আবরারকে চুপ দেখে ফের ইনায়া কাঁপা কন্ঠে বললো।
--" আবরার একটু জড়িয়ে ধরবেন আমায়? খুব ইচ্ছে করছে আপনার বুকের ভেতর নাক ডুবিয়ে শরীরে আপনার গায়ের সুভাষ মাখতে।"
--" বউ , তুমি কথা গুলো নিশ্চয়ই জ্বরের ঘোরে বলছো?"
--" না আবরার , আমি ঠিক আছি।"
--" সিউর?"
--" ইয়েস "
ইনায়া সায় পেয়ে চেয়ার থেকে লাফ দিয়ে উঠে পড়ে আবরার। ইনায়ার পাশে বিছানাতে বসে ইনায়ার পিঠের পেছনে হাত দিয়ে উঠিয়ে নেয় নিজের বুকে। শক্ত করে জড়িয়ে বুকের কোঠায় লুকিয়ে রাখতে ব্যর্থ চেষ্টা চালায়। আবরার জড়িয়ে ধরতেই ইনায়া ও জড়িয়ে নেয় দু'হাতে। এক পবিত্র ছোঁয়া। যেই ছোঁয়াতে নেই কোনো পাপ বা কামুকতা। আছে শুধু দুটো পবিত্র হৃদয়ের স্পর্শ।
ইনায়া নাক টেনে বুক ভরে শ্বাস নিলো। এইতো তার সেই চেনা সুভাষ। ভালোবাসার মানুষের সংস্পর্শে এলে অসুখেরা ও যেনো লজ্জায় মুখ লুকিয়ে দেখে তাদের এই সিগ্ধ মূহুর্ত। আবরার ওর চুলে মুখ গুঁজে সুধালো:-
--" বাই এনি চান্স তুমি কি আমার প্রেমে পড়ে যাচ্ছো বউ।"
--" কে বলেছে আপনাকে?"
--" অবশ্য পড়লেও আমার কোনো সমস্যা নেই। "
--" কি দেখে আপনার প্রেমে পড়তে যাবো আমি হু?"
--" আমার সৌন্দর্য!"
আবরারের কথায় ওর বুক থেকে মুখ তুলে ভেঙছি কাঁটে ইনায়া।
--" আসছে আমার রাজকুমার।"
--" ভুল বলেছো , রাজকুমার না রাজা। দ্য কিং ইজ ইয়োর ওনলি কিং।"
--" হু "
ওদের কথার মাঝেই ইনায়ার ফোনটা বেজে উঠলো। আবরার বুক থেকে মুখ তুলে ফোনটা হাতে নেয় ইনায়া। এরই মাঝে কারেন্টটাও চলে এসেছে।
তিহু ভিডিও কল দিয়েছে দেখে উঠে বসে ইনায়া। কলটা রিসিভ করে ফোনটা সামনে এনে সালাম দিলো।
--" আসসালামু অলাইকুম।"
--" ওয়ালাইকুম সালাম। কি অবস্থা তোর ইনু ?"
--" এইতো আলহামদুলিল্লাহ। তোর?
--" আলহামদুলিল্লাহ ভালো। তোর গলাটা এমন শোনাচ্ছে কেন?"
--" সন্ধ্যায় একটু জ্বর এসেছিলো তাই।"
--" কি বলিস? জ্বর কিভাবে আসলো?"
অপ্রস্তুত হাসলো ইনায়া। পাশে বসে থাকা আবরারের দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকালো সে।
--" ওই মানে আরকি .....!"
--" কি ওই মানে টানে করছিস? সত্যি করে বল।"
--" বৃষ্টিতে ভিজে ছিলাম তাই।"
--" তোর সাহস আছে ইনায়া। আবরার ভাইয়ার চোখ ফাঁকি দিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে জ্বর বাঁধিয়েছিস।"
--" সত্যিই বলেছিস আমি এখন আর তোদের আবরার টাবরার ভাইকে ভয় পাই না।"
--" জানি জানি ,জ্বরের ঘোরে উল্টো পাল্টা বকা তোর ছোটো বেলা থেকেই অভ্যাস। তা এমন পাড়ার মোড়ের পাগলীর সেজে বসে আছিস কেন?"
তিহুর কথায় ফোনটা বিছানায় রেখে চুল গুলোতে হাত খোঁপা করে নিলো ইনায়া। চুল বাঁধা শেষে ফোন মুখের সামনে ধরতেই কপাল কুঁচকে নেয় তিহু।
--" ফোনটা একটু ডানে ঘুরা তো ইনায়া।"
--" পারতাম না।"
--" ঘুরা বলছি !"
বিরক্তির সাথে ফোনটা ঘুরায় ইনায়া। ফোন ঘুরিয়ে কর্কশ শব্দে প্রশ্ন করে তিহুকে।
--" ঘুরিয়েছি ফোন তো কি হয়েছে?"
--" বাহ্ রে ইনায়া ! আমাকে ছাড়া বিয়ে তো করলি। শেষমেশ বাসর টাও সেরে ফেললি? ছিঃ "
--" চোখ টা কি এবার পুরোপুরিই খেলি?"
--" আমি চোখ খাই নি। তোর গলায় ওটা কিসের দাগ তাহলে বল?"
--" পোকা .... পোকা কামড়েছিলো বিকেলে।"
--" ঠিকই বলেছিস , কিন্তু সেই পোকার নাম অরিন্দম চৌধুরি আবরার।"
তিহুর কথায় চোখ বড় বড় করে ফেলে আবরার। ছোটো বোনের মুখের নিজের বাসরের গল্প কোনো ভাইয়ের হজম হবে না। তাও আবার যদি চুপ চাপ বসে শুনতে হয়।
গলা পরিষ্কার করলো সে। তারপর দাঁড়িয়ে ইনায়াকে ডাকলো। আবরারের কন্ঠ পেয়েই জিভে কামড় বসায় তিহু।
--" আচ্ছা রাখি ইনায়া। কাল কথা হবে। ভালো ভাবে ওষুধ খেয়ে সুস্থ হয়ে যাস।"
--" আরে কি বলছিস? মাএ না তুই আবরার ভাইকে কি বলবি ভাবছিলি? এইতো উনি , বল।"
--" শয়তান মহিলা কল কাটলাম আমি।"
দাঁতে দাঁত চেপে কথা গুলো বলে ফোন কেটে দেয় তিহু। সস্হির শ্বাস নেয় আবরার। ইনায়া ওদের দুজনের কান্ড দেখে হাসছে। ইনায়াকে হাসতে দেখে মুগ্ধ চোখে তাকায় আবরার।
--" বেলি ফুলকে মন মরার মানায় না বউ। তাদের শুধু হাসতে দেখলেই ভালো প্রেয়সী।"
--" আগে বাঁচতাম না আপনার বকার জ্বালায়। আর এখন বাঁচবো না আপনার প্রেমের ঠেলায়।"
উল্টো দিকে ঘুরে ড্রয়িং রুমের উদ্দেশ্যে হাঁটা দেয় আবরার। যেতে যেতেই উত্তর টা দেয় ইনায়াকে।
--" সবে তো শুরু বউ! এখনো আমার ছানাপোনা এই গ্রহে আনার প্ল্যান করতে হবে।"
কথা শেষে পেছন ফিরে চোখ টিপ্পনী কাটতে ভুলে না সে।
---------------
ঝড়-বৃষ্টি থামতেই ভিজে জুবু - থুবু হয়ে ঘরে ঠুকলেন আশতাফ , আশরাফ চৌধুরি, আফতাব চৌধুরি আর তিন জা। হাতে কতো গুলো শপিং ব্যাগ। ব্যাগ গুলো কিছুটা ভিজে গেছে।
ইরফান , তানভীর , আর তিহু যার যার ঘরে। ড্রয়িং রুমের ঝাড়বাতি টা জ্বালানো। হালকা লাল আলোতে মোহাচ্ছন্ন হয়ে আছে ঘরটা।
মাহমুদা বেগম রহিমা খালাকে পাঠালেন ওদের তিনজন কে ডেকে আনতে। তিনি আদেশ পেতেই ছুটলেন উপরে।
এই সুযোগে ওনারা যে যার ঘরে গিয়ে পোশাক পাল্টে নেন। বৃষ্টিতে ভিজার দরুণ বেশিক্ষণ ভিজে পোশাকে থাকলে আবার জ্বর বাঁধতে পারে। যা এখন কোনো গিন্নিই চাইছেন না।
ইরফান ঘর থেকে বেরোতেই তানভীরের মুখোমুখি হলো।
--" ইরফান কোথায় ছিলি আজ সারাদিন?"
--" বাড়িতেই তো ছিলাম।"
--" তাহলে বল আম্মুরা বিকেলে কোথায় গিয়েছিলো?"
--" তোমার জন্য বউ দেখতে। আর আমাদের জন্য ভাবি।"
ইরফানের কথায় তেঁতে উঠে তানভীর। মুখ বাঁকিয়ে উত্তর দেয়।
--" আমার জীবনের দফা রফা করার দেখছি তোর খুব শখ। বলবো নাকি সবাইকে যে তুই আর তিহু প্রেম করিস।"
--" বলো বলো। বউ ছাড়া আর একা ঘুমাতে ভালো লাগে না। তোমার জন্যই তো রাস্তা ক্লিয়ার হচ্ছে না।"
--" বাহ রে দুনিয়া। বড় ভাইয়ের সামনে প্রেম করছে আবার বুকের পাটা ফুলিয়ে বলছিস ও?"
--" তোর আর তিহুর মধ্যে যদি আজকে ঝিঙ্গা লালা না লাগিয়েছি তাহলে আমার নাম ও তানভীর না।"
--" ঝিঙ্গা লালা আবার কি ভাই?"
--" লাগলেই বুঝবি ছোটো ভাই।"
দুই ভাই কথা বলতে বলতেই ঘর থেকে বেরোয় তিহু। ওদের এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলতে দেখে পাশে এসে দাঁড়ালো।
--" কি নিয়ে কথা বলছো তোমরা?"
--" আসলে ইরফানের আমাদের পাড়ার শাপলা কে পছ.....।"
বাকি কথা শেষ করার আগেই পেছন থেকে তানভীরের মুখ চেপে ধরে ইরফান।
--" ওটা আমাদের মধ্যেকার কথা তুই নিচে যা তিহু।"
--" আ...রে....না তিহু...দাঁড়া।"
--" এমন করছো কেন তোমরা? ছাড়ো ভাইয়ার মুখ।"
--" এতো কিছু তোর ভাবতে হবে না। আম্মুরা নিচে ডাকছে জলদি যা।"
ওদের কথার দিকে কান না দিয়ে নিচে চলে যায় তিহু। এখনো সিঁড়ির পাশে ধস্তাধস্তি করছে ইরফান, তানভীর।