সে আমার পূর্ণতা

পর্ব - ২৩

🟢

তিহু তাড়াহুড়ো করে হামাগুড়ি দিয়ে রেলিং এর পাশে এসে বসলো। ইরফান হেঁটে তার বারান্দার নিচে আসতেই গলা ফাটিয়ে গান ধরে তিহু।

--"তুই ভালো না ছেলে তুই ভালো না ভালোর মুখোশ পরা ছিলো তোর চলনা!"

--" ছিঃ রে কি চয়েজ তোর তিহু! শেষে কিনা এইসব গান ধরলি? সো স্যাড , আর কি বললি আমি ভালো না ? সত্যি তো এটাই তোর চয়েজ ভালো না ।"

--" সত্যিই বলছেন ! আমার পছন্দ সত্যিই খারাপ তাইতো আপনাকেই পছন্দ করছি।"

--" কিইইইই?"

--" মুখটা বন্ধ করুন ইরফান ভাইয়াএএএ। বাই দ্য ওয়ে গুড মনিং।"

--" সকাল সকাল মেজাজ টা নষ্ট করিস না তিহু। এমনিতেও তোর সাথে ঝামেলা করার কোনো ইচ্ছে আমার নেই।"

কথাগুলো বলে জায়গা ত্যাগ করে ইরফান। তিহু নিজের বেণুনিটা পেছনে ঢেলে উঠে পড়ে মেঝে থেকে। নিজের মনে মনে আওড়ায় গুটিকয়েক শব্দ।

--" রুহুল আমিন চোধুরির নাতি তোকেও আমি দেখে নিবো! হুহ আমার সাথে কথা বলার ইচ্ছে নেই? দেখবো তো তোর কতো মেজাজ। অনেক জ্বালিয়েছিস তুই। আমার ছোটো কিউট কলিজাটা ভাঙার মজা দেখাবো শাল

--" সকাল সকাল আমার আম্মুটা কাকে দেখার কথা বলছে শুনি?"

নিজের রুমের দরজায় বাবাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে হেসে উঠে তিহু। এগিয়ে এসে বাবাকে জড়িয়ে ধরে।

--"আহ শান্তি আমার বাবা। আমার প্রিয় বাবা। কি ভালো যে লাগছে তোমাকে এই সকাল সকাল দেখে।"

--" তোমার আম্মু বললো তুমি এখনো ঘুম থেকে উঠোনি? তাই আমার আম্মাটাকে জাগাতে আসলাম।"

--" আরো আধ ঘন্টা আগে উঠেছি আমি আব্বু। দেখো ফ্রেশ হওয়া ও শেষ। "

--" এইবার জলদি তৈরি হয়ে নিচে নাশতা করতো আসো। তোমার আম্মু কিন্তু অনেক রেগে আছে।"

--" জাস্ট ফাইভ মিনিটস পাপা।"

মেয়ে কে সাবধান করে নিচে চলে যায় আশরাফ চৌধুরি। তা দেখে কার্বাড থেকে তাওয়ালে আর কলেজ ড্রেস নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়ে তিহু।

--------------

সকাল সাড়ে আটটা বাজে। আকাশের রোদ কমে মেঘলা হয়ে এসেছে। আকাশ গুড়ুম গুড়ুম ডাকছে। আবরার ঘুম থেকে উঠে পড়েছে। ইনায়া এখনো ঘুমে। কাপড়ের ব্যাগ গুলোর উপর মাথা রাখা তার চিরাচরিত বন্দুক শেপে ঘুমিয়ে আছে। ঘুম ঘুম চোখে তা পরোখ করছে আর মিটিমিটি হাসছে আবরার। উঠার পর থেকেই এভাবে বসে আছে। ইনায়ার পাশ থেকে তার সরতে ইচ্ছে হচ্ছে না।

আজ সব কিছু কেন এতো ভালো লাগছে তার সে জানে না। আবরারের মনে হচ্ছে সে খুশিতে পাগল হয়ে যাবে। কাল সারারাত তার অন্বিতা তার বুকে ছিলো। তার প্রশস্ত বুকে। তার হৃদপিন্ডের মাঝ বরাবর। এর থেকে প্রাপ্তির আর কিছুই নেই আবরারের জীবনে। সে পেয়েছে তার ফুলকে। যদিও তার ফুলের গায়ে কাঁটার আঁচড় কেটেছে।

কোনো ব্যাপার না সে সব কিছু ঠিক করে দিবে ইনশাল্লাহ। নিজের মনে মনে কথা গুলো ভাবতে ভাবতে উঠে পড়ে আবরার।

রাতে গরমে খুলে রাখা র্টি-শার্ট টা আবার গায়ে জড়িয়ে নেয়। ইনায়া তাকে এই অবস্থায় দেখলে অপ্রস্তুত হতে পারে। ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে আসে আবরার। ভেজা মুখ টা গামছাতে মুছতে মুছতে আবরারের মাথায় খেলে গেলো এক দুষ্টু বুদ্ধি। ভেজা গামছা টা ঘাড়ে নিয়ে নিলো। তারপর ওয়াশরুমে গিয়ে দুহাতের আঁজলা ভরে পানি আনলো। ইনায়ার সামনে এসে ঝামটা দেয় ওর মুখে। ঘুমের ঘোরে মুখে পানি পড়ায় দুহাতে মুখ ঢেকে নেয় ইনায়া। কাজটা তিহু করেছে ভেবে ছুঁড়ে দেয় কিছু কঠিন কথা।

--" আমার শান্তির ঘুম হারাম করার জন্য আল্লাহ্ তোর বাসর রাতের স্বপ্ন ছারখার করে দিক আমিন।"

কথাটা কর্ণপাত হতেই চোখ বড় বড় হয়ে যায় আবরারের। এমনিতেই তার বিয়ে টা বাঁশ খেয়ে হয়েছে। এখন বাসর রাতের কিছু হলে তার জীবনটাই বৃথা হয়ে যাবে। আর গাঁধী মেয়ে নিজেও জানে না অন্যকে অভিশাপ দিতে গিয়ে ঘুরে ফিরে সে নিজেকে দিয়ে দিয়েছে।

গামছাতে হাত মুছে সোজা হয়ে বসে আবরার। একবার চুলের ফাঁকে হাত চালায়। তারপর নিজের বাচ্চামোকে বাম সাইডে রেখে গম্ভীর ভাব ধরে।

--" অন্বিতা ..... এই অন্বিতা।"

--" ........ "

--" অন্বি ! শেষ বার বলছি উঠ না হলে আমার বাসর রাতের জন্য বদদোয়া দেওয়া বের করবো।"

আবরারের জোরাজুরিতে উঠে বসে ইনায়া। খানিকক্ষণ জিম ধরে বসে থাকে সে। চারপাশ দেখে বোঝার চেষ্টা করছে ও কোথায় । বুঝতেই মন খারাপ হয়ে যায় ইনায়ার। শাড়ি টা গুছিয়ে ধরে দাঁড়ায়। আবরার ও উঠে দাঁড়ায়। ইনায়ার মুখ দেখে মনের কথা বুঝে নেয়।

--" আমি বাহির থেকে নাশতা নিয়ে আসছি। নাশতা করে একসাথে বেরোবো বাকি জিনিসগুলো কিনতে। দরজা বন্ধ করে দে।"

আবরারের কথায় মাথা নাড়ায় ইনায়া। যার উত্তর ঠিক আছে। ইনায়ার সম্মতি পেয়ে ঘাড় থেকে গামছা টা নিয়ে বারান্দার গ্রিলে নেড়ে দেয়। রুমে এসে টেনেটুনে পরণের র্টি-শার্ট টা ঠিক করে।

আবরারের এতোসব কাজ করার সময় ইনায়া তার পিছু পিছু শাড়িটা ধরে ছুটেছে। দরজার সামনে এসে আরেকবার নিজের সাবধানী বাণী গুলো ঝর্ঝরে বাক্য প্রকাশ করে আবরার।

--" কেউ দরজা নক করলে আগে পিপহোলে চোখ রাখবি। দেখবি কে এসেছে। আমি ছাড়া অন্য কেউ আসলে দরজা খোলার দরকার নেই। ভয় পাবি একা থাকতে? সাথে নিয়ে যাবো তোকে ? "

কথাগুলো শুনৈ মুচকি হাসে ইনায়া। তা দেখে একসাথে ভ্রুদ্বয় বাঁকায় আবরার। নিজের হাসি থামিয়ে হাসার কারণ বলে ইনায়া।

--" কয়েকদিন পর আমার আঠারো বছর হয়ে যাবে ভাইয়া। এমনভাবে বারবার এক কথা বলছো মনে হয় তুমি বাসা থেকে বেরোলেই আমি পালাবো।"

--" দরজা বন্ধ কর। বেশি বুঝতে বলিনি তোকে আমি।"

পেছনে না ফিরে কপালে আঙুল ঘষতে ঘষতে সিঁড়ি বেয়ে নেমে যায় আবরার। নিজের অস্হিরতা দেখে সত্যিই বলতে তার ও লজ্জা লাগছে। আবরার চোখের আড়াল হতেই দরজা আটকে দেয় ইনায়া। রুমে এসে লাল শাড়ি টা নেয় বারান্দা থেকে গামছা টা নিয়ে শাওয়ারে যায়।

-------------

আবরার খাবার নিয়ে বেরোতে বেরোতে ঝিরিঝির বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। বাসা থেকে হোটেল দশমিনিটের দূরত্বে হওয়াতে দৌড় দেয় আবরার। তাও হালকা ভিজে গেছে সে। গেইটের ভিতরে ঢুকে মাথা ঝেড়ে নেয়। ওপরে এসে বেল বাজাতেই দরজা খোলে ইনায়া। আবরার ঢুকে রুমে চলে যায় পা ধুতে। তার পিছু পিছু ইনায়া ও আসে।

--" আবরার ভাই ভিজলেন কিভাবে আপনি? দুমিনিট দাঁড়িয়ে আসতেন।"

--" বারান্দা থেকে গামছা টা এনে দে তো। "

--" ওইইই ..... গামছা টা তো আমার চুলে ভেজা। এখন কি দিবো?"

ইনায়ার কথায় তার দিকে তাকায় আবরার। ওর পরায় শাড়ি দেখে পিছন থেকে আচঁল টা টেনে নিয়ে মাথা সহ হাত মুখ মুছে নেয়। মাথা মোছার জন্য ঝাঁকাতেই আবরারের চোখ গিয়ে আটকায় ইনায়ার লাল ব্লাউজ আর শাড়ির মাঝখানের শুভ্র পেটে। থেমে যায় আবরারের দুহাত।

Story Cover