বেশ কিছুদিন কেটে গিয়েছে এর মধ্যে। প্রাণেশার দিনগুলোও সবসময়ের মতো কাটছে। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে সবার জন্য নাস্তা তৈরি করা, তাড়াহুড়ো করে আরশি আপুর সাথে কলেজে যাওয়া, কলেজ থেকে এসে নিজেকে সময় দেওয়া, আঁকাআঁকি, মামীর হাতে হাতে কাজ এগিয়ে দেওয়া, রাত হলে পড়া -এসবই যেন প্রাণেশার নিত্য রুটিন।
আজও প্রাণেশা তাড়াহুড়ো করে কলেজে যাওয়ার জন্য বের হচ্ছে। আরশি আপু রেডি হয়ে বাইরে অপেক্ষা করছে। প্রাণেশার কলেজ আর তার আরশি আপুর ভার্সিটি শুরু হয় ৯ টায়। ইতোমধ্যে ৮ টা বেজে ১৫ মিনিট হয়ে গিয়েছে। পৌছাতে লাগে ৩০-৪০ মিনিট। জ্যাম থাকলে তো কথায় নেই। প্রথম ক্লাস না আবার মিস দিতে হয়। দুজনের-ই ক্লাস একই সময়ে শুরু হয় বলে একসাথেই যায়। তাছাড়া ওদের কলেজ আর ভার্সিটির দুরত্বও বেশি না। প্রাণেশা তাড়াহুড়ো করে বের হয়ে আরশিকে "উ.. উ.." শব্দ করে "চলো চলো" বোঝাল। দুজনেই ছুটলো। দুই চার মিনিট হেঁটে মেইন রোডে উঠে গাড়ি পেলে দুজনেই উঠে বসলো।
"কাজকর্ম করিস-ই যখন আগেভাগে করে রাখতে পারিসনা? দেখ তো কতো লেট হলো!"
প্রাণেশা কানে হাত দিয়ে হালকা কিউট ভঙ্গিতে সরি বোঝালে আরশি চেহারায় মেকি বিরক্তিভাব ফুটিয়ে চোখ ঘুরিয়ে নিলো। প্রাণেশা হালকা হেসে এদিক সেদিক তাকাতে লাগলো।
আজ ওদের বাড়িতে আরিভের ক্লাসমেট রুহির কুটনি মা টা এসেছিলো প্রাণেশার জন্য নিজের চরিত্রহীন বোনপোর বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে। রুহিদের বাড়ি ওদের বাড়ি থেকে কয়েক মিনিটের দুরত্বে। রুহির মামী এসেছে ওদের বাড়িতে কাল। থেকে গিয়েছিলো। তাকে নিয়ে সকালে হাটতে বের হয়েছিলো নাকি। তখন-ই ওদের বাড়িতে ডুকেছে আর প্রস্তাবটা দিয়েছে। রুহির খালাতো ভাইয়ের চরিত্রে যে দোষ আছে তা প্রাণেশাদের বাড়ির সবাই জানে।
তাই তার মামা মামী দুজনেই ভদ্রভাবে ফিরিয়ে দিয়েছে, বাড়িতে বড় মেয়ে থাকতে ছোট মেয়েকে বিয়ে দিবেনা এই অযুহাত দিয়ে। আর ওরা ঐ চরিত্রের ছেলের প্রস্তাব আরশির জন্য দেওয়ার সাহস করবেনা। প্রাণেশার একটা প্রতিবন্ধকতা আছে বলেই হয়তো সহজলভ্য ভেবে প্রস্তাব দিয়েছে। তার উপর বাবা মা নেই। থাকছে মামা বাড়ি। তাই হয়তো।
মামীর মনে প্রাণেশার জন্য বিতৃষ্ণা থাকলেও কোনো চরিত্রহীন ছেলের হাতে তুলে দেবেনা তা সে জানে। আর মামা তো আরও আগে না। তবে রুহির ঐ কুটনি মা আর মামীকে আপ্যায়নের ব্যবস্থা প্রাণেশাকেই করতে হয়েছে। শুধু আপ্যায়ন না, ওরা চলে যাওয়ার পর সব আবার গুছিয়ে রাখার দায়িত্বটাও প্রাণেশার-ই ছিলো। তাই তো অতো দেরি হলো। কিন্তু আরশি আপু তো আর এসব জানেনা।
সে রাত জেগে নাহিদ ভাইয়ের সাথে চ্যাটিং করে আর সকালে ঘুম থেকে উঠতেও দেরি করে। আজও তাই হয়েছে। ঘুম থেকে উঠে একেবারে রেডি হয়ে ব্রেকফাস্ট সারতে এসেছে। আরশি যখন রেডি হয়ে ব্রেকফাস্ট করতে এলো তখন সে সব গুছিয়ে সবে রুমে ডুকেছে। প্রাণেশা এসব ভাবতে ভাবতে গন্তব্যে পৌঁছে গেছে তারা। দুজনেই গাড়ি থেকে নেমে এলো।
আরশি এবার ওর ভাগের টাকাটা রেখে বাকিটা প্রতিদিনের মতো প্রাণেশার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো -
"সাবধানে যা।"
প্রাণেশা টাকাটা নিয়ে মাথা নাড়ালো। আরশি তার ভার্সিটির দিকে চলে গেলে প্রাণেশাও তার কলেজের পথে হাটা ধরলো।
প্রাণেশাদের কলেজে আজ ক্লাস হচ্ছেনা। ওদের কলেজের সেকেন্ড ইয়ারের কোন ছাত্র নাকি ড্রা/গ এ/ডি/ক্টে/ড ছিলো। শুধু এ/ডি/ক্টে/ড না, এসব জিনিস চোরাচালানে জড়িতদের সাথে নাকি কাজও করতো। কি সাংঘাতিক!
বাকিটুকু সে অন্যদের মুখে শুনলো। শুনে যা বুঝলো তাতে দাড়ায়, সেই চক্রের একজনকে নিয়ে বেশকিছুদিন ধরে কোন এক ঘটনার জেরে মামলার রায় চলছিলো। আর মামলায় এটা সেটা ঘাটতে গিয়ে বিপক্ষের উকিল তার পাস্ট হিস্ট্রি বের করে। সেখান থেকে তার নিজের কুকীর্তি সহ পুরো চক্রটা ফাঁস হয়। আর তাদের কলেজের ঐ ছাত্রের নামও বেরিয়ে আসে। যার ফলে পুলিশ আজ সকালে তাকে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছে। হয়তো পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠাবে বা কয়েক মাসের জেল হবে। দেশের যা আইন!
প্রাণেশা চারদিকে তাকিয়ে বুঝলো তার আর এখানে থেকে লাভ নেই। ক্যাম্পাসের অবস্থা থমথমে। তবে কিছু কিছু শিক্ষার্থীর মধ্যে চাপা উত্তেজনা। প্রাণেশা ভাবলো এখানে এমন পরিবেশে থাকার চেয়ে আরশি আপুর ভার্সিটিতে যাওয়া যাক। এই পরিস্থিতিতে এখানে থাকার চেয়ে আরশি আপুদের ভার্সিটিতে গিয়ে অপেক্ষা করলে ভালো হবে। নাহয় আরশি আপুকে বলে বাড়ি চলে যাবে।
-----------
অন্তিক এখন একটা ভার্সিটির টিচার্স রুমে আছে। ভার্সিটির এক স্টুডেন্ট সম্পর্কে খোঁজ নিতে এসেছে সে। ঠিক খোঁজও না, কথা বলতে এসেছে। দিগন্তের সেই বাান্ধবী মেঘলার বিষয়টা সহজে মিটমাট হয়ে যাবে ভাবলেও তা হয়নি। মেঘলার ঐ স্বামী খুব গভীর জলের মাছ। মেঘলাকে ওর শ্বশুর বাড়ি থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। কিন্তু ওর স্বামী আয়াজ খান কে কোনোভাবেই আইনের আওতায় আনতে পারছেনা।
আর না ডিভোর্স পেপারে সই করাতে পেরেছে। অন্তিক ওকে শায়েস্তা করার জন্য কিছু একটা করলে আয়াজ উল্টো তাকে ঘোল খাইয়ে দেই। অন্তিক ও ভেবে নিয়েছে আয়াজ খান কে একবার হলেও জেলের ভাত খাইয়ে ছাড়বে সে। এটা এখন ইগো স্যাটিস্ফাই করার বিষয়। শেষ চালটা তাকেই দিতে হবে।
এই ভার্সিটিতে পড়ে আয়াজের ছোট বোন আরাবী। ঐ বাড়িতে একমাত্র সেই মেঘলার হয়ে একটু আদটু যা বলতো। এসব নীলয় খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছে। কিন্তু কোনোভাবেই মেয়েটার দেখা পাওয়া যাচ্ছিলো না যে একটু কথা বলবে।
তাই ঐ মেয়ের ভার্সিটির ক্লাস টাইম-ই সে উপযুক্ত সময় মনে করেছে। যদিও সে আসতোনা, নীলয় কেই পাঠিয়ে কাজ সেরে নিতো। কিন্তু পাশেই একটা কলেজ থেকে সে তার রিসেন্ট কেইসের এক আসামী কে তুলে নিয়েছে আজ পুলিশ দিয়ে। পাশাপাশি যখন আছে সে ভাবলো কাজটা নিজেই সেরে নিক।
ভার্সিটির প্রিন্সিপালের সাথে কথা হয়েছে অন্তিকের। মেয়েটাকে ডেকে পাঠিয়েছে। আসছে বললো। আর দুই চার মিনিট পর মেয়েটা আসলে অন্তিক ফর্মাল দুই একটা কথা বলে ভাই ভাবির ডিভোর্স সম্পর্কে তার কি মতামত তা বোঝার চেষ্টা করলো কথায় কথায়। সব বুঝতে পেরে কৌশলে আরও কিছু কথা বের করে সব রেকর্ড করলো গোপনে। তারপর মেয়েটাকে যেতে বলে প্রিন্সিপাল কেউ বিদায় জানালো।
অন্তিক ফোনে কথা বলতে বলতে বের হচ্ছিলো। হঠাৎ থমকে গেলো। মনে হলো নরম সরম কিছু একটা বোধ হয় ওর বুকে আশ্রয় নিয়েছে। না না... নরম কোমল দেহের কিছু একটা ও জড়িয়ে ধরে আছে। কি সুন্দর ঘ্রাণ!! ওর হাতটা বোধহয় মেয়েদের লম্বা লম্বা চুলের মতো কিছুতে রাখা। ঘোরে চলে গেলো অন্তিক। আরেকটু কাছে টেনে নিয়ে ঘ্রাণটা আবার শুষে নিলো। কিন্তু তৃষ্ণা যেন মিটছেইনা। মুখ ডুবিয়ে দিতে চাইলো চুলের মতো জিনিসগুলোর মধ্যে। কিন্তু হঠাৎ কেউ একটা নিজের সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে ধাক্কা দিলো। তার গায়ের জোর বোধ হয় খুব কম। তাই তো সম্পূর্ণ জোর দিয়ে ধাক্কা দিয়েও অন্তিককে হালকা টলাতে পারলো শুধু। সামান্য পিছিয়ে গেলো সে। হালকা ধাক্কা জেনেও কেউ একটা ধাক্কা দিয়েছে বুঝতে পেরে অন্তিকের চোয়াল শক্ত হলো। মানুষটার দিকে তাকাতেই বুঝতে পারে একটা মেয়ে। হ্যাঁ, শুভ্র রঙের সালোয়ার কামিজ পরা একটা মেয়ে দৌড়ে কোথাও চলে যাচ্ছে। গলার উড়নাটা পেছনের দিকে ঝোলানো। কাধে একটা ব্যাগও আছে। হাতের কাজ করা টোট ব্যাগ। ওটা বুকের সাথে একহাতে চেপে ধরে দৌড়াচ্ছে। মাঝে একবার দৌড়াতে দৌড়াতে পেছন ফিরে অন্তিকের দিকে চাইলো বোধ হয়। কিন্তু হালকা বাতাসের হাওয়ায় আর দৌড়ের কারণে কিছু চুল ছড়িয়ে ছিটিয়ে মুখের সামনে এসে পড়ায় অন্তিক চেহারাটা দেখতে পেলোনা। মেয়েটাকে ওভাবে দেখতে দেখতেই অন্তিকের মাথায় হঠাৎ বেশ কয়েকটা নাম খেলে গেলো। মুখে হালকা করে আওড়ালো, - "কেশবতী, শুভ্রপরী নাকি দৌড়ের রানী?" কি নাম দেওয়া যায় নিজেই ভেবে পেলোনা।
"স্যার?" - অন্তিক তাকালোনা।
"স্যার?" - তাও তাকালোনা।
আবার স্যার বলে ডেকে কাধে হাত দিতেই অন্তিক তাকালো। ঘোর ভাঙলো। জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালে নীলয় বলে -
"স্যার যাওয়া যাক? অনেক্ষণ তো হলো আমাদের কাজ শেষ এখানে।"
ততক্ষণে অন্তিক আরেক পলক তাকালো মেয়েটা যে পথে দৌড়ে চলে গিয়েছিলো সেদিকে। নীলয় এর কথা শুনতেই আনমনে বললো -
"উম? হুম চলো।"
গাড়িতে বসে আছে অন্তিক আর নীলয়। অন্তিক অন্যমনস্ক হয়ে কিছু একটা ভাবছে। কিন্তু নীলয়ের মনে হচ্ছে তার স্যার এখনো ঐ মেয়েটার সাথে ধাক্কা খাওয়ার মুহূর্তে ডুবে আছে। সে বারবার তাকাচ্ছে অন্তিকের দিকে। মনে হলো কিছু একটা বলতে চায় বা জানতে চায়। অন্তিক ওর বারবার তাকানো বুঝতে পেরে বললো -
"কিছু বলবে নীলয়?"
"স্যার, মেয়েটাকে তখন ওভাবে জড়িয়ে ধরলেন কেনো?" - অন্তিক জিজ্ঞেস করার সাথে সাথে বললো, যেনো ওর অনুমতির-ই অপেক্ষায় ছিলো। "ওতো আপনাকে বখাটে, ইভটিজার এসব ভেবে পালিয়ে গেলো। আপনার কাছে এমন আচরণ আশা করিনি। এভাবে একটা মেয়েকে হুট করে অতো গভীরভাবে জড়িয়ে ধরলেন?"
অন্তিক ওর দিকে তাকালো সাথে সাথে। যদিও এখনও ঐ মুহুর্ত টা ভাসছে মাথায়, তবে নীলয়ের সব কথা শুনলো সে।
তবে নীলয় ওর তাকানো দেখে একটু ইতস্তত হয়ে বললো -
"না মানে, আপনি তো অমন পুরুষ না। তাই বলছিলাম।"
এরপর অন্তিকের দিকে আরেকবার তাকিয়ে দেখলো অন্তিক ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। সে ইতিউতি ভঙ্গিতে চোখ ঘুরিয়ে আবার সামনে তাকালো।
ভাবলো হয়তো তার স্যার ওভাবে বলাতে রেগে গিয়েছে। কিন্তু সেই বা কি করবে। স্যার মেয়েটার সাথে কেমন গায়ে পড়া আচরণ করলো। ঐ মেয়ে হয়তো স্যার কে এখন মেয়েবাজ, লুচ্চা এসব ভাবছে।
কিন্তু মেয়েটার কথায় বা আর কি বলবে, ঐ মুহুর্তে সে নিজেই তো তার স্যার কে অমন আচরণ করতে দেখে কনফিউজড হয়ে গিয়েছিলো।
"আমি কি করেছি?" - অন্তিক
"ইয়ে মানে,,,,মানে স্যার। তখন ওভাবে....মানে মেয়েটাকে ওভাবে না ধরলেও পারতেন।" - নীলয়
"শুরু থেকে বলো।"
"অ্যা??"
"ঘটনা শুরু থেকে বলো।"
"কি বলবো?"
"আমি কি করেছি শুরু থেকে বলো।" -তার কথায় মনে হলো সে নিজেই জানতে চাচ্ছে ঐ মুহূর্তে আসলে হয়েছিলো কি?
তবে নীলয় অবাক। স্যার কি এর-ই মধ্যে ভুলে গেলো একটা মেয়ের সাথে কেমন অসভ্যতামি করে এসেছে একটু আগে। নীলয় একটু গভীরভাবে তার স্যারের দিকে তাকালো। মনে হলো কিছু একটা বুঝতে চাচ্ছে। তারপর চোখ ঘুরিয়ে নিলো। কি বুঝলো কি জানি।
বলতে শুরু করলো -
"স্যার মেয়েটা স্বাভাবিক ভাবে হেঁটে আসছিলো। আপনি ফোনে কথা বলছিলেন। তাই হয়তো একটু অমনোযোগী হয়ে হাঁটছিলেন। তবু মেয়েটা আপনাকে দেখে সাইড দিচ্ছিলো কিন্তু আপনি ওদিকে গিয়েই মেয়েটার সাথে ধাক্কা খেলেন।
পড়ে যাচ্ছিলো দেখে আপনাকে ধরেছিলো। তারপর ঠিকঠাক হয়ে দাড়াতে গিয়ে আবার পা পিছলে আপনার বুকে পড়ে। আর আপনিও কেমন ওকে জড়িয়ে ধরলেন।" - বেশ স্বাভাবিক ভাবেই বলছিলো এতক্ষণ নীলয়। কিন্তু এ পর্যায়ে একটু ইতস্তত করে আবার বললো - "মেয়েটার কোমরে, মাথায় হাত দিয়ে ছিলেন। ছাড়িয়ে নিতে চাইলে কেমন নিজের সাথে চেপে ধরলেন।" - তারপর আরো একবার অন্তিকের দিকে তাকিয়ে বললো - "মেয়েটা নিজেকে হাত দিয়ে ছাড়িয়ে নিতে চাইলে আপনি ওর ঘাড়ের দিকে মুখ এগিয়ে নিচ্ছিলেন।
তাই মেয়েটা আপনাকে ধাক্কা দিয়ে কোনোরকম পালালো।"
তারপর মনে মনে বললো - "বেচারি।"
নীলয় মানতেই পারছেনা ঐ আদুরে, নিরীহ, বাক প্রতিবন্ধী মেয়েটা তার স্যারের দ্বারা অ্যা*স*ল্ট হয়েছে। কি নিষ্পাপ মেয়েটার চেহারা। সেদিন ক্যাফেতে ওয়াশরুমে যাওয়ার সময় মেয়েটাকে দেখেছিলো সে।
হাত নাড়িয়ে নাড়িয়ে ইশারা ইঙ্গিতে বাকি দুজনের সাথে কথা বলছিলো। কি যে মায়া হয়েছিলো অতো নিষ্পাপ চেহারার আদুরে একটা মেয়ের এমন অপূর্ণতা দেখে। ইশ!! বাক শক্তি থাকলে কতো মিষ্টি করে কথা বলতো মেয়েটা। এসব ভাবতে ভাবতেই দীর্ঘশ্বাস ফেললো নীলয়।
ভাবলো সৃষ্টিকর্তা সবার মধ্যেই কিছু না কিছু অপূর্ণতা রাখে।
যার চাক্ষুষ উদাহরণ অতো সুন্দরী মিষ্টি মেয়ের এমন প্রতিবন্ধকতা।