খাবারের প্লেট সামনে নিয়ে অনড় বসে আছে আবরার। মিনিট দশেক পেরিয়েছে তার এইভাবে বসে থাকার। বসে বসে ইনায়ার খাওয়া দেখছে। যেকিনা ছোটো ছোটো আঙুলে আলতো হাতে ভাতে সাথে মাছ মাখিয়ে খাচ্ছে। তার মাছের কাঁটা বাঁচা দেখে মনে হচ্ছে শক্ত হাতে ধরলেই মাছের টুকরো টা ব্যথা পাবে। মাঝে মাঝে চিকন ভ্রু গুলো কুঁচকে আবার কি যেনো দেখছেও।
আরেকটা নলা মুখে নিয়ে আবরারের দিকে তাকালো ইনায়া। তাকে খেতে না দেখে ঝাঁঝালো কন্ঠে প্রশ্ন করলো।
--" খাবার গুলো কে কি শোকেসে সাজিয়ে রাখবেন আবরার ভাই?"
--" কেন কেন?"
--" তাহলে খাচ্ছেন না কেন?"
ইনায়ার প্রশ্নে হাতের দিকে তাকিয়ে মন খারাপ করে নিলো আবরার। আবার চোখ ছোট করে করুন চোখে চাইলো ইনায়ার দিকে। আবরার তাকাতেই ভ্রু নাচায় ইনায়া।
--" বাড়িতে থাকলে তো হাত কেঁটে গেলো আম্মু খাইয়ে দিতো। এখন তো আর আম্মু নেই। হাতটাও জ্বলছে। "
--" মিথ্যা কথা বলেন কেন? গত মাসে যখন ইচ্ছে করে হাত কেটেছিলেন তখন ও তো দিব্বি নিজের হাতে খেয়েছেন। বরং বড় আম্মু খাইয়ে দিতে বলায় বলেছিলেন প্রয়োজন নেই।"
--" তখন তো রাগ করে কেটেছি। এখন তো আর তা না। আর সবসময় কি ব্যথা একি রকম হয় নাকি? বাদ দে তুই বুঝবি না।"
--" থাক বড় আম্মু নেই তাতে কি? আমি আছি না।"
--" তুই থাকলেই কি? থাক তুই তোর খাবার খা। আমি ভাত খাবো না।"
আবরার বিছানা থেকে উঠতে নিতেই হাত চেপে ধরলো ইনায়া। ডাগর ডাগর চোখ ইশারা করলো বসতে। আবরার ও লক্ষী ছেলের মতো নিজের জায়গায় বসে পড়লো।
--" বসুন , আমি হাত ধুয়ে আসছি।"
--" কি জন্য...."
--" আপনাকে খাইয়ে দিতে। পাঁচ মিনিট বসুন । আমি দুমিনিটেই আসছি।"
--" লাগবে না হাত ধোয়া।"
আবরারের অভয় পেয়ে বসে আবরারের প্লেট টা নিজের কোলের উপর নেয় ইনায়া। মাছ ভাজার থেকে কাঁটা ছাড়িয়ে ভাতের সাথে মাখিয়ে নিলো।
নরম আঙুল গুলোর সাহায্যে লোকমা তুললো। তির তির করে কাঁপছে ইনায়ার হাত। আবরার মোহাচ্ছন্নের ন্যায় তাকিয়ে আছে সেই হাতের দিকে। আরেকটু ইনায়ার দিকে এগিয়ে ওর হাত চেপে ধরলো সে। আবরারের ছোঁয়াতে কম্পন বাড়ে ইনায়ার। চট করে চোখে তুলে তাকালো ইনায়া।
আবরারের এমন চাহনিতে চোখ মেলাতে পারে না ইনায়া। নামিয়ে নিলো তার চোখ। ইনায়ার হাতটা ধরে লোকমা টা নিজের মুখে পুরে নেয় আবরার। আবরার লোকমা টি নিতেই হাত টান মেরে ছাড়িয়ে নিলো ইনায়া। কাঁপা কাঁপা গলায় কিছু শব্দ আওড়ায় সে।
--" ম......মানে..... আ....আমি স...সবজি আনছি।"
--" সবজিটা তোমার সামনের বাটিতেই আছে বউ।"
আবরারের বউ শব্দ টা শুনতেই অবশ হয়ে আসে ইনায়ার সমস্ত শরীর - মন। কানে কি ঠিক শুনেছে সে।
বউ? ছোট্ট দু বাক্যের একটা শব্দ কিন্তু কেমন কেমন যেনো লাগছে ইনায়ার । মাথা ঘুরছে, শরীরটা কেমন যেনো লাগছে। প্লেট টা কোল থেকে নামিয়ে পাশে রেখে দিলো ইনায়া। আস্তে আস্তে নিভে আসে ইনায়ার দুচক্ষু।
ইনায়া পড়তে পড়তেই তাকে ধরে ফেলে আবরার। খাবারের প্লেট টা সরিয়ে নিজের বুকে টেনে নিলো ইনায়াকে। কোলে মাথাটা রেখে হালকা হাতে ইনায়ার গালে থাপ্পড় দিলো। শেষে উপায় না পেয়ে গ্লাস থেকে পানি নিয়ে পানির ছিটে মারলো। আস্তে করে চোখ খোলে ইনায়া।
--" কি হয়েছে তোমার?"
--" আপ....আপনার কি হয়েছে?"
--" কই কি হয়েছে!"
--" হঠাৎ তু....মি তুমি করে বলছেন কেন?"
--" এমনিই , কেনো বলতে পারিনা?"
--" পা...পারেন কিন্তু।"
--" জানো বউ , আমি চাই তুমি সারাজীবন এভাবেই আমার কোলে মাথা রেখে শুয়ে থাকো।"
আবরারের কোথায় খেয়াল হয় ইনায়ার। যে ও আবরারের কোলে শুয়ে আছে।
--" ছা..ছাড়ুন উঠবো।"
তড়িঘড়ি করে উঠে পড়ে ইনায়া। উঠে আবরারের দিকে পিঠ দিয়ে বসলো। ইনায়া বসতেই আবরার ইনায়া কানের কাছে মুখটা নিয়ে যায়। ফিসফিস কন্ঠে বললো কিছু কথা।
--" তুমি কি আমার ভালোবাসার আগুনে পুড়তে প্রস্তুত বউ?আই নিড ইউ ইন আ ভেরি ব্যাড ওয়ে। আই ক্যান্ট হ্যান্ডেল মি এনিমোর।"
তড়িঘড়ি করে উঠে পড়ে ইনায়া। ইনায়া উঠতে নিলে আবরার ওকে উঠতে সাহায্য করলো। উঠে আবরারের দিকে পিঠ দিয়ে বসে সে। ইনায়া বসতেই আবরার ইনায়া কানের কাছে মুখটা নিয়ে যায়। মোহাচ্ছন্নের নেয় ফিসফিসে কন্ঠে বললো কিছু কথা।
--" তুমি কি আমার ভালোবাসার আগুনে পুড়তে প্রস্তুত বউ?আই নিড ইউ ইন আ ভেরি ব্যাড ওয়ে। আই ক্যান্ট হ্যান্ডেল মি এনিমোর।"
আবরারের এমন মাতাল কন্ঠে অবশ হয়ে গেলো ইনায়ার দেহ-মন। লজ্জায় তার মরণ মরণ দশা। কান - গাল দিয়ে গরম ধোঁয়া বেরোচ্ছে। কপালের চারপাশে চিকন ঘাম ধরেছে। ইচ্ছে করছে মাটির মাঝ বরাবর ফাটল ধরুক আর সে সেই অতলে হারিয়ে যাক। ধরনী তাকে এতো লজ্জা কেন দিচ্ছে? তার মনে হচ্ছে কথাগুলো শুনে চারপাশের আসবাবপত্র গুলো ইনায়ার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে। কি লজ্জা কি লজ্জা।
অতিরিক্ত নার্ভাস হয়ে হাত - পা কাঁপতে লাগলো। চিকন চিকন আঙুল কাঁপতে দেখে হাসলো আবরার। এখনি এতো লজ্জা পাচ্ছে মেয়েটা। যখন ..... যখন ....... উফফ আর ভাবতে পারছে না সে। তার শরীরে কাঁটা দিয়ে যাচ্ছে। কেমন পাগল পাগল লাগছে আবরারের। এর ওষুধ কি ? ও হ্যাঁ সে তো জানে ! এর ওষুধ একমাত্র ইনায়ার কোমল গোলাপের পাপড়ির ন্যায় মসৃণ ওই দুই ওষ্ঠাধর।
ইনায়া নিজের ভার ছেড়ে দেয় আবরারের বুকে। তা দেখে ওর কাঁপা কাঁপা হাত গুলো দু'হাতে চেপে ধরলো আবরার। আরেক দফা আবরারের ওষ্ঠ জোড়া ইনায়ার কানে পাশে আনলো।
--" ইফ ইউ ফেইন্ট এগেইন, আই উইল নট টেইক ইয়োর পারমিশন। ইউ নো আই ডোন্ট লাইক রিপিটিং থিংস।"
--" আ.... আমি ঠি....ঠিক আছি।"
--" তাহলে এমন কাঁপছো যে? কথা আটকে যাচ্ছে কেন তোমার।"
--" বা...বাকি ভাত টুকু আপনাকে খাইয়ে দেই?"
--" না , আগে আমার প্রশ্নের উত্তর দাও।"
--" কি উত্তর দেবো?"
--" যেই প্রশ্ন টা করেছিলাম!"
--" ....... "
--" আমি কি নীরবতা সম্মতির লক্ষণ হিসেবে ধরে নেবো?"
--" আপ....আপনার ইচ্ছে। আমি হা..ত ধুয়ে আসি।
কথা শেষে এক প্রকার দৌড়ে পালায় ইনায়া। একদৌড়ে বেসিনের সামনে এসে থামে ইনায়া। তড়িঘড়ি করে হাত ধুয়ে নেয় সে।
হাত ধুয়ে আয়নায় নিজের প্রতিবিম্বে তাকালো। লজ্জায় দু'গাল সহ নাকের ডগা লাল হয়ে আছে। আয়না থেকে চোখ ফিরিয়ে চোখ - মুখে পানি ছিটালো। কাপড়ের আঁচলে মুখটা মুছে নিলো ইনায়া।
ঘরে যেতে পা বাড়িয়ে আবার থেমে গেলো সে। হাত - পা চলছে না। ওই ঘরে গেলেই আবার লজ্জা দেবে ওই শয়তান লোকটা। লাগামহীন কথার তিরবিদ্ধ করবে।
অনেকক্ষণ পেরিয়ে যাওয়ার পর ও ইনায়াকে না যেতে দেখে উঠে পড়ে আবরার। রুম থেকে বেরোবার আগেই বেসিনের সামনে ইনায়াকে একা একা দাঁড়িয়ে হাসতে দেখলো।
ধীর পায়ে আবরার তার পেছনে গিয়ে দাঁড়ায়। নিজের ধ্যানে থাকা ইনায়ার খবর নেই যে তার পেছনে এসে কেউ দাঁড়িয়েছে।
হঠাৎ নিজের মেদহীন পেটে কারো ঠান্ডা হাতের বিচরণে ধ্যান ভাঙে ইনায়ার। শিরশির করে ওঠে পুরো শরীর। বুঝতে বাকিরয় না যে হাতের মালিক কে। আয়নাতে চোখ বুলাতেই পেছনে দাঁড়ানো আবরারের সাথে চোখাচোখি হলো ইনায়ার। আবরারের ওমন মাতাল চোখে বেশিক্ষণ তাকাতে পারলো ইনায়া। নিজের দৃষ্টি সংযত করে নিলো সে। আবরার নিজের সাথে আরেকটু আকড়ে ধরে ইনায়াকে। হেচকা টানে আবরারের বুকে ধাক্কা লাগে ইনায়ার পিঠে।
ইনায়াকে বা"হাতে জড়িয়ে ডান হাতের কানের পাশের চুল গুলো কানের পেছনে গুঁজে দিলো আবরার। দু'ওষ্ঠ বাড়িয়ে ইনায়ার কানের দু'ইন্ঞি নিচের নরম মাংসে চুমু খেলো।
বরফের মতো জমে যায় ইনায়া। এই সুযোগে তাকে কোলে তুলে নেয় আবরার। নিজের ভারসাম্য সামলাতে আবরারের ঘাড়ে আগলে ধরে। সযত্নে ইনায়াকে কোলে তুলে রুমে আনলো আবরার।
ইনায়াকে বিছানাতে শুইয়ে দাঁড়াতে নিতেই ডান পড়লো আবরারের র্টি - শার্টের কলারে।