সে আমার পূর্ণতা

পর্ব - ৩০

🟢

ইনায়াকে বিছানাতে শুইয়ে দাঁড়াতে নিতেই টান পড়লো আবরারের র্টি - শার্টের কলারে। পাশ ফিরে তাকাতেই দেখে ইনায়ার হাতের চুড়িতে আবরারের র্টি - শার্টের কলারে আটকে আছে। আলতো হাতে তা ছাড়িয়ে নেয় আবরার।

ফের ইনায়ার উপর আধ শোয়া হয়ে শুয়ে পড়ে আবরার। আলতো চোখে তাকালো ইনায়া ওই কাজল কালো দু'চোখে। ইনায়া চোখ নামিয়ে নেয়।

--" একবার তুমি করে ডাক না জান!"

--" আ....আ...আপনি তো আমার বড়।"

--" আ'ম ইয়োর হ্যান্জব্যান্ড। সো টেল মি নাউ , হারি আপ।"

--" আবরার ভাই তু...তুমি।"

--" নো , ওনলি ইউ। আমি তোমার কোন জন্মের ভাই হই হ্যাঁ?"

--" এই জন্মের......"

--" অন্বিতা ,, ফাজলামি করবে না বলে দিলাম।"

--" আবরার তু...তু....মি । "

--" আরেকবার প্লিজ!"

আবরারের কাতর কন্ঠের আবদারে শিউরে উঠে ইনায়া। আটকে যাওয়া গুটিদুয়েক বাক্যের শব্দটা আবার আওড়ায়।

--" তু...তুমি।"

আবরার ইনায়ার বলা কথাটা শেষ করতে না দিয়ে আকড়ে খুব শক্ত ভাবে। পরক্ষনেই ইনায়া অনুভব করলো তার ওষ্ঠে অন্য কারো বিচরণ।এক পুরুষালি হাতে বন্দী সে। ছটফট করে উঠে ইনায়া। আবরারের বেপরোয়া পুরুষালি হাতের ছোঁয়া আর ওষ্ঠের দংশনে কেঁপে কেঁপে উঠছে ইনায়া। এক সময় সে ও অভ্যস্ত হয়ে পড়লো। দু'হাতে আঁকড়ে নেয় আবরারের র্টি-শার্ট বিহীন পিঠ। নখের আঁচড়ে বিধ্বস্ত করে ফর্সা পুরুষালি পিঠটা।

------------

শরীরে কাঁথা পেঁচিয়ে শুয়ে আছে ইনায়া। তলপেটে ছিনছিনে ব্যথা হচ্ছে। উঠতে কষ্ট হচ্ছে তার। তার মধ্যে শাড়িটা দূরে মেঝেতে লুটোপুটি খাচ্ছে। আবরার ইনায়ার পাশেই শুয়ে আছে। কোমর অব্দি কাঁথা টানা। তার দিকে তাকিয়ে অনুরোধের সুরে বললো ইনায়া।

--" আবরার ভাই একটু শাড়ি টা নিয়ে দেন না।"

--" কি বললে? এইমাএ কি বললে!"

--" শাড়িটা এনে দিন।"

--" তার আগে ..."

--" আবরার ভাই ..... "

--" তুমি কি চাও আমি আরেকবার মুডে আসি?"

--" কি ..... কি বলছেন।"

--" আরেকবার ভাই বলবে তো তোমার বারোটা বাজিয়ে ছাড়বো কিন্তু।"

কথা শেষে উঠে পড়ে আবরার। বিছানার অপর পাশে ঘুরে কাঁথা মোড়ানো ইনায়াকে কোলে তুলে নেয়।

--" আমি সামনে থাকতেও তোমার হেঁটে ওয়াশরুমে যাওয়ার কি প্রয়োজন জান?"

--" আপনি দিন দিন অসভ্য হয়ে যাচ্ছেন আবরার ভা....."

--" আরেকবার ভাই বলো তারপর দেখাচ্ছি।"

--" বলবো না বলবো না। নামিয়ে দিন আমাকে , আর কাবার্ড থেকে একটা শাড়ি দিয়েন।"

--" দিচ্ছি জান দিচ্ছি। একটু ভালোবেসে ও তো বলতে পারো।"

কার্বাড থেকে ইনায়ার শাড়ি আর দু'কাপড় এনে দরজায় আবার দাঁড়ালো আবরার।

--" ইউ নো জান ! পানি অপচয় করা আমার একদম পছন্দ না। তাই আমি কি তোমার সাথে শাওয়ার নিতে পারি?"

--" আবরার!"

--" যাচ্ছি যাচ্ছি "

আবরারকে ধাক্কা দিয়ে পিছনে ঠেলে দেয় ইনায়া। আবরার পেছনে সরতেই তড়িঘড়ি করে দরজা বন্ধ করে দেয় ইনায়া।

মাএ শাওয়ার নিয়ে বেরিয়েছে ইনায়া । তোয়ালে দিয়ে চুল পেছাতে পেছাতে বিরবির করছে।

--" নির্লজ্জ লোক , অসভ্য, বেহায়া ।"

ড্রয়িং রুম থেকে পানি পান করে রুমে আসতেই বারান্দার দরজায় দাঁড়ানো ইনায়াকে দেখতে পেলে। চুপিচুপি ইনায়ার পেছনে এসে দাঁড়ায়। জড়িয়ে ধরার আগেই ঝাঁঝালো চিৎকারে পেছনে সরে পড়ে।

--" বদলোক , কন্ট্রোললেস।"

--" কি করেছি বউ।"

--" শীত লাগছে আমার। গলায় কামড়ে কি করেছেন দেখুন।"

--" আমি কিছু জানি না।"

-------------

বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে ইনায়া। আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। বৃষ্টি আসবে বোধহয়। গ্রিলের বাইরে হাত বাড়ায় ইনায়া। বারান্দা থেকে হাত বাড়ালেই বেলিফুল নেওয়া যায়। গাছটা বেশ পুরোনো হওয়াতে বেশ বড় সড়।

কয়েকটা বেলিফুল হাত বাড়িয়ে নিয়ে সুভাষ শুকলো ইনায়া। কি মিষ্টি সুভাষ। মন প্রাণ জুড়িয়ে যায়।

ফুলের সাথে আরেকটা সুভাষ পেয়ে ফুল গুলো সরিয়ে নিজের হাতটা আবার শুকলো। হ্যাঁ ঠিক ধরতে পেরেছে সে। এটা আবরারের পারফিউমের ঘ্রাণ।

-----------

শাওয়ার নেওয়ার পর ও যেনো ইনায়ার শরীর থেকে আবরারের পারফিউমের ঘ্রাণ আসছে। একটু পর পর নিজের হাত শুকছে সে। আচ্ছা বারান্দায় নেড়ে দেওয়া কাপড় গুলো থেকেও কি এমন সুন্দর সুভাষ দিবে? ওই কাপড়টাতেও তো আবরারের ছোঁয়া মিশে আছে। গভীর , আদুরে , আর দুষ্ট ছোঁয়া গুলো। যেই স্পর্শে ইনায়া হয়েছিলো অস্হির। আবরার হয়েছিলো মাতাল , মোহাচ্ছন্ন।

অসাধারণ মিষ্টি ছিলো ঘন্টা দুয়েক আগের সেই মূহুর্ত। ভাবতেই ইনায়ার পুরো শরীর জুড়ে এক অদ্ভুত শিহরণ বয়ে যাচ্ছে। কথা গুলো ভাবতেই অমায়িক হাসে ইনায়া। দুগাল ছেয়ে যায় লাল রক্তিম আভায়। আবরার এই মূহুর্তে এখানে থাকলে আরো একবার তার কন্ট্রোল হারাতো। হারাতো কোনো এক অচিন সুখ পুরীতে।

সত্যিই বলতে সুভাষ টা ইনায়ার বড্ড ভালোই লাগছে। দু'তিন বছর ধরেই "ডিওর সোভাজ" পারফিউম টা ব্যবহার করে আবরার। ইনায়া আগে সুযোগ ফেলেই আবরারের ঘরে গিয়ে সব গুলো পারফিউম থেকে একটু একটু মেরে দেখতো।

এই অভ্যাসের জন্য কম কানটানা ও খায়নি আবরারের হাতের। শেষ - মেশ না পেরে ও কে ও দুটো ডিওর সোভাজ পারফিউম গিফ্ট করেছিলো। কিন্তু ওগুলো ইনায়া কোনো দিন ইউজ করেনি। এখনো ড্রেসিং টেবিলে সাজানো আছে। সেই আবরারের পারফিউম গুলোই ও গায়ে মাখতো। শেষে ক্লান্ত হয়ে আবরার ও আর কিছু বলতো না। কথা হচ্ছে ইনায়া যখন পারফিউম টা মাখতো তখন তো এতো সুন্দর ঘ্রাণ ছড়াতো না। তবে কি আবরারের গায়ের সুভাষ বলেই এতো ভালো লাগছে?

--" ভালোবাসা এতো সুন্দর কেন? যেই ইনায়ার শরীরের তার হাওয়া লাগলো ওমনি তার কাছে আবরারের ছোটো ছোটো বিষয় গুলোও ভীষণ অন্যরকম আর বিশেষ ঠেকছে।"

Story Cover