সে আমার পূর্ণতা

পর্ব - ১

🟢

এর্লামের শব্দে ঘুম ভেঙে গেলো ইনায়ার। ঘুম ঘুম চোখে বিছানা হাতড়ে ফোন টা হাতে নিলো সে। সবে সকাল সাড়ে সাতটা বাজে। ঘুম ঘুম চোখে বিছানা ছাড়ে ইনায়া।

আজ খুব ভোরে উঠেই কলেজের জন্য তৈরি হচ্ছে ইনায়া । যেভাবেই হোক আজ নয়টার আগেই তাকে বাসা থেকে বের হতে হবে । কারণ আজ তার চিরশত্রু আবরার বাড়ি ফিরছে ঢাকা থেকে। আর বাড়ি ফিরে যদি তাকে ধরতে পারে তো একটা থাপ্পড় ও মাটিতে পড়বে না। বাড়িতে ফিরেই ধরতে পারলে শাস্তিটা বাড়তে পারে। ফেরার দু'এক ঘন্টা পর তাকে ধরতে পারলে ও শাস্তিটা কিঞ্চিত কমলেও কমতে পারে ইনায়ার ধারণা।ফেইক আইডি খুলে তাকে নক দিয়েছিলো না। সেই শাস্তি থেকে বাঁচতেই এতো সকালে ইনায়ার কলেজ যাওয়া।

গত পরশু দিনের কথা। আবরার ঢাকা গেছে পাঁচদিন হতে চলেছে। আর এই সুযোগেই পিঠে ডানা গজিয়েছে ইনায়ার। নিজের ফোন থেকে ফেইক আইডি খুলে নক দেয় আবরারকে।

--" হ্যালো"

ম্যাসেজ দেওয়ার দশমিনিটেই ফিরতি উত্তর এলো।

--" কে?"

--" চিনতে পারছো না? ছিঃ বেয়াদপ ছেলে ছিঃ।"

--" পরিচয়?"

--" তিনমাসের বাচ্চাসহ বউকে ভুলে গেলে?"

--" ফালতু কথা বাদ দিয়ে পরিচয় দিন।"

আইডির নাম টা দেখেই খটকা লাগে আবরারের। নিজের ল্যাপটপে সেট করে রাখা ইনায়ার নাম্বারে সার্চ দিতেই আইডি টা চলে এলো। "উড়ন্ত পায়রার পালক" আইডিটার স্কিনশট টা নিয়ে ইনায়াকে পাঠাতেই তার মাথা ঘুরো উঠলো। গলা শুকিয়ে কাঠ। এই হিটলার টা জানলো কিভাবে যে এটা তার আইডি?মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে ইনায়া। কি রিপ্লাই দিবে মাথায় আসছে না তার। দশ মিনিট ধরে এক ভাবেই বসে আছে সে। কি ভুলটাই না করেছে নিজের নাম্বার থেকে আইডি লগইন করে তা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে ইনায়া।

ইনায়ার ফিরতি ম্যাসেজ না পেয়ে আবরার নিজেই রিপ্লাই দেয়:-

--" ভাবিস না বাড়িতে নেই বলে তোর নাম্বার আমার কাছে থেকে ভ্যানিশ হয়ে গেছে। ইউ নো? তোর নাম্বার টা আমার ল্যাপটপে সেট করা। "

--" কি বলছো এ..... এসব? "

--" কথা আটকে যাচ্ছে!যাবেই তো।"

সে আমার পূর্ণতা পর্ব - ১

--"শাস্তিটা বাড়ি এসে ঠিক করি? বেয়াদপ ছেলে বলেছিস না! তাহলে শাস্তিটা না হয় বেয়াদপ হয়েই উত্তর দিবো নে।"

--" সরি ভাইয়া। আর এমন করবো না।"

--" ওয়েট,,, উড়ন্ত পায়রার পালক বাড়ি এসে ছাটাচ্ছি।"

--" আপনি কি ব...বল..ছেন এসব?"

--" আমি বাড়ি ফিরলে একটা থাপ্পড় ও মিস যাবে না।"

রিপ্লাই টা দিয়েই ইনায়াকে ব্লক দেয় আবরার। এর পর থেকেই ভয়ে ভয়ে আছে সে।কখন হিটলার টা এসে কানের নিচে লাল করে দেয়। তার নিজের মা ও ওই হিটলারের দল পাকাবে। সুখে থাকতে আমাকেই বারবার তেনারা নাড়া দেয়।

নিজের মনে মনে কথা গুলো ভাবতে ভাবতে ই তৈরি হয়ে যায় ইনায়া।

------------

পুরো নাম অরিন্দম চৌধুরি আবরার । ইনায়ার বাবা- চাচ্চু তিনজন। ইনায়ার দুইমাএ চাচ্চুর মধ্যে বড় আব্বুর আশতাফ চোধুরি আর বড় মা মাহমুদা বেগমের একমাএ ছেলে আবরার। আর ছোটো আব্বু আশরাফ ও ছোটো মা মেঘা বেগমের দুই মেয়ে এক ছেলে তানভীর, তাসপি , আর তিহু । সবার ছোটো হলো ইনায়ার আব্বু আফতাব চৌধুরি । ইনায়ার মা আয়েশা বেগম। ইনায়ার এক ভাই এক বোন ইরফান, ইনায়া। ইনায়ারা একান্নবর্তি পরিবার হওয়ায় সবাই এক বাড়িতেই থাকে। সবার সাথেই কম বেশ ভালো সম্পর্ক থাকলে ও আবরারের সাথে তার দা - কুমড়োর সম্পর্ক। যেই ব্যপার টা বাড়ির প্রতিটা সদস্যই জানে।

------------

রেডি হয়ে নিজেকে আয়নায় পুরোদস্তুর একবার দেখে রুম থেকে বের হলো ইনায়া। ড্রয়িং রুমে যাওয়ার আগে সিঁড়ির সাথে লাগোয়া স্টাডি রুম থেকে কাঁধ ব্যাগ টা নিয়ে নেয়। ড্রয়িং রুমে আসতেই তাকে সকাল আটটায় নাশতার টেবিলে দেখে রীতিমতো অবাক সবাই।

যেই মেয়েকে দশটায় ও উঠানো যায় না সে আজ আটটায় উঠে গেলো। তার মধ্যে একেবারে কলেজের জন্য তৈরি হয়েই নিচে নেমেছে।

ইনায়ার মা আয়েশা বেগম মেয়ে কে দেখে নাশতা বেড়ে দিলো। ইনায়ার বাবা আফতাব চৌধুরি মেয়ে কে দেখে জিজ্ঞেস করলেন....

--" কোথাও যাবে ইনায়া।"

--" হ্যাঁ বাবা কলেজে যাবো। আজ খুব দরকারি একটা ক্লাস আছে ।"

কথাটা বলেই তাড়াহুড়ো করে সবাই কে বিদায় জানিয়ে সদর দরজা দিয়ে বেরিয়ে পড়লো ইনায়া। তিহুর ডাকেও পেছনে ফিরে তার জন্য দাঁড়ালো না।

----------

ইনায়া এবার ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে । বাসা থেকে তার কলেজের দূরত্ব আধা ঘণ্টার রাস্তা। তাই রিকশার জন্য অপেক্ষা করছে । সকালের এই সমটায় রিকশার জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় । গাড়ি থাকা শর্তে ও আজ রিকশাতে করেই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইনায়া। কারণ সামনেই তার বান্ধবী ঈশিতার বাসা । তাই আজ ইনায়া আর ঈশিতা একসঙ্গেই যাবে ঠিক করে ।

রোদের মধ্য পনেরো মিনিট ধরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে ইনায়া। একটা রিকশাও সে পাচ্ছে না।এরমধ্যেই গরমে ধরধরিয়ে ঘেমে যাচ্ছে। যেই রিকশা গুলো দেখা যাচ্ছে সেগুলো কলেজের দিকে যাবে না। বাকি গুলোয় যাত্রী আছে। আরো পাঁচমিনিট অপেক্ষা করে রাস্তার পাশ ধরে হাঁটা দেয় ইনায়া।

Story Cover