সে আমার পূর্ণতা

পর্ব - ৩

🟢

তাই আর কথা না বাড়িয়ে সুরসুর করে সিঁড়ি দিকে চলে যায় ইনায়া। নিচে এসেই তিহুর পাশে কার্পেটে বসে পড়ে ইনায়া। টেবিলের ভাজা - পোড়ায় চোখ যেতেই জিভে পানি এসে যায় ইনায়ার। ফালুদা, পুডিং, জিলাপি, সিঙাড়ার সাথে তার পছন্দের বেগুনি ভাজা ও আছে। দুপুরে খাবার না খাওয়ায় মা তার জন্য বেগুনি ভেজেছে তা ইনায়ার ভালো করেই জানা। হাত বাড়িয়ে বেগুনির প্লেট টা নিজের দিকে নিলো ইনায়া।

ড্রয়িং রুমে সবাই উপস্থিত থাকলে ও তানভীর নেই। তানভীর অফিসে। তানভীর এবার মাস্টার্স এ পড়ে, পড়ার পাশাপাশি সে একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে জব করে তাই সন্ধ্যার এই সময়টাতে তাকে শুক্রবার বা ছুটির দিন ছাড়া বাসায় পাওয়া যায় না। চৌধুরি বাড়ির সন্ধ্যার আড্ডায় বাড়ির কর্তারা আর আবরার ও শুক্রবার ছাড়া থাকতে পারে না।আবরার বর্তমানে পড়াশোনা শেষ করে নিজেদের ব্যবসায় হাত লাগিয়েছে।শুক্রবার ছাড়া বাকি দিন গুলোয় বাড়িতে বাড়ির গিন্নি আর বাচ্চারাই থাকে । আজ যেহেতু আবরার ঢাকা থেকে ফিরেছে তাই অফিসে আর যাওয়া লাগেনি। তিন কর্তা মিলে সামলে নিয়েছে অফিসের দিকটা।

------

আবরার নিচে এসে ফোন স্ক্রল করতে করতেই ইনায়ার পাশে সোফায় বসে পড়ে। ইরফানের সাথে সিঙাড়া নিয়ে ঝামেলা করতে করতেই কার্পেট থেকে সোফায় উঠে ইনায়া। সে বর্তমানে জিলাপি নিয়ে তিহুর সাথে ভাগাভাগি করছে। মাহমুদা বেগম সবার জন্য সিঙাড়া ভেজে এনেছে আর আয়েশা বেগম তার হাতের স্পেশাল চা বানিয়েছে। মেঘা বেগম বাকি ডের্জাট গুলো বানিয়েছেন। সবাই খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে গল্প করলেও আবরার তখনো সোফায় বসে ফোন স্ক্রল করছে । আর এই বিষয়টাই সবচেয়ে বিরক্ত লাগে ইনায়ার। সাহেব এমন ভাব করে যেন তার চারপাশে সবাই মানুষ না গরু , ছাগল হুহ । মনে মনে আবরার কে বকতে বকতেই হাত ধুতে উঠে যায় ইনায়া। এখানে আর বেশিক্ষণ থেকে তার লাভ নেই । কিছুক্ষণ পর দেখা যাবে তার পড়ার বিষয় ই সবার গল্পের কেন্দ্র বিন্দু হবে। তাই আগেই এখান থেকে সটকে পড়া ভালো।

পর্ব - ৩

রুমে এসেই বই নিয়ে বসে পড়ে ইনায়া সামনে তার প্রি-টেস্ট যদি পরীক্ষায় ফেল করে তো তার মা তাকে আবার বলবে তুই আবরারের পা ধোয়া পানি খা, কত ভালো পড়ালেখায় ছেলেটা আর তুই ! হেনতেন সাথে তো আবরার বেটা আছেই তাকে সারাক্ষণ থাপ্পড় আর চ্যালাকাঠ নিয়ে দৌড়ানোর জন্য।যেটা একদম হতে দিবে না ইনায়া হুহ; সে কম কিসে শুধু একটু পরীক্ষায় নাম্বার কম পায় সেটা কি তার দোষ।

----

জোছনার চাঁদের আলোয় ছাদে বসে আছে আবরার। রাতের খাবার শেষে সবাই যার যার ঘরে গেলেও আবরার ছাদে উঠে। পূর্ণিমা বিলাস তার মাঝে মধ্যে ই হয়। এটাকে আগেকার অভ্যাস বলা যায় না । এই অভ্যাস তার প্রেমে পড়ার পর থেকে হয়েছে। যেদিন তার মন গোপনের প্রেয়সীর প্রেমে পড়েছিলো! সেই রাতটাও পূর্ণিমা রাত ছিলো।

অন্ধকারের মাঝেও আবরারের ফোনের স্কিন আলোয় জ্বলজ্বল করছে। ফোনের স্কিনে ভাসছে ইনায়ার বাসন্তী রঙয়ের শাড়ি পরা একটা ছবি। যেই ছবিটা আবরার তার ফুফাতো বোন মানহার বিয়েতে লুকিয়ে তুলেছিলো। অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে প্রেমিক আবরার তার প্রেয়সীর ছবির দিকে।কবে এই বোকা মেয়েটার প্রেমে আবরার পড়ে তা আবরার জানে না। আর জানতে চায় ও না ; কারণ সে বড্ড বেশিই ভালোবাসে তার বোকা নারীকে । যার জন্য সকল মেয়েদের থেকে দূরে থাকা ; স্কলারশিপ পেয়েও জার্মানিতে পড়তে না যাওয়া সব সময় থাকে নজরে রাখার জন্য । কিন্তু যার জন্য এতো কিছু সেই জানে না যে আবরার তাকে কতো ভালোবাসে; সে এটাও জানে না যে সাতাশ বছরের আবরার তাকে হারানোর ভয়ে কতো রাত দুচোখের পাতা এক না করে কাটিয়ে দেয় ; কি নিদারুণ ভাবেই না আবরারের প্রেয়সী তাকে তার মায়ায় জড়ালো ।

Story Cover