সে আমার পূর্ণতা

পর্ব - ১৪

🟢

রাত সাড়ে আটটা বাজে। বৃষ্টি কিছুটা কমে এলেও , এখনো গুঁড়ি গুঁড়ি ফোঁটা পড়ছে। তা উপেক্ষা করেই দোকানের ছাউনির নিচ থেকে বেরিয়েছে আবরার ইনায়া। দোকানদার থেকে জানতে পেরেছে। কাছে পিঠেই একটা ভালো হোটেল আছে। সেখানেই রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আবরার। গাছতলায় থাকার চেয়ে এখন যা কপালে জোটে তাই ভালো। এখনো আকাশের অবস্থা ভালো না। যেকোনো সময় ঝড় আসতে পারে।

তারা দশমিনিট হাঁটতেই একটা হোটেল চোখে পড়লো।

"পিংক স্রোর" — ঝলমলে গোলাপি রঙের বড় সাইনবোর্ডটা দূর থেকেই চোখে পড়ে। সাততলা বিশিষ্ট বিলাসবহুল হোটেলটি। নিচতলার ক্যাফেটেরিয়া, আর ছাদে রয়েছে স্কাইলাইন রেস্টুরেন্ট।বাকি ফ্লোর গুলো হোটেল।নামটা আরো একবার মনে মনে আওড়ে নেয় আবরার।

সাততলা বিশিষ্ট এক চকমকে হোটেল-রেস্টুরেন্ট, যেন গোলাপি আলোয় মোড়ানো এক অন্য জগত। বড় বড় কাঁচের জানালায় প্রতিফলিত হচ্ছে রাতের আলো, আর সাইনবোর্ডের ঝলমলে গোটা গোটা অক্ষরে নামটা যেনো হোটেলটার সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দেয়। আবরার ইনায়া কে নিয়ে নিচতলার লবিতে প্রবেশ করতেই নরম সুর আর ভদ্রতা মেশানো আতিথেয়তার ছোঁয়া পায়। তারা চকচকে সাদা মেঝেতে পা ফেলে রিসেপশনে এগিয়ে গেলো। রিসেপশেনিস্ট তাদের চতুর্থ তলায় একটা রুম দেয়। রুমের চাবি দিয়ে তাদের লবিতে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলে লোকটা । তখন একজন ওয়েটার এসে ওদের ওয়েলকাম ড্রিংক দিয়ে যায়। তার মধ্যেই তাদের ডাক পড়ে রুম তৈরি। লিফটে চড়ে একজন স্টাফ ওদের রুমে দিয়ে যায় । রুম নাম্বার চারশো বারো।

সুন্দর পরিপাটি একটা রুম। রুমে ঢুকেই সোফায় পা উঠিয়ে চোখ বন্ধ করে বসে পড়ে ইনায়া। তার মাথায় প্রচুর যন্ত্রণা হচ্ছে। মাইগ্রেনের সমস্যা থাকার কারণে মাঝে মাঝেই এমন ব্যথা উঠে।আবরার রুমটা একবার ঘুরে দেখে। হঠাৎ কিছু মনে পড়ে যাওয়ায় ইনায়ার কাছে আসে।

--" শোন! আমি একটু বাহির থেকে আসছি।দরজা টা লাগিয়ে দে।"

আবরারের কথায় চোখ খুলে তাকায় ইনায়া। তারপর ধীর স্বরে জিজ্ঞেস করে ।

--" কোথায় যাবেন?"

--" পাশেই একটা শপিংমল দেখেছি আসার সময়। কাল রাত থেকে এক ড্রেসে আছি। বিরক্ত লাগছে। আমি বাইরে যাচ্ছি । তুই দরজাটা ভালো ভাবে আটকে দিবি। কেউ আসলে খুলবি না। আমি ছাড়া!"

--" ঠিক আছে। কিন্তু তাড়াতাড়ি ফিরবেন আবরার ভাই।"

--" থাকতে পারবি? না সঙ্গে যাবি!"

--" পারবো।"

ইনায়ার কথায় দু'পা এগিয়ে আসে আবরার । ইনায়ার গালে আলতো করে হাত রেখে নরম চোখে ইনায়ার চোখে চোখ রাখলো আবরার। তা দেখে চোখ নামিয়ে ফেলে ইনায়া।

--" আমার দিকে তাকা!"

আবরারের কথায় বাধ্য মেয়ের মতো চোখ তুলে তাকায় সে।

--" তুই দেখছিস এখানে আমি ইনায়াকে রেখে যাচ্ছি। কিন্তু বিশ্বাস কর আমার চোখ দিয়ে যদি তুই দেখতি তাহলে বুঝতে পারতি। আমি এখানে আমার হৃদয় রেখে যাচ্ছি। যা ছাড়া আমি অচল। এই অরিন্দম চৌধুরি আবরার অচল। আবারো বলছি , আমি ছাড়া তোর সব থাকলেও তুই ছাড়া আমার কেউ নেই।তাই কেউ আসলে দরজা খুলবি না। আমি এসে পাঁচবার টোকা দিবো! তারপর খুলবি। "

কথাগুলো বলেই ইনায়ার গাল থেকে হাত সরিয়ে নেয় আবরার। তারপর নিজের ফোনটা বিছানায় ছুঁড়ে রাখে। ইনায়া তখনো ঘোরের মধ্য আছে। আবরার ভাই এতো তাড়াতাড়ি তার ভালোবাসার মানুষটাকে ভুলে গেলো? কি করে পারলো। সবাই এমন কেন? ইনায়ার ভাবনার মাঝে ভাঁটা পড়ে আবরার ডাকে।

--" দরজা লক করে দে অন্বিতা!"

আবরারের ডাকে দ্রুত পায়ে এসে দরজা বন্ধ করে দেয় ইনায়া। দরজা বন্ধ করে বিছানায় এসে শুয়ে পড়ে সে। মাথা ভনভন করছে তার। সাথে ঘুম আসছে ।

------------

হোটেল থেকে বেরোলে পাশেই শপিংমল। এখনো গুঁড়ি গুঁড়ি ফোঁটায় বৃষ্টি ঝরছে;বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। রাতের দিকে আবার বৃষ্টি নামতে পারে। আকাশের দিকে কিয়ৎক্ষণ চেয়ে দ্রুত পায়ে শপিংমলে ঢুকে আবরার। প্রথমেই মেয়েদের কর্ণারে যায়। বেছে বেছে একটা কালো আর একটা নেবি - ব্লু কালারের শাড়ি নেয়। শপিংমলটায় শুধু শাড়ির কালেকশন থাকায় ইনায়ার জন্য শাড়িই নেয় আবরার। তারপর নিজের জন্য দুটো র্টি-শার্ট দুটো ট্রাউজার নিয়ে বিল দিয়ে বেরিয়ে পড়ে। দ্রুত পা চালিয়ে আবার হোটেলে ফিরে আসে। এতো টুকু পথ আসতে গিয়েই ভিজে গেছে আবরার ।

রুমে এসে দরজায় পাঁচবার নক করতেই ইনায়া দরজা খুলে দেয়।

রুমে ঢুকেই নিজের জন্য আনা একটা র্টি-শার্ট আর ট্রাউজার নিয়ে ইনায়ার হাতে বাকি ব্যাগ গুলো দিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে আবরার।

ইনায়া ব্যাগ গুলো নিয়ে খুলে দেখলো। তার জন্য শাড়ি এনেছে দেখে কপাল কুঁচকে ফেললো ইনায়া। কোনো অনুষ্ঠান ছাড়া ইনায়া শাড়ি পরে না। তার জন্য শাড়ি সামলাতেও পারে না।এই নিয়ে তার তিনবার শাড়ি পরা। প্রথম শাড়ি পরেছিলো তার কাজিনের বিয়েতে। দ্বিতীয় বার নিজেল জন্মদিনে। আর তৃতীয় বার কাল পরেছিলো।

ওয়ারুমের দরজার ছিটকিনির শব্দ শুনে ইনয়ার ধ্যান ভাঙে। আবরার তোয়ালে দিয়ে চুল মুছতে মুছতে বেরিয়ে আসে। পরণে ট্রাউজার র্টি-শার্ট এখনো হাতে। ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে ইনায়াকে শাড়ি হাতে নিয়ে বসে থাকতে দেখে এগিয়ে আসে আবরার। তাকে আসতে দেখে অসহায় চোখে চেয়ে মুখ খোলে ইনায়া।

--" আমি তো শাড়ি পরতে পারি না ভাইয়া।"

আবরার কিছুক্ষণ চুপ থেকে মাথার পেছনে খানিক চুলকে হেসে উত্তর দেয়।

--" আসে পাশে আর কোনো দোকান ছিলো না। এখানেও শাড়ির কালেকশন ছাড়া অন্য কিছু ছিলো না। আজকে একটু ম্যানেজ করেনে প্লিজ।"

--" কিন্তু আমি তো শাড়ি পরতে পারিনা!"

--" ইউ টিউব দেখে পরতে পারবি না?"

কথাটা বলেই নিজের ফোন টা বিছানা থেকে হাতে নেয় আবরার। ফোন হাতে নিয়ে পাওয়ার বাটনে চাপ দিতেই বুঝতে পারে যে তার ফোনে এক পার্সেন্ট ও চার্জ নেই। যার দরুণ ফোন বন্ধ হয়ে আছে।

--" শিট!ফোনটাও বন্ধ হওয়ার আর সময় ফেলো না।"

--" উম.... এখন কি হবে?"

Story Cover