ইরফান আর তোশা এই মুহূর্তে অবস্থান করছে সরোয়ার বাড়িতে। মিসেস আয়েশা আমিন ডেকেছেন তাদের। জরুরী তলব। ছেলের বন্ধুদের সাথে উনার দরকারি কথা আছে।
ছেলে কি চাইছে তার স্পষ্ট করে জানতে হবে। স্বামীর সাথে কথা বলেছেন তিনি। বিদেশ থেকে এসেই মেয়েটাকে নিয়ে যা মন চায় শুরু করেছে। স্বামীকে ছেলের কীর্তি জানিয়েছেন তিনি।
স্ত্রীর কথা শুনে মি. মাহমুদ ভেবেচিন্তে তাকে ছেলের বন্ধুদের ডেকে পাঠাতে বলেছেন।
ওদের দিয়েই এখন সব খোলাখুলি ভাবে জানতে হবে। কারণ তারা বাবা, মা হওয়ায় কিছু কিছু বিষয় নিয়ে সন্তানের সাথে কথা বলতে পারার সীমাবদ্ধতা আছে। আজকের ঘটনাটা বিস্তারিত জানতে হবে। মেয়েটার সাথে কোনো রকম জোরজবরদস্তি করেছে কিনা রুমে নিয়ে গিয়ে জানতে হবে। তাদের ছেলের উপর বিশ্বাস আছে। কিন্তু প্রাণেশাকে নিয়ে অন্তিকের এমন ঘটনা তো প্রথম নয়।
ছেলেটা এর আগেও অবিশ্বাস্য কাণ্ড ঘটিয়েছে। অন্তত বাবা, মা হিসেবে তাদের কাছে ছেলের ঐ কাণ্ড তো অবিশ্বাস্যই ছিল। এখন এবার কি না কি করছে, টেনশনও হচ্ছে, আবার গিয়ে যে দেখবেন ব্যাপারটা, প্রশ্ন করবে অন্তিককে এসবের কারণ কি - সে আর্জি টুকু প্রকাশ করতেও দ্বিধা হচ্ছে। কারণ তারা যেমনটা ভাবছেন তেমন কোনো কিছুই যদি না হয়। তাহলে বাবা মা হয়ে সন্তানকে এমন প্রশ্ন করারর চেয়ে বিচ্ছিরি ঘটনা বোধ হয় আর হবেনা।
এখন সময়টা বারোটার ঘরে।
অন্তিক প্রাণেশাকে নিয়ে রুমে ঢুকেছে প্রায় ৫/৬ ঘণ্টার মতো হবে। অথচ এখনো একজনেরও দেখা নেই। রুমে কি হচ্ছে না হচ্ছে তা তো আর গিয়ে দেখতে পারবেনা কেউ। তবে ঘটনাটা যেহেতু জানাজানি হয়েছে সবার মধ্যে, তাই তারা ধারণা করে ঘুমাচ্ছে হয়তো।
রাতভর জার্নি করে এসে অন্তিক এখন ঘুমাবে নিশ্চয়। আর প্রাণেশাকে হয়তো আঁটকে রেখেছে। সবাই এমনটাই ধরে নিয়েছে। কিন্তু সত্যি বলতে সম্পূর্ণ ব্যাপারটা তাদের সবার জন্য ভীষণ লজ্জ্বাজনক। খোলাখুলি ভাবে কি হচ্ছে না হচ্ছে আলোচনা করার মতো বিষয় না। কিন্তু মনে মনে সবাই কিছু একটা ধরে নিয়ে বসে আছে।
বাড়ির পরিস্থিতি থমথমে। তোশা আর ইরফান সোফায় বসে আছে। তোশা কনফিউজড। সে অন্তিককে খুব ভালো করে চেনে। ওর মতো ম্যাচিউর আর ঠাণ্ডা মাথার একটা ছেলের কাছে বাড়ির সবাই যা ভাবছে তা মোটেও আশা করা যায়না। সে বিশ্বাসও করছেনা সেসব। কিন্তু যা রটে তার কিছুটা হলেও ঘটে। তাই অন্তিকের মুখেই সে কি করেছে আর কি চাচ্ছে সেসব জানতে হবে।
এদিকে ইরফান তার বিপরীত। সে কি ভাবছে সেই জানে। তবে এখানে এসে যখন দিগন্তের কাছে সবটা শুনে তখন সে বিরবিরিয়ে বলেছে, “বন্ধু হয়তো বিদেশী হ ট স্টাফ গুলোকে দেখে হ র্নি হয়ে গিয়েছিল। তাই সামলাতে পারেনি। দেশে এসেই বউ নিয়ে রুমে ঢুকেছে।”
ওর কথাটা তোশা শুনেছে। তবে অবাক হয়না। এই ছেলের কাছ ভালো কোন কথা আশা করাও বোকামি। তবে প্রতিবাদ করে বলে,
“সবাইকে নিজের মতো ভাবিস? অন্তিক কেমন ছেলে সেটা সবাই জানে। তাই দেখছিস না এতোকিছুর পরও সবাই মনে মনে প্রাণেশাকে নিয়ে চিন্তা করলেও বাইরে কতো শান্ত। ওর জায়গায় যদি তুই বা তোর মতো কোনো ছেলে থাকতো, তাহলে এতক্ষণ কেউ একটা হায়েনার কাছে কোন মেয়ে আঁটকে আছে জেনেও চুপ থাকতোনা। তাই নিজের চরিত্রের সাথে সবাইকে গুলিয়ে ফেলিস না।”
ইরফান তোশার কথা শুনে ওর দিকে তাকায়।
“কি বুঝাতে চাইলি এসব বলে?”
তোশা অবজ্ঞা ভরা দৃষ্টিতে ইরফানকে এক পলক দেখে বিরবিরিয়ে বলে,
“ব্রেইনটা শুধু ডার্টি কথাগুলোই ক্যাচ করতে পারে। কাজের কোনো কথা বললে ঘোড়ার ডিম।”
“আমার কাছে মেয়েরা সেফ নয়, এটাই বুঝালি। তাইতো?”
তোশা কোন উত্তর দেয়না। তবে তার দিকে তাকায়। তোশার দৃষ্টিতে স্পষ্ট ইরফানের প্রতি ঘৃণা, অবজ্ঞা থাকলেও ওর সেই তাকানোর অর্থ দাড়ায় ইরফানের প্রশ্নের উত্তর “হ্যাঁ”।
ইরফান তা বুঝে বলে,
“ভুল ধারণা। আমার কাছে যদি কোনো মেয়ে আনসেফ হয়ে থাকে তাহলে সেটা একমাত্র তুই তোশা। বাকি দুনিয়ার সব মেয়ে উলঙ্গ হয়ে সামনে দাড়িয়ে থাকলেও আমার কিছু আসবে যাবেনা।”
তোশার ইরফানের কথা শুনে হৃদয়ে দোল দিয়ে উঠে। তবে এ অনুভূতি তার জন্য অসহ্যকর, খুব অসহ্যকর। কারণ ইরফানের প্রতি এমন অনুভূতি সে আর চায় না। এই ছেলের প্রতি কোনো অনুভূতিই আসুক তা সে চায় না। তবে কখনো সীমাহীন ভালোবাসতে মন চাই, তো কখনো সীমাহীন ঘৃণা করতে মন চায়। ইরফানের প্রতি তোশার যে অনুভূতিই আসুক, তা খুব চরমভাবে আসে। তবে ওর মনের এতসব খবর সে ইরফানকে বোঝাতে চায় না। তাই বিরক্ত মুখে অন্যদিকে চলে যায়।
————————
প্রাণেশা অন্তিকের সাথে ঘুমিয়ে পড়েছিল। মাত্র ভাঙে তার ঘুম। ঘুম ভাঙতেই সে নিজের অবস্থান দেখে ভয় পেয়ে যায় এক মুহূর্তের জন্য। কারণ সে সকাল থেকে এতসব ঘটনা ভুলে বসেছিল। চোখ খুলতেই অন্য কারো রুমে নিজেকে আবিস্কার করে ভয় পেয়ে যায়। তারপর আস্তে আস্তে সব মনে পড়লে অসময়ে সে অন্তিকের রুমে ঘুমিয়ে পড়েছে, এটা খেয়াল হতেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে, অস্বস্তি হয়। বাড়ির সবাই কি ভাববে…
কাল ই তো সে রিসিপশনের জন্য মানা করেছে। ডিভোর্স এর ইঙ্গিত দিয়েছে। আর আজ একেবারে লোকটার বেডরুমে তার সাথে ঘুমাচ্ছে।
বাড়ির সবাই জানলে তার লজ্জ্বায় মাথা কাঁটা যাবে। এতক্ষণে রুমে কেউ একবার হলেও নিশ্চয় তাকে কোন দরকারে ডাকতে দিয়েছিল। আর তাকে না পেয়ে খোজাখুজি করে নিশ্চয় বুঝে গিয়েছে সে লোকটার রুমে। কিংবা যদি না বুঝেও থাকে, তাহলে এখান থেকে বের হয়ে সে এতোক্ষণ কোথায় ছিল জানতে চাইলে কি বলবে?
ইশ!! এ কেমন লজ্জ্বাজনক পরিস্থিতিতে পড়লো সে।
এর মধ্যে খেয়াল করে সে এখন তার স্বামীর বুকে নেই। বরং তার স্বামীই তার বুকে মাথা রেখে আষ্টে-পৃষ্টে জড়িয়ে ধরেছে।
অন্তিকের মাথাটা নিজের বুকে এভাবে অবস্থান করছে দেখে প্রাণের সারা শরীর শিরশির করে উঠে। তার গা কাপঁছে অজানা অনুভূতি আর উত্তেজনায়। প্রথমবার কোনো পুরুষ এভাবে তার সাথে লেপ্টে আছে। তার সর্বাঙ্গ জড়িয়ে ঘুমাচ্ছে।
প্রাণেশা ঘোরের মধ্যে নিজের হাতের নরম নরম আঙ্গুলগুলো অন্তিকের কালো সিল্কি চুলের মধ্যে চালায়।
হাতে আরাম লাগছে তার এভাবে অন্তিকের চুলে আঙ্গুল চালানোতে।
অন্তিকের নিজেরও হয়তো ভালো লাগছে, সে প্রাণেশার বুকে আরও গভীরভাবে মুখ গুজে।
এতে তার খোঁচা খোঁচা চাপ দাড়ির কাঁটা লাগে প্রাণেশার বুকে। ব্যাথায় সে অন্তিকের চুলের ভাঁজে থাকা হাত আরও দৃঢ় করে। চুলগুলো হাতের মুটোতে নেয়। জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিচ্ছে সে। তার সারা অঙ্গ কেমন শিরশির করছে। গরম লাগছে এসির ঠাণ্ডার মধ্যেও।
প্রাণেশার হঠাৎ ধ্যান ভাঙলে হাত দিয়ে অন্তিকের মাথাটা বুক থেকে সরিয়ে দিতে চায়।
কিন্তু অন্তিক নিজের হাত দিয়ে ওর সে হাত আঁটকে নেই। প্রাণেশা বুঝে যায় লোকটা একেবারেই ঘুম নয়। কিছুটা জেগে আছে সে।
লজ্জ্বা লাগছে তার। বুক ধুকপুক করছে।
“হৃদয়টা তো একেবারেই বেরিয়ে আসবে মনে হয়, এতো কাপঁছ কেন? কিছু করেছি এখনো?”
হঠাৎ অন্তিকের এমন ঘুম জড়ানো কণ্ঠ শুনে তার নিঃশ্বাস আঁটকে আসে। মানুষটা তার বুকে মুখ গুঁজে রেখেই কথাগুলো বলেছে। তার ঠোঁটের স্পর্শ আর নড়চড় সে স্পষ্ট টের পেয়েছে।
প্রাণেশার কি হচ্ছে, কেমন অনুভূতি হচ্ছে সে বুঝে উঠতে পারছেনা।
অসহ্যরকম অনুভূতি থেকে বাঁচতে সে আবার অন্তিককে ঠেলে সরাতে চায়। এবার অন্তিক বিরক্ত হয়ে মাথা তুলে প্রাণেশার দিকে তাকায়।
“কি সমস্যা? এমন করছ কেন?”
প্রাণেশা অন্তিকের দিকে তার উপর থেকে সরে যেতে আকুতি নিয়ে তাকায়। অন্তিক ওর সেই দৃষ্টি দেখে বলে,
“একটু জড়িয়ে ধরেছি এতেই হৃদয়টা লাফিয়ে বের হয়ে আসতে চাইছে তোমার। আদর দিলে তো খুজেও পাওয়া যাবেনা।”
প্রাণেশার গাল লজ্জ্বায় টকটকে লাল হয়ে গিয়েছে অন্তিকের কথা শুনে। সে আর চোখ তুলে তাকায়না।
অন্তিক ওর লজ্জ্বায় লাল হওয়া মুখটা দেখে। তারপর হঠাৎ মাথাটা একটু তুলে বাম গালে একটা চুমু খায়, পর পর আবার ঠোঁটে চুমু খায়। একটা দুইটা করে বেশ কয়েকবার ঠোঁট ছোঁয়ায় প্রাণেশার ঠোঁটে।
তারপর মাথাটা নামিয়ে আবার ওর বুকে কপাল ঠেকিয়ে রাখে। শ্বাস ফেলে গভীরভাবে।
প্রাণেশা হতবাক হয়ে শুয়ে থাকে। হঠাৎ কি থেকে কি হলো বুঝতে পারেনি সে। অন্তিক ওকে বেশ কয়েকবার চুমু খেয়ে আবার ওর বুকেই মাথা ঠেকিয়ে রেখেছে। যেভাবে ঘনঘন শ্বাস নিচ্ছে মনে হচ্ছে যেন নিজেকে সামলানোর তীব্র চেষ্টাই আছে সে।
প্রাণেশা একটা ঢোক গিলে। সে এই অবস্থায় ইশারা ইঙ্গিতেও কিছু বোঝাতে পারছেনা, না সরাতে পারছে। কারণ সরাতে চাইলে লোকটা আরও তার মধ্যে ঢুকে যেতে চাইবে মনে হচ্ছে প্রাণেশার।
এর চেয়ে লোকটা নিজে উঠবে, সেই অপেক্ষাই করুক -ভেবে প্রাণেশা স্থির হয়ে থাকে।
এভাবে মিনিট কয়েক কাটার পর অন্তিক আস্তে আস্তে প্রাণেশার কামিজের ফাঁক দিয়ে উষ্ণ উদরে হাত ছোঁয়ায়। ওর উদরের নরম ত্বকে হাত ছুঁইয়ে অন্তিকের নেশা লেগেছে মনে হচ্ছে ঐ হাতে। সে ধীরে ধীরে হাত বোলায় ওখানে, নাভি দেশে। কিন্তু হঠাৎ সে নিজের হাতের উপর অন্য একটা হাতের অস্তিত্ব টের পায়। ঐ হাত তাকে আটকাচ্ছে। বারণ করছে আর না এগোতে। অন্তিক মাথা তুলে প্রাণেশার দিকে তাকায়।প্রাণেশা দেখে অন্তিকের চোখ লাল হয়ে আছে, নিঃশাস নিচ্ছে ঘনঘন। তাকে দেখে অভিজ্ঞ যেকোনো নারীর কি চাচ্ছে তা বুঝে যাওয়ার কথা। কিন্তু প্রাণেশা বুঝলোনা।
সে অন্তিকের দিকে কাতর চোখে তাকিয়ে আছে আর কিছু না করতে। সে আর নিতে পারছেনা এই অসহ্যকর অনুভূতি। তার কেমন লাগছে নিজে জানেনা।
তবে এতটুকু নিশ্চিত অন্তিক আর এগাক তা সে চায় না।
ওর চোখের সেই ভাষা বুঝে অন্তিক মুহূর্তেই নিজেকে দমিয়ে নেয়।
আস্তে করে সরে আসে প্রাণেশার উপর থেকে। তার ই ভুল হয়েছে। মেয়েটা এখনো ছোট। আরেকটু বড় হোক। নিজেকে বুঝুক, তাকে বুঝুক -তারপর যা হবার হবে। নাহয় দেখা যাবে অনুভূতির শীর্ষে গিয়ে বউয়ের অবুঝতার কারণে ফিরে আসতে হচ্ছে বার বার।
__________
অন্তিক এখন তার মা, চাচী, দাদি আর দুই বন্ধুর সাথে মায়ের ই রুমে অবস্থান করছে। তার বাবা আর চাচা এই মুহূর্তে এখানে নেই। মিসেস আয়েশা আমিন শক্ত মুখে বসে আছেন। অন্তিক বুঝতে পারছে তার মা তার উপর ভীষণ নারাজ।
তখন রুম থেকে বের হয়ে বাইরে আসলে সবাইকে এক জোট হয়ে ড্রয়িং রুমে বসে থাকতে দেখলে সে ভ্রু কুচকে তাকায়। এখানে আবার কি হলো? পরিস্থিতি এতো থমথমে লাগছে কেন বুঝতে চাইবে অমনি তার দুই বন্ধুকেও চোখে পরে। ইরফান তাকে দেখে চোখের ইশারায় কিছু একটা বোঝায়। অন্তিকের মনে হলো ‘তু তো গ্যায়া' -এই ধরণের কিছু একটা বুঝিয়েছে। কম তো চেনেনা বন্ধুকে। ইশারা বোঝা কঠিন কিছু না।
তবে এমন ইশারার কারণ বুঝতে পারলোনা। নিচে আসতেই সবার চোখ তার উপর এসে থেমেছে। এতে সে বুঝে যায় তাকে নিয়েই কোনো ঝামেলা। তবে কাউকে কিছু জিজ্ঞেস করেনা। তীক্ষ্ণ চোখে সবাইকে পর্যবেক্ষণ করে।
দিথী মুখ অন্ধকার করে বসে আছে। কারণ তার মনে হচ্ছে এভাবে সবাইকে রসিয়ে রসিয়ে শুনিয়ে পুরো ব্যাপারটা ঘেটে দেওয়ার কারণে তাকে অন্তিক ভাইয়ার কাছেও বকা শুনতে হবে। নিজের মা আর ভাইয়ের কাছে শুনে ফেলেছে ইতোমধ্যে।
সে যায় হোক, গর্বর একটা করেছে তাই বকাও শুনেছে। সে কোনো বড় ব্যাপার না। ভাবি ঠিক থাকলে হলো। সাথে বড় মা আর বড় বাবার মেজাজ একটু নিয়ন্ত্রণে আসলে হয়।
__________
মিসেস আয়েশা আমিনের কথা অনুযায়ী ইরফান অন্তিকের কাছে সে কি চায় আসলে তা জানতে চায়।
অন্তিক তার কথা শুনে একপলক মায়ের দিকে তাকায়। তারপর ভারী নিঃশ্বাস ফেলে বলে,
“তোমরা যেভাবে আমাকে জেরা করছ, যেন আমি কোন জেল ফেরত আসামী। খুব বড় ক্রাইম করেছি। অথচ অপরাধীদের জেরা করা আমার কাজ।” শেষের কথাটা একটু বিরক্ত হয়ে বললো সে।
ইরফান ওর কথা শুনে হেসে উঠে। তোশা চোখ গরম করে তাকালে ওকেও পাত্তা দেয়না। তবে নিজেকে সংযত করে।
"কর্ম যেমন, ফলও তেমন হয়। আসামীদের মতো কাজ করে উকিলের মতো সম্মান খুজঁছিস? সে যায় হোক, মূল কথায় আসি। শুরু থেকে এই অব্দি বিয়েটা নিয়ে তোর মুখে এক কথা আর কাজে অন্য কথা। এর বাখ্যা দে।"
অন্তিক মা চাচীদের সামনে তার ভালোবাসার কাহিনী শুনাতে চায় না। তাই কোনো প্রতি উত্তর করেনা। বরং বলে,
"আগের কথা বাদ দাও। দাদি আমাদের রিসিপশন করার চিন্তা করেছে শুনলাম। ওটাতে ফোকাস করো তোমরা। সামনে কোন একটা ডেট দেখে ঠিক করো সবাই মিলে। আর প্রাণেশা আজ থেকে আমার সাথে থাকছে। শুরু থেকে আমার কথা কাজে মিল না থাকলেও তোমরা এটাই চেয়েছিলে। তাই আশা করি কারো আপত্তি থাকবেনা আমার আর প্রাণেশার নতুন শুরুতে।"
"তোমার আর প্রাণেশার নতুন শুরুতে কারো আপত্তি নেই দাদুভাই। বরং আমরা সবাই ভীষণ খুশি। তুমি নিশ্চিন্ত থাকো। যা চাচ্ছ তাই হবে"
"এভাবে কথা এড়িয়ে যাবেন না আপনারা দাদি, নাতি মিলে। প্রাণেশা কাল রাতেও অসম্মতি জানিয়েছে। আর আজ এসে ওকে জোর জবরদস্তি করেছে আপনার নাতি। যা মন চায় তা করতে পারেনা সে। মেয়েটাকে আগে ভালোবেসে বুঝিয়ে রাজী করাতে বলুন। নাহয় ও যতক্ষণ সম্মতি না দিচ্ছে কোনো রিসিপশন হবেনা। ভেবেছিলাম আজ আমি নিজে বোঝাব মেয়েটাকে। যাতে সব ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে অন্তত আরেকটাবার সুযোগ দেয় আপনার নাতিকে। এখন আমি কোন মুখে ওর সামনে যাব বলতে পারেন?"
"প্রাণেশা রাজী মা। তুমি শুধু শুধু চিন্তা করছ। সে রাজী। আর আমি জোর জবরদস্তি করতে যাবো কেন আজব। বউ হয় আমার। বউকে কোলে নিলেও তোমাদের অনুমতি লাগবে?"
অন্তিকের কথা শুনে সবাই অপ্রস্তুত হয়। কিন্তু তার মা বলে,
"এখন যে বউ বউ করছিস, এতদিন তো রুমেও টাই দিচ্ছিলিনা। কি চাচ্ছিস ক্লিয়ার করে বল। নাহয় কোনো রিসিপশন হবেনা। প্রাণেশাও আগের রুমে থাকবে। তোর কথা আর কাজে মিল নেই। সামনে কোন এক দিন আবার ওকে ভালো লাগবেনা। তখন বের করে দিবি। এসব চলবেনা। যা চাচ্ছিস ক্লিয়ার কর।"
অন্তিক হতাশ হয়ে মাকে বোঝায়,
"মা, এবার একটু ভরসা করো। যেমন টা বলছো তেমন কিছুই হবেনা। আর তোমার ছেলে বউকে আমার এখন লাগবে। নিজের জন্য, তাই এসব ভাবনা ছেড়ে দাও প্লিজ। প্রেশার বাড়িয়ে ফেলবে।"
অন্তিকের কথা শুনে তার মা তৎক্ষণাৎ কিছু বলতে পারেনা আর। জা আর শাশুড়ি মিলেও নানান কিছু বোঝায়। ছেলের কথাও তার কাছে কেন জানি বিশ্বাসযোগ্য মনে হলো। তাই তিনি ঠিক আছে বলে রিসিপশনের আয়োজনের ব্যাপারে আলোচনা করতে বলেন। অন্তিক কাদের কাদের ইনভাইট করবে মা, চাচিকে আগে তা ঠিক করতে বলে বেরিয়ে আসে।
মায়ের খপ্পর থেকে বের হয়ে আসলেও অন্তিক বন্ধুদের থেকে কোনভাবে বাচতে পারেনা। তোশা আর অন্তিক ওকে জোঁকের মতো ধরেছে আসল কাহিনী জানতে।
তাদের কাছে টিকতে না পেরে অন্তিক বিরক্ত হয়ে বলা শুরু করে,
“একটা মেয়েকে আগে থেকে ভালো লাগতো। আগে থেকে বলতে বিয়ের ১৫/২০ দিন আগে থেকে। তবে মেয়েটার সম্পর্কে কিছু জানতাম না। চেহারাটাও দেখিনি। ওর খোঁজখবর বের করবো এর আগে সেদিন রিসোর্টে বিয়ের ঘটনাটা ঘটে যায়।
তাই বিয়েটার প্রতি অনীহা ছিল। পিকনিকে যাওয়ার আগের দিন জানতে পারি ঐ মেয়েটা আর আমার বউ, দুই ব্যক্তি একইজন। তাই এখন সব ঠিক ঠাক করতে চাচ্ছি। এই হলো কাহিনী। আর কিছু না।”
“উহুম মামা, সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ছিলনা ওটা। বর্ণনামূলক ছিল, তাই ডিটেইলে বলো। কোথা থেকে কোথায়, কেমনে কি -সব।” তোশা
“এক্সাক্টলি। শুরু থেকে ডিটেইলে বল। ফিডার খাওয়া বাচ্চা পেয়েছিস নাকি? যে চেরিলাক দিয়ে কাজ চালাচ্ছিস? বুকের দুধ চাই, অরিজিনাল। তাই অরিজিনাল ঘটনা ডিটেইলে বল।” ইরফান
অন্তিক বিরক্ত হয়না। সে জানতো এরা সহজে ছাড়বেনা। তাই শুরু থেকে সব জানায় তাদের।