মৌনপ্রেম

পর্ব - ১২

🟢

সরোয়ার বাড়ির চারপাশটা খুব সুন্দর। মনোরম আর অভিজাত একটা পরিবেশ। বাগানের দিকে লোহার একটা সাদা রং করা দোলনা আছে। ওটা প্রাণেশার খুব প্রিয়। কারণ এখান থেকে বাগানটা সুন্দরভাবে দেখা যায়। বাগানে খুব সুন্দর সুন্দর ফুল।

ডালিয়া, সূর্যমুখী , অর্কিড, হেলিওট্রপসহ আরো দুই একটা বেশ দুর্লভ দুর্লভ ফুল আছে। এই বাড়ির দুই ছেলে অন্তিক আর দিগন্ত আনিয়েছে এগুলো। এসব প্রাণেশা দিথী আপু আর অয়ন্তিকা আপুর কাছে জেনেছে।

সাদা রং করা লোহার দোলনাটায় বসে প্রাণেশা কোলের মধ্যে তার আর্ট করার খাতাটা নিয়ে তাতে আঁকাআঁকি করছে। এদিক থেকে বাগানের যে ফুলগুলো দেখা যাচ্ছে, সে দৃশ্যটাই ফুটিয়ে তুলছে তার ক্যানভাসে। তার সম্পুর্ণ মনোযোগ ওখানেই।পাশে যে কবে অন্তিক এসে দাঁড়িয়েছে, তা সে বুঝতেই পারেনি।

অন্তিক তার রুমের বেলকনিতে দাড়িয়ে ফোনে কথা বলছিলো। তখনই প্রাণেশাকে দেখতে পায় সে। মেয়েটা দোলনায় বসে মাথা ঝুঁকিয়ে কি যেন করছিলো। সে দোতলা থেকে ঠিক দেখতে পায়নি। তাই প্রাণেশা কী করছে, সেই কৌতুহল থেকে নিচে আসার কথা ভাবে।

কি আজব! মেয়েটা ওকে টানছে, কোনো কথাবার্তা ছাড়াই। মেয়েটা না তার প্রতি আগ্রহ দেখায়, না তো তার সামনে আসে, আর তার সাথে কথাও বলেনা। ওহ! সে তো কথা বলতে পারেওনা।

কিন্তু এতো নির্লিপ্ত থেকেও অন্তিককে কিভাবে টানছে? নাকি অন্তিকই একটু বেশি ভাবছে মেয়েটাকে নিয়ে। হয়তো।

মেয়েটার মধ্যে মাঝে মাঝে সে নিজের অস্থিরতাকে খোঁজে পায়। আর এটাই তার কাছে সবচেয়ে বিরক্তির কারণ। তার এক ধাক্কার সেই অস্থিরতা কি এতই সস্তা নাকি যে যার তার মধ্যে খোঁজে পাবে। কখনো না। তার অস্থিরতা একজনই।

তার মনে হঠাৎ জাগা এই অনুভুতি একমাত্র অস্থিরতার জন্যই বরাদ্দ।

আর কারো জন্য না। অন্তিক ভেবে রেখেছে মেয়েটাকে সে ডিভোর্স দিয়ে দিবে। এখন তাদের বিয়ের এক মাস হয়ে গিয়েছে। আর একটা মাসের মধ্যেই সে চাইলে ডিভোর্স সম্পন্ন করে নিতে পারবে। কিন্তু মেয়েটাকে তার মামা-মামি আর গ্রহণ করবে বলে মনে হয়না। আর বাবা-মাও নেই। তাই একটু সময় নিয়ে বুঝে শুনে সব করার কথা ভেবেছে সে। তিনমাস পর ওকে ডিভোর্স দিয়ে নিজেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করে তারপর অস্থিরতার সামনে দাঁড়াবে সে।

এই ধরণের একটা অতীত যে ছিল ওর জীবনে, তার কোনো চিহ্ন রাখবেনা। সম্পূর্ণ মুছে ফেলবে। তারপর অস্থিরতাকে নিজের জীবনে নিয়ে আসবে। ততদিনে তার অস্থিরতা নাহয় কলেজ শেষ করুক। নিজেকে একটু গুছিয়ে নিক।

এটুকু সময় দেওয়ায় যায়।

নীলয় যখন ফোন করে তার অস্থিরতা সম্পর্কে এ তথ্যটুকু জানিয়েছিল দেশে এসেই, তখনই সে নীলয়কে বলে রেখেছে যেনো সে মেয়েটার সব খবরাখবর রাখে।

খোঁজ যখন একবার পেয়েছে তখন আর তাকে নিয়ে চিন্তা নেই। নীলয় তার দেওয়া প্রতিটা কাজ খুব নিষ্ঠার সাথে করে।

তাই আপাদত এই বিয়েটা থেকে মুক্ত হওয়ার দিন গুণতে হবে।

বিয়ের কথা ভাবতেই আবার সে প্রাণেশার দিকে তাকালো। মেয়েটা এখনো সেভাবেই ঝুঁকে আছে। অন্তিক ভ্রু কুচকে তাকায়। পাগল নাকি মেয়েটা? এতোক্ষণ এভাবে কে বসে থাকে? ঘাড় ব্যাথা করবেনা?

মনে মনে কথাটা আওড়ায় সে। পরক্ষণেই নিজের উপর বিরক্ত হয়। ঐ মেয়ের ঘাড় ব্যাথা হোক, মাথা ব্যাথা হোক কিংবা পুরো শরীর ব্যাথা হোক-তাতে তার কি? সে কেনো মেয়েটার কথা ভাবছে।

অন্তিক ওখান থেকেই প্রাণেশার দিকে বিরক্ত চোখে চাইলো। ভ্রু কুচকে বিরক্ত চোখে ওকে দেখতে দেখতে কখন যে সে দৃষ্টি মুগ্ধতায় পরিণত হয়েছে তা সে বুঝতেই পারেনি।

বুঝবে কি করে। অন্তিক তো ভাবছে মেয়েটার চুলগুলো এতো সুন্দর কি করে! ছোট একটা ক্লিপ দিয়ে দুই দিক থেকে চুলগুলো এনে পেছনের দিকে আটকে রেখেছে। যদিও পেছন থেকে তেমন একটা দেখতে পাচ্ছেনা, কিন্তু তার মনে হলো সামনের দিকে হয়তো কিছু চুল বেরিয়ে আছে।

এই চুলগুলো থেকেই তো সেই পরিচিত ঘ্রাণটা পায় অন্তিক। যেটা তাকে খুব টানে। অন্তিক একটা শুকনো ঢোক গিলে নিজের মনোযোগ সরাতে চাইলো।

কিন্তু পারছেনা। আবার ওর দিকে তাকালো সে। এবার তাকাতেই হঠাৎ কিছু মনে পড়লো তার।

কালই তো ক্লাস না করে ইউনিভার্সিটির বাইরে দাড়িয়ে দাড়িয়ে আইস্ক্রিম খাচ্ছিলো এই মেয়ে। ওদের আশেপাশে তখন আরো কিছু ছেলেমেয়ে ছিলো। এই মেয়ে বান্ধবীর সাথে গল্প করতে এতো ব্যস্ত ছিল যে একটা ছেলে তার ব্যাগে প্রেমপত্র নাকি কিসের একটা কাগজ যে ঢুকিয়ে দিয়ছিল তা সে বুঝতেও পারেনি।

অন্তিকের তখন মন চাচ্ছিলো ঐ ছেলেসহ প্রাণেশা দুজনকেই ঠাটিয়ে একটা চড় মেরে আসতে।

অন্যের বউকে প্রেমপত্র দেই এই ছেলে। বা/স্টা/র্ড একটা। প্রেমপত্র দেওয়ার আগে অবশ্যই জেনে নেওয়া উচিত ছিল মেয়েটা সিঙ্গেল নাকি বিবাহিতা।

একটা মেয়েকে দেখলো, ভালো লাগলো- ওমনি কিছু না জেনে শুনে প্রেমপত্র দিয়ে দিলো। পা/র/ভা/র্ট কোথাকার।

আর এই মেয়েটা? ধ্যান-জ্ঞান হারিয়ে দিন দুনিয়া ভুলে বান্ধবীর সাথে গল্পে মেতেছে।

এদিকে একটা পরপুরুষ যে তার ব্যাগে প্রেমপত্র গুঁজে দিচ্ছে সে হুশটুকু নেই। আবার নিজের স্বামীর দৃষ্টিতেই নাকি অস্বস্তিবোধ করে, গায়ের উড়না ঠিক করে। মুহুর্তটা ভাবতেই অন্তিকের পায়ের রক্ত মাথায় উঠে যাচ্ছে।

তারপর হঠাৎ একমুহূর্ত ওর দিকে তাকিয়ে নিচে নামতে শুরু করে।

কি ভেবে যে অন্তিক প্রাণেশার কাছে যাচ্ছে তা সে নিজেই জানেনা। শুধু মন চাইলো ওর কাছে যেতে। অথচ সে নিজেই প্রাণেশাকে বলে রেখেছিলো যেন তার সামনে না আসে।

———

অয়ন্তি, দিথী আর মেহেরিন ড্রয়িং রুমে বসে টিভি দেখছে। কিচেন থেকে মিসেস আয়েশা আমিন এসে ওদের জিজ্ঞেস করল -

"ইশি আর প্রাণেশা কোথায় রে অয়ন্তি?"

"আমি জানিনা মা। দেখো আছে হয়তো কোথাও?"

"ভাবি বাগানের ওখানে বড় মা। আর ইশি বোধ হয় রুমে। কেন? কিছু বলবে ওদের? আমাকে বলো, আমি ওদের জানিয়ে আসছি।" - দিথী

"না, এমনি জিজ্ঞেস করছি। আজ তো একটাও কলেজ-ইউনিভার্সিটি যায়নি। বাড়িতে বসে কি রাজকার্য করছে তা একটু দেখতে চাচ্ছিলাম।"

ওরা মিসেস আয়েশা আমিনের কথা শুনে হেসে আবার টিভিতে মনোযোগ দেই।

ওদের কথার মাঝেই অন্তিক সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমেছে। সোফাগুলো সিঁড়ির সাথে পেছন মুখো হওয়ায় কেউ খেয়াল করেনি।

———

অন্তিক প্রাণেশার কাছে এসে ওর থেকে এক হাত দূরত্বে দাড়িয়েছে। সাদা শার্ট আর টাউজার তার পরনে। পকেটে হাত গুজে সে প্রাণেশার পাশে দাড়ায়।

মেয়েটা এখনো ওভাবেই মনোযোগ দিয়ে আঁকছে। অন্তিক খেয়াল করে প্রাণেশার আঁকার হাত খুব সুন্দর। না। অসম্ভব সুন্দর। এই তো, এখান থেকে বাগানের ফুল দেখা যাওয়ার ঐ দৃশ্যটা ফুটিয়ে তুলছে মেয়েটা। কি নিখুঁত।

এই মেয়ের যে এতো ভালো আর্ট স্কিল আছে তা জানতোনা। জানবে কি করে? কখনো জানার চেষ্টা করেনি সে প্রাণেশার সম্পর্কে। নামটাই জানে শুধু। ও হ্যাঁ। বিয়ের দিন শুনেছিলো তার বাবা-মা নেই। মামা-মামির কাছে বড় হয়েছে। এতোটুকুই।

সে যায় হোক, মেয়েটার আর্ট স্কিল দারুণ।

মনোযোগ দিয়ে আঁকছে। মাঝেমধ্যে পেন্সিলের শেষ মাথা মুখে দিয়ে হালকা কামড়াচ্ছে। কি যেন দেখছে খাতায়। তারপর আবার আঁকছে।

যে হাতে পেন্সিলটা নিয়েছে ঐ হাতটা অন্তিকের খুব আকর্ষণীয় লাগছে। চিকন চিকন ফর্সা আঙ্গুল। দুই আঙ্গুলের মাঝে পেন্সিলটা নিয়ে একটু ঘুরালো আবার প্রাণেশা। কখনো নাড়ছে।

ক্লিপের একদিক থেকে ছুটে আসা ছোট ছোট চুলগুলো কানে গুজে দিলো সে। মেয়েটা আজও একটা স্কার্ট আর সিল্কের আরামদায়ক থ্রি-পিস্ পড়ে আছে। গলায় উড়না।

এই যে এতোক্ষণ ধরে অন্তিক ওকে খুঁটিঁয়ে খুঁটিঁয়ে দেখছে তা কি সে বুঝতে পারেনি?

কাল তো অতোদূর থেকে তাকানোর পরেও সে অস্বস্তিবোধ করছিলো। আর আজ একদম পাশে এসে দাড়ানোর পরও বুঝতে পারছেনা। নাকি কাল অন্তিকের দৃষ্টিতেই ভেজাল ছিলো? কি জাানি।

"শুধু বান্ধবী আর ক্যানভাসে মনোযোগ দিলে হবে? আশেপাশেও তো একটু তাকানো দরকার। নাহলে কে কখন ব্যাগের মধ্যে প্রেমপত্র গুঁজে দেই, আবার কে পাশে এসে বসে পড়ে- তা তো বুঝতেও পারবেনা।"

প্রাণেশা হঠাৎ এতো কাছ থেকে কারো শব্দ শুনে ভয় পেয়ে যায়। কেপে উঠে সে। পাশে তাকিয়ে দেখতে পায় দোলনায় তার পাশে বসতে বসতে অন্তিকই বলেছে একথা।

সে মনোযোগ দিয়ে আঁকছিলো বলে কখন যে অন্তিক এসেছে আর তার পাশে বসে পড়েছে তা টেরও পায়নি।

কিন্তু প্রেমপত্র গুঁজে দিবে মানে? তাকে আবার কে প্রেমপত্র দিবে? কি বলছে মানুষটা?

সে অবুঝ দৃষ্টিতে অন্তিকের দিকে তাকায়।

অন্তিক তার দিকেই তাকিয়ে ছিলো। প্রাণেশার অবুঝ দৃষ্টি দেখে বুঝতে পারে যে প্রেমপত্রের বিষয়টি তার মাথায় ঢুকেনি।

সে আর বুঝিয়েও দিলোনা।

প্রাণেশার হাত থেকে খাতাটা নিলো সে। দৃশ্যটা দেখলো।

অসম্ভব সুন্দর। খাাতার পৃষ্ঠাগুলো উল্টে এরকম আরো বেশ কয়েকটা মনোমুগ্ধকর চিত্রের দেখা পেল। দেখতে দেখতে হালকা মাথা নাড়িয়ে দুই ঠোঁটের কোণ একটু নিচে নামিয়ে ঠোঁট চেপে বললো,

"উম..সুন্দর।" — তারপর আরেকটা পৃষ্ঠা উল্টিয়ে সেটা দেখতে দেখতে বললো —

"আঁকাআঁকির হাত তো ভীষণ ভালো তোমার। শুধু বুদ্ধিটা হাঁটুতে। এই যা.."

প্রাণেশা এতোক্ষণ চোখ ছোট ছোট করে অন্তিক কি করতে চাইছে তা দেখছিলো। ওর আঁকাআঁকির প্রশংসা করছে দেখে যেই মুখটাকে একটু স্বাভাবিক করবে, ওমনি বেখাপ্পা কথা একটা বলে দিলো।

প্রাণেশা যতোটা না চোখ ছোট ছোট করে ওকে দেখছিলো, একথা শুনে ওর দুচোখ ততোটাই বড় হয়ে যায়।

অন্তিক ওর দিকে তাকালো। মেয়েটা এতক্ষণ চোখ বড় বড় করে হতবম্ব দৃষ্টিতে ওকে দেখছিলো। অন্তিক ওর দিকে তাকাতেই সেই চেহারায় রাগ ফুঁটে উঠে। মেয়েটা দাঁতে দাঁত পিষে রাগ সংবরণ করছে।

নাকের পাটা লাল হয়ে আছে রাগে। অন্তিকের ভীষণ আদুরে লাগলো ওর সেই রাগী চেহারা আর দৃষ্টি। চোখ, মুখ, নাক, ঠোঁঠ — সবখানে দৃষ্টি বুলালো সে।

সে ভাবলো মেয়েটাকে আরেকটু রাগিয়ে দেওয়া যাক। ওভাবেই দৃষ্টি রেখে সে আবার বলে উঠলো —

"তোমাকে না বলেছি আমার সামনে বা আশেপাশে না আসতে? তাও কেনো এসেছো?"

প্রাণেশা অন্তিককে নিজের দিকে ওভাবে তাকাতে দেখে দৃষ্টি সরিয়ে নিয়েছিলো। দাঁতে দাঁত পিষে রাগী চেহারায় সামনে তাকাতেই আবার অন্তিক আরেকটা কথা বলে। সাথে সাথে আবার অন্তিকের দিকে তাকায়। কিন্তু ওর রাগী

দৃষ্টি আবার হতবম্ব দৃষ্টিতে পরিণত হয়।

কিন্তু অন্তিক এবারো থামলোনা।

"তুমি কি আমার বউ হতে চাচ্ছো? বারবার আমার সামনে এসে কি কোনোভাবে এটা বুঝাতে চাচ্ছো যে তুমি আমার সাথে থাকতে চাও? আমার রুমে।"

অন্তিক কথাটা বলে নিষ্পাপ দৃষ্টিতে প্রাণেশার দিকে তাকালো, যেন সত্যি সত্যি সে জানতে আগ্রহী। প্রাণেশা এবার আর অবাক হলোনা। তবে রাগে যেন ওর শরীর জ্বলে যাচ্ছে। কিন্তু অন্তিককে তা বুঝতে না দিয়ে চোখ-মুখ শক্ত করে সেখান থেকে উঠে গেলো। অন্তিক প্রাণেশা চলে যাচ্ছে দেখে ওকে হাত ধরে আটকালো।

"খাতা না নিয়ে যাচ্ছো কোথায়? এটা নাও। আর হ্যাঁ.. সামনের বার থেকে যেন দিন-দুনিয়া ভুলে বান্ধবীর সাথে গল্প করতে কিংবা ক্যানভাসে আকঁতে না দেখি। আশেপাশেও একটু তাকাবে। কোনো পরপুরুষের প্রেমপত্র যেনো আর পাওয়া না হয়। আর আজকে যেভাবে পাশে বসে পড়লাম সেভাবে যেন অন্য কাউকে বসতে না দেওয়া হয়।" — কথাগুলো বলার সময় প্রাণেশা হাত ছাড়িয়ে নিতে চাইছিলো। কিন্তু অন্তিক আরো শক্ত করে ধরে কাছে টেনে নিয়ে বলে। প্রাণেশা শেষে অন্তিকের হাতটা টেনে নিয়ে এক কামড় বসায়।

অন্তিক হাত ছাড়িয়ে নিলে সে দৌড়ে চলে যায় সেখান থেকে। অন্তিক ওর কামড় দেওয়া জায়গায় তাকায়। দাঁত বসে গিয়েছে। তারপর প্রাণেশার দিকে তাকাতেই দেখতে পায় সে দৌড়ে পালাচ্ছে।

অন্তিক দোলনায় গাঁ এলিয়ে ও যেদিকে দৌড়ে চলে গিয়েছে সেদিকে তাকিয়ে কেমন করে যেন হাসে।

—————

মেহেরিন অয়ন্তির রুমে বিষণ্ণ মুখে বসে আছে।

দিথী তখন তার বড় মামী অর্থাৎ আয়েশা আমিনকে ভাবি বাগানের ওখানে আছে বলার পর সে ভাবে প্রাণেশার সাথে একবার কথা বলবে। ভালো-খারাপ কোনোকিছু বলবে ভেবে যায়নি। এমনিই কথা বলতে মন চাইছিলো মেয়েটার সাথে।

টিভিতে যে শো-টা দেখছিলো ওরা, সেটা একটু পর শেষ হলে সবাই উঠে যায়। তখন সে ভাবে প্রাণেশার সাথে এখনই কথা বলা যাক নাহয়।

এই ভেবে ওখানে যায়। কিন্তু ওখানে গিয়ে তার ভঙ্গ হৃদয়টা আরো একবার ভেঙ্গে তারপর এসেছে। মেহেরিন বাড়ির সবার কাছে শুনেছে অন্তিক ভাই বিয়েটা মানেনা। একথা শুনে মনে হচ্ছিলো যেন তার মরুভূমির মতো উত্তপ্ত হৃদয়ে এক পশলা বৃষ্টি নেমেছে। কিন্তু সবার ধারণা ভুল, তা সে নিজের চোখে দেখে এসেছে। অন্তিক ভাই প্রাণেশাকে কিভাবে হাত ধরে টেনে কাছে এনেছিলো তখন। প্রাণেশা না চাইলেও ওকে ধরে রেখেছিলো। এভাবে যদি একবার মেহেরিনকে কাছে টেনে নিতো? কিন্তু সেসব শুধু কল্পনাতেই সম্ভব। ইশ! তার হৃদয়টা এভাবে জ্বলছে কেনো।

মৌনপ্রেম পর্ব ১২ গল্পের ছবি