সূর্যদয়ের ঘন্টা দেড়েক পেরিয়েছে। চৌধুরি বাড়ির গিন্নিরা সবাই উঠে পড়লে ও বাচ্চারা এখনো উঠেনি। তিন জা মিলে ঘর - দ্বার ঝাড় মোছ করছেন। বাড়িতে নতুন জামাই আর অতিথি থাকায় আজ একটু আগে আগেই এসেছেন নাশতা বানাতে।
ড্রয়িং রুমের সোফায় বসে তজবি গুনছেন আর পান চিবুচ্ছেন সিতারা বেগম। তজবি গোনার পাশাপাশি সবার উপর তিনি নজর রাখছেন ও বটে। কিছুক্ষণ আগেই রহিমা খালার সাথে ওনার কথা কাটা কাটি লেগেছে।
সামান্য পান দিতে দেরি হওয়াতেই চটে যান তিনি। তার পর মাহমুদা বেগম এসে সেই ঝামেলা মিটমাট করেন। রহিমা খালা ঝগড়া শেষে এই ধমক দিয়েছেন যে সিতারা বুড়ি থাকলে তিনি আরঁ এখানে থাকবেন না। কাজ ছেড়ে দিবেন প্রয়োজনে।
-------------
কিচেনে আটা মাখছে মাহমুদা বেগম ওনার পাশেই সবজি কাটছেন আয়েশা বেগম। বাগানের গাছে পানি দিয়ে মাএই কিচেনে এসেছেন মেঘা বেগম।
হাতটা ধুয়ে আঁচলে হাত মুছতে মুছতে দু'চুলায় চায়ের পানিটা বসিয়ে দেন। একপাশে আদা লেবু চা অন্য পাশে দুধ চা। আদা লেবু চা টা আশতাফ চোধুরি আর আশরাফ চৌধুরির জন্য।
দুইভাই একসাথে এসে সোফায় বসলেন। এখনো চোখের ঘুমের রেশ কাটেনি আশরাফ চৌধুরি। হাঁক ছেড়ে ডাক দিলেন নিজের ঘরনি কে।
--" মেঘা চা হয়েছে?"
--" আনছি দাঁড়াও।"
আশতাফ চোধুরি এসে খবরের কাগজটা হাতে নিয়ে চোখের সামনে মেলে ধরলেন। মেঘা বেগম চায়ের কাপ আর বিস্কুট ট্রেতে করে এনে রাখলেন ট্রি টেবিলে।
--" তিহু উঠেছে মেঘা?"
--" না। মহারানীকে সকালে নামাজের সময় ও ডেকে ছিলাম। আজ তিনি উঠেনি!"
--" এভাবে বলছো কেন মেঘা! কদিন ধরে মেয়েটার মন মেজাজ ভালো নেই। তাই একটু দেরি করে উঠছে।"
--" আপনার মহারানীর জন্য পৃথিবী থেমে নেই। সামনের মাসেই টেস্ট পরীক্ষা। কিন্তু ওনি বই ধরার নাম ও নিচ্ছেন না।"
স্ত্রীর রাগের কারণ বুঝতে পেরে থেমে যান আশরাফ চৌধুরি। একটা চায়ের কাপ নিয়ে ভাইয়ের দিকে এগিয়ে দিয়ে নিজের টাও তুলে নিলেন।
স্বামীকে থেমে যেতে দেখে নিজেও থেমে যান মেঘা বেগম। সামনে বড় ভাসুর না থাকলে আরো দু একটা কথা তিনি শোনাতেন। কিন্তু এখন তা করবেন না । অগত্যা ট্রে হাতে নিয়ে চলে যায়।
--------------
সকালের সূর্যের আলো চোখে পড়তেই হালকা হয়ে আসে আবরারের ঘুম। পর্দাহীন রুমের কাঁচের জানলায় এসে রোদ পড়ছে। মোটা পর্দায় আবৃত ঘরের ঠান্ডা তাপমাত্রায় ঘুমানোর দরুণ হঠাৎ এভাবে ঘুমানোতে সমস্যা হচ্ছে আবরারের । রাতেও বার কয়েক ঘুম ভেঙে যায় তার। কিন্তু বৃষ্টির কারণে আবহাওয়া ঠান্ডা থাকায় আর মেঝেতে ঘুমানোতে আবার চোখ লেখে যায়।
চোখের উপরে এক হাতে চোখ ঢেকে অপর হাতে ইনায়াকে আরেকটু জড়িয়ে নিলো সে। শক্ত করে বুকের খাঁজে চেপে ধরে আবার ঘুমের দেশে পাড়ি জমায় আবরার।
আবরার বাহুডোরে চাপা পড়ে মৃদ্যু মন্দ নড়ে উঠে ইনায়া। ফের দুহাতে নিজের পাশ বালিশ ভেবে অষ্টে - পিষ্ট জড়িয়ে নেয় আবরার কে। তাদের দুজনের এই প্রেম প্রেম আদুরে মূহুর্ত তারা না দেখলে দেখেছে অদূরে ডালে বসা একজোড়া চড়ুই।
-----------
ঘুম থেকে উঠে এলো চুলে বারান্দার মেঝেতে শুয়ে আছে তিহু। চুল গুলো যেনো পাখির বাসা। পরণে কুঁচকে যাওয়া ঘাগড়া। ওড়না টা বিছানার উপর পড়ে রয়েছে।
মুখের উপর হাত দিয়ে রোদ আটকানোর ব্যর্থ চেষ্টা চালাচ্ছে সে। মুখের উপর পড়া রোদ না আটকাতের ফেরে উঠে বসলো তিহু। কপাল কুঁচকে আকাশের খড়ট খটে রোদ টা দেখে মুখ টা আরো কুঁচকে নিলো। মেজাজ টা কাল রাত থেকেই বিগড়ে আছে তিহুর।
হঠাৎ বাড়ির মূল ফটকে চোখ পড়ে তার। গেট দিয়ে ইরফান ঢুকছে। কাঁধে তোয়ালে ; পেটানো শক্ত - পক্ত বাহু গুলো বিদ্যমান। শরীরের ঘামের ফোঁটা
গুলো রোদের ঝিলিকে চকচক করছে। বিরক্তির সঙ্গে তোয়ালে দিয়ে কপাল , গলা বুকের ঘাম গুলো মুছে ; এর্নাজি ড্রিংকস এ এক চুমুক দিলো।
তিহু তাড়াহুড়ো করে হামাগুড়ি দিয়ে রেলিং এর পাশে এসে বসলো। ইরফান হেঁটে তার বারান্দার নিচে আসতেই গলা ফাটিয়ে গান ধরে তিহু।
--"তুই ভালো না ছেলে তুই ভালো না ভালোর মুখোশ পরা ছিলো তোর চলনা!"
--" ছিঃ রে কি চয়েজ তোর তিহু! শেষে কিনা এইসব গান ধরলি? সো স্যাড।"