“আরমান।”
নাতির হাতে ফোন তুলে দিয়ে আবার ডাকলেন দাদী।
“হ্যাঁ দাদী, বলো।”
আরমান ফোন দাদীকে দিয়ে এদিক-সেদিক তদারকি করছিল সব ঠিকঠাক কি না। দাদীর ডাকে এগিয়ে এলো।
“ফারজাদ কোথায় রে? সকাল থেকে চোখে পড়ছে না।”
“এই তো, একটু আগে উঠোনে ছিল। ডেকোরেশন আর ক্যাটারিং-এর সবকিছু দেখছিল। মনে হয় আবার ভেতরে গেছে। তোমার কোনো দরকারি কাজ আছে? থাকলে আমাকে বলো, আমি করে দিচ্ছি।”
দাদী মাথা নাড়লেন,
“আজ এমন দিনে ওর মুখে হাসি দেখি না কেন, বল তো? সব দায়িত্ব পালন করছে মানলাম। একটু হেসে খেলে তো থাকা যায় সবার সাথে। তা না, সারাক্ষণ গোমড়ামুখো হয়ে থাকা।”
আরমান কিছু বলল না। ফারজাদ ভাই তো এমনই। এ আর নতুন কী? তবে আজকের দিনেও এমন গম্ভীর্য, নির্লিপ্ত ভাব তাদের ভালো লাগছে না।
“কি আর করবে দাদী, তোমার বড় ছেলে ওই এক জিনিস উৎপাদন করেছে, হাসতে তার ট্যাক্স দিতে হয়!”
ফারজাদ তখন দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে। প্রস্তুত, পরিপাটি সে। নেভি ব্লু কালারের দামি পাঞ্জাবি পড়েছে। গলার দিকে এমব্রয়ডারি কাজ করা—চিকচিক করছে তা। ফর্সা গাঁয়ে কালারটা মানিয়েছে বেশ। চুলগুলোও সেট করা, আর হাতে রোল্যাক্স ঘড়ি।
নিচের উঠোনে তাকিয়ে আছে, কিন্তু চোখে কোনো দৃশ্য ঢুকছে না। চারপাশে মানুষ, হাসি, আলো—সব আছে। অথচ তার ভেতরে যেন এক ধরনের ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়ে আছে। ইদানিং একটু নিরুত্তাপ স্বভাবের মানুষটি নিজের ভেতর কিছু নিয়ে দ্বিধা, গ্লানিতে ভোগে। বুকের ভেতর চাপা একটা অস্বস্তি নিয়ে সে গভীর শ্বাস নেয়।
তখনই পেছন থেকে প্রিসিলার গলা শোনা গেল,
“ভাইয়া, তুমি এখানে?”
ফারজাদ ঈষৎ চমকে ঘুরে দাঁড়াল। তবে চমকিত ভাবটা তার চেহারায় লক্ষ্য করা গেল না।
“হ্যাঁ… বল প্রিসিলা। কিছু দরকার?”
প্রিসিলা হালকা হেসে বলল,
“তুমি ঠিক আছ তো? তোমাকে একটু অন্যরকম লাগছে ভাইয়া। কিছুদিন ধরে আনমনা থাকো, কেমন চুপচাপ। আজ আমার বিয়ে, তাও এমন করছ?”
ফারজাদ বলল,
“তেমন কিছু না। মানুষ জনের এমন গ্যাদারিং, চেঁচামেচি—এইসব আমার ভালো লাগে না। তুই তো জানিস।”
“তাও… আজ তো আমার বিয়ে ভাইয়া। একটু তো হাসতে পারো।” প্রিসিলার মৃদু অভিমানী স্বর।
ফারজাদ বোনের কথায় ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসল।
“এই নে, হাসলাম। খুশি?”
প্রিসিলা কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। ভাইটা অন্তর্মুখী স্বভাবের। কিন্তু তাদের ভালোবাসে। তবে কিছুদিন ধরে বেশি আনমনা লাগে, কিছু যেন ভাবতে ভাবতে ভাবনায় হারিয়ে গেছে। কিছু হয়েছে কি না জানতে চাইলে সর্বক্ষণ এমন গম্ভীর থাকে।
সে বলল,
“খুশি না। আমার বিয়ে। অথচ, তোমার মধ্যে কোনো আনন্দ, উত্তেজনা দেখা যায় না। আরমান ভাইয়া এদিক-ওদিক খাটছে, প্রাচী বান্ধবীদের নিয়ে হইহল্লরে মজে আছে। বাকিরাও কত আনন্দ করছে। অথচ তুমি বরাবরের মতো নির্লিপ্ত, আর অতসী তো এলোও না আমার বিয়েতে।”
আপন ভাইসহ চাচাতো বোনের নিজের বিয়ের বিষয়ে এমন উদাসীনতায় ভীষণ রুষ্ট সে।
ফারজাদের কোথাও থেমে গেল তার শেষ কথা শুনে। কিছু কয়েক সেকেন্ড পর বলে,
“তেমন কিছু না প্রিসিলা। আমি যেমন থাকি, তেমনই আছি। আমার বন্ধুরা এলে নিচে নামব। মাত্রই সবটা দেখশুনে উপরে আসলাম।”
তারপর থেমে আবার বলে,
“আ… ছোট চাচ্চু আর চাচী চলে এসেছে?” যদিও মন অন্য কারো কথা জানতে চাইছিল।
“হ্যাঁ, এসেছে বেশ অনেকক্ষণ। কিন্তু অতসীটা এলো না। ও থাকলে ভালো লাগত। মেয়েটা সেই যে বাড়ি থেকে দূরে গেল। তখন থেকেই আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন। আমাদের সবার মধ্যে যে বন্ডিং, তেমনটা নেই ওর। তুমি তো ওকে দেখতেও পারো না। চোখের সামনে পড়লেই নাক ছিটকাও। ওজন্য তেমন একটা আসতে চায় না ও এ বাড়িতে।”
প্রিসিলা ধীরে শেষ দুটো বাক্য বলল।
ফারজাদ কোনো উত্তর দিল না। শুধু বারান্দার রেলিং শক্ত করে ধরল।
নিচে হঠাৎ হৈচৈ শুরু হলো।
“বরযাত্রী ঢুকছে! সবাই রেডি হও!”
হইহল্লরের সাথে বরযাত্রীরা উঠোনে ঢুকল। বাজি ফুঁটানোর শব্দে চারদিক মুখর হয়ে উঠল। কেউ ফুল ছুঁড়ছে, কেউ মোবাইল বের করে ভিডিও করছে।
______
অনেক কাণ্ডকারখানা শেষে বরের প্রবেশ হলো বাড়ির ভেতর। ফারজাদের ভাই-বোনেরা তখন একপাশে তাদের পাওয়া টাকা-পয়সার হিসাব শেষে বসেছে।
“যতটা কিপ্টা ভেবেছিলাম ততটাও কিপ্টা নয়, দুলাভাই। কি বলিস?” প্রাচী
“দুলাভাই কিপ্টা নয় রে। পেছনে কালো শার্টে যে ছেলেটা ছিল? ওই ছেলের হাতে ছিল টাকা-পয়সা সব। সেই দিতে চাইছিল না।” আরোহী
তাদের নানান কথাবার্তার মধ্যে টাকা ভাগাভাগি শেষ হলো। ফুফা তো বোন, আর ফারজাদের মামাতো-খালাতো বোনেরা নিজেদের ভাগ নিয়ে কথা হাসি-ঠাট্টা করতে করতে চলে যায়।
টাকা গুণতে গুণতে ফারজাদের ছোট বোন প্রাচী বলে উঠে,
“আরোহী, অতসীকে একটা ফোন লাগাতো। মেয়েটা কেন যে এলো না। কত কিছু মিস করে গেল।”
প্রাচীর কথায় ফারজাদের মেজ চাচ্চুর মেয়ে আরোহী চোখ-মুখ কুঁচকে বলে,
“অতসী থাকলেও আর কী হতো? আমাদের সাথে গেট ধরতে যেতে পারতো না। গেলে দেখা যেত মানুষের ধাক্কাধাক্কিতে আঘাত পেয়ে আধমরা হয়ে ফিরছে। তারপর বড়বাবা আমাদেরই বকতো, ‘তার আদরের ভাতিজিকে দেখে রাখলাম না কেন!!’ সব আনন্দ মাটি হতো। না তো আমাদের মতো জোর গলায় দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারতো গেটে। ভালোই হয়েছে নেই। টাকার ভাগও কম করতে হয়েছে।”
সাথে সাথে তার বড় ভাই আরমান মাথায় ঠাস করে লাগায় জোরে। বেশ লেগেছে আরোহীর। সে রেগে কিছু বলবে তার আগে আরমান বলে,
“লোভীই থেকে গেলি শয়তান মেয়ে। টাকার ভাগের জন্য এসব ফালতু চিন্তা মাথায় আনলে সামনে থেকে গালে থাপ্পর লাগাবো।”
আরোহী রেগে বলে,
“তুমি ঐ আন্ধীর জন্য আমাকে এভাবে বলতে পারো না ভাইয়া। ভুল কি বলেছি আমি? এখানে এত মানুষজনের মধ্যে ও থাকলে দেখা যেত ওর পেছন পেছন একজনকে লেগে থাকতে হচ্ছে। তারও বিয়ের আনন্দ মাটি যেত অতসীর জন্য।”
প্রাচী তাকে ধমক দিয়ে চুপ করতে বলে।
“কি সব কথা বলছিস আরোহী? বোন হয় আমাদের। এসব কথা ছোট চাচ্চু বা চাচিমণির কানে গেলে কতটা কষ্ট পাবে ভেবে দেখেছিস?”
“এই বেয়াদব হিংসুটে মেয়েকে আমার সামনে থেকে যেতে বল প্রাচী। মাথা গরম হলে আবার লাগিয়ে দেব দুই ঘা। এত মানুষের সামনে দামড়ি মেয়ের গাঁঁয়ে হাত তুলতে চাইছিস না। যেতে বল একে।” আরমান দাঁতে দাঁত চেপে বলে।
আরোহী দুজনের রাগের তোপে পড়ে একটুও বিচলিত হলো না। বরং দ্বিগুণ তেজ দেখিয়ে বলে,
“উচিত কথা তেতোই হয়। নতুন কিছু না এটা। তোমরা শুনতে ভালো না লাগলে চুপচাপ থাকবে। আমাকে এত নীতিকথা শুনাতে আসবে না বলে দিলাম। আর আবার, বারবার বলব আমি—অতসী আসেনি ভালোই হয়েছে, শান্তিতে ছিলাম আমরা।”
জেদ দেখিয়ে কথা শুনিয়ে হনহন করে চলে গেল সে।
“এই ফারজাদ ভাই আর আরোহীর বাচ্চার সমস্যা কি আমি বুঝি না। মেয়েটা চোখে দেখেনা বলে কি মানুষ না? আশ্চর্য!! এখনকার যুগে এসব চিপ মেন্টালিটি নিয়ে থাকে কি করে মানুষ।” বিরক্তি নিয়ে বলে আরমান।
প্রাচী নিরাশ কণ্ঠে জবাব দেয়,
“অহংকার, আরমান ভাই। আমার ভাইয়া আর এই আরোহী একটু বেশিই অহংকার দেখায় অতসীর সামনে। ওদের জন্য অতসীটা আমাদের থেকেও দূরত্ব বজায় রেখে থাকে সবসময়। ইন্সিকিউরিটি হয় ওর। পদে পদে ওর অপারগতা দেখিয়ে দেয় চোখে আঙুল দিয়ে। সবসময় এসব কারও ভালো লাগবে বলো? এজন্যই আজ আসেনি। জানতো ওকে নিয়ে এদিক ওদিক কিছু একটা হবেই। তাই আসেনি। অসুস্থ-টসুস্থ ওসব বাহানা অতসীর।”
আরমান নিজেও বেশ বুঝেছে তা,
“অতসীকে একটা ফোন দে তো নাহয়। দেখি একটু। বাড়ির সবাই এত আনন্দের মধ্যে আছে, ওর নিশ্চয় ওখানে মন খারাপ লাগছে।”
আরমান ভাইয়ার কথায় প্রাচী ফোন লাগায় অতসীকে। কয়েক বার রিং পরে তবেই রিসিভ হলো,
“হ্যালো, কে বলছেন?” বড্ড মিহি সেই কণ্ঠ। লাউডে দিয়ে ধরেছে প্রাচী। সে অতসীর প্রশ্নের জবাব দেয়,
“আমি প্রাচী বলছি। কেমন আছিস অতসী?”
অতসী থমকাল। প্রাচী আপু তাকে কেন ফোন দিল হঠাৎ? তাও এই বিয়ের মধ্যে!! বাবা-মা ঠিক আছে তো?
কণ্ঠে উৎকণ্ঠা নিয়ে জানতে চাইলো, “প্রাচী আপু? বাবা-মা ঠিক আছে? ওদের কিছু হয়নি তো? ফোনটা একটু ওদের কাছে দাও প্লিজ, আমি কথা বলব।”
অতসীর বিচলিত কণ্ঠের বিপরীতে প্রাচী কপাল কুঁচকে বলে,
“এই থাম থাম। এত উত্তেজিত হয়ে পড়ছিস কেন? আমি কি চাচ্চু আর চাচীমণির কিছু হয়েছে এমনটা বলেছি? এত বেশি বেশি বুঝিস কেন?”
অতসী ধমক শুনে কিছুটা থামল। নিম্নস্বরে বলে,
“না, হঠাৎ ফোন দিলে, কী না কী দরকার পড়ল, আমি ভাবলাম বাবা-মায়ের কিছু হয়েছে। তাই…” মিনমিনে কণ্ঠ তার।
“কেন? তোকে কোনো কারণ ছাড়া ফোন দিতে পারি না আমরা? দরকার থাকতে হবে—কথা আছে।” আরমান বলে কথাটা।
অতসী বুঝল লাউড স্পিকারে আছে ফোন। আরমান ভাইয়া আর প্রাচী আপু ফোন দিয়েছে।
“তেমন কিছু না ভাইয়া। আসলে বিয়ে বাড়ি থেকে হঠাৎ কল। তার উপর তোমাদের গলা শুনে একটু ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।”
“আচ্ছা, সেসব বাদ দে। আগে বল তুই এলি না কেন? সবাই বিয়ে বাড়িতে আছি। কত কিছু মিস করে গেলি তুই। দাদী, বাবা—সবাই রেগে আছে ছোট চাচ্চু আর চাচীমণির উপর। তোকে নিয়ে আসেনি তাই।” প্রাচী
অতসী মন দিয়ে শুনল প্রাচী আপুর কথা। কেউ কেউ খুব ভালোবাসলেও ও বাড়ির সবাই তার উপস্থিতি পছন্দ করে না। বিরক্ত হয় তার প্রতি। যা অতসী বুঝতে পারে। তার উপস্থিতি কারও বিরক্তির কারণ হয় বুঝলে ওখানে সে আর স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারে না। কষ্ট পায় নিজের প্রতি অন্য কারও বিরক্তি বুঝলে। তাই তেমন যেতে চায় না সে। তার উপর এখন তো আর যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। ও বাড়ির নাম শুনলেই রুহ কেঁপে ওঠে তার।
“আমি একটু অসুস্থ আপু। তাই যাইনি। হইহল্লা, চিৎকার-চেঁচামেচিতে আরও খারাপ লাগে। এজন্য যেতে মন চায়নি। তোমরা প্লিজ কিছু মনে করো না।” নরম স্বরে সে কথাগুলো বলে।
“অসুস্থ নাকি বাহানা—সব বুঝি রে মনা। এত সাফাই দিতে হবে না। ফারজাদ ভাই, ফুফি, আরোহী—ওদের কারণে এ বাড়িতে আসতে চাস না তেমন। এটা বোঝার মতো মাথা আমাদের আছে। কিন্তু খারাপ লাগে তুই যারা তোকে ভালোবাসে তাদের কথা না ভেবে যারা ভালোবাসে না তাদের স্বাচ্ছন্দ্যে গুরুত্ব দিস। আমরা কত আশা নিয়ে ছিলাম। সবাই মিলে আনন্দ করব, মজা করব। কিন্তু তুই এভাবে না এসে পারলি? প্রিসিলা আপুর জন্য হলেও আসতে পারতি অতসী।”
প্রাচী আপুর কথা শুনে অতসী ভুল ভাঙানোর নিমিত্তে বলে,
“না না… যেমন ভাবছ তেমনটা মোটেও নয় আপু। আমি সত্যিই একটু অসুস্থ। তাই যাইনি। তোমরা প্লিজ অন্য কিছু মনে করো না।”
“আচ্ছা, ওসব রাখ। তুই এখন তোদের বাড়ির কাছের ওই খালা—আই মিন তোর বড় খালার বাড়ি গেছিস? নাকি ছোট খালার বাসায় আছিস?” আরমান জানতে চায় কথাটা। কারণ অতসীর ছোট খালার বাড়ি তাদের বাড়ি থেকে দূরে নয়। অতসী ওখানে থাকলে রাকিনের সাথে বাইক টান দিয়ে এই মুহূর্তে গিয়ে নিয়ে আসতে পারবে। কিন্তু অতসী তার বড় খালার বাড়ি গেছে, যেটা তাদের, অর্থাৎ অতসীরা যেখানে থাকে সেই বাসা থেকে কয়েক মিনিটের দূরত্বে।
সে উত্তর দেয়,
“না ভাইয়া, আমি তো বড় খালার বাড়ি। নিবিড় ভাইয়ার সাথে এসেছি কাল রাতেই। এখানে আছি।”
হতাশ হয় আরমান। হতাশায় সে ঠোঁট চেপে নেয়।
“আচ্ছা। রাখ এবার। কাল আমি গিয়ে তোকে নিয়ে আসব। সবাই মিলে প্রিসিলার শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার সময় থাকতেই হবে তোকে। কোনো না শুনব না কাল। এখন ঘুমিয়ে পড়। ঘুমিয়ে শরীর চাঙ্গা করে নে। কাল কোনো বাহানা চলবে না।”
কথাটা বলেই ফোন কেটে দেয় আরমান, যাতে যাবে না বলে কোনো গাঁইগুঁই করতে না পারে অতসী। তার ডাক পড়লো ওপরে। সে চলে যায় ফোন প্রাচীকে দিয়ে। প্রাচীও ফোন ঘাঁটতে ঘাঁটতে কাজিনদের ভিড়ে চলে গেল আপন মনে।
তাদের থেকে অল্প দূরত্বে বন্ধুদের সাথে নিয়ে বসে আছে ফারজাদ। তার বন্ধুরা গল্পগুজব করছে। আর সে তাদের মধ্যে থেকেও নির্লিপ্ত। মনোযোগ যেন অন্য কোথাও। আরমান–প্রাচী–অতসীর ফোনালাপের সবটা কানে এসেছে হয়তো। দেখে মনের ভেতর কী চলছে বোঝা যাচ্ছে না ঠিক। কিন্তু মনে হলো অতসীরাণীকে নিয়েই ভাবছে। যার সাথে কিছুদিন আগে সব দূরত্ব মিটিয়ে নিয়েছিল। তাকে নিয়েই ভাবছে হয়তো।