প্রেমভুবনের অতসী

পর্ব - ৫

🟢

ফারজাদ কয়েক টান দিয়ে ব্যাল্কনির রেলিং এর কাছে এগিয়ে কোথাও ছুড়ে ফেলল সিগারেটটা। পরপর মাউথ ফ্রেশ্নার মুখে পুরে।

এর মধ্যে আতঙ্কিত অতসী বেশ কয়েকবার ‘কে কে’ শব্দ করে কে এসেছে তা জানতে চেয়েছে। মুখ ফ্রেশ করে সিগারেটের গন্ধ দূর করে তবেই অতসীর কাছে এগিয়ে গেলো ফারজাদ। বসে থাকা অতসীর পেছনে গিয়ে মাথা নামিয়ে তার কাঁধ বরাবর আনে। হাত দুটো নিজের পেছনে। অতসীর পেছনে দাড়িয়ে কানের কাছে ফিসফিস করে বলে,

“চিনে নাও কে…” তারপর কানের কাছে মুখ রেখেই গালে ফুঁ দেয়। অর্থাৎ ঘ্রাণ শুকে চিনে নেওয়ার আহ্বান।

অতসী অকস্মাৎ অতি নৈকট্যে এহেন মাদকতা মেশানো কণ্ঠ শুনায় চমকিত হয়ে দূরে সরে যেতে চায়, কিন্তু ফারজাদ তার বাহুতে হাতের সংযত স্পর্শ দিয়ে থামিয়ে দিল। অতসী কণ্ঠস্বর শুনে মনে মনে ফারজাদকেই আন্দাজ করছে, তবু নিশ্চিত না হওয়ায় স্নিগ্ধ মুখটা ফিরিয়ে নিলো ফারজাদের দিকে। আরেকটু এগিয়ে তার কাছে নিলো মুখটা।

অতসীর গালে ফারজাদের খোঁচা খোঁচা দাড়ির ছোঁয়া লাগে। খুব কাছে তখন দুজনে। ফারজাদের গাল আর কানের দিকে অতসীর নাক-মুখ। ঘ্রাণ শুকছে অনুদ্দেশ্যে অন্ধ দৃষ্টি ফেলে। আর ফারজাদ কাছ থেকে তার মুখটা দেখছে খুটিয়ে খুঁটিয়ে। অতসী নাকে ঘ্রাণ শুকতে শুকতে হাত দিয়ে ছুঁয়ে দিলো ফারজাদের খোঁচা খোঁচা দাড়িযুক্ত গালটা। কে নিশ্চিত হয়ে আনমনে উচ্চারণ করলো,

“ফারজাদ ভাইয়া…?”

“উই হ্যাড সে* বর্ষা… ডোন্ট কল মি ভাইয়া। ইউ এন্ড আই… উই স্লেপ্ট টুগেদার।” তখনও খুব কাছে দুজনে। বেঞ্চিতে বসে থাকা অতসীর দিকে ঝুকে আছে ফারজাদ। তার কথাটা শুনে কেঁপে উঠে অতসীর নরম কায়া। কোমল হাতের আঙ্গুলে গালে রাখা হাতটা সিগারেট পোড়া ঠোঁট দুটোর উপর এনে ঈষৎ চেপে ধরলো। খুব অল্প তার ছোঁয়া। চোখ আর ঠোঁট দুটো কাপঁছে।

“এসব বলবেন না ভাইয়া, প্লিজ।” অনুরোধ স্বর তার।

“উফফফ… ইংরেজি বুঝো না তুমি? আমরা শুয়েছি একসাথে। কী কী করেছি সব ভুলে গেছ তুমি? ভাইয়া ডাকছ!”

অতসীর চোখে পানি চলে এলো, কিছুটা অসহায়ত্বের ছাপ দেখা গেলো সেথায়। নাক লাল হয়ে আসছে কান্না আসতে চাওয়ার দরুন। চোখ বন্ধ করতেই অশ্রু গড়িয়ে পড়ে টুপ করে। ফারজাদ তা দেখে কিছুটা অধৈর্য হয়ে বলে,

“উফফ, কাঁদবেনা। এই মেয়ে, কাঁদছ কেন? কাঁঁদবেনা একদম। তুমি কাঁঁদলে কেমন জানি লাগে আমার বুকের ভেতর। এই তুমি কাঁদবেনা একদম।” বলতে বলতে তার পাশে বসে যায় ফারজাদ।

অতসীর দুগালে হাত রেখে ভেজা চোখ দুটোতে ঠোঁট বসিয়ে অশ্রুকণাগুলো শুষে নেয়। অতসী একহাতে ছাড়াতে চাইছে, কিন্তু লাভ হয়না। হেচঁকি তুলে কাঁঁদতে চাইছে বুঝে তার ভেজা অধর জোড়ার ভাজে দৈবাৎ স্বীয় অধর গলিয়ে দেয় ফারজাদ। অধরসুধা পান করতে থাকে অবিরত।

অতসী কী যেন ভেবে আর ছাড়া পাওয়ার চেষ্টা করেনা তেমন। মাত্রই তো সে রাতে কী কী করেছিল মনে করিয়ে দিয়েছে। আর আঁটকে কী-ই বা করবে!

কিছু সময় পর ছেড়ে গালে গাল ঠেকিয়ে ফারজাদ বলে,

“খালি তোমাকে মনে পরছে অতসী। সেই রাতের পর থেকে খালি তোমাকে মনে পড়ছে। চারদিকে তোমাকে দেখি। হাঁঁটতে গেলে, বসতে চাইলে, উঠলে, এদিকে গেলে, ওদিকে গেলে, ঘুমাতে গেলে –সবখানে তুমি আর সেই রাত। আমার পিছু ছাড়ছেনা কোনোভাবে। একটা ভুল আমাকে অনুশোচনায় দগ্ধ করছিল প্রতিনিয়ত। তোমার অপরাধী ভেবে নিজেকে শেষ করে দিতে ইচ্ছে করছিল।

কিন্তু এত এত অস্থিরতা, আত্মগ্লানি –এসবের মাঝেও আমার শুধু তোমাকে দেখতে মন চায়। শুধু তোমাকে নিজের কাছে রাখতে মন চায়, চেয়ে চেয়ে তোমার চোখ দুটোর গভীরে ডুবতে মন চাই। কখনো ইচ্ছে করে তোমার…” ঢোক গিলে বলে, “তোমার পা দুটো ধরে ক্ষমা চেয়ে নিতে। কিন্তু আমি তা করবো না, কখনোই না। সে রাতটা না আসলে আমার এত এত বিরক্তির মাঝে একরাশ মুগ্ধতা জমে ছিল তোমার জন্য, তা কখনো বুঝতে পারতাম না। সারাজীবন তোমার প্রতি অস্থির এক অনুভবকে বিরক্তি ধরে নিয়ে থেকে যেতাম। আর তোমাকে ক্ষণে ক্ষণে কষ্ট দিয়ে যেতাম। অথবা বুঝলেও দেখা যেতো ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে। তুমি অন্য কারো, আর আমি অন্য কারো। এর চেয়ে সে রাতই ভালো ছিল তাইনা?” থেমে গালে রাখা হাতটা একটু ওখানে ঘষে বলে, “অন্য কারো হওয়ার আগে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবেই হোক আমার হয়ে গেলে তুমি। আমার কেন জানি এখন আর আফসোস লাগেনা। একটুও না। তুমি আমার– এটাই বরং মনে করিয়ে দেয় সেই মুহুূর্তগুলো।”

অতসী অসহায় কণ্ঠে হাত সরাতে চেয়ে বলে, “ফারজাদ ভাইয়া, এখান থেকে চলে যান প্লিজ।”

সে পাত্তা দিল না, গালে রাখা হাত আরও দৃঢ় করে নিজের মতো অধৈর্য কণ্ঠে বলতে থাকে,

“ট্রাস্ট মি অতসী, ঐ ঘটনার পর থেকে আর কোনো নেশাপানি আমার ওপর কাজ করছেনা। অথচ তোমার চেহারাটা মনে পরতেই নিজেকে মাতাল লাগে। চোখ দুটো মনে আসলে আফিম নিয়েছি মনে হয়। তোমার চোখের গভীরে ডুবতে মন চায়। নেশা না হওয়ায় বিরক্ত হয়ে মদ খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি, ড্রা /গস নেওয়া ছেড়ে দিয়েছি। সিগারেটও খাইনা এখন ট্রাস্ট মি। আমার এত স্বাদের সিগারেট ভালো লাগছেনা বলে আজ জেদ নিয়ে তোমার সামনে তোমাকে দেখতে দেখতেই কয়েক টান দেব ঠিক করে এখানে চলে এসেছি। তাও দেখো দু-টানের বেশি দিতে পারিনি। ফেলে দিয়েছি। তোমার পাশে ওসব নেশা কিচ্ছু না। তুমি ভিন্ন অতসী। পুরোটাই ভিন্ন।”

কথাগুলো বলে কোলে উঠিয়ে বসায় কোমল দেহী অতসীকে। তার দুপায়ে কোমর জড়িয়ে। অতসী হতবম্ব হয়ে ভারসাম্য ঠিক রাখতে ফারজাদের গলা জড়িয়ে ধরে দুহাতে। এভাবে বসায় তলদেশে একে অপরের প্রেমভুবনের শিহরণময় অনুভূতি পেলো। ফারজাদ আরও ঘনিষ্ঠ করে বসায় তাকে। অনুভূতিপূর্ণ প্রেম স্পর্শে অতসীকে চূড়ান্ত পর্যায়ে কাহিল করে ফেলে সে। আবেশে অতসী আরও শক্ত করে ফারজাদের দিকে ঝুঁকে বসে।

“আই লাভ ইউ অতসী। লাভ ইউ সো মাচ।” কথাটা বলে উন্মাদের মতো করে তার গলদেশে চুমু দিতে দিতে আরাম না পেয়ে পোশাকের ফিতা খুলে দেয়। এতে পড়নের জামার গলাটা উন্মুক্ত হয়ে গেলো। বক্ষের নরম ঢেউখেলানো সীমা দৃশ্যমান, ফারজাদ ঠোঁট ছোয়ায়, দাঁতের স্পর্শ দেয়। অতসী ব্যথায় আর্তনাদ করে উঠে ফারজাদের মাথার চুল টেনে। কান্নাভেজা কণ্ঠে বলে,

“ছেড়ে দিন ফারজাদ ভাই। এমন করবেন না প্লিজ।”

“তোমার ভালো লাগছেনা অতসী?”

“লাগছে না ছেড়ে দিন।”

“কিন্তু তোমার শরীর অন্য কথা বলছে।”

“বলুক, মন আর শরীর এক না। বিপরীত লিঙ্গের স্পর্শে সবার শরীর বেইমানি করে কম বেশি। কিন্তু আপনি আজ আমাকে প্রলুব্ধ করে আবার ওসব করলে। আমি নিজেকে শেষ করে দেবো।” দৃঢ় কণ্ঠ ক্রন্দনরত অতসীর।

ফারজাদ থেমে গেল। তার অশ্রুসিক্ত চোখ দুটো এবার পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে সেকেন্ড দুয়েক তাকায়। পরপর আলগা করে অতসীর কোমরে রাখা হাতের বাধন। তবে একেবারে না ছেড়ে, কিছুক্ষণ জড়িয়ে রাখে নিজের বুকে। মাথায় আর পিঠে সান্ত্বনার হাত রেখে সময় নিয়ে ধীরে বলে,

“আজকের বাইক রাইডটা ভালো লেগেছে?”

অতসী জবাব দেয় না। নাক টানে শুধু, সাথে ঘন শ্বাস প্রশ্বাস।

“জবাব না দিলে আবার শুরু করবো কিন্তু।”

“লেগেছে।”

“আবার যাবে আমার সাথে বাইক রাইডে?”

“কক্ষনো না।”

“উহু, যেতে হবে। একদিন নিয়েই যাবো দেখো।”

অতসী জবাব দিল না। ফারজাদ ফের বলে,

“নিবিড় না টিবিড় কী জানি তোমার খালাতো ভাই? ওর থেকে দূরে থাকবে। বুঝেছ?”

“কেন?”

“আমার পছন্দ না তোমার সাথে ওর কথা বলা।”

“আপনার অপছন্দ হলে আমার কি?”

“তোমার কী তা ঐ ছেলের সাথে কথা বলে দেখো! তারপরই বুঝবে।”

এভাবে আরও কিছুক্ষণ নানান কথা বলে সময় কাটিয়ে চলে যায় ফারজাদ। অতসী তার সাথে কথা বলতে বলতেই ঘুমিয়ে পড়েছিল কোলে। ফারজাদ তা বুঝে বিছানায় এনে ঠিক করে শুইয়ে দিয়েছে। তারপর গালে আর কপালে প্রেমস্পর্শ দিয়ে চলে যায় নিজের রুমে।

________

পরদিন অতসী বাবা মায়ের সাথে বাড়ি ফিরে গেলো। সে একটা গান শেখার প্রতিষ্ঠানে পড়ে। কয়েকদিনের ছুটি নিয়েছিল অসুস্থতার কারণে। এখন নিয়মিত হয়েছে আবার। একটা স্কুলেও পড়তো সে। প্রতিবন্ধিদের জন্য খোলা স্কুলটা। তার মতো দৃষ্টিশক্তিহীন, কিংবা বাক শক্তিহীন, শ্রবণ শক্তিহীন, মানসিক প্রতিবন্ধি, হাত-পা বিহীন –এমন অনেক ছাত্র ছাত্রী পড়ে স্কুলটাতে।

এখন সে কলেজে উঠেছে নতুন। তবে যাওয়া হয়নি সেভাবে। তার বাবার সাথে প্রিন্সিপালের পরিচয় থাকায় ওখানে তাকে বিশেষভাবে দেখে রাখার নির্দেশ দেওয়া আছে।

বাড়ির গাড়ি নিয়ে তার জন্য রাখা বুয়ার সাথে এখন কলেজে যায় সে, আর গানের প্রতিষ্ঠানটিতেও। ফারজাদকেও ওখানে আশেপাশে দেখা যায় মাঝেমধ্যে। অনেকবার অতসীর অনিচ্ছা সত্ত্বেও কথা বলেছে জোর করে। অতসী বুয়া আর ড্রাইভারকে বলে রেখেছে যেন ফারজাদকে দেখলে বা তার আদেশে কখনো না থামে, বরং তাকে উপেক্ষা করে যায়।

কিন্তু ফারজাদের বুয়া আর ড্রাইভারের দিকে শান্ত দৃৃষ্টিতে তাকালেই হয়ে যায়। তারা ওদের দুজনকে আলাদা ছেড়ে চলে যায় অন্যদিকে।

ফারজাদ জোর করে অতসীকে নিয়ে ঘুরতে চলে যায়, ক্যাফেতে বসে, পার্কে নিয়ে যায়। অতসী আপত্তি করলে তাকে ধমক দেয়। আবার আদর আদর নিয়ে কথা বলে। তাকে দেখেশুনে রাখে। এভাবে বেশ কয়েকদিন কাটল।

কিন্তু সেসব অতসীর খালাতো ভাই নিবিড়ের চোখে পড়ে গেছে।

প্রথম প্রথম ফারজাদের আর অতসীর এমন স্বাভাবিক চলাফেরা–মিলমিশ দেখে অবাক হলেও; ওদের মধ্যে কোনোরকম প্রেম প্রেম অনুভূতিময় কিছু থাকতে পারে তা মাথায় আনেনি। কারণ অবশ্যই তারা চাচাতো ভাই বোন। আগে যতোই অপছন্দ করুক, এখন ভাই বোন হিসেবে মেলবন্ধন হলেও হতে পারে; এমনটাই ভেবেছে নিবিড়।

কিন্তু খেয়াল করে দেখল ফারজাদের অতসীর প্রতি আচরণ মোটেও ভাই–বোনে বন্ধনের মতো না। ফারজাদের দৃৃষ্টিতে অন্যকিছু। অতসীর প্রতি মুগ্ধতা তার চোখে, অতসীকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। এসব মোটেও স্বাভাবিক নয়। নিবিড় বেশ কয়েকবার আদর যত্ন নিয়ে ফারজাদকে অতসীর মুখে খাবার তুলে দিতে দেখেছে ক্যাফেতে। পার্কে অতসীর হাত ধরে ধরে ঘুরাতে দেখেছে। চারদিকটা দেখতে কেমন তা বুঝাচ্ছিল অতসীকে। যেন নিজের চোখে তাকে সবটা দেখাচ্ছে। রাস্তার ধারে দাড়িয়ে তাকে ফুঁচকা, আইসক্রিম– খাওয়াতে দেখেছে। এসব মোটেও স্বাভাবিক নয়।

সন্ধেহ ঢুকছিল মনে। এর মধ্যে একদিন দেখল, অতসীকে নিয়ে গাড়ির ভেতর ফারজাদ। স্বাভাবিক অবস্থায় নয়। চুম্বনরত অবস্থায় ছিল দুজনে। যদিও দূর থেকে দেখেছে, কিন্তু তাও স্পষ্ট বুঝেছে যে শুধু চুম্বনে থেমে ছিলনা ফারজাদের ছোঁয়া। কোলের উপর বসিয়ে উন্মাদের মতো করছিল।

নিবিড়ের তখন মাথা আওলিয়ে যায়। ফারজাদের নেশাপানি খাওয়ার স্বভাব থাকলেও মেয়েদের নিয়ে এসব ছিল না– এ কথা জানে সে। কিন্তু অপছন্দের চাচাতো বোনকে নিয়ে এসব ভাবনা মনে আনে কীভাবে? অতসীর উপর কু–নজর দিয়েছে, আর তাকে অনিচ্ছাতে কিংবা ব্ল্যাকমেইল করে কাছে টানছে – এমনটাই ভেবে নিলো সে। অতসীকে এমনিতেও এসব নিয়ে কোনো সমস্যায় পড়তে হয় কী না দুশ্চিন্তায় থাকে সে। কারণ নিজেও পুরুষ, তাই মুটামুটি নিজের জাতের এই লিঙ্গের কিছু মানুষকে ভালোই চিনে সে। সেখানে মেয়ে যদি হয় অতসীর মতো অপূর্ণতার ছোঁয়ায় থাকা নরম কোমল কোনো মেয়ে। তাহলে তো কথায় নেই। সুযোগের অপেক্ষায় থাকে শুধু।

নিবিড় সেদিনই বাড়ি গিয়ে নিজের বাবা মাকে জানায়– অতসীর সাথে এঙ্গেজমেন্ট করে রাখতে চায় সে। সবাই অবাক হয়, অতসীর বয়স কম বলে আপত্তি করলেও নিবিড় শুনেনা। অনেক কিছু বুঝিয়ে সুজিয়ে বাবা মাকে রাজী করিয়ে ফেলে। তারা বাবা মা অতসীর বাড়ি যায়। অতসীর বাবা মায়ের কাছে প্রস্তাব রাখে। উনারা প্রস্তাব শুনে একটু গাঁইগুই করেন।

”ভাইজান, অতসীর বয়স এখনো আঠারোই হয়নি। মেয়ে আমার এখনো ছোট। এত তাড়াতাড়ি বিয়ের সম্পর্কে ঢুকিয়ে দিতে চাইনা। প্লিজ জোর করবেন না। আপনারা কাছের মানুষ। এভাবে বারবার ফিরিয়ে দেওয়া ভালো দেখাবে না।” অতসীর বাবা

”আমি বুঝতে পারছি শফিক সাহেব। কিন্তু এখন তো বিয়ের কথা বলছিনা। আমরা শুধু অতসীকে নিবিড়ের নামে আংটি পড়িয়ে রাখতে চাই। তারপর সঠিক বয়স হলে তবেই উঠিয়ে নেবো নাহয়। এতে তো সমস্যা নেই তাইনা?” নিবিড়ের বাবা

অতসীর বাবা-মা একটু দ্বিধায় পড়ে যায়। বাড়ি থেকে আলাদা থাকলেও অতসীকে তার বড়বাবা-বড় মা, চাচা-চাচী, দাদী– প্রত্যেকে খুব ভালোবাসে। তাদের অতসীর জীবনের এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মতামত রাখার অধিকার আছে। মা-ভাইদের না জানিয়ে এমন সিদ্ধান্ত অতসীর বাবা নিতে পারবেনা। তাই তিনি সময় চান।

পরদিন নিজেই ফারিশ মহল যান। গিয়ে মা-ভাইদের সাথে বসে এই নিয়ে কথা তুললেন।

প্রথমে সকলে দ্বিমত করলেও, অতসীর মেজ চাচ্চু বলে,

“এত তাড়াতাড়ি বিয়ে দেওয়া ঠিক হবেনা শফিক। তবে শুধু এঙ্গেজমেন্ট হলে ভাবতে পারিস। কারণ ভালো ছেলে পাওয়াটাও ভাগ্যের ব্যাপার। অতসী মায়ের ছোট্ট অপারগতা সমাজের মানুষ অনেক বড় করে দেখবে শফিক; দুনিয়াটাই এমন। বিয়ের সময় এটা নিয়ে নানান সমস্যা দেখা যাবে। এসবের মধ্যে নিবিড় ছেলেটা বলতে গেলে ভালোই। নিজেরাই যখন মেয়ে চাইছে, বিয়েও সঠিক বয়স হলেই করাবে বলছে। তখন নিবিড়কে নিয়ে আপত্তি না থাকলে এঙ্গেজমেন্ট করিয়ে রাখলে মন্দ হবে বলে মনে হয়না।”

উনার কথা সবাই ভেবে দেখলেন। ফেলে দেওয়ার মতো না কথাগুলো। সব আলোচনা শেষে আংটি পড়িয়ে রাখার প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। অবশ্য যদি অতসী রাজী হয় তবেই।

প্রেমভুবনের অতসী পর্ব ৫ গল্পের ছবি