মৌনপ্রেম

পর্ব - ১৮

🟢

তোশা ইরফানের সাথে সেদিন তেমন একটা বন্ধুত্বের মতো বন্ধুত্ব নেভানোর মোটিভ নিয়ে হাত মেলায়নি। বরং সে বিষয়টাকে তেমন পাত্তাই দেইনি।

অথচ তোশার ইরফানের সাথে বন্ধুত্ব করাটা শুধুমাত্র টিমে জয়েন করার উদ্দেশ্যে হলেও তা আদতে আর টিম অব্দি সীমাবদ্ধ থাকেনা। বলা যায় ইরফান সীমাবদ্ধ থাকতে দেইনা।

বন্ধুত্বের বাহানায় ওর সাথে নানান দুষ্টোমি, নানান ফাজলামো সহ যেন নানান ভাবে ওর উপর অধিকারও করে নেই। ইরফানের খাতিরে অন্তিকের সাথেও খুব ভালো একটা বন্ডিং তৈরি

হয় তোশার। কলেজের সবাই অন্তিক, ইরফানের সাথে সাথে তোশাকেও চিনে নেই। ওর জায়গাটাও তাদের মতো হয়ে যায় আস্তে আস্তে।

ইরফানের স্বভাবের সাথে অন্তিকের মতো কবে যে তোশাও এডজাস্ট করে নিয়েছে তা তোশা নিজেও বুঝতে পারেনি।

কবে যে ইরফানকে সবচেয়ে কাছের বন্ধু ভেবে নিয়েছে তাও টের পায়নি। তবে তাদের সাপে নেউলের মতো তর্কাতর্কি, ঝগড়া-ঝাটি এসবও জারি ছিলো। তবে সেখানেও ছিলো ইরফানের তোশার প্রতি অধিকারবোধ।

তোশার ইরফান আর অন্তিকের বাইরে কোনো ফ্রেন্ড ছিলোনা। সেও যথেষ্ট সম্ভ্রান্ত আর মডার্ন ফ্যামিলি থেকে বিলং করে বিধায় শুধু মাত্র দুইটা বন্ধু তাও ছেলে এই ব্যাপারটায় কোনো সমস্যা হয়না।

বরং তোশার বাবা-মা মনে করে মেয়েটা এবার আসলেই একটা জীবন কাটাচ্ছে। তাদের মতে, এই অল্পবয়সে জীবন নিয়ে কিসের এতো সিরিয়াসনেস....

ঘুরবে, ফিরবে, আনন্দ করবে, বন্ধু বানাবে - তার লাইফ নিয়ে ভাবার জন্য তো বাবা-মা আছেই।

এমনই ছিলো তাদের বন্ধুত্ব। মাঝে ইউনিভার্সিটিতে উঠে অন্তিক নানান রকম স্কলারশিপ-টিপ নিয়ে ক্যারিয়ারে ফোকাস করতে শুরু করে। এসবের কাজে তাকে বিভিন্নসময় বাড়ি থেকে দূরে থাকতে হতো।

তোশাও যথেষ্ট সিরিয়াস ছিলো ক্যারিয়ার নিয়ে, কিন্তু তার ফ্যামিলি থেকে এতো অল্প বয়সেই ক্যারিয়ারের জন্য বাড়ি থেকে দূরে থাকা এলাও করেনা বলে তার দ্বারা এসব সম্ভব হয়না।

অন্তিকের অনুপস্থিতিতে তোশা আর ইরফানের সম্পর্ক অন্য একটা পর্যায়ে যেতে শুরু করে।

কিন্তু তোশা মেয়ে, তাই পরিবারহীন ইরফানকে চাইলেও সবটা সময় দেওয়া সম্ভব হয়না তার পক্ষে। ঐ সময়টায় ইরফান বিভিন্ন খারাপ সঙ্গে জড়িয়ে যায়। অথচ তোশা, অন্তিক কেউ তা শুরুতে বুঝতেও পারেনি। যখন বুঝতে পারে তখন তাকে আর ফেরানো যায়না এসব থেকে।

এসব কারণে তোশার সাথে সবসময় ঝগড়া লেগেই থাকে। কিন্তু সেই ঝগড়া আর আগের মতো দুষ্টু-মিষ্টি থাকেনা। ইরফান ফ্লার্ট করলেও, বেপরোয়া স্বভাবের হলেও কখনো কুরুচিপূর্ণ গালি দিতোনা।

অথচ খারাপ সঙ্গে মিশে, খারাপ জিনিস খেয়ে তার মুখের ভাষাও খুব জগন্য হয়ে যায়। তোশা, অন্তিক ওকে বোঝাতে চাইলে ওদের বুঝেনা। ঝগড়া লেগে যেতো।

অন্তিককে গালি দেওয়া শোভা পেলেও কিছু কিছু গালি তোশার সাথে একেবারেই যায়না। খুব বাজে অর্থ বের হয় এসবের। এতে তাদের ঝগড়া হতে থাকে রোজ রোজ।

আবার হুশে আসলে ঠিক হয় ইরফান। তোশার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেই। তারপর আবার খেলে আবার সেই আগের রুপ। আবার ঝগড়া, শেষে আবার ক্ষমা চাওয়া।

এভাবে বছর কাটতে থাকে কিন্তু ইরফান আগের চেয়ে নিয়ন্ত্রণে এলেও ওসব খাওয়া ছাড়তে পারেনা।

বরং বলা যায় ওসব খেয়েও নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখা শিখে যায়, যার অর্থ সে এসবে অভ্যস্ত এখন।

এভাবে আরও বছর কয়েক কাটে।

এর মধ্যে অন্তিক আবার নানান কাজে, ব্যস্ততায় তাদের মাঝে থাকতোনা। সেসময়টা তোশার জন্য ইরফানকে সামলানো প্রায় অসম্ভব হয়ে যেতো।

একবার কখন নাকি সে তোশাকে কোন ছেলের সাথে দেখেছে। এসব দেখে তার মাথা ঠিক থাকেনা। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তোশাকে একাকার করে দেই।

তোশার সাথে দেখা যাওয়া ঐ ছেলেটা ছিলো তার মামাতো ভাই। যার সাথে বাড়িতে তার বিয়ের কথাবার্তা হয়েছে অনেক আগেই।

তখন তোশা জানতোনা। এখন জানিয়ে তাকে ছেলেটার সাথে দেখা করতে বলে বাড়ি থেকে, তাই কফিশপে দেখা করেছে সে ছেলেটার সাথে। এসব ইরফান দেখে নিয়েছে।

ইরফান যখন এসব জানতে পারে তখন হিংস্র জন্তুর মতো হয়ে যায়। নিজের মধ্যে থাকেনা। কি করবে কি করবে ভেবে পায়না।

অন্তিককে জানালে অন্তিক বলে, "তো কি তোর মতো নে/শা/খো/রের জন্য বিয়ে করবেনা? কি আছে তোর মধ্যে? খাস তো দিনভর ওসব নে/শা/পানিই.. নিজেকে শুধ্রা, নাহয় তোশার কথা ভুলে যা।"

অন্তিক এভাবে বলেছিলো যাতে তোশাকে পাওয়ার জন্য হলেও ছেলেটা ওসব থেকে ফিরে আসে। সে ছেলেটাকে অনেক ভাবে, অনেক ভাবে বুঝিয়েছে। লাভ হয়নি। বিভিন্নভাবে এসব থেকে ফিরিয়ে আনেত চেয়েছে। কিন্তু কোনো কাজে আসেনি। তার ক্যারিয়ারে অন্য মাত্রা এনে দেবে এমন কতো প্রজেক্ট বাদ দিয়েছে এই প্রাণপ্রিয় বন্ধুর জন্য। অথচ এই ছেলেকে সঠিক পথে আনতে পারেনি তাও।

নিজের পরিবারের সাথে এমন একটা বন্ধন তৈরি করে দিয়েছে যাতে সেটাকে কখনো অন্যের পরিবার মনে না হয়। বাড়িতে তিন তিনটা উঠতি বয়সী বোন থাকা স্বত্তেও সে রিস্ক নিয়ে ইরফানের মতো একজন ড্রা/গ এ/ডি/ক্টে/ড কে নিজের পরিবারের সাথে জুড়ে দিয়েছে।

সে না থাকা অবস্থায়ও যাতে তার পরিবারের সাথে নিজস্ব একটা বন্ধন থাকে সেই সুযোগটুকু করে দিতেও কার্পণ্য করেনি।

অথচ তাও এই বন্ধু এসব থেকে ফিরতে পারেনি। তাই তোশার প্রতি অনুভূতিটুকু হলেও কাজে লাগিয়ে যদি ওকে সঠিক পথে ফেরানো যায়, তাহলে সেটা কেন বাদ যাবে। চেষ্টা নাহয় করেই দেখা হলো।

কিন্তু সে বুঝতে পারেনি তার সেই ছোটবেলা থেকে জেদী বন্ধুটা প্রিয় রমনীকে পাওয়া না পাওয়ার বিষয় আসলে আরও জেদী হয়ে উঠবে। তাও ভয়ংকর রকমের।

ইরফান বন্ধুর কাছেও সাহায্য না পেয়ে সেদিন বারে যায়। যদিও সে মাঝে মাঝেই যেতো। নে/শা/পানি খেয়েও শান্তি না পেলে তোশাকে যেমন অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে তেমনই কিছু মেসেজ করে সেদিন। তবে খুব বিচ্ছিরি কিছু ইঙ্গিতও ছিলো সেদিনের গা/লি/গা/লাজে।

যা সত্যি সত্যি যদি তোশার কাছে পৌছাতো তাহলে হয়তো সে সতর্ক হয়ে যেতো। কিন্তু সে মেসেজ তোশার কাছে পৌছায়নি। অন্য একজনের জীবনে ঝড় এনেছে ঐ মেসেজ।

ইরফান ওকে মেসেজে যা পাঠিয়েছে তা করেও দেখিয়েছে।

তোশার কিছু ন্যু/ড ছবিসহ ভিডিও সে সংগ্রহ করে। কিছু গোসলের তো কিছু নানান অপ্রীতিকর মুহূর্তের।

তোশার শুরু থেকেই ইরফানের প্রতি বন্ধুত্বের চেয়ে বেশি কোনো অনুভূতি ছিলোনা। কিংবা কোনো একটা পর্যায়ে গিয়ে অনুভূতি জন্মালেও তা ইরফানের নিজ দোষে ভেতরেই রয়ে গিয়েছে।

তাই সে বাড়ি থেকে বিয়ের কথা বললে না করেনি। যেদিন এনগেজমেন্ট হবে সেদিনই সেসব ন্যু/ড ইরফান তোশার ফোনে পাঠায়। তোশা ওসব দেখে স্তব্দ হয়ে পড়ে। তার কাছে পুরো দুনিয়া যেন ওখানেই থেমে গিয়েছে।

কারো কাছে বলতে পারেনা, না নিজে দেখতে পারে ওসব ছবি, ভিডিও। এসব দেখে সে যখন অবশ প্রায় তখন আরো একটা ভিডিও আসে, ওটাতে সে কোনো একটা ছেলের সাথে অন্তরঙ্গ অবস্থায় আছে।

তার মাথা ঘুরে উঠলো। প্রথমগুলো রিয়েল ন্যু/ড ছিলো, আর এই ভিডিওটা এআই জেনারেটেড। সে এসব দেখতে না পেরে চোখ ঘুরাবে তখন দেখতে পায় তার সাথে অন্তরঙ্গ অবস্থায় থাকা ভিডিওর ঐ ছেলেটা আর কেউ নয়, বরং ইরফান।

বিষয়টা বুঝতে পেরে তার কাছে সবকিছু ব্ল্যা্ংক মনে হচ্ছিলো। ইরফান, ইরফান এসব করেছে? কিভাবে.. বেস্ট ফ্রেন্ড হয়। সে যখন বন্ধুর ধোঁকা, নিজের উপর আসা এই ঝড় এসব নিয়ে ভেবে পাগল প্রায়। তখন ইরফানের কল আসে। তোশা কাপাকাপা হাতে রিসিভ করে।

ভিডিও কল। তাকিয়ে আছে তোশা ছেলেটার দিকে। ইরফানও। তার চোখ লাল টকটকে হয়ে আছে। মাঝে মধ্যে আঙ্গুল দিয়ে নাকের নিচে ঘসা দিয়ে উঠে। এখনো নে/শা করে আছে সে।

"কেন করলি?"

"বিয়ে ভাঙ তুই"

"আগে বল"

"রিং পড়েছিস ঐ **র ভাইয়ের দেওয়া?"

"রুম থেকে বেরুলাম কয়। অনুষ্ঠান শুরুই হয়নি"

"খুব ভালো। এবার এভাবেই ঐ রুমের ভেতর বসে থাক। নাহয় শেষের ভিডিওটা দেখেছিস নিশ্চয়, তুই আর আমি.. ওটা ঐ যে তোদের বাড়িতে ড্রয়িং রুমে বড় পর্দার এল.ই.ডি আছে? ওটাতে প্লে হবে। ট্রাস্ট মি, ইমরান হাশমির সিনেমার চেয়েও.....।"

তোশা আর কিছু শুনতে পায়না। সে কল কেটে দিয়েছে।

অন্তিককে কল করে সে। ২ সেকেন্ড পরেই রিসিভ হয়।

"এনগেজমেন্ট ছেড়ে আমাকে কল দিলি যে? আর ভালো লাগছেনা? ইরফানকে নিয়ে যাবো নাকি?"

"বলেছিলি না আমার বিয়ে হতে দিবিনা? নে আর হবেনা বিয়ে, তোর নে/শা/খো/র বন্ধু আটকে দিয়েছে আমার এনগেজমেন্ট। হবেনা আর কোনো বিয়ে। মোবারকবাদ তোদের দুজনকে। তোদের মনের আশা পূর্ণ হয়েছে।

তাতে আমার ইজ্জত যাক, সমস্যা কি? তোর বন্ধুর আশা তো পূর্ণ হয়েছে। মোবারকবাদ...." তোশা এভাবে ছাড়াছাড়া কথা বলতে থাকে, কিন্তু অন্তিককে বিস্তারিত জানায়না।

অন্তিক খুব অবাক হয় এসব শুনে। ইরফান আবার কি করেছে? সে তো এখন অন্তিকের ফ্ল্যাটে। নিজে রেখে এসেছে, যাতে তোশার এনগেজমেন্টে ঝামেলা না করে।

তবে এনগেজমেন্ট হলেও অন্তিক নিজেই তোশার বিয়েটা হতে দিতোনা অন্য কারো সাথে। সে তো সব পরিকল্পনা করেই রেখেছে। শুধু ইরফান একটু শুধ্রোই কিনা এসব দেখে সেটা পরীক্ষা করতে চেয়েছিলো সে। এর মধ্যে আবার ছেলেটা ঐ বদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে কি করলো যে তোশা এসব বলছে?

অন্তিক তাড়াতাড়ি গাড়ির চাবি নিয়ে বের হয়। বাড়ি থেকে নিজের ফ্ল্যাটে যায়। গিয়ে দেখে ইরফান ওখানে ড্রয়িং রুমের সোফায় এলোমেলো হয়ে শুয়ে আছে। পা কোথায়, মাথা কোথায় -তার কোনো ঠিক নেই। কম্ফোর্টারের এক কোণা তার পিঠের নিচে আর বাকি অংশ পড়ে আছে ফ্লোরে। পাশে সাদা পাউডার একটু একটু পড়ে আছে দেখা যাচ্ছে। আবার ড্রা/গ নিয়েছে।

কিন্তু এই ছেলে এখানে থেকে কি করলো, যে তোশার এনগেজমেন্ট ভাঙবে?

অন্তিক ডাকে ইরফানকে।

"ইরফান, উঠ..এই বা**দ উঠ..,

কি করেছিস তুই তোশার বিয়ে আটকাতে? এই শালা উঠ। তোশা ওভাবে কাঁদছিলো কেনো?"

অন্তিকের ডাক শুনে ইরফান তাকায় চোখ পিট পিট করে। তারপর চোখ কচলে আস্তে আস্তে সোফায় হেলান দিয়ে বসে। ওভাবেই ঘুমঘুম স্বরে জিজ্ঞেস করে,

"কি সমস্যা? কানের কাছে প্যানপ্যান করছিস কেনো?"

"তোশার এনগেজমেন্টে কি করেছিস? তুই বাইরে বেরিয়েছিলি কিভাবে? আর এসেছিস কখন?"

"ওর এনগেজমেন্ট আটকাতে আমার ওর বাড়ি যাওয়া লাগবে? সিরিয়াসলি?"

"তো কি করেছিস তুই? ফোন, ফোন দে তোর। কোথায় তোর ফোন? মেয়েটা কাঁদছিলো কু*ত্তার বাচ্চা। আর ও ইজ্জত যাওয়ার কথা বলছিল কেনো? কি বলেছিস তুই তোশাকে?"

ইরফান কিছু বলেনা, শুধু একটা হাঁয় টানে মুখে হাত দিয়ে।

"কু*ত্তার বাচ্চা কথা বল। কি অঘটন ঘটিয়েছিস?" কথাটা বলতে বলতে অন্তিক কম্ফোর্টারের নিচে একপাশে ওর ফোন দেখে সেটা নেই।

অন্তিক ওর ফোনের লক জানে তাই ইরফান তাড়াতাড়ি ওটা কেঁড়ে নিতে চায়।

পারেনি...তাই গর্জে উঠে,

"আমার ফোন রাখ অন্তিক। ওটা নিয়ে তোর কাজ নেই। রাখ ওটা।"

"আমার কাজ আছে নাকি নেই তা এখনই বোঝা যাবে। এখন চুপচাপ এতোক্ষণ যেভাবে বসে ছিলি সেভাবে বসে থাক।"

ইরফান থামেনা, সে তার ফোন নিতে হাতাহাতি শুরু করে।

"অন্তিক আমি বলছি আমার ফোনে তোর কাজ নেই। তার মানে নেই। দিয়ে দে ফোন। নাহলে অনেক খারাপ হয়ে যাবে ট্রাস্ট মি"

অন্তিক দেইনা। ফোনের লোক খুলে হোয়াটস অ্যাপে ঢুকতে চাইলে ইরফান ওটা আবার নিতে চায়। কিন্তু পারেনা।

ইরফানের এই মুহূর্তে খুব রাগ লাগছে। ইচ্ছে করছে এই ঘরের প্রত্যেকটা জিনিস একটা একটা ধরে আছাড় মারতে।

কিন্তু সে নিজেকে নিয়ন্ত্রন করে কোনোভাবে।

শেষে অন্তিক তার আর তোশার ইনবক্সে ঢুকার জন্য ক্লিক করলে সে বলে উঠে,

"ওখানে আমার আর তোশার পার্সোনাল ভিডিও আছে অন্তিক। ঢুকিসনা।"

ইরফানের কথা শুনে অন্তিক ভ্রু কুচকে তাকায়,

"তোর আর তোশার মধ্যে পার্সোনাল কি আছে যে পার্সোনাল ভিডিও থাকবে?"

ইরফান অন্তিকের চোখে চোখ রেখে বলে,

"আছে অনেক কিছু, তোর জেনে কাজ নেই। ফোন রাখ"

"তুই আর তোশা এমন সময় কবে কাটিয়েছিস যে তার ভিডিও করা হয়েছে, আবার আমি দেখতে পারবোনা?"

"তুই ফোন দিবি কি না"

"আগে বল কিসের ভিডিওর কথা বলছিস?"

"আমার আর তোশার সে* ভিডিও।"

"আবার বল?"

"আমার আর তোশার সে* ভিডিও।"

"এডিট করিয়েছিস?"

"হ্যাঁ।"

"তারপর?"

"ন্যুডও আছে কিছু।"

"এডিট?"

"না রিয়েল। ন্যুড রিয়েল আর আমার সাথে ভিডিও এডিটেড। এবার ফোন দে।"

অন্তিক একটা জোরে শ্বাস নেই। কোমরে এক হাত রেখে অন্য হাতে কপাল ঘসে। মনে হচ্ছে রাগ দমানোর চেষ্টায় আছে সে।

তারপর আস্তে করে শান্ত ভঙ্গিতে জানালার পাশে গিয়ে তার ফোনটা ছুড়ে মারে কোথাও।

ওটা আর কারো অক্ষত অবস্থায় পাওয়ার চান্স নেই। কারণ ৯ তলা থেকে পড়ে অক্ষত থাকার কথা নয়। সাথে ওদিকে আছে একটা বিশাল পুকুর।

অন্তিককে ফোনটা ফেলে দিতে দেখে ইরফান ছুটে আসে।

"ফোন কেন ফেললি অন্তিক? আমার ফোন তোকে ফেলতে বলেছি?"

সাথে সাথে ইরফানের মুখে একটা ঘুষি মারে অন্তিক। থামেনি সে। একসাথে ১০/১৫ টা ঘুষি দেই।

একেতো নে/শা করা অবস্থায় ছিলো ইরফান, তার উপর সদ্য ঘুম ভেঙেছে। এর মধ্যে অন্তিকের হাতে লাগাতার এতোগুলো ঘুষি একসাথে খেয়ে সে ব্যালেন্স রাখতে পারেনি নিজের। পড়ে যায়। তার কপাল ফেটেছে। ঠোঁট কেটে র/ক্ত বের হচ্ছে। তাও অন্তিককে ফিরতি কোনো আঘাত করেনা। সে জানতো অন্তিক জানলে মার কয়েকটা খেতে হবে। সে মুখ থেকে র/ক্তের থুথু ফেলে হাত দিয়ে ঠোঁট মুছে। তারপর কোনোভাবে নিঃশ্বাস নিয়ে বলে,

"রিল্যাক্স..ওগুলো দিয়ে জাস্ট ভয় দেখিয়েছি। ভাইরাল করার উদ্দেশ্যে না। তুইও জানিস। এতো ক্ষেপে যাওয়ার কিছু নেই।"

অন্তিক ওকে আবার ওভাবে বসে থাকা অবস্থায় একটা লা/তি দেই।

ইরফান লা/তিটা খেয়ে হালকা গুঙ্গিয়ে উঠে। তবে এবারো ফিরতি আঘাত করেনা। বরং আবার হালকা হেসে বলে,

"তবে চু** ভাইয়ের দেওয়া রিং পরলে ভিডিওটা ভরা আসরে ব্লার করে হলেও প্লে করা হতো ফর শিউর।"

ইরফান কথাটা বলার সাথে সাথে অন্তিক ওকে আবার কয়েকটা ঘুষি দেই।

"শালা, জানোয়ার, বা****... তোর যা ইচ্ছে হবে, যা মন চাইবে তাই...?? হ্যাঁ.... এতোটা নিচে নেমে গিয়েছিস, এতোটা? শেষ পর্যন্ত তোশার সাথে..."

আরও কয়েকটা ঘুষি দিয়ে অন্তিক কথাগুলো বলে।

"আমাদের তোশা ইরফান... একটুও বাধেনি তোর?

ইরফান ওভাবেই পড়ে থেকে কোনোভাবে বলে,

"নাহ, অন্য কারো নামে কবুল বলার জন্য প্রস্তুত ছিলো ও। অন্য কারো সাথে ঘর করবে, সংসার করবে, আদর নেবে, শুবে, বাচ্চা পেটে ধরবে, আর আমি বসে বসে দেখবো?

ওর ভাগ্য ভালো এডিট করেছি শুধু, বাস্তবে করিনি।"

অন্তিক নিজেও ওর পাশেই বসেছিলো। ইরফান কথাটা বলার সাথে সাথে আরেকটা থাপ্পর লাগিয়ে দেই ওর গালে।

"শালা বা****, জানোয়ার, তোর জন্য এতোগুলো বছর অপেক্ষা করেছে এটাই তো বেশি। তোর কি মনে হয় জীবনের এতোগুলো বছর পার করেও মেয়েটা বিয়ে করেনি গাঁয়ে হাওয়া লাগাতে? মা***** তোর জন্যই মেয়েটা দিনের পরদিন হাই সোসাইটি থেকে, সম্ভ্রান্ত পরিবার থেকে, ভালো ভালো ছেলেদের আসা বিয়ের প্রস্তাব রিজেক্ট করেছে। বাবা-মাকে বুঝিয়েছে একদিন না একদিন যোগ্য হয়ে, ভালো হয়ে তাদের সামনে দাড়াবি তুই। তোর জন্য নিজের জীবনের এতোগুলো বছর নষ্ট করেছে। নাহলে এতদিনে ২/৩ বাচ্চার মা হয়ে যেতো তোশা। নিজেতো জোর জবরদস্তি করা আর অধিকার দেখানো ছাড়া কিছু করিসনি ওর জন্য। না কখনো ভালোবাসার কথা জানিয়েছিস। তাও মেয়েটা একটা আশায় ছিলো।

ওর বিয়ের কথা উঠলে কিছুটা বোধ আসবে হয়তো তোর মধ্যে। বিয়ে আটকাতে ভালোবাসার কথা জানাবি, নিজের সব দোষ স্বীকার করবি, অন্ধকার জীবন থেকে ফিরে আসবি। কিন্তু তুই আবার সেই নিজের আসল রুপ দেখালি। তোর কি মনে হয় তোশা খুব খুশি খুশি বিয়ে বসতে যাচ্ছিলো? শা/লা তোকে ভালোবেসে জীবনের ৯/১০ টা বছর কাটিয়ে দিয়েছেতো এমনি এমনি, তাইনা? একজনকে বছরের পর বছর ভালোবেসে হঠাৎ করে অন্য কারো সাথে বিয়ে বসা এতোই সহজ? ওর কষ্ট হয়নি? হচ্ছেনা? নিজের ১২ বছরের প্রিয় বন্ধুর থেকে এমন ধোঁকা ও নিতে পারবে? তোকে তো তোশা ভালোবাসতো, এখন আর আগের মতো ভালোবাসা তো দূর, সহানুভুতিটুকু পাবি? এতো সহজ সবকিছু? এতো সহজ?"

ইরফান ফ্লোরে মাথা এলিয়ে শুয়ে পড়েছিলো ছিলো মার খেয়ে। ওভাবেই অন্তিকের কথাগুলো শুনে সে।

"আমাকে যদি ও ভালোইবাসে তাহলে এভাবেই বিয়ে করতে কি সমস্যা?"

সাথে সাথে পায়ে আরেকটা থাপ্পর পড়ে ইরফানের। অন্তিকই দিয়েছে। ইরফানের পায়ের কাছে বসে ছিলো সে।

"মা***কার তুই কোন হলিউডের নায়ক যে তোকে ভালোবেসে যেমন আছিস সেভাবেই বিয়ে করতে হবে তোকে? পরিচয় তো সেই একটাই, নে/শা/খো/র..

তোশা কি বানের জলে ভেসে এসেছে যে, যেকোনো মাতাল-টাতালের সাথে ওর বাবা মা ওকে বিয়ে দিবে? নাকি ভাবছিস তোর বাপের টাকা দেখে ওর কোটিপতি বাবা তোকে নিজের মেয়ে দেবে? বোকা*দা..."

"তার মানে বলতে চাচ্ছিস, আমি একটু ভালো হলেই তোশা আমার থেকে যেতো? অন্য কাউকে নিয়ে ঘর করার কথা ভাবতোনা?"

"এতোদিনে বুঝলি?"

"আগে বলিসনি কেন?"

"তোর বোঝার ক্ষমতা নেই? নিজের ভালোবাসার মানুষের মনের খবর নিজে বুঝিসনা। ছ্যাহ..."

"আমি কি এতোকিছু ভেবেছি নাকি, তোশা তো আমারই।"

"হ্যাঁ। এখনো জেগে জেগে সপ্ন দেখ। তোশা তোর।"

"আমারই.. কাল থেকে আর এসব খাবোনা। এখন আমাকে তোল। তোশাকে এখানে নিয়ে আয়, সাথে একটা কাজীও আনিস। বিয়ে করে নেবো। এমনিতেও অনেক বছর লস গিয়েছে মনে হচ্ছে। কাল থেকে বাবার অফিসও জয়েন করবো।

ওহ.. মিস্টেক। কাল থেকে না। পরশু থেকে জয়েন করবো। আজকেই বিয়ে করে কাল রুম থেকে বের হওয়া সম্ভব হবেনা।"

"ইরফান.... তোর এখনো সব জোক লাগছে? আজকের পর আমাদের তোশাকে আর পাবি? মনে হয় তোর? যা করেছিস এর পরও? একটু অপেক্ষা করা যেতোনা? অন্যভাবে ওর বিয়েটা আটকানো যেতোনা? এসব নোংরামির খুব দরকার ছিলো? সবকিছু ত্যাড়া রাস্তায় পেতেই হবে? একটু সহজ চিন্তা ভাবনা করতে পারিসনা?"

"রিল্যাক্স.... এতোগুলো প্রশ্ন। বেশি সেন্টিমেন্টাল হয়ে যাচ্ছিস। আমাদের ফেলে কোথায় যাবে?"

"আমাদের ফেলে কোথাও যাবে বলছিনা। কিন্তু বন্ধুত্বটা কোথায় গিয়ে দাড়িয়েছে কল্পনাও করতে পারছিসনা তুই।"

"তো এখন কি করতে বলছিস? কিভাবে পাবো আমার তোশাকে?"

"রিহ্যাবিটেশনে যা।"

"হোয়াট?" ইরফান চিল্লিয়ে উঠে।

"ইয়েস, যা বলছি তাই কর। এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত আপাদত।"

"ফা/ক ফা/ক ফা/ক....ফা/ক ইউর সিদ্ধান্ত। দূরে গিয়ে ম/র তুই। আমি আমার তোশাকে যেভাবে পারি নিজের করে নেবো। তুই দূরে গিয়ে ম/র।"

সেদিন ইরফান ঘোর আপত্তি করলেও তাতে কোনো লাভ হয়নি। কারণ অন্তিক যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিয়ে নিয়েছিলো। অন্তিক ইরফানের বাবাকে তার সবরকম কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত করে। ভদ্রলোক অবিশ্বাস করেনি। তিনি অনেক আগেই আন্দাজ করেছেন ছেলে খুব শীগ্রই বড় কোনো অঘটন ঘটাতে যাচ্ছে। কারণ বেশ কয়েকদিন ধরে কারণে কারণে ঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুর করতো ইরফান। আর কাকে জানি অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতো।

উনি বেশ কয়েকবার জানতে চেয়েছেন সমস্যা কি, কিন্তু ইরফান উনাকে কিছুই জানাননি। তবে ছেলের কুকীর্তি শুনে যতোটা না অবাক হয়েছেন, তার চেয়ে বেশি ভেঙে পড়েছেন ছেলেকে অন্তিক রিহ্যাবিটেশনে পাঠাতে চাচ্ছে শুনে।

একটা মাত্র ছেলে উনার। মাসের পর মাস রিহ্যাবিটেশনে পড়ে থাকবে, আর উনি এখানে এসির বাতাসে..ছেলের দুশ্চিন্তায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

অন্তিক ইরফানকে এসব জানায়নি। সে নিজেই ইরফানের বাবার সব দায়িত্ব নেই। আর ইরফানকে তোশার নামে নানান সত্য-মিথ্যা ব্ল্যাকমেইল করে রিহ্যাবিটেশনে পাঠায়।

এর মধ্যে তোশা আরেকটা অঘটন ঘটায়। সে ঐ দিন কোনোভাবে এনগেজমেন্ট আঁটকে দিয়েছিলো ঠিক। কিন্তু পরিবারের নানান প্রশ্ন, ভুল বোঝাবুঝির সম্মুখীন হতে হয়।

তার বাবা মায়ের সাপোর্ট হারায়। একটা পরিবার যতোই মডার্ন হোক, যতোই আধুনিক চিন্তাধারার হোক, তাদের মেয়ে একটা ড্রা/গ এ/ডি/ক্টে/ড ছেলের জন্য এতোগুলো বছর বিয়ে না করে থাকবে, এটা কখনোই মেনে নেওয়া যায়না। তবু ছেলেটা মেয়ের কিশোর বয়সের বন্ধু, আর তাদের নিজেদেরও মেয়ের প্রিয় বন্ধুর প্রতি যথেষ্ট স্নেহ আছে বলে মেয়েকে সাধ্যমতো সাপোর্ট দিয়েছেন।

তার উপর ব্রোকেন ফ্যামিলির ছেলে ছিলো বলে অন্তিকের চেয়ে আলাদা ভাবে স্নেহ করতেন। কিন্তু ছেলেটা যা বিপথে গিয়েছে। এভাবে মেয়ে দেওয়া অসম্ভব। অনেক কষ্ট করে মেয়ের জন্য এই সম্বন্ধ ঠিক করেছিলেন মেয়েকে রাজী করিয়ে। কিন্তু শেষে এমন অসম্মান এনগেজমেন্টের দিন এসে, ভরা আসরে।

তারা নিতে পারেননি। এদিকে তোশাও তার উপর দিয়ে যাওয়া এতো ঝড়, প্রানপ্রিয় বন্ধু আর ভালোবাসার মানুষের বিশ্বাসঘাতকতা কাউকে জানায়নি, জানাতে পারেনি। এতোটা সাহস তার হয়নি। নিজের মধ্যে চেপে রেখে প্রতিনিয়ত ঘুমরে ম/রে/ছে। বাবা মায়ের নিজের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া, প্রিয় বন্ধুর ধোঁকা, সেই প্রিয় বন্ধু যখন আবার ভালোবাসার মানুষ, তার ভালোবাসা স্বীকার করে বিয়ে আটকানোর বদলে এমন প্রতিদান -এতো এতো মানসিক আঘাত প্রাপ্তবয়স্ক তোশা নিতে পারেনি। সুই/সাই/ডাল হয়েছে সে।

অন্তিকও তখন দেখা করতে চাইলে সে আসতোনা। তার বাড়ি গেলে ফিরে আসতে হতো। যদিও সে ইরফানের কারণে যথেষ্ট ব্যস্ত ছিলো, তাই অন্য উপায়ে দেখা করার কথা ভাবলেও তা সম্ভব হয়ে উঠেনি। এমন সময় একদিন তোশা সু/ই/সা/ই/ড এটেম্পট করে।

তার বাবা মা মেয়ের মানসিক অবস্থার এমন পরিণতি দেখে হতবাক। অন্তিক ব্ল্যাংকআউট। ইরফানকে জানায়নি। জানালে পাগলটা কি করবে কল্পনা করতে পারেনা সে।

মাঝরাতে শুনেছিলো অন্তিক এই খবর। সেরাতে তাদের সবার জীবন থমকে গিয়েছিলো। তোশার জীবনটা না ফেরার দেশের দ্বারপ্রান্তে। ওর এই অবস্থায় তোশার বাবা মা নিজেকে দ্বায়ী করে। না, ইরফানকে কেউ দ্বায়ী করেনি। ইরফান আসেনি কেন জিজ্ঞেস করলে সে রিহ্যাবিটেশনে শুনে তারা ভাবে ছেলেটা শুধরে যেতে চাচ্ছে বলেই তাদের মেয়ে বিয়ে ভেঙে দিয়েছে শেষ মুহুর্তে। আর এতে তাদের অবহেলা মেনে নিতে না পেরে মেয়েটা আ/ত্ম/হ/ন/ন করেছে। ইরফানের জন্যই যদি হয় তাহলে কই এতো বছর তো করেনি এমন কিছু... তাদের জন্যই হবে।

তোশার বাবা মা মেয়ের এই অবস্থার দ্বায় নিজেদের কাঁধে নিয়ে ইরফানকে মুক্ত করে।

সেবার তোশা বেঁচে যায়। প্রথম প্রথম কারো সাথে কথা বলতোনা। পরে কয়েক সপ্তাহ কাউন্সিলিং এর পর অন্তিকের সাথে, সবার সাথে হঠাৎ করে একদম স্বাভাবিক আচরণ করে। যেন আগে কিছুই হয়নি। তবে ইরফানের নাম মুখে আনতে শুনা যায়নি।

সে একদিন হঠাৎ বলে সে আর এই দেশে থাকতে চায়না। কানাডা চলে যেতে চায়। এখানে সে পারিবারিক বিজনেসে বাবা চাচাদের সাথে হেল্প করতো। বলা যায় বিজনেস ওমেন।

তোশা জানায় সে কানাডায় জব করবে, আর সেখানেই থাকবে, সেটেল হবে। ওর বাবা মা প্রথমে দ্বীমত করলেও পরে মেয়ের মানসিক হেল্থের কথা ভেবে রাজী হয়ে যায়। ওখানে তোশার বাবার বন্ধুর অফিসে জব করার ব্যাপারটা ঠিক হয়। তবে গিয়েই জব জয়েন করতে মানা করে দেই। কিছুদিন রেস্ট নিতে বলে। তোশাও মেনে নেই। এভাবে তোশা ভীনদেশে চলে যায় অথচ ইরফান রিহ্যাবিটেশনে বসে এর কিচ্ছু জানতে পারেনি, না জানতে পেরেছে তার জন্য তার প্রাণপ্রিয় বন্ধু, ভালোবাসার রমনী কখনো ম/র/তে বসেছিলো।

যখন জানতে পারে তখন রিহ্যাবিটেশনে বসে ভাঙচুর আর মানুষজনকে মেরে জখম করা, গালাগাল করা- এসব ছাড়া আর কোনো উপায় থাকেনা।

মৌনপ্রেম পর্ব ১৮ গল্পের ছবি