সে আমার পূর্ণতা

পর্ব - ২৭

🟢

দুপুর একটা বাজে। আযানের সুমধুর ধ্বনিতে চারদিক মুখরিত হয়ে আছে। তিহুর কলেজের সামনে বটগাছের ছায়ায় বাইকে হেলান দিয়ে বুকে হাত বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে ইরফান। পরণে ক্রিম কালারের প্যান্ট আর সাদা শার্ট। আজ চোখে চশমার বদলে সানগ্লাস । চুল গুলো জেল দিয়ে সেট করা। বাম হাতে কালো ফিতার ঘড়ি। পুরুষালি ফর্সা লোমশ হাতে কালো ফিতের ঘড়িটা চকচক করছে। মনে হচ্ছে কাউকে ঘায়েল করার জন্য আজ তার এমন সাজ - পোশাক। চোখে সমস্যা থাকার দরুণ সচরাচর ইরফানকে সানগ্লাসে দেখা যায় না। কোনো বিশেষ দাওয়াত বা অনুষ্ঠানেই চোখে সানগ্লাস পরে সে।

তিহুর কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার উদ্দেশ্য হলো তিহুর সাথে একটু ঘোরাঘুরি আর ফুচকা খাওয়া। ঘোরাঘুরি আর ফুচকা খাওয়াটা বাহানা মাএ। ইরফান কলেজে এসেছে মূলত ওই বখাটে গুলো কে শিক্ষা দেওয়ার জন্য।

কাল তিহুর কাছ থেকে না জানতে পারলেও আজ সকালে এলাকার এক ছোট ভাই তাকে সব বলেছিলো। ছেলেগুলোকে দূর থেকে একটা মেয়ে কে ডির্স্টাব করতে দেখে এগিয়ে এসেছিলো রাফি। সে কাছাকাছি আসার আগেই তিহু দৌড়ে পালায়। পরে ছেড়ে গুলো কে জিজ্ঞেস করেছিলো সে। কিন্তু ছেলে গুলো কিছুক্ষণ ঝামেলা করে পালিয়ে যায়।

আজ ওদের বোঝাবে কতধানে কত চাল হয়। তার ফুলের হাত চেপে ধরার মজা আজ হাড়ে হাড়ে টের পাবে ওরা। বার্স্টাড গুলোর জন্য সকালেও তিহুর চোখ গুলো ফুলে ছিলো।

ইরফানের ভাবনার মাঝেই কলেজ ছুটি হয়। বৃহস্পতিবার হওয়াতে আজ হাফ ক্লাস। তিহুকে কলেজের মূল ফটক পেরিয়ে গাড়ির কাছে আসতে দেখেই ছোটে ইরফান। বড় বড় কদমে রাস্তার এপাশে এসে চেপে ধরে তিহুর হাত। কালকের মতো হাতে বাঁধন পেতেই রক্ত চড়ে যায় তিহুর মাথায়। কালকের রাগ গুলো আবার এসে জড়ো হলো মন - মস্তিষ্কে।

বাম হাত দিয়ে চড় দিতেই কিছুটা পেছনে মুখ সরিয়ে নেয় ইরফান। চড় দিতে ব্যর্থ হয়ে পেছনে ফেরে তিহু। ইরফানকে নিজের পেছনে দেখে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে চোখ বড় বড় হয়ে যায় তিহুর। একটু আগে করা নিজের বোকামির জন্য মাটির গহ্বরে হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে তার।

তিহুর অবস্থা দেখে কাঠকাঠ গলায় বললো ইরফান।

--" আক্রমণ করার আগে দেখে নিতে হয় শক্র কে? না দেখে আক্রমণ করে গণধোলাই খাওয়ার শখ জেগেছে নাকি তোমার?"

--" আমি জানতাম নাকি যে আপনি? ভালো কথা আপনি এখন এখানে কি করছেন?"

--" বউয়ের সাথে ডেটে যেতে এসেছি। তুমি যাবে কি?"

--" তো জান না আমার কি?"

--" কি বললে মাএ?"

--" যান!"

--" জান? হাউ কিউট জান। তুমি আমাকে এতো ভালোবাসো। যে যাওয়ার য টা কেটে জ বসিয়ে দিলে!"

--" এক লাইন বেশি বোঝা আমার একদম পছন্দ না।"

--" ওকে ম্যাম। এইবার থেকে বীজগণিত যেমন বুঝতাম না। কথাও তেমন না বোঝারভান করে থাকবো। আপনি বুঝিয়ে দিয়েন।"

--" সত্যিই করে বলেন এখানে কি করছিলেন?"

--" আপনার সাথে একটু ঘুরতে যাওয়ার জন্য এসেছি। যাবেন কি আমার সাথে?"

ইরফানের জড়ানো কন্ঠে লজ্জায় লাল হয়ে লাজুক লতার নেয় মিইয়ে যায় তিহু। তা দেখে হাসে ইরফান। মেয়েটাকে জ্বালাতে ভালোই লাগে। আর লজ্জা দিতে তো ঈদ ঈদ লাগে। যেমন এখন কি ভালো লাগছে তিহু লজ্জা পাওয়াতে। কিন্তু না এই মেয়েটা সারাদিন রাক্ষসীর মতো খ্যাচ খ্যাচ করে।

--" উহুম .... উহুম কোথায় যাবেন এখন এই দুপুরে?"

--" আপনি বললে তো আমি সাতসাগর ও পাড়ি দিতে পারি। তাতে সময় ম্যাটার করে না। বিকজ ইউ নো আই লাভভভভভ ইউউউউউ।"

--" আচ্ছা আচ্ছা চলেন। আর বলতে হবে না।"

কথা শেষে গাড়িতে উঠতে নেয় তিহু। তাকে বাঁধা দিয়ে হাতের ইশারায় রাস্তার অপর সাইডে রাখা বাইক দেখালো ইরফান। খুশিতে জ্বলজ্বল করে উঠে তিহুর দু"চোখ সত্যি বলতে ইরফানের সাথে বাইকে ঘুরতে তার ও ভালো লাগে। শুধু ভালো না অনেকক অনেককক ভালো লাগে।

ইরফানের পাশ কাটিয়ে আগে চলে যায় তিহু। পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় কনুই দিয়ে ইরফানের বুকে গুতো মারতে সে ভোলে না।

বাইকের সামনে এসে থামে তিহু। ইরফান উঠে বসতেই সে বাইকে উঠলো। বাইকে উঠে ইরফানের বলিষ্ঠ পিঠের শার্ট খামছে ধরে।

--" শক্ত করে ধরে বস! রাস্তাটা তোর জন্য জামাই করে দিয়ে যায়নি। যে ফুলের পাপড়ি বিছানো আছে। চলন্ত বাইক পড়লে তোর শরীরের হাড় - গোড় অবশিষ্ট থাকে কিনা সন্দেহ!"

--" আপনি কি জানেন ? অতিরিক্ত কথা বলাটা আপনার স্বভাবে পরিণত হয়েছে।"

--" হ্যাঁ এখন সব দোষই তো আমার।"

------------

কিছুক্ষণ শহরের অলিগলি ঘুরেছে ইরফান তিহু। অবশেষে বাড়ির পথ ধরেছে তারা। দূর থেকে কালকের বদমাইশ গুলো কে দেখে ইরফানের পিঠের শার্ট খামছে ধরে তিহু। তিহুর হাতের কম্পন বুঝতে পেরে সামনে থাকালো ইরফান।

দু তিনটে ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। তাহলে এগুলোই কি সেই বদমাইশ গুলো?

মোড় ঘুরতেই বাইক থামায় ইরফান। ইরফানকে বাইক থামাতে দেখে ওকে আরেকটু জোরে খামছে ধরে তিহু। তিহুর হাতের খামচিটা যেনো ইরফানকে জানান দিচ্ছে যে বাইক থামিয়ে ও না।

--" নেমে পড় তিহু।"

--" কি....কি জন্য?"

--" বাইক চলছে না। কি সমস্যা হয়েছে কে জানে? বাকি পথ টুকু হেঁটেই যেতে হবে রে , সরি।"

--" আরেকবার চেষ্টা করুন প্লিজ।"

তিহুর অসহায় কন্ঠে প্রতিশোধের আগুন জ্বলে উঠে ইরফানের বুকে। তার ফুল এতোটা ভয় পেয়েছে? ব্যাপারটা এত্তক্ষণ ক্যাজুয়ালি নিলেও এবার শক্ত হাতে তা দেখতে হচ্ছে তো।

--" দেখেছি রে লাভ নেই , নেমে পড়।"

ধীর গতিতে বাইক থেকে নেমে পড়ে তিহু। বুকের ভেতরে ধুকপুক করছে। যদিও ইরফান সাথে থাকায় তার ভয় নেই। কিন্তু যদি ইরফান রেগে যায় তখন।

তিহু সামনে হাঁটছে ইরফান তার পিছনে। সে এক পা বাড়াচ্ছে তো পেছনের ইরফান কে পরোখ করছে।

--" এইভাবে হাঁটলে জায়নামাজের বদলে পিছ ডালা রাস্তাতেই তোকে সেজদা দিতে হবে।"

তিহু সামনে ফিরে হাঁটতেই ইরফান হাঁটার গতি কমিয়ে দিলো। ছেলে গুলোর কাছে তিহু পৌঁছাতেই থেমে যায় ইরফান। তার এইখান থেকে স্পট ওদের কথা গুলো শোনা যাচ্ছে।

--" আরে ফুলপরি যে। এতক্ষণ তো তোমার জন্যই অপেক্ষা করা।

--" কি মামুনি? কালকে তো পালিয়ে ছিলে। আজকে কে বাঁচাবে তোমায়?"

--" কালকে মামুনি একা ছিলো। আজকে ওর সাথে তোদের বাপ ও আছে বাচ্চারা। নো টেনশন , সবাই আজকে একসাথে খেলবো।"

Story Cover