সে আমার পূর্ণতা

পর্ব - ২১

🟢

নাক দিয়ে র*ক্ত ঝরছে ইরফানের। নিজের মধ্যে নেই সে। তিহুর কথায় ইরফানের প্যানিক আট্যাক হয়েছে। অতিরিক্ত চিন্তা বা কষ্ট ফেলে ইরফানের প্যানিক আট্যাক হয়। পরিবারের সবাই তা জানে। তখন মাথা ঠিক থাকে না তার। উন্মাদের মতো আচরণ করে ইরফান।

তড়িঘড়ি করে নিজের ওড়না দিয়ে ইরফানের নাক চেপে ধরে তিহু। হাত কাঁপছে তার। দম বন্ধ হয়ে আসছে। মাথা চেপে ধরে রেখেছে ইরফান। শান্ত হয়ে বসে আছে সে। যেনো ঝড় আসার আগের শান্ত প্রকৃতি। তিহু ভয় পায় ইরফানের এই নীরবতা কে।

হঠাৎ মাথা থেকে হাত নামিয়ে ঝাটকা দিয়ে তিহুর হাত দূরে সরিয়ে দেয় ইরফান। তিহুকে সরিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে সে। চোখের চশমা টা ঠিক করে ; হাতটা টি-শার্টে মুছে। ফের তিহুর দিকে তাকালো।

--" কি বললি তুই? রিপিট কর তো আরেকবার।"

মেঝেতে বসা তিহুর দিকে তাকিয়ে প্রশ্নটা ছুড়ে ইরফান। তার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে তিহু। র*ক্ত বন্ধ হয়েছে।

হালকা আলো - আঁধারে ইরফানের সাদা সুন্দর নাকে মুখে র*ক্ত লেগে লাল হয়ে থাকা ইরফান কে তিহুর ভয়ংকর লাগছে। ইরফানকে বর্তমানে তার কাছে পূর্ণিমা রাতে অভিশপ্ত আত্নাদের জগত থেকে বেরিয়ে আসা কোনো র*ক্ত চোষা প্রাণী বা পিশাচের থেকে কম কিছু লাগছে না। যেনো যেকোনো সময় তিহুর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তার শরীরের সব র*ক্ত চুষে নিবে।

নিজেকে সামলে দাঁড়ায় তিহু। এগিয়ে এসে ইরফানের বাহুতে হাত রাখে।

--" দে....দেখুন আম.....আমরা "

--" আই'ম টেলিং ইউ, সে ইট এগেইন !হোয়াট ডিড ইউ সে।"

--" দেখুন ইরফান !"

--" আমার এমন বেপরোয়া আচরণে তুই ক্লান্ত ইরফান। মুক্তি দিতাম তোকে! যা আজ থেকে তুই মুক্ত তেহজিব।"

কপালে হাত চেপে চোখ বন্ধ করে তিহুর কথাগুলো শোনে ইরফান। তার নাক দিয়ে এখনো হালকা র*ক্ত বের হচ্ছে। তাতে মাথা ব্যথা নেই তার।

--" আম...আমার....আমি ভুলে বলে ফেলছি ইরফান। বিশ্বাস করুন , এমন কিছু আমি বলতে চাইনি।"

--" ইরফান: অথচ তোমার চোখে নিজের অর্নথ কি আয়োজন করেই না চাইলাম আমি। কই নিজের ধ্বংস দেখেও তো আমি ক্লান্ত হইনি!

এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে ছাদ থেকে নেমে পড়ে ইরফান। তাকে চলে যেতে দেখে উঠে দাঁড়ায় তিহু। রাত কয়টা বাজে কে জানে।

এই সময়ে একা ছাদে থাকার সাহস তাই নেই। দুহাতের তালুর সাহায্যে নিজে চোখ - মুখ মুছে নেয়। পরণের পোশাক পরিপাটি করে । চুলে করা বেণুণি টা পেছনে রেখে ওড়না টেনে মাথায়।

তারপর ছাদের দরজায় ছিটকিনি দিয়ে নেমে আসে। ইরফানের রুমের সামনে এসে দাঁড়ায় তিহু। ভেতর থেকে কোনো না পেয়ে হাত বাড়িয়ে হালকা ধাক্কা দিলো দরজাতে। দরজা টা ভেতর থেকে বন্ধ। তিহুর বুক ছিঁড়ে বেরিয়ে আসে এক দীর্ঘশ্বাস।

যবে থেকে ইরফান কে ভালোবেসেছে। রাগ - জেদ সব হাওয়াতে ভাসিয়ে দিয়েছে। তার এখন আর রাগ নেই বললেই চলে।

তিহু পেছনে ঘুরতেই ধাক্কা খেলো আয়েশা বেগমের সাথে। ভয়ে বুক কেঁপে তিহুর। নিজের বুকে থুথু দিয়ে আয়েশা বেগমের দিকে তাকায়।

--" আল্লাহ্ তুমি ছোটোমা? আমি ভয় পেয়ে গেছি।"

--" কিরে মা। তুই এতো রাতে এই মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছিস কেন?"

--" ওই পা... হ্যাঁ হ্যাঁ পানি পানি খেতে যাচ্ছিলাম। তুমি এখানে কি করছিলে?"

--" তুই তো তখন বলছিলি তোর পেট ব্যথা করছে। তাই তোকে দেখতে এসেছিলাম।"

আয়েশা বেগমের কথা শুনে ওনাকে জড়িয়ে ধরে তিহু। তিহুর জড়িয়ে ধরা দেখে আয়েশা বেগম নিজে ও তিহুকে জড়িয়ে ধরলো। বুকের সাথে চেপে ধরে তাকাতেই ইনায়ার রুমের দরজায় চোখ আটকে গেলো। বুকটা খা খা করে উঠে আয়েশা বেগমের। চোখ থেকে গড়িয়ে পড়লো দুফোঁটা পানি।

আয়েশা বেগমের নাক টানায় চোখ তুলে চায় তিহু। তারপর দু'হাতে ওনার চোখ মুছে দেয়। অভিমানী কন্ঠে বুলি আওড়ায়।

--" আসলো তুমি আমাকে ভালোই বাসো না হুহহ। ভালোবাসবেই কেন? আমি কি তোমার মেয়ে নাকি।"

--" ওরে দুষ্ট ! তাই নাকি? তা তুই আমার মেয়ে না তো কি হোস বল?"

--" বলবো?"

--" বল"

--" পূএবধু "

কথাটা বলেই দৌড় দেয় তিহু। দৌড়ে ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয় সে। দরজা বন্ধ করে দরজায় পিঠ দিয়ে হাঁপাচ্ছে তিহু। দরজার বাহির থেকে আয়েশা বেগমের হাস্যর্জ্জোল কন্ঠ শোনা গেলো।

--" পাগল মেয়ে।"

কথাটা বলেই সিঁড়ির দিকে যান আয়েশা বেগম।

Story Cover