সে আমার পূর্ণতা

পর্ব - ৫

🟢

ধরনীতে বর্তমানে ঝড় - বৃষ্টি না হলেও বিনা মেঘেই ইনায়ার মাথায় বজ্রপাতে পড়েছে। ইচ্ছে করছে আবরার কে মাথায় উঠিয়ে আছাড় মারতে। নিজের মনে মনে আবরারকে হাজারটা গাল - গল্প দিচ্ছে।

--" হিটলার নিজে নিজের মতো থাকবি আমাকে আমার মতো থাকতে দিবি না। কাল থেকে বিকেলে তোর আর তিহুর টিচার আসবে রেডি থাকবি।"

মনে মনে কথা গুলো ভাবছে আর আবরারের গুষ্টি উদ্বার করছে ইনায়া। তখন আবরার এসে ইনায়াকে প্রাইভেট টিচারের কথাটা বলে যাওয়ার পর থেকেই ইনায়া আবরারের গুষ্টি উদ্ধারে নেমেছে। আবরার সাথে আরো বলেছে যে প্রতিদিন কলেজে না গেলে মামনিকে বলে রাস্তার মোড়ের চা দোকানদারের সাথে ইনায়ার বিয়ে দিয়ে দিবে। যেহেতু পড়বে না তাই বিয়ের পর চা- ওয়ালা মামার সাথে গিয়ে চা বিক্রি করুক ।

-------

দুপুর থেকেই আকাশে মেঘ জমতে শুরু করেছে। গরমের দুপুরের রোদ পড়ে এখন ঠান্ডা হাওয়া বইছে চারদিকে। সকালের সেই শরীরের মাংস জ্বলসানোর মতো রোদ এখন আর নেই । যেকোনো সময় ঝমঝমিয়ে মেঘ বৃষ্টি হয়ে নামবে ধরনীতে।

অফিসের কাজে কুমিল্লার বাহিরে ইনায়ার বাবা ও চাচ্চু। আশতাফ চৌধুরি আর আবরার অফিসে। তানভীর ও তার অফিসের কাজে ঢাকা গেছে। আর ইরফান বন্ধুদের সাথে ট্যুরে গেছে কাল। বাড়ির তিন গিন্নি তাসপি আর তিহুকে নিয়ে মেঘা বেগমের মাকে দেখতে গেছে তার বাবার বাড়িতে। কয়েক দিন ধরে তিনি অসুস্থ। সময়-সল্পতার জন্য এতোদিন যেতে পারেনি। মাহমুদা বেগম মেঘা বেগম কে অনেকবার যেতে বললেও তিনি দুই জা রেখে যাবেন না।তাই আজ সময় মিলতেই একসাথে তিন জা বেরিয়ে পড়েন।

বাসায় মানুষ বলতে এখন ইনায়া একাই আছে। দুপুর থেকে ঘুমিয়ে একটু আগেই উঠে পড়েছে। তাই এখন সে ছাদে গেছে তার গাছ গুলো পরিচর্যা করতে। শেষ পাঁচ দিন আগে একটু পানি দিয়ে ছিলো আয়েশা বেগম। এই পাঁচ দিনে ছাদে ইনায়ার দুবার যাওয়া হলেও গাছের যত্ন তার নেওয়া হয়নি।

বৃষ্টির আগের আকাশ

শেষ বিকেলের দিকে বৃষ্টি শুরু হয়। সন্ধ্যায় হুট করেই তা বেড়ে ঝড় শুরু হয়। তার জন্য মেঘা বেগমরা ও আর ফিরতে পারেনি বিকেলে। তাদের আনতে আশতাফ চৌধুরি গিয়ে তিনিও আটকে গেছেন।

শরীরটা ভালো লাগছিলো না বলে বিকেলে আবরার বাসায় চলে এসেছে।তাই আশতাফ চৌধুরি ই তাদের আনতে যান । ইনায়ার মা আয়েশা বেগম মাএ ফোন দিয়ে তা জানালেন ইনায়াকে।

ঝড়ের কারণে সন্ধ্যায় কারেন্ট চলে গেছে এখন আসেনি। আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে।এদিকে ক্রমশ বৃষ্টির ছাঁট ও বাড়ছে। ভীতু ইনায়া কি করবে ভেবে না পেয়ে আবরারের ঘরের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সংকোচের আর ভয়ের কারণে নক করতে পারছে না ।

হঠাৎ করে দরজা খুলে রুম থেকে আবরার বের হওয়ায় ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায় ইনায়া। আবরার কে দেখে কিছুটা পিছিয়ে যায় সে। তা দেখে ইনায়ার দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে আবরার। অনেকক্ষণ কেটে যাওয়ার পর ও যখন ইনায়া কিছু বলে না তখন আবরার নিজেই জিজ্ঞেস করলো।

--" কিছু বলবি অন্বিতা?"

ইনায়া মাথা উঠিয়ে আবরারের দিকে তাকায়। আবরার তাতে ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে। ইনায়া জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বলে ; আসলে একা ভয় করছে ঘরে থাকতে ভাইয়া ; আবরার তখনো ভ্রু কুঁচকে ই রেখেছে।ইনায়ার কথা শুনে শীতল চোখে তাকিয়ে ইনায়াকে একবার গোটা পরোখ করলো আবরার।

তুই ঘরে যা আমি ড্রয়িং রুমে আছি ; বলেই সিঁড়ি দিয়ে নেমে যায় আবরার,,,,,,,

Story Cover