মাহাদের মা এই মুহূর্তে বসে আছেন অন্তিকের দাদি শাইনা বেগমের রুমে, উনার সামনেই। কিছুটা থমথমে রুমের পরিবেশ।
কারণ দশটার দিকে সরোয়ার বাড়ি এসে প্রায় সাড়ে এগারটার দিকে সাহস করে ছেলের বিষয়টা মাকে জানিয়েছেন মাহাদের মা।
মেয়ের কথা শোনার পর থেকেই নীরবতা পালন করছেন শাইনা বেগম। কোন উত্তর দেন নি। একটু বেশিই ঠাণ্ডা হয়ে গিয়েছেন।
মায়ের শীতল রুপ দেখে মাহাদের মা মিসেস মার্জিয়া কোন ভাবে বলেন,
“মা, বিষয়টা একটু জটিল হয়ে গিয়েছে তা আমি বুঝতে পারছি। কিন্তু কি করবো আমি এখন? ছেলেটা যা বলেছে তাতে বোঝাই যাচ্ছে অয়ন্তির বিয়েতে কোনো না কোনো ঝামেলা করবে। এখন আমার কি করা উচিত আমি বুঝতে পারছিনা। আমাকে পথ দেখাও। বড় ভাইজান আর ভাবি এসব শুনলে কি যে হবে, আর তাদের সামনে আমি এসব বলবোই বা কিভাবে -কিছু বুঝতে পারছিনা।”
শাইনা বেগম নীরবতা ভেঙে বলেন,
“মাহাদ ভাইজান কি আমার দিদিভাইকে ভালোবাসে আগে থেকে? বা তেমন কোনকিছু কি জানিয়েছে?”
মাহাদের মা মাথা চিন্তিত ভঙ্গিতে মাথা নাড়ান।
“কিছুই বলেনি এসব। না আমরা আগে থেকে এমন কোনো কিছুর ইঙ্গিত পেয়েছিলাম, যে আন্দাজ করবো। আজ ভোরে হঠাৎ রুমে এলো। ওকে দেখে আমি আর ওর বাবা ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। চোখ-মুখ লাল, চুলের অবস্থা বেহাল - কি হয়েছে জিজ্ঞেস করলে জানায়, সে অয়ন্তিকে বিয়ে করবে।”
“কে কাকে বিয়ে করবে?”
নিজেদের কথাবার্তার মধ্যে হঠাৎ বড় ভাইয়ের কণ্ঠস্বর শুনে মিসেস মার্জিয়া আতঁকে উঠেন। দরজায় দাড়িয়ে থাকা ভাইয়ের দিকে একপলক তাকিয়ে মায়ের দিকে তাকান।
শাইনা বেগম কেও যথেষ্ট বিচলিত দেখাচ্ছে।
“কি হলো? মা মেয়ে কার সাথে কার বিয়ের কথা বলছ? আর আমাকে দেখে ভয় পেয়ে গেলি নাকি মার্জিয়া?”
এর মধ্যে মি. মাহমুদ সরোয়ার আবার ঘটনা জানতে চেয়ে ভেতরে আসেন। তিনি এসেছিলেন মায়ের সাথে কথা বলতে।
তারা দুই ভাই এখনো বাড়ির ছোট বড় যেকোনো সিদ্ধান্ত মায়ের সাথে আলোচনা করে তারপর নেন। মেয়েকে পাত্রপক্ষ দেখতে আসছে আজ, সে হিসেবে নানান ছোট বড় বিষয় ঘাটাঘাটি করতে হচ্ছে। এসব সিদ্ধান্ত মায়ের সাথে পর্যালোচনা করেই নিচ্ছেন তিনি। তেমনই কোন একটা ব্যাপারে কথা বলতে এসেছিলেন।
বোন আর মায়ের কথোপকথনে “বিয়ে করতে চাচ্ছে” এই টুকুই শুনেছেন।
তাই ভেতরে প্রবেশ করতে করতে জানতে চান বিষয়টা। তবে বোনকে এমন সংকুচিত হয়ে যেতে দেখে তিনি ভ্রু কুচকান। মায়ের দিকে তাকালে উনাকেও বিচলিত লাগে।
তিনিও ভাবনায় পড়ে যান।
“কি হয়েছে মা? কোনো সমস্যা? আর কার বিয়ের কথা বলছিলে তোমরা?”
শাইনা বেগম একপলক মেয়ের দিকে তাকান। তবে কিছু বলেন না। চেহারাতে খানিকটা চিন্তার ছাপ।
“কিছু বলছনা যে? তোমরা কি কোনো বিষয়ে চিন্তিত?”
উনার কথা শুনে মিসেস মার্জিয়া কিছু বলতে চেয়েও যেন পারেন না। বোনের বিষয়টা বুঝতে পেরে মাহমুদ সাহেব বলেন,
“আরেহ। এত সংকোচ করছিস কেন? কি হয়েছে ভাইকে বল।”
মিসেস মার্জিয়া একপলক মায়ের দিকে তাকান। তিনি চোখের ইশারা করতেই কোনভাবে বলেন,
“ভাইজান, আম আমার ছেলেটা হঠাৎ বলছে” এতটুকু বলে আরেকবার ভাইয়ের দিকে তাকান তিনি। মাহমুদ সাহেব বোনের কথা শুনছেন উৎসুক হয়ে।
মিসেস মার্জিয়া চোখ নামিয়ে বলেন,
“সে বললো অয়ন্তিকে, মানে আমাদের অয়ন্তিকে নাকি বিয়ে করতে চায়। আমি এখন কি করবো বুঝতে পারছিনা।”
মাহমুদ সাহেব ঠাণ্ডা মাথার মানুষ। হুটহাট কোনো সিদ্ধান্ত নেন না। রেগেও যান না। আর না হুট করে কোন কথা শুনে বিশেষ প্রতিক্রিয়া দেন। তাই মিসেস মার্জিয়া বুঝতে পারছেন না, ভাইজান কি রেগে গিয়েছে নাকি না। কিংবা বিষয়টা কিভাবে নিয়েছেন সেটাও বুঝতে পারছেন না।
এদিকে এমন সময় মিসেস আয়েশা আমিনকেও রুমের দরজার পাশে দেখা যায়। তিনি নাস্তা খাওয়ার জন্য ননদকে ডাকতে এসেছিলেন।
এসে এমন কথা শুনে দাড়িয়ে পড়েন।
মাহমুদ সাহেব বেশ কয়েক মুহূর্ত গম্ভীর মুখে বসে ছিলেন। চেহারা দেখে কি চিন্তা করছে বোঝার
উপায় নেই। নীরবতা ভেঙে হঠাৎ বলেন,
“ঘটনা খুলে বল। আর তুই এতো ভয় পাচ্ছিস কেন? যা করেছে, বলেছে তোর ছেলে। তোর ভয় পাওয়ার তো কারণ নেই।”
“না মানে, ছেলেটা যে এমন কিছু বলবে কখনো ভাবতে পারিনি। তুমি আর ভাবি কি না কি ভাবো…… একটু ভয়ে ছিলাম। কিন্তু আমি জানিনা হঠাৎ ছেলেটার মাথায় এসব এলো কি কারণে। কিছু বুঝতে পারছিনা।”
“কখন বলেছে মাহাদ এসব?”
“আজ ভোরেই তো।”
“সে জানতোনা? আজ অয়ন্তিকে দেখতে আসবে পাত্রপক্ষ…… বলিস নি তোরা?”
“জানে ভাইজান। জানার পরেই এসব বলেছে।”
ততোক্ষণে মিসেস আয়েশা আমিন রুমে ঢুকে শ্বাশুরির পাশে বসেছেন। উনার চেহারাটাও অতিব শান্ত দেখাচ্ছে।
মি. মাহমুদ বলেন,
“মাহাদকে বাড়ি আসতে বল। ওর সাথেই কথা বলি, কি চাচ্ছে।”
মিসেস মার্জিয়া ছেলেকে কয়েকবার ফোন দিয়েছেন। কিন্তু নট রিচেবল দেখাচ্ছে।
উনি চিন্তিত হন বেশ। মি. মাহমুদ দিগন্তকে ডেকে পাঠান। মাহাদ কোথায় আছে খোঁজ নিতে বলেন। দিগন্ত সবার চিন্তিত মুখ দেখে কি হয়েছে জানতে চাইলে শাইনা বেগম জানান বিষয়টা। দিগন্ত ভীষণ অবাক হয়। এসব কি হলো? কখন হলো? সে তো কিছুই জানেনা। আস্তে আস্তে বাড়ির সবার জানাজানি হয় মাহাদের বিষয়টা। শুধু উপরে রুমে থাকা অয়ন্তি আর মেহেরিন ছাড়া। ইশি, দিথীকে মানা করে দিয়েছে দিগন্ত। যেন অয়ন্তিকে এখন কিছু জানানো না হয়। কারণ তার ধারণা অয়ন্তি মাহাদের এসবের ব্যাপারে কিছু জানেনা। তাই এখন না জানিয়ে ঘটনাটা কতদূর কি হয় তা দেখতে হবে। সে মনে করে এর আগে বোনকে এসবের থেকে বাইরে রাখাই ভালো।
অন্তিক বাইরে ছিল। প্রাণেশা টেক্সট করে পাঠিয়েছে যে বাড়িতে একটা ঝামেলা হয়েছে, যেন তাড়াতাড়ি আসে। ওর টেক্সট পেয়ে দশ মিনিটের মধ্যেই চলে এসেছে। হয়তো কাছেই কোথাও ছিল।
এসে সবাইকে একত্রে চিন্তিত মুখে বসে থাকতে দেখলে দিগন্ত জানায় ঘটনা। এরপর সে ভ্রু কুচকে নেয়। ফুফিকে একবার জিজ্ঞেস করে,
“অয়ন্তিকে মাহাদ ভালোবাসে? আগে থেকে?”
“জানিনা বাবা। সেসব কিছু জানায় নি।”
আর কিছু জানতে চায় নি সে। ১০/১৫ মিনিট পর মাহাদ এলে সবাই তার দিকে তাকায়।
ওকে দেখে আগের মতো এলোমেলো না লাগলেও চোখের হাল দেখে কাল সারারাত যে ঘুমায়নি তা সবাই বুঝে যায়।
মাহাদ এসে সবার দিকে নির্লিপ্ত চোখে একবার তাকায়। দেখে মনে হচ্ছে সবাই তার জন্য বিচার সভা বসিয়েছে। মি. মাহমুদ ওকে ডাকলে সে গিয়ে উনার সামনে দাড়ায়।
মাহাদকে দাড়াতে দেখে তিনি উনার বরাবর সামনে সোফায় বসতে ইশারা করেন। ইশি, দিথী সোফা ঘেষে দাড়িয়ে আছে। বাকিরা যার যার মতো চিন্তিত, উৎসুক কিংবা গম্ভীর মুখে সোফায় বসে আছে।
“অয়ন্তির বিয়েতে তোমার সমস্যা?” মাহমুদ সাহেব মাহাদের দিকে তাকিয়ে জানতে চান। উনাকে দেখে রেগে আছেন কিনা ঠিক বুঝতে পারলো না মাহাদ।
একপলক বাকিদের দিকে তাকিয়ে অন্তিকের দিকে তাকায়। সে পিঠ কিছুটা সামনের দিকে ঝুকিয়ে মাথাটাও নামিয়ে বসে আছে সোফায়, কিছু গভীরভাবে ভাবছিল হয়তো। তবে ঝুকানো মাথায় চোখ তুলে ওকেই দেখছে। মাহাদ এসেছে থেকে তার দিকেই চোখ দুটো। মানুষের চেহারা দেখে ভেতরটা পড়ে নেওয়ার অভ্যাস তার। হয়তো তেমন কিছুই করছে। তবে মোটেও সহজ নয় অন্তিকের সেই ঝুকানো বাঁকা দৃষ্টি। মাহাদ আর তাকায় না সেদিকে। মি মাহমুদের দিকে তাকিয়ে বলে,
“অয়ন্তিকে আমি বিয়ে করতে চায় মামু। এটাই সমস্যা। তাই চাচ্ছিনা অন্য কোথাও ওর বিয়ে হোক।”
“আজকে ওকে দেখতে পাত্রপক্ষ আসবে, জানো?”
“হ্যাঁ।”
“তাহলে আগে জানাওনি কেন?”
“আগে বুঝতে পারিনি তাই।”
“তাহলে তোমার এখন কেন মনে হচ্ছে যে আজকে যাদের অয়ন্তিকে দেখানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছি তাদের বাদ দিয়ে তোমার সাথে ওর বিয়ে দেব?”
মাহাদ কিছু বলেনা। কিন্তু তার কেন জানি রাগ উঠছে। অয়ন্তি বিয়েতে মত না দিলে আজ এতকিছু হতোনা। সে হাত দিয়ে ঘাড় ঘষতে ঘষতে সবার দিকে একবার তাকায়।
এর মধ্যে দাদি বলেন,
“নানুভাই? তোমার সাথে কি দিদিভাইয়ের কোনরকম প্রেমের সম্পর্ক ছিল?”
উনার প্রশ্ন শুনে অন্তিক ভীষণ বিরক্ত হয়।
এর মধ্যে দাদি আবার ছেলের দিকে তাকিয়ে বলেন, “আমার মনে হয় দিদিভাইকে একবার ডাকলে ভালো হয়। তার থেকে জেনে নেওয়া যাবে, সে এসবের কিছু জানে কি না? মাহাদ ভাইজান আর বড় বউমার বোনের ছেলে - কাকে নিয়ে তার আপত্তি আছে তাও জানা যাবে।”
দাদির কথা শুনে অন্তিক আর মি. মাহমুদ কিছু বলবে তার আগে মাহাদ বলে,
“ওকে ডাকার কোনো দরকার নেই। অয়ন্তি জানে না এসবের কিছু। আর না আমাদের মধ্যে কোনোরকম প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাই ওকে ডাকার প্রয়োজন নেই নানী।”
মাহাদের কথা শুনে একপলক তার দিকে ঠাণ্ডা দৃষ্টিতে তাকান মি. মাহমুদ। তিনি নিজেও ঘটনার সমাধান না করে কোনো ভাবে এসব মেয়ের কানে তুলতে চান না।
মাকে বলেন,
“হ্যাঁ মা, ওকে জানাতে চাচ্ছিনা এসব আপাদত। মাহাদই বলুক যা বলার। তাছাড়া অয়ন্তি কারো সাথে কোনো রকম সম্পর্কে থাকলে অন্য জায়গায় কখনো সম্মতি দিতনা। এতো টুকু চিনি মেয়েকে।”
“আহা… সেসব বুঝলাম নাহয়। কিন্তু মাহাদ ভাইজান আর তুরাগের মধ্যে কাকে নিয়ে তার আপত্তি বা কাকে পছন্দ তার এসব তো জানতে হবে।”
“তুমি কি বলতে চাচ্ছ বুঝতে পারছি মা। কিন্তু আগে নিজেদের মধ্যে বিষয়টা নিয়ে ক্লিয়ার হই। তারপর ওকে জানাবো। এখন ওকে ডাকতে চাচ্ছিনা।”
শাইনা বেগম মূলত কোনোরকম ঝামেলা ছাড়া ব্যাপারটা মিটমাট করতে চাচ্ছেন। অয়ন্তি, মাহাদ -দুইজনেই তার নাতি, নাতনি। দুজনকেই তিনি খুব ভালোবাসেন। মাহাদের এই ঘটনার জন্য উনার মেয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছেন। তাই অয়ন্তিকে ডেকে ওর মুখেই শুনে সব ঠিক ঠাক হয়ে যাক এটাই চান তিনি। তাছাড়া যেভাবেই বেড়ে উঠুক ছোট থেকে, আসলে তো নিজের ভাই বোন না যে বিয়ে করতে পারবেনা। তাই তিনি আবার কিছু বলতে উদ্যত হবেন তার আগে অন্তিকের ঠাণ্ডা স্বর শুনতে পান।
“দাদি… অয়ন্তি এখানে আসবেনা। বাবা বলেছে না?
আমার বোন এসবের কিছু জানে না। ওরা প্রত্যেকে কখন কোথায় যায়, কি করে, কার সাথে যায়, কার সাথে মিশে সব আমার জানা। অয়ন্তি এসবের কিছু জানে না।” তারপর মাহাদের দিকে চোখের ইশারা করে বোঝায়,
“ঘটনা যা জানার, যা বোঝার সব তাকে জিজ্ঞেস করো। আমার বোনকে এসবে টানার দরকার নেই এখন।”
শাইনা বেগম এরপর আর কিছু বলতে পারেন না।
মাহাদ ফ্লোরে চোখ রেখে সবার কথা শুনছিল এতক্ষণ। সে বুঝতে পারে নানী ঝামেলা যাতে না হয় তাই আগে ভাগে অয়ন্তিকে ডেকে মত নিয়ে তারপর তার সাথে বিয়ে ঠিক করে নিতে চাচ্ছে। কিন্তু বুঝতে পারছেনা যে, অয়ন্তি মাহাদের সাথে বিয়েতে জিজ্ঞেস করলে মত নাও দিতে পারে। মাহাদ নানীর চেষ্টাটুকু দেখে ফ্লোরে চোখ রেখেই মৃদু হাসে। এসব ভাবনা শেষে মাথাটা তুলে সে মি মাহমুদের দিকে তাকায়,
“মামু, আমি আগে কখনো সেভাবে আলাদা চোখে দেখিনি অয়ন্তিকে। কিন্তু মানুষের জীবনে হঠাৎ হঠাৎ অনেক কিছুইতো ঘটে, অনেক কিছু বদলায়। তেমনই কোন ভাবে অয়ন্তিকে নিজের পাশে ছাড়া আর কারো সাথে কল্পনা করতে পারছিনা। তোমার মেয়েকে সুখে রাখবো, অনেক ভালো রাখবো। আজকের এই দেখাদেখিটা বাদ দিয়ে দাও প্লিজ। ওকে আমি বিয়ে করতে চাই।”
মাহাদের মুখে বারবার অয়ন্তিকে বিয়ে করতে চাওয়ার কথা শুনে বাকিরা নিজেদের মধ্যেই অস্বস্তি বোধ করে। কি একটা ব্যাপার। এদের সারাজীবন একসাথে থাকতে শিখিয়েছে। ভাই বোন হিসেবে দৃঢ় বন্ধন ছিল সবার মধ্যে। কখনো এসব মাথাতেই আনেনি তারা। আর এখন ছেলেটা এভাবে বড় ছোট সবার সামনে সারাজীবন বোনের চোখে দেখে আসা একজনকে বিয়ে করার আর্জি জানাচ্ছে। কতোটা নির্দ্বিধায়!
“তুমি কি বলছ তা বুঝতে পারছ? সবরকম প্রস্তুতি শেষ, আয়োজন করার শেষ - উনাদের আসা বাকি শুধু। অয়ন্তিও উপরে নানান ভাবে নিজেকে প্রস্তুত করছে। আর তুমি বলছ সবকিছু এখানে থামিয়ে যেন আমি আমার মেয়েকে তোমার হাতে তুলে দেই। এতোই যদি ওকে চাও, তাহলে আগে জানাওনি কেন?”
ভাইয়ের কথা শুনে মাহাদের মা মিসেস মার্জিয়া মাথা নিচু করে ফেলেন। ভীষণ চিন্তায় ছিলেন তিনি, সেই ভোরবেলা থেকে। ঠিক এই পরিস্থিতিতে পড়ার চিন্তাই হচ্ছিল উনার। তাই সত্যি হলো। এর মধ্যে আবার ভাইয়ের কণ্ঠ শুনেন,
“তুই মাথা নামিয়ে বসে আছিস কেন? মাথা তোল।”
একমুহূর্ত চুপ থেকে তিনি আবার বলেন,
“এসব ছেলেমানুষী করে সকাল থেকে নিজের মাকে কি পরিমাণ টেনশনে রেখেছ তার ধারণা আছে তোমার?”
মাহাদ মায়ের দিকে তাকায়। ভীষণ চিন্তিত উনার চেহারা। তার ভুল হয়েছে। শেষে বিয়ে আটকানোর হুমকি দেওয়া উচিত হয়নি। সে দিগন্তের দিকে তাকায়। দিগন্ত ওর তাকানোর মানে বুঝতে পারে। ইশিকে বলে তার রুম থেকে স্ফিগমোম্যানোমিটারটা নিয়ে আসতে। তারপর প্রেশার মেপে দেখে প্রেশার লেভেল অনেক হাই।
তা দেখে দিগন্তের বাবা বলে,
“আশ্চর্য, যা হয়েছে হয়েছে। তোর এতো চিন্তা করার কারণ দেখছিনা এতে। ভাইজান সুন্দর সমাধান নিশ্চয় করবেন। তোর এতো চিন্তা করে প্রেশার বাড়িয়ে ফেলতে হবে কেন? অদ্ভুদ সব।” দিগন্তের বাবা বোনের প্রেশার লেভেল হাই দেখে বলেন। তারপর স্ত্রীকে বলেন যেন বোনকে এখান থেকে নিয়ে যায়। কিন্তু মিসেস মার্জিয়া মানা করে দেন।
মি. মাহমুদ বোনকে আশ্বস্ত করেন চিন্তা না করতে। সব দিক ভেবেই তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন।
তারপর মাহাদকে বলে,
“কি বলছি বুজতে পারছ? আজকের দেখাদেখির পর্বটা ঠিকঠাক ভাবে হতে দাও। উনাদের মেয়ে দেখানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিয়েছি। এখন তা ভঙ্গ করা সম্ভব না। উনারা এসে দেখে যাক। তারপর অয়ন্তির সাথে কথা বলে বাকি সিদ্ধান্ত নেব। এখন আপাদত এখানেই শেষ হোক সবকিছু।”
মাহাদের ভীষণ আপত্তি আজকের এই দেখাদেখি আয়োজনে। এটাই না হতে দেওয়ার জন্য এতো কিছু, আর মামু বলছে এটা হলে তারপর গিয়ে সব সিদ্ধান্ত নেবে। সে কিছুতেই মানতে পারবেনা এটা। কিন্তু মামু এতো কিছু বুঝিয়ে দেয়ার পর আবার দ্বিমত জানালে খারাপ দেখাবে। তাই সে বাবার দিকে তাকায়। তিনি শুরু থেকেই নীরব। স্ত্রী আর ছেলে তাদের ভাই, মামুর সাথে কথাবার্তা বলে সমাধানে আসতে পারে কিনা দেখছিলেন। কিন্তু মি. মাহমুদ সুন্দর সমাধান দিলেও ছেলের তা একেবারেই পছন্দ হয়নি চেহারা দেখেই বুঝা যাচ্ছে। তিনি মি. মাহমুদকে উদ্দেশ্য করে বলেন,
“ভাইজান, বলছিলাম ছেলেটা শেষ মুহূর্তে এসে নিজের অনুভূতি জানিয়ে ভুল করেছে বুঝতে পারছি। তার জন্য আমি বাবা হিসেবে ক্ষমা চাই আপনাদের সবার কাছে। কিন্তু তার মূলত আজকের দেখাদেখি পর্বেই সমস্যা। সে অয়ন্তি মাকে বিয়ে করতে চায়। এতে তার কোনো সন্ধেহ নেই। আপনি হয়তো জানেন না আজকে সকালে তার মাকে হুমকিও দিয়েছে -যে অয়ন্তির বিয়ে তার সাথে না দিলে ঝামেলা করবে। এখন বুঝতেই পারছেন সে অয়ন্তিকেই বিয়ে করতে চায়। আমিও আপনার কাছে অয়ন্তি মাকে চাচ্ছি ছেলের জন্য। দয়া করে আমরা যাকে ছেলের বউ করতে চাচ্ছি তাকে অন্য কোথায় দেখাবেন না। অনুরোধ রইলো।”
বাড়ির জামাইয়ের কথা শুনে সবাই ভাবনায় পড়েন। জামাই মানুষের কথা ফেলে দেওয়া যায়না। আর একভাবে দেখতে গেলে তিনি ছেলের জন্য প্রস্তাব রেখে দিয়েছেন। যেটা অবশ্যই এতক্ষণ মাহাদের করা ছেলেমানুষীর মতো নয়। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব রেখে বসেছেন তিনি। মি. মাহমুদ খানিকটা দ্বিধায় পড়েন। স্ত্রীর দিকে তাকান।
মিসেস আয়েশা আমিন কিছু বলেন নি। শুরু থেকে চুপ করে আছেন। সবার সব কথা শুনেছেন, সব মতামত মাথায় রেখেছেন। কিন্তু কিছু বলেন নি। মি. মাহমুদের স্ত্রীর দিকে তাকানো দেখে সবাই বুঝে নেয় স্ত্রীর মতামত না নিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত জানাতে পারবেন না কোনো ভাবেই।
মাহদের বাবা মিসেস আয়েশা আমিনকে উদ্দেশ্য করে বলেন,
“ভাবি, প্রথমে আপনার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেই। যা হচ্ছে তা কখনো কাম্য ছিলোনা। কিন্তু হচ্ছে যখন অস্বীকার করার উপায় নেই। আমি আপনার কাছে অন্যায় ভাবে আমার ছেলের জন্য আপনার মেয়ের হাত চাচ্ছি। আর আজকের আয়োজনটাতে অয়ন্তিকে দেখানোর বিষয় না রেখে শুধুমাত্র পারিবারিক সাক্ষাতের আয়োজনে সীমাবদ্ধ রাখার অনুরোধ করছি। দয়া করে ফিরিয়ে দেবেন না।”
মাহাদের মা ভীষণ চিন্তিত আর দ্বিধাভরা চোখে ভাবির দিকে তাকিয়ে আছেন। উনার মন খচ খচ করছে, উনার কারণে ভাইয়ের সংসারে অশান্তি আসবে না তো -এই ভেবে। এমনটা হলে তার ঐ দিনটা দেখার আগে ম রে যাওয়া শ্রেয় হবে। উনার ভাবনার মধ্যে মিসেস আয়েশা আমিন মাহাদকে কাছে ডাকেন। মাহাদ গিয়ে হাঁটুমুড়ে বসে মামীর সামনে।
“আমার মেয়েকে ভালোবাসিস?”
“জানিনা, বুঝতে পারছিনা।”
“তাহলে বিয়ে করার জন্য উতলা হচ্ছিস কেন?”
“তুমি তো তোমার বোনের ছেলের সাথে বিয়ে দেওয়ার জন্য উতলা হচ্ছো, তাই আরকি।”
“আমার মেয়ে বড় হয়েছে, বিয়ে দেবনা? সারাজীবন রেখে দেব নাকি?”
“তো আমাকে বলতে, মেয়ে বিদায় করতে চাও। তা না করে বোনের ছেলেকে ধরে আনছো। আমি অবিবাহিত পড়ে আছি চোখে পড়েনা? নিজের ছেলের তো সব ঠিক করে দিয়েছ।”
“পাজি ছেলে, বড়দের সামনে কিভাবে কথা বলতে হয় শেখাতে পারিনি এখনো। এভাবে বিয়ে করবো বিয়ে করবো করে বাবা মায়ের সামনে? আর আমার ছেলে কি? ওই শুধু আমার ছেলে? তোরা কি মেয়ে নাকি?”
“মজা করবেনা তো। সিরিয়াস আলোচনা চলছে। মেয়ে দেবে নাকি বলো? অনেক ভালোবাসবো প্রমিস। তোমার রাজকন্যাকে আমি রাণী করে রাখবো, সত্যি বলছি। না করবেনা। নাহলে তোমার মেয়েকে তুলে, আহহহহ…” মাহাদ পুরো কথা শেষ করতে পারলনা, তার আগে মামীর কান মলা খেয়ে আর্তনাদ করে উঠে।
“মারলে কেন?”
মিসেস আয়েশা আমিন কান মলে দিয়ে থেমে যান নি। মাহাদের চুলে ভাঁজে হাত ঢুকিয়ে টেনে ধরেন চুলগুলো।
“হুমকি দিচ্ছিস কাকে তুই?”
“দিতে পারলাম কই? চুল ছাড়ো প্লিজ। তোমার মেয়ে আবার টাকলা জামাই বলে বিয়ে করতে চাইবেনা। চুল ছাড়ো। আমার শখের চুল।” মাহাদ করুন স্বরে বলে।
“আর হুমকি ধমকি দিবি কোনো দিন, বল? তোর মা প্রেশার বাড়িয়ে ফেলেছে তোর কারণে। প্রেশার বেড়ে গেলে কতোটা দুর্বল হয়ে যায় তোর মা, জানিস না? আর দিবি হুমকি? বল, নাহলে মেয়ে দেবোনা। আজীবন কুমার থাকবি।”
“মাফ কারো মেরে মা। মেয়ে দিয়ে দাও, আমি চলে যাচ্ছি। শান্তি নেই কোথাও। আর আসবোনা এখানে। তোমার ছেলে আর স্বামী পারছেনা আমাকে খেয়ে ফেলতে তাদের বোন আর মেয়ে চেয়েছি বলে। নিজেরা মনে হয় বিয়ে করেনি কোনদিন।”
করুন স্বরে চুল ছাড়াতে ছাড়াতে মাহদ কথাগুলো বলে। এর মধ্যে মিসেস আয়েশা আমিনের ফোনে কল আসলে তিনি নিজে থেকেই ছেড়ে দেন মাহাদকে। বাকিরা উনি যতোটা রিয়েক্ট করবেন ভেবেছিলেন ততোটা জটিলভাবে না নিয়ে স্বাভাবিক আচরণ করছেন দেখে স্বস্তি পায়।
আসলে তাদেরই ভাবনার ভুল ছিল। এ বাড়ির বড় বউটা লাখে এক, খাটি সোনা একেবারে। অনেক জটিল পরিস্থিতিও সুন্দর ভাবে হ্যান্ডেল করার অদ্ভুদ ক্ষমতা আছে মিসেস আয়েশা আমিনের। সবার দিক বিবেচনা করে সবসময় সঠিক আর মানবিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তিনি। একটা মানুষ এতটা ভালো কিভাবে হয় তা মি. মাহমুদের জানা নেই। কি করে এতো সুন্দর মনের অধীকারী হতে পারে কেউ তিনি ভেবে পান না। এক চুটকিতে সমস্যার সমাধান করে দেন।
তিনি নিজের ছেলের দিকে তাকান। অন্তিক এখনো কিছুটা চিন্তিত। হয়তো এদিকে সব সমাধান হলেও খালাকে মা কি জবাব দেবে তা ভেবেই চিন্তিত। উনার চিন্তা হচ্ছেনা এমন নয়। কিন্তু স্ত্রীর উপর পূর্ণ বিশ্বাস আছে উনার। ঐ দিকটাও সামলে নিবে তিনি নিশ্চিত। তাছাড়া তিনি মনে করেন, উনার স্ত্রী কোন কাজে বা ব্যাপারে হাত লাগালে তা কিভাবে জানি আপনা আপনি ঠিক হয়ে যায়। এটাও হয়ে যাবে হয়তো।
———————
মিসেস আয়েশা আমিনের ফোনে কল আসতে দেখে সবাই চুপ হয়ে যায়। কারণ এই সময় নিশ্চয় উনার বোনই কল দিবেন, কতদূর এসেছে না এসেছে জানাতে। সবার মধ্যে দুশ্চিন্তা স্পষ্ট। এ পর্যায়ে মিসেস আয়েশা আমিনকেও খানিকটা বিচলিত দেখা যায়। বোনকে কি জবাব দেবেন তিনি জানেন না। এতো কিছু ভেবে তিনি মাহাদকে পজিটিভ ইশারা দেননি। উনি চোখের সামনে নিজের ছেলের চেয়ে আলাদা চোখে না দেখা মাহাদের আকুতি দেখতে পারছিলেন না। বোনের ছেলের সাথে যা হতো সব পারিবারিক ভাবে ঠিক করা। অয়ন্তি আর তুরাগের মধ্যে আগে থেকে কোন কিছু নেই। এদিকে অয়ন্তি মাহাদের সম্পর্কে কিছু না ভাবলেও মাহাদ মেয়েটাকে ভালোবাসে। মাহাদকে নিয়ে যেমন কিছু ভাবেনা তেমন তুরাগকে নিয়েও তো ভাবেনা অয়ন্তি। তাহলে ভালো যে বাসে সেই নাহয় পূর্ণতা পাক। তাছাড়া মাহাদ তার কাছে অন্তিকের চেয়ে কম নয় কোনদিকে। সেই ছেলের ভালোবাসার মানুষের অন্য কোথাও বিয়ে হবে, এটা তিনি চান না কখনো। পুত্র সমতুল্য মাহাদের ভালোবাসার সামনে বোনের বিষয়টা মাথায় আসেনি উনার। এখন বোনের কল দেখে কিছুটা চিন্তিত হন। তবে রিসিভ করেন,
“হ্যাঁ আপা। কতদূর এসেছ?”
“আয়েশা”
“হ্যাঁ, আমি। বলো আপা।”
“আমাকে ক্ষমা করিস বোন।”
মিসেস আয়েশা আমিন ঘাবড়ে যান। বোনের কি হলো ভেবে। কণ্ঠ শুনে ভীষণ ক্লান্ত মনে হচ্ছে। কেদেঁছেও হয়তো।
“কি হয়েছে আপা। তোমার কথা এমন শুনাচ্ছে কেন? কি হয়েছে? সবাই ঠিক আছো তোমরা? কতদূর এসেছ?”
“আমরা ***স্কুলের সামনে।” উনার ক্লান্ত স্বর।
“হ্যাঁ হ্যাঁ, এই তো আর ১০ মিনিটের পথ। এখন পৌছে যাবে। তুমি কেদেঁছ নাকি? কি হয়েছে?”
“তুরাগ অয়ন্তিকে বিয়ে করবেনা বলছে রে আয়েশা। আমি কি করবো কিছু বুঝতে পারছিনা। এতদিন কিছু বলেনি। আমরা প্রায় চলে এসেছি। ওর একটা মিটিং শেষ করে আসার কথা ছিল। হঠাৎ ফোন দিয়ে বলে সে আসতে পারবেনা। তার অন্য কাউকে পছন্দ। এখন আমি কি করি? তোর দুলাভাইও শুনে শরীর খারাপ করে ফেলেছেন, প্রেশার বাড়িয়ে।”
মিসেস আয়েশা আমিন বোনের বিচলিত কণ্ঠ শুনে ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। কাছে আছে তাই ছেলেকে, স্বামীকে পাঠাতে চাচ্ছিলেন ওখানে। কিন্তু অন্তিক ঘটনা বুঝতে ফোন লাউডে দিতে বললে উনি দেন।
ওপাশের কথা শুনে হঠাৎ এদিকে ইশি, দিথী সহ বড়রা কেউ কেউ সামান্য হেসে উঠেন। হয়তো খুশিতে। অন্তিকও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। মাহাদের মা ভাবি সব মেনে নিলেও এই কারণে চিন্তিত ছিলেন। তিনি চান না উনার কারণে বোনে বোনে সম্পর্কে কোনোরকম তিক্ততা আসুক। মাত্র যা শুনলেন তা উনার জন্য খা খা রোদে এক পশলা বৃষ্টির মতো স্বস্তি দিলো। মিসেস আয়েশা আমিন বোনের আওয়াজ শুনে ভীষণ চিন্তিত ছিলেন। তিনি মুখাভঙ্গি স্বাভাবিক করে বলেন,
“সমস্যা নেই আপা। ছেলের কোনো পছন্দ থাকতেই পারে। তাই বলে আসবেনা? বোনের বাড়ি কি এমনি আসা যায় না? তোমরা আসো। আমি অপেক্ষায় আছি।”
“এখানে থামেনি রে ছেলেটা। সব শেষ করে দিয়েছে। আমাদের মুখ দেখানোর জো রাখেনি আর।”
“মানে? কি হয়েছে আবার? আমাকে খুলে বলো প্লিজ। কিছু বুঝতে পারছিনা।”
“তোর ননদের মেয়েকে নাকি ভালোবাসে সে অনেক আগে থেকে। ওকে বিয়ে করবে বলছে। আমি এখন কি করবো তুই বল। আমার এতো শান্ত আর বাধ্য ছেলে। কোনোদিন আমার আর তোর ভাইজানের কথা অমান্য করেনি, না কোনো বেয়াদবি করেছে। আজ এভাবে আমাদের মুখ ডুবাবে ভাবতেও পারিনি। এখন আমি যেই বাড়ির মেয়েকে প্রত্যাখ্যান করছে, ঐ বাড়িতে আরেক মেয়েকে কিভাবে চাইব তুই বল। তোর শ্বাশুরি, স্বামী, ননদ -তারা এসব অনাচার মানবেন?”
উনার কথা শুনে সবাই আবার হতচকিত হয়। একে অপরের দিকে তাকায়। মানে কি হলো আবার? হঠাৎ হঠাৎ এ একে, ও তাকে বিয়ে করবে বলছে। ছেলেগুলোর মাথায় গণ্ডগোল নাকি? আগে থেকে বলে রাখলে কি সমস্যা। শেষ মুহূর্তে এসে একেকজন একেকজনকে বিয়ে করবে বলে জেদ ধরছে। আশ্চর্য!
—————
তুরাগরা দুই ভাই এক বোন। বোন সবার বড়। বিবাহিতা, এক ছেলে এক মেয়েও আছে তার।
তুরাগ মেজ, আর দিথীর কিছুটা বড় এক ভাই আছে।
তুরাগের বোন, বোন জামাই, পিচ্চি দুই ভাগিনা ভাগিনি, ছোট ভাই, বাবা-মা, আর এক ফুফি এসেছেন সরোয়ার বাড়িতে। তারা প্রত্যেকে ভীষণ লজ্জিত ছেলের এমন কাণ্ডে। বেশ কয়েকবার ক্ষমা চেয়েছেন। তবে আজকে যদি তুরাগ এমন কিছু না করতো তাহলে, এই পরিস্থিতিতে তাদের পড়তে হতো। এটা ভেবে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন মিসেস আয়েশা আমিন। উনার বোনের পরিবার প্রথমে ইতস্তত করলেও বাড়ির সদস্যদের স্বাভাবিক আর সুন্দর আচরণে তা আর বেশিক্ষণ থাকেনা। ভীষণ সুন্দর আর আনন্দময় একটা ফ্যামিলি টাইম কাটে তাদের। এর মধ্যে অয়ন্তিকে জানানো হয়েছে আজকে দেখতে আসাটা ক্যান্সেল বিশেষ কারণে। তবে এজ ফ্যামিলি তারা অবশ্যই আসবে। অয়ন্তি প্রস্তুতি নিয়ে ছিল বলে কি না কি হলো ভেবে একটু দ্বিধান্বিত ছিল। তবে সে আর মেহেরিন, দুইজনেই পরিবারের সাথে ভীষণ ভালো সময় কাটায়।
বাড়িতে যেহেতু অনেক তোড়জোড় ছিল তাই হঠাৎ দেখার বিষয়টা ক্যান্সেল কি কারণে হয়েছে তা অয়ন্তিকে না জানালেও তার টেনশন হয়। ইশিকে জিজ্ঞেস করেছে। সে জানেনা বলেছে। দিথীর কাছে যেহেতু সবরকম খবর থাকে তাই অনেক আশা নিয়ে তাকেও জিজ্ঞেস করেছিল। কিন্তু অন্তিক ভাইয়া তাকে ভীষণ পরিমাণ স্টাডি করিয়েছে অয়ন্তি আপু কিছু জানতে চাইলে ধুম ধাম মুখ না চালাতে। তাই সে কষ্ট করে হলেও হজম করে নেই মুখে আসা কথাগুলো। জানায়না বোনকে।