সে আমার পূর্ণতা

পর্ব - ১৩

🟢

শহর জুড়ে বৃষ্টি নেমেছে। মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। ঠান্ডা আবহাওয়া ।ধরনীতে সন্ধ্যা নেমেছে মিনেট ত্রিশ আগে।ঝুম বৃষ্টির মাঝে টং দোকানের বেঞ্চিতে বসে আছে আবরার ইনায়া। সারাদিন বাসা খুঁজে ও মন মতো বাসা পায়নি আবরার।

তার উপর এই ভর সন্ধ্যায় এমন বৃষ্টি।যেই বাসা গুলো তাদের পছন্দ হয়েছে সেগুলো তাদের দুজনের জন্য বড় হয়ে যায়।

সকাল থেকে রোদের মধ্যে বাসা খুঁজে ক্লান্ত তারা। এখন শেষ ভরসা হোটেলে রাত কাটানো। সে একা হলে সমস্যা ছিলো না। কিন্তু ইনায়া সাথে থাকার কারণে এখন সেইফ জায়গা খুঁজতে হবে আবরারের। তার আগে তাদের খাবার খাওয়া লাগবে। সেই দুপুরে খাবার খেয়েছিলো শুধু। বাসা খুঁজতে খুঁজতে কখন যে সন্ধ্যা নেমেছে তার খেয়াল ই ছিলো না দুজনের।

সারাদিনের গরমে ঘেমে নেয়ে একাকার হয়ে গেছে ইনায়া। রোদে চলাফেরা করার অভ্যাস আবরারের থাকলেও ইনায়ার নেই। কলেজে যাওয়ার সময় ও সে গাড়ি করে যেতো গাড়ি করে আসতো। এখন চোখ মুখ লাল হয়ে আছে। ক্লান্তিতে চোখ খুলে রাখা ও দায় তার। নিভু নিভু চোখে বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে আছে ইনায়া। যেই মেয়ে সারাদিন এসির নিচে থাকতো। যার ছোট্ট ঘরখানা এখনো অযত্নে খালি পড়ে আছে । আজ সারাদিন সেই মেয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেছে মাথা গোঁজার ঠাঁই খোঁজার জন্য। প্রকৃতির কি অদ্ভুত নিয়ম।

আবরার অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে তার প্রিয়তমার দিকে। একদিনেই মেয়েটা কি বুঝদার হয়ে গেছে। সারাদিন রোদ - বৃষ্টিতে পুড়েও কোনো অভিযোগ করেনি। বরং ভদ্র মেয়ের মতো আবরারের সঙ্গে পায়ে পা মিলিয়ে হেঁটেছে পুরো শহর।

আবরার বাস থেকে নামার পর পরই ইনায়াকে বলেছিলো তাদের ফ্ল্যাটে থাকার কথা। ওইখানে একজন চাচা আর ওনার বউ থাকে। চৌধুরি পরিবারের কেউ অফিসের কাজে ঢাকায় এলে ওনারাই দেখা শোনা করে।কিন্তু তা শোনার সাথে সাথে নাকোজ করে দেয় ইনায়া। আবরার অনেকবার বোঝানোর পরেও সে রাজি হয়নি। ইনায়ার একটাই কথা! বাড়ি যখন আবরারের হাত ধরেই ছেড়েছে। তাহলে এখন ও সে আবরারের সাথেই থাকবে। কোথাও যাবেনা। ইনায়া জেদ ধরায় আবরার ও আর জোর করেনি। মেয়েটা সবে সব আপনজন ছেড়ে এসেছে। যখন ইচ্ছে পুষেছে তার সাথে থাকবে, থাকুক। এখন থেকে ইনায়াকে তার একটু বেশিই যত্ন করতে হবে।

--" অন্বিতা!"

আবরারের ডাকে তার দিকে ক্লান্ত চোখে তাকায় ইনায়া। কাল থেকে না ঘুমানোতে এখন ঘুমে চোখ ছোটো হয়ে আসছে ইনায়ার। ভীষণ ঘুম কাতুরে মেয়েটার এখন ইচ্ছে করছে সব ছেড়ে ছুড়ে এখানেই বালিশ - খাতা জড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।

--" ঘুম আসছে?"

--" না।"

--" এদিকে আয়।"

আবরার কথাটা বলে ইনায়ার উত্তরের জন্য আর অপেক্ষা করেনা। নিজেই ইনায়ার দিকে এগিয়ে তাদের মধ্যকার দূরত্ব টুকু গুছিয়ে নেয়। তারপর ইনায়ার মাথাটা সযত্নে নিজের ঘাড়ে রাখে। আবরারের কাজে হতভম্ব হয়ে চেয়ে আছে ইনায়া।

--" এবার ঘুমা। বৃষ্টি কিছুটা কমে এলে কাছে পিঠে কোনো ভালো হোটেল পাই কিনা দেখবো।"

--" তাহলে চলেন এখনই দেখি!"

ইনায়ার কথায় কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে আবরার। এই বোকা মেয়েকে কি করে সে বোঝাবে যে এখন বৃষ্টিতে ভিজলে তার নিজের সমস্যা না থাকলে ইনায়ার আছে। ইনায়ার পরণের শাড়িটা সিল্কের হওয়ার দরুণ বৃষ্টির পানি পড়লে শরীরের সাথে মিলে শরীরের খাঁজ প্রতীয়মান হয়ে উঠবে।

এখন যদি সে এই কথা ভুল করেও বলে তাহলে আবার ভুল বুঝে গাল ফুলিয়ে কেঁদে ভাসাবে। হঠাৎ তার মাথায় এক দুষ্টু বুদ্ধি এলো। নিজের মনের চিন্তা কে মনে রেখে খানিক দুষ্টু হেসে জবাব দিলো আবরার।

--" তুই কি চাস এখন তেনাদের নজর পড়ুক তোর উপর?"

আবরারের কথায় ইনায়ার চোখ মুখে আতঙ্কের ঝিলিক খেলে গেলো। নিজেকে কিছুটা সামলে ইনায়া উত্তর করলো:-

--" হোটেল খোঁজার সাথে তেনাদের কি সম্পর্ক? আমরা কি তেনাদের হোটেলে থাকবো নাকি।"

--" তোর পরণে কি রঙের শাড়ি?"

আবরারের কথায় নিজের দিকে তাকায় ইনায়া। একবার পরোখ করে আবার আবরারের দিকে তাকালো।

--" আপনিই তো শাড়ি টা দিলেন। তার মধ্যে আমি আপনার সামনেই বসা তাও কি রঙ দেখছেন না আবরার ভাই?"

--" আগে উত্তর দে পরে বলছি।"

--" লাল"

--" কাল রাতে তোর আমার সাথে বিয়ে হয়েছিলো! নিশ্চয়ই ভুলে যাসনি?"

--" দূর আবরার ভাই এখন ফাজলামি করছেন আপনি এখানে বসে।"

--" আমি ফাজলামি করছি না। তুই বোকা! এতোকিছু জানিস এটা জানিস না? আল্লাহ্ "

আপসোসের স্বরে কথা গুলো বলে কপাল চাপড়ায় আবরার। যেনো এই কথাটা ইনায়া না জেনে বড্ড ভুল করে ফেলেছে।

নিজের হাত গুলো একসাথে জড়োসড়ো করে ইনায়া বললো:

--" আমার ভয় করছে আবরার ভাই।"

--" এই জন্যই বলছি আমার ঘাড়ে মাথা রেখে শুয়ে থাক। তেনারা আসলে বলবো যে এটা আমার শাকচুন্নি। পিলিজ ভাইয়েরা আমার আপনারা চলে যান।"

আবরারের কথায় ইনায়া আবরারের ঘাড়ে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করলো। ইনায়ার শাড়ির আচঁল খামছে চোখ বন্ধ করা দেখে কিঞ্চিত ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো আবরার।

--" ভালোই লাগে ইনায়ার করা এমন বোকামি গুলো। যদিও ও জানে যে ইনায়াকে বোকা বানানো তার মিনিটের ব্যাপার। ওর বোকা ফুল ! যাকে খুব আদরে বুক নামক খাঁচায় রেখে বড় করেছে। খুব যত্নে যাতে কেউ ছিঁড়ে নিতে না পারে। এবং অবশেষে আল্লাহ্ তাকে তার বোকা ফুলকে দিয়ে ও দিয়েছে সারাজীবনের জন্য।"

Story Cover