সময়টা তখন বিকেল। সূর্য অস্ত যাচ্ছে। আকাশে লাল আভা ছড়িয়ে পড়েছে। অপরূপ সৌন্দর্যের এক পড়ন্ত বিকেল।
প্রাণেশা গভীর মনোযোগে তাকিয়ে রইল গোধূলির আকাশে। দৃশ্যটি মনে গেঁথে গেলেও ক্যানভাসে তা ফুটিয়ে তুলতে পারবে না।
কারণ একটাই - এই বাড়িতে তার ক্যানভাস নেই। এমনকি ছোট্ট আর্টবুকটাও এখনো নিজের কাছে আনতে পারেনি। আর সেটি ফের চাইবেও না লোকটার কাছে।
প্রাণেশার অন্তিকের প্রতি অভিমান জমেছে। অজ্ঞাত অভিমান। সে নিজেও হয়তো বুঝতে পারছেনা তা।
তার স্বামী অন্য একটা মেয়েকে ভালোবাসে তা তার অবচেতন মন মানতে চাইছেনা। শুধু প্রাণেশা কেনো, যেকোনো মেয়ের জন্যই তার স্বামীর মনে অন্য কেউ আছে একথা মেনে নেওয়া কষ্টের। হোক সেটা প্রাণের স্বামী কিংবা অবহেলার স্বামী।
প্রাণেশা অন্তিককে সেভাবে স্বামীর জায়গায় না বসালেও, তার সাথে সংসার না করলেও –লোকটা তার তিন কবুল বলা স্বামী। এতো সহজ তাকে অন্যের সাথে মেনে নেওয়া? আবার তোশা আপুর ব্যাপারে এতো পসেসিভ যে নিজের প্রানপ্রিয় বন্ধুকেও তার পাশে দেখতে পারেনা।
প্রাণেশা আর ভাবতে পারছেনা। সে ভাবতেও চাইনা আর। কিন্তু না ভেবে পারছে কই? প্রাণেশার এখন নিজেকে কেমন ছ্যাঁচড়া মনে হচ্ছে। তার স্বামীর মনে অন্য কেউ আছে জেনেও তার মন চাচ্ছে তার স্বামী তারই থাকুক। এভাবেই ঝুলে থাক সম্পর্কটা। তাও অন্য কারো না হোক।
কিন্তু সে তার এই চাওয়া কারো কাছে প্রকাশ করতে পারবেনা। তার সে সাহস নেই। প্রাণেশা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজেকে বুঝ দেই।
তার কপালে যা আছে তা তার কাছে আসা থেকে কেউ আটকাতে পারবেনা। উকিল সাহেব ও যদি তার ভাগ্যে থেকে থাকে, তাহলে শেষ অব্দি তার স্বামী তারই থাকবে।
তবে তার আপাদত উকিল সাহেবের রুমে একবার চক্কর মেরে আসা উচিত। যদি তার আর্ট বুকটা পাওয়া যায়?
প্রাণেশা অন্তিকের রুমে গিয়ে সেদিনের মতো আনাচে কানাচে দেখে নেয়, তবে পায়না। সে বিরক্ত হয়। কি আজব! সামান্য একটা আর্ট বুক। ওটাও এমন করে, কি দামি জিনিস কেউ নিয়ে ফেলবে মতো লুকিয়ে রাখার কি দরকার?
সে হতাশ হয়ে ফিরে যাবে তার আগে চোখ যায় বিছানায় বালিশের পাশে। একটা চাবি দেখা যাচ্ছে, প্রাণেশা ঢোক গিলে।
সে কি চাবি নিয়ে আলমারিটা একবার খুলে দেখবে?
খুব কি অন্যায় হয়ে যাবে বিনা অনুমতিতে নিজের স্বামীর আলমারি খুললে?
আচ্ছা, তাদের বিয়েটা যদি স্বাভাবিক হতো তাহলে নিশ্চয় এই রুমের কোনো কিছু ধরতে তার এতো ভয় পেতে হতোনা!!
সবকিছুতে তার অধিকার থাকতো। বরং সে নিজের মতো রুম গুছাতো, আর তার স্বামী রুমে কিছু না পেলে তাকে ডাকতো যাতে খুজে দেই। প্রাণেশার মনে হলো সে অলীক কল্পনা করছে। এমন দৃশ্য কি আদো সম্ভব হবে?
সে আর ওতো গভীরে ভাবেনা। ভয়ে ভয়ে চাবি টা নিয়ে আলমারি খুলে। তার আগে রুমের দরজা লাগিয়ে আসে।
আলমারি খুলে খুব সাবধানে সে তার আর্ট বুকের দেখা পাওয়া যায় কিনা দেখে।
একটু খুঁজতেই পেয়ে যায়। খুশিমনে আর্ট বুকটা নিয়ে তাড়াতাড়ি আলমারি বন্ধ করতে নিবে তার আগে ডিভোর্স লেখাটা চোখে পড়ে তার।
হ্যা, একটা কাগজে ডিভোর্স লেখা। প্রাণেশার মনে ভয় জাগে ওটা দেখে। দুরুদুরু বুকে কাগজটা বের করে দেখে ডিভোর্স পেপার। তাদের ডিভোর্স পেপার।
এডভোকেট অন্তিক সারোয়ারের সাথে তার ডিভোর্স হওয়ার পেপার। যেখানে শুরুতেই ডিভোর্সের কারণ হিসেবে স্পষ্ট উল্লেখ করা আছে, “বিবাহটি স্বেচ্ছায় সম্পাদিত হয়নি, বরং প্রতারণা/ চাপ/ বাধ্যবাধকতার কারণে সংঘটিত হয়েছে। ফলে উক্ত বিবাহ স্থায়ী ভাবে বজায় রাখা সম্ভব নয়।”
প্রাণেশা আরেকটু পড়ে দেখলো, শর্তাবলিতে তার ভরনপোষন নেওয়ার আর দেনমোহর দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ আছে।
তার দেনমোহর সম্পূর্ণ পরিশোধ করে তাকে তালাক দিতে চায় লোকটা। আবার তালাকের পর তার ভরনপোষণ ও নিবে।
প্রাণেশা ওটা পড়ে নিয়ে পাথরের মতো যেখানে ছিলো সেখানে রেখে দেই। একদম ঠিকঠাক করে তাদের ডিভোর্স পেপার যথাস্থানে রেখে দেই। তারপর আরো দুটো জিনিস তার চোখে পড়ে।
একটা মেয়েদের উড়না আর অন্যটা অন্তর্বাস।
সে আর থাকেনা ওখানে। নিজের আর্ট বুকটা দুহাতে বুকের সাথে লাগিয়ে আস্তে আস্তে চলে আসে
___________
মি. মাহমুদের প্রেশার ফল করেছে। কাল সারাদিন নিজের স্ত্রীর সাথে বোনের স্বামীর এক্সিডেন্ট হয়েছে বলে ওখানে ছিলেন।
তাদের সম্পর্কটাই অমন মজবুত। তার উপর নিজের স্ত্রীকে তিনি অসম্ভব ভালোবাসেন। তাকে একা ওখানে তিনি কখনোই থাকতে দিতেন না। কাল অন্তিকের দাদীকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিলেন রাতেই। কিন্তু সকাল হতে হতে তাকেও চলে আসতে হয়েছে নিজের দুর্বল শরীরের কারণে।
এই যে তিনি চলে এসেছেন নিজের স্ত্রীকে তার স্বামী শোকে কাতর বোনের সাথে রেখে, এতে তার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে ছিলোনা চলে আসার। কিন্তু দূর্বল শরীর তার মনের কথা শুনেনা।
মি. মাহমুদের আজকের দিনে ব্যবসার কাজে দেশের বাইরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি যেতে পারবেননা এই শরীর নিয়ে।
তাই যাওয়ার ডেট পিছিয়েছেন।
মুনতাসির সরোয়ার যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাও সম্ভব হচ্ছেনা। কারণ তাদের পারিবারিক ব্যবসা মূলত তারা দুই ভাই ই দেখেন। তাদের ছেলেদের এই বিষয়ে আগ্রহ কম। উপরন্তু তারা নিজেরাও নিজেদের প্রফেশনে স্টাবলিশড। তাই তেমন দরকারও পড়েনা। তবে দিগন্ত পারিবারিক ব্যবসা হতে একেবারেই বিমুখ হলেও অন্তিক তেমনটা পারেনা। সে বাড়ির বড় ছেলে। সুতরাং দায়িত্ব বেশি।
মুনতাসির সরোয়ার যেহেতু যেতে পারবেননা তাই মাহমুদ সরোয়ার পরে সময় করে যাওয়ার জন্য ডেট পেছান। কিন্তু অন্তিক আপত্তি করে। সে তারা দুই ভাই থাকতে অসুস্থ বাবাকে ব্যবসার জন্য দেশের বাইরে পাঠাবেনা। তার উপর এই শরীর নিয়ে তার বাবা দেশের বাইরে গেলে দেখা যাবে দেশে থেকে তার মাও অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
যেহেতু হসপিটালের কারণে দিগন্ত পারবেনা, তাই সেই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই।
এর মধ্যে তার অন্য একটা কাজ বাকি ছিলো। প্রাণেশাকে গতকাল রিসোর্টে যে সারপ্রাইজের কথা বলেছে তা করার ছিলো। যদিও সে চাইলেই যাওয়ার আগে যা করতে চাইছে তা সম্পন্ন করে যেতে পারে। কিন্তু তার মা বাড়ি নেই। সে এখনো বোনের বাড়ি।
তাই এখন আর তা করার কথা তেমন একটা মাথায় আনেনা। কারণ সে যা করতে চাইছে তাতে পরিবারের সবাই থাকা জরুরি। আর তার বাবা, মা তো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের ছাড়া এই সিদ্ধান্ত সে সবাইকে জানাতে চায়না।
তাই আপাদত ওটা স্কিপ করে।
________
এখন সময়টা রাত। কাল ই অন্তিক দেশের বাইরে যাবে।
সে বাড়ি এসে সবার আগে ফ্রেশ হয়ে নেই।
তারপর নিচে যায়। সবাই আছে। বোনেরা কেউ সোফায় বসে নখে নেইল পলিশ লাগাচ্ছে তো কেউ টিভি দেখছে।
মাহাদ মেহেরিন চলে গিয়েছে। তাদের বাবার দিকের আত্মীয়দের সাথেও দেখা করতে হবে। শুধু নানা বাড়ি তো আর সব না। তাই তারা আজ সকালেই চলে গিয়েছে মায়ের সাথে। অবশ্য যেকোনো দিন, যেকোনো সময় আবার আসতে পারে।
অন্তিক নিচে এসে সবাইকে পায়, কিন্তু তার মিসেসের দেখা নেই। জনাবা তাকে অনেক ঘুরিয়েছে। কাল পিকনিক থেকে এসে রাতে তাকে রুমে ডেকেছিলো। কিন্তু বেয়াদব টা
তার কথা শুনেনি। আসেনি রুমে। অন্তিক ভেবেছিলো রাতে একটু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে প্রাণেশাকে তার আর্ট বুক ফেরত দেবে। সাথে একটা বড় ক্যানভাস কিনেছে সে মেয়েটার জন্য। ওটাও দেবে। আর নিজেও একটু সময় নিবে ওর থেকে।
কিন্তু বেয়াদব মেয়ে স্বামীর কথা শুনেনি। আসেনি রুমে। তার উপর যখন তাকে রাতে রুমে আসতে বলেছিলো তখন এমনভাবে তার দিকে তাকিয়েছে যেন সে কোনো পরনারীকে সবচেয়ে ঘৃণ্য কোন প্রস্তাব দিয়েছে। অন্তিক তা বুঝেওছে। কিন্তু পরোয়া করেনি। ভাবুক যা ভাবার। সে সময় হলে সব ঠিক করে দেবে।
এখন করতে পারছেনা সময় কিংবা উপযুক্ত সুযোগ হচ্ছেনা তাই। তার মা একবার বাড়ি আসুক। বাকিটা সে দেখে নেবে।
অন্তিক খাওয়ার মাঝে কথায় কথায় শুনে নেই তার মিসেসের শরীর খারাপ, তাই আগেই খেয়ে নিয়ে শুয়ে পড়েছে।
অন্তিক ভ্রু কুচ্কায় একথা শুনে। মেয়েটার আবার কি হলো?
সকালেওতো যাওয়ার সময় গেটের সামনে গাড়ি থেকে ব্যালকনিতে মেয়েটাকে সুস্থ সবল দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছে। এর মধ্যেই অসুস্থ?
সে একটু টেনশনে পড়ে যায়। বেশি শরীর খারাপ হলোনা তো?
অন্তিক তাড়াতাড়ি খেয়ে নিয়ে রুমে যায়। তারপর নিজের কিছু দরকারি কাজ সেরে প্রাণেশার রুমের দিকে অগ্রসর হয়।
ততক্ষণে বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। সে প্রাণেশার রুমে গিয়ে দেখে দরজা টা ভেতর থেকে বন্ধ।
বিরক্ত হয়, শরীর খারাপি নিয়ে দরজা বব্ধ করে ঘুমাচ্ছে। যদি কোনো সমস্যা হয়? কাউকে ডাকতেও তো পারবেনা। তাহলে এমন বোকামি কেনো? স্টুপিড!!
অন্তিক বাড়ির রুম চাবিগুলো নিয়ে আসে। প্রাণেশার রুমের চাবি বেছে ওটা দিয়ে রুমের লক খুলে ভেতরে ঢুকে।
সাথে সাথে একটা মেয়েলি সুভাষ তার নাকে ঠেকে। প্রাণেশার ঘ্রান। সবার নিজস্ব একটা ঘ্রান থাকে। স্বীয় সুভাষ।
অন্তিকের নাকে এখন যে সুভাষ টা ঠেকছে ওটা তার বউয়ের।
তার শরীর শিরশির করে উঠলো কথাটা মাথায় আসতেই।
আস্তে করে প্রাণেশার নিকট গিয়ে দেখে নেই। কপালে হাত দিয়ে বুঝতে পারে খুব জ্বর। আবার এসে লাইট জ্বালিয়ে দেই।
ওর মাথার পাশটাতে গিয়ে বসে। মেয়েটা কেঁদেছে বোধ হয়। চোখ, মুখ তো তাই বলছে। এতো খারাপ লেগেছে মেয়েটার? জ্বর বোধ হয় খুব কাবু করে ফেলেছিলো। তার বাড়ির প্রত্যেকের উপর রাগ হয়।
মেয়েটা জ্বর নিয়ে পড়ে আছে অথচ কেউ একবারও এসে দেখলনা। অন্তিকের এক মুহূর্তের জন্য মনে হলো মেয়েটা এই বাড়িতে সবার কাছে, তার কাছে খুব অবহেলিত। কিন্তু সেই তো এর মূল কারণ।
মেয়েটাকে ওর প্রাপ্য, যথাযথ স্থান সেই দেয়নি। তাহলে অবহেলিত ই তো হবে।
সে তাড়াতাড়ি প্রাণেশার কপালে জ্বর পট্টি দিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে জ্বর কিছুটা কমিয়ে আনে। জ্বরের কারণে সারামুখ লালচে হয়ে আছে। অন্যরকম সৌন্দর্য। জ্বরের ঘোরে প্রাণেশাকে তার কাছে অন্যরকম আকর্ষণীয় লাগছে।
প্রাণেশা একটা স্কার্ট আর উপরে কামিজ পড়েছে। সে একটুও দ্বিধা না করে কামিজটা খুলে দিয়ে গাঁ মুছিয়ে দেই। ওর গাঁঁয়ে চিকন স্লিভের কোমর অব্দি ইনার আছে শুধু, উপরে।
প্রাণেশার গায়ে এখনো আছে হালকা জ্বর। ওর পাশে থাকায় এমনিতেও তার গরম লাগছিলো। এর মধ্যে এলোমেলো হয়ে শুয়ে থাকা আর শুধু ইনার পড়ে থাকা মেয়েটাকে দেখে অন্তিকের মনে হলো তার নিজের শরীরেও তাপ বাড়ছে। গরম অনুভূত হচ্ছে শরীরে।
সে প্রাণেশার আরেকটু কাছ ঘেঁষে। অমনি মেয়েটা কেঁপে উঠে।
ওকে টেনে বুকের মধ্যে জড়িয়ে নেই প্রথমে। না, শান্তি পাচ্ছেনা অন্তিক।
সে মেয়েটাকে বুক থেকে সরিয়ে নিজেই ওর বুকে মুখ গুঁজে।
এবার তার ভালো লাগছে। খুব ভালো লাগছে। প্রাণেশা অন্তিকের ওর বুকে মুখ গুজে রাখায় অস্বস্তি বোধ করছে হয়তো, জ্বরের ঘোরে হালকা হাতে অন্তিকের কাধে হাত দিয়ে ঠেলে দূরে সরাতে চায়। অন্তিক দেইনা।
ওর হাত দুটো সরিয়ে বুকে মৃদু কামড়ে দেই। তারপর বুক থেকে মাথা তুলে ওর দিকে তাকালে দেখে মেয়েটার এখনো কোনো হুশ নেই। অন্তিক ওর লালচে ঠোঁট দুটো হাতের আঙ্গুল দিয়ে নড়াচড়া করে, আঁকিবুকি করে। তারপর আস্তে করে মাথা উপরে তুলে কিছু পল ওর ঠোঁটের অমৃতসুধা পান করে। আবার মাথা উঠিয়ে আবার ওকে দেখে। একটু একটু চোখ মেলতে চাইছে। অন্তিক ছোট করে জানতে চায়, “জ্বর তো কমেছে, ভালো লাগছে?”
প্রাণেশা উত্তর দেইনা। সে হয়তো কিছু বুঝতে পারছেনা। অন্তিক নিজেও বুঝতে পারে তা। তারপর ওর নাকে নাক ঘসে আস্তে আস্তে আবার ওর ওষ্ঠাধরে নামে। একবার ঠোঁট ছোয়ায় , আবার তুলে, আবার ছোয়ায়। তারপর হঠাৎ বেশ কিছুক্ষণ আবার দুজনের অধরযুগল মিলিত করে, অমৃতসুধা পান করে। অন্তিক বোধ হয় আজ প্রাণেশাকে একা এভাবে পেয়ে ফায়দা লুটছে।
তা সে নিজেও বুঝতে পারছে কোথাও না কোথাও।
কিন্তু যেই সে তার বউয়ের ফায়দা লুটছে কথাটা মাথায় খেলে গেলো, তখন তার মনে হলো তার শরীরের উত্তাপ আরও বাড়ছে।
কয়েক সেকেন্ড ওর চেহারার তারপর কানের কাছে মুখ নিয়ে যায়, ফিসফিসিয়ে বলে- অস্থিরতা, শুরু থেকেই তুমি বারে বারে আমাকে অস্থির করে তুলেছো। শাস্তি হিসেবে আজ আরেকটু ফায়দা লুটবো তোমার। যদি রাগ করো, তাহলে আবার শাস্তি পাবে।