাতের পর সকালে নিজের সাথে এক বিছানায় অতসীকে আবিষ্কার করে–তার নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছিলনা তা। কিন্তু বিশ্বাস না হলেও কিছু করার নেই, কারণ তার স্পষ্ট মনে পড়ছিল সব। কীভাবে মেয়েটাকে রুমে দেখে রেগে কথা শুনিয়েছে। থাপ্পর মারার জন্য কাছে এসে ভয়ার্ত চেহারা দেখে নেশার ঘোরে অন্য নেশা চাপে। ভীতু চেহারাটা কিছুপল চেয়ে স্নিগ্ধ গাল দুটোতে অকস্মাৎ চুমু দেওয়ার ভাসনা জাগে। দেরি করেনি সেই ভাসনা পূরণ করতে। অতসীর গাল দুটোতে চুমু খেয়ে বসে মাতাল হয়ে তার রুপের প্রশংসা করতে করতে। তখনই অতসী আতঙ্কিত হয়ে চলে যেতে চায়।

ফারজাদ অকস্মাৎ তার গালে নিজের ঠোঁট ছুঁঁইয়ে দেবে সে ভাবতেও পারেনি। আতঙ্কিত হয়ে পড়ে সে। কিছু একটা ঠিক নেই বুঝতে দেরি হয়নি তার। চলে যেতে চায়। কিন্তু অন্ধ অতসী চলে যেতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে মাতাল ফারজাদের গায়েই পড়ে।

অনাকাঙ্ক্ষিত আলিঙ্গন হয় দুজনের মধ্যে। ফারজাদের হাত ঠেকে তার কোমরে। আতঙ্কে শ্বাস প্রশ্বাসের গতি বেড়ে গিয়েছিল তার। এতে তার কমনীয় বক্ষযুগলের উঠানামা নিজ বক্ষে অনুভব করে মাতাল ফারজাদ আরও হুশ খুইয়ে ফেলে। অতসী নিজেকে ছাড়িয়ে চলে যেতে চাইলে পেছন থেকে জড়িয়ে নিয়ে সেখানে চেপে ধরে অকস্মাৎ। অতসী চিৎকার করতে মুখ খুলেছিল। কিন্তু ফারজাদ তার গায়ের ওড়না খুলে মুখটা বেধে দিয়েছে। তারপর দৃঢ়ভাবে হাত বুলাতে থাকে সারা শরীরে। অপরহাত কামিজের ফাঁক দিয়ে পেটে, কোমরে বিচরণ করছিল। রুক্ষ সেই হাত দুটোর ছোঁয়া সইতে না পেরে অতসী বারবার ছাড়া পেতে চেয়েছে। কিন্তু ফারজাদ ছাড়েনি। এরপর আস্তে আস্তে পোশাক খুলে বিবস্ত্র করে বিছানায় ফেলে দেয়। নিজেও বিবস্ত্র হয়ে শুরু করে পাশবিক নির্যাতন।

সবটা সকালে মনে পড়েছে ফারজাদের। অতসীকে পাশে দেখে মস্তিষ্কে চাপ প্রয়োগ করে ভাবতে গিয়ে সব মনে পড়েছে তার। সে তীব্র আফসোস আর গ্লানিতে মুখ ঢেকে নেয় হাতে। শরীর তখনো বিবস্ত্র। আকস্মিক কী ভেবে চমকে উঠে। বিছানায় শুয়ে থাকা অতসী নাকের কাছে আঙ্গুল নিয়ে শ্বাস কেমন নিচ্ছে দেখল। চলছে; তবে ধীরে। ফারজাদ কী করবে ভেবে পাচ্ছিল না তখন। অতসীর মায়াবী, ক্লান্ত চেহারাটা দেখে সেদিন আর বিরক্ত লাগেনি, আর না অসহ্য লেগেছে মেয়েটাকে। আফসোস হচ্ছিল তার। কী হয়ে গেল!!

ফারজাদ সেদিন দেখে –কেমন নিস্তেজ অতসীর শরীরটা। কী ভেবে চাঁদর কিছুটা তুলে নেয় অতসীর শরীর থেকে। উন্মুক্ত হয় নারী দেহখান। সব স্পষ্ট তখন ফারজাদের সামনে। নরম নারী অঙ্গ দুটোতে দাঁত বসে গেছে। দাগে, আঁচরে লাল হয়ে আছে সারা অঙ্গ। ফারজাদ আর দেখতে পারল না। সারারাত নিজের পাশবিক নির্যাতনের চিহ্ন নিজেই দেখতে পারল না। আফসোসে, আত্মগ্লানিতে ভরে উঠল তার ভেতরটা। চুল টেনে ছিড়ে ফেলতে ইচ্ছে করছিল নিজের। অনেকক্ষণ মাথা নামিয়ে কিছু ভাবতে ভাবতে চোখ তুলে তাকায় অতসী পানে। মায়াবী মুখটা দেখলে গ্লানি যেন বাড়ছে। সাথে এতকিছুর মধ্যেও সে এই মেয়েটার সাথে অন্তরঙ্গ হয়েছে ভেবে মুখটা খুটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছিল আনমনে। নাইট ক্লাবে মাতাল হয়ে রাতের পর রাত পড়ে থেকেছে কতবার। কতো মেয়ে চেয়েছে একরাতের জন্য ঘনিষ্ঠ হতে, কিন্তু সে মাতাল অবস্থাতেও ঐ অর্ধউলঙ্গ মেয়েগুলোকে উপেক্ষা করতে পেরেছে। আর কাল কী না এই সামান্য পিচ্চি মেয়েটাকে দেখে হুশ খুইয়েছে!! যদিও এখন দেখে আর পিচ্চি লাগছে না। ফারজাদের পাশবিক ছোঁয়ায় অবাঞ্চিত দ্যুতি এসেছে তাতে। এক রাতেই বড় হয়ে গেলো কেমন!

কিন্তু এই মেয়েতে ফারজাদ এতটা হুশ খুইয়েছে? অবাকই হয়েছিল সে। বেহুশ অতসীকে দেখতে দেখতে সেদিন অতসী তারই থাকবে– এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছিল।

তারপর যা যা করার সব করে অতসীকে হুশে এনেছে।

“অতসী? উঠ… এই অতসী। চোখ খোল প্লিজ।”

“অতসী ক্যান ইউ হিয়ার মি? ওয়েকাপ গার্ল…অপেন ইউর আই’স…” চোখে মুখে পানির ছিটকা দিয়ে গালে হাত রেখে ডাকে সে বারবার। অনেকবার ডাকে। কিন্তু অতসীর হুশ আসেনি। শেষ একবার পানি ছিটকা দিয়ে হাত পা মেজে দিতেই ক্লান্তিভরা চোখ দুটো আধো আধো ভাবে খুলতে দেখা যায় তখন।

ফারজাদ কাছে আসে। তার উপর ঝুকে কিছুটা। দেখছিল আদৌ জ্ঞান ফিরেছে কী না!

অতসী চোখ খুলে কিছুপল নিশ্চুপ থাকল। চোখের মণি সম্মুখ বরাবর উপরে। কিন্তু দৃষ্টি না থাকায় ওভাবে তাকিয়ে থাকলেও আদতে কিছু যে দেখছেনা তা জানা কথা। কিছু মুহূর্ত সময় নিয়ে সে সবটা মনে করতে পারল। এখনো সে কী ফারজাদ ভাইয়ের কাছে আছে? জানা নেই তার। তবে তার সম্মান আর নেই তার কাছে। সেটা গতরাতেই খুইয়েছে এটুকু তার মনে ছিল। তাই কোনো অস্থিরতা দেখালনা, কারণ তখন চিৎকার চেঁচামেচি করে আর লাভ নেই। নিশ্চুপভাবে পড়েই রইলো।

“অতসী” বড্ড ক্ষীণ সেই ডাক। নিম্নস্বরটা শুনে যে কারো আশ্চর্য হওয়ার কথা। সবসময় বুক উচিয়ে কথা বলা, কর্কশ কণ্ঠে অতসীকে অপমান করা সেই কণ্ঠটা এত তেজহীন হয়ে এলো আজ? অবাকই হওয়ার কথা ফারজাদকে যারা জানে তাদের। কিন্তু অতসীকে সেসব ভাবতে দেখা যায়নি। সে বড্ড কাতর কণ্ঠে আওয়াজ তুলেছিল,

“ছেড়ে দিন ফারজাদ ভাই। প্লিজ… আর কখনো আপনার রুমে পা রাখব না। আমি অনেক বড় ভুল করে ফেলেছি। ক্ষমা করে দিন। আপনাকে সামনে থেকে আমার চেহারাটাও দেখাব না আমি প্রমিস করছি… আর করবেন না এসব। আমি খুব ব্যাথা পাই। আপনি ভারি, আমার কষ্ট হচ্ছে সারা শরীরে।”

ফারজাদ কিছু বলেনি তখন। উদ্দেশ্যহীন গন্তব্যে চেয়ে থাকা অতসীর কাতর কণ্ঠে বলা কথাগুলো নিশ্চুপ থেকে শুনেছিল শুধু।

ফারজাদ প্লেনে বসে আছে এই মুহুূর্তে। কানে হ্যাডফোন গুঁজে গান শুনতে শুনতে ভাবছিল সেদিনের সবটা। জানালা দিয়ে শুভ্র মেঘপুঞ্জ দেখতে দেখতে এর মধ্যে অতসীর কান্নাভেজা মুখটা চোখে ভাসলো তার। সবখানে মেয়েটা! চোখ বুজে শ্বাস টেনে সিটে মাথা এলিয়ে দেয়।

_______

অতসীকে জানানো হয়েছে যে নিবিড়ের সাথে তার বিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছে বড়রা। অতসী স্থবির হয়ে শুনলো তা। তার কাছে প্রতিউত্তরে কিছু বলার মতো ভাষা নেই। বিয়ে নিয়ে এই অব্দি কোনোকিছু ভাবা হয়নি তার। অন্ধ অতসীর বিয়ে কীভাবে হবে এই নিয়ে পাড়া, প্রতিবেশীসহ আত্মীয় স্বজনদেরও নানান হাঁ হুতাশ। অন্ধত্ব বরণ করার পর থেকেই এসব শুনে এসেছে সে। আর সেই সাথে তার বিয়ে নিয়ে স্বপ্নটাও গড়ার আগে ভেঙেছে। তাও মনের কোণে সুপ্ত চাওয়া থাকতো– যে, কেউ একজন আসবে তার জীবনে। যে তার অপূর্ণতাসহ তাকে মেনে নেবে। কিন্তু সেই অপূর্ণতাকে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখবেনা। বরং ছোট্ট একটা খামতি মনে করে, সেই খামতির কারণে যাতে অতসীকে পীড়া পেতে না হয় –সেই খেয়াল রাখবে। নিজের চোখে অতসীকে দুনিয়া দেখাবে।

কিন্তু তার সব আশা যেদিন ফারজাদ ভাই তার শরীরে কলঙ্ক লাগিয়েছিল– সেদিনই ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।

যদি স্বপ্ন পুরুষের এত এত ভালোবাসার বিনিময় সে সতীত্ব উপহার দিতে না পারে, তাহলে সেই স্বপ্ন পুরুষকে চাওয়ায় তো পাপ। তাই ঐদিনের পর থেকে আর বিয়ে নিয়ে কোনো স্বপ্ন সে দেখেনি। ফারজাদ ভাই শরীরি মোহে অতসীতে আটকেছে। যেদিন মোহ কেটে যাবে– সেদিন তারও কোনো মূল্য থাকবেনা। এ কথা অতসী ভালো জানে। কিন্তু নিবিড় ভাইয়ের মতো একজন ভালো পুরুষকে সে কি করে ঠকাবে? তাছাড়া নিবিড় ভাইয়াকে সে ভাইয়ের নজর ছাড়া অন্য কোনোভাবে ভাবতেই পারছেনা।

অতসী খুব আপত্তি করে এই নিয়ে। কিন্তু সেই আপত্তি অতসীর মা তার বাবার কান অব্দি পৌছাতে দিল না। অতসীর মা খুব করে চান এই বিয়েটা যেন হয়। বোনের কাছে যাবে তার অপূর্ণ মেয়েটা– এর থেকে খুশির কথা আর কি হতে পারে? অতসীকে নানান কিছু বুঝাণ, একপ্রকার মানসিকভাবে চাপে ফেলেন, তার প্রতিবন্ধকতা তাকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে একপ্রকার ইমোশনাল ব্ল্যাকমেল করে রাজী করিয়ে ফেলেন তিনি।

স্বামীর কানে অতসীর আপত্তি একবার গেলে কোনোভাবেই আর এই বিয়ে হওয়ার সুযোগ থাকতনা। তাই নিজেই মেয়েকে বলতে এসেছিলেন। আর যেমনটা চেয়েছেন– তাই হলো।

_____

অতসীর এঙ্গেজমেন্ট তারিখ ঠিক করা হয়েছে। আর মাত্র দুদিন পর তার সাথে খালাতো ভাই নিবিড়ের আংটি বদল।

এঙ্গেজমেন্টের পর নিবিড় আর তার খালাতো ভাই থাকবেনা। সে নিবিড়ের বাগদত্তা হয়ে যাবে তখন। তারপর একসময় বিয়ে হবে, সংসার করতে হবে নিবিড়ের সাথে। এ ভেবে বড়ই পীড়া অনুভব হচ্ছে অতসীর হৃদয়টাতে। কত ছেলের শয্যায় যাবে সে?

অতসী ঠিক করেছে মায়ের কাছে আপত্তি জানাতে না পারলেও নিবিড়কে যেকোনো ভাবে সে বোঝাবে। শুধু একবার দেখা হোক। এই বিয়েটা সে করতে চায় না জানলে নিবিড় নিজেই সবাইকে মানা করে দেবে বিশ্বাস আছে তার। নিবিড় তার সব কথার গুরুত্ব দেয়, বাকিদের মতো হেলায় শুনেনা।

অতসীর এই বিয়ের কথা চলায় কেন জানি সেদিনের সবকিছু ভীষণ মনে পড়ছে। সাথে নিজের প্রতি, ফারজাদ ভাইয়ের প্রতি– রাগ-ক্ষোভ বাড়ছে। সেদিনের পর থেকে কতবার তার বাবা–মা তার কী হয়েছে জানতে চাইল! কেন অসুস্থ লাগছে, কোথাও খারাপ লাগছে– কতবার যে জানতে চাইল মানুষদুটো। আর সেও কতবার বলতে গিয়েও পিছিয়ে এসেছে।

‘এরপর কী হবে?’ – শুধু এ কথাটা ভেবে ভেবে।

ফারজাদের জায়গায় অন্য কোনো পুরুষ হলে সে হয়তো এতটাও ভয় পেতনা। কিন্তু তার পরিবার কী ফারজাদ মীর ফারিশকে উপেক্ষা করে অতসীর দৃষ্টিকোণ থেকে সবটা দেখবে? তার হয়ে কথা বলবে তার বাবা-মা ছাড়া আর কেউ? এতে তার কারণে তার বাবা-মায়ের বাড়ির সবার সাথে সম্পর্ক খারাপ হয়ে যাবেনা?

অতসীর ফারজাদের তার প্রতি দেখানো যত্ন, ভালোবাসাময় মুহুূর্তগুলো মনে পড়লে নিজেকে কিছু একটা করে দিতে মন চায়। কেন সে কড়া গলায় ঐ মানুষটাকে মানা করতে পারেনা? কেন তার সেই সাহস হয়না? কেন অতসী সবটা বাবা-মাকে জানানোর সাহস করে উঠতে পারেনা? আর কেনইবা নিজেকে শেষ করার সাহসও পায়না সে?

এত ভীতু অতসী? অতসীকেই এত ভীতু হতে হলো?

প্রেমভুবনের অতসী পর্ব ৬ গল্পের ছবি