দিগন্ত আর মাহাদ বোনদের নিয়ে রিসোর্ট ঘুরে দেখছে। এই রিসোর্টটা দেখতে শহরের রিসোর্টগুলোর চেয়ে ভিন্ন। শহরের রিসোর্ট গুলো হয় সাধারণত একটু মডার্ন ধাচের।
তারা যেকোনো কিছুতে বিদেশি ছোঁয়া আনতে বেশি পছন্দ করে।
তবে অন্তিক-দিগন্তরা যে রিসোর্টে উঠেছে সেটা তেমন না। এখানে প্রকৃতির ছোঁয়াকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছে। তবে সেখানেও বেশ অভিজাত্য ধরে রেখেছে বোঝায় যায়।
ওরা ঘুরতে ঘুরতে একটা সুন্দর স্পটের কাছাকাছি আসলে ইশি দিথী ছবি তুলার প্রস্তুতি নেই।
ওরা নানান ভঙ্গিতে ছবি তুলছে। ইশি এর মধ্যে খেয়াল করে ভাবি এখানে নেই তাদের সঙ্গে।
প্রাণেশা তাকে আগেই বলে রেখেছিলো যাতে যেখানে যাবে তাকে পাশে পাশে রাখে। ইশি বুঝতে পেরেছে তার ভাইয়ের ভয়ে ভাবি এমন বলেছে।
কিন্তু সেও মানা করেনি। কারণ তার নিজেরও সেদিন যখন ভাইয়ের রুমে ভাবিকে অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকতে দেখেছিলো তখন খুব খারাপ লেগেছে ভাবির জন্য।
তার উপর যখন দিগন্ত ভাই অজ্ঞান হওয়ার কারণ বলে তখন খুব মায়া লাগে।
সে ভাবিকে এখানে না দেখে চিন্তায় পড়ে যায়। দিথীকে জিজ্ঞেস করে,
"দিথী শোন, ভাবি কোথায়? দেখেছিস? এখানে সবাই আছি কিন্তু ভাবিকে তো দেখা যাচ্ছেনা।"
দিথী ছবি তোলার ব্যস্ততায় তেমন কর্ণপাত করেনা ইশির কথায়। বলে,
"এখানেই থাকবে কোথাও, দেখ। কোথায় আর যাবে।"
ওর কাছে ঠিকঠাক উত্তর না পেয়ে অয়ন্তির কাছে জিজ্ঞেস করে,
"আপু, ভাবি কই? দেখেছো? আমাদের মাঝে তো নেই।"
"ভাবি নেই সেটা দেখেছি। কিন্তু ভাইয়াকেও দেখা যাচ্ছেনা। আসার আগে মা বলেছে ওদের যেন একা সময় কাঁটাতে দেই। তাই আর দেখিনি। ভাই, ভাবি একসাথেই আছে হবে। তুইও এঞ্জয় কর।"
বোন ওকে আস্বস্ত করলেও কোনোভাবেই মন মানছেনা। মেয়েটা ওকে খুব অনুরোধ করে বলেছিলো যেন ওর সাথে সাথে থাকে।
এখন হারিয়ে ফেললো। নিজে খুব আনন্দে ছবি টবি তুলেছে অথচ ভাবি যে এখানে নেই তা একটুও খেয়াল করলোনা।
ইশির টেনশন হচ্ছে। সে একবার তাদের রুমের ওখান থেকে ঘুরে আসবে ভাবলো। ভাবিকে যদি ওখানে পাওয়া যায়। এই ভেবে।
কিন্তু সাথে আর কাউকে নিলোনা, কারণ অয়ন্তি-দিথী ছবি তুলছে আর মেহেরিন তাদের ফটোগ্রাফার।
আবার মাহাদ ভাইয়াও ফোনে কার সাথে যেনো কথা বলছে।
আর দিগন্ত ভাইয়ের সাথে যাওয়া যাবেনা। সে খালি অন্য ধান্দায় থাকে।
তাই ভাবলো একাই যাক, অতো দূরে তো আর না।
দিগন্ত ফোনে একজন পেশেন্টের কিছু ফাইল দেখছিলো। যদিও ওর আজ হসপিটাল থেকে ছুটি নেওয়া ছিলো। কিন্তু ওর এক জুনিয়র ডক্টর পাঠিয়েছে এটা।
সে বুঝতে পারছেনা তাই, দিগন্তের হেল্প চাইছে।
ফাইলটা চেক করে ওকে কিছু বিষয় বুঝিয়ে একটা ভয়েস মেসেজ সেন্ট করে দেয়। তারপর বাকিদের দিকে তাকিয়ে দেখে ওরা এখনো ছবি তুলতে ব্যস্ত।
কিন্তু তার ইশি কই? ওকে তো দেখা যাচ্ছেনা। সে তাদের কাছে এসে জিজ্ঞেস করে,
"অয়ন্তি, ইশি কই?"
"জানিনা, এইতো মাত্রই এখানে ছিলো। কোথাও আছে হয়তো।"
ওর বেখেয়ালি কথা শুনে সে চওড়া গলায় বলে,
"কোথাও আছে মানে? আশ্চর্য! সবাই একসাথে এসেছিস একসাথে থাকবিনা?" তারপর চারদিকে চোখ বুলিয়ে বলে,
"অন্তিক ভাইও এখনো এলোনা, ইরফান ভাইকেও দেখা যাচ্ছেনা। ভাবিও তো নেই তোদের সাথে। ওরা নাহয় পুরুষ মানুষ। কিন্তু ভাবি তোদের সাথে নেই এটা খেয়াল রাখবিনা? আশ্চর্য! তোরা এতো কেয়ারলেস হোস কি করে।"
"আরেহ, এতো হাইপার হচ্ছো কেন? মা বলেছে ভাইয়া আর ভাবিকে আলাদা থাকার সুযোগ দিতে। আমি তাই দিয়েছি। এখানে আমাকে বকছো কেন?"
"ভাবি অন্তিক ভাইয়ের সাথেই আছে তুই শিউর?"
"আমরা যখন আসলাম এদিকে তখন তো ওয়াশরুমে ছিলো। ভাইও ফ্রেশ হচ্ছিলো। বের হয়ে সবার আগে ভাই আমরা আছি কিনা দেখেছে নিশ্চয়। তখন ভাবিকে পাবে হয়তো।"
"হয়তো নিয়ে পড়ে থাক তুই। এতো কেয়ারলেস কিভাবে হোস আমি বুঝতে পারছিনা।"
বলে দিগন্ত অন্তিককে ফোন দিতে দিতে তাদের রুমের ওদিকটাই গেলো।
———
"কি সমস্যা? ঘুরতে এসেও তোদের এতো চিল্লাচিল্লি কিসের? দুই মিনিট শান্তিতে থাকবিনা..." মাহাদ
"তুমি মাঝখান থেকে সাধু সেজোনা। তুমি আমাদের চেয়ে আরো বেশি চিল্লাচিল্লি করো।" দিথী
"বেয়াদব হচ্ছিস সবকটা দিনদিন। বড়দের মুখে মুখে কথা বলিস। অবশ্য হবিনাই বা কেন? বড়টার থেকেই তো শিখছিস সব।" মাহাদ
"একদম আজেবাজে কথা বলবেনা। আমি দিথী কাউকে কপি করিনা বুঝেছো? বেয়াদবি বলো কিংবা আদবি, সব নিজস্ব।" দিথী কাঁধের উপরের চুলে হাতে উড়িয়ে একটু ভাব নিয়ে বলে।
ওর ঢং দেখে মাহাদ ওর মাথায় একটা গাট্টা দেই।
"আচ্ছা, এখন তোদের আর ঝগড়া করতে হবেনা। দিগন্ত ভাই গিয়েছে ওরা কোথায় আছে দেখতে। আমরা ততোক্ষণ কোথাও একটা বসে অপেক্ষা করি।" মেহেরিন
রিসোর্টে গেস্টদের আউটিং স্পটে আসলে বসার জন্য খুব সুন্দর সিটিং এরিয়ার ব্যবস্থা আছে। ওরা সেখানে গিয়ে বসে। কিন্তু দিথীর ছবি তোলার শখ কমছেইনা। সে অয়ন্তিকে ওখানে গিয়ে কিছু ছবি তুলে দিতে বলে।
কিন্ত অয়ন্তি এমনিতেও দিগন্তের বকা শুনে মুড ঠিক নেই। সে বড় বলে সবকিছু নিয়ে তাকে বকা শুনতে হয়। ছোট থেকেই এমন।
ইশি, দিথী কোনো ভুল করলে ঘুরে ফিরে সে বকা খায়। তারা কোনো দোষ করলে বলে যখন ওরা এসব করছিলো তখন সে কোথায় ছিলো? দেখেনি এসব করতে? আটকায়নি কেনো?
ওরা কোথাও ব্যথা পেলেও সে বকা শুনবে বোনদের খেয়াল রাখেনি কেনো। তবে মাঝে মাঝে বড়দের প্রতি রাগ লাগলেও বোনদের কোনো সমস্যা হলে তারও কষ্ট হয়।
বড় বোনের দায়িত্ব সে বুঝে। শুধু দায়িত্ব হবে কেন? বোনদের সে ভালোবাসে। তাদের খেয়াল রাখতে হবেনা?
কিন্তু অহেতুক তাকে বকাঝকা করবে কেন? তার উপর মাহাদ ভাই এসে ওকে খোটা দিলো বোনদের বেয়াদবি শেখায় বলে। এই কারণে তার মুড ঠিক নেই।
সে দিথীকে ছবি তুলতে ইচ্ছে করছেনা বলে বসে রইলো। কিন্তু দিথী ছবি তুলবেই। হয় মেহেরিন আপু নাহয় মাহাদ ভাই। যেকোনো একজনকে সে আসতে বলে তার সাথে।
মাহাদ নিজেই যেতো, কিন্তু কি ভেবে যেন সে মেহেরিনকে যেতে বললো। মেহেরিন সম্মতি জানিয়ে দিথীর সাথে চলে গেলে মাহাদ এবার অয়ন্তির দিকে তাকায়। মুখ ভার করে বসে আছে। তারপর হঠাৎ ভ্রু কুচকে ফোন বের করে ইন্সটাগ্রাম স্ক্রল করতে লাগলো।
"মুখটা এমন ভার করে রেখেছিস কেন? দিগন্ত বকেছে তাই? নাকি আমার কথার পিঠে জবাব দিতে পারিসনি তাই?" সে চেয়ারে গাঁ এলিয়ে জিজ্ঞেস করে।
অয়ন্তি তার কথা শুনে তাকায় একপলক। তার মনে পড়ে মাহাদ ভাই কয়েক ঘণ্টা আগেও কি পরিমাণ বিব্রতকর মজা করেছে তার সাথে। অস্বস্তি হয় তার। সাথে সাথে চোখ ফিরিয়ে নেই। ফোন স্ক্রল করতে করতে বলে,
"আমি যার তার বকা কিংবা খোটাতে পাত্তা দেইনা। আর সব কথার জবাব দিতে হয়না।"
"আচ্ছা? কয়েক ঘণ্টাতেই এতো ম্যাচিউর হয়ে গেলি?"
"আমি সবসময় ম্যাচিউর ছিলাম।"
"হু, খুব ম্যাচিউর। এতো ম্যাচিউর যে ভাইয়ের সাথে ঝগড়ার মধ্যে এখনো বড়দের কথা জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দিস।"
"তুমি আমার বাবা ভাইকে টেনে ঝগড়া করলে তখন কিছুনা। আমি কিছু বললেই যতো দোষ।"
"আমিতো তোর বাবা ভাইকে নিয়ে স্বাভাবিক কথা বললেও তোর খোটা লাগে। এটা কি আমার দোষ?"
"না, তোমার দোষ হবে কেন? সব আমার দোষ, আমি ছাড়া আর কেউ কোনো দোষ করতে পারে নাকি? ইশি নেই আমার দোষ, ভাবি নেই আমার দোষ, ভাইয়া নেই আমার দোষ, তুমি তোমার গার্লফ্রেন্ডের সাথে ছাঁদে দাড়িয়ে লুতুপুতু করবে আশে পাশে কে আছে নেই না দেখে, তাও আমার দোষ। যতো দোষ সব অয়ন্তিকার।"
মাহাদ শুনে অয়ন্তির অভিযোগ। মেয়েটা একদম ছোটবেলায় যেমন বায়না করতো, অভিমান করতো। সেভাবে অভিমান প্রকাশ করছে মাহাদের কাছে। দিগন্ত ওকে বকেছে তাই অভিমান হয়েছে ওর। বড় বলে সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব থাকলেও সে নিজেও কম আহ্লাদে বড় হয়নি।
বরং বাড়ির প্রথম মেয়ে সন্তান ছিলো বলে একটু বেশিই পেয়েছে সবকিছু। সে দায়িত্ব হোক,আহ্লাদ হোক কিংবা বকা। এক ভাইয়ের কাছে বকা খেয়ে আরেক ভাইয়ের কাছে অভিযোগ এনে এমন কতো আহ্লাদ করেছে ছোট থেকে। এমনকি
মাহাদের কাছেও। কই আগেতো এমন আদুরে লাগেনি। না, লেগেছে। কিন্তু সেটা অন্যভাবে ছিলো।
আজ সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরণের একটা আদুরে ভাব খুঁজে পাচ্ছে সে অয়ন্তির মধ্যে। তার কেমন অদ্ভুদ অনুভূতি লাগছে। মন চাচ্ছে অয়ন্তি আরও অভিযোগ করুক আর সে বসে বসে শুনুক। আগে অভিযোগ আনলে তা সমাধান করে দেওয়ার তাড়া থাকতো। আর এখন বসে বসে শুধু অভিযোগ শুনতে ইচ্ছে করছে। কি আশ্চর্য!!
তার অয়ন্তিকে আরো অভিযোগ করতে বলার ইচ্ছে জাগলো। ও বলবে, আর সে গালে হাত দিয়ে ওর সব কথা শুনবে। কিন্তু সত্যি সত্যি যদি একথা সে বলে বসে তাহলে সেটা খুব বাজে একটা ব্যাপার হয়ে যাবে। সে চেয়েছিলো এই সুযোগে বসে অয়ন্তিকে বলবে আসার সময়ের ঐ ঘটনা যেন ভুলে যায়, আর সবকিছু স্বাভাবিক ভাবে যেন নেই।
কিন্তু এখনতো মনে হচ্ছে সে নিজেই এরপর স্বাভাবিক হতে পারবেনা। কি আশ্চর্য। এমন হলে খুব অকওয়ার্ড হয়ে যাবে পুরো ব্যাপারটা। সারাজীবন মেহেরিনের মতো করে ভালোবেসে এসেছে অয়ন্তি, দিথী আর ইশিকে। এর মধ্যে বিচ্ছিরি ভাবনা মাথায় এলে সেটা কেউ টের পেলেও মুখ দেখানোর উপায় থাকবেনা।
সে হুট করে বলে,
"শোন অয়ন্তি, আসার সময় যা বলেছি ওটা অনাকাঙ্খিত একটা বিষয় ছিলো। ইচ্ছে করে তোকে অস্বস্তিতে ফেলার উদ্দেশ্যে বলিনি। তাই ঐ ব্যাপারটা ভুলে যা। আর স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা কর আগের মতো।"
অয়ন্তি মাহাদের কথা শুনে থমকায়। সেতো এক মিনিটের জন্য ভুলে গিয়েছিলো ব্যাপারটা। স্বাভাবিকভাবেই সবসময়ের মতো খারাপ লাগা তুলে ধরছিলো। এখানে তো অস্বাভাবিক কোনো আচরণ সে করেনি। বরং তার স্বাভাবিক কথার মধ্যে মাহাদের এই ব্যাপারটা নিয়ে কথা তোলাটাই অস্বাভাবিক মনে হলো।
হ্যাঁ, মাহাদ ভাইয়ের চোখ-মুখও কেমন লাগছে। কি যেন বলতে চেয়ে অন্য কিছু বলে ফেলেছে। অয়ন্তির ওর ঐ দৃষ্টি দেখেই আরও অস্বস্তিবোধ করার কথা। অথচ সে বলছে অস্বস্তি না রাখতে মনে।
———
ইশি ভাবিকে ডাকতে এসে দূর থেকে ভাই ভাবিকে খুব কাছাকাছি দেখেছে তাদের রুমের সামনেই। তাই আর ওদিকে পা বাড়ায়নি। আপু ঠিকই বলেছিলো। ওদের একা সময় কাঁটাতে দেওয়া উচিত।
তবে সে ভাইয়া আবার ভাবির সাথে বাজে বিহেইভ করবে এই ভেবে ভয় পাচ্ছিলো, সাথে অনুশুচনা হচ্ছিলো ভাবিকে দেখে রাখতে পারেনি বলে। কিন্তু তেমন কিছুই যখন হচ্ছেনা তখন আর অহেতুক টেনশন করে লাভ নেই। সে ফিরে আসতে নেই। রেস্টুরেন্টের ভিউ ভিডিও করতে করতে সে বাকিদের ওখানে পা বাড়ায়।
দিগন্ত অন্তিককে ফোন করেছিলো, কিন্তু সে রিসিভ করেনি। তাই সে রুমের ওখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু মাঝপথে দেখতে পায় একটা ফুলগাছের পাতায় প্রজাপতি বসেছে, আর তার মনের রাণী সেটা ভিডিও করছে, আস্তে আস্তে খুব সাবধানে। যেন উড়ে না যায়।
ইশি পিকনিকের সাথে সুট করবে এমন একটা ড্রেস পড়েছে। অবশ্য শুধু ইশি নয়। ওরা পাঁচ মেয়ে সহ ছেলেরাও তাই।
ইশির গাঁয়ে এখন হালকা গোলাপির মধ্যে সুন্দর একটা স্প্যাগেটি স্ট্র্যাপ গাউন, নিচে সাদা লেইস-ট্রিম করা আন্ডারস্কার্ট। কাপড় দেখতে হালকা ও নরম, ড্রেপি ফ্যাব্রিকের মতো। মাথায় চুল খোলা আর একটি লম্বা ফিতা বাঁধা আছে। এই লম্বা ফিতা দিথী আর প্রাণেশার চুলেও আছে। হয়তো ম্যাচিং করে পড়েছে তিন জন।
তবে প্রজাপতির ভিডিও করা তার প্রেয়সীকে এই মুহূর্তে প্রজাপতি রাজ্যের রাণী মনে হচ্ছে দিগন্তের কাছে। সে নিজের ফোনে ঐ অবস্থায় ইশির কয়েকটা ছবি তুলে নেই।
তারপর আস্তে আস্তে ওর কাছে আসে। একদম পেছনে দাড়িয়ে ওর কাঁধের দিকে মাথা নামিয়ে আস্তে করে বলে,
"প্রজাপতি নিয়ে খেলছিস?"
ইশি ভিডিও করা অবস্থায় একটু ঘাড় ফিরিয়ে তাকায়। আস্তে করে সাবধানে মাথা নাড়িয়ে "হু" বলে।
"আমি ছবি তুলে দেবো?" সে ওভাবেই বলে।
ইশি আবার হালকা ঘাড় কাত করে দিগন্তের দিকে তাকায়,তারপর সামান্য উৎসুকভাবে চেয়ে আস্তে করে বলে,
"সত্যি তুলে দেবেন? তাহলে এভাবেই আপনার ফোনে তুলে দিন প্লিজ। প্রজাপতিটা যাতে দেখা যায়, আর আমাকেও..."
"প্রজাপতি হাতে নে আস্তে আস্তে। তারপর তুলি"
সে ধীর স্বরে মাথা নাড়িয়ে উত্তর দেই, "না না। হাতে নিতে চাইলে আবার উড়ে যাবে। তখন একটাও ছবি তোলা হবেনা। তার চেয়ে বরং এভাবেই তুলি।"
দিগন্ত ওকে "হুশ" বলে চুপ করিয়ে দেই। তারপর আস্তে করে পেছন থেকে ওর হাত ধরে প্রজাপতিটা যে পাতায় বসেছে ওখানে নিয়ে যায়। ইশি চমকে উঠে। তবে তা প্রকাশ করার সুযোগ পায়না। কারণ সে একটু নড়লেই ওটা উড়ে যাবে। তাই সাবধানি স্বরে বলে,
"কি করছেন দিগন্ত ভাই। উড়ে যাবে"
"হুশ, দেখতে থাক। উড়বেনা।" দিগন্ত ওর হাত আর প্রজাপতির দিকেই মনোযোগ রেখে বলে। তারপর আস্তে আস্তে ওর হাতের একটা আঙ্গুল প্রজাপতিটা যে পাতায় বসেছে ওখানে ছোঁয়ালে ওটা সেখান থেকে একটু একটু করে ইশির আঙ্গুলে চলে আসে।
ইশি তা দেখে চোখ বড় করে দিগন্তের দিকে ঘাড় কাত করে তাকায়, ওর চোখে মুখে খুশি উপচে পড়ছে। এর মধ্যে প্রজাপতিটা হঠাৎ উড়ে ওর আঙ্গুল থেকে উঠে যায়।
কিন্তু ২/৩ সেকেন্ডের মধ্যে আবার এসে ওর বাড়িয়ে রাখা হাতের উপরেই বসে। ইশি তা দেখে তাড়াতাড়ি দিগন্তকে ইশারা করে ছবি তুলে দিতে।
দিগন্ত ওর দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে একটু দূরে গিয়ে দাড়ায়, আর কয়েকটা ছবি তুলে নেই।
কিন্তু প্রজাপতিটা বেশিক্ষণ থাকলোনা ওর হাতে। উড়ে যেতে নিলো। ইশি বাড়িয়ে রাখা হাত নামায়নি। ওভাবেই প্রজাপতিটার উড়ে যাওয়া দেখে।
দিগন্ত ঐ সুন্দর মুহূর্তটাও ক্যাচ করে নিলো। (এই দৃশ্যটুকু ইন্ডিয়ান মুভি EK VILLAIN এর একটি মিউজিক ভিডিওর অংশ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নেওয়া)
—————
প্রাণেশা আর অন্তিক ওদের রুমের সামনে রিসোর্টের আরেকটি খোলা অংশে সিটিং এরিয়াতে বসে আছে। প্রাণেশা তখন অন্তিকের থেকে পালাতে চেয়েছিলো। যদিও অন্তিক ওর পালানোর স্বভাবের সাথে বেশ পরিচিত, তাই আগেই ধারণা করেছিলো এই মেয়ে এখন পালাতে চাইবে। কিন্তু সে বুঝেও আটকায়নি।
কারণ ৫ মিনিটে নিজেই আবার ফিরে আসবে সে জানতো।
তার ধারণা অনুযায়ী পালিয়ে ফিরেও এসেছে। কিন্তু ৫ মিনিট লাগেনি। ২ মিনিটে ফিরে এসেছে। এখানে সে কিছু চেনেনা।
অয়ন্তিদের কাউকেও দেখা যাচ্ছেনা কোথাও। ওরা তো অন্তিক-প্রাণেশা দুজন যখন ওয়াশরুমে ছিলো তখনই চলে গিয়েছে ওদের একসাথে এখানে রেখে।
খুঁজে পাবে কিভাবে।
প্রাণেশা তাই গুটি গুটি পায়ে ফিরে এসে অন্তিক যেখানটাই বসেছে সেখানে এসে ওর থেকে দূরত্ব রেখে বসে পড়েছে। এসেই বসেছে এমন কিন্তু না।
সে এসে অন্তিকের সামনে দাড়ায়। অন্তিক ফোন দেখছিলো, প্রাণেশা দাড়িয়ে আছে দেখে ওর দিকে চোখ তুলে তাকায়। চোখের ইশারায় কি জিজ্ঞেস করলে প্রাণেশা বলে,
“ভাইয়া আপুরা কোথায় আছে, আমাকে সেখানে দিয়ে আসুন প্লিজ। আমি ওদের খুঁজে পাচ্ছি না” (সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ)
"তখন না পালালে? আবার আমার কাছে ওদের খোঁজ নিতে এসেছো যে?" অন্তিক শেষের কথাটা ভ্রু উচিয়ে জিজ্ঞেস করে।
প্রাণেশা কি বলবে ভেবে পেলোনা। লোকটা তাকে ফাঁদে ফেলার আর বিপদে ফেলার কোনো সুযোগই হাতছাড়া করেনা।
এখন না হয় তার সাথে প্রতিনিয়ত যা করে সেসব রোমান্টিসাইজ করা যায়। কিন্তু বিয়ের আগেও কি এমন করেনি তার সাথে?
অবশ্যই করেছে। এখন যা করে সেসব যদি রোমান্টিসাইজ করা হয় তাহলে বলা যায় বিয়ের আগে যা করেছে সেসব হ্যা রা স মে ন্ট।
একটা মানুষ প্রাণেশাকে বৈধ-অবৈধ নানান ভাবে হ্যা রা স করবে আর সে না পালিয়ে দাড়িয়ে দাড়িয়ে সেসব গ্রহণ করবে? প্রাণেশার ভীষণ রাগ হয় মনে মনে।
কিন্তু সেসব প্রকাশ করেনা। নাহলে আবার তার আসল রুপে এসে যাবে লোকটা।
অন্তিক প্রাণেশা যে মনে মনে কিছু ভেবে রেগে যাচ্ছে তা ওর চেহারা দেখেই বুঝে গেলো।
"ভেতরে ভেতরে রাগা হচ্ছে কি ভেবে?"
প্রাণেশা অন্তিকের কথা শুনে তার দিকে তাকায়। তার মনে হলো অন্তিক তাকে বিদ্রুপ করছে। সে মনে মনে রাগছে এটা হাস্যকরভাবে দেখছে লোকটা।
হয়তো তার রাগ মুখে কখনোই প্রকাশ করতে পারবেনা বলেই এই বিদ্রুপ। তার রাগ হওয়ার সাথে সাথে ভীষণ কষ্ট লাগে।
একটু কথা বলতে পারলে কি হতো? কিছুই তো পায়নি এক জীবনে।
নাই দিলো নাহয়। কিন্তু গলার স্বরটুকুও কেঁড়ে নিতে হবে? অতিরিক্ত কিছুইতো চায়নি কখনো সৃষ্টিকর্তার কাছে। তাহলে যা ছিলো তাও কেন কেঁড়ে নিলো। সে কি এতোই অযোগ্য?
অন্তিক প্রাণেশার ছলছল চোখজোড়া দেখে ভ্রু কুচকায়। কাঁদছে নাকি? সব তো ঠিকই ছিলো। এর মধ্যে আবার কি হলো যে কাঁদছে।
প্রাণেশা অন্তিক ওর দিকে এভাবে চেয়ে আছে দেখে কোনোভাবে চোখের পানি লুকিয়ে তার থেকে দূরত্ব রেখে বসে পড়ে একপাশে।
অন্তিকও আর কিছু বলেনা। তবে অবাক হয় হঠাৎ ওর মুড পরিবর্তন দেখে। এই তো রেগে ফুলছিলো মনে মনে। আবার কাঁদতে চাইছে কেন? হঠাৎ কষ্ট পেলো কি কারণে?
সে প্রাণেশা কষ্ট পাবে এমন কিছু বলেছে কিনা ভেবে দেখে একবার। কিন্তু তেমন কিছু খুঁজে পেলোনা।
তাই আরেকবার ওর দিকে তাকিয়ে দেখে। এখন কাদছেনা। কিন্তু মুখ অন্ধকার। অন্তিক ভাবে মেয়েদের সাইকোলোজি বোঝা কঠিন। কখন কাঁদে, কখন রাগে বোঝা দ্বায়।
কিন্তু এই মুহূর্তে তার মেয়েটার বিষণ্ণ চেহারা ভালো লাগছেনা।
"কি হয়েছে? কাদছো কেন?
প্রাণেশা অন্তিকের আওয়াজ শুনে তাকায়। তারপর একপলক ওকে দেখে মাথা নাড়িয়ে কিছুনা বোঝায়।
"তুমি বোবা হলেও আমি অন্ধ না। স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি কিছু হয়েছে। আবার বলছো কিছুনা। আমার সামনে নাটক করবেনা, কি হয়েছে বলো"
প্রাণেশার অন্তিকের প্রথম কথাটাই কর্ণপাত হয় শুধু। তারপর ওর দিকে তাকায়। কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে একটু হেসে উঠে, তারপর আবার মাথা নাড়িয়ে কিছু না বোঝায়।
অন্তিকের ওর হাসিটা দেখে কেমন যেন লাগলো। তার হঠাৎ প্রাণেশার চোখে পানি দেখেই কেমন কেমন লাগছিলো। এর মধ্যে আবার এই হাসি।
এই হাসি কিসের জন্য ছিলো? কি কারণে ছিলো। প্রাণেশা কি অন্তিকের উপর হাসলো নাকি নিজের উপর?
অন্তিক আর প্রাণেশা একই বেঞ্চে দূরত্ব রেখে বসেছে। সে একটু এগিয়ে এসে দূরত্বটা কমায়।
ওর মুখটা নিজের দিকে ফিরিয়ে বলে,
"এভাবে হেসেছো কেন?"
প্রাণেশা ওর গালে থাকা অন্তিকের হাতের দিকে একপলক তাকায়। তবে কিছু বলেনা এটা নিয়ে। সে জানে লাভ হবেনা। শুধু প্রতিউত্তরে বলে,
"হাসতেও পারবোনা?" (সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ)
"পারবেনা। এভাবে হাসতে পারবেনা।"
"কিভাবে হেসেছি?" (সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ)
অন্তিক ওর চেহারায় চোখ বুলিয়ে বলে,
"নিজের উপর হেসেছো নাকি আমার উপর?"
"আপনার উপর হাসার যোগ্যতা আমার আছে? এমনিতেই হেসেছি।" (সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ)
"যোগ্যতা নেই কে বলেছে? এই কথা আসছে কেন?"
"আচ্ছা। আর হাসবোনা" (সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ)
"হু, গুড"
কথাটা বলেও সে প্রাণেশার থেকে দূরে সরেনা। আর না ওকে ছাড়ে।
প্রাণেশার অযথা এভাবে থাকায় অস্বস্তি হচ্ছে, তাই সে একটু সরাতে চায় তাকে। কিন্ত অন্তিক যেভাবে ছিলো সেভাবেই ওর সামনে আসা চুলগুলো পেছনে সরিয়ে ওর সারামুখে চোখ বোলায়। তারপর হঠাৎ ওর ঠোঁটে নিজের ঠোঁটজোড়া ছুঁইয়ে দেই।
প্রাণেশা অবাক হবে তার আগে ওর ঠোঁটে আঙ্গুল বসিয়ে চুপ করিয়ে দেই। আর বলে, "হুশ, তোমার জন্য সারপ্রাইজ আছে খুব শীগ্রই।"
প্রাণেশার ওসব কথা মাথায় ঢুকেনি, কিন্তু বার বার মানুষটা তাকে এমন নানান ভাবে ছুঁয়ে দিয়ে, সে যে তার জন্য কতোটা সহজলভ্য তা ঠিকই চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দেই।
তার চোখ দিয়ে এক ফোটা পানি গড়ায়। অন্তিক তা দেখে ওর গালটা মুছে দিয়ে আবার ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁইয়ে দেই।
এবার প্রাণেশা সেই প্রথমবারের মতো হেসে উঠে। কিন্তু অন্তিক তা আর দেখেনি।
—————
ইরফান রিহ্যাবিটেশন থেকে ভালো হয়ে ফিরলেও কিছু কিছু স্বভাব এখনো আগের মতোই আছে। এই যেমন ড্রা গ ছেড়েছে। কিন্তু সি গা রে ট ছাড়েনি।
ওরা দুই বন্ধু ১ম সি গা রে ট মুখে নিয়েছিলো স্কুলে থাকতে। ক্লাস টেনে থাকতে মজার ছলে একবার নিয়েছিলো। তারপর অবশ্য লাগাতার খেয়েছে এমন না। স্কুলের পর একেবারে কলেজের শেষ বছরে নিয়েছিলো আরেকবার।
তখন তোশাও সাথে ছিলো। তোশা ওদের বারণ করলেও শুনেনি। উল্টো ইরফান নিজের সি গা রে ট টা জোর করে ধরে ওর ঠোঁটেও ছুঁইয়ে দিয়েছিলো। তোশা ১ম বার হওয়ায় নিতে পারেনি।
তার উপর মেয়ে, যেকোনো বিষয়ে ছেলেদের চেয়ে সেন্সিটিভ হবে স্বাভাবিক। সেবার কাশতে কাশতে চোখ মুখ লাল হয়ে গিয়েছিলো তোশার।
ইরফান মজার ছলে ওকে সি গা রে ট দিলেও বেচারির অবস্থা দেখে ভয় পেয়ে যায়।
অস্থির হয়ে পড়ে সে। কখনো মাথায় হাত বুলিয়ে দেই, কখনো পানি খাইয়ে দেই তো কখনো বুকে হাত মেজে দেই। পাগল পাগল অবস্থা তখন ইরফানের।
অন্তিক ওকে কিছুক্ষণ রিল্যাক্স হয়ে বসে থাকলে ঠিক হয়ে যাবে বললে ইরফান অন্তিকের উপর চওড়া হয়। সে কেন বলেনি তোশার এই অবস্থা হবে।
অন্তিক তখন ওর প্রশ্ন শুনে একটুও অবাক হয়নি। সে ইরফানের এমন উদ্ভট উদ্ভট কাজে-ব্যবহারে অভ্যস্ত।
তবে বিরক্ত হয়ে বলে,
"আমি তো পীর, আউলিয়া। সব জানি, কার কি খেয়ে কি হবে, কিন্তু বলিনা কারণ আমার মুখ নেই। শান্তি? এবার মেয়েটাকে পানি দে।"
ইরফান ওকে পানি দিয়ে, মাথায় আরেকটু হাত বুলিয়ে শান্ত করে।
তোশা ইরফানের কাঁধে গাঁ ছেড়ে ক্লান্ত ভঙ্গিতে কোনোভাবে বলে,
"ছিহহ!! কি বাজে গন্ধ এগুলো, কিভাবে খাস। আমার এখনো বমি পাচ্ছে।"
"প্রথমবার ওসব একটু একটু লাগে। আস্তে আস্তে দেখবি ঠিক হয়ে যাবে।" ইরফান
"মানে? আমি কি ওসব আবার খাবো নাকি যে আস্তে আস্তে ঠিক হওয়া লাগবে? তোরাই খা ভাই। আমি আর এসবে নেই। মাফ কর।"
"তোকে খেতে বলিনি গাধি। আমরা তো খাবো। আমরা তোর সামনে খেতে খেতে দেখবি স্মোকিং এর গন্ধ সয়ে যাবে।"
"ইয়াক!! এমনটা কখনোই হবেনা দেখে নিস। ওসব ছাইপাশ তোরা আমার সামনে টানবিনা। নাহয় তোদের বাড়িতে জানিয়ে দেবো দেখে নিস। বরবাদ যাচ্ছিস দুইটাই দিন দিন। আর আমাকেও টানছিস।
সর, পুরো জায়গাটা গন্ধ বানিয়ে ফেলেছিস। থুহহ...."
ইরফান রিসোর্টের ছাঁদের রেলিং ঘেঁষে দাড়িয়ে সি গা রে টে র ধোঁয়া উড়িয়ে উড়িয়ে ভাবছিলো এতোক্ষণ, কলেজের সেই রঙিন মুহূর্তগুলো। সে যেখানে বসে আছে সেখান থেকে অন্তিক-প্রাণেশা আর দিগন্ত-ইশি সহ বাকিদেরও দেখা যাচ্ছে। অন্তিক ওখানে বসার পর থেকে বেশ কয়েকবার ফোন দিয়েছে তাকে। সে রিসিভ করেনি।
ইরফান ছাঁদে কি কারণে এসেছে তা সে নিজেও জানেনা। ব্যাস আসতে মন চেয়েছে আর সে এসেছে। সে শুরু থেকেই এখানেই আছে।
এর মধ্যে হঠাৎ সে কাউকে ফোন লাগায়। রিসিভ হয় কয়েকবার রিং পড়ার পর।
"তোমার স্যার বোধ হয় ওকে আনার প্ল্যান করছে।"
"কি বলছেন? আমি কিছু জানিনা।"
ইরফান হঠাৎ হেসে উঠে,
"খুব ভালো"
"সত্যি বলছি।"
"আরেহ, কুল। আমি বিশ্বাস করেছি।"
"উম, আচ্ছা। আপনাদের পিকনিক সফল হোক।"
"সে তো তুমি না বললেও হবে"
ইরফান ফোন কেটে দেই। পকেটে ঢুকাবে তার আগে অন্তিকের কল আসে। সে রিসিভ করে এবার,
"কই তুই?"
"আসছি, ৫ মিনিট"
বলেই কেটে দেই।