--" আস্তে করুন মিসেস ইরফান ব্যথা লাগছে!"
--" এই জন্যই বলেছিলাম ডক্টরের কাছে যান।"
--" সমস্যা নেই শেষ করো।"
উদোম শরীর বসে আছে ইরফান। পিঠের কাঁটা জায়গাতে ড্রেসিং করে ব্যান্ডেজ করে দিচ্ছে তিহু। রাস্তাতেই যেহেতু রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে গেছে।তাই রক্ত গুলো শুকিয়ে জমাট ধরে আছে। সেটা তুলতে গিয়েই নাস্তানাবুদ হতে হচ্ছে তিহুকে।
--" তখন আমার কথা শুনলে এখন কষ্ট পেতে হতো না আপনাকে।"
--" তুই কষ্ট না দিলেই তো হয়?"
--" আমি আপনাকে কষ্টে দেই?"
--" আমি তা বললাম নাকি?"
--" একদম কথা ঘুরানোর চেষ্টা করবেন না। আপনি নিজে নিজের ব্যান্ডেজ করে নিন।"
তিহু উঠতেই ওর হাত টেনে ধরে ইরফান। উল্টো পেঁচিয়ে টান মেরে পাশে বসিয়ে দেয়। ফের ওর ঘাড় পেঁচিয়ে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো ইরফান। অন্য দিকে মুখ করে বসে আছে তিহু।
--" কথায় কথায় এতো রাগ করিস কেন?"
--" হ্যাঁ এখন তো আমার সাধারণ কথাকে ও রাগ মনে হবে!"
--" কি হয়েছে সেটা তো বলবি?"
--" ওইদিন এমন ব্যবহার করেছিলেন কেনো?"
--" ওই সিয়ামের সাথে তোকে কথা বলতে দেখে। ছেলেটার ইনটেনশন ভালো না।"
--" তো তাতে আমার কি ? "
--" কিছু না বাকি ড্রেসিং টুকু করে ভাগ।"
--" তিহু এই তিহু কই তুই?"
মেঘা বেগমের ডাকে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে তিহু। র্টি-শার্ট টা পাশ থেকে নিয়ে ঝট করে পরে ফেললো ইরফান।
--" মামনি তিহু আমার ঘরে!"
--" এই মেয়েটাকে সেই কখন থেকে ডেকে সারা বাড়ি মাথায় তুলছি আর ও এখানে?"
--" বলো মা ডাকছিলে কেন?"
--" তিনটা বাজে জলদি গিয়ে গোসল টা করে খেতে বস। তো টিচার আসলো বলে।"
--" এইতো যাচ্ছি।"
--" ইরফান তুই ও শাওয়ার নিয়ে জলদি নেমে আয় তোদের খাবার খাইয়ে আমি আর ছোটো আপা আবার বাহিরে যাবো।"
--" কোথায় যাবে একসাথে দু"জনে?"
--" সিক্রেট পরে জানতে পারবি। দু'জনে নিচে আয় দশমিনিটের মধ্যে।"
মেঘা বেগমের কথায় তিহু নিজের ঘরে চলে যায়। ইরফান কাবার্ড থেকে তাওয়াল আর র্টি-শার্ট নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়ে।
---------------
বাহিরে ঝড় হচ্ছে । ধরনীর তান্ডবে গাছ গুলো একবার এদিক টলছে তো একেবার ওদিক। ঝড়ের এই টান্ডবে উত্তাল হয়ে উঠেছে প্রকৃতি। শো শো বাতাসে চারপাশের ধূলিকণা এসে ঘরে জড়ো হচ্ছে। তার সাথে খানিকক্ষণ আগ থেকে আরেকধাপ যোগ হয়েছে আকাশের বজ্রপাত।
বিছানায় কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে ইনায়া। তার পাশেই আধ শোয়া হয়ে শুয়ে আছে আবরার। একটু আগে ইলেক্ট্রিসিটি চলে গেছে। আজ রাতে আর আসবে কিনা তার ও ঠিক ঠিকানা নেই। ল্যাপটপে অফিসের কাজ করছে আবরার। মুখে চেয়ে আছে গম্ভীরতা। চোখে পরা চশমা টা আরেকটু ঠিক করে পাশে শুয়ে থাকা ইনায়াকে একবার পরোখ করে।
আবরারের দিকে মুখ দিয়ে ঘুমিয়ে আছে সে। চোখ মুখ লাল হয়ে আছে জ্বরের তোপে। ঠোঁট গুলো যেনো লাল টমেটো। কপালে হাত চেপে জ্বর আছে কিনা দেখলো আবরার। তারপর বেড সাইড থেকে থার্মোমিটার টা নিয়ে আরেকবার জ্বরটা মেপে নিলো সে।
কি একটা শরীর নিয়ে জন্মালো এই মেয়ে। সামান্য একটু আদরেই জ্বর বাঁধিয়ে বিছানায় লেপ্টে গেছে। ফাইনাল ডোজ দিলে তো মনে হয় আবরারের আর সংসার করা লাগবে না। হসপিটাল টু বাসা বাসা টু হসপিটালেই দৌড়াদৌড়ি করতে হবে।
ল্যাপটপ টা পাশ টেবিলে রেখে বিছানা থেকে নেমে পড়ে আবরার। কিচেন থেকে বাটি ভর্তি পানি আর নিজের রুমাল টা নিলো। ফের ইনায়ার পাশে চেয়ার টেনে বসে। কাঁথা টা কপাল থেকে সরিয়ে চুমু খায় কপালে। কাঁথা সরাতেই উন্মুক্ত হয় ইনায়ার গলা।
শুভ্র সুন্দর গলাটা কালচে দাগে ভরে গেছে। জায়গায় জায়গায় রক্ত জমাট বেঁধে আছে। ব্লাউজের গলাটা আরেকটু নামালো আবরার। নিজের কাজের জন্য নিজেই অনুতপ্ত সে। টলমল করে উঠে আবরারের চক্ষু জোড়া।
--" আমি দুঃখিত বেলী। এতো বছরের ভালোবাসা একসাথে যে এভাবে তোমাকে কাবু করবে জানতাম না। সর্বোচ্চ ভদ্র , শান্ত থাকার পর ও এতোটা লেগেছে , শিট।"
নাক টেনে চোখ মুছে নেয়। কাঁদলে তার বেলীর কষ্ট কমবে না। রুমাল টা ভিজিয়ে চিপকে ইনায়ার কপালে জলপট্টি দেয়। অপর হাতে ফোনটা নিয়ে কিছুক্ষণ স্ক্রল করে আবার বালিশের পাশে ছুঁড়ে মারে। ভালো লাগছে না কিছু।
জলপট্টি দেওয়াতে জ্বর কিছুটা কমে এসেছে ইনায়ার। জ্বর কমতেই ঘুম ভেঙে যায় তার। ঘুম ঘুম চোখে আবরার কে পাশে দেখে খুশিতে জ্বলজ্বল করে উঠে ইনায়া চোখ। তাকে মিটিমিটি হাসতে দেখে ইনায়ার দুহাত নিজের হাতের আঁজলায় পুরে নেয় আবরার।
--" এখন কেমন লাগছে অন্বি?"
--" ভালো।"
--" আমি সরি বউ। এমন বোকামি আর করবো না। এবার থেকে জেন্টলম্যান হয়ে যাবো সত্যিই ,, প্রমিস!"
আবরারের সহজ সরল স্বীকারোক্তিতে শব্দ করেই হেসে উঠে ইনায়া। নিজের হাত ছাড়িয়ে দুর্বল হাতে আবরারের হাত গুলো ধরলো।
--" এত্ত চিন্তা করছেন কেন? আমি ঠিক আছি।"
--" সত্যিই?"
--" হ্যাঁ "
আবরারকে চুপ দেখে ফের ইনায়া কাঁপা কন্ঠে বললো।
--" আবরার একটু জড়িয়ে ধরবেন আমায়? খুব ইচ্ছে করছে আপনার বুকের ভেতর নাক ডুবিয়ে শরীরে আপনার গায়ের সুভাষ মাখতে।"