ফারজাদ অতসীপানেই চেয়ে আছে বহু কষ্টে। চোখ বুজে আসছে তার। সফেদ শার্টটা এখন র ‘ক্তে রঞ্জিত। বুকের দিকে গেঁথে আছে ধারালো ছু ‘রিটা। শরীরের সর্বশক্তি জোগাড় করে ফারজাদ প্রাণপণে গোঙাতে থাকা অতসীকেই দেখার চেষ্টা করে যাচ্ছে। ঢলে পড়তে চাইল সে সামনের দিকে। অতসী এখনো কিচ্ছুটি টের পায়নি। ফারজাদ প্রাণপণে চেষ্টা করছে শব্দ না করার, আর্তনাদ গিলে ফেলার। ঢলে পড়তে চাওয়া শরীরটা টেনে সে বহুকষ্টে দরজা অব্দি গেলো। লক খুলে কোনোরকম বের হয় সে। একেবারেই শব্দ হয়নি এমনটা নয়। কিন্তু আতঙ্কিত অতসী তাও সেসব আমলে নিতে পারল না। বের হতে পেরে ফারজাদের নিভু নিভু, যন্ত্রণাসিক্ত চোখ দুটোতে ক্ষীণ সন্তুষ্টির রেখার দেখা মেলে। সে পাশের দেয়াল ঠেসে বসে পড়ে।
“ফারজাদ ভাইইই”
রক্তে রঞ্জিত ফারজাদকে সর্বপ্রথম আরমানই দেখল। দুতলার একদম ওপাশে দাদীর রুমের ঠিক বাইরে। তার চিৎকারে সবাই সরব হলো। শ্বাস আঁটকে আসা ফারজাদ হাতের তর্জনী আঙ্গুল তুলে ঠোঁটে আনে। চিৎকার না করার নির্দেশ তার।
হতবম্ব আরমান দৌড়ে ভাইয়ের কাছে আসল,
“ফারজাদ ভাই, ফারজাদ ভাই কী হয়েছে তোমার? এ এসব কী? বুকে ছু ‘রি এলো কীভাবে।”
বিস্ময়ে, আতঙ্কে কণ্ঠ জড়িয়ে আসছে আরমানের।
“এ এখান থেকে… নিয়ে চল।” শ্বাস আঁটকে আসছে ফারজাদের, কথা জড়িয়ে যাচ্ছে, “কুইক আ আরমান, কুইক নিয়ে চল এখান থেকে।” ছু’ রিটা একটানে বের করে পাশে ফেলল, আরমানের হাত ধরে সে। অবশপ্রায় র ‘ক্তা ক্ত হাত তুলে আরমানকে ধরে, “সবাই চ চলে আসবে এখন। নিয়ে চল তাড়াতাড়ি।”
“এসব কী ফারজাদ ভাই? কীভাবে হলো? ছু ছু ‘রি কীভাবে।” কম্পিত কণ্ঠে প্রশ্ন রেখে ভাইকে আগলে নিলো সে।
বাকিরা পেছন থেকে হতদন্ধের মতো ছুটে আসছে ফারজাদকে র ক্তা ক্ত দেখে।
ফারজাদ সেদিকে নিভু নিভু চোখের দৃষ্টি ফেলে। ঠোঁট চেপে বহু কষ্টে দুটো বাক্য উচ্চারণ করল শুধু,
“এখান থেকে তা তাড়াতাড়ি নিয়ে চল আরমান। অতসীর রুমের সামনে চে, চেঁচা…মেচি করিস না।”
কুণ্ঠিত, ভয়ার্ত আরমান অতকিছু কানে নিলো না। সে কাঁধে ভর নিয়ে ভাইকে তুলে তাড়াতাড়ি। ফারজাদের নিজেরও প্রচেষ্টায় সিঁড়ি অব্দি এগোলো। বাড়ির অন্যরাও চলে এসেছে, বিলাপ করছে তারা। কীভাবে কী হলো বুঝতে পারছেনা কিছু। র ‘ক্তা ক্ত ফারজাদকে দেখে হতবম্ব তারা। আরমানের বাবা এসে অপরপাশ থেকে সাহারা দেয় ভাতিজাকে। ফারজাদের মা-বোনের চিৎকার কানে বারি খাচ্ছে। সবাই কিছুদূর এগিয়ে গিয়েছে। ফারজাদের বাবা স্তম্ভিত নেত্রে চেয়ে ছিল। এই তো ঘণ্টা দুয়েক আগেও ইচ্ছেমতো প্রহার করেছে এই ছেলেটাকে। তখনো তো এতটা বিধ্বস্ত, এতটা জীর্ণ লাগেনি তাকে। কতো আত্মবিশ্বাস তখনো চোখে। কত তৃপ্তি সেই আাঘাতগুলো পেয়ে। ছেলের চোখের ভাষা বুঝবেনা বাবা হয়ে?
কিন্তু এখন? এখন যে শ্বাস আঁটকে আসছে তার ছেলেটার। এত মা র খেয়েও বুক ফুলিয়ে থাকা ছেলেটা মনে হচ্ছে এই বুঝি শেষ নিঃশ্বাস নেবে। বুকের কোথাও যেন সুচ ফুঁটলো ফিরোজ সাহেবের। পাশে ঢলে পড়তে চাইল। সাহারায় সিঁড়িতে হাত রাখে।
পরপর কম্পমান পা দুটো মেলালেন সকলের সাথে।
_
ফারজাদ এখন ওটিতে। ছুরিটা বুকের বাম পাশে, হৃদপিণ্ড ছুঁয়ে যাওয়ার আগেই ফুসফুস ভেদ করে গেঁথে ছিল। তাই তখন দাঁড়াতে, আর কথা বলতে পারছিল সে। তবে নিজে নিজে ছু ‘রি বের করে নেওয়ায় প্রচুর র ক্তপাত হয়েছে, এর মধ্যে সরাসরি ফুসফুসে আঘাত — তাই জরুরী ভিত্তিতে ওটিতে ঢুকিয়ে নিয়েছে ডাক্তাররা।
ফারজাদের মা, আর বোন প্রাচী ছাড়া সব মেয়েরা ফারিশমহলে। তাদের আসতে মানা করা হয়েছে রাত হওয়ায়। বর্তমানে ফারজাদের বাবা-মা, দুই চাচা, ফুফাতো ভাইয়েরা, আর প্রাচী-আরমানই আছে হাসপাতালে।
সকলে কুণ্ঠিত আর ভয়ার্ত মন নিয়ে বসে আছে ওটির বাইরে। ফারজাদের মা বিলাপ করছে। প্রাচী নিজের সাথে সাথে মাকেও সামলাচ্ছে। বাকিরা নিজের মতো গভীর দুশিন্তা আর শঙ্কিত মন নিয়ে পায়চারি করছে। আরমানের বাবা বোনের ছেলেদের বাড়ি পাঠিয়ে দিলো। ওখানে কোনো পুরুষমানুষ নেই তাই।
ফারজাদের বুকে ছু রি লাগার কারণ তখনও কেউ জানেনা। আর না তো এই নিয়ে কারো মনে এখনো প্রশ্ন জেগেছে। সবাই ডাক্তার কী খবর নিয়ে বেরুবে তা নিয়ে চিন্তিত।
“আম আমার ছেলেটার বুকে ছু রি গেঁথে গেলো। একদম বুকে। আমার জাদ আর বাঁচবেনা। ও আর বাঁচবেনা। ও অপরাধ করেছে, শাস্তি পেয়েছে। কিন্তু আমি মানতে পারছিনা জাদের বাবা। আমার কষ্ট হচ্ছে। সবকিছু এত এলোমেলো, আমি কেন এসবের আগে ম রে গেলাম না!” বিলাপ করছে ফারজাদের মা। কান্নার তোপে মহিলার শরীর কেঁপে উঠছে। হাসপাতালের নিস্তব্দতার মধ্যে তার মায়ের এই আহাজারি বড্ড করুন শুনাল।
“ও প্রাচী, আমাকে তুলে নিতো ওপরওয়ালা। কোন পাপের কারণে আমাকে এই দিন দেখতে হচ্ছে? বলনা? আম আমি কী করব? আমার ছেলেটার বুকে ছু রি গেঁথে গেলো। আমি নিতে পারছিনা। আমার জাদের সারা শরীর র ক্তে লাল হয়ে আছে।” মেয়ের বুকে মাথা রেখে দূর্বল কণ্ঠে বিলাপ করতে করতে বলে, “আমি ম রে যাবো ওর কিছু হলে, আমি ম রে যাবো। আরমান, ওকে বাঁঁচাতে বল, ডক্টরদের বল ওকে যেন বাঁচায়। আবার আমার জাদ অন্যায় করেছে এটা বলিস না, নইলে কেউ একটু মায়া করবেনা। ও সুস্থ হলে আমি নিজে জেলে দিয়ে আসবো, এখন একটু বাঁচিয়ে ফেরাতে বল আমার ছেলেকে। দয়া কর সবাই একটু, দয়া কর।”
ক্রন্দনরত প্রাচী মাকেও সান্ত্বনা দিচ্ছে, “মা থামো, এসব এখন বলো না। ভাইয়ার কিছু হবেনা, দেখো কিছু হবেনা। আমার ভাইয়া অনেক স্ট্রং। কিছু হবেনা ট্রাস্ট মি”
বিলাপ করেই যাচ্ছে ফারজাদের মা। প্রাচী মাকে যথাসম্ভব সামলানোর চেষ্টায় আছে। তবে তার মায়ের আহাজারি থামছেনা।
এতক্ষণ ফারজাদের সুস্থতার চিন্তায় অন্যকিছু মাথায় না আনলেও উনার বারংবার কথাগুলো আওড়ানোতে অতসীর বাবার ছু রি ঢুকার বিষয়টা খেয়ালে এলো। তিনি আরমানের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়েন,
“ছু রিটা কীভাবে ঢুকল আরমান? ও কী নিজেকে নিজে আঘাত করতে চাইছিল? নাকি এক্সিডেন্টলি ঘটেছে?”
প্রার্থনা আর দুশ্চিন্তার ভারে নুয়ে রাখা র ক্তলাল চোখ দুটো তুলে আরমান তাকাল,
“জানিনা চাচ্চু। কিছু জানিনা। বুকে ছু রি নিয়ে দেয়াল ঘেঁষে বসে থাকতে দেখলাম জাস্ট। আই নো নাথিং!”
কপালের দুশ্চিন্তার ভাঁজ মেলালো না অতসীর বাবার। তবে দূর্ঘটনাবশত হয়েছে এমনটাই ধরে নিলেন। প্রায় চল্লিশ মিনিট পর একজন জুনিয়র ডাক্তার বের হয়ে এলো ব্যস্ত ভঙ্গিমায়। সকলে ছুটে যায়,
“ডক্টর, এনি ইমপ্রুভমেন্ট?” উদ্বিগ্ন কণ্ঠ আরমানের
সকলে চাতক পাঁখির ন্যায় দৃষ্টি ফেলে চেয়ে আছে জবাবের আশায়, ডাক্তার একনজর চেয়ে ব্যস্ত ভঙ্গিমায় জবাব দেন,
“এখনও সেভাবে কিছু বলতে পারছিনা। বাট ডোন্ট বি প্যানিক। ছু রি হৃৎপিন্ডে লাগেনি, বা দিকটা ছুঁয়ে গেছে। আই মিন ফুসফুসে আঘাত লাগলেও চেস্ট টিউব ঠিকঠাক কাজ করছে। সার্জারি সম্পূর্ণ হলে আপডেট আপনাদের জানানো হবে। এখন প্রার্থনাই করুন, আমরা আমাদের তরফ থেকে সর্বোচ্চটা দিচ্ছি।” ডাক্তার তাড়াহুড়ো ভঙ্গিতে বলে,
“র ক্ত ব্যাগ জমা দিয়েছেন?”
“হ্যাঁ হ্যাঁ,” তৎক্ষণাৎ প্রতিউত্তর করল ফারজাদের বাবা
পেছন থেকে নার্স র ক্তের ব্যাগ হাতে নিয়ে এগিয়ে আসছে দেখতেই ডাক্তার ফের ভেতরে চলে গেলো।
সকলে কিছুটা স্বস্তি পেলেও দুশ্চিন্তা কমলো না। একে তো অস্ত্রোপচার সম্পূর্ণ হয়নি এখনো। সাথে ফুসফুসে আঘাতটাও হালকাভাবে নেওয়ার মতো না। প্রতিটি শ্বাস টানতে গেলে বুকের ভেতরে তীক্ষ্ণ চাপ লাগবে। শরীরের প্রতিটি অঙ্গই যে গুরুত্বপূর্ণ!
আরমান প্রায় নিজের কণ্ঠ হারিয়ে ফেলেছে কী হয়ে গেলো আতঙ্কে, দুশ্চিন্তায়। চোখের সামনে সর্বদা আত্মবিশ্বাসী, বাহ্যিক কিংবা অভ্যন্তরীণ - উভয়ভাবে শক্তপোক্ত ভাইটাকে দেখতে পাচ্ছে। কালও তো সব ঠিক ছিল, এমনকি আজ সকালেও। ভাই বোনেদের সাথে শপিং এ কী সুন্দর মুহূর্ত তাদের! সকলের ছোট অতসীরই সবার আগে বিয়ের ফুল ফোঁটার আশ্চর্য অনুভূতি— কী সুন্দর যাচ্ছিল সবটা। মুহূর্তের ব্যবধানে পুরো চিত্র পাল্টে গেলো, একেবারেই পাল্টে গেলো। তাও বড্ড বিভৎস ভাবে। ফারিশদের এই কালো দিনটা কবে ফুরাবে?
_
মহলে সবাই বসার ঘরে সোফায় বসেছিল দুশ্চিন্তায়-আতঙ্কে। নিজেদের সামলানোর সাথে সাথে ফারজাদের দাদীর বিলাপ থামাতে ব্যস্ত তারা। ফারজাদের বড় ফুফির দুই ছেলে সাদমান আর আদনান এসে জানালো এখনো তেমন কোনো ভালো খবর নেই। তবে ছু রি সরাসরি হৃৎপিণ্ডে লাগেনি এই নিশ্চয়তা ওটিতে ঢুকানোর মিনিট কয়েক পরেই নার্স এসে দিয়েছিল।
দুশ্চিন্তা কিছুটা কমলেও, উৎকণ্ঠা কমলো না কারও। ফারজাদের বড় ফুফি বলে,
“কিন্তু ওর বুকে ছু রি কীভাবে লাগল সেটাই তো বুঝতে পারছিনা।” এ কথায় বাকিরাও সম্মতি জানাল।
“হ্যাঁ, আমিও এটাই ভাবছিলাম। এমন একটা দুর্ঘটনা ঘটলো কী করে? মাথায় ঢুকছেনা কিছুতেই।” ফারজাদের ছোট ফুফি
“ফারজাদ ভাই কী নিজে নিজে ছু রি খেলো? নাহয় এ বাড়িতে কে কাকে ছু রি মারবে আবার? সবাই তো দাদীর রুমে ছিলাম।”
আরোহীর চিন্তিত কথার বিপরীতে তার মা বলে,
“নিজে নিজে ছু রি খাবে কেন ফারজাদ? ও এমন কাজ কখনো করবেনা আমার বিশ্বাস। তোমরা এখন ওসব বিশ্লেষণ ছাড়ো প্লিজ। দোয়া করো যেন সহি সলামত ফিরে আসে সবাই। ছেলেটার যেন বড় কোনো বিপদ না হয়।”
তার কথায় সেই আলোচনায় ভাটা পড়ল।
গভীর দুশ্চিন্তায় থাকা অতসীর মায়ের, মেয়ের খেয়াল হতেই এবার চোখ তুলে বলে,
“আপনারা সবাই এখানেই বসুন তাহলে। আমি ওপরে যাচ্ছি।”
“হ্যাঁ হ্যাঁ, তুমি ওপরে যাও অস্মিতা। অতসীটা না আবার চিৎকার চেঁচামেচি শুনে উঠে গেলো দেখো। কাউকে না পেলে প্যানিক করবে চিন্তায়।”
মেজ জা -এর কথায় সম্মতি জানিয়ে উঠে গেলো অতসীর মা।
মেয়ের কক্ষে গিয়ে তাকে অপ্রকৃতিগ্রস্থভাবে শুয়ে থাকতে দেখে কিছুটা ঘাবড়ে গেলেন। গায়ে চাঁদর মুড়িয়ে কেমন অগোছালোভাবে শুয়ে আছে। মাথাটা বালিশের দিকেও না। বিছানার মাঝামাঝিতে কেমন এলোমেলো হয়ে চাঁদরে মুড়িয়ে আছে নিজেকে। মুখটা ছাড়া কিছু দেখা যাচ্ছেনা।
ছুটে এসে পাশে বসেন, গাঁয়ে হাত দিয়ে জ্বর আসেনি দেখে কিছুটা শান্ত হন,
“অতসী মা? উঠ, এভাবে ঘুমাচ্ছিস কেন? ঠিক করে শুইয়ে দিয়েই তো গেলাম। এতো নড়াচড়া করিস কেন আশ্চর্য!”
গালে হাত দিয়ে মেয়ের কপালে লেপ্টে থাকা চুল সরিয়ে দিলেন,
“এই অতসী। উঠ তো মা। বালিশে মাথা রেখে ঘুমা। নইলে মাথা ব্যথা করবে সকালে।”
অতসী কোনো সাড়া দেয়নি। ‘চ’ শব্দ করে হালকা পাতলা গড়নের মেয়ের মাথাটা ধরে নিজেই ঠিক করে দিলেন। পরপর মাথায় চুমু খেয়ে উঠে আসতেই ফ্লোরে র ক্তের ফোঁটা চোখে পড়ল। প্রথমে ভ্রু কুঁচকে দেখতে কাছে গেলেও, মুহুূর্ত পর কিছু বুঝে থমকে গেলেন। জমে রইলেন অজানা আশঙ্কায়। নিজেকে ধাতস্ত করে হতদন্ধের মতো ফের মেয়ের কাছে ছুটে গেলেন।
“অতসী, এই অতসী, উঠ। দেখি কথা বল মা।”
“অতসী মা উঠ। কথা বল আমার সাথে।” ডাকতে ডাকতে বুঝে গেলেন মেয়ে তার ঘুমায়নি, আবার অচেতন হয়ে গেছে। অতসীর বিচলিত মা পাশ থেকে পানির গ্লাস নিয়ে মেয়ের মুখে পানি ছিটকা দিলো। মেয়েকে ডাকতে থাকল আশঙ্কায়।
অতসী কিছু সময় পর চোখ খুলে। তাকে ধাতস্ত করে তার মা সবার আগে জানতে চাইল,
“অতসী, এখানে ফারজাদ এসেছিল? তোর সাথে দেখা করতে এসেছিল ফারজাদ?”
অতসী তখনও সবটা বুঝে উঠতে পারেনি। মায়ের কথায় ফের সবটা ভেবে মিইয়ে গেলো। মাকে হাতরে মাথা তুলে তার বুকে লুকায়।
“মা, আমরা এখান থেকে চলে যাই প্লিজ। এখানে আমার কিছু ভালো লাগেনা। আমার দমবন্ধ হয়ে আসতে চায় এখানে। বিশ্বাস করো একটুও ভালো লাগছেনা আমার এখানে।”
“চলে যাবো আমরা। তুই আগে বল তোর কাছে ফারজাদ এসেছিল কী না?”
অতসী উৎকণ্ঠায় থাকলেও মায়ের কাছে লুকানোর ভুল আর করল না, ঢোক গিলে বলে,
“হ হ্যাঁ, এসেছিল। এখানে এসেছিল। তুমি কোথায় ছিলে তখন? আমায় একা ফেলে চলে গেছিলে কেন মা?”
তার মা বিচলিত কণ্ঠে সতর্কতাসহিত জানতে চায়,
“কিছু হয়েছিল এখানে? তোদের মধ্যে কোনোকিছু নিয়ে ঝগড়া, হাতাহাতি হয়েছে?”
অতসী সরলভাবে মাথা নাড়ায়, “ঝগড়া করিনি তো, হাতাহাতিও করিনি। উনাকে চলে যেতে বলেছিলাম। আর তোমাকে ডাক দিয়েছিলাম।”
ভ্রু কুঁচকে যায় তার মায়ের। ফ্লোরে আরেকবার তাকিয়ে, হঠাৎ কোনো এক চিন্তায় টেবিলে রাখা পানির গ্লাসের পাশে ফলের ঝুড়িতে চোখ দিলেন, ছু রিটা নেই। মাথা ঘুরছে ভদ্র মহিলার। কিছু বুঝতে পারছেন না। তবে এখানেই কিছু একটা ঘটেছে। সাংঘাতিক কিছু এখানেই ঘটেছে। তার মেয়ের সামনে, অথচ সে জানেনা— এ বেশ বুঝলেন।