বৈশাখের গরমে অশান্ত হয়ে আছে প্রকৃতি। এই অশান্ত গরম কে কমাতে দুপুরের রোদ পড়ে গেছে ঘন্টা খানিক আগে। প্রকৃতিকে শান্ত করতে ঠান্ডা হাওয়া বইছে চারদিকে , সন্ধ্যার দিকে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামবে বোধহয় । বৈশাখ মাসে এই এক শান্তি হঠাৎ হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় এসে ধরনীতে এক পশলা বৃষ্টি দিয়ে যায় । এই এক পশলা বৃষ্টি প্রকৃতির সাথে সাথে মানুষের মনে ও শান্তি এনে দেয়।
-------
দুপুরের খাবার শেষ করে শপিং করার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গেছে চৌধুরি পরিবার। আশতাফ চোধুরি অফিসে আর আশরাফ চৌধুরি ও আফতাব চৌধুরি অফিসের কাছে ঢাকা গেছেন। তানভীর তিন দিন ছুটি পাবে অফিস থেকে তাই বুধবার , বৃহঃস্পতিবার আর শনিবার ছুটি নিয়েছে। তাই আবরার আর ইরফান গেছে মেয়েদের সাথে শপিং এ।
আধ ঘণ্টা থেকে পুরো শপিংমল ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিন জা একজনের শাড়ি পছন্দ হয় তো আরেকজনের পছন্দ হয় না। তাই ঘুরেই চলেছেন , তাসপি আর তিহু সবার সাথে শাড়ি, লেহেঙ্গা দেখাদেখি করলেও ইনায়া তার ব্যতিক্রম সে ঘুমে জিমুচ্ছে । দুপুরে খাবার খেয়ে ভাত ঘুম দেওয়া অলসে মেয়েটা আজ না ঘুমাতে পারার জন্য ঢুলছে। হাত নরম তুলতুলে হাত টা আবরারে হাতের মুঠোয় বন্দি। তার এই অবস্থা দেখে আবরার আপন মনে এক পশলা হেসে উঠে । তারপর সবার উদ্দেশ্য বলে ;
--" আম্মু - মামনি তোমরা সবাই কেনাকাটা করে নেও । আমি অন্বি কে নিয়ে শপিংমলের রেস্টুরেন্ট এ বসছি। শপিং শেষে আমায় কল দিও বিল পে করে দিবো।"
--" ইনায়ার জন্য এখনো কিছুই কেনা হয়নি আব্বা ।"
--" হ্যাঁ রে আবরার, তুই বরং ওকে ওয়াশরুম থেকে চোখ-মুখে পানি ছিটিয়ে নিয়ে আয়।"
মা-মামনির কথায় বাদসাধে আবরার। কিছুক্ষণ চুপ থেকে কিছু একটা ভেবে বলে উঠে সে।
--" ওর জন্য তোমরা পছন্দ করে কিনে নিও। এমনিতেও সারাবছর তোমরাই পছন্দ করে কিনে দেওয়া লাগে ।"
কাউকে আর কোনো কথা বলতে না দিয়ে ইনায়ার হাতটা শক্ত করে ধরে হাঁটা দেয় আবরার।
শপিংমলের দু'তলার রেস্টুরেন্ট এ ইনায়াকে নিয়ে বসে আবরার। আবরারের পাশে সোফায় বসে কাত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে ইনায়া। আর তার দিকে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে আবরার। হঠাৎ নিজের বাহুতে কারো ঠান্ডা হাতের আঁকড়ে ধরায় আবরারের ধ্যান ভাঙে। চোখ নামিয়ে হাতের দিকে তাকিয়ে দেখে ইনায়া দু'হাতে তার বাহু জড়িয়ে কাঁধে মাথা রেখে শান্তিতে ঘুমোচ্ছে। কি সিগন্ধ লাগছে মেয়ে টাকে , আবরারের তখন কি হলো কে জানে ! ইনায়ার দিকে তাকিয়ে থেকেই নিজের ওষ্ঠ জোড়া তার কপলে ডাবিয়ে দেয়। নিজের হাতটা ছাড়িয়ে বুকের সাথে মিশিয়ে নেয় ইনায়াকে , কি যে সুন্দর লাগছিলো তখন এক জোড়া প্রেমিক যুগলকে।
--" আরে আবরার না ?"
কারো ডাকে ইনায়ার থেকে চোখ সরিয়ে পিছনে তাকায় আবরার।নিজের ছোটো বেলাকার বন্ধু সামিন কে দেখে হেসে উঠে আবরার। হাত নেড়ে কাছে ডাকে সামিন কে।
--" কি অবস্থা তোর আবরার ?"
--" এইতো আলহামদুলিল্লাহ। তোর কি অবস্থা?"
--" এইতো আলহামদুলিল্লাহ। পাশে কে ভাবি ?"
সামিনের কথায় ইনায়ার দিকে ফিরে আবরার । হাল্কা হেসে উঠে , মাথা নাড়ায় আবরার ; ওর কথায় এক্সসাইটেড হয়ে সামনের সোফায় বসে পড়ে সামিন।
--" এটা কিন্তু একদম ঠিক হয়নি আবরার। আমি তোর বন্ধু, ভাই , জানের জিগার আর তুই আমাকে না বলেই বিয়ে করে ফেললি ? শুধুমাত্র একবছর দেশের বাইরে ছিলাম তাই?আমি কিন্তু খুব কষ্ট পেয়েছি।"
এক নিঃশ্বাসে সামিনের বলা কথা গুলো শুনে হেসে উঠে আবরার ; এই ছেলেটার এখনো বাচ্চামো স্বভাব গুলো যায়নি ।
--" তোর বলা সব কথাই ভুল ।"
-- " মানে ! তুই জানিস আরবার? তোর করা গুলি মিস যেতে পারে কিন্তু আমার ধারণা মিস যাবে না। "
--" আচ্ছা ? তা পীর সাহেব কাইন্ডলি বলেন তো ইনায়া আমার বউ হবে কবে ? "
আবরারের কথায় সোফায় দু'পা তুলে একহাত হাঁটুতে রেখে অন্য হাত উঁচিয়ে সামিন বলে ,,
-- " আবরার ভৎস আগামী কাল ই ইনায়া মা তোমার বউ হয়ে যাবে।কিন্তু,
--" কিন্তু কি বাবা ?"
-- " তোমার বাসর করার স্বপ্ন স্বপ্ন ই থেকে যাবে।"
কথাটা বলেই বা চোখটা মারে সামিন।
ওর কথা বলার ভঙ্গিমা দেখে কপালের মাঝ বরাবর ভাঁজ ফেলে হেসে উঠে আবরার ; তার সাথে তাল মেলায় সামিন । তাদের হাসির শব্দের জেগে ওঠে ইনায়া ; নিজেকে আবরারের বাহুতে আবিষ্কার করে অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে সে। হুটোপুটি শুরু করে আবরারের বক্ষ বিভাজন হতে ছাড়া পাওয়ার জন্য ; ইনায়া নড়াচড়া অনুভব হতেই নিজের হাতের বন্ধনী হাল্কা করে ছেড়ে দিয়ে , নিজেও অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে আবরার । তার থেকে মুক্তি পেয়ে আইঁ - টাই করে উঠে ইনায়া। ইনায়া আর আবরারের অবস্থা বুঝতে পেরে কথা বলে উঠে সামিন।
--" কি অবস্থা ইনায়া?"
কারো ডাকে সামনের দিকে তাকিয়ে সামিন কে দেখে হেসে উঠে ইনায়া। তার পর সোজা হয়ে গোল-গাল ঠোঁট দুটি নাড়িয়ে উত্তর দেয়,,
--" জ্বি ভাইয়া ভালো । আপনি?"
-- " এত্তক্ষণ ভালো ছিলাম না, এখন আছি। এমন বুড়ো একটা আংকেলের সাথে বসে থাকতে কার ভালো লাগে বলো ?"
নিজের ফেইসটাকে ইনোসেন্ট করে কথাগুলো বলে সামিন । তার মুখের অবস্থা দেখে খিলখিলিয়ে হেসে উঠে ইনায়া ; তার সাথে সামিন নিজেও তাল মেলায় ।
-- " ঠিক বলছেন ভাইয়া।"
ওদের কথা বলার মাঝেই আবরারের ফোনটা বেজে উঠে। পকেট থেকে ফোনটা নিয়ে দেখে মাহমুদা বেগম কল দিয়েছেন , ফোন টা কানে ধরে আবরার । কথা শেষ করে ইনায়ার হাতটা নিজের হাতে আবার পুরে নেয় আবরার; তার পর সামিন থেকে বিদায় নিয়ে হাঁটা দেয় তারা ।
--" আবরার ভাই আমরা কোথায় যাচ্ছি?"
--" মরতে যাবো , যাবি?"
--" আমার এতো সকাল মরার ইচ্ছে নেই। তবে আপনি চাইলে আমি আপনাকে এগিয়ে দিচ্ছে।"
--" আমার না তোর সাথে মরার খুব ইচ্ছেরে অন্বিতা ! এখন কি করি বল ?"
হাস্কি টোনে কথাটা বলেই আবরার ইনায়ার দিকে তাকায় ; ইনায়া আগে থেকেই আবরারের দিকে তাকিয়ে থাকার দরুণ দু'জনের চোখাচোখি হয়।ইনায়া চটপট করে চোখ নামিয়ে ফেলে। বলে উঠে ;
--" ভাইয়া আমি তো কিছুই নিই নি ?"
--" আমি মামনি কে বলে দিয়েছি তোর জন্য কেনাকাটা করে নিতে। "
সামনের দিকে তাকিয়েই কথাটা বলে আবরার।