দিগন্ত, মাহাদ আর ইরফান কথা বলতে বলতে কিছুটা দূরে চলে গিয়েছিলো। ইরফান অন্তিকের বিয়ের ঘটনাটা পুরো শুনে। খুব একটা অবাক হয়না। লাইফে এমন আরও অনেক আনপ্রেডিক্টেবল ব্যাপার স্যাপার ঘটতে পারে।
তার জীবনেও কি কম ঘটেছে নাকি? তার উপর অন্তিক হঠাৎ করে ওদের না জানিয়ে বিয়ে করেছে মানে নিশ্চয় এমনি কোন কারণ ছিল। তাই মূলত তেমন অবাক হয়না ইরফান।
আর এমনিতেও এই দুই বন্ধুর স্বভাবে সহজে অবাক হওয়ার অভ্যাসটা নেই।
কথাবার্তা বলার পর তারা বোট রাইডিং এর দিকে গিয়ে একটু দেখেশুনে চলে আসে। ইরফান এর মাঝে অন্তিককে একটা মেসেজ দেই।
"তোরতো শা লা ভাগ্য খুলে গেলো। না চাইতেই অল্প বয়সী, সুন্দরী মেয়ে পেয়েছিস। আমার বেলাতে এতো কিপ্টামি করিস কেন?"
"কর্ম যেমন, ফল তো তেমনই পাবি।"
"রাখ তোর কর্মফল। তুই নাকি বিয়েটা মানতে চাইতিনা? প্রাণেশাকে নাকি রুমেও জায়গা দেসনি? খুব তো বউয়ের মার খেলি, চুমু খেলি দেখলাম। তাহলে এসব আবার কি নাটক?"
অন্তিক আর রিপ্লাই করেনা। ইরফানও জবাবের অপেক্ষা করেনা আর। এসব সামনা সামনি জিজ্ঞেস করতে হবে। কিন্তু বিষয়টা অদ্ভুদ। অন্তিক নাকি শুরুতে বিয়েটা মানতে চায়নি। এটাও সম্ভব?
নিজে ৩১ বছরের বুড়ো হয়ে অল্প বয়সী, সুন্দরী মেয়ে যে বিয়ে করতে পেরেছে না চাইতেই, সেটা তো তার সাত কপাল ভাগ্য। আবার নাকি মানতে চাইছেনা। ইরফান ভাবে, এসব দেখার জন্যই বেচে আছে সে।
—————
তোশা চৌধুরী একজন প্রতিভাবান ফ্যাশন ডিজাইনার। বয়স ত্রিশের কাছাকাছি হলেও তাকে দেখে তা বোঝার উপায় নেই।
পোশাক-আশাক, কথাবার্তা কিংবা আচরণ—সবকিছুতেই এক অনন্য মাধুর্য ফুটে ওঠে তার মাঝে। তার ফ্যাশন সেন্স সবসময়ই তাকে ভিড় থেকে আলাদা করে তোলে।
দেখতে সে যেন কোনো চলচ্চিত্রের নায়িকা, আর কাজের সূত্রে নায়ক-নায়িকাদের সঙ্গে নিয়মিত ওঠাবসাও হয় তার।
অনেকে ভাবতে পারে, তার চলাফেরা কিংবা রুচি গড়ে উঠেছে এই সেলিব্রিটি পরিবেশের প্রভাবে। কিন্তু আসলে তা নয়। ছোটবেলা থেকেই ফ্যাশন নিয়ে তার গভীর আগ্রহ।
তাই তার প্রতিটি সাজসজ্জা আলাদা করে দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তবে এর মধ্যেও সে ভীষণ সচেতন—তার পোশাকে কখনো অশালীনতার ছোঁয়া পাওয়া যাবে না।
মার্জিত অথচ স্টাইলিশ উপস্থিতিই তাকে সবচেয়ে আলাদা করে।
তোশা সেবার অন্তিকের বিয়ের দিন দেশে এসেছিলো। কিন্তু ওর দেশে আসার খবর কিভাবে যেন রিহ্যাবিটেশনে ইরফানের কাছে চলে যায়।
সে মাঝরাস্তায় তার সাথে দেখা করতে আসে রিহ্যাবিটেশন থেকে পালিয়ে। কোনো ভদ্র উপায়ে আসেনি। বরং ইরফান সেখানেও নিজের উদ্যতপূর্ণ স্বভাব দেখিয়েছে।
গু ন্ডা দের মতো এসে তাকে তুলে নিয়ে যেতে চেয়েছে কোথাও। অন্তিক জানিয়েছে সেদিন ওর পরিল্পনা ছিলো কাজী অফিস যাওয়া। তোশা তা শুনে একটুও অবাক হয়নি।
বরং বিরক্তিতে কল কেটে দিয়েছিলো। ইরফান সম্পর্কিত কোনোকিছু তার শুনতে ইচ্ছে করেনা।
তবে ভাগ্যিস সেদিন তার আসার খবর বাড়ির কাউকে না জানালেও অন্তিককে জানিয়ে এসেছিলো।
অন্তিক জানতে পেরে সবকিছু সামলে নেই। ইরফানকে নিয়ে যায়। আর তোশাকে আবার ফিরে যেতে বলে।
ইরফান সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার আগে সে দেশে আসলে বারবার ঘটবে এমন ঘটনা, তা অন্তিক খুব ভালো করে জানতো।
তাই তোশাকে ফিরে যেতে বলে। তোশা সেই যে চলে গিয়েছিলো তারপর এই প্রথম দেশে আসলো।
সে এখন পিকনিকে জয়েন করেছে। হঠাৎ সবাই ওকে দেখে অবাক হলেও পরক্ষনে খুশিতে লাফিয়ে উঠে।
"তোশা আপু.. এসেছোই যখন ইরফান ভাইয়ের মতো শুরুতেই আসতে, কতো মজা হতো। এতক্ষণ পর এসে অনেক কিছু মিস করলে" অয়ন্তি
"আমিতো দেশে ছিলামনা কিউটিসরা। অন্তিকের বিয়ের দিন এসেছিলাম একবার। কিন্তু একটা এক্সিডেন্টের কারণে আবার ব্যাক করতে হয়। তারপর অন্তিক জোরাজোরি করছিলো আজকের পিকনিকে যেন জয়েন করি। তাই
পরশু কোনো ভাবে টিকিট কেটে চলে এসেছি। কিছুক্ষণ হলো পৌছেছি। এরপর সোজা এখানে।"
"তাহলে আগে এখানে একটু বসে কিছুক্ষণ রেস্ট নাও। জুস খাও আপু। ভালো লাগবে।"
তোশা হেসে সায় জানিয়ে বসে পড়ে। সবার আগে ঢকঢক করে পানি খেয়ে গলা ভেজায়। তারপর শান্ত হয়ে বসে সবাইকে হাত দেখিয়ে ডাকে।
"তোমরাও এসো? বসো আমার পাশে। দাড়িয়ে আছ কেন?"
ওরা সবাই গিয়ে গোল হয়ে বসে পড়ে।
অন্তিক দিগন্তকে ফোন দিচ্ছে। ওরা কোথায় কি জানি। একটু আগে টেক্সট করেছিলো, সেও রিপ্লাই করেছিলো। কিন্তু এখন আর লাইন পাওয়া যাচ্ছেনা।
তোশাকে অন্তিক আজকের পিকনিকে ইরফানও থাকছে তা শুরুতেই জানিয়েছিল। মেয়েটা প্রথমে রাজী হয়নি আসতে। তারপর অন্তিক অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে, তার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়ে রাজী করিয়েছে।
ইরফান এসে তোশাকে এখানে দেখলে কেমন প্রতিক্রিয়া দেবে তা নিয়ে আগে চিন্তা না হলেও এখন হচ্ছে তার। বিশেষ করে ভাই বোনেরা আছে বলে।
তাদের সামনে কোনো সিনক্রিয়েট না করে বসে আবার গোয়ার ছেলেটা। এতোগুলো দিন পর তোশাকে দেখতে পেয়ে আবার আবেগে গালে ঠোঁটে চুমু টুমু খেয়ে বসলে?
তোশার ক্ষেত্রে ইরফান যা পসেসিভ, করতেই পারে।
"কিরে অন্তিক, তোর বউয়ের সাথে তো পরিচয়ও করিয়ে দিলিনা। ঘুরতে এসে ফোন নিয়ে কি করছিস? এখানে আয়।" তোশা
অন্তিক গিয়ে বসে ওদের মাঝে। তোশার পাশেও জায়গা খালি ছিল আর প্রাণেশার পাশেও। কিন্তু প্রাণেশার পাশে জায়গা তুলনামুলক কম, তাছাড়া পাশেই মেহেরিন।
আর তোশার পাশে জায়গা বড় সাথে অপরপাশে ইশি। তাই সে গিয়ে ওখানে বসে।
প্রাণেশা তাকায় তোশা আর অন্তিকের দিকে। প্রাণেশার পাশে নাহয় নাই বসলো। কিন্তু মেহেরিন আপুর ঐ পাশেও তো জায়গা ছিলো। তা কি লোকটা দেখেনি?
বোনের পাশে না বসে মানুষটা বান্ধবীর পাশে বসেছে। প্রাণেশার সামান্য ঈর্ষা হয়, মন খারাপও হয়।
তোশা আপু ভীষণ সুন্দর, বরং সবার চেয়ে সুন্দর। স্লিম ফিগার, উজ্জ্বল-সুন্দর চেহারা, পোশাক আশাক তো অন্যরকম সুন্দর।
বয়সও প্রাণেশার মতো কম না। নিশ্চয় সবকিছু বুঝে। উকিল সাহেবের তো বুদ্ধিমতী মেয়ে ভালো লাগে, আর তার বুদ্ধি তো হাঁটুতে। সে আরও একবার তোশা আর অন্তিকের দিকে তাকায়।
তার হঠাৎ মনে হলো ওদের দুজনকে একপাশে খুব মানাচ্ছে, আবার ঈর্ষা জাগে তার মনে। তাহলে কি এটাও তাকে মেনে না নেওয়ার একটা কারণ?
এর মধ্যে হঠাৎ অন্তিকের চোখে চোখ পড়লে সে নজর নামিয়ে নেই। তার মন খারাপ হয়। উকিল সাহেবের পাশে নিজেকে ভীষণ অযোগ্য মনে হচ্ছে।
অন্তিক দেখে, প্রাণেশা মুখ অন্ধকার করে আছে কোনো কারণে। তবে সে কারণ বোঝার চেষ্টা করবে তার আগে তোশা প্রাণেশার সাথে পরিচিত হতে শুরু করে।
"হ্যালো, আমি তোশা। তোমার স্বামীর একমাত্র বাান্ধবী বুঝেছ? আমাকে তুমি বড়বোন হিসেবে দেখতে পারো।"
প্রাণেশা হেসে সায় জানায়।
তোশা শুরু থেকেই জানে যে অন্তিকের বউ কথা বলতে পারেনা। আর বিয়ের ঘটনাও জানে সে।
"শুনো প্রাণেশা.. তোমার সম্পর্কে, বিয়ের ঘটনা -আমি সব জানি। বিয়েটা যেভাবেই হোক, সেসব মাথায় রেখোনা। মন দিয়ে সংসার করবে।
তোমাদের বয়সের গ্যাপ একটু বেশি হলেও আমার বন্ধু কিন্তু দেখতে অতোটাও খারাপ না, বেশ হ্যান্ডসাম। মানিয়ে নিতে পারবে।"
প্রাণেশা তোশার কথা শুনে হাসে। আপুটা ঠিক বলেছে। প্রাণেশার বয়স কম নয়, বরং তার স্বামীর বয়সটাই একটু বেশি।
অন্তিক ওর হাসি দেখে ভ্রু কুচকায়। মেয়েটা ওর বয়স বেশি বলায় হাসছে। তীক্ষ্ণ চোখে তাকায় প্রাণেশার দিকে। ওর এই ব্যাঙ্গ করা হাসি তার পছন্দ হয়নি।
প্রাণেশা অন্তিকের তীক্ষ্ণ দৃ্ষ্টি দেখে থমকায়। একটু দ্বিধান্বিত হয়। লোকটা এভাবে দেখছে কেন? ভুল কি করলো সে? বরং ভুল তো বলেছে তোশা আপু।
তার প্রাণেশাকে যা বুঝিয়েছে তা নিজের বন্ধুকে বোঝানো উচিত ছিল।
ওদের এমন আরও কিছু গল্পগুজবের মধ্যে মাহাদ, দিগন্ত আর ইরফান আসে। তোশা দিগন্ত আর মাহাদের সাথে কুশল বিনিময় করে।
এদিকে দূর থেকে হেঁটে আসার সময়ই ইরফান তোশাকে দেখেছে। এতোগুলো দিন, এতোগুলো মাস পর সে তোশাকে দেখে থমকায়। ইরফানের মনে হলো পুরো দুনিয়া থেমে গিয়েছে সে আর তোশা ছাড়া।
বাকিদের সাথে হেসে হেসে কথা বলছে মেয়েটা। দিগন্ত মাহাদের সাথে কুশল বিনিময় করলো, অথচ তার দিকে ফিরেও তাকালোনা।
ইরফান এক দৃষ্টিতে দেখে তোশাকে। মেয়েটার মধ্যে কিছু বদলায়নি। সেই আগের মতোই আছে।
আগের মতো মুক্তোঝরা হাসি, আগের মতো কথাবার্তা সবার সাথে। শুধু ইরফানকেই অদেখা করছে। ইরফানের ভীষণ হাশফাশ লাগে। একটু জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করছে তোশাকে।
সে তোশার থেকে চোখ সরিয়ে অন্তিকের দিকে তাকায়। অন্তিক তীক্ষ্ণ চোখে ওকেই দেখছিলো। ইরফানকে তার দিকে তাকাতে দেখে চোখে সাবধান করে যেন কোনো সিনক্রিয়েট না করে।
ইরফান ওর ইশারা দেখে চোখ বুঝে একটা দীর্ঘশ্বাস নেই। একটা শুকনো ঢোক গিলে নিজেকে সামলায়।
এদিকে প্রাণেশা অন্তিকের চোখের ইশারায় ইরফানকে কিছু বোঝানোটা দেখে নিয়েছে। সেও বুঝতে পারে ইরফানকে তোশা আপুর থেকে দূরে থাকতে বলেছে লোকটা।
কিন্তু এর কারণ কি হতে পারে তা সে নিজের মতো ধরে নেই।
ঠোঁট চেপে কান্না আটকানোর চেষ্টায় আছে সে। প্রাণেশা বুঝতে পারেনা তার এতো খারাপ লাগছে কেনো। এমনতো না, যে সে উকিল সাহেবকে ভালোবাসে। বরং অপছন্দ করতো শুরু থেকে।
কিন্তু বারবার উকিল সাহেবের তাকে স্পর্শ করা, কাছে আসা -এসবের কারণে ক্ষীণ আশা জেগেছিলো হয়তো অবচেতন মনে।
কিন্তু এখনতো মনে হচ্ছে সম্পূর্ণ চিত্রটা ভিন্ন। তার স্বামীর মনে অন্য কেউ আছে। অথচ সবসময় যে তার কাছে আসতে চায়, আসে -সেসব কি তাহলে?
স্বভাব? যেমনটা সব পুরুষ মানুষের হয়.. ঘরে কবুল বলা বৈধ বউ থাকলে?
—————
ওরা সবাই এখন বোট রাইডিং এ এসেছে। বিশাল হ্রদটার গভীরে রো বোট রাইড করছে। একটাতে পাঁচজন পাঁচজন করে দুইটাতে রাইড দিচ্ছে তারা।
দিগন্ত, মাহাদ, অয়ন্তি, মেহেরিন আর ইশি একটাতে। বাকিরা অন্যটাতে।
ছবি তুলা, ভিডিও করা, পানি নিয়ে খেলা আর রোয়িং করা - সব মিলিয়ে ওদের রাইডটা দারুণ ছিল। তবে দিগন্তদের রাইডটা যতোটা না এঞ্জয়েবল ছিলো ইরফানদের ওটা ছিল ততোটা থমথমে।
ওদের দৃশ্যটা কিছুটা ভিন্ন। তোশা প্রাণেশা, অন্তিক আর দিথীকে নিয়ে উপভোগ করেছে। ওদের সাথে কতো কথা, কতো আনন্দ। অথচ ইরফানকে সম্পূর্ণ অদেখা করে গেলো। ইরফান পুরোটা রাইড জুড়ে
তোশাকেই দেখেছে। তার প্রতি ওর অবহেলা, উপেক্ষা, অনীহা, অনাগ্রহ - সবটা। একদৃষ্টিতে দেখেছে। অন্তিক আর দিথী স্বাভাবিক ছিলো অবশ্য।
কিন্তু অন্তিক তোশাকে যেহেতু ওর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়ে এনেছে, তাই বারেবারে ইরফানকে ওর থেকে দূরে রেখেছে।
এদিকে এসব দেখে প্রাণেশার মনে তোলপাড় চলছে, যা অন্তিক খেয়ালও করেনি।
রাইডটা শেষ হয়। সবাই ফিরে আসে। ততক্ষণে আকাশকে কোমল সোনালি রঙে রাঙিয়ে দিয়ে সূর্য ডোবার দিকে ঝুঁকছে। হালকা বাতাস, আর গাছের ছায়া মাটিতে দীর্ঘ হয়ে পড়েছে।
হ্রদের পাড়ে ঝলমলে আলো, পাখির কুজন আর দূরে মৃদু হাওয়ার শব্দ শোনা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে একটি শান্ত আর মনোরম পরিবেশ।
ওরা সবাই রিসোর্টে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। সেখানে তাদের যা জিনিসপত্র আছে নিয়ে, সাথে নিজেরাও হালকা ফ্রেশ হয়ে রওনা দেবে।
তোশা আলাদা কার নিয়ে এসেছে। ড্রাইভারকে এখানে আসার আগেই মাঝপথে চলে যেতে বলেছিল। তাই তার নিজের কার ছাড়া যাওয়ার উপায় নেই।
তবে দিগন্ত অথবা মাহাদ তার সাথে যেতে চায়। তোশা নিশ্চয় এখন ক্লান্ত। সোজা এখানে এসেছে দেশে পা রেখে।
তাই ওদের কেউ ড্রাইভ করার জন্য যেতে চাইবে, তার আগে ইরফানের শক্ত চোয়াল দেখে অন্তিক ওদের মানা করে দেই।
তারপর সিদ্ধান্ত নেই, সবাই আগে যেমন ছিলো তেমন যাবে শুধু সে, প্রাণেশা আর ইরফান যাবে তোশার সাথে।
তোশা ইরফান যাবে বলাতে বিরক্ত হলেও কিছু বলেনা। অন্তিক জানে এখন যদি ইরফানকে বাদ দিয়ে শুধু তারা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতো তাহলে ইরফানের কাছে এটা বাড়াবাড়ি মনে হতো।
এটা নিতে না পেরে না জানি শেষ মুহূর্তে এসে সিনক্রিয়েট না করে বসে। তাই অন্তিক রিস্ক নেইনি।
ওরা সবাই মিলে নিজেদের সব জিনিসপত্র গাড়িতে তুলা শেষে গাড়িতে উঠে। আর চলে যায় রিসোর্টে।
—————
সন্ধ্যা নেমে গিয়েছে। সবাই ফ্রেশ হচ্ছে। তোশার ফোনে কল আসে বাড়ি থেকে। সে হাটতে হাটতে বাইরে গিয়ে একটু নিরিবিলির দিকে গিয়ে কথা বলে।
"এইতো মম, সবাই এখন ফ্রেশ হয়ে নিচ্ছে। তারপর রওনা দেবো। টেনশন করোনা।"
........... ........... ...........
"আচ্ছা বাবা, আমি ড্রাইভ করবোনা। তুমি একটু চিন্তামুক্ত হওতো। আমি সারাপথ ঘুমাবো ঠিক আছে? ওদের কাউকে ড্রাইভ করতে দিয়ে আমি ঘুমাবো। এবার একটু রিল্যাক্স হও।"
........... ........... ...........
"হুম,"
........... ........... ...........
"আচ্ছা, রাখছি। টেক কেয়ার"
তোশা ফোন কাটে। তবে ফোনে চোখ রেখে পেছন ফিরতেই আবিষ্কার করে কেউ তাকে টেনে অন্ধকার দিকে নিয়ে গিয়েছে। সে চিৎকার করার জন্য মুখ খুলবে তার আগে সামনের ব্যক্তি তার মুখ চেপে ধরে।
তোশার সামনে ইরফান দাড়িয়ে আছে। তার মুখ চেপে ধরে তাকে দেয়ালে ঠেকিয়ে আটকে রেখেছে। তোশা তার চোখের দিকে তাকায়।
ভয় পাচ্ছেনা সে। ইরফানকে একদম ভয় পায়না সে। বরং শক্ত চোখে চেয়ে আছে তার চোখে চোখ রেখে।
"ছাড়। কি সমস্যা?"
"সমস্যা তো তুই বলবি, আমাকে চোখে দেখিস না?"
"ছাড়তে বলেছি তোকে।"
"সম্ভব না।"
"ছাড়"
"না"
"চিৎকার করবো"
"কর"
তোশা হাল ছেড়ে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে অন্যদিকে তাকায়।
"আমাকে ছাড়া দুনিয়ার সবকিছু চোখে পড়ে তাইনা? ঐ চোখই যদি আর না থাকে?"
"তুলে নে চোখ দুটো।"
ইরফান ওর কথা শুনে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে। তারপর ওর বাহুতে থাকা হাত আরেকটু শক্ত করে বলে,
"ম র তে গিয়েছিলি কেন? আমার জন্য?"
"তোর জন্য না, তোর কারণে"
"এখন আর ভালোবাসিস না। তাইনা?"
"ঘৃণা করি"
ইরফান ওর কাঠকাঠ জবাবে থমকায়। তারপর আস্ত আস্তে ওর কাঁধে মাথা নামিয়ে মুখটা গুঁজে দেই। ঠোঁট ছোঁয়ায়। ওর ঘ্রাণ শুষে নেই। শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।
"ম র তে যাওয়ার আগে একবারো আমার কথা মনে পড়েনি তোর?
"পড়েছে"
ওর উত্তর পেয়ে ইরফান আরও শক্ত করে হাতের বাধন। গলায় ঠোঁট ছোঁয়ায়।
"তাহলে কেন করলি?"
"তোর কথা মনে পড়ছিলো বলেইতো করেছি। আমার সম্মান নিয়ে খেলে যে, তার কথা ভুলি কিভাবে। বিশ্বাসঘাতকদের ভুলা যায়?"
সাথে সাথে ইরফান মৃদু কামড় বসিয়ে দেই তোশার ঘাড়ে।
"শক্ত শক্ত কথা বলছিস। তোর সম্মান নিয়ে খেলেছি?"
"খেলিসনি?"
"আমিই তো। সব তো আমারই"
তোশার চোয়াল শক্ত হয়ে।
"ইরফান ছাড়"
"ছাড়বনা"
তোশা একহাতে সরাতে চেয়ে বলে,
"তোকে ছারতে বলেছি ইরফান"
"ছাড়বনা। চলে গিয়েছিলি কেন আমাকে ফেলে? আর ছাড়বোনা।"
"ইরফান.."
"ছাড়বোনা বলেছিতো" বলে সে তোশার সারা গলদেশ ছোট ছোট চুমুতে সিক্ত করে।
তোশা এবার ওকে জোরে ধাক্কা দিয়ে ছাড়িয়ে নেই। সাথে সাথে থাপ্পর বসিয়ে দেই ইরফানের গালে।
ইরফান গালে হাত দিয়ে স্তব্দ চোখে তোশাকে দেখে।
তোশা তখনও শক্ত মুখে ওকে দেখছে।
"আমার সম্মান তোর কাছে ফেলনা তাইনা? 'আমিই তো,' কেন? তুই কেন? তুই কে যে নিজেকে তোর জন্য উজাড় করে দেবো? কেউ না তুই। তুই একটা বিশ্বাসঘাতক, দু শ্চ রি ত্র আর ড্রা গ এডিক্টেড ছাড়া কিছুনা। যার কাছে সম্পর্কের কোনো মূল্য নেই। একটা মেয়ের সম্মানের কোনো মূল্য নেই। না বন্ধুত্বের মূল্য আছে। নিজের স্বার্থ ছাড়া কিছু বুঝিস তুই? বুঝিসনা। আমার তোর মতো বন্ধুর কোন দরকার নেই। কোনো দরকার নেই।"
ইরফান ওর সব কথা শুনে। কিছুক্ষণ চেয়ে থাকে তোশার দিকে। রাগে কাঁপছে মেয়েটা। সে ধীরে ধীরে তোশার কাছে যায়। তোশা তখন কান্না আটকানোর চেষ্টায়। ইরফান ওর মাথাটা টেনে নিজের বুকের মধ্যে জড়িয়ে নেই।
তোশা তখন আর কান্না আটকাতে পারেনা। জর-জর করে কেঁদে দেই। ইরফানের বুকে কিল ঘুষি মেরে নিজেকে ছাড়াতে চায়।
ইরফান ছাড়েনা। নিজের সাথে আরও জড়িয়ে নেই। ওর মাথায় ছোট্ট করে চুমু খায়।
তোশা তখনো চিল্লাচ্ছে,
"ছাড় তুই, তোর মতো বন্ধুর দরকার নেই। কয়বার বলবো? ছাড়"
বলতে বলতে অনবরত কিল ঘুষি মারতে থাকে।
ইরফান শেষে ওর মাথাটা বুক থেকে তুলে ওর ঠোঁট দুটো নিজের ঠোঁটে আঁটকে নেই।