মৌনপ্রেম

পর্ব - ২৬

🟢

অনন্য স্নিগ্ধ একটি সকাল। প্রাণেশা বরাবরের মতো খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠেছে। নিজের সকল প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে সে দুই শাশুড়িকেও কিচেনে সহযোগিতা করে। বাড়ির সবার সাথে নাস্তা শেষ করে সে রুমে চলে এসেছে।

অন্যদের মাঝে বসতে তার অস্বস্তি হচ্ছে। বিশেষ করে কাল রাতের পর।

কাল রাতে দাদি তার কাছে রিসিপশনের জন্য না করার কারণ জানতে চেয়েছিল। আর সে তেমন কোনো যথাযথ উত্তর দিতে পারেনি। বরং ডিভোর্সের কথা এগোলে ভালো হবে এমনটা বুঝিয়েছে সে।

এতে তিনি প্রাণেশার উপর কিছুটা নারাজ। যতোই ভালো মনের মানুষ হোক, কিংবা তাকে স্নেহ করুক। নিজের নাতির চেয়ে বেশি তো করবেনা।

প্রাণেশা তার নাতিকে অস্বীকার করছে এটা অবশ্যই তার ভালো লাগবেনা। কিন্তু সে কি করবে? এভাবে দাদীর মন রাখতে তো সম্মান ছাড়া, ভালোবাসা ছাড়া একটা সম্পর্ক এগিয়ে নিতে পারবেনা সে। অনেক দিন তো হলো। দুইটা মাস সময় দিলো সম্পর্কটাকে।

এসব কারণে প্রাণেশার কাছে তেমন কোনো যথাযথ উত্তর না পাওয়ায় তার উপর কাল রাত থেকেই দাদি কিছুটা নারাজ। প্রাণেশা ভাবছে বাকিরাও হয়তো দাদির মতো তার উপর বিরক্ত এখন। তাই সে সবার মাঝে থাকতে পারছেনা।

অস্বস্তি হচ্ছে। রুমে সে বসে বসে এসব ভাবছিল। বাড়ির সবার চোখে নিজের জন্য বিরক্তি দেখে দেখে সে কিভাবে এই বাড়িতে পড়ে থাকবে জানেনা। কিংবা আর কতোদিনই বা আছে এই সম্পর্কের মেয়াদ তাও জানেনা।

সম্পর্কটা শেষ হয়ে গেলে সে কোথায় যাবে? মামা মামীকে হাতে পায়ে ধরলেও কি মেনে নেবেনা?

এমন নিরুপায় লাগছে কেন? উফ!

প্রাণেশা নিজের এমন অসহায়ত্বে নিজেই বিরক্ত। ব্যালকনির ফ্লোরে দেয়ালে পিঠ এলিয়ে বসেছিল সে। বিরক্তিতে মাথাটাও দেয়ালে এলিয়ে চোখ বন্ধ করে রাখে।

কিছুক্ষণ ওভাবেই থেকে তার মনে হলো কেউ এসে বসেছে তার সামনে। কিন্তু সে তেমন পাত্তা দিলনা। কারণ এমন সময় এভাবে তার সামনে এসে বসবে এমন কেউ নেই এ বাড়িতে। তাই সে ওভাবেই বসে থাকে চোখ বন্ধ করে।

কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মনে হলো কারো নিঃশ্বাসের শব্দ শুনতে পাচ্ছে সে। তীক্ষ্ণ চোখে দেখছে কেউ তাকে।

ঝট করে চোখ খুলে সে।

অন্তিক বসে আছে। হ্যাঁ, প্রাণেশার এক মুহূর্তের মধ্যে এই নামটাই মাথায় এসেছিল। আর সত্যি সত্যি সেই বসে আছে তার সামনে। তীক্ষ্ণ চোখে দেখছে তাকে, সামনে আয়েশ করে বসে।

প্রাণেশা তার দিকে তাকিয়ে থাকে, সবকিছু বুঝে উঠতে কয়েক সেকেন্ড সময় নেই। তারপর বুঝতে পেরে আস্তে আস্তে মাথা ঘুরিয়ে এদিক সেদিক দেখতে চায়, কি দেখতে চাইছে তা সেই জানে।

"ম্যাডামের দাদিকে না করে দেওয়ার কারণ?" এর মধ্যেই অন্তিকের আওয়াজ আসে। তবে প্রাণেশা কোনো উত্তর দেইনা। চোখ নামিয়ে বসে থাকে।

অন্তিক ওর নীরবতা দেখে বলে, "কি সমস্যা? কিছু বলছেন না যে? দাদিকে রিসিপশনের জন্য না করে দিয়েছেন শুনলাম। এর কারণ বলেন, শুনি।"

প্রাণেশা মনে মনে ভাবে লোকটা বোধ হয় তার আর ইরফান ভাইয়ার মেসেজগুলো দেখেনি।

নাহয় সবার আগে এসে তার আলমারিতে হাত দিয়েছিল কেন তার কৈফিয়ত চাইতো নিশ্চয়। সে মনে মনে একটু স্বস্তি পায়।

"এতো কিছু জেনে লাভ কি? আপনার তো খুশি হওয়ার কথা রিসিপশন না হলে।" সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ

"আমার খুশি অখুশির কথা খুব ভাবছেন দেখি।" অন্তিক তীক্ষ্ণ চোখে ওকে দেখে বলে।

প্রাণেশা উত্তর দেইনা। অন্তিক আবার বলে,

"দাদি রিসিপশনটা যখন হবে ঠিক করেছেন তখনই হবে। এর কোনো নড়ছড় হবেনা, বুঝেছ?"

প্রাণেশা খানিকটা বিস্ময় নিয়ে তাকায়। মানে উনি চাচ্ছেন রিসিপশন হোক? কিন্তু সে তো মানুষটা তোশা আপুকে মনে মনে চায় বলে ভেবেছিল। তাহলে কি তার ধারণা ভুল ছিল?

সে একটা ভাবনা নাহয় ভুল হতেই পারে। কিন্তু আলমারিতে যা দেখেছে তা কোনোভাবেই ভুল ছিল না। ডিভোর্স পেপার, সাথে ওসব।

পরক্ষণে ভাবে ইরফান ভাইয়া বলেছে ওসব শুরুর দিকের হতে পারে। হয়তো এখনো থেকে গিয়েছে কোনো কারণে।

কিন্তু তাও ঐ পোশাক গুলো নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

কিন্তু সরাসরি অন্তিককে ঐ পোশাকগুলো নিয়ে সে প্রশ্ন করতে পারবেনা কখনো। লজ্জ্বায় ম রে যাবে সে। তাই শান্তভাবে বোঝায়,

"আপনি যে অন্য কাউকে ভালোবাসেন তা আমি বুঝতে পারি। তাই শুধু শুধু ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমার সাথে সম্পর্কে আটকে থাকার কারণ দেখছিনা। আপনিও নির্দ্বিধায় দাদিকে মানা করে দিতে পারেন। আমি কিছু মনে করবোনা।"(সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ)

অন্তিক প্রাণেশার কথা বুঝতে পারে। কিছুক্ষণ ওর দিকে তাকায়। তারপর বলে,

"আমি অন্য কাউকে ভালোবাসি, এমনটা মনে হলো কি কারণে?"

প্রাণেশা অন্তিকের প্রশ্ন শুনে তার দিকে এক পলক তাকায়। তবে কোনো উত্তর দেইনা।

"উহুম, চুপ করে থাকবেনা। কাল ইরফানকেও বলেছ আমি অন্য কাউকে ভালোবাসি। এমনটা মনে করার কারণ জানতে চাইছি। তাড়াতাড়ি বলো"

প্রাণেশা ঘাবড়ে যায়। তার মানে তার ভাবনা ভুল ছিল। উনি দেখে নিয়েছেন কালকের মেসেজগুলো। কিন্তু এমন হলে অন্য কাউকে চায় এমনটা ভাবার কারণ জানতে চাইছে কেন?

উনার তো বুঝে যাওয়ার কথা যে প্রাণেশা তার আলমারিতে ওসব দেখে নিয়েছে, তাই এমনটা ভাবছে। তাহলে??

প্রাণেশা বিভ্রান্ত দৃষ্টিতে তাকায়। অন্তিক ওর সেই দৃষ্টি দেখে বলে,

"আলমারিতে ডিভোর্স পেপার দেখেছ তাই মনে হয়েছে এমনটা?"

প্রাণেশা তাও তাকিয়ে থাকে।

অন্তিক বিরক্ত চোখে বলে, "বোকা মেয়ে ইরফান তো বলেইছে ওটা শুরুর দিকে বানিয়েছি। তাও উল্টাপাল্টা ভাবছ।"

প্রাণেশা মাথা নাড়ায়। অর্থাৎ সে তেমনটা ভাবেনি।

ওর মাথা নাড়ানো দেখে অন্তিক বলে,

"ভাবোনি? ডিভোর্স পেপারের জন্য না হলে, অন্য কাউকে ভালোবাসি এমনটা মাথায় এলো কি কারণে?"

প্রাণেশা আবারও চুপ থাকে। কিছু বোঝায়না।

অন্তিক ওর নীরবতা দেখে বলে দাঁতে দাঁত চেপে বলে,

"চুপ করে থেকে আমাকে রাগাবেনা। এর ফল কিন্তু তোমার ভালো লাগবেনা।"

এবার প্রাণেশা নিজেও খানিকটা রেগে যায়। তবে কিছু বোঝায়না।

অন্তিকের এবার সত্যি সত্যি রাগ লাগছে। সে আবার দাঁতে দাঁত চেপে প্রাণেশার বাহু শক্ত করে ধরে বলে,

"কিছু বলবে কি না?"

এবার প্রাণেশাও রেগে অন্তিকের দিকে তাকিয়ে বোঝায়, "আপনার নোংরা চিন্তা ভাবনার কারণে"

অন্তিক ওর কথা শুনে ভ্রু কুচকায়, "কি? আমার নোংরা চিন্তা ভাবনা...আমি কি নোংরা চিন্তা করেছি? আর তুমি কিভাবে জানো?"

"নিজে মনে করে দেখুন, আপনার চিন্তা ভাবনা কোথায় কোথায় নোংরা হয়। আমি কিভাবে জেনেছি না জানলেও চলবে।"(সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ)

"আচ্ছা? সে তোমাকে নিয়ে নাহয় করি নোংরা চিন্তা ভাবনা। মানলাম, মিথ্যা নয় যেহেতু। কিন্তু তুমি কি জানোনা বউকে নিয়ে ভাবা নোংরা চিন্তাগুলোও পবিত্র হয়?"

প্রাণেশা বিস্ফোরিত চোখে তাকায়।

"আপনি আমাকে নিয়েও নোংরা ভাবেন?"(সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ)

"তো? আর কাকে নিয়ে ভাববো?" অন্তিক ভ্রু উচিয়ে বলে।

"আপনার মতো খারাপ আর বাজে লোক আমি আমার জীবনে আর দুটো দেখিনি বিশ্বাস করুন। ছিঃ!"(সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ)

"মুখ ভেঙে দেবো, তোমাকে ছাড়া আর কাকে নিয়ে ভাববো? স্টুপিড! তোমার স্বামী হই ভুলে যাবেনা।"

প্রাণেশা রেগে বোঝায়, "আমার স্বামী হোন বেশ জানি। কিন্তু শুধু আমাকে নিয়েই যদি ভাবেন তাহলে আলমারিতে ওসব কি ছিল? আমি দেখিনি ভেবেছেন?"

"কি দেখেছ?" অন্তিক প্রাণেশা কিসের কথা বলছে বুঝতে না পেরে জানতে চায়।

প্রাণেশা মুখ ফিরিয়ে জবাব দেই, "কিছুনা"(সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ)

অন্তিক ওর গালে শক্ত করে হাত রেখে নিজের দিকে ফেরায়।

"স্পষ্ট করে বলো কি দেখেছ। শুধু শুধু দোষ দেবেনা"

"আমি দোষ দেইনি কাউকে। আপনি কাউকে ভালোবাসতেই পারেন। আমি বরং তা মেনে নিয়ে রিসিপশনে মানা করেছি। দোষের কিছু আছে বলিনি। আমি জানি আমি আপনার যোগ্য নই। পরিপূর্ণ নই আপনাদের মতো। তাই আপনাকে দোষ দেওয়ার কারণও নেই। আপনি নিজেই অহেতুক ঝামেলা বাড়াচ্ছেন।"(সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ)

অন্তিক চোয়াল শক্ত করে প্রাণেশার ইশারা ইঙ্গিত গুলো দেখে। তারপর হঠাৎ ওকে কোলে তুলে ব্যালকনি থেকে রুমে পা বাড়ায়।

প্রাণেশা আকস্মিক অন্তিকের এমন কাজে ভড়কায়। কি করবে বুঝে আসেনা তার। তারপর অন্তিক ওকে কোলে নিয়ে রুমের বাইরে যাচ্ছে বোধগম্য হতেই সে অন্তিকের সাথে ধস্তাধস্তি করে নামিয়ে দিতে।

অন্তিক ওর ধস্তাধস্তির তোয়াক্কা না করে নিজের রুমের উদ্দেশ্যে পা বাড়ায়।

পথিমধ্যে দিথীর চোখে পড়ে ব্যাপারটা। সে শপিং পাগল মেয়ে। নিত্য নতুন অনলাইন শপিং তার অভ্যাস। আজও পার্সেল নিতে নিচে যাচ্ছিল। এর মধ্যেই অন্তিক ভাইয়া ভাবিকে তার রুম থেকে নিজের রুমে নিয়ে যাচ্ছে জোর করে কোলে নিয়ে, ব্যাপারটা দেখে নেয়। আর পেটে কথা রাখতে না পারা সরোয়ার কন্যা তা মুহূর্তেই বাড়ির প্রত্যেকের কানে তুলে দেই একেক করে।

বোনেদের বলার পর দাদির কাছে যায় গুরুত্বপূর্ণ খবর দিতে।

তার মা বড় মাও ওখানে উপস্থিত ছিল। দিথীর কথা শুনে দাদি বলেন,

"আমি কাল রাতেই বলেছিলাম নাতবউকে দাদুভাইয়ের রুমে পাঠিয়ে দিতে। কথা একটা যখন বলেছি তখন নিশ্চয় কিছু দেখে বা জেনে বুঝেই বলেছি। এখন ব্যাপারটা বেশ ভালো লাগছে তাইনা? ভোর বেলা ছেলেটা দেশে এসেছে, আর এসে না ঘুমিয়ে জবরদস্তি বউকে নিয়ে রুমে যাচ্ছে। খুব ভালো লাগছে শুনতে, খুব।"

মিসেস আয়েশা আমিন দিথীর কথা শুনেই শক্ত মুখে দাড়িয়ে ছিলেন। শাশুড়ির কথা শুনেন, তবে কিছু বলেন না।

অন্তিক প্রাণেশাকে রুমে নিয়ে আলমারির সামনে গিয়ে দাড়ায়।

"নাও। কি দেখেছ দেখাও। এতো কথা ভালো লাগছেনা। কি দেখেছ দেখাও।"

প্রাণেশা অন্তিককে এমন রেগে কথা বলতে দেখে ভয় পায়। কিন্তু সে ভুল কিছু বলেনি। তাহলে এমন করছে কেন? সত্য কথাও হজম হয়না।

তবে একা অন্তিকের সাথে আছে,তাই ভয়ে কিছু বলেনা।

"কি হলো? দাড়িয়ে আছ কেন? কি দেখেছ দেখাও।"

প্রাণেশা তাও চুপ করে দাড়িয়ে থাকে। অন্তিক এবার চাবি দিয়ে নিজে আলমারি খুলে প্রাণেশাকে আলমারির সামনে দাড় করায়।

"চুপ করে দাড়িয়ে থাকবেনা। কি দেখে ইরফানের কাছে নিজের জন্য সাহায্য চাইলে, দাদিকে মানা করলে, ডিভোর্সের কথা এগোতে বললে - দেখাও আমাকে। আমার কাছে ডিভোর্স পেপার দেখেছ ঐটা বাদ। সে আগের কথা, ওসব থাক। এখনের কথা বলো। কি কারণে আমি অন্য কাউকে চাই এমনটা মনে হচ্ছে, তুমি কথা বলতে পারোনা বলে তোমাকে চাচ্ছিনা এমনটা মনে হচ্ছে, এক্সাক্টলি কি কারণে, কেন -এসবের কারণ বোঝাও আমাকে।"

প্রাণেশা অন্তিকের হঠাৎ এমন রাগ দেখে মনে মনে ভয় পেলেও বাইরে শক্ত থাকার চেষ্টা করে।

সে নত মস্তিষ্কে আড় চোখে আলমারির ভেতরে তাকায়।

অন্তিক ওর সেই দৃষ্টি দেখে সন্ধেহ নিয়ে নিজে ঘাটাঘাটি করে। তারপর নিজের কিছু ড্রেস সরিয়ে দেখতেই চোখে পড়ে প্রাণেশার ইনার আর উরণাটা।

হ্যাঁ, ওটা প্রাণেশারই।

পিকনিক যাওয়ার আগের দিন অন্তিক যখন কোর্ট থেকে তার ব্যক্তিগত ফ্ল্যাটে যায়, তখন সে নীলয়ের রাখা ঐ ফাইলটা দেখেছিল। যেটাতে প্রাণেশার সম্পর্কে সব তথ্য আছে। অন্তিক সেদিন প্রাণেশাই তার এক ধাক্কার হৃদয়হরিণী, এটা জেনে কেমন অনুভব করছিলো তা সে নিজেই জানেনা। স্তব্দ হয়ে পড়েছিল সে। তার ভেতর থেকে কোনো প্রতিক্রিয়ায় আসেনি। শুধু ফাইলের ভেতরে ঐ ছবিগুলো দেখেছে সে এক দৃষ্টিতে।

এতগুলোদিন যাকে খুঁজে এসেছে, যার জন্য জীবনটা আফসোস আর দ্বিধায় ভরা মনে হচ্ছিল, ভেতরে ভেতরে মানসিক টানাপোড়নে ভুগেছে বর্তমান সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে যদি তাকে জীবনে আনতেও চায় -তাহলে সে তাকে কতোটুকু গ্রহণ করবে তা ভেবে। সেই কিনা ঐ মেয়েটা যাকে তার আর সেই এক ধাক্কার অস্থিরতার মাঝে প্রধান বাঁধা ভেবেছিল।

ফাইলটার পৃষ্ঠাগুলো নিশ্চল ভঙ্গিতে উল্টে পাল্টে দেখে সে ওটা টেবিলের উপর রেখে দেই।

তারপর গায়ের কালো কোটটা খুলে রেখে গলার টাই টাও ডিলে করে দেই। তার হাশফাশ লাগছে। এতোগুলো দিন সে কি করেছে, কি থেকে কি হয়েছে, তার মধ্যে কতোরকম জানা অজানা অনুভূতি আসতো সব ভেবে একদিকে অস্থির লাগছে। অন্যদিকে তার চাওয়া না চাওয়া- সবদিকে আছে একজন, প্রাণেশা। এই কথাটা ভেবে শান্তি লাগছে।

এতগুলো দিন যাকে চেয়ে এসেছে অজান্তে তাকেই অবহেলা করেছে। যাকে অবহেলা করতে হচ্ছে বলে, ছেড়ে দিতে হবে বলে অদ্ভুদ অনুভূতি হতো সেই আবার কাংঙ্ক্ষিত মেয়ে।

নিজের মূল্যবোধ আর চরিত্র নিয়ে মানসিকভাবে টানাপোড়নে থাকতো অন্তিক এই দুই মেয়ের কথা ভেবে। অথচ দুইজনেই এক মেয়ে।

কি বোকা সে, নীলয় মেয়েটার খোঁজ পেয়েছে তা জানানোর পর একটাবার ছবি দেখে নিলেই এতো কেচ্ছা হতোনা।

অথচ অন্তিক তা ভেবেওছিল। কিন্তু বার বার ওর ব্যাপারে কিছু জানতে ইচ্ছে হলে নিজের সদ্য বিবাহিত স্ত্রীর মুখটা ভেসে উঠতো। মনে হতো মেয়েটার সাথে অন্যায় হবে।

এদিকে নিজের বউকে নিয়ে ভাবতে গেলে এক ধাক্কার হৃদয়হরিণীর সাথে অন্যায় করছে মনে হতো। যেমন সেবার যখন প্রাণেশাকে কোলে নিয়ে পুলে ফেলে দেওয়ার ভয় দেখিয়েছিল তখন ঐ প্রথম দিনের মতো অনুভূতি হচ্ছিল, আর অন্তিক তা বুঝেও অবহেলা করেছে কারণ নিজেকে নিয়েই সন্ধেহ হচ্ছিলো তার। নিজের প্রতি ধিক্কার আসছিলো ভেতর থেকে। নিজের বউয়ের মধ্যে অন্য একটা মেয়েকে খুঁজেছে সে। কি বাজে দাড়ায় ব্যাপারটা।

তার কি দোষ এখানে? সে কি ইচ্ছে করে এসব ঘটনা ঘটিয়েছে?

অন্তিক হঠাৎ নীলয়কে ফোন দেই। সে রিসিভ করলে আচ্ছামতো ঝাড়ি দেই, প্রথম বারের মতো নিজের পিএ কে গা লি দেই। যে মেয়ের তথ্য এনে দিতে বলেছিল, ঐ মেয়েটাই যে তার বউ হয়ে বসে আছে তা সে কেন জানায়নি।

নীলয় অবশ্য শুরুতে অন্তিক কি বলছে, কেন বলছে কিছু বুঝতে পারেনি। তবু আমতা আমতা করে জানায় সে ভেবেছিল অন্তিক ঐ ফাইলটা বিয়ের আগেই দেখেছে। কিন্তু মেয়েটা কথা বলতে পারেনা দেখে অন্তিক বিয়েটা মানেনি এমনটা ভেবে সে আর কিছু জানায়নি আলাদা করে। কারণ হুট করে হওয়া বিয়েতে অন্তিক হয়তো জীবনসঙ্গীর জায়গায় প্রতিবন্ধি কাউকে মেনে নিতে পারেনি।

আর এটা অবশ্যই অন্তিকের ব্যক্তিগত ব্যাপার। এতে সে পিএ হয়ে কিই বা বোঝাবে।

অন্তিক নীলয়ের কথা শুনে কিছু বলেনা, তবে ধুম করে মুখের উপর ফোন কেটে দেই।

তারপর ভাবে ভুলটা তারও না নীলয়েরও না। সব তার বউয়ের দোষ। সে কেন জানায়নি যে তার সাথে আগে দেখা হয়েছিলো? নীলয় তো বলেছিল সেই প্রথম দিন প্রাণেশা তাকে ওমেনাইজার ভেবে পালিয়েছিল। তাকে পেছন ফিরে ফিরে দৌড়ানোর সময় নিশ্চয় দেখেছিল। তাহলে তাও কেন বললোনা যে তাদের বিয়ের আগে দেখা হয়েছে।

পরক্ষণে ভাবে অন্তিক শুরুতে যখন এক দুই বার প্রাণেশাকে কাছে টেনেছে তখন মেয়েটা কয়েকবার বলেছিল, যে সে সবসময় ওর সাথে অ সভ্যতামী করে কেন...

সে শুনেও তেমন একটা পাত্তা দেইনি। বিয়ের পর যে কয়েকবার ওর কাছে এসেছে, সেটুকুর কথা বলে তাকে অ স ভ্য উপাধী দিচ্ছে ভেবে সে ওকে আরও জ্বালিয়েছে বরং।

অন্তিক ভাবে সব কিছু ঘুরেফিরে এক জায়গায় এসে থেমেছে। আর সেটা হচ্ছে ওদের বিয়ে। সে মনে মনে আয়াজ খানকে ধন্যবাদ জানায়। অন্তিকের সেই মুহুূর্তে একটা উক্তি মনে পড়ে।

“যখন তুমি মন থেকে কিছু চাও, পুরো মহাবিশ্ব সেটা তোমাকে পাইয়ে দিতে ষড়যন্ত্র করে।" - অন্তিকের মনে হচ্ছে পাওলো কোয়েলহো বিখ্যাত লাইনটি তার জন্যই লিখেছিলেন। সে হঠাৎ হেসে উঠে। চেয়ারে বসে ছিল অন্তিক। হেসে উঠে গা ঝাড়া দিয়ে দাড়াতেই মায়ের ফোন আসে।

খালু এক্সিডেন্ট করেছেন। সেখানে গিয়ে খালুকে দেখে আলাপচারিতা করে চলে আসে, বেশিক্ষণ থাকেনা। কারণ পরদিনই পিকনিকে যেতে হবে। বাবা বলেছে যেন ভাই বোনেদের নিয়ে ঘুরে আসে। এভাবে প্ল্যান ক্যান্সেল করলে সবাই হতাশ হবে। অন্তিক নিজেও তাই ভাবছিল।

এরপর বাড়ি যায়। বাড়ি গিয়ে প্রাণেশার কাছে যায়নি সে। কারণ তখনই মেয়েটার কাছে গেলে নিজেকে সামলাতে পারতনা। অনুভূতিরা গা চাড়া দিয়ে উঠত। নিজেকে ওর সামনে যাওয়ার আগে মানসিক ভাবে প্রস্তুত করতে হবে। যাতে ওর মনে আবার নতুনভাবে কোন আঘাত না লাগে। কিংবা তাকে নিয়ে ওর মনে নতুন কোনো খারাপ ভাবনা না আসে। তবে রাতে বাড়ি গেলেও কোনোভাবে ঘুম আসছিল না তার। তাই রুমে অস্থির ভাবে পায়চারি করতে করতে ভাবে ছাঁদে যাওয়া যাক।

এই ভেবে ছাঁদে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ সি গা রে ট টানে। এটা সেটা অনেক কিছু ভেবে নিজেকে মানসিক ভাবে আজকের পুরো বিষয়টা হজম করতে প্রস্তুত করে।

অন্তিক সব কিছু জানার পর অপেক্ষা করতোনা আর। কিন্তু তার মা, বাবা, দাদি কেউ বাড়ি না থাকায় না চাইতেও অপেক্ষা করতে হয়েছে।

কারণ তাদের অনুপস্থিতিতে সে জীবনের বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চায় না।

বিশেষ করে যখন সময়, সুযোগ আছে পরে বলার। প্রাণেশা তো তাদের বাড়িতেই আছে, কোথাও যাচ্ছেনা। মূূলত এই কারণে সে ধৈর্য ধরে সবকিছু সমাধান করতে চেয়েছে। ভেবেছে পিকনিক শেষ হলে বড়দের জানিয়ে, বন্ধুদের উপস্থিতিতে আয়োজন করে সবকিছু নতুনভাবে শুরু করবে। এই সব ভেবে সে রাতের অন্ধকারে ছাঁদে সি গা রে ট শেষ করে পায়ে পিষে চলে আসতে নিলে পায়ে কিছু একটার সাথে লেগে হালকা হোঁচট খায়।

দুল, কানের দুল। এটা প্রাণেশার। অন্তিক জানে। দেখেছে ওর কানে। মোবাইলের লাইট জ্বালিয়ে হাঁটু ভেঙে বসে সে ওটা হাতে নেই।

উম, সবখানে এই মেয়ে। ওকে বাদ দিয়ে এখন জীবনে কোনো ঘটনায় ঘটেনা এমনটা মনে হচ্ছে এখন অন্তিকের। জানায়, অজানায় -ওকে ঘিরেই হচ্ছে সবকিছু।

তবে সবকিছুর ভিড়ে অন্তিক একটা কথা কখনো অস্বীকার করতে পারবেনা। সেটা হলো, অন্তিকের মাঝে মাঝে এক ধাক্কার অস্থিরতাকে ভুলে প্রাণেশার সাথে থাকতে মন চাইতো। ওর প্রতি প্রত্যেকবার নানা ভাবে আকর্ষিত হয়েছে সে।

অবচেতন মন তখন ওকে নিয়েই থাকতে মন চাইতো। তখন তা নিজের কাছে নিজে স্বীকার করেত না চাইলেও এখন সব তার কাছে স্পষ্ট।

হয়তো সে স্বীকার করতে চাইছে বলেই স্পষ্ট। মানুষের মন, বোঝা বড় দ্বায়।

দুলটা দেখে সে বুঝে প্রাণেশা এখানে এসেছিল। হয়তো শুকাতে দেওয়া জামাকাপড় নিতে এসেছিলো ছাঁদে। সে দুলটা হাতে নিয়ে উঠতে গেলে মোবাইলের নাড়াছাড়ার কারণে ফ্লাশলাইটের আলোটা গিয়ে পড়ে পাশেই ছাঁদের দেয়ালের কিনারায়। ওখানে একটা উর্ণা আর ইনার দেখা যাচ্ছে।

সেসবও প্রাণেশারই। উর্ণা দেখেই চিনেছে সে। বেখেয়ালি মেয়েটা কাপড় নিতে এসে সব একেকটা ফেলে চলে গিয়েছে। অন্তিক বিরবিরিয়ে বলে, "জ্বীনে দৌড়াচ্ছিল মনে হয় সুন্দরীকে।"

তারপর আস্তে করে উর্ণা আর ইনার দুটোও তুলে নেই হাতে। নাকের কাছে এনে প্রাণেশার শরীরের ঘ্রাণটা খুঁজে। একটা সুন্দর মেয়েলী সুভাস নাকে ঠেকে - প্রাণেশারই। সে ঘ্রাণটা শুষে নিয়ে উঠে দাড়ায়। তারপর রুমে এসে আলমারিতে যত্ন করে রেখে দেই।

অন্তিক এসব ভেবে প্রাণেশার দিকে তাকায়। মেয়েটা এগুলো দেখে ওকে নোংরা বলছে। বিষয়টা বুঝতে পেরে বলে,

"শুনেন ম্যাডাম, স্বামী স্ত্রী হই আমরা। বিয়েটা ঠিক ঠাক ভাবে হলে দেখা যেতো আমারই আপনাকে এসব কিনে এনে দিতে হচ্ছে। কিংবা আপনি নিজে আমাকে এসব আনার জন্য বলতেন। তাই এই সামান্য ব্যাপারে আমাকে নোংরা বলার কোনো কারণ দেখছিনা। দেখা যাবে সামনে আপনার আমার মধ্যে নোংরামী আরও অনেক বেশি হচ্ছে। তখন নিজের বউকে আদর করার অপরাধে চরিত্র হীন না বলে দেন। আর তাছাড়া এসবের কারণে আমি অন্য কাউকে ভালোবাসি এমনটা মনে হওয়ার পেছনে সায়েন্সটা বুঝলাম না এখনো।"

প্রাণেশা অন্তিকের কথা শুনে বেশ লজ্জ্বা পায়। তার নিজের উপর রাগ হচ্ছে, লজ্জ্বা লাগছে। কারণ সে বুঝে গিয়েছে ঐ জিনিসগুলো তারই। সেদিন ডিভোর্স পেপার দেখে নানান কিছু ভেবে হুশ খুইয়ে বসেছিল।

অন্তিকের প্রতি সন্ধেহের বীজ বুনেছিল, এতো খারাপ লাগা আর ইন্সিকিউরিটি কাজ করছিল যে নিজের জিনিস গুলো নিজেই চিনতে পারেনি। ডিভোর্স পেপার দেখে লোকটা অন্য কাউকে ভালোবাসে এটা মাথায় রেখে নিজের জিনিসগুলো সহ অন্য কারো ভেবে বসে ছিল সে। এতটা বোকা কেউ কিভাবে হয়! প্রাণেশার ইচ্ছে করছে নিজের গালে নিজে ছ ড় মারতে।

সেদিন অন্তিক ওকে হঠাৎ রুমে ঢুকিয়ে ওভাবে চুমু খাওয়ার কারণে সে স্তব্দ হয়ে গিয়েছিল। অস্বস্তি, লজ্জ্বা, রাগে আর ভয়ে সারাদিন রুম থেকেও বের হয়নি। থুথু ছুড়ে এসেছিল কিনা। এক প্রকার বন্ধি হয়ে ছিল সারাটাদিন। তবে সন্ধ্যার আগে হঠাৎ ছাঁদে কাপড় থেকে গিয়েছে মনে পড়লে ওসব আনতে যায়।

সব গুলো কাপড় নিয়ে আসতে আসতে নিচ থেকে শাশুড়ির আওয়াজ শুনে।

তাকেই ডাকছে। গলা শুনে খুব দরকারি মনে হওয়ায় সে তাড়াহুড়া করে চলে এসেছিল। তখনই হয়তো এগুলো পড়ে গিয়েছে। নিচে গিয়ে শুনে তার খালা শাশুড়ির স্বামীর এক্সিডেন্ট হয়েছে। উনারা সেখানে যাচ্ছেন, আর বাড়িতে থাকবেন না বলে প্রাণেশাকে যাওয়ার আগে মিসেস আয়েশা আমিন সুন্দর মতো থাকতে বলছিলেন বাড়িতে। উনার আবার প্রাণেশার প্রতি আলাদা মায়া, তাই হয়তো বেশি চিন্তা করেন তাকে নিয়ে। এরপর আর কাপড়গুলোর কথা মাথায় আসেনি।

এখন অন্তিক যদি ওর এসব বোকামি গুনাক্ষরেও টের পায় তাহলে নিশ্চয় ওর সাথে কথা বলার সময় প্রতিটা বাক্যের শুরুতে আর শেষে ষ্টুপিড শব্দটা রাখবে। অবশ্যই রাখবে। বোকাই তো সে। প্রাণেশা আর চোখ তুলে তাকায়না অন্তিকের দিকে।

অন্তিক ওর দিকে তাকিয়ে তাও জানতে চায়,

"কি হলো। বলছেননা কেন? এখনো তো ম্যাডামের ছাড়াছাড়ি চাওয়ার কারণ বুঝতে পারলাম না।"

প্রাণেশা অন্তিকের প্রশ্ন শুনে চোরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে বোঝায়,

"কিছুনা, আমি ছাড়াছাড়ি চাইনি।"

অন্তিক এবার ভ্রু কুচকে তাকায়,

"ছাড়াছাড়ি চান নি? তাহলে আমি কি ভুল শুনলাম সবার কাছে? ভুল দেখলাম কাল ফোনে?"

প্রাণেশা ঢোক গিলে বোঝায়,

"হ্যাঁ"

নিজের বোকামি ঢাকতে গিয়ে প্রাণেশা রিসিপশনে সম্মতি দিয়ে দিয়েছে, বিয়েতে সম্মতি দিয়ে দিয়েছে। অথচ সে তা বুঝেও উঠতে পারছেনা।

তবে অন্তিক ওর সম্মতি পেয়ে মনে প্রশ্ন থাকলেও আর কিছু জানতে চায় না। তার ক্লান্ত লাগছে। সেই ভোরে দেশে এসেছে। নির্ঘুম কেটেছে কাল রাত থেকে সময় টুকু।

বাড়িতে যে তার আর প্রাণেশার রিসিপশনের ব্যাপারে কথা উঠেছে আর প্রাণেশা না করে দিয়েছে, সাথে ডিভোর্সের ইঙ্গিত দিয়েছে - সে খবর অন্তিক পেয়েছে তার বোন দিথীর কাছে।

এর পর দেশে এসে ফ্রেশ হয়ে সোজা প্রাণেশার কাছে চলে এসেছে।

এবার সে একটু ঘুমাবে। কিন্তু সব কিছু মিটমাট হওয়ার পর বউ ছাড়া ঘুমানোর প্রশ্নই আসেনা। অন্তিক গাঁয়ের টি শার্ট টা খুলে রেখে দেই ডিভানে। খালি গাঁয়ে ঘুমানো তার অভ্যাস। তারপর বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ে।

প্রাণেশাকেও ডাকে। তবে চোখের ইশারায় ডাকার কারণে সে ঠিক ঠাক বুঝে উঠতে পারেনি। লোকটা ঘুমাবে এখন। সে আর এখানে থেকে কি করবে। ভেবে চলে যেতে নিলে অন্তিক বলে উঠে,

"কি হলো? কোথায় যাচ্ছ? তোমাকে কাছে আসতে বলেছি।"

প্রাণেশা দ্বিধায় পড়ে যায়। অন্তিকের কাছে আবার কি কাজ। দেখে তো ঘুমাবে মনে হচ্ছে। তবু এতো বোকামির পর সে আর কোনো কথা বাড়াতে চাইলনা। অন্তিকের পাশে গিয়ে দাড়ায়।

প্রাণেশা আসলে অন্তিক ওকে হেচকা টানে নিজের বুকের উপর ফেলে। প্রাণেশা ভড়কে যায়। কি হলো বুঝে উঠতে পারছেনা সে। কয়েক মুহুর্ত কিছু না বুঝে ওভাবে থাকে। তারপর উঠে যেতে চাইলে অন্তিক ওকে নিজের সাথে আরও আগলে নেই।

"হুশ, কোনো নড়ছড় নয় আর। অনেক জ্বালিয়েছেন ম্যাডাম। সেই প্রথম দেখা থেকে জ্বালাচ্ছেন। অথচ তার কোনো হুশ নেই আপনার। আমিই জ্বলছি শুরু থেকে। এবার একটু শান্তি দিন। একটু ঘুমাতে চাই শান্তিতে। এভাবে থাকুন।"

প্রাণেশা অন্তিকের এসব কথার কিছু বুঝতে পারেনি। কেন বললো, কি কারণে -কিছু না। তবে মানুষটার এমন ক্লান্ত স্বর শুনে সে আর উঠলো না ঐ বুক থেকে। বরং আস্তে করে নিজের মাথা ঠেকালো ওখানে। তার ভালো লাগছে। সব কিছু এতো ভালো লাগছে কেন হঠাৎ? সে কিছু জানেনা। কিন্তু খুব ভালো লাগছে তার।

মৌনপ্রেম পর্ব ২৬ গল্পের ছবি